পোস্টগুলি

সেপ্টেম্বর, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সমতা (equality), সমদর্শিতা (Equity) ও সামঞ্জস্য (Compatibility) কী?

ছবি
সমতা (equality), সমদর্শিতা (Equity), সামঞ্জস্য (Compatibility) ও মনুষ্য সমাজে বৈচিত্র্য কী, কেন জরুরী? সমতা (equality): সমতা বা সাম্য বলতে বোঝায় জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ, বয়স, অক্ষমতা, যৌন অভিমুখীতা ইত্যাদি পরিচয়ের ভিত্তিতে সকল মানুষকে সমান সুযোগ, মর্যাদা, অধিকার দেওয়া এবং বৈষম্যহীন আচরণ করা। এর অর্থ হলো সবার জন্য সমান সুযোগ থাকা, যদিও বিভিন্ন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সুবিধা বা অসুবিধার ভিন্নতা থাকতে পারে। আইনের চোখে সমতা: ভারতীয় সংবিধানে বলা হয়েছে যে দেশের প্রত্যেক নাগরিক আইনের চোখে সমান এবং আইনের দ্বারা সমানভাবে রক্ষিত। সমান সুযোগ: সকলের জন্য সমান সুযোগ এবং সম্পদ বরাদ্দ করা। বৈষম্যহীনতা: কোনো ব্যক্তির লিঙ্গ, জন্ম, বর্ণ, ধর্ম, বা অন্য কোনো কারণে তার প্রতি বৈষম্য না করা। মর্যাদা ও অধিকার: প্রতিটি মানুষের অন্তর্নিহিত মূল্য এবং সমান মর্যাদা নিশ্চিত করা। উদাহরণ: কাজের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ: পুরুষ ও মহিলা কর্মীদের একই কাজ করলে সমান বেতন দেওয়া এবং একই সুযোগ দেওয়া, যেখানে লিঙ্গ পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা হয় না। শিক্ষা ও সমাজে সমান অধিকার: সমাজের সকল ব্যক্তি, তাদের পটভূমি বা পরিচিতি যাই হো...

হাত খালি হবে না কখনই?

ছবি
  সরকারি চাকরির বাজার মন্দা বলে অনেকে ব্যবসা করতে উপদেশ দেন। যিনি উপদেশ দেন হয় তিনি ব্যবসার প্রতিদ্বন্দ্বিতা-কৌশল বোঝেন না কিংবা আদর্শ-নৈতিকতা নিয়ে কঠোর শ্রম দিলেই সফলতা গ্যারান্টি এমন মসৃণ রাস্তাকেই আঁকড়ে ধরে আছেন অথবা ব্যবসা করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তিনি চান অন্যজনও ব্যবসা করে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে করতে ক্ষতিগ্রস্ত হোন। অথবা তিনি চাকরি কিংবা ব্যবসা উভয় দিক দিয়ে সুরক্ষিত। কিংবা কোনো একটি দিক দিয়ে সুরক্ষিত। অনেক সময় মোটিভেশনাল স্পিকাররা এইসব উপদেশ দিয়ে থাকেন। কারণ উপদেশ প্রদান করাই তার পেশা। এইপ্রকার বক্তারা তথাকথিত ১০ শতাংশ সফলদের উদাহরণ হিসেবে দেখান। কখনই ৯০ শতাংশের বাস্তবিকতাকে দেখান না। যেমন নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পেশায় আজ অবধি এমনটি হয়নি যেখানে ৯০ শতাংশ কর্মী সফল হয়েছে। কারণ ৯০ শতাংশের লোকসান দিয়েই ১০ শতাংশের সফলতা। হিসেব বোধহয় একটু ভুল হল। নেটওয়র্কিং পেশায় বাস্তবিক সফলতার অনুপাত ১ শতাংশেরও কম হবে। গড়পড়তা সর্বক্ষেত্রে সুরক্ষিত মানুষের সংখ্যা ১০ শতাংশ মাত্র। সুরক্ষার অনুপাত চাকরিতে যেমন ১০ শতাংশ তেমনই ব্যবসাতেও একই অনুপাত বিদ্যমান। যত ব্যবসায়ী রয়েছে তাদের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশই সুর...

প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের উপায় কী?

ছবি
  পশু জীবনের সাথে মনুষ্য জীবনের মূল পার্থক্য এই যে সকল পশুপ্রাণীর জীবনযাপন আদিতে যেমন ছিল বর্তমানেও একইপ্রকার রয়েছে। মনুষ্য জাতি সভ্যতা গড়েছে, সমাজব্যবস্থা গড়েছে, সংস্কৃতি গড়েছে, সুখসুবিধা-সুরক্ষার উদ্দেশ্যে গবেষণার পরিসর তৈরি করেছে এবং নিরন্তর প্রচেষ্টা করে চলেছে। মানুষ স্বয়ং যেমন সুখী হতে চায় তেমনই অপরকে সুখী দেখতে চায়, এমনকি প্রকৃতি-পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার তাগিদেও সে নিরন্তর প্রচেষ্টারত। সুখের প্রাপ্তি এবং দুঃখের নিরসনই হচ্ছে মনুষ্য চেতনার অভিপ্রায়। এই সিদ্ধান্তটিকে নিজ জীবনের সাথে যাচাই করে নিতে পারেন। নেতিবাচক পরিণতির মূলে রয়েছে বাধ্যবাধকতা এবং বাহ্যিক অবস্থা-ব্যবস্থা-পরিস্থিতি। মনুষ্য-ব্যবস্থায় সর্বাধিক প্রভাবশালী বিষয় হচ্ছে অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক অধিকার। এ পর্যন্ত মানুষ যে উপায়ে ব্যবস্থা নির্মাণের প্রয়াস করেছে (সশস্ত্র কিংবা গণতান্ত্রিক) সেখানে উদ্দেশ্য এটিই ছিল, “আমাদের দল সরকারে ক্ষমতাসীন হলে সমস্যার নিস্পত্তি করে দেবে”। বাস্তবতা বলছে দল বদলেছে, নেতৃত্ব বদলেছে কিন্তু গড়পড়তা অর্থনৈতিক ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক অধিকারের অনুপাতে পরিবর্তন সাধিত হয়নি। গুটিকয়েক বিত্তশালী এবং সিংহভাগ ...

মধ্যযুগীয় এই সহিংস মাধ্যম কি প্রকৃত গণ স্বাধীনতার, সমৃদ্ধির, সুরক্ষার একমাত্র উপায়? নাকি মনুষ্য সমাজের কাছে প্রকৃত পথের সন্ধান এখনও অজানা?

ছবি
  ধ্বংসাত্মক উপায়ে একাধিক রাষ্ট্রে পরিবর্তন হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু পুনরায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিও ঘটছে। মনুষ্য সম্পদ সহ প্রাকৃতিক সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে। তফাৎ থাকছে শুধু দলের, দলপতির। মধ্যযুগীয় এই সহিংস মাধ্যম কি প্রকৃত গণ স্বাধীনতার, সমৃদ্ধির, সুরক্ষার একমাত্র উপায়? নাকি মনুষ্য সমাজের কাছে প্রকৃত পথের সন্ধান এখনও অজানা? স্বাধীনতা প্রাপ্তির পরও নিজ রাষ্ট্রের প্রাকৃতিক সম্পদ এবং মানব সম্পদের উপর ভিত্তি করে “বিকল্প অর্থনীতি” নির্মাণ সম্ভব হয়নি। প্রচেষ্টা যে হয়নি তা বলা যায় না। আধ্যাত্মিক সংগঠনের মাধ্যমে যেমন হয়েছে তেমনই রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বিকল্পের মাধ্যমেও হয়েছে। উভয় প্রচেষ্টার ক্ষেত্রেই পুঁজির হাত ছেঁড়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। মূল সমস্যা এখানেই। অর্থনীতিই মূল চালিকাশক্তি। পরিবারের অর্থনীতি দুর্বল হলে যেমন ধারদেনার জালে পড়তে হয় রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও তাই। অর্থশক্তির সাম্রাজ্যবাদ। হয় আপনি অর্থশক্তির কাছে হাত পাতবেন নাহয় অর্থশক্তি আপনার দুর্বলতা বুঝে উদ্ধারের বন্ধুত্ব পাততে আসবে। অধিক মুনাফা তৈরিই পুঁজির মূল উদ্দেশ্য, বৈশিষ্ট্য। যা শোষণ-শাসন-বঞ্চনা ব্যতীত সম্ভব নয়। পুঁজিচালিত ব্যবস্থায় যে সরকারই আসীন হো...

বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলংকার সাম্প্রতিক সমস্যার কারণ-নিবারণের উপায় কোন পথে সম্ভব?

ছবি
  অর্থনৈতিক অধিকার এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা নির্দিষ্ট দলের কিংবা গোষ্ঠীর হাতে নয় সরাসরি জনতার হাতে নিহিত থাকবে, এবং শিশু থেকে প্রবীণ প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত জীবনের সুখসুবিধা-সুরক্ষা সুনিশ্চিত থাকবে এমন রাষ্ট্রব্যবস্থার নির্মাণ জরুরী। সমস্যা হচ্ছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রবিধান তৈরি হলেও এইপ্রকার স্থায়ী নিবারণের উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা হয়নি। ফলে প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন উভয় দিক দিয়ে বিধান তথা ব্যবস্থাগুলিকে অসম্পূর্ণ বলতে দ্বিধা নেই। প্রান্তিক জনতার সামগ্রিক মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা, সমস্যা মোকাবিলার পরিকল্পনায় জনতা সহ সকল গোষ্ঠীর সাথে সম্মিলিত আলোচনায় সামিল করা (তথ্য, আলোচনা, সিদ্ধান্ত উন্মুক্ত রাখা) ইত্যাদিতে সরকার পক্ষ এবং নাগরিক পক্ষের সরাসরি আদান প্রদানে স্বচ্ছতা না হলে কোনও না কোনও সময়কালে বিক্ষোভ হওয়া স্বাভাবিক। এইপ্রকার বিক্ষোভ ধ্বংসই ঘটায়, গঠনমূলক উন্নয়ন নয়। ফলে অদূরে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশ প্রসঙ্গে একটি চলতি কথা সমাজ মাধ্যমে ঘুরেও বেড়াচ্ছে যে পূর্বে বাংলাদেশ বারকয়েক স্বাধীনতা লাভ করছে, পুনরায় স্বাধীনতার প্রস্তুতি চলছে। এতে বিরোধী পক্ষ সহ শত্রু পক্ষ ইন্ধন জুগিয়ে ...

ভারতে কত শতাংশ মানুষ মাসিক এক লক্ষের বেশি আয় করে?

ছবি
ভারতে কত শতাংশ মানুষ মাসিক এক লক্ষের বেশি আয় করে তার সঠিক শতাংশ পাওয়া কঠিন, তবে সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এটি একটি ছোট সংখ্যা। নীতি আয়োগের হিসাব অনুযায়ী, ভারতে মাসিক ১ লক্ষ টাকার বেশি আয় করা ব্যক্তিদের উচ্চ মধ্যবিত্ত হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এই গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত মানুষের সংখ্যা দেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় খুবই কম, সম্ভবত ১ শতাংশেরও কম। শীর্ষ ১ শতাংশ মানুষ প্রতি মাসে ৫৩ লক্ষ টাকা আয় করে। অন্য একটি সূত্র অনুযায়ী, যদি মাসিক ২৫,০০০ টাকা আয় করেন, তবে আপনি দেশের শীর্ষ ১০ শতাংশ উপার্জনকারীর মধ্যে থাকবেন। সরকারি মলাট অনুযায়ী ভারত এখন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ, যা সম্প্রতি জাপানকে ছাড়িয়ে এই অবস্থানে পৌঁছেছে। ভারত দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতিগুলির মধ্যে অন্যতম এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে বলে আশা করা হচ্ছে। অপরদিকে বাস্তবতা কতখানি নিষ্ঠুর। অপরদিকে বাস্তবতা কতখানি নিষ্ঠুর। হিসেব বলছে ৯০ শতাংশ মানুষ ২৫,০০০ টাকার কম আয় করেন। ভারতের অভ্যন্তরে হাজারো সমস্যা। ভারতকে এখন ইমপ্রেস করবার দেখনদারি থেকে সরে এসে আভ্যন্তরীণ বাস্তবিকতার ন...

অর্থনৈতিক রূপান্তর প্রক্রিয়া কীভাবে হবে?

ছবি
  প্রাচীন, নবীন কিংবা ভবিষ্যকালীন দর্শনতত্ত্ব, ধর্মতত্ব কিংবা সমাজতত্ত্ব তা যেন ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ না করে, সমালোচনামূলক চিন্তন-মননকে বাধাগ্রস্ত না করে, নিরপেক্ষ ও উন্মুক্ত মনে যেন বিশ্বকে অন্বেষণ করতে পারে এবং উদ্ভাবনী শক্তির নিরন্তর বিকাশ ঘটাতে পারে। এইপ্রকার সার্বজনীন মনোভাব উৎপন্ন হবে শিক্ষাব্যবস্থা থেকে। শিক্ষাব্যবস্থা ত্রুটিমুক্ত হলে ব্যক্তিগত উপদেশ কিংবা সাংগঠনিক কর্মযজ্ঞের প্রয়োজনীয়তা থাকবে না। প্রশ্ন হচ্ছে এমনতর শিক্ষাব্যবস্থার সূচনা কীভাবে সম্ভব? শিক্ষা হস্তগত রয়েছে পুঁজির কাছে। অর্থবান না হলে শিক্ষাবান হওয়া যায় না। অর্থ সংকটের এই জাগতিক সমস্যার সুরাহা কীভাবে সম্ভব? অপরদিকে শিক্ষা হওয়া উচিত বাস্তবিক এবং প্রায়োগিক। এমন নয় যে, ডিগ্রি রয়েছে কিন্তু বাস্তবায়নের উপায় বা কাজ শেখা নেই, এমনকি যে থিয়োরি পড়া হয়েছে তা প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। অর্থাৎ চলমান ব্যবস্থা দ্বারা যেটুকু রপ্ত হয়েছে তার প্রায়োগিক প্ল্যাটফর্ম নেই। যে শিক্ষার্থী যে বিভাগে যতখানি শিখতে চায় তার জন্য ততখানি শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ-গবেষণার ব্যবস্থাপনা থাকা উচিত। জাতি-ধর্ম-ভাষা-সংস্কৃতি-দলমত নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সকল শ...