পোস্টগুলি

জুলাই, ২০২৪ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ধর্ম, অর্থ, কাম এবং মোক্ষের বাস্তবিক অর্থ কী?

ছবি
  আমার পূর্বে এ বিষয়ে বহু মানুষ বলেছেন এবং লিখেছেন । আমি নিজেও যা কিছু অধ্যয়ন করেছি এবং শুনেছি তাতে কখনও সন্তুষ্ট হইনি । পরে যখন এইসব বিষয়ে গবেষণা করি তখন যে অর্থ বেরিয়ে আসে তা আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাইব । ধর্ম , অর্থ , কাম এবং মোক্ষ আমাদের জীবনের প্রারম্ভ থেকে অন্তিম অবধি সবকিছু বলে দেয় । বলছে ধর্ম দিয়ে জীবনের প্রারম্ভ হওয়া উচিত এবং মোক্ষ দিয়ে সমাপ্তি হওয়া উচিত । মাঝে রয়েছে অর্থ এবং কাম । ধর্মের তাৎপর্য হচ্ছে ধারণ করার যোগ্য । যা কিছু ধারণ করার যোগ্য তাকেই ধর্ম বলা হয় । এবার আমরা কীভাবে জানব যে কী ধারণ করার যোগ্য এবং কী ধারণ করার যোগ্য নয় । এর উত্তরও এই বাক্যের মধ্যেই রয়েছে এবং তা হচ্ছে যা কিছু ধারণ করলে মোক্ষ প্রাপ্তি হয় তা হবে   ধর্ম   এবং যা কিছু ধারণ করলে বন্ধনে আবদ্ধ হয় তা হবে  অধর্ম । এই কারণে ধর্মের মাপকাঠি হবে মোক্ষ । অর্থাৎ যে প্রকারের জীবন আমাদের মোক্ষ প্রদান করবে সেটি হবে ধর্ম এবং যে প্রকারের জীবন আমাদের বন্ধন প্রদান করবে তা হবে অধর্ম । এখানে আরেকটি কথা মাথায় রাখা উচিত যে, এইসব জীবিত থাকাকালীন অবস্থার কথা বলা হচ্ছে । মৃত্যুর পরের কথা এ...

পূর্ণাঙ্গ সমাজ ব্যবস্থা বিষয়ে জনগণের করণীয় কী?

ছবি
  সমস্যার উৎস কোথায়?  সহজ কথা সহজ করে বলাই ভালো। একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার নির্মাণ ব্যতীত কোনও উপদেশ, কোনও সচেতনতা, কোনও সমাজসেবা কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারবে না। ব্যক্তিগত কিংবা সংস্থাগত সহায়তা ক্ষণিকের মরুদ্যান হতে পারে মাত্র। একমাত্র রাষ্ট্রব্যবস্থাই সকলের সমস্ত দায়িত্ব বহন করতে পারে এবং সমস্তপ্রকার অধিকার সুনিশ্চিত-সুরক্ষিত করতে পারে। রাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনা যত উন্নত হবে নাগরিকের জীবনযাত্রা তত উন্নত হবে। এই সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ব্যক্তিগত কিংবা সংস্থাগত উদ্যোগে সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব সকলের জন্য শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, জীবিকা, সামাজিক সুখসুবিধা-সুরক্ষা এবং স্বতন্ত্রতার সুবন্দোবস্ত সুনিশ্চিত করা। ভেজালমুক্ত খাদ্যের বন্দোবস্ত, সকলের জন্য আধুনিক চিকিৎসার বন্দোবস্ত, ভ্রমণ-বিনোদনের বন্দোবস্তও একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাই সুসম্পন্ন করতে পারে। চলমান অসম্পূর্ণ আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে জীবন-জীবিকার বন্দোবস্ত কোনোক্রমে সম্ভব হলেও তা স্থায়ী সুরক্ষা প্রদান করে না। চলমান সমাজ-ব্যবস্থা জীবনযাপনের সমস্ত ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং প্রতিহিংসাকে উৎসাহ...

নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান

ছবি
সুধী, আমরা বিগত কয়েকবছর ধরে সমাজের সমস্ত সমস্যার মূল কারণ 'শনাক্তকরণ এবং নিবারণ' উভয় বিষয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করে চলেছি। পর্যালোচনায় যা উঠে এসেছে তা হল অসম্পূর্ণ সমাজ ব্যবস্থা বা সিস্টেমই হচ্ছে সমস্ত সমস্যার মূল কারণ। আমরা সকলেই অবগত যে একটি দেশের ব্যবস্থা যত উন্নত হবে সে দেশের নাগরিক ততধিক সমৃদ্ধ-সুরক্ষিত জীবনযাপন উপভোগ করবে। চলমান অসম্পূর্ণ ব্যবস্থা সকল নাগরিকের সুখসুবিধা-সুরক্ষা প্রদানে বারংবার ব্যর্থ হয়ে চলেছে, ব্যক্তিগত এবং সামাজিক উভয় জীবনের সমস্ত ক্ষেত্রে নৈরাশ্যের দুর্ভাবনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। অসম্পূর্ণ ব্যবস্থার কারণেই নাগরিকবর্গকে ব্যক্তিগত কিংবা সংস্থাগত উদ্যোগে সমাজ-কল্যাণে সহায়তা করতে হয় এবং জীবনের মূল্যবান সময়-অর্থ-শক্তি উৎসর্গ করে যেতে হয়। একটি যথার্থ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে সকল নাগরিকের শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, জীবিকা, সুখসুবিধা, সুরক্ষা তথা সমৃদ্ধশালী জীবনযাপনের স্থায়ী বন্দোবস্ত সম্ভব হবে। প্রতিটি নাগরিকের সমৃদ্ধশালী এবং সুরক্ষিত জীবনযাপনের স্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যক্তিগত কিংবা সংস্থাগত উদ্যোগে সম্ভব নয়। যে কারণে একটি পূর্ণাঙ্গ সমাজ-ব্যবস্থা নির্মাণের উদ্যোগ অত্যাবশ্...

যিনি শহীদ হয়েছেন ক্ষতি হয়েছে তাঁরই

ছবি
দু - দেশের কথাই বলছি। যে-কোনও 'মৃত্যু'   আন্দোলনে হোক কিংবা যুদ্ধক্ষেত্রে – মৃত্যু তো মৃত্যুই। প্রাণের বিকল্প বলে কিছু হয় না। যার প্রাণ যায় ক্ষতি আসলে তাঁরই। এরপর সন্তান হারানো মায়েদের জীবন হয়ে ওঠে চরম বেদনার। মৃত্যু নিয়ে রাজনৈতিক ব্যবসায়ী এবং ধর্মীয় ব্যবসায়ীরা ফুলে ফেঁপে ওঠে। বাস্তবতা হচ্ছে মানুষ এখন ব্যক্তিস্বার্থ নিয়ে চরম সচেতন। স্বাধীনতার সেই যুগ আর এই যুগের মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ। যে-কোনও আন্দোলন শুরু হয় একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে, এরপর পরিস্থিতি অনুযায়ী তা ছড়িয়ে পড়ে দাবানলের মত। কখনো কখনো মৃত্যুর সঠিক হিসেব পাওয়া যায় না। দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা-প্রতিহিংসা এক ভয়ানক ব্যাধি। দেখা গিয়েছে সরকার একশ্রেণীকে সুযোগসুবিধা প্রদান করলে অপর শ্রেণীকে বঞ্চিত করতে বাধ্য হয়। এমনতর পৃষ্ঠপোষকতা সব দলের সরকারেই দেখা যায়। উল্টোদিকে পছন্দের রাজনৈতিক দল কিংবা নেতা - নেত্রী ক্ষমতা সীন হলেও যে একইপ্রকার সমস্যা পুনরায় উৎপন্ন হয় না তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। রাজনৈতিক দল এবং নেতা-নেত্রীর বদল হতে থাকে মাত্র। আন্দোলন-হত্যা-মৃত্যু-সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকে। একটি রাস্তার গর্তও তখনই সারাই ক...

বুদ্ধ ও ওশোর মধ্যে বিশেষ সাদৃশ্যটি কী?

ছবি
  দুজনেই মনুষ্য জীবন নিয়ে, জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে, জীবনযাপনের দিশা-দর্শন নিয়ে সাধনা করেছেন, তত্ত্ব দিয়েছেন। এর অর্থ এই যে মানুষ তাঁদের তত্ত্বকে যাচাই না করেই পরমসত্যটি ব্যবহারিক বলে গ্রহণ করে নেবে। যুগে যুগে মানুষ তুলনা-পর্যালোচনা করবে এমনটিই স্বাভাবিক। বিশেষ করে যতদিন না দুঃখের অবসান হয়। তাঁরা নিজ সময়ের আর্থসামাজিক ব্যবস্থা, বোধ, জ্ঞান অনুযায়ী সমস্যার সমাধান অন্বেষণ করেছেন, প্রয়োগের প্রচেষ্টা করেছেন, তত্ত্ব দিয়েছেন। এরপর সময় বদলেছে, জ্ঞান-বিজ্ঞান-চেতনা বদলেছে। তুলনা করে, যাচাই করে দেখা উচিত ওই সময়ের উপদেশ-তত্ত্ব এই সময়ের বাস্তবতার সাথে মিলছে কিনা, কাজে লাগছে কিনা। যা কাজের হবে রেখে দেওয়া উচিত, কাজে লাগানো উচিত, এবং অন্যের কাজে আসবে ভেবে প্রচার করা উচিত। যা কাজে লাগবে না বাতিল করা উচিত এবং অন্যদের জানানো উচিত বাতিল করে দিতে। বলা যায় নিজে যাচাই করে দেখে নেওয়া উচিত। যেমনটি ওশোর ক্ষেত্রে অভিনেতা বিনোদ খান্না করেছিলেন। পাঁচ বছর ওশোর পরিচালিত পথে সাধনা করে পুনরায় বলিউডে ফিরেছিলেন। যাচাই করবার এই ফর্মুলা উল্লেখিত দুই ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রেই নয় বরং পূর্বের সকল মনীষীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য...

ধর্মীয় শোষণমুক্তির উপদেশ কেন বাস্তবে কাজে আসে না?

ছবি
  যে বাস্তবতাখানি সমাজকে অনুধাবন করতে হবে তা হচ্ছে আস্তিক-নাস্তিক-অজ্ঞেয়বাদী কোনোটিই মূল সমস্যা নয়। মূল সমস্যা হচ্ছে নারীপুরুষ নির্বিশেষে সকলের শিক্ষা-জীবিকা-সুখসুবিধা-সুরক্ষার সুনিশ্চিত বন্দোবস্ত না থাকাটা। এই না-থাকা মেটাতেই মানুষকে কখনো বিশ্বাস করতে হয়, কখনো অবিশ্বাস করতে হয়, কখনো অন্ধবিশ্বা সী হতে হয়। ওঝা-গুণিন, ধর্মীয় ব্যবসা, শোষণ-বঞ্চনার পেছনেও ওই না - থাকাটাই মূল কারণ। সমাজ ওই মূল দায়িত্বটি পালনে ব্যর্থ হয়েছে। যে - কারণে পেরিয়ার মশাইয়ের উপদেশও কাজে লাগছে না। বাস্তবে মানুষ অপ্রয়োজনীয় কিছুই করে না। বিনা লাভে এক টাকাও বিনষ্ট করে না। বিশ্বাস-অবিশ্বাস দুটোই লাভের জন্য করে। সমস্যা হচ্ছে চলমান অসম্পূর্ণ আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় বিশ্বাসের গুরুত্ব কোথাও না কোথাও কারোর না কাছে রয়েছে। যা ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি ভিন্ন হবে। ব্যক্তি অর্থনৈতিকভাবে অপরের উপর নির্ভরশীল না হলে বিশ্বাসের ভূমিকা ও বদলে যাবে । লাভ-ক্ষতির হিসেব না থাকলে ব্যবসাও বন্ধ হয়ে যাবে। দান চেয়ে অসহায় হবার প্রয়োজন পড়বে না, দাতা সেজে মহানুভবতার প্রয়োজন পড়বে না। তারপরও কারোর মধ্যে বিশ্বাস থেকে গেলে সমস্যা কীসের? আসুন মিলিত উ...