সমাজব্যবস্থার চ্যালেঞ্জসমূহ এবং সমাধানের নতুন দৃষ্টিকোণ

সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থা

নতুন সামাজিক রাজনৈতিক অর্থব্যবস্থা

রচনা প্রেমজীৎ সিরোহী

সংকলন অম্বরিশ মিশ্র

অনুবাদ মাধব রঞ্জন সরকার



আমাদের পৃথিবী দারিদ্র জলবায়ু পরিবর্তন, পারস্পরিক দ্বন্দ্ব এবং যুদ্ধের মতো গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আয়ের ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের ব্যবধান, সামাজিক বহিষ্কার, সহিংসতা এবং সার্বিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেআমাদের শহরগুলি ক্রমশ বিনষ্ট হচ্ছে এবং সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছেআমাদের মধ্যে বেশিরভাগেরই বিভিন্ন প্রকার নিরাপত্তাহীনতা এবং অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছেযদি আমরা একটি সঠিক দিকনির্দেশ গ্রহণ না করি এবং সমস্যাগুলির সংশোধন না করি তবে ভবিষ্যতে বিপদের সম্ভাবনা দ্রুত বেড়ে যাবে

তাহলে সমাধান কী? আমরা কি এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে পারি না যা স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিক এবং শান্তি সৃষ্টি করবে? আমরা সকলেই তো মানুষ এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের কাছেই এই সমস্যা কবলিত শৃঙ্খলকে পরিবর্তন করার ক্ষমতা রয়েছে। অবশেষে এইসমস্ত সমস্যাগুলি মানব অস্তিত্বকে প্রবলভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে আমরা কীভাবে মানব জাতিকে জীবনযাপনের পক্ষে উপযুক্ত এবং উপভোগ্য করে তুলুব, এটিই আমাদের মৌলিক সমস্যা যদি এই ব্যবস্থা সমস্ত নাগরিককে তাদের ইচ্ছেমত জীবনযাপন করতে সহায়তা করে এবং তা যদি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্যবস্থা হিসেবে গঠিত হয়, তবে তাকে একটি সফল ব্যবস্থা বলা যাবেযদি সম্পদের ব্যবস্থাপনা অনুচিত হয় এবং মানুষ ইচ্ছে অনুযায়ী জীবনযাপন থেকে বঞ্চিত হয়, তবে তাকে একটি ব্যর্থ ব্যবস্থা বলা হবে।

মৌলিকভাবে, এর অর্থ হচ্ছে অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক উভয় ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করতে হবে। এখানে আর্থিক এবং রাজনৈতিক কাঠামোর মূল তাৎপর্য হচ্ছে আমরা কীভাবে সম্পদ উৎপাদন ও বণ্টন করব। যদি আমরা সমাজের সম্পদের সৃজন এবং বণ্টনকে গণতান্ত্রিক করতে পারি তাহলে আমরা মানবিক সমন্বয় সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান করতে পেরেছি এমনটি বলতে পারব সুখী জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলির অন্যায়পূর্ণ বন্টন সমস্তরকম সমস্যার দিকে ধাবিত করে যেমন প্রতিস্পর্ধা, হিংসা, ঈর্ষা, লোভ, অন্যায়, অসদাচরণ, দুর্নীতি, পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ইত্যাদি আমাদের বর্তমান অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষাগত কাঠামোর একটি প্রতিস্পর্ধামূলক আধার রয়েছে, যা মানুষকে উন্নত জীবনের আশা দেখিয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে ব্যবস্থা শুধুমাত্র কিছু মানুষকেই বিত্তশালী করতে সক্ষম হয়েছে তিন ভাগ জনসংখ্যার সম্মিলিত সম্পদের চেয়েও ওই স্বল্প মানুষের সম্পদ অধিক যদি আবেগের বশবর্তী হয়ে কোনো ভালো মানুষ এই সম্পদ ত্যাগ করেও দেন, তৎক্ষণাৎ কেউ না কেউ তা ধরে নিতে এবং পরিচালনা করতে উদগ্রীব হয়ে উঠবে কেননা অর্থনীতির মূল কাঠামোই হচ্ছে এমনতর অর্থনৈতিক কাঠামোই যদি অগণতান্ত্রিক হয় তাহলে কীভাবে আমরা জীবনের জন্য উন্নত কিছুর আশা করতে পারি? যদি নীতি ও সিদ্ধান্ত সকল নাগরিকের কল্যাণের জন্য না হয়, তাহলে আমরা কীভাবে আন্তরিকভাবে সৌহার্দপূর্ণ সহযোগিতার আশা করতে পারি? জীবন যদি ক্রমাগত সংঘর্ষ, হুমকি এবং নিরাপত্তাহীনতায় পূর্ণ হয় তবে এমন জীবনের অর্থ কী? যদি সমষ্টিক অস্তিত্ব বিক্ষিপ্ত অবস্থায় থাকে তাহলে কীভাবে একজনের ব্যক্তিগত জীবন সম্পূর্ণরূপে প্রস্ফুটিত হতে পারবে অথবা সফল হতে পারবে? জীবনের জন্য পরম সুখ অন্বেষণের জন্য বৃহৎ পরিসরে সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। সহযোগিতার প্রতিষ্ঠা কেবলমাত্র একটি সুচিন্তিতসম্পূর্ণ ব্যবস্থাতেই সম্ভব।


পরবর্তী পর্যায়ের জন্য একটি কাঠামো যাকে আমরা ইউনিভার্সাল লাইফ ম্যানেজমেন্ট বলে থাকি; যা স্পষ্ট করতে সাহায্য করে যে আমরা কী চাই এবং কীভাবে তা পেতে পারি এটি একটি বৈচিত্র্যময় পন্থা হয়েও ঐক্যের সমন্বয় সাধন করেছে, যেখানে সমাজিক সম্পদের নির্মাণ এবং বিতরণের জন্য বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা হয়েও এক কেন্দ্রীভূত ম্যানেজমেন্ট প্রদান করেছে যেখানে পরবর্তী ব্যবস্থাটি হয়ে উঠেছে বিবেচনামূলক কাঠামো দ্বারা পরিচালিত এক পূর্ণ গণতান্ত্রিক শাসন পদ্ধতি এমন এক সিস্টেম যেখানে সর্বদা সমস্ত ক্ষমতা নাগরিকবৃন্দের কাছে থেকেও শাসন ব্যবস্থাকে একটি কেন্দ্রীভূত পদ্ধতি প্রদান করেছে যদি এই মডেলটি প্রতিষ্ঠিত হয় তবে বর্তমানে যে সমস্যাগুলি উৎপন্ন হয়ে চলেছে তা স্থায়ীরূপে সমাপ্ত হয়ে যাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার আগে ব্যাখ্যা করার অনুমতি দিন যে এই সিস্টেমটি সম্পদকে কীভাবে সকলের প্রয়োজন পূরণে বিতরণের বন্দোবস্ত করবে। আসুন জেনে নিই এই ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আমাদের জীবনে কী পরিবর্তন আসবে?

 

প্রস্তাবিত ফলাফল

 

. জীবন আপনার ইচ্ছে অনুযায়ী হবে


প্রতিটি ব্যক্তির শেখার, উৎপাদন করার এবং উপভোগ করার রুচি এক নিজস্ব বিষয় মানুষ কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা (জ্ঞান), কাঙ্খিত কর্মসংস্থান (জীবিকা), কাঙ্ক্ষিত বস্তু/পরিষেবা (ভোগ) এবং কাঙ্ক্ষিত বিশ্রাম (আরাম) উপভোগ করে সুখ লাভ করে প্রস্তাবিত মডেল এই উদ্দেশ্যকেই পূরণ করে দেবে

বর্তমান যুগে ব্যক্তি নিজের সময় অথবা অন্যভাবে বললে নিজের জীবন উৎসর্গ করে দেয়চাকরির বাইরেও তারা অতিরিক্ত শ্রম প্রদান করে। ব্যক্তি নিজের এবং পরিবারের জন্য কিছু সুখসুবিধা প্রদানের জন্য এমনটি করে থাকেআমরা বর্তমানে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের জন্য কর্ম করছি। বর্তমান ব্যবস্থার প্রণালী এমনই নেতিবাচক যে অর্থ কেবলমাত্র কয়েকজনের জন্যই উৎপন্ন হয়ে চলেছে, একটি সঠিক ব্যবস্থা থাকলে তা অন্তিম নাগরিক পর্যন্ত বিস্তার লাভ করতে পারত এইজন্য আপনি কঠোর পরিশ্রম করলেও যে বিত্তশালী হবেন তার কোনো গ্যারান্টি নেই। কেননা বর্তমান ব্যবস্থা অনুযায়ী কেবলমাত্র কিছু মানুষই ধনী হয়ে উঠতে পারে। আবার, বিত্তশালী হয়ে গেলেও যে আপনি বিত্তশালী হয়েই থাকবেন তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। এমনতর অবস্থা জীবনকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলে এবং দুশ্চিন্তায় ভরিয়ে দেয়

বর্তমানে কিছু বিত্তশালী মানুষ অনেক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা সত্ত্বেও তারা নিরাপত্তাহীনতা, অনিশ্চয়তা, দূষণ এবং অত্যধিক মানসিক চাপ নিয়ে কর্ম করে চলে, কেননা পেছনে বহুসংখ্যক বঞ্চিত অবস্থায় রয়েছে এমন কিছু উপাদান যা মানুষের জীবনকে পরিপূর্ণ করে তোলে, আনন্দ এবং তৃপ্তি নিয়ে আসে, তা সম্পন্ন এবং বিত্তশালীদের কাছেও অনুপলব্ধ। তারাও জীবনকে সম্পূর্ণরূপে উপভোগ করতে পারছে না। এমনকি কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা (প্রতিষ্ঠিত জ্ঞান), কাঙ্ক্ষিত জীবিকা (কর্ম), কাঙ্ক্ষিত বস্তু/পরিষেবা (ভোগ) এবং কাঙ্খিত বিশ্রাম (আরাম) সর্বাধিক বিত্তশালীদের কাছেও সম্পূর্ণ উপলব্ধ নয়।

সুখ সৃষ্টির জন্য মানুষের সাহচর্য দ্বারা সম্মিলিত সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, এটি শুধুমাত্র একটি দক্ষ ব্যবস্থার মাধ্যমেই সম্ভব। কিন্তু বর্তমান অর্থনীতিতে আমরা প্রতিযোগিতা করছি বলে এই ধরনের সহযোগিতা সম্ভব হয়ে উঠছে না এই বৈরিতা বৈশ্বিক, সামাজিক, পারিবারিক, ব্যক্তিগতসহ বলা যায় প্রতিটি স্তরে উপস্থিত।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থা অনুযায়ী ব্যক্তি পছন্দের শিক্ষা, পছন্দের জীবিকা, প্রয়োজন অনুযায়ী বস্তু/পরিষেবা গ্রহণ করতে সক্ষম হবে এইসকল সুবিধা গ্রহণের জন্য কোনো প্রকার অর্থের প্রয়োজন হবে না। প্রবন্ধন এমনভাবে হবে যেন একজনের কর্ম অপরজনের জন্য উপভোগের বিষয় হয়ে ওঠেসেইজন্য এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সকলকে সকলের জন্য সুখসুবিধা নির্মাণ করার সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে। ব্যক্তি স্বয়ং নিজের রুচি অনুযায়ী সেইসব সুখসুবিধা উপভোগ করতে পারবেকোনো ব্যক্তিকে ইচ্ছের অতিরিক্ত শ্রম প্রদান করতে হবে না

 

. সকল ব্যক্তি আর্থিকরূপে স্বতন্ত্র হবে


গরীবদের প্রতি দান বা করুণার প্রয়োজন হবে না কেননা নতুন ব্যবস্থায় কেউ দরিদ্র থাকবে না। এই প্রণালীর মাধ্যমে সকলেই প্রকৃত সমতার অনুভব করবে। সকলের সব ইচ্ছে পূরণ করার বিষয়টি ব্যবস্থা দ্বারা সমর্থিত হবে এবং কেউ অপরের বোঝা হয়ে থাকবে না অথবা কারোর উপর নির্ভরশীল থাকবে না। ব্যবস্থার সাথেই প্রতিটি ব্যক্তির সরাসরি সম্পর্ক থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থার উপরই নির্ভর করবে

সকল পরিস্থিতিতে ব্যক্তি সিস্টেম থেকে শুধুমাত্র সুবিধাই গ্রহণ করতে থাকবে, সমাজের স্বার্থে তাকে কোনোপ্রকার ত্যাগ স্বীকার করতে হবে না ব্যবস্থার কাঠামো এমন হবে জনস্বার্থ পূরণ আপনিই হয়ে যাবে। জনস্বার্থই এই ব্যবস্থার উপাধি।

 

. সার্বজনীন গণতন্ত্র এবং সমতার অনুভব


একা বা পরিবারের দ্বারা সম্পন্ন করা যায় না এমন সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং সকল প্রকার সামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য সরকার নামে একটি সংস্থা গঠন করার প্রয়োজন হয় এবার আমাদের এমন একটি ব্যবস্থা আবশ্যক যেখানে অধিকার নির্ধারণে সম্পূর্ণ গণতন্ত্র বজায় থাকবেপ্রতিটি মানুষের অধিকার সমান হওয়া উচিত। ভূমিকা ও দায়িত্ব নির্ধারণে যোগ্যতা, ক্ষমতা, প্রতিভা, দক্ষতা ও রুচির প্রতি বিবেচনা করা উচিত এখানে অধিকার শব্দের অর্থ হচ্ছে শিক্ষার অধিকার, কর্মসংস্থানের অধিকার, সামাজিক সুযোগ-সুবিধার অধিকার এবং সুরক্ষার অধিকার। সুখী জীবনের জন্য এই সমস্ত বিষয়গুলি প্রয়োজন। এখানে ভূমিকা এবং দায়িত্ব শব্দটির অর্থ এমন কর্মসংস্থানকে বোঝায় যা একজন কর্মচারীর যোগ্যতা, ক্ষমতা, প্রতিভা, দক্ষতা, এবং রুচি অনুযায়ী প্রদান করা হয় উপরের পাঁচটি পয়েন্ট থাকলে তবেই কোনো কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা যাবে। অন্যথায় কাজটি কখনই সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হবে না এবং সকলের জন্য দুঃখের কারণ হয়ে উঠবে, যেখানে একটি সাংস্কৃতিক ব্যবস্থার উদ্দেশ্যই হচ্ছে সকলের জন্য সুখ প্রদান করা

সুতরাং প্রস্তাবিত সমাধান এক বৌদ্ধিক ব্যবস্থার ভিত্তিতে এবং ব্যক্তিগত পছন্দ অনুসারে অধিকার এবং দায়িত্ব প্রদান করতে সক্ষম হবে। সকল নাগরিকের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সুযোগ-সুবিধা, সেবা/পরিষেবা এবং নিরাপত্তা প্রাপ্ত হবে

. সকল প্রকার নিরাপত্তা, স্বাধীনতা এবং শান্তি


সম্মিলিত সহযোগিতা থাকলেই আমরা সব ধরনের সুখ পেতে পারি। এই সহযোগিতা একটি সঠিক ব্যবস্থার পরিণাম, যেখানে সুখের ব্যক্তিগত অবস্থাকে এক বৌদ্ধিক কাঠামো দ্বারা প্রবন্ধন করা হয় সুপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা কাঠামোতে সমস্ত ধরণের মানুষ নিজেদের সঠিক অবস্থান খুঁজে পায়। জীবনে স্বাধীনতা এবং সন্তোষ অনুভব করে যেখানে নিয়ম ভঙ্গ করার প্রয়োজন থাকবে না এবং নাগরিক অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে অথবা কুটিল উপায়ে কাউকে শোষণ করে সুখ প্রাপ্ত করার প্রয়োজন পড়বে না জীবনযাপনের নিয়ম অল্পই রয়েছে এবং জীবনকে আরও সহজ করার জন্যই সেসব প্রণয়ন করা হয়ে থাকেসম্পদও সকলের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে উপলব্ধ রয়েছে এবং কোথাও কোনোকিছুর অভাব নেই বিশ্ব পর্যায় থেকে ব্যক্তিগত স্তর পর্যন্ত সম্পদের কোথাও কোনো মজুদ ও অবাঞ্ছিত সঞ্চয় হবে না নেতিবাচকতা, প্রতিস্পর্ধা, অবাঞ্ছিত সঞ্চয়, অভদ্রতা, যুদ্ধ, অস্ত্র তৈরি করা, প্রাকৃতিক ও মানব সম্পদ অপব্যবহার, দুর্নীতি, ভ্রান্তিকর অবস্থা ইত্যাদির কোনো কারণ থাকবে না

নতুন ব্যবস্থায় মানুষের মধ্যে কোনো ধরনের নেতিবাচকতা উৎপন্ন হবে না, যা বর্তমানে সম্পদের অনুপযুক্ত প্রবন্ধনের কারণে ঘটে চলেছেএই নেতিবাচকতার কারণে প্রত্যেকেই নিজের জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছে যা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের রূপ নিয়ে থাকে যখন সকলে সুখসুবিধার লাভ নিতে থাকবে তখন ভবিষ্যতের জন্য নিরাপত্তার অনুভূতি আপনিই গড়ে উঠবে। পরস্পরের মধ্যে সত্য, ভালবাসা, সহযোগিতা, উষ্ণতা ও পারস্পরিক আস্থার ইতিবাচক ভাবনা তৈরি হবে জনগণ সরকার এবং রাষ্ট্রের মধ্যে আস্থা উৎপন্ন করতে সক্ষম হবে। অতঃপর এই সংবেদনশীল কাঠামো প্রকৃত গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে, যেন জীবনের আনন্দ সকলেই উপভোগ করতে পারে

এটি কীভাবে সম্ভব তা পরবর্তী নিবন্ধগুলোতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। প্রথমে বর্তমান অর্থনীতির সীমাবদ্ধতাকে জেনে নেওয়া জরুরী আমাদের বুঝতে হবে বিশ্বশান্তি, পরিবেশগত স্থিরতা এবং মানবজাতির কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আমাদের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া দ্বারা সম্ভব নয়। চলুন পরবর্তী প্রবন্ধে বিস্তারিত জেনে নিই

***

মূল হিন্দি পুস্তক সম্পূর্ণ সমাধানের রচয়িতা দিল্লী নিবাসী দার্শনিক প্রেমজীৎ সিরোহী একজন লেখক, বক্তা এবং ULM (UNIVERSAL LIFE MANAGEMENT) সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা বর্তমান বিশ্বের মুখোমুখি চ্যালেঞ্জগুলির সমাধান প্রদানে এই সংস্থা একটি থিংকট্যাঙ্ক হিসেবে কাজ করে চলেছে সিরোহী মহাশয় তাঁর প্রথম পুস্তক সম্পূর্ণ সমাধান এক নতুন সামাজিক রাজনৈতিক অর্থব্যবস্থার মাধ্যমে মানব জীবনের সকল সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থাকে উপস্থাপন করেছেন যেখানে সকল মানুষ সমানরূপে সুখী হতে পারবে তিনি বক্তারূপে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন মঞ্চে প্রত্যেকের কাছে এই সমাধানকে পৌঁছে দেওয়ার অভিযানও শুরু করেছেন তাঁর বক্তব্যগুলিতে অর্থশাস্ত্র, রাজনীতিশাস্ত্র, সমাজশাস্ত্র, দর্শনশাস্ত্র এবং মনোবিজ্ঞানের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলীর সমাবেশ রয়েছে। মনুষ্য জীবনের চ্যালেঞ্জগুলির কেন্দ্রে রয়েছে ব্যবস্থা সেই ব্যবস্থানির্ভর সমাধান প্রদানে তিনি বক্তব্য উপস্থাপন করেন তাঁর কেন্দ্রীয় বিষয় হচ্ছে এক নতুন অর্থব্যবস্থা, যার দ্বারা সকল মানুষ নিজেদের ঈপ্সিত জীবন-যাপন করতে পারবে এবং সামাজিক সুখসুবিধাগুলির জন্য ন্যায়পূর্ণ উৎপাদন এবং বিতরণ সম্ভবপর হবে মানব চেতনা সম্পর্কে তাঁর সুগভীর বোধ রয়েছে তিনি ধ্যান, আধ্যাত্ম ইত্যাদি বিষয়ের পথপ্রদর্শকও বটে তিনি আত্মজ্ঞানে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের নিয়েও একটি কার্যক্রম বিকশিত করেছেন যেন তারা স্বয়ং উপলব্ধি করতে পারে আমরা কে, কেন বা কিরূপে কর্ম সম্পাদন করে থাকি এবং এই জগতে আমরা কেন এসেছি তাঁর বিষয়বস্তু এবং সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন মৌলিক ও অসামান্য, অপরদিকে তা একাডেমিক পরম্পরায় অনুপলব্ধ ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ সমাধান পুস্তকটি চারটি ভাষায় উপলব্ধ হয়ে গিয়েছে। আরও কিছু ভাষায় অনুবাদের কাজ চলছে। তাঁর দ্বিতীয় পুস্তকের নাম সম্পূর্ণ জীবন দর্শন - সুখী জীবনের অজ্ঞাত সুত্র, যেখানে তিনি এক নতুন দর্শনের সাথে পরিচয় করিয়েছেন লেখকের আগামী পুস্তকের নাম এক দার্শনিকের জীবনযাত্রা

***

ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ সমাধান পুস্তক হিন্দি থেকে ইংরেজি, রাশিয়ান, বাংলা, মারাঠি, গুজরাতি সহ একাধিক ভাষায় অনূদিত হয়েছে অন্যান্য ভাষায় অনুবাদের কাজ চলছে সকলের অধ্যয়নের সুবিধার্থে এই পুস্তকের E-BOOK/PDF COPY বিনামুল্যে প্রদান করা হয়েছে একইসাথে কাগজের পুস্তক Amazon এবং Flipkartএ উপলব্ধ রয়েছে। 


 যোগাযোগ 98309 25502

   







মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?