ULM উপস্থাপিত নতুন ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করবে? নতুন অর্থশাস্ত্রের সুবিধাগুলো একনজরে পড়ে নিন
সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থা
এক নতুন সামাজিক রাজনৈতিক অর্থব্যবস্থা
সকলের জন্য সমস্ত সুখসুবিধা এবং জনগণের কাছে ২৪ ঘণ্টা ৩৬৫ দিন রাজনৈতিক ক্ষমতা
“মানুষকে সংশোধন করার প্রয়োজন নেই, ব্যবস্থা জনগণের সুবিধা অনুযায়ী হওয়া উচিত”- প্রেমজীৎ সিরোহী
সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থা কিভাবে কাজ করবে
এবং
নতুন অর্থশাস্ত্রের সুবিধা
বর্তমান অর্থশাস্ত্র আদিকাল থেকেই ৯০%
মানুষকে দরিদ্র বানিয়ে রেখেছে। বর্তমান সময়ের অত্যাধুনিক যুগেও ৯০% মানুষ দরিদ্রতার জালে জর্জরিত। অধিকাংশ মানুষ অনাহার, অর্ধাহার, অসহায় অবস্থায় কোনোক্রমে দিনযাপন করছে। একই নিয়মের অর্থশাস্ত্র চলমান থাকলে ভবিষ্যতেও যে ৯০% মানুষ গরীব হয়েই থাকবে এতে কোনোও সন্দেহ নেই। মূলত অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণেই সমাজে দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ, অপরাধ, ধর্ষণ, হত্যা, হিংসা, কলহ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, পারিবারিক অশান্তির মত সমস্যাগুলি সংঘটিত হয়।
কেউ কোনো অপরাধ করলে সাধারণভাবে আমরা সেই ব্যক্তিকেই দায়ী করি। বর্তমান ব্যবস্থাও উক্ত ব্যক্তিকে তার অপরাধ অনুযায়ী শাস্তি প্রদান করে থাকে। সমস্যার মূল কারণটিকে চিহ্নিত করে তা নির্মূল করে দিলে কেউ অপরাধও করবে না। অপরাধীকে দোষী সাব্যস্ত করা থেকে শুরু করে বিচার ব্যবস্থার মত জটিল প্রক্রিয়াগুলির প্রয়োজনও পড়বে না। বিষয়টি জটিল এবং অর্থহীন মনে হতে পারে। চলুন এই অধ্যায়ে বিষয়টিকে গভীর মনোযোগ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করি। আমরা সাধারণ চোখে সরাসরি মানুষকে দায়ী করলেও এইসব সমস্যার মূলে একটি নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। আরেকটি বিষয় প্রথমেই উল্লেখ করে দেওয়া প্রয়োজন যে, বর্তমান সমস্যার জন্য কোনোও ব্যাক্তিকে
দায়ী করা যায় না। অর্থাৎ বিত্তশালী ব্যক্তি, সরকার অথবা কোনো সংস্থা এইসকল সমস্যার
মূল কারণ নয়। সুতরাং মূল অর্থে কেউই দায়ী নয়। ব্যবস্থাই মূলত সকল সমস্যার
জন্য দায়ী। এই মূল কারণটি একবার বুঝে নিলে এবিষয়ে আর দ্বন্দ উৎপন্ন হবে না। ‘সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থা’য় একটি নতুন অর্থশাস্ত্রের সৃজন করা হয়েছে। এই নতুন অর্থশাস্ত্র থাকার কারণে সমাজে আর্থিক সমস্যাই
শুধু নয় অন্য কোনো প্রকার সমস্যাও উৎপন্ন হবে না। অর্থাৎ দুঃখ উৎপন্ন হবার মূল কারণটিকেই সমাপ্ত করে দেওয়া হয়েছে। ‘সম্পূর্ণ সমাধান’ পুস্তকে এই বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।
জাত-পাত, ধর্ম-বর্ণ,
উচ্চ-নীচ, ধনী-গরীব, স্থান-কাল-পাত্র ইত্যাদি নির্বিশেষে বিশ্বের সকল মানুষকে স্থায়ীরূপে সুখী এবং সমৃদ্ধশালী করা।
কেন নতুন অর্থশাস্ত্রের প্রয়োজন হল?
কারণ বর্তমান ব্যবস্থা
মানুষের জীবনকে না বুঝে এবং স্বাভাবিক ইচ্ছেকে না জেনেই তৈরি হয়েছে। মানুষ অন্তর থেকে যেমনভাবে
জীবন-যাপন করতে চাইছে তা করতে পাচ্ছে না। বলা যায় যে অর্থশাস্ত্র
বর্তমানে চলছে তা শুরু থেকেই কিছু শতাংশ মানুষকেই সমৃদ্ধশালী বানিয়ে রেখেছে। যার কারণে দুর্নীতি, হত্যা, প্রতিযোগিতা, দূষণ, অন্যায়-অত্যাচার ইত্যাদি
ঘটে চলেছে। যদি বর্তমান অর্থনীতি একইরকম চলমান থাকে তবে সমস্যাগুলিও
বৃদ্ধি পেতে থাকবে। ফলে ফলে মূল থেকে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী।
সকলকে সমৃদ্ধশালী বানানো সম্ভব?
আমরা যা কিছু বস্তু
বা পরিষেবা ব্যবহার করছি সবই এই পৃথিবী অর্থাৎ প্রকৃতির মধ্যেই অবস্থিত রয়েছে। একটি সঠিক ব্যবস্থা থাকলে
প্রাকৃতিক সম্পদ এবং মানব সম্পদের মেলবন্ধন ঘটিয়ে সকলের জন্য প্রয়োজনীয় বস্তু এবং পরিষেবা উৎপাদন করা সম্ভব। সঠিক ম্যানেজমেন্ট থাকলে এই সুবিধা সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়াও সম্ভব। নতুন ব্যবস্থায় একটি কেন্দ্রীভূত সরকার দ্বারা সমস্ত
কিছু পরিচালিত হবে। ফলে কোনোকিছুর অভাব পরিলক্ষিত হবে না। সকল মানুষ সমান অর্থনৈতিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকার মূলে রয়েছে এই ভ্রষ্ট অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।
নতুন ব্যবস্থায় কি কি সুবিধা থাকবে?
সকল শিশুর জন্য
আধুনিক শিক্ষা, পছন্দের বিষয় নিয়ে উচ্চশিক্ষা, ট্রেনিং, গবেষণা; সকলের জন্য পছন্দের কর্ম অথবা জীবিকা, সংরক্ষণ এবং উন্নত জীবন যাপনের সমস্ত সুখসুবিধা। অর্থাৎ সুখী এবং সমৃদ্ধশালী জীবন-যাপনের জন্য সমস্তকিছু নতুন ব্যবস্থা দ্বারা বিনামূল্যে প্রদান করতে হবে। অর্থাৎ নতুন ব্যবস্থায় সকলের জন্য সমস্ত কিছু ফ্রি।
নতুন ব্যবস্থার পরিকাঠামো কেমন হবে?
একটি কেন্দ্রীয় পোর্টাল থাকবে এবং যেখানে সকল নাগরিকের সমস্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। সকলে নিজেদের প্রয়োজনীয় বস্তু এবং পরিষেবা সেই অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে অর্ডার করতে পারবে। ক্যুরিয়ার ডিপার্টমেন্ট অর্ডারদাতার বাড়িতে ডেলিভারি করে দেবে। অর্ডার করার সময় অথবা পরে
কোনো প্রকার অর্থ প্রদান করতে হবে না। এই ব্যবস্থায় সমস্তকিছু সকলের জন্য ফ্রি থাকবে। নতুন ব্যবস্থায় জনগণের জন্য মুদ্রা অথবা টাকার লেনদেন থাকবে না। মুদ্রা, শ্রমের মুল্যাংকন এবং বস্তুর অর্থমূল্য থাকলে কি কি বাধা উৎপন্ন হয় তা ‘সম্পূর্ণ সমাধান’ পুস্তকে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। বর্তমান ব্যবস্থায় চলমান অর্থনীতির ভয়ঙ্কর পরিণাম আমাদের চোখের সামনে রয়েছে।
সকলেই কি এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে?
যেহেতু সকলের জন্য সবকিছু ফ্রি থাকবে তাই পরিবারের সকলেই নিজেদের প্রয়োজনীয় বস্তু এবং পরিষেবা অর্ডার করতে পারবে। ফলে পরিবারের একজন সদস্য অপর সদস্যের উপর আর্থিক দিকে দিয়ে নির্ভরশীল থাকবে না। শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ্য এবং প্রতিবন্ধীরাও সমস্তরকম সুবিধা একইপ্রকার থাকবে।
৫ থেকে ২০ বছর বয়স অবধি সকল শিক্ষার্থীদের একসমান সাধারণ পাঠ্যক্রম থাকবে। ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী ব্যক্তিরা নিজেদের পছন্দের বিষয় নিয়ে উচ্চশিক্ষা, দক্ষতার ট্রেনিং অথবা গবেষণা করতে পারবে। তারপর ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সের প্রত্যেককে নিজেদের পছন্দ এবং দক্ষতার অনুযায়ী একটি জীবিকা প্রদান করা হবে। সমস্ত প্রকার শিক্ষা সরকার দ্বারা পরিচালিত হবে এবং বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। নতুন ব্যবস্থা কিভাবে সকলের জন্য জীবিকার ব্যবস্থা করবে এ বিষয়ে সম্পূর্ণ সমাধান পুস্তকে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।
সকল শ্রমের মূল্য কেন সমান হবে?
২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী সুস্থ্য ব্যক্তিদের কোনো না কোনো একটি জীবিকা সম্পাদন করতেই হবে। শিক্ষা এবং কাজের ট্রেনিং যে বিনামূল্যে প্রদান করা হবে এবিষয়ে পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তারা যে কর্ম করতে পারবে অথবা যে ট্রেনিং নেওয়া রয়েছে সেই অনুযায়ীও তারা কর্ম করতে পারবে। নতুন অর্থশাস্ত্রে শ্রমের কোনো মুল্যাংকন রাখা হয়নি। সকলের শ্রমের মূল্য এবং কাজের মান একসমান থাকবে। এটির পেছনে যুক্তিপূর্ণ কারণ রয়েছে। আমরা লক্ষ্য করছি একই কাজের জন্য ভিন্ন সংস্থায় অথবা ভিন্ন ডিপার্টমেন্টে ভিন্ন ভিন্ন পারিশ্রমিক প্রদান করা হয়। যদি প্রতিটি কাজের প্রয়োজনীয়তা সমান হয়ে থাকে তবে পারশ্রমিক ভিন্ন ভিন্ন কেন হবে? এর ফলে সমাজে বৈষম্য এবং অপরাধপ্রবণতার জন্ম হয়। কেউ কঠোর শ্রম দিয়ে চলেছে বিনিময়ে কিছুই পাচ্ছে না অপরদিকে কেউ প্রয়োজনের তুলনায় অত্যধিক পেয়ে চলেছে। ‘সকল কাজের মান সমান’ এই কথা তো আমরা বলে থাকি কিন্তু বাস্তবে শ্রমের মূল্য রেখেছি আলাদা আলাদা। এটি অন্যায়।
অন্যান্য কি কি সুখসুবিধা থাকবে?
এই ব্যবস্থায় একটিই কেন্দ্রীয় সরকার অথবা centralized management থাকবে। সড়ক, জল, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, গ্যাস, আবাসন, পরিবহণ ইত্যাদি সকল পরিকাঠামো সরকার দ্বারা পরিচালিত হবে। সকলের জন্য আধুনিক সুবিধাসহ নগরকেন্দ্রীক জীবন-যাপনের ব্যবস্থা থাকবে। অর্থাৎ সমস্ত বাড়িতে বড় টিভি, এসি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ইত্যাদি সুখসুবিধা থাকবে।
যারা রান্না করে
খেতে ভালবাসেন তারা শাকসব্জিসহ অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী অর্ডার করে বাড়িতে রান্না করতে পারবেন। রান্না করতে ইচ্ছে না করলে কাছাকাছি রেস্তোরাঁয় গিয়েও পছন্দ অনুযায়ী ভোজনের আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। যেহেতু নতুন ব্যবস্থায়
অর্থ বা মুদ্রা থাকবে না তাই পেমেন্টের প্রশ্নই নেই। অন্যান্য সুখসুবিধাও সকলের জন্য একসমান থাকবে। যেমন স্টেডিয়াম, লাইব্রেরী, ক্লাব, সিনেমা হল, হোটেল, সেলুন, বিউটি পার্লার, জিম,
সুইমিং পুল ইত্যাদি। যদি প্রশ্ন উদয় হয় এতসব কিভাবে সম্ভব হবে তবে পুনরায় উল্লেখ করে দিই যে নতুন ব্যবস্থায় ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী সকল ব্যক্তি নিজেদের পছন্দের ডিপার্টমেন্টে কর্ম সম্পাদন করবে। ফলে কোথাও কখনো কোনো বস্তু অথবা পরিষেবার অভাব অনুভব হবে না।
নতুন ব্যবস্থায় সকলকে দিনে মাত্র ৪-৫ ঘণ্টা কাজ করতে হবে। প্রত্যেক ব্যাক্তিরই পছন্দের কোনো না কোনো কাজ রয়েছে। সকলেই ৫ বছরের ট্রেনিং গ্রহণ করার পরই কাজে যোগ দেবে। ফলে সমস্ত বস্তু এবং পরিষেবা উচ্চমানের হবে। পছন্দের কাজ পেলে কেউ অলসতা দেখায় না বরং আনন্দের সাথে অতিরিক্ত কাজ করতেই পছন্দ করে। যেমন ধরুন– যারা রান্না করতে ভালবাসে তারা নানা রকমের সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর খাদ্যবস্তু তৈরির পেশায় যুক্ত হবে। সমস্তরকম সুখসুবিধার জন্য সকল বিভাগের উন্নয়ন প্রয়োজন। যেমন–
education, job distribution,
political system, health sector, farming sector, water system, construction,
highways, sports, technology, products and manufacturing industry, amusement,
clubs, restaurants, entertainment industry, research and
development ইত্যাদি। সকলের সুখসুবিধা সমানভবে বণ্টন এবং ম্যানেজমেন্টের জন্য একটি কেন্দ্রীয় সরকার অথবা centralized system থাকবে। সরকার কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং কিভাবে সবকিছু সঠিকভাবে পরিচালিত হবে এ বিষয়ে সিরোহী মহাশয়ের লিখিত পুস্তক ‘সম্পূর্ণ সমাধান’ অধ্যয়ন করুন। বিশেষ করে আর্থিক এবং রাজনৈতিক মডেলটিকে বিশেষভাবে বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।
সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থায় ধর্মীয় রীতিনীতি পালনে কি
বলা হয়েছে?
ধর্মীয় বিশ্বাস
সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। লাইব্রেরীতে সমস্ত ধর্মের পুস্তক থাকবে। আপনি বেদ,
ত্রিপিটক, বাইবেল, কোরান, গীতা অথবা অন্য কোনো ধর্মীয় গ্রন্থ অধ্যয়ন করতে পারবেন। আপনার পছন্দ অনুযায়ী যে ধর্মকে অনুসরণ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিগত স্তরে পালন করতে পারবেন। শুধুমাত্র একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে আপনার অনুশীলন যেন অন্য কাউকে দুঃখ, অসুবিধা অথবা ব্যাক্তি স্বাধীনতায় বাঁধা সৃষ্টি না করে। যদি কেউ সামাজিক ভাবে পালন করতে চায় তবে তাকে উক্ত বিষয়কে মুক্ত মঞ্চের ফোরামে প্রমাণিত করে আসতে হবে।
নতুন ব্যবস্থা কিভাবে স্থাপিত হবে?
সর্বপ্রথমে এই ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য সকল নাগরিকের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং বুঝিয়ে
দেওয়া। সকল নাগরিক নিজেদের মধ্যে আলোচনা এবং চিন্তন-মনন করবে। এজন্য আন্দোলন, অনশন,
ধর্না, মিছিল, প্রতিবাদ, অভিযোগ, প্রতিরোধ অথবা মামলা-মোকদ্দমা ইত্যাদির প্রয়োজন নেই। নির্দিষ্ট সময়ে সার্ভে হবে এবং নির্বাচন হবে। ৫০ শতাংশ জনগণ নতুন ব্যবস্থার পক্ষে ভোট প্রদান করলে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। নতুন ব্যবস্থার সমস্ত
পদে যোগ্য প্রার্থী এবং উক্ত কর্ম করতে ইচ্ছুক ব্যাক্তিরাই নিযুক্ত হবেন। ফলে দমন-পীড়ন বা প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমস্যা থাকবে না। এই ব্যবস্থায় সমস্ত ক্ষমতা ২৪ ঘণ্টা জনগণের কাছে থাকবে। যেমন ১০%
জনগণ কোনো পদাধিকারী অথবা আইনের বিপক্ষে ভোট প্রদান করলে উক্ত পদাধিকারী পদচ্যুত হয়ে যাবেন এবং সেই আইন বাতিল হয়ে যাবে। উক্ত ব্যাক্তি স্বাভাবিকভাবে নিন্মপদে স্থানান্তরিত হবেন। যেহেতু এই ব্যবস্থায় কোনো পারিশ্রমিক নেই এবং সমস্ত পদের গুরুত্ব বা মর্যাদা সমান তাই সকল পদাধিকারী সমান সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এই ব্যবস্থায় একটিই কেন্দ্রীয় সরকার এবং centralized management
থাকবে। এবার রাজনৈতিক দলের প্রসঙ্গে আসি। কোনোও রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য হচ্ছে সকল নাগরিকদের সুখসুবিধা প্রদান করা। আজ অবধি কোনো রাজনৈতিক দল সেই উদ্দেশ্য পূরণ করতে সক্ষম হয়নি। সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেখানে সকল নাগরিক নিজেদের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই উপভোগ করতে
পারবে। ফলে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন থাকবে না। এই বিষয়ে ‘সম্পূর্ণ সমাধান’ পুস্তকে রাজনৈতিক মডেল অনুচ্ছেদে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।
দ্রা বা অর্থ কেন থাকবে না?
যে কোনোও শাস্ত্রের উদ্দেশ্য হচ্ছে সেই বিষয়ে সুখসুবিধা প্রদান করা। শাস্ত্র সকল বিশ্বাসীর জন্য। তাহলে অর্থশাস্ত্রের ক্ষেত্রে ভিন্ন নিয়ম কেন? বর্তমান অর্থশাস্ত্রের সুবিধা কি সকল নাগরিক গ্রহণ করতে পারছে?
অর্থশাস্ত্রের উদ্দেশ্য হবে সকলের আর্থিক সমৃদ্ধি। বিশ্বের সকল নাগরিক কি আর্থিক দিক দিয়ে সমৃদ্ধ হতে পেরেছে? কেবলমাত্র ১০% ব্যক্তিই বর্তমান অর্থশাস্ত্রের সকল সুখসুবিধা ভোগ করে চলেছে। আদিকাল থেকে বর্তমান সময় অবধি ধনী-দরিদ্রের অনুপাত একইরকম
রয়েছে। যে শাস্ত্রের সুবিধা থেকে বিশ্বের ৯০% নাগরিক বঞ্চিত রয়ে যায় সেই শাস্ত্রকে প্রকৃত শাস্ত্র বলা যায় কি? যুগে যুগে ৯০% জনগণ শিক্ষা, জীবিকা, সুখ-সাচ্ছন্দ
এবং সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত থেকেছে। আপনি কি চান এই অন্যায় চলমান থাকুক এবং ভুল অর্থশাস্ত্রের পরিণাম একইরকম বয়ে আসুক?
মুদ্রা জমিয়ে রাখা জীবনের উদ্দেশ্য নয়। জীবনের উদ্দেশ্য হছে সুখী হওয়া। আমরা সুখী হই আমাদের ঈপ্সিত জ্ঞান, কর্ম, ভোগ এবং বিশ্রামের মাধ্যমে। যদি নিজের পছন্দ অনুয়ায়ি জ্ঞান অর্জন করতে পারি, পছন্দ অনুযায়ী কর্ম সম্পাদন করতে পারি এবং পছন্দ অনুযায়ী ভোগ অর্থাৎ সুখসুবিধা উপভোগ করতে পারি তবেই আমরা সুখী হই। এটিই জীবনের উদ্দেশ্য এবং এমন প্রকার জীবনই সকলে পেতে চায়। এইসব সুখ-সুবিধা যেহেতু সকলের প্রয়োজন তাই এটি তখনই সম্ভব হবে যখন সকলের মান একসমান হবে। আর মান একসমান থাকার অর্থ হচ্ছে কারোর মুল্যাংকন না থাকা। যখন কারোর মুল্যাংকন হবে না এবং শ্রমের মূল্য নির্ধারিত হবে না তখন সকলের মান একসমান হয়ে যাবে। সকলে সমানভাবে চাহিদা অর্ডার করতে পারবে এবং সেইসব চাহিদা একটি কেন্দ্রীভূত ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে পূরণ হতে থাকবে। সুতরাং যাদের যা কিছু প্রয়োজন তা গ্রহণ করে তারা সুখী হতে পারবে। এটিই হচ্ছে মূল উদ্দেশ্য। সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থার অর্থশাস্ত্রে কোনো কিছুরই মুল্যাংকন রাখা হয়নি। কেননা বস্তুর মুল্যাংকন শ্রমের মুল্যাংকন থেকেই উৎপন্ন হয়। সেই কারণে নতুন অর্থশাস্ত্রে পারিশ্রমিক থাকবে না, ব্যাংক থাকবে না,
tax system থাকবে না। ফলে ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ঝঞ্ঝাট অথবা দৌড়-ঝাঁপও সমাপ্ত হয়ে যাবে। ফলে সামান্য কাজেও অধিক সুখসুবিধা পাওয়া যাবে। নাগরিক কোনো সরকারের কাছে এমন সুবিধাই তো আশা করে থাকে। যেমন পরিণাম এবং সুবিধা সকলে চেয়ে থাকে তার জন্য এটি একেবারে সঠিক ব্যবস্থা। বর্তমানে যে ব্যবস্থা রয়েছে সেটি সঠিক নয় কারণ যেমন সুবিধা মানুষ বাস্তবে চাইছে তেমন পরিণাম প্রদান করতে পারছে না। বলা যায় বর্তমান ব্যবস্থা আমাদের জীবনের উদ্দেশ্যকে পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
পারিবারিক সম্বন্ধ কেমন হবে?
নতুন ব্যবস্থায় সকলে সমানরূপে স্বাধীনতা ভোগ করবে। আর্থিক দিকে পরিবারের একজন সদস্য অপর কোনো সদস্যের উপর নির্ভরশীল থাকবে না। শিশু, যুবক,
প্রবীণ, বৃদ্ধ, অসুস্থ্য, তৃতীয় লিঙ্গ, প্রতিবন্ধী সকলে নিজেদের প্রয়োজনীয় বস্তু এবং পরিষেবা সরকারের কাছে অর্ডার করবে এবং ডেলিভারি বিভাগ সকলের বাড়িতে পৌঁছে দেবে। ফলে আগামীকাল কি খাব, কি পরব,
কোথায় থাকব,
রোজগার না চলে গেলে কি হবে ইত্যাদি দুশ্চিন্তা অথবা নিরাপত্তাজনিত সমস্যা থাকবে না। এছাড়া প্রতিটি পরিবারের নিজস্ব বাড়ি, যাতায়াতের সুবিধা, উৎসব অনুষ্ঠান পালনের সুবিধাও সমানরূপে থাকবে। প্রতিটি কাজের জন্য নির্দিষ্ট ডিপার্টমেন্ট থাকবে। ফলে কেউ কারোর উপর কোনোভাবেই নির্ভরশীল থাকবে না। কাউকে সাহায্য বা অনুদান দেবারও প্রয়োজন হবে না। কারোর জন্য কোনো প্রকার দুশ্চিন্তা থাকবে না। পরিবারের সকল সদস্য নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী জীবন-যাপনের আনন্দ উপভোগ করতে পারবে। পারিবারিক সমস্যা উৎপন্ন হবে না, পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ় এবং মধুর হবে। কেউ কাউকে শোষণ অথবা নিপীড়ন করতে পারবে না। ফলে পারিবারিক অশান্তি, হিংসা, কলহ, অবসাদ এবং আত্মহত্যার মত সমাস্যাগুলির অবসান ঘটবে।
বস্তু এবং পরিষেবার গুণমান কিভাবে নির্ধারিত হবে?
জনগণ অনলাইনে যে কোনো সময় যে কোনো ডিপার্টমেন্টের বস্তু, পরিষেবা, নেতা,
মন্ত্রী, পদাধিকারী অথবা কর্মরত
ব্যাক্তির কাজের ‘কোয়ালিটি রেটিং’ প্রদান করতে পারবে। এইসব তথ্য যে কেউ যে কোনো সময় নির্দিষ্ট পোর্টালে লগইন করে দেখতে পারবে। অর্থাৎ সকলের জন্য সমস্ত তথ্য সর্বদা খোলা থাকবে। একইসাথে জনগণ কোনো পরামর্শ বা সংশোধনের জন্যও তথ্য প্রেরণ করতে পারবে।
সমাজের সাধারণ ব্যক্তি থেকে চাষি,
শ্রমিক, দোকানদার, শিক্ষক, লেখক, চিন্তাবিদ, বুদ্ধিজীবি, দার্শনিক, বিজ্ঞানী, গবেষক, অধ্যাপক, সমাজসেবী, চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ী, নেতা, মন্ত্রীসহ পৃথিবীর যে কোনো বিভাগের ব্যক্তিরা যেন একসাথে আলোচনা এবং চিন্তন-মনন করে একটি সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে পারে সেজন্য ULM মুক্ত মঞ্চ তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ ULM মুক্ত মঞ্চে যে কোনো ব্যক্তি নতুন ব্যবস্থার পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি, পরামর্শ অথবা আরও উন্নত সমাধান উপস্থাপন করতে পারেন। এজন্য পরস্পরের সম্মিলিত চিন্তা-ভাবনা এবং আলোচনাই হচ্ছে একমাত্র মাধ্যম। বর্তমান করোনাকালীন আবহে অনলাইন মাধ্যমে নিয়মিত মুক্ত মঞ্চের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়ে চলেছে। এই অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে আলোচনা শেষে সকলেই একটি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন। সময়সীমার বন্ধন নেই। বক্তা যতক্ষণ চাইবেন ততক্ষণ নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেন। প্রতিটি অনুষ্ঠান রেকর্ডিং করে সংরক্ষিত করা হয় এবং সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রেরণ করা হয়।
পুনরায় একথা স্মরণ
করে দেওয়া প্রয়োজন যে আপনার কাছে কোনো সমাধান, বক্তব্য অথবা কোনো বিষয়ে গবেষণামূলক তথ্য থাকলে আপনি মুক্ত মঞ্চে আমন্ত্রিত। ‘সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থা’ নিয়ে কোনো আলোচনা, নির্দেশ, উপদেশ, পরামর্শ বা সংশোধন থাকলে অবশ্যই মুক্ত মঞ্চের অনুস্থানে অংশগ্রহণ করুন।
অধিক তথ্য এবং যোগাযোগ
সম্পূর্ণ সমাধান পুস্তকে নতুন ব্যবস্থার সমস্ত মডেল সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন আর্থিক মডেল,
সামাজিক মডেল, রাজনৈতিক মডেল, শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ মডেল,
কর্মসংস্থান মডেল এবং পারিবারিক মডেল। পুস্তকের ফ্রি PDF কপি সংগ্রহ করে অধ্যয়ন করতে পারেন। অথবা কাগজের বই Flipkart অথবা Amazon থেকে অর্ডার করেও অধ্যয়ন করতে পারেন।
আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ
ULM Team
যোগাযোগঃ
প্রেমজীৎ সিরোহী : 90133 83424
সুকান্ত প্রধান : 70010 79159
মাধব রঞ্জন সরকার : 98309 25502

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন