সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থা থেকে প্রাপ্ত লাভসমূহ (৪৫ পয়েন্টস)

1.     জন্মের পর থেকেই সকলের জন্য সমস্ত সুখসুবিধা সমানভাবে সহজলভ্য থাকবে, যা সেই সময় নির্মাণ করা সম্ভব হবে। সরকার দ্বারা ডিজাইন করা পোর্টালের মাধ্যমে অর্ডার করে প্রয়োজনীয় বস্তু এবং পরিষেবা গ্রহণ করা যাবে।

2.     সকল শিক্ষার্থীর ইচ্ছে অনুযায়ী বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। শিক্ষা সমাপ্তির পর যোগ্যতা এবং পছন্দ অনুযায়ী কোনো একটি কাজের প্রশিক্ষণ অথবা গবেষণা বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষণ শেষে সকল শিক্ষার্থীর জন্য নিশ্চিত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকবে। ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত সকল ছাত্র-ছাত্রীর জন্য শিক্ষা প্রদানের মনোরম পরিবেশ এবং আরামদায়ক ব্যবস্থা থাকবে।

3.    এই ব্যবস্থায় মুদ্রা বা টাকার কোনো প্রয়োজন থাকবে না। এমনকি বস্তু এবং পরিষেবার মূল্যও নির্ধারণ করা থাকবে না। কোনো বস্তু এবং পরিষেবা গ্রহণের বিনিময়ে ব্যবস্থাকে কিছু প্রদান করতে হবে না এবং কাজের বিনিময়ে কোনো বেতনও থাকবে না।

4.     ব্যাক্তিগত স্তরে বস্তু অথবা পরিষেবা আদান-প্রদানের কোনো প্রয়োজন পড়বে না। অর্থ উপার্জনের জন্য জীবিকা, ব্যাক্তিগত ব্যবসা অথবা বস্তু বিনিময়ের প্রয়োজন হবে না। ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য কোনো বাজার থাকবে না। সকলের চাহিদা পূরণের জন্য একটি কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা দ্বারা সমস্ত কিছু উৎপাদন এবং বিতরণ করা হবে।

5.    এই ব্যবস্থায় সকলের নিজস্ব অনলাইন প্রোফাইল থাকবে। যেখানে জনগণের সমস্ত বিবরণ পঞ্জীভূত থাকবে। যেমন নাম, ঠিকানা, বয়স, ফোটো, যোগ্যতা, দক্ষতা, পছন্দ-অপছন্দ ইত্যাদি।

6.     বিভিন্ন বস্তু এবং পরিষেবা গ্রহণের জন্য সকলে নিজেদের অনলাইন প্রোফাইল তৈরি করতে পারবে এবং নিজেদের অর্ডার প্লেস করতে পারবে। নিরক্ষর মানুষদের জন্যও সরল প্রক্রিয়া এবং সহায়তার বন্দোবস্ত থাকবে। সকলের সমস্ত অর্ডার একটি কেন্দ্রীভূত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমেই হবে।

7.    সমস্ত রকমের চাহিদাকে বিকেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। অর্থাৎ আপনি নিজের ঈপ্সিত বস্তু এবং পরিষেবা কোনো অর্থ ছাড়াই অর্ডার করতে পারবেন। উৎপাদন এবং বিতরণ ব্যবস্থা সরকার দ্বারা কেন্দ্রীভূত রয়েছে।

8.    নতুন ব্যবস্থায় সম্পদ দখলের কোনোরূপ লড়াই থাকবে না। অর্থাৎ ব্যাক্তি মালিকানা থাকবে না এবং এটি সমাজতান্ত্রিক একনায়কতন্ত্র অর্থব্যবস্থাও নয়। এই ব্যবস্থায় জনগণই সকলের জন্য সমস্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এই প্রস্তাব সাম্যবাদের নির্দিষ্ট কোনো রূপান্তরও নয় যা আপনি এই পুস্তক অধ্যয়ন করলেই বুঝতে পারবেন।

9.     সমস্ত সুবিধা উপভোগ করার জন্য ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী সুস্থ্য নাগরিকদের পছন্দ এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কোনো একটি জীবিকা নির্বাচন করতে হবে। শিশু, প্রবীণ, অসুস্থ্য এবং প্রতিবন্ধী নাগরিক কোনো প্রকার কর্ম সম্পাদন না করেও নিজেদের ইচ্ছে অনুযায়ী সমস্ত সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। প্রতিটি পরিবারে স্বামীর অথবা স্ত্রীর নিজেদের ইচ্ছে অনুযায়ী যে কোনো একটি কর্মে যোগদান অনিবার্য থাকবে।

10.                     সরকারের কাছে সকলের অর্ডার অবিরত পৌঁছতে থাকবে। সেই অর্ডার অনুযায়ী সমস্ত বস্তু নির্মিত হবে এবং ডেলিভারি বিভাগ বিতরণের কাজ করবে।


11. শুরুতে নিরাপত্তার জন্য বস্তু এবং পরিষেবার নির্দিষ্ট সীমারেখা থাকবে। দুর্লভ বস্তু এবং পরিষেবাকে সামাজিক ভিত্তিতে বণ্টন করা হবে। যেন সকলেই সেই সুবিধা গ্রহণ করে সুখ উপভোগ করতে পারে।

12.মানব সম্পদ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ দুটোই ব্যবস্থার অধীন থাকবে। চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদনের জন্য মানব সম্পদ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সংমিশ্রণে সকলের প্রয়োজনীয়তা পূরণ হতে থাকবে। আমরা জানি যে এই জগতে প্রাকৃতিক সম্পদের কোনও অভাব নেই। সমস্ত সম্পদ ম্যানেজমেন্টের জন্য শুধুমাত্র একটি সঠিক ব্যবস্থা প্রয়োজন। এই নতুন ব্যবস্থায় অত্যাধুনিক পরিচালন ব্যবস্থা দ্বারা সকল নাগরিক নিজেদের চাহিদা পূরণের জন্য পছন্দের কর্ম করতে থাকবে।

13.                     এই ব্যবস্থায় গুণমান এবং দক্ষতা নিশ্চিতরূপে উচ্চমানের হবে। কারণ সকলেই নিজেদের পছন্দ এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কার্য সম্পাদন করতে থাকবে। পছন্দের কর্ম সম্পাদনের ফলে সকল বস্তু এবং পরিষেবা উচ্চমানের নির্মিত হবে। এতে নির্মাণকারীরা যেমন সুখ অনুভব করবে তেমনি সকল ব্যবহারকারীও অনুরূপ সুখ অনুভব করবে।

14.ব্যাক্তি নিজের ক্ষমতা অনুযায়ী ব্যবস্থা দ্বারা প্রদান করা ন্যুনতম লক্ষ্য পূরণের জন্য কর্ম করবে। ব্যবস্থা কাউকে কখনোই উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বাধ্য করবে না। প্রতিদিনের কাজের সময় আনুমানিক ৪ ঘণ্টা থেকে ৫ ঘণ্টার হবে। ব্যবস্থা শুধুমাত্র দেখবে বস্তু এবং পরিষেবার গুণগত মান সঠিক রয়েছে কি না। এই ব্যবস্থায় কেউ কারোর উপর পুলিশের মত নজরদারি রাখবে না। এমনকি ভয় দেখিয়ে অথবা জোরপূর্বক কাজ করানোর প্রয়োজনও হবে না।

15.                     জনগণের প্রতিক্রিয়া এবং মতামত ক্রমাগত আসতে থাকবে। কোনো বস্তু এবং পরিষেবা ব্যবহার করার সময় যদি গুণগত মান সঠিক না থাকে তৎক্ষণাৎ জনগণের কাছ থেকে চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া চলে আসবে। সেই প্রতিক্রিয়া যদি নেতিবাচক আসে তবে উক্ত পদাধিকারী অথবা বিভাগের উপর প্রশ্নচিহ্ন চলে আসবে। তারা খতিয়ে দেখবে কোথায় ভুল রয়েছে এবং সমাধানের জন্য তা নির্দিষ্ট বিভাগে প্রেরণ করা হবে। ফলে যে কোনো সমস্যাকে জরুরী ভিত্তিতে সমাধান করে নেওয়া হবে, যেন ব্যবহারকারী সন্তুষ্ট হয় এবং একই সমস্যা পুনরায় না আসে। এইভাবে সবকিছুর গুণমান সুনির্দিষ্ট করা হবে।

16.কিছু বস্তু এবং পরিষেবা এমন থাকবে যা আপনি ব্যক্তিগত অথবা পারিবারিক স্তরে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত করতে পারবেন। আপনার ব্যবহারের পর সেই বস্তু রিসাইক্লিং বা নবীকরণের জন্য পুনরায় ব্যবস্থার কাছে ফেরত চলে যাবে। ফলে কোনো ব্যক্তিকেই বস্তু এবং পরিষেবার মালিক হবার প্রয়োজন পড়বে না। অর্থাৎ যিনি যে বস্তু বা পরিষেবা যতদিন অবধি ব্যবহার করবেন ততদিন তার অধিকারী হবেন। যার যখন যা কিছু প্রয়োজন হবে তা অবিরত পেতে থাকবেন। ফলে সকলে সর্বদা সুখী অবস্থায় থাকবে।

17.                     সকল চাহিদা যেহেতু সর্বদা নির্ধারিত সময়ে পূরণ হতে থাকবে সেইজন্য কোনো সম্পদ জমিয়ে রাখার প্রয়োজন পড়বে না। এমনকি জমিয়ে রাখার সম্ভাবনাও থাকবে না। ব্যক্তিকে কখনই ভবিষ্যতের জন্য দুশ্চিন্তা করতে হবে না।

18.                     সকলের জন্য টাউনশিপ অথবা নগরীয় জীবন যাপনের ব্যবস্থা থাকবে এবং সমস্ত সুখসুবিধা সামাজিক স্তরে প্রদান করা হবে। যেমন পরিবহণ, সুইমিং পুল, জিম, রেস্তোরাঁ, ক্লাব, রিসোর্ট, সিমেনা হল, সেলুন, বিউটি পার্লার, স্টেডিয়াম, আর্ট গ্যালারী, সাংস্কৃতিক মঞ্চ ইত্যাদি। কাউকে আলাদা করে ওইসকল সুখসুবিধা উপভোগের জন্য ব্যাক্তিগতভাবে মালিক হবার প্রয়োজন পড়বে না। এইসকল সুখসুবিধার বন্দোবস্ত সকল ক্ষেত্রে ব্যবস্থা দ্বারাই প্রদান করা হবে। কোনোরকম টেনশনের বোঝা ছাড়াই সমস্ত অত্যাধুনিক সুখসুবিধার আনন্দ সকলে উপভোগ করতে পারবে।

19.এই ব্যবস্থায় রাজনৈতিক মডেল এমন রয়েছে যেখানে সমস্ত ক্ষমতা ২৪ ঘণ্টা অর্থাৎ ৩৬৫ দিন জনগণের হাতে নিহিত থাকবে। কোনো ব্যক্তি অথবা গোষ্ঠীর হাতে নয়। সমস্ত ক্ষমতা সর্বদা জনগণের হাতে নিহিত থাকার কারণে কখনও কেউ স্বেচ্ছাচারী হতে পারবে না। সমস্ত ব্যবস্থা জনগণ দ্বারা, জনগণের পছন্দ অনুযায়ী এবং জনগণের জন্য চালিত হতে থাকবে। ফলে সঠিক অর্থে এটিই হবে ‘প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা’।

20.                    সাংবিধানিক সংশোধন জনগণের সহমত ছাড়া সম্ভব হবে না। এমন কোনো নীতিনিয়ম থাকবে না যা জনহিতকে আঘাত করবে। জনগণের সুখ, সুরক্ষা এবং অধিকার সুনিশ্চিত করাই ফবে এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য। এখন আমরা মত প্রকাশের অধিকার যেমন ৫ বছরে একবার পেয়ে থাকি নতুন ব্যবস্থায় এই অধিকার ২৪ ঘণ্টা অর্থাৎ সর্বদা জনগণের হাতে থাকবে। যদি ১০% জনগণ কোনো নীতিনিয়ম অথবা নেতার প্রতি অসম্মতি প্রকাশ করে তবে তা বাতিল হয়ে যাবে। এই পুস্তকে বর্ণিত নতুন রাজনৈতিক মডেল অধ্যয়ন করে আপনি এই বিষয়টিকে আরও গভীরভাবে বুঝতে পারবেন।

21.অভিযোগের জন্য অনলাইন পদ্ধতি থাকবে। সমস্ত প্রকার অফিসিয়াল কার্যক্রম অনলাইন পদ্ধতিতেই হবে। অর্থাৎ কোনো কাজের জন্য কোথাও লাইনে দাঁড়াতে হবে না। এমনকি কাউকে সুপারিশ করা অথবা সুপারিশ চাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। জনগণ প্রাপ্ত বস্তু এবং পরিষেবার গুনাগুণ যাচাই অথবা মূল্যায়ন করতে পারবে। এমনকি সন্তুষ্টি রেটিং প্রদান করতে পারবে। নেতৃত্বমণ্ডলীসহ সকল নাগরিক এই প্রতিক্রিয়ার রেটিং যে কোনো সময় অনলাইনে দেখে নিতে পারবে।

22.                     একটি সফটওয়্যার দ্বারা প্রদত্ত রেটিং গণনা হতে থাকবে। এর ফলে নেতা, কর্মচারী এবং আধিকারিকবৃন্দের উপর প্রদত্ত রেটিং-এর হিসেব বিশ্লেষণ হতে থাকবে। এই রেটিং নির্ধারণ করে দেবে যে উক্ত পদাধিকারী ওই দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত না অনুপযুক্ত। যদি কোনো পদাধিকারীর রেটিং নির্দিষ্ট ক্রমাংকের নীচে চলে যায় তবে নির্বাচন কমিশন উক্ত পদের উপযুক্ত নতুন কাউকে নিযুক্ত করবে। এইভাবে ‘নাগরিক সন্তুষ্টি রেটিং’ নেতৃত্ব মণ্ডলীকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে একটি সাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রদান করবে।

23.                    সার্বজনিক স্তরে বিশ্লেষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সমস্ত তথ্য একটি কেন্দ্রীয় পোর্টালে সর্বদা সংরক্ষিত থাকবে। জনগণ R.T.I.-এর (তথ্য গ্রহণের অধিকার) আবেদন আলাদা করে ফাইল প্রেরণ না করেও সমস্ত তথ্য সরাসরি পোর্টাল থেকে গ্রহণ করতে পারবে। ফলে সরকারের সাথে সমস্ত যোগাযোগ সহজ এবং সরল থাকবে।

24.                     সমস্ত পদের নির্বাচন পরীক্ষার মাধ্যমে হবে। নেতা হবার জন্যও প্রার্থীকে পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। উত্তীর্ণ ব্যাক্তিরাই কেবলমাত্র নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করবে।

25.                    নতুন ব্যবস্থায় একটি বিশ্ব সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তার অধীনে সশস্ত্র সেনাবাহিনী থাকবে। যখন একাধিক রাষ্ট নতুন ব্যবস্থাকে গ্রহণ করবে তখন সেইসব দেশের মধ্যে সীমান্ত বিবাদ স্বাভাবিকভাবেই সমাপ্ত হয়ে যাবে এবং কোনো দেশকে আলাদা করে সেনাবাহিনী রাখার প্রয়োজন পড়বে না। এই ব্যবস্থাকে যখন বিশ্বস্তরে স্বীকার করে নেওয়া হবে তখন কালক্রমে সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তাও ধীরে ধীরে সমাপ্ত হয়ে যাবে।

26.                     সকলেই নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী জীবিকা বদল করতে পারবে এবং স্থানান্তরিত হবার স্বাধীনতা থাকবে। মাপদন্ড কেবলমাত্র এটিই থাকবে যে তাকে উক্ত পদের জন্য যোগ্য হতে হবে। কেউ যখন নতুন স্থানে স্থানান্তরিত হবে সেখানে তাদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা থাকবে। বাসস্থান থেকে কর্মস্থলের দূরত্ব এমন থাকবে যে মানুষকে নিজেদের কাজে পৌঁছানোর জন্য দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হবে না। ফলে সড়কে ভিড়ও ন্যুনতম হবে।

27.                    কাজের সময়সীমা ন্যুনতম থাকবে। অর্থাৎ আনুমানিক দিনে ৫ ঘণ্টা এবং সপ্তাহে ৫ দিন মাত্র। অধিকাংশ কর্ম সম্পাদন প্রক্রিয়ার গুণগতমান নির্ধারিত থাকবে এবং সমস্ত সিস্টেম অটোমেটিক হবে। প্রযুক্তির সর্বাধিক প্রয়োগের ফলে সকলের কাছে অনেক অবসর সময় থাকবে।

28.                    কাউকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হবে না। কোনো প্রকার বিল মেটাতে হবে না। কোনো ট্যাক্স জমা করতে হবে না। এমনকি ব্যাংকও থাকবে না। সরকারি সুখসুবিধা পেতে নিজের পরিচয়পত্র অথবা কোনো দস্তাবেজ কোথাও জমা করতে হবে না। আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত সরল থাকবে। ফলে সকলের পক্ষে তা পালন করাও খুব সহজ হবে। সমস্ত নিয়মনীতি যুক্তিপূর্ণ হবে এবং সহজ হবে। অধিকাংশ প্রক্রিয়া অনলাইন মাধ্যমে সম্পাদনের ফলে জীবন খুবই সরল হবে এবং ব্যবহারিক হবে।

29.                     জীবনকে আরামদায়ক এবং সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রযুক্তির সর্বাধিক প্রয়োগ হবে। যেমন চাষবাসের জন্য ট্র্যাক্টর, ট্রাক ইত্যাদি এয়ারকন্ডিশনড হবে। সমস্ত ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর সুবিধা এবং সুরক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব থাকবে। অত্যন্ত কঠিন কাজগুলিও প্রযুক্তির দ্বারা অতি সহজে সমাধান করে ফেলা হবে। কোনো কাজকেই হীন দৃষ্টিতে দেখা হবে না।

30.                    সমস্ত বস্তু উচ্চ গুণমানসম্পন্ন হবে। প্রাকৃতিক পরিবেশকে স্বাভাবিক রাখার জন্য ব্যবহৃত বস্তুকে রিসাইক্লিং করা হবে। ফলে প্রাকৃতিক সম্পদের অপপ্রয়োগ হবে না। দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি দুশ্চিন্তা থাকবে না।


31.                     বিদ্যালয়, হাসপাতাল, জিম, সুইমিং পুল, পার্ক, পুস্তকালয়, সংগ্রহালয়, রেস্তোরাঁ, থিয়েটার, বিভিন্ন প্রকার ক্লাব, স্টেডিয়াম ইত্যাদি পরিষেবা উপভোগের জন্য আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন টাউনশিপ তৈরি করা হবে। ফলে সকল বয়সের মানুষ সম্পূর্ণরূপে জীবনের আনন্দ উপভোগ করতে পারবে।

32.                    মানুষ কেবলমাত্র ব্যক্তিগত স্তরে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস পালন করার জন্য স্বতন্ত্র থাকবে। একজনের নিয়ম পালন বাস্তবে যেন অন্য কারও অসুবিধা উৎপন্ন না করে। এমনকি নতুন ব্যবস্থায় নিয়ম পালন না করার জন্যও সকলে স্বতন্ত্র থাকবে। সামাজিক স্তরে পালন করার জন্য ব্যাক্তিকে কোনো তত্ত্ব অথবা জ্ঞানকে প্রথমে নির্দিষ্ট ফোরামে প্রমাণিত করতে হবে।

33.                    সমাজের জন্য উপযুক্ত কোনো বস্তু, পরিষেবা, জ্ঞান-বিজ্ঞান অথবা অন্য কোনো বিষয়ে নীতিনিয়ম সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার পূর্বে উক্ত বিষয়কে নেতৃত্ব পরিষদ, অনুসন্ধান প্ল্যাটফর্ম এবং সার্বজনিক জনাদেশের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত করে আসতে হবে। যদি কারোর কাছে কোনো সমস্যা দেখা দেয় তবে তিনি যেন ‘মুক্ত মঞ্চ’ ব্যবহার করেন। সমস্ত সমস্যার সমাধান খোঁজার জন্যই এই মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে।

34.                    কোনো নীতিনিয়মের বিরোধিতার জন্য মানুষকে অনশন, ধর্না, বিক্ষোভ, আন্দোলন, ধর্মঘট ইত্যাদি করতে হবে না। কোনো বিতর্কিত অথবা আপত্তিকর বিষয় সমাধানের জন্য ‘মুক্ত মঞ্চ’ সর্বদা উন্মুক্ত থাকবে এবং এই মঞ্চে ব্যাক্তিকে তার আপত্তি যুক্তি সহযোগে প্রমাণিত করতে হবে। যদি তিনি তার আপত্তিকে ‘মুক্ত মঞ্চে’ প্রমাণিত না করতে পারেন তবে সেই আপত্তির কোনো আধার থাকবে না। জনগণের আলোচনার জন্য এই মঞ্চ ২৪ ঘণ্টা উপলব্ধ থাকবে।

35.                    নিজের যুক্তি প্রমাণিত না করে কোনো ব্যাক্তি সরকারকে দোষ দিয়ে নিজ দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারবে না। প্রতিটি ব্যাক্তিকে তথ্য ও যুক্তি উপস্থাপন করার পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হবে। এইজন্য কোনো প্রকার বিক্ষোভ বা বিরোধ প্রদর্শন করার প্রয়োজন হবে না। আলোচনা, অনুসন্ধান এবং জনাদেশের মাধ্যমে তা প্রমাণিত করে এক স্বচ্ছ প্রক্রিয়া দ্বারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

36.                    আইন প্রণয়নের জন্য বিভিন্ন স্তরীয় পদাধিকারীরা প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন। উক্ত প্রস্তাব ‘মুক্ত মঞ্চে’ ভোটদাতাদের কাছে সমীক্ষার জন্য ৩ মাস রাখা থাকবে। ন্যুনতম ১০% প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক যদি আপত্তি না তোলে তবে তা স্বাভাবিকভাবেই আইনে রূপান্তরিত হয়ে যাবে। আর যদি ১০% প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক আপত্তি তোলে তবে তা পুনরায় মুক্ত মঞ্চে বিবেচনার জন্য চলে যাবে।

37.                    জনগণের মধ্যে আদান প্রদানের জন্য অর্থের ব্যবহার থাকবে না। ফলে আর্থিক প্রতারণা এবং অন্যান্য অপরাধের সম্ভাবনা থাকবে না। এটি এমন একটি সরল প্রক্রিয়া যেখানে সততা বজায় রাখার জন্য পুলিশি ব্যবস্থার ব্যবহার ন্যুনতম হবে। কালক্রমে পুলিশি ব্যবস্থা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

38.                    ব্যবস্থা দ্বারা জনগণকে সমস্ত কিছু বিনামূল্যে প্রদান করার ফলে কোনো অপরাধ সংঘটিত হবে না। কারণ অপরাধ থেকে অতিরিক্ত কিছুই প্রাপ্তি হওয়ার নেই। যার ফলে দুর্নীতি, খাদ্য পদার্থে ভেজাল, প্রতারণা, লুটপাট, শোষণ, স্বৈরাচারী, ক্ষমতার লোভ ইত্যাদি সমস্যাগুলি উৎপন্নই হবে না।

39.                    সমাজে জাতি, লিঙ্গ এবং ভাষা নিয়ে যা কিছু ভেদাভেদ রয়েছে তা আপনিই বিলীন হয়ে যাবে। এমনকি বিভিন্ন ধর্ম, দেশ, সম্প্রদায়, পরিবার এবং গোষ্ঠীর মধ্যে যেসব বিবাদ রয়েছে সেসবও সমাপ্ত হয়ে যাবে। কেননা নতুন ব্যবস্থায় সমস্যার মূল কারণ নির্মূল হয়ে যাবে।

40.                    পরিবারের সকল সদস্য সরাসরি ব্যবস্থার সাথে যুক্ত থাকবে এবং যখনই তাদের কোনো কিছুর প্রয়োজন হবে তারা তা সরাসরি ব্যবস্থার কাছে ডিমান্ড করতে পারবে। কারোর উপর কোনো আর্থিক নির্ভরতা থাকবে না। ফলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকবে। মিথ্যা বলা অথবা প্রতারণার প্রয়োজন পড়বে না। যখন কেউ কারোর উপর নির্ভরশীল থাকবে না তখন পরস্পরের মধ্যে বিশ্বাস অটুট থাকবে। সম্পর্কগুলিও মধুর এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ হবে। এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। প্রত্যেকেই সমস্ত রকম সম্পর্কের আনন্দ উপভোগ করতে থাকবে। কোনো সম্পর্কই আর্থিক কারণে সংকটের সম্মুখীন হবে না এবং কেউ মানসিক চাপ অনুভব করবে না।


41.সঠিক ব্যবস্থা থাকলে ভবিষ্যতে কখনও কোনো প্রকার দুশ্চিন্তা এবং সমস্যা উৎপন্নই হবে না। আগামীকালের জন্য ভোজনের ব্যবস্থা, সংসার চালানোর খরচ, চিকিৎসার খরচ, জীবিকার ব্যবস্থা ইত্যাদি অনিশ্চয়তা অনুভব করবে না। এরপরও যদি অন্য কোনো প্রকার সমস্যা উৎপন্ন হয় তবে নির্দিষ্ট বিভাগ দ্বারা দ্রুত সমাধান করে নেওয়া হবে। ফলে সকল নাগরিক সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং শান্তিপূর্ণ জীবন উপভোগ করবে।

42.                     নতুন ব্যবস্থায় সকল নাগরিক নিজেদের ইচ্ছে অনুযায়ী নির্ভয়ে আনন্দময় জীবন যাপন করতে পারবে। শিশু, মহিলা, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী এবং তৃতীয় লিঙ্গের ব্যাক্তিরাও নিজেদের সর্বদা সুরক্ষিত এবং স্বাধীন অনুভব করবে। কেউই অন্যের শোষণ অথবা নিয়ন্ত্রণ অনুভব করবে না।

43.                    এই ব্যবস্থায় নিজেদের ইচ্ছে অনুযায়ী জীবন যাপনের ফলে মানসিক এবং শারীরিকভাবে সকলেই সমৃদ্ধশালী জীবন উপভোগ করবে। ফলে অসুস্থ্যতা অত্যন্ত কমে যাবে এবং মানুষ অধিক দীর্ঘায়ু হবে।

44.                     নতুন ব্যবস্থায় বিত্তশালী ব্যাক্তিরাও দুশ্চিন্তামুক্ত, স্বাধীন এবং অধিক বিত্তশালী অথবা সমৃদ্ধশালী অনুভব করবে। জীবনকে ভোগ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় তাদের হাতে থাকবে। ফলে তারা পারিবারিক সুখ এবং সম্পর্কজনিত সুখও সম্পূর্ণরূপে উপভোগ করতে পারবে। অপহরণ, প্রতারণা, হত্যা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ইত্যাদির ভয় থাকবে না।

45.                    জগতে মূলত চার প্রকারের মানুষ হয়। শারীরিক স্তরের, মানসিক স্তরের, ভাবনাত্মক স্তরের এবং চেতনাত্মক স্তরের। সকল স্তরের মানুষই জ্ঞান, কর্ম, ভোগ এবং বিশ্রামের মাধ্যমে সুখী হয়। সুখী হওয়াই জীবনের মূল উদ্দেশ্য। আমরা আজ অবধি ন্যায়পূর্ণ বা অন্যায়পূর্ণভাবে যে সকল কাজ করেছি বা করতে দেখেছি তার কেন্দ্রে সুখী হওয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য। নতুন ব্যবস্থায় সকলের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হতে চলেছে।

 

সকলের সুখী জীবনের জন্য এমন বৃহৎ ব্যবস্থা কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে এই পুস্তকের সমস্ত অধ্যায়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।


ইতিমধ্যে #সম্পূর্ণ_সমাধান পুস্তক হিন্দি থেকে ইংরেজি, রাশিয়ান এবং বাংলা ভাষায় অনুবাদ হয়েছে এবং অন্যান্য ভাষাতেও অনুবাদের কাজ চলছে। সম্পূর্ণ নতুন এই ব্যবস্থা নিয়ে পাঠক মহলে আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে। সকলের অধ্যয়নের সুবিধার্থে এই পুস্তকের E-BOOK/PDF COPY বিনামুল্যে প্রদান করা হয়েছে। একইসাথে কাগজের পুস্তক Amazon এবং Flipkart–এ উপলব্ধ রয়েছে (লিখুন ‘সম্পূর্ণ সমাধান/Sampurna Samadhan’)।

সম্পূর্ণ সমাধান ফ্রি E-BOOK ডাউনলোড করুন/‘Sampurna Samadhan’ FREE E-BOOk Download Link (Hindi, English, Russian and Bengali):

বাংলা ব্লগ ওয়েবসাইট: https://ulmbangla.blogspot.com/

English Website: http://universallifemanagement.org/

 

উন্মুক্ত আলোচনার জন্য যোগাযোগ:

প্রেমজীৎ সিরোহী : 90133 83424

সুকান্ত প্রধান : 70010 79159

মাধব রঞ্জন সরকার : 98309 25502

***



 

                                                                       




মন্তব্যসমূহ

  1. স্নেহভাজন মাধববাবু,
    আপনাকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।❤️🌹🙏🌹❤️
    বাংলা ভাষায় আপনি বাঙালিদের অমূল্য সম্পদ উপহার দিলেন "সম্পূর্ণ সমাধান" বাংলা ভাষায় অনুবাদ করে। নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা নির্মাণে প্রচারকার্যে আপনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রম বাংলার মানুষ চিরকাল মনে রাখবে। আপনাকে আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও প্রানভরা একরাশ ভালবাসা এবং শতকোটি নমস্কার।🌼🙏🌼

    REPLYDELETE

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

একটি বিকল্প অর্থনীতি কেন জরুরী?