কেন ৯০% মানুষ দরিদ্র, অসহায়, নিঃস্ব? রহস্য কোথায় লুকিয়ে রয়েছে?
একটি নতুন অর্থশাস্ত্রের বহু নীতিসমূহের মধ্যে একটি মুখ্য নীতি আমি নিন্মে বর্ণনা করছি যার মাধ্যমে এই কঠিন বিষয়টি অতি সহজেই বুঝে নিতে পারবেন। আরও অধিক জানার জন্য আমরা পরবর্তী অধ্যায়গুলি থেকে বিস্তারিতভাবে বুঝে নেব। বর্তমান অর্থ ব্যবস্থায় নীতি এমন রয়েছে, যতখানি মুদ্রা অথবা অর্থ আপনার কাছে রয়েছে আপনি বাজার থেকে ততখানিই চাহিদা বা ডিমান্ড করতে পারবেন। অর্থাৎ চাহিদা আমাদের অর্থের উপর নির্ভর করছে। এতে বাজার থেকে আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পূর্ণ ডিমান্ড করতে পারি না। এর ফলে বাজারেও চাহিদা অনেক কম থাকে। ডিমান্ড যখন কম থাকে তখন বাজার সেই সামান্য ডিমান্ডের ভিত্তিতেই বস্তু নির্মাণ করে। অর্থাৎ বস্তু নির্মাণ কম হয়। বাজারে যখন বস্তু নির্মাণ কম হয় তখন কর্মসংস্থানও কম উৎপন্ন হয়। যখন কর্মসংস্থান কম উৎপন্ন হয় তখন সমাজে বেকারত্ব অধিক উৎপন্ন হয়। কেননা বর্তমান সমাজে উপার্জন তো কর্মসংস্থানের ভিত্তিতেই তৈরি হয়। যার কাছে কোনো কর্ম নেই তার কাছে আয়ও নেই। অর্থাৎ উপার্জনহীন মানুষ সমাজের ভিক্ষার উপরই নির্ভর করে বেঁচে থাকে। কেননা সে তো বাজার থেকে কিছুই ডিমান্ড করতে পারে না। আবার যার উপার্জন কম সেও বাজার থেকে পর্যাপ্ত মাত্রায় ডিমান্ড করতে পারে না। সামান্য যেসব মানুষের কাছে পর্যাপ্ত অর্থ রয়েছে তারাই কেবলমাত্র নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পূর্ণ ডিমান্ড করতে পারে। এই প্রকার আর্থিক নীতির কারণেই বাজারে সর্বদা চাহিদার অভাব থেকে যায়। কেননা বেশিরভাগ মানুষের আয় কম। আয় কম হবার কারণ কর্মসংস্থানের অভাব। অর্থাৎ দেশ-দুনিয়ার একটি বড় অংশ সর্বদা গরীব অবস্থায় থাকে। বর্তমান সময়ের অর্থশাস্ত্রীয় নীতির এই হচ্ছে মূল কাহিনী। এই কারণে অধিকাংশ মানুষ গরীব এবং অসহায় জীবন-যাপনে বাধ্য হয়। যতদিন পর্যন্ত এই আর্থিক নীতি বদলাবে না ততদিন পর্যন্ত সকলের সুখী হবার কোনো সম্ভাবনা নেই।
একথা তো আপনিও জানেন যে মানুষের কাছে যত পরিমাণ অর্থ রয়েছে তার সব অর্থ তারা কেনাকাটাতে খরচ করে না। কিছু ভবিষ্যতের জন্য জমিয়েও রাখে। কেননা বর্তমান ব্যবস্থায় সে নিজের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত মনে করে না। সরকারও এই ক্ষেত্রে খুব সামান্যই উন্নতিসাধন করেছে, যার ফলে মানুষ নিজেদেরকে সুরক্ষিত অনুভব করছে না। ধরুন কেউ যদি ভবিষ্যতের জন্য অর্থ না জমায় তাহলেও তো মানুষের কাছে যতটা অর্থ থাকবে সে শুধুমাত্র ততটুকুই বাজার থেকে ডিমান্ড করতে পারবে। জীবনে তো সে কখনো সর্বাধিক ডিমান্ড করতেই পারবে না যতক্ষণ অবধি তার কাছে পর্যাপ্ত অর্থ না আসে। এমনকি অতীতের ইতিহাস অধ্যয়ন করেও এটি বলা যায় যে আজ পর্যন্ত এমনটি হয়নি যে সকল নাগরিকের কাছে কেনাকাটা করার পর্যাপ্ত অর্থশক্তি এসেছে। আমরা নীচের ছবিটি দেখলে বিষয়টি সহজেই বুঝতে পারব। এই নীতিটিকে মনোযোগসহ পর্যবেক্ষণ করলে আপনি বুঝতে পারবেন— যতক্ষণ অবধি আমাদের চাহিদা অর্থের উপর নির্ভর করবে ততক্ষণ অবধি আমরা পর্যাপ্ত ডিমান্ড করতে পারব না। ফলে বস্তু এবং পরিষেবার পর্যাপ্ত নির্মাণ হবে না, এমনকি পর্যাপ্ত আয়ও উৎপন্ন হতে পারবে না।
যখন পর্যাপ্ত আয় উৎপন্ন হবে না তখন পর্যাপ্ত ডিমান্ডও উৎপন্ন হবে না। আর এই কুচক্র সর্বদা এমন করেই বৃত্তাকারে ঘুরতে থাকবে। এই চক্র অধিকাংশ মানুষকে গরীব, অসহায়, শোষিত ইত্যাদি বানিয়ে রাখবে, এমনকি বাস্তবে তেমনভাবেই রেখে চলেছে। এই বিষয়টিকে আরেকবার বুঝে নিন। অর্থ আসে কর্মসংস্থান থেকে, কর্মসংস্থান আসে নির্মাণ থেকে, নির্মাণ হয় বস্তু এবং পরিষেবার পর্যাপ্ত ডিমান্ড থেকে, ডিমান্ড আসে পর্যাপ্ত অর্থ থেকে। এবার আপনি বুঝে গিয়েছেন যে সবার কাছে তো পর্যাপ্ত অর্থ থাকবেই না। তার কারণ সবার কাছে তো কর্মসংস্থান নেই। সবার কাছে কর্মসংস্থান এইজন্য নেই কেননা বাজারে তো পর্যাপ্ত ডিমান্ড নেই। বাজারে যদি ডিমান্ড ন্যুনতম থাকে তাহলে বাজার ন্যুনতম উৎপাদন করবে এবং তা থেকে ন্যুনতম কর্মসংস্থান উৎপন্ন হবে। যার ফলে ন্যুনতম রোজগার উৎপন্ন হবে। আর এই কুচক্র এভাবেই চলতে থাকবে। যতদিন অবধি এই নীতি থাকবে, এই কুচক্র এইভাবে অধিকাংশ মানুষকে গরীব বানিয়ে রাখবে। এই নীতির কারণে সকল মানুষ কখনই সমৃদ্ধ হতে পারবে না। এবার আশা করি আপনি বুঝে গিয়েছেন যে যতদিন এই নীতি থাকবে ততদিন আমরা সকলে গরীব অবস্থাতেই থাকব। যে কজন মানুষ ভোগ্য বস্তু এবং পরিষেবা নির্মাণ করেন কেবলমাত্র তারাই অত্যধিক ধনী হন। তারা সমগ্র জনসংখ্যার কেবলমাত্র ১ শতাংশ। সুতরাং এই নীতি থাকলে অধিকাংশ মানুষের গরীব অবস্থা কেউ দূর করতে পারবে না। তাই এই নতুন নীতিটিকে বুঝুন, যা আমি উপরের নীতি থেকে কিছুটা পরিবর্তন করে তৈরি করেছি।
***
সম্পূর্ণ সমাধানঃ এক নতুন সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থব্যবস্থা,
অধ্যায় ২ (অর্থশাস্ত্রের মুখ্য নীতি)
পৃষ্ঠা ৫
***
বিঃদ্র এই পুস্তকের বিষয়বস্তু আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হলে অবশ্যই FREE PDF ডাউনলোড করুন অথবা কাগজের পুস্তক সংগ্রহ করে পুঙ্খানুপুঙ্খ অধ্যয়ন করুন।
যোগাযোগ- ৯৮৩০৯২৫৫০২
***
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন