নতুন অর্থশাস্ত্রে মুদ্রানীতির পরিবর্তন একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। জানুন বিস্তারিত

অর্থশাস্ত্রে মুদ্রানীতির পরিবর্তন
নতুন ব্যবস্থায় আমি মুদ্রা নীতির একটি পরিবর্তন করেছি। ডিমান্ড করার জন্য যে মুদ্রা বা অর্থ অতি আবশ্যক ছিল তা আমি সরিয়ে দিয়েছি। অর্থাৎ এখন এই নতুন নীতি অনুযায়ী সবাই নিজ নিজ ডিমান্ড পর্যাপ্ত পরিমাণে করতে পারবে। ডিমান্ড করার জন্য এখন আর অর্থের প্রয়োজন থাকবে না। দেখুন এতে আমাদের সমাজে সকল বস্তুর চাহিদা ১০০ শতাংশ হয়ে যাবে। এবার এই ১০০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করার জন্য সরকারকে ১০০ শতাংশ বস্তু এবং পরিষেবা উৎপাদন করতে হবে। ১০০ শতাংশ উৎপাদনের কারণে ১০০ শতাংশ কর্মসংস্থান তৈরি হয়ে যাবে। যার ফলে সরকারকে ১০০ শতাংশ কর্মসংস্থান প্রদান করতে হবে। কেননা ১০০ শতাংশ ডিমান্ড পূরণ করার জন্য ১০০ শতাংশ কারখানা, মেশিন, বিদ্যুৎ, সড়ক, জল, মালবাহক গাড়ি, বহু রকমের বস্তু এবং পরিষেবার প্রয়োজন হবে। আর এতসব কর্ম সম্পাদনের জন্য বহু মানুষেরও প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ সোজা কথায় বললে সরকারের কাছে ১০০ শতাংশ কর্মসংস্থান সর্বদা তৈরি হয়ে থাকবে। তাহলে বিষয়টির অর্থ এই দাঁড়ায় যে সকলের জন্য কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত হবে। অন্যভাবে বললে সবাই সমৃদ্ধ হবে। নীচের চিত্রটি দেখলে ভাল করে বুঝতে পারবেন।

এবার নিশ্চয়ই দেখে নিয়েছেন যে নতুন নীতির মাধ্যমে কী প্রকার পরিবর্তন হতে পারে। আমি শুধুমাত্র আপনার চাহিদা পূরণ করার ক্ষমতাকে অর্থের প্রয়োজন থেকে মুক্ত করে দিয়েছি। অর্থনীতির মধ্যে একটি ছোট্ট পরিবর্তন কতটা আশ্চর্যজনক পরিণাম দিতে পারে তা আমরা উপরের চিত্র থেকে ভাল করে বুঝে নিতে পারি। মানুষ সত্যিকারের স্বাধীনতা তখনই অনুভব করবে যখন সকলে সমানভাবে সমস্ত সুখসুবিধা উপভোগের জন্য স্বতন্ত্র হবে। মানুষ যা শিখতে চাইবে শিখতে পারবে, যা করতে চাইবে করতে পারবে এবং যা ভোগ করতে চাইবে ভোগ করতে পারবে। তখনই সঠিক অর্থে বলা যাবে আমরা স্বাধীন। অর্থাৎ যা করতে চাইছি করতে পারছি। যেমন জীবন কাটাতে চাইছি তেমন জীবন-যাপনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে যাচ্ছি। এরপর নতুন ব্যবস্থায় আমি মুদ্রার অর্থকেও বদলে দিয়েছি। মুদ্রা সম্পর্কে আপনারা অবশ্যই পরবর্তী অধ্যায়ে আরও বিস্তারিতভাবে অধ্যয়ন করে নেবেন। সরকারের কাছে আপনার একটি ব্যংক একাউন্ট থাকবে। সরকার আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ডিমান্ড করবার সীমা নির্ধারণ করতে থাকবে। যার মাধ্যমে সবাই নিজেদের ইচ্ছে অনুযায়ী যা কিছু বস্তু অথবা পরিষেবা ভোগ করতে চাইবে সেইসব সুবিধা পেতে থাকবে। শুধুমাত্র একটি শর্ত থাকবে। শর্ত এটিই হবে— আপনার ইচ্ছে অনুযায়ী যে কর্ম আপনাকে প্রদান করা হবে তা সম্পাদন করতে হবে, যদি আপনার বয়স ২৫ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে থাকে। আপনি যদি এই সহযোগিতা না করেন তবে এই নীতির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। যদি সহযোগিতা করতে থাকেন তবে যে-কোনো সময় যে-কোনো সুবিধা আপনি সরকারের কাছ থেকে নিতে পারবেন এবং উপভোগ করতে পারবেন। একবার সামঞ্জস্য চলে এলে আর আর্থিক সীমা রাখার প্রয়োজন পড়বে না। কর্মসংস্থানের গ্যারান্টি তো সরকারের তরফ থেকে থাকবেই।

ধরুন— সরকার আপনাকে কর্মসংস্থান প্রদানে ব্যর্থ হল, তাহলেও নতুন ব্যবস্থার অন্তর্গত সমস্ত সুখসুবিধা আপনি পেতে থাকবেন। কোনোকিছু ডিমান্ড করার এবং গ্রহণ করার অধিকার আপনার থাকবে। কর্মসংস্থানের গ্যারান্টি প্রদানের পর কোনো কারণে তা প্রদান করতে না পারলেও সরকার আপনাকে সবকিছু ডিমান্ড করবার এবং ব্যবহার করবার পূর্ণ অধিকার দেবে। এই নীতি দ্বারা সকলের প্রয়োজনীয় ডিমান্ড এবং কর্মসংস্থানের সমাধান একসাথে পূরণ হবে। সমাজে যেসব বস্তুর ঘাটতি থাকবে সরকার সেইসব বস্তু ব্যক্তিগত স্তরে নয় বরং সামাজিক স্তরে গ্রহণ অথবা ব্যবহার করার ব্যবস্থা করে দেবে। এতে যে লাভ হবে তা হচ্ছে এই— যেসব সম্পদের অভাব রয়েছে সেসব বস্তুও সকলে পর্যাপ্ত পরিমানে ব্যবহার করতে পারবে। এই নীতির ফলে প্রাকৃতিক সম্পদের অপপ্রয়োগও বন্ধ হবে। আসুন দেখি কীভাবে তা সম্ভব হবে। সরকার গঠনের পর সবার আগে প্রয়োজনীয় সরকারি পদে উপযুক্ত ব্যক্তিদের নিযুক্তি হবে। একইসাথে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের একটি বড় পরিষদও নিযুক্ত করা হবে যারা দ্রুত ইন্টারনেট এবং সফটওয়্যারের মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইট নির্মাণ করবে। যেখানে দেশের সকল নাগরিকের একটি একাউন্ট থাকবে এবং যেখান থেকে সকলে নিজেদের সমস্ত ডিমান্ড করতে পারবে। এমনকি নিজেদের সমস্ত তথ্য পূরণ করতে পারবে। যেমন— নিজেদের যোগ্যতা, কোন কাজে দক্ষতা রয়েছে, কী ধরণের কাজে আগ্রহ রয়েছে, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পূর্বে ট্রেনিং নিতে পারেনি এমন কোনো কাজের ট্রেনিং বর্তমানে নিতে চায় কিনা বা শিখতে চায় কিনা ইত্যাদি। অর্থাৎ নিজেদের পছন্দমত সবকিছু সবাই শিখতে পারবে। সমস্ত ব্যবস্থা সরকার করবে। যারা ইন্টারনেটের ব্যবহার জানে না সরকার তাদের জন্য আশেপাশে কম্পিউটার অপারেটর নিযুক্ত করবে, যাদের মাধ্যমে মানুষ প্রয়োজনীয় ডিমান্ড করতে পারবে এবং নিজেদের প্রোফাইল বানাতে পারবে। যেমন— তাদের একমাসে কত চাল, আটা, ময়দা, চিনি, দুধ, ঘি, কাপড়, তেল, মশলা, সব্জি, ফল, ডাল, শস্যদানা, মিষ্টি, সুগন্ধি ইত্যাদি নিত্যদিনের বস্তুসহ সাপ্তাহিক বস্তু এবং মাসিক বস্তুর প্রয়োজন হয় সেসবের ডিমান্ড বা অর্ডার করতে পারবে। এছাড়াও মোটর সাইকেল, গাড়ি, মোবাইল, কম্পিউটার, টিভি, ওয়াশিং মেশিন, সব ধরনের ফার্নিচার, বসবাস করার ঘর ইত্যাদি সকল প্রয়োজনীয় বস্তুর অর্ডারও অনলাইনে করতে পারবে। এরপর বাকি সব তথ্য যেমন— এখনো অবধি কোন কোন কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, কতটা দক্ষতা রয়েছে, ভবিষ্যতে কে কোন পেশায় কাজ করতে চায় এবং দক্ষতা অর্জন করতে চায় ইত্যাদি। একথা বলার অর্থ এটিই যে, সফটওয়্যার তৈরি হবার পর কিছু দিনের মধ্যেই সমস্ত তথ্য সরকারের কাছে চলে আসবে। অর্থাৎ একটি বোতাম টিপলেই সকলের সমস্ত ডিমান্ডসহ সকল তথ্য সরকার দেখতে পারবে। এইভাবে ভবিষ্যতেও সকলের সব তথ্য সর্বদা সরকারের কাছে আসতে থাকবে। সকলের সমস্ত চাহিদা, কত মানব সম্পদ রয়েছে, কর্মসংস্থানের চাহিদা কত রয়েছে, কত প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে ইত্যাদি। মোটকথা সরকারের কাছে হিসেব থাকবে কোন বস্তু কতটা মাত্রায় প্রয়োজন। এছাড়া বিভিন্ন কর্মের জন্য কোন বিভাগে কতজন রয়েছে এবং কে কী ধরণের কাজ করছে, কারা খালি বসে রয়েছে, কোন সম্পদ কতটা মাত্রায় মজুত রয়েছে এবং যেসব সম্পদ কম মাত্রায় রয়েছে সেসবের বিকল্প কি হতে পারে ইত্যাদি সমস্ত তথ্য সরকারের কাছে থাকবে। মোটকথা সব তথ্য সরকার জানতে পারবে। ওই সফটওয়্যারের মাধ্যমে কে কোন কর্ম সম্পাদনে কুশল এবং কোন কাজটি সে করতে চায়, তার জন্য শিক্ষা বা ট্রেনিং কতটা আছে- এইসব তথ্যও জানা যাবে। কোনো না কোনো কারণে শেখা হয়নি এমন কিছু কর্ম যা পূর্বে কেউ শিখতে চেয়েছিল এবং পেশা হিসেবে নির্বাচন করতে চেয়েছিল এমনসব বিষয়ে সরকার শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করবে। ততদিন অবধি যে কাজ সে সম্পাদন করতে পারে তা চালিয়ে যেতে পারবে। এইভাবে দেশে জনসংখ্যা কত আছে এবং কোন বয়সের নাগরিক কতজন রয়েছে, কোন বিষয়ে কতজন শিক্ষিত এবং প্রশিক্ষিত রয়েছে এমন সব তথ্য সরকারের কাছে থাকবে। অনলাইন সফটওয়্যারের ইউজার ইন্টারফেস দেখতে কেমন হবে তা পরবর্তী পৃষ্ঠায় প্রদান করা হয়েছে। এইভাবে সরকার সর্বমোট চাহিদা জানতে পারবে এবং তা পূরণ করার জন্য কতজন মানুষ, কত মেশিন, মালবাহন, কারখানা ইত্যাদি কোন কোন ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে যার মাধ্যমে সময়মত যেন সকলের চাহিদা পূরণ করা যায় তার হিসেব সরকার সহজেই করতে পারবে। সরকার সকলের অভাব পূরণ করার জন্য সকলকে তাদের যোগ্যতা এবং পছন্দ অনুযায়ী নিযুক্ত করবে যেন সর্বাধিক পাঁচ বছরের মধ্যে সকলের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়। বিশেষ করে যাদের বর্তমানে অধিক অভাব রয়েছে। এরপর সকলে অবিরত নিজেদের অর্ডার করতে থাকবে এবং একইরমভাবে সকলের চাহিদাও অবিরত পূরণ হতে থাকবে। কেবলমাত্র পাঁচ বছর অবধি সর্বাধিক চাহিদা থাকবে কেননা বর্তমান সময়ে অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যার কাছে কিছুই নেই। তাই শুরুতে চাহিদা এবং কাজ অধিক পরিমাণে থাকবে। ধীরে ধীরে সকলের চাহিদা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং ততদিনে আমাদের কাছে উন্নত পরিকাঠামোও নির্মিত হয়ে যাবে।

আনুমানিক পাঁচ বছর পর সামঞ্জস্য চলে আসবে। তখন সকলের চাহিদা অতি সহজেই পূরণ হতে থাকবে এবং কাজও অনেক কমে আসবে। সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থায় নগরীয় জীবন যাপনের ব্যবস্থা থাকবে। সকলকেই আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন বাড়ি সরকারের তরফ থেকে প্রদান করা হবে। বেশীরভাগ বস্তুর জন্যই কোনো বাজার বা দোকানের প্রয়োজন থাকবে না। কেননা অর্ডার অনুযায়ী সকল বস্তু উল্লেখিত ঠিকানায় ক্যুরিয়ার ব্যবস্থার মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার বন্দোবস্ত থাকবে। কেবলমাত্র সেইসব বস্তু এবং পরিষেবার জন্যই দোকানের প্রয়োজন হবে যা সরাসরি ঘরে পৌঁছানো সম্ভব নয়। যেমন হোটেল, রেস্তোরাঁ, জিম, সেলুন, বিউটি পার্লার ইত্যাদি। এতে রাস্তায় ভিড়ও কম হবে এবং পার্কিং ব্যবস্থাও অচল হবে না।

***

ইমেলulmbangla@gmail.com

ইউটিউব চ্যানেল- https://www.youtube.com/@ulmbangla 

ফেসবুক পেজhttps://www.facebook.com/profile.php?id=100063995684933

ব্যবস্থা পরিবর্তন ফেসবুক পেজ -  https://www.facebook.com/ssbajarwb/

ULM উপস্থাপিত নতুন আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থার রূপরেখা বিষয়ক পুস্তকের ইবুক বিনামূল্যে নিচের লিংক থেকে ডাউনলোড করতে পারেন। 

সমীক্ষা এবং মতামত প্রেরণে সকলে স্বাগত।

সম্পূর্ণ সমাধান  এক নতুন সামাজিক রাজনৈতিক অর্থব্যবস্থা ফ্রি PDF লিংক

https://drive.google.com/file/d/1rjuHZNuZnuS_vXwqhRi4YmRX8HAbAIud/view?usp=sharing

Contact For Open Discussion:

Premjeet Sirohi: 9013383424
Sukanta Pradhan: 7001079159
Madhab Ranjan Sarkar: 9830925502
***
#economy #politics #social #education #employment #jobs #security #family #happiness #philosophy #system #systemchange

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?