ব্যবস্থা মূলত কী? কোনো ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে?

 ব্যবস্থা মূলত কী? কোনো ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে?


এবার নতুন ব্যবস্থাকে নিয়ে আসার আগেই পর্যবেক্ষণ করে নিই যে সত্যিই আমাদের কোনো ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে কিনা নাকি ব্যবস্থা ছাড়াই সবকিছু ঠিকঠাক থাকতে পারে কেননা, আমি বহু মানুষকে এমনটি বলতে শুনেছি যে সকল দুঃখের মূল কারণই হচ্ছে এই ব্যবস্থা তারা এও বলেন যে জগতে যদি কোনো ব্যবস্থা না থাকে তবে সকলেই সর্বাধিক সুখে থাকবে এর অর্থ এই যে আমরা সকলে দুভাবে জীবন-যাপন করতে পারি প্রথমত, একা একাঅর্থাৎ, না ভাই আমার কোনো প্রকার ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই সবাই নিজেদের খেয়াল নিজেরা রাখুন এবং যার যেমনভাবে জীবন কাটাতে ইচ্ছে হয় কাটাতে পারেন দ্বিতীয়ত, সকলে মিলে অর্থাৎ ব্যবস্থা ছাড়া সুখী জীবন-যাপন করা সম্ভব নয় এই দুটি সম্ভাবনাই তো হতে পারে ব্যবস্থাবিহীন জীবন এবং ব্যবস্থাযুক্ত জীবন দুটোকেই আগে ভাল করে বুঝে নিইতারপর সঠিক সিদ্ধান্ত নেব ব্যবস্থাবিহীন সম্ভাবনাকে প্রথমে পর্যবেক্ষণ করে নিই প্রথমেই যদি বুঝে যাই ব্যবস্থার প্রয়োজনই নেই তবে এ পথেপা বাড়াব আর যদি ব্যবস্থার প্রয়োজন হয় তবে একটি সঠিক ব্যবস্থা নির্মাণ করে নিজেদের জীবন যাপনে পালন করব পূর্বে আমার সাথে যেসব ব্যক্তির আলোচনা চলছিল তারা একথাই বলেছিল যে আমাদের দুঃখের উৎস হচ্ছে এই ব্যবস্থা; আমি তাদের প্রশ্ন করেছিলাম ধরুন যদি সমস্ত ব্যবস্থা সমাপ্ত করে দেওয়া যায় তবে আমাদের জীবন কেমন হবে? তাদের উত্তর ছিল তবে সবাই নিজেদের মত করে জীবন কাটাতে পারবে এরপর আমি প্রশ্ন করি যদি কোনো পালোয়ান এসে কারোর সমস্ত সম্পদ ছিনিয়ে নেয় তবে কি হবে? তখন তো কোনো ব্যবস্থা থাকবে না যে কোথাও গিয়ে কেউ অভিযোগ দায়ের করবে এমন করেই যদি কোনো বলশালী ব্যক্তি প্রতিদিন কোনো না কোনো দুর্বল ব্যক্তির কাছ থেকে সম্পদ ছিনিয়ে নিয়ে জীবন-যাপন করতে থাকে? এমন পরিস্থিতিতে কোনো দুর্বল ব্যক্তি সুখের সাথে জীবন-যাপন করতে পারবে? তাকে কি সর্বদা ভয়ে ভয়ে থাকতে হবে না এই ভেবে যে কখন সেই পালোয়ান এসে আবার সবকিছু ছিনিয়ে না নিয়ে যায়? তখন সেই ব্যক্তিরা উত্তরে বলেছিলেন হ্যাঁ ভয় তো থাকবে এরপর আমি বলি, ধরে নিন সেই ব্যক্তি ৫০ জনকে বলে দিল তাদের আয়ের ১০ শতাংশ যেন প্রতি সপ্তাহে তার কাছে পৌঁছে যায় তখন সেই ৫০ জন কি করবে? তারা কি রোজগারের ১০ শতাংশ পৌঁছে দেবে নাকি অন্য কোনো পদক্ষেপ নেবে? তখন তারা বলেন সেই ৫০ জন মিলে একটি দল বানিয়ে নেবে যেন কোনো পালোয়ান একা তাদের কাছ থেকে কিছু ছিনিয়ে নিতে না পারে আমি বললাম তারা যে দল তৈরি করবে সেই দলের জন্য কিছু নিয়ম নীতিও কি তৈরি করবে? তারা বলেন হ্যাঁ তা তো বানাতেই হবে, নাহলে দলের সকলে নিজেদের মধ্যে কিভাবে সমন্বয় করবে তখন আমি জানালাম দল তৈরি করা এবং নীতিনিয়ম প্রণয়ন করাকেই তো ব্যবস্থা বলে একেই তো কোনো ব্যবস্থার প্রারম্ভকাল বলে এরপর তারা বলেন আপনি এমন কিছু উপায় বলুন যাতে দলও না বানাতে হয় আবার নীতিনিয়মও যেন না থাকে এমনকি পালোয়ানের সমস্যাও যেন সমাপ্ত হয়ে যায় অনেক চিন্তা-ভাবনার পর এই সিদ্ধান্ত হল যে অন্যের সাহায্য ছাড়া একা পালোয়ানের সাথে লড়াই করার অর্থ মৃত্যুকে আমন্ত্রণ জানানো আর যদি কারোর সাহায্য নেওয়া হয় তবে তো একটি ব্যবস্থার প্রারম্ভ হয়েই যাবে চলুন এবার অন্য একটি দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টিকে বোঝার চেষ্টা করি যদিও এমনটি সম্ভব নয় তবুও ধরে নিই কেউ কাউকে কোনো উপদ্রব করবে না তাহলে মানুষের জীবন-যাপন কেমন হবে? একজন একা নিজের চেষ্টায় কতটা সুখে থাকতে পারবে? তখন সকলে বলেন যে তারা চাষবাস করবে এবং জীবন-যাপন করবে আমি বললাম সে তো একা রয়েছে অর্থাৎ কোনো পশু ইত্যাদির সাহায্য সে নিতে পারবে না সাথে সাথে তারা বলেন পশুর সাহায্য কেন নিতে পারবে না? তাহলে একা একা লাঙ্গল কিভাবে টানবে? এমন হলে তো কর্ম করা খুবই কঠিন হয়ে পড়বে তারপর আমি বললাম আপনারা যদি পশুর সাহায্য নিতে পারেন তবে মানুষের সাহায্য নিতে বাধা দিচ্ছেন কেন? পশুর সাহায্যই নিন বা মানুষের সে তো একই কথা তাই না? যে কোনো সাহায্যই নিন না কেন সেখানে ব্যবস্থা এসেই যাবে ওই ব্যক্তিকে সেইসব পশুর জন্যও তো সবরকম ব্যবস্থা করতে হবে? নাকি সাহায্য নিয়েই যাবে তারপর জঙ্গলে পাঠিয়ে দেবে এই বলে, যখন প্রয়োজন হবে যেন চলে আসে তখন তারা বলেন তবে তো একা একা কৃষিকাজ করা কঠিন হয়ে পড়বে উত্তরে আমি বলি সামান্য একটু কঠিনই তো হবে, এই ভেবে মেনে নিন যে কষ্টকর অবস্থার সাথেই নিজের জীবন মানিয়ে নেব তারপর আমি বলি ওই জীবন যাপনে তো পরিবার থাকবে না, তাহলে পারিবারিক সুখ কিভাবে উপভোগ করবেন? খুব বড়জোর সম্ভোগ করতে পারবেন, কেননা পরিবার গঠন করলে তো পারিবারিক ব্যবস্থা প্রারম্ভ হয়ে যাবে এবং ধীরে ধীরে সামাজিক ব্যবস্থাও চলে আসবে সম্ভোগ সুখের পর স্ত্রীকে বলে দিতে হবে আমি তৃপ্ত হয়েছি এখন তুমি চলে যাও? আবার যখন আমার ইচ্ছে জাগবে তোমাকে জানাব? দ্বিতীয়ত, সম্ভোগ সুখ উপভোগের জন্যও তো আমাদেরকে একে অপরের সহযোগিতা নিতেই হবে এতেও তো ব্যবস্থা প্রারম্ভ হয়ে যায় সুতরাং, তাৎপর্য এটিই দাঁড়ায় আমরা যদি কোনো জীবিত প্রাণীর দ্বারা সাহায্য নিয়ে থাকি তা আসলে ব্যবস্থাকেই প্রারম্ভ করে দেয় ব্যবস্থা ছাড়া এ আর অন্য কি হতে পারে? এটিই তো আসলে ব্যবস্থা একেই তো ব্যবস্থা বলা হয় আমরা এমনটিও দেখেছি যে কারোর থেকে সাহায্য নিলে সেই কাজ সহজ হয়ে যায়, নাহলে তো আমাদের জীবন-যাপন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে অন্যভাবে বললে পরিপূর্ণ দুঃখের জীবন হয়ে উঠবে সংঘর্ষের অপর নামই তো দুঃখ আমরা দেখেছি যে মানুষ পরস্পরের সহযোগিতার মাধ্যমে কত অসম্ভবকে সহজ করে নিয়েছে ক্রমানুযায়ী সুখসুবিধা প্রদান করার বহু বস্তু বিকশিত করে নিয়েছে যা একা একা সম্পাদন করা অসম্ভব ছিল তাহলে এমনটি ভাবা ঠিক নয় যে ব্যবস্থা থেকে সুখ উৎপন্ন হয় না তবে এটি বলতে পারেন ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থা থেকে দুঃখ উৎপন্ন হয় আর সঠিক ব্যবস্থা থেকে সুখ উৎপন্ন হয় মিশ্র প্রকারের ব্যবস্থা থেকে সুখ-দুঃখ উভয়ই উৎপন্ন হয় তাহলে প্রয়োজন রয়েছে একটি সঠিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার, নষ্ট করে দেবার নয় যদিও তা সম্ভব নয় কারণ ব্যবস্থাকে নষ্ট করার জন্যও আরেকটি ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে  তখন প্রশ্ন উদয় হয় কে ব্যবস্থাকে নষ্ট করবে এবং কিভাবে করবে? এই প্রশ্ন-উত্তরের মধ্য দিয়েই আসলে ব্যবস্থার উদয় হয় যিনিই এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চাইবেন তাকে কোনো একটি ব্যবস্থাকে সাথে নিয়েই খুঁজতে হবে তাহলে সিদ্ধান্ত এটিই বেরিয়ে এল ব্যবস্থা ব্যতীত জীবনের কল্পনা করাও মানুষের মধ্যে অত্যন্ত ভয়ের সঞ্চার করবে ব্যবস্থাবিহীন সম্ভাবনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত বলা যাবে না প্রথমত, তা সম্ভব হবে না দ্বিতীয়ত, কোনোভাবে সম্ভব হয়ে গেলেও তা অধিক দুঃখই প্রদান করবে সুখের আশা তো ভুলেই যান

***

সম্পূর্ণ সমাধানঃ এক নতুন সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থব্যবস্থা,

অধ্যায় ৩ (মূল সিদ্ধান্ত)

পৃষ্ঠা ৩১

বিঃদ্র এই পুস্তকের বিষয়বস্তু আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হলে অবশ্যই FREE PDF অথবা কাগজের পুস্তক সংগ্রহ করে পুঙ্খানুপুঙ্খ অধ্যয়ন করুন।

www.universallifemanagement.org

ওপেন ফোরামে বক্তা হিসেবে উপস্থিত হতে অথবা উন্মুক্ত আলোচনার জন্য যোগাযোগ করুন:

প্রেমজীৎ সিরোহী : 90133 83424

সুকান্ত প্রধান : 70010 79159

মাধব রঞ্জন সরকার : 98309 25502

***



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?