নতুন আর্থিক মডেলের লাভসমূহ
"সকলের জন্য সমস্ত সুখসুবিধা এবং জনগণের কাছে ২৪ ঘণ্টা ৩৬৫ দিন রাজনৈতিক ক্ষমতা"
“মানুষকে
সংশোধন করার প্রয়োজন নেই, ব্যবস্থা জনগণের সুবিধা অনুযায়ী হওয়া উচিৎ” - প্রেমজীৎ সিরোহী
বর্তমান অর্থব্যবস্থার
অপ্রত্যাশিত ফলাফল
· সকল নাগরিক
যেমন শিশু, প্রতিবন্ধী এমনকি প্রবীণরাও পর্যন্ত অর্থ উপার্জনের জন্য
যা খুশি করতে বাধ্য হয়ে যায়, কেননা শুধুমাত্র অর্থের মাধ্যমেই
সমস্ত সুখ পাওয়া যায়।
· বর্তমান
অর্থব্যবস্থার পরিণাম হিসেবে সিংহভাগ অর্থ কিছু মানুষের হাতেই জমা হতে থাকে। ২০১৭ সালে
সমগ্র বিশ্বে উৎপাদিত অর্থের ৭৩% সর্বাধিক বিত্তবান ১% মানুষের কাছে চলে গিয়েছিল। এই প্রকার অর্থব্যবস্থার জন্যই ৯০% মানুষ গরীব এবং কেবলমাত্র ১০% বিত্তশালী।
· কিছু মানুষের
সুবিধার জন্যই নিয়মনীতি তৈরি হয় ফলে গণতন্ত্র বলে কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। যার কাছে
অধিক অর্থ থাকে তার ইশারাতেই সবকিছু চালিত হয়। বর্তমান অর্থশাস্ত্র অনুযায়ী ৯০% মানুষ কেবলমাত্র ১০% মানুষের দ্বারা চালিত পথে
জীবন যাপন করতে বাধ্য হয়। এমনকি ১০% মানুষও ৯০% মানুষকে গোলাম বানাতে বাধ্য হয়ে যায়।
· পরিশ্রম
তো অধিকাংশ মানুষ করেই চলেছে কিন্তু বৈভবশালী জীবন উপভোগের সুযোগ কেবলমাত্র ১০% মানুষই পায়। বস্তু এবং শ্রমের মূল্যায়ন হয় বাজারের চাহিদা অনুযায়ী। বাজারে
যেসব জিনিস অধিক পরিমাণে রয়েছে সেসবের মূল্য কম হয়। এই নিয়মের কারণে অধিকাংশ শ্রমিক,
চাষি এবং মধ্যম শ্রেণীর মানুষ গরীব রয়ে যায়। তারা নিজেদের পরিবার
নিয়ে কখনো বৈভবশালী জীবন যাপন করতে পারে না।
· বাজার অপ্রত্যাশিতভাবে
গতিশীল থাকে। এর ফলে বাজার সর্বদা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে এবং সর্বদা ওঠানামা করতে
থাকে। মানুষের চাকরি এবং ব্যবসায় এইসবের প্রবল প্রভাব পড়ে। অনবরত বাজারের ওঠানামা বর্তমান
অর্থব্যবস্থার একটি অন্যতম গুণাবলী। এখানে চিন্তা ভাবনা করে তৈরি করা কোনো ম্যানেজমেন্ট
নেই। বাজার কখনই ততটা উৎপাদন করতেই পারে না যেন সকলের জন্য পর্যাপ্ত হয়। এইজন্য কেউ
কখনো সুরক্ষিত অনুভব করে না।
· সমাজে বিভিন্ন
বর্গ তৈরি হয়ে যায়, যারা একে অপরকে প্রতিপক্ষ মনে করে। তারা একে
অপরকে শত্রুরূপে দেখতে শুরু করে। এটি এইজন্য ঘটে কারণ সকলে সম্পদের উপর দখল পেতে চায়।
এর কারণ অর্থ-সম্পদ থেকেই তো জীবনের সুখ সুবিধা পাওয়া যায়।
সকলেই পরস্পরের সাথে প্রতিযোগিতা করে চলেছে কেননা বর্তমান অর্থশাস্ত্রই এমন।
· পরিবারের
মধ্যেও টাকা পয়সা নিয়ে ঝগড়া চলতে থাকে এবং মনোমালিন্য চলতে থাকে। এমন সমস্যা এইজন্য
ঘটতে থাকে কেননা আর্থিক অসুবিধার কারণে বাধ্য হয়ে সকলে নিজেদের ইচ্ছেমত জীবন যাপন করতে
পারে না।
· অযোগ্য ব্যক্তিও
সেইসব পদ হাসিল করার কাজে লিপ্ত থাকে যেখানে তার যোগ্যতা এবং রুচি নেই। কেননা সামান্য
কিছু চাকরিতেই অধিক বেতন রয়েছে। এর ফলে সমাজে অন্যান্য অসুবিধা তৈরি হতে থাকে এবং তারা
নিজেরাও অসন্তুষ্ট থাকে।
· প্রাকৃতিক
সম্পদ অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার হতে থাকে যেখানে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং বিভিন্ন
দুর্যোগ ঘটে থাকে। দূষণ এবং প্রাকৃতিক বিষমতা বর্তমান অর্থশাস্ত্রের পরিণাম।
· সমাধানের
অভাবে এবং হতাশাগ্রস্ত হয়ে সরকার কখনো কখনো এমন কিছু আইন প্রণয়ন করে যেখানে দেখানো
হয় অনেক লাভ কিন্তু বাস্তবে তার ফলে দীর্ঘকালীন ক্ষতি হয়। দেশের আর্থিক বৃদ্ধিও সকলের
সুখ-সুবিধায় অধিক মাত্রা যোগ করে না।
· গুণমানহীন
নকল বস্তু এবং পরিষেবা নির্মিত হতে থাকে। এতে মানুষ বহু অসুবিধার সম্মুখীন হয় এবং সম্পদেরও
অপব্যবহার হয়। এমন অনেক বস্তু নির্মিত হয় যার দ্বারা মানুষের সুখ-সুবিধা
বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো যোগদান থাকে না।
· বাজারে বিভিন্ন
প্রকার নকল বস্তু, ভেজাল বস্তু এবং পরিষেবা তৈরি হতে থাকে। টাকা
রোজগারের জন্য মানুষ বিভিন্ন রকমের প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করে নেয়।
· শিক্ষা এবং
স্বাস্থ্য পরিষেবাও এক ধরণের ব্যবসায় পরিণত হয়। এতে মানুষকে নানা অসুবিধার সম্মুখীন
হতে হয়। এইসব পরিষেবা গ্রহণ করার জন্য বিরাট অংকের টাকা খরচ করতে হয়।
· সমাজে নানা
ধরণের অপরাধ, ঝগড়া, মারামারি, যুদ্ধ, হিংসা ইত্যাদির জন্ম হতে থাকে এবং মানুষ
টাকার লোভে হিংস্র হয়ে যায়।
· মানুষ সর্বদা
দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকে কেননা সর্বত্র নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ দেখতে পাওয়া যায়।
· নতুন ব্যবস্থায়
অর্থ থাকবে না। সেইজন্য প্রয়োজনীয় বস্তু অর্ডার করার জন্য কোনো টাকার প্রয়োজন হবে না
এবং কাউকে কোনো পারিশ্রমিক, বেতন ইত্যাদি প্রদান করতে হবে না। সমস্ত সম্পদ
ব্যবস্থার কাছে থাকবে। অর্থাৎ মানব সম্পদ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ দুটোই ব্যবস্থার অন্তর্গত
থাকবে। সকলের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী এবং চাহিদা অনুযায়ী ব্যবস্থা এই দুরকম সম্পদের ব্যবহার
করে সকলের প্রয়োজনীয় বস্তু প্রোডাকশন করবে এবং ডেলিভারি করবে। জন্মের পর থেকেই সমস্ত
রকম সুখ-সুবিধা সেই সময় যেমন যেমন সম্ভব হবে তা সকলেই পেতে
থাকবে। সকলের জন্য সবকিছু সমানরূপে উপলব্ধ থাকবে। অর্থাৎ যার যখন যা কিছু প্রয়োজন হবে
শুধুমাত্র অর্ডার করলেই তা বাড়িতে বসে পেয়ে যাবে। অর্থাৎ এই নতুন ব্যবস্থায় সমস্ত কিছু
সম্পূর্ণ ফ্রি।
· এই ব্যবস্থায়
সকলের নিজস্ব অনলাইন প্রোফাইল থাকবে যেখানে নিজেদের সম্পর্কে সমস্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।
যেমন নাম,
ঠিকানা, বয়স, যোগ্যতা,
দক্ষতা, পছন্দ-অপছন্দ,
ছবি ইত্যাদি। সমস্ত বস্তু এবং পরিষেবা শুধুমাত্র অনলাইন মাধ্যমেই
অর্ডার করতে হবে। অনলাইন সফটওয়্যারের মাধ্যমে দেশের সকল নাগরিক নিজেদের একাউন্ট তৈরি
করতে পারবে এবং সেখানে সমস্ত তথ্য পূরণ করতে পারবে। যেমন তাদের কি কি যোগ্যতা রয়েছে,
কোনো কোনো কাজ জানা আছে, এছাড়া আর কি কি
করতে পছন্দ করে, এমন কিছু শেখার ইচ্ছে রয়েছে কিন্তু শিখতে
পারেনি ইত্যাদি ইত্যাদি। যারা ইন্টারনেট চালাতে জানেন না তাদের জন্য আশেপাশে কম্পিউটার
অপারেটর নিযুক্ত করা হবে। যাদের মাধ্যমে তারা নিজেদের চাহিদা এবং প্রোফাইল তৈরি করে
নিতে পারবেন।
· যেমন তাদের
সাপ্তাহিক বা মাসিক ভিত্তিতে কতটা পরিমাণ চাল, আটা, চিনি, দুধ, ঘি,
তেল, মশালা, সব্জি,
ফল, শস্য, ডাল,
মিষ্টি, কাপড়, সুগন্ধি
ইত্যাদি দ্রব্যসামগ্রী প্রয়োজন হয়। এছাড়া মোটর সাইকেল, মোটর
গাড়ি, মোবাইল, টিভি, ওয়াশিং মেশিন, ফ্রিজ, এসি, ফার্নিচার, বসবাসের
জন্য ঘর ইত্যাদি প্রয়োজনীয় বস্তুসামগ্রিও অনলাইন মাধ্যমে অর্ডার করতে পারবে। এমনকি
এখনও অবধি তাদের কোনো কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, ভবিষ্যতে তারা
কোনো ট্রেনিং নিতে চাইবে, এখনও অবধি তাদের কোনো কাজের অভিজ্ঞতা
রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তারা কোনো কাজ করতে আগ্রহী ইত্যাদি। এমনকি বর্তমানে কতটা দক্ষতা
রয়েছে বা কতটা দক্ষতা অর্জন করতে চায় ইত্যাদি ইত্যাদি। বলার অর্থ হচ্ছে- এই সফটওয়্যার তৈরি হবার পর কিছুদিনের মধ্যেই সমস্ত তথ্য সরকারের কাছে চলে
যাবে। অর্থাৎ সকলের চাহিদা সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য সরকার একটি ক্লিক করলেই দেখতে পারবে।
এমনকি ভবিষ্যতেও সরকারের কাছে সকলের সমস্ত তথ্য আসতে থাকবে। সকলের চাহিদা এবং কর্মসংস্থান
সম্পর্কিত তথ্য অথবা কত মানব সম্পদ এবং কতটা প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে ইত্যাদি সমস্ত কিছুর
তথ্য। সকলের প্রয়োজনীয় বস্তু এবং পরিষেবা সংক্রান্ত অর্ডার ব্যবস্থার কাছে সরাসরি পৌঁছে
যাবে।
· সরকার জানতে
পারবে যে সকল নাগরিকদের মোট কোনো কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কতটা পরিমাণে প্রয়োজন
হয়। সরকারের কাছে কোনো বিভাগে কতজন কর্মরত রয়েছে, কতজন কর্মহীন অবস্থায়
রয়েছে, কোনো কোনো সম্পদ কতটা মাত্রায় রয়েছে, এমনকি যেসব সম্পদ কম মাত্রায় রয়েছে সেসব সম্পদের বিকল্প তথ্যও সরকারের কাছে
থাকবে। মোটকথা সকল বিষয়ে সমস্ত তথ্য সরকারের কাছে থাকবে। একইসাথে কারা কোনো কর্মে দক্ষ,
কোনো কাজ তারা করতে চায়, তাদের শিক্ষাগত
যোগ্যতা কি রয়েছে এইসকল তথ্যও সরকার সফটওয়্যারের মাধ্যমে জানতে পারবে। এমন কোনো কাজ
যা তারা শিখতে চেয়েছিল এবং পেশা হিসেবে নির্বাচন করতে চেয়েছিল কিন্তু কোনো কারণে শেখা
সম্ভব হয়নি সরকার সেইসব শেখার ব্যবস্থা করবে। ততদিন অবধি যেমন কাজ তারা করতে চায় তা
চালিয়ে যেতে পারবে। এইভাবে সরকারের কাছে অন্যান্য তথ্যও মজুত থাকবে যেমন দেশে মোট কত
জনসংখ্যা রয়েছে, কোনো কোনো বয়সের কতজন নাগরিক রয়েছে,
কোনো বিষয়ে কতজন শিক্ষিত এবং প্রশিক্ষিত রয়েছে ইত্যাদি। এইভাবে সরকার
মোট চাহিদা জানতে পারবে এবং তা পূরণ করার জন্য কতজন মানুষ, কত মেশিন, কত মালবাহন, কত কারখানা ইত্যাদি কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে যার মাধ্যমে সময়মত যেন
সকলের চাহিদা পূরণ করা যায় সেইসবের গণনাও সরকার সহজেই করতে পারবে। সরকার সকলের অভাব
পূরণ করার জন্য সকলকে তাদের যোগ্যতা এবং পছন্দ অনুযায়ী নিযুক্ত করবে। তারপর প্রোডাকশন
হবে এবং সকলের ডিমান্ড অনুযায়ী ডেলিভারি করা হবে। এরপর সবাই নিজেদের অর্ডার করতে থাকবে
এবং একইভাবে সকলের চাহিদাও পূরণ হতে থাকবে।
· সকলে নিজেদের
ইচ্ছে অনুযায়ী যা কিছু বস্তু অথবা পরিষেবা ভোগ করতে চাইবে তা করতে পারবে। শুধুমাত্র
একটি শর্ত থাকবে। শর্ত এই হবে যে, আপনার ইচ্ছে অনুযায়ী যে কর্ম আপনাকে প্রদান
করা হবে তা আপনাকে করতে হবে। যদি আপনার বয়স ২৫ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে থাকে। নতুন ব্যবস্থার
জন্য আপনি এই সহযোগিতা না করলে সকল প্রকার লাভ থেকে আপনি বঞ্চিত হবেন। কিন্তু যদি সহযোগিতা
করতে থাকেন তবে আপনি যে কোনো সময় যে কোনো সুবিধা সরকারের কাছ থেকে গ্রহণ করতে পারবেন
এবং উপভোগ করতে পারবেন।
· এই নতুন
ব্যবস্থায় সমস্তকিছু সরকারী হবে অর্থাৎ কোনো ব্যক্তিগত মালিক অথবা প্রাইভেট অনারশিপ
থাকবে না। অর্থাৎ যিনি যে বস্তু অথবা পরিষেবা ব্যবহার করবেন যতদিন পর্যন্ত করবেন তিনি
সেইসবের অধিকারী হবেন। তার ব্যবহারের পর পুনরায় তা সমাজের কাছে বা সরকারের কাছে ফিরে
যাবে। কিন্তু যার যখন যা কিছু প্রয়োজন হবে তা পেতে থাকবে যেন সকল ব্যক্তি সর্বদা সুখী
থাকতে পারে।
· গুণগত মান
এবং দক্ষতা এইজন্য সম্ভব হবে কারণ প্রত্যেকে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী কাজ করতে থাকবে।
যখন এই ব্যবস্থা সম্পূর্ণ থিতু হয়ে যাবে তখন সকলের অভিরুচি অনুযায়ীই কর্ম প্রাপ্ত হবে
এবং সেইসব কাজই সম্পাদন করবে যা তাদের পছন্দ হবে। যখন কর্ম করে আনন্দ আসবে তখন যে কোনো
ব্যক্তি তার সেরাটুকু দিয়ে পারবে। তার ভেতর থেকে যা কিছু শ্রেষ্ঠতা বেরিয়ে আসবে তা
Qualitative বস্তু
অথবা পরিসেবারূপে পরিগণিত হবে।
· ব্যক্তি
তার ক্ষমতা অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট production target কে
সুনিশ্চিত করবে। ব্যবস্থা কখনই productivity বাড়ানোর
জন্য তাকে বাধ্য করবে না। সে চাইলে একদিনের কাজ ২ ঘণ্টায় করতে পারে অথবা ৬ ঘণ্টায় সমাপ্ত
করতে পারে এটি তার উপর নির্ভর করবে। ব্যবস্থা কখনই কোনো ধরাবাঁধা স্পীড ফিক্সড করবে
না। সকলেই দিনে মোটামুটি ৪-৫ ঘণ্টাই কাজ করবে। প্রত্যেকের
কাজের যা output নির্ধারণ হবে তা ধীরে ধীরে কাজ করলেও সম্ভব
হবে। তাই সকলে নিজেদের স্পীড অনুযায়ী কাজ করে দেবে। ব্যবস্থা শুধুমাত্র ফাইনাল output এবং quality দেখবে।
আপনি কত দ্রুত বা কত ধীরে করবেন তা বড় বিষয় নয়। আপনাকে পূর্ব নির্ধারিত এবং স্ব-স্বীকৃত output target কে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট
সময়সীমার মধ্যে পূর্ণ করতে হবে। এর ফলে কেউ কারোর উপর পুলিশের মত পাহারা দেবে না। মানুষকে
ভয় দেখিয়ে কাজ করানোর প্রয়োজন পড়বে না। মানুষ নিজ ইচ্ছেয় কাজ করতে থাকবে এবং নিজেদের
সেরাটুকু স্বাভাবিকভাবেই দিতে থাকবে। প্রতিটি কাজের কোয়ালিটি চেক বিভিন্ন পর্যায়ে হতে
থাকবে।
· এরপর সমস্ত
কর্মের feedback জনগণের
কাছ থেকে প্রতিনিয়ত আসতে থাকবে। ক্ষমতা যেহেতু বিকেন্দ্রীভূত তাই জনগণই সেইসব product ব্যবহার
করবে। যদি তা qualitative হয় তবে তাদের থেকে final review চলে
আসবে। তাদের review যদি negative আসে
তবে সেই person, team অথবা department এর
উপর প্রশ্নচিহ্ন চলে আসবে। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হবে যে সমস্যা কোথায় রয়েছে তারপর
root
cause analysis করে সেই সমস্যাকে দূর করা হবে। দুপক্ষে তথ্য আদান প্রদান
করে জরুরী ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান করা হবে যেন end user সন্তুষ্ট
হয় এবং একই সমস্যা যেন দ্বিতীয়বার না আসে। এই প্রকারে নতুন ব্যবস্থায় quality control
হতে থাকবে।
নতুন অর্থশাস্ত্রের ইতিবাচক ফলাফল
· সম্পূর্ণ
সমাধান ব্যবস্থা মানুষকে অসীম স্বাধীনতা প্রদান করে। অসীম কথার অর্থ হচ্ছে আপনি যতটা
চাইবেন ততটাই। আপনি বলতে পারেন যে এটি ‘sky is the limit’ ভাবনার
উপর নির্মিত। এই ব্যবস্থায় শিশু হোক বা মহিলা, যুবা হোক বা
বৃদ্ধ সকলেই নিজেদের ইচ্ছে অনুযায়ী জীবন যাপন করতে পারবে। যার ফলস্বরূপ সকলে নিশ্চিতভাবে
সুখীই হবে।
· সকল বিদ্যার্থীদের
ইচ্ছে অনুযায়ী শিক্ষা বা লেখাপড়ার ব্যবস্থা বিনামূল্যে থাকবে। অর্থাৎ ছাত্র-ছাত্রী
যে প্রকার শিক্ষা গ্রহণ করতে চায় তারা অর্জন করতে পারবে। শিক্ষা সমাপ্ত হবার পর তাদের
যোগ্যতা এবং ইচ্ছে অনুযায়ী কোনো একটি কাজে গবেষণা অথবা দক্ষতার ট্রেনিং বিনামূল্যে
গ্রহণ করতে পারবে। দক্ষতা এবং ইচ্ছে অনুযায়ী ট্রেনিং সমাপ্ত হবার পর তাদের জন্য কর্মসংস্থান
নিশ্চিত থাকবে। অর্থাৎ বেকারত্বের সমাপ্তি।
· এই নতুন
ব্যবস্থায় মুদ্রা না থাকার ফলে কোনো ব্যাংক থাকবে না। বস্তুর উপর কোনো ট্যাক্স থাকবে
না। রোজগারের উপর কোনো ট্যাক্স থাকবে না। এমনকি কোনো ট্যাক্স ডিপার্টমেন্টও থাকবে না।
অর্থের কারণে যে সব অপরাধ সংঘটিত হয় সেসবও বন্ধ হয়ে যাবে। এই ব্যবস্থায় কোনো অর্থ না
থাকার কারণে কোনো প্রকার দুর্নীতি থাকবে না। এমনকি দুর্নীতি করার কোনো কারণও অবশিষ্ট
থাকবে না। কেননা সকলে নিজেদের ইচ্ছে অনুযায়ী যখন সমস্ত কিছু পেতে থাকবে তবে কি কারণে
তারা দুর্নীতি করবে বা করার কথা ভাববে।
· এই ব্যবস্থায়
অর্থ না থাকার ফলে খাদ্য সামগ্রীতে কেউ ভেজাল মেশাবে না। ফলস্বরূপ সকলে শুদ্ধ ভোজন, বিশুদ্ধ জল, পানীয় ইত্যাদি যতপ্রকার খাদ্যবস্তু
রয়েছে তা শুদ্ধ অবস্থায় প্রাপ্ত হতে থাকবে। এর ফলস্বরূপ সকলে অধিক সুস্থ্য থাকবে,
দীর্ঘায়ু হবে এবং সুখী জীবন উপভোগ করতে পারবে।
· পরিবারের
ভেতরেও সকল সদস্য সরাসরি ব্যবস্থার সাথে যুক্ত থাকবে। তাদের যখনই কিছু প্রয়োজন হবে
অর্ডার করতে পারবে এবং ইচ্ছে অনুযায়ী যে কোনো পরিষেবা গ্রহণ করতে পারবে। এর ফলে পরিবারের
একজন সদস্য অপর কোনো সদস্যের উপর আর্থিক দিক দিয়ে নির্ভরশীল থাকবে না। ফলে সকলের সম্পর্ক
পরস্পরের প্রতি মধুর হয়ে যাবে। একে অপরের প্রতি বিশ্বাস থাকবে। মিথ্যে বলার প্রয়োজন
পড়বে না।
· এই ব্যবস্থায়
অনেক কিছুই থাকবে না। যেমন ব্যাংক থাকবে না। ফলে টাকা জমা করা বা তোলার মত ঝক্কি-ঝামেলা
থাকবে না। বর্তমান ব্যবস্থার মত কোনো বাজার থাকবে না। বিল পেমেন্টের জন্য বা অন্য কোনো
কাজের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না। কেননা সমস্ত কর্ম অনলাইন পদ্ধতিতে হবে। অর্থাৎ একদিকে
সময় বাঁচবে অন্যদিকে মানসিক শান্তি বজায় থাকবে। ফলে সড়কে ট্রাফিক সমস্যা ন্যুনতম থাকবে।
· এই ব্যবস্থায়
প্রযুক্তির সর্বাধিক ব্যবহার হবে। উদাহরণস্বরূপ চাষের কাজে ব্যবহার হওয়া ট্র্যাক্টর, ট্রাক ইত্যাদির ভেতর কেবিন থাকবে এবং এয়ারকন্ডিশনার যুক্ত হবে। ফলে কোনোরকম
অসুবিধা ছাড়া কঠিন কর্মও সহজে সম্পাদন করা যাবে। সকলের সুখ সাচ্ছন্দ এবং সুবিধার উপর
সর্বাধিক গুরুত্ব থাকবে।
· এই ব্যবস্থা
প্রতিষ্ঠিত হলে কাউকেই ভবিষ্যতের জন্য দুশ্চিন্তা হবে না। যেমন আগামীকাল কি খাব, সংসার চালানোর খরচ কোথা থেকে আসবে অথবা চিকিৎসার খরচ কিভাবে করব,
যদি আগামীকাল কর্মহীন হয়ে যাই তবে কি হবে ইত্যাদি। এইসকল দুশ্চিন্তা
সমাপ্ত হয়ে যাবে এবং কখনো এই প্রকার সমস্যা উদয় হবে না। কোনো সমস্যা উদয় হলে তৎক্ষণাৎ
তা সমাধান হয়ে যাবে। ফলে কোনোরকম সমস্যা রয়েছে অথবা অসুবিধা হচ্ছে এমন অনুভব হবে না।
· এই ব্যবস্থা
স্থাপন হলে বিশ্বব্যাপী যে সীমান্ত সমস্যা রয়েছে সেসবের মীমাংসা হয়ে যাবে।
· এই ব্যবস্থা
প্রতিষ্ঠিত হলে কোনো প্রাইভেট কোম্পানি থাকবে না এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রকৃতির যে শোষণ
হয়ে চলেছে তা বন্ধ হয়ে যাবে। পরিবেশের ভারসাম্য ফিরে আসবে এবং দূষণও হবে না।
· এই ব্যবস্থায়
নগরীয় জীবন যাপন হবে। সমস্ত নগর সকল প্রকার সুখ-সুবিধাযুক্ত তৈরি করা
হবে। প্রতিটি নগরে বিদ্যালয়, হাসপাতাল, জিম, বাগান, বিউটি পার্লার,
সেলুন, জুস সেন্টার, রেস্তোরাঁ, ক্লাবসহ অন্যান্য যত প্রকার সুখ-সুবিধার প্রয়োজন হয় সেসব থাকবে। যার ফলে সকল বয়সী মানুষ সম্পূর্ণভাবে জীবনের
আনন্দ উপভোগ করতে পারবে।
· এই ব্যবস্থা
প্রতিষ্ঠিত হলে কোনোপ্রকার মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা থাকবে না যার ফলে রোগ-ব্যাধি
অনেক কমে যাবে। ছোট খাটো বা সাধারণ কোনো অসুখ হলে দ্রত তার চিকিৎসা করে ফেলা হবে। ফলে
মানুষের স্বাভাবিক আয়ুও অধিক বেড়ে যাবে।
***
ইতিমধ্যে 'সম্পূর্ণ সমাধান' পুস্তক হিন্দি থেকে ইংরেজি, রাশিয়ান এবং বাংলা ভাষায় অনুবাদ হয়েছে এবং অন্যান্য ভাষাতেও অনুবাদের কাজ চলছে। সম্পূর্ণ নতুন এই ব্যবস্থা নিয়ে পাঠক মহলে আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে। সকলের অধ্যয়নের সুবিধার্থে এই পুস্তকের E-BOOK/PDF COPY বিনামুল্যে প্রদান করা হয়েছে। একইসাথে কাগজের পুস্তক হাতে নিয়ে অধ্যয়ন করুন, যা Amazon এবং Flipkart–এ উপলব্ধ রয়েছে (লিখুন ‘সম্পূর্ণ সমাধান/Sampurna Samadhan’)।
সম্পূর্ণ সমাধান ফ্রি E-BOOK ডাউনলোড করুন/‘Sampurna Samadhan’ FREE E-BOOk Download Link
(Hindi, English, Russian and Bengali):
বাংলা ব্লগ ওয়েবসাইট: https://ulmbangla.blogspot.com/
English Website: http://universallifemanagement.org/
উন্মুক্ত আলোচনার জন্য
যোগাযোগ:
প্রেমজীৎ সিরোহী : 90133 83424
সুকান্ত প্রধান : 70010 79159
মাধব রঞ্জন সরকার : 98309 25502
***

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন