ধর্মীয় শোষণ এবং উন্মত্ততার স্থায়ী সমাধান কীভাবে সম্ভব?

 

ভারতীয় উপমহাদেশীয় সভ্যতা একটি অন্যতম প্রাচীন সভ্যতা এবং এই উপমহাদেশের জলবায়ু অত্যন্ত্য মনোরম। বিশেষ করে কৃষিকাজের ক্ষেত্রে উত্তম। ফলে প্রাচীনকাল থেকেই বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ এই ভূখণ্ডে এসেছে এবং বসতি স্থাপন করেছে। বর্তমান সময়েও মানুষ এক দেশ থেকে অপর দেশে গমনাগমন করে থাকে। শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, জীবিকা, সুখসুবিধা তথা সুরক্ষিত জীবনযাপনের জন্য। আরও সহজ করে বললে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের খোঁজে। জীবনের উদ্দেশ্যই হচ্ছে সুখী হওয়া। সুতরাং সুখের খোঁজে মানুষ গমনাগমন করবে এমনটিই স্বাভাবিক নিয়ম। তাহলে লড়াই কিসের জন্য? লড়াইও সেই একই কারণে। সুখসুবিধা দখলের লড়াই। কারণ দিনের শেষে জীবনযাপনের জন্য সুখসুবিধাই প্রয়োজন হয়। বর্তমান সময়ে যে যুদ্ধ-লড়াই ঘটে চলেছে তা কিসের জন্য? সুখসুবিধা দখলের জন্য। যেমন জনগণ ভোটপ্রদান করে সুখসুবিধা পাবার জন্য এবং নেতামন্ত্রীও ভোট চেয়ে থাকে সুখসুবিধার জন্য; তেমনি ভক্তরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে ইহকালে-পরকালে সুখসুবিধার জন্য এবং ধর্মগুরুরাও ভক্ত বানিয়ে রাখে সুখসুবিধার জন্য। আগামীকাল থেকে নেতামন্ত্রী এবং ধর্মগুরুদের সুখসুবিধা শূন্য করে দিলে উক্ত পেশার প্রতি কেউ আগ্রহী হবেন? কেউ হবেন না। অর্থাৎ সকলের লড়াই সুখসুবিধা উপভোগের লড়াই। এতে মানুষকেও কি সরাসরি দোষী করা যায়? সে তো সুখসুবিধা পাবার সুযোগ খুঁজবেই। ন্যায়ের পথে না পেলে অন্যায়ের পথে খুঁজবে। সুখসুবিধার অভাবই হচ্ছে মূল সমস্যা। আজ অবধি এমন ব্যবস্থা নির্মাণ করা যায়নি যেখানে নেতামন্ত্রী, ধর্মগুরু, ভোটার, ভক্ত সকলে একসমান সুখসুবিধা উপভোগের সুযোগ পেতে পারে। অর্থাৎ সমান অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং প্রশাসনিক সুরক্ষা পেতে পারে। সকলে সবদিক দিয়ে সমৃদ্ধশালী হতে পারে। এটি ব্যবস্থাগত সমস্যা, ব্যক্তিগত আরোপ-প্রত্যারোপের সমস্যা নয়।

বর্তমান ব্যবস্থায় শুধুমাত্র ১০% মানুষের সুযোগসুবিধার বন্দোবস্ত রয়েছে। সুতরাং এমন ব্যবস্থা নির্মাণ করা উচিত যেন যোগ্যতা এবং পছন্দ অনুযায়ী সকলেই একসমান সুযোগসুবিধা পেতে পারে। সুখসুবিধা লাভের জন্যই সমস্ত কর্মকাণ্ড। পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, সুখসুবিধা উপভোগের জন্যই অনুন্নত দেশের মানুষ উন্নত দেশে পাড়ি জমায়। সুযোগসুবিধা লাভের সময় আমরা কখনোই দেখি না সেই দেশের মানুষ কোন ধর্ম পালন করে কিংবা কোন রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে। অর্থাৎ উন্নত জীবনযাপনের জন্য ধর্ম অথবা রাজনৈতিক মতাদর্শ বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। লাভের বেলায় ধর্মীয় বিশ্বাস ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে রয়ে যায়। যদিও বাস্তবে এমনটিই হওয়া উচিত। ধর্মবিশ্বাস হোক প্রতিটি ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিষয়। ধর্ম পালনই যদি সমাধান হত তাহলে ৮০% হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ভারতবর্ষকে হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করতো এবং সর্বাধিক উন্নত দেশ বলে উঠে আসতো। ৯০% মানুষ বঞ্চিত, দরিদ্র এবং অসহায় অবস্থায় কষ্ট পেতো না। অন্যদিকে বাংলাদেশ, পাকিস্থান, আফগানিস্থান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন ইত্যাদি ইসলামিক দেশগুলিও আর্থিক দিক দিয়ে সর্বাধিক উন্নত দেশ বলে পরিগণিত হতো। কাউকেই ইউরোপ-আমেরিকাসহ উন্নত দেশে পাড়ি জমাতে হতো না। আমেরিকায় দেখুন বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মের মানুষ গিয়ে বসতি স্থাপন করেছে। সেখানে ধর্মীয় বিভেদ কি মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে? সেখানে পুঁজিতন্ত্রের শোষণ-বৈষম্য রয়েছে, সে প্রসঙ্গ ভিন্ন। যেসব দেশে একই ধর্মের মানুষ বসবাস করে সেইসব দেশে কি হত্যা, লুণ্ঠন, দুর্নীতি, লড়াই, ভেদাবেদ, ধর্ষণ, আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে না? সকলে একই ধর্মাবলম্বী হলে কি শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, জীবিকা, সুখসুবিধা, সুরক্ষা তথা সমৃদ্ধশালী জীবনযাপনের ব্যবস্থা নির্মাণ হয়ে যায়? আমরা জানি আরবের কয়েকটি দেশে উন্নয়ন হয়েছে মূলত তেল উত্তোলনের কারণে। তেল উত্তোলনের প্রযুক্তি তৈরি করেছে ভিন্ন দেশের মানুষ এবং নগরীয় পরিকাঠামো নির্মাণ করেছে ভিন্ন দেশের মানুষ। এই উদাহরণটির অর্থ এটিই যে, একে অপরের সহায়তা ছাড়া আমরা চলতে পারব না। এমননি পূর্বের অভিজ্ঞতার দ্বারা এটিই প্রমাণিত হয়েছে যে বয়কটও কোনো সমাধান নয়। সমাজে যেমন সমস্তরকম কর্ম সম্পাদনকারী এবং বিভিন্ন প্রকার বস্তু/পরিষেবা উৎপাদনকারী আবশ্যক, তেমনি একটি দেশের সাথে অপর দেশের আদানপ্রদান আবশ্যক। ধর্মীয় মতভেদকে ব্যক্তিগত পছন্দ বলে মেনে নিয়ে সমস্ত দেশ যদি মিত্রতার পথে যাত্রা করে তবে সমস্ত দেশ নিজেদের সম্পদ আদান প্রদান করে নিতে পারবে। এমনটি হলে ধীরে ধীরে যুদ্ধ এবং সীমান্ত সমস্যার অবসান ঘটবে। সমস্ত দেশের মধ্যে প্রযুক্তি, মানব সম্পদ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের আদানপ্রদান সহজ হলে বিশ্ববাসী দ্রুত সুখী এবং সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠবে। বাস্তবেও আমরা এই বিষয়টি লক্ষ্য করেছি যে প্রশিক্ষিত এবং বিত্তশালী পরিবারের মধ্যে কে কোন ধর্মের অনুসারী এই বিষয়টি তেমন প্রাধান্য পায় না। তারা পরস্পরের ধর্মীয় এবং সামাজিক উৎসবে অংশগ্রহণ করে থাকে, এমনকি আত্মীয়তাও করে থাকে। ব্যক্তিগত স্তরে ধর্মীয় বিশ্বাস পালনে সকলে স্বতন্ত্র হলে, রীতিনীতি পালনে স্বতন্ত্র হলে, একইভাবে পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও কেউ কাউকে বাধ্য না করলে সংঘাত কমবে, সৌহার্দ্য বাড়বে। অর্থাৎ মানুষকে পছন্দ-অপছপন্দ নির্বাচন করার সুযোগসুবিধা প্রদান করা উচিত। ধর্মীয় বিশ্বাস, রীতিনীতি বা পোশাক নির্বাচন মূল সমস্যা নয়। সকল ধর্মের মানুষের জন্য শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, সুখসুবিধা এবং সুরক্ষার একসমান সুযোগসুবিধার ব্যবস্থা-বন্দোবস্ত না থাকাটাই মূল সমস্যা। সকলে সুখী-সমৃদ্ধশালী-সুরক্ষিত হলে একজন অপরজনকে শোষণ করবার কিংবা ব্যবহার করবার কোনো কারণই অবশিষ্ট থাকবে না। সুখী মানুষ কী কারণে হিংসা করবে? তখন দেখা যাবে এই মাসে নিজের বাড়িতে আয়োজন, পরের মাসে হিন্দু বন্ধুর বাড়িতে নিমন্ত্রণ, তার পরের মাসে মুসলমান বন্ধুর বাড়িতে নিমন্ত্রণ, খৃষ্টান বন্ধুর বাড়িতে নিমন্ত্রণ– এমনটি হলে তবেই বাস্তবিক ‘বিবিধের মাঝে মিলন মহান’ সম্ভব হবে? অর্থাৎ সকলকে আর্থিক দিকে দিয়ে সমৃদ্ধশালী করার ব্যবস্থা নির্মাণ করাই স্থায়ী বিধান।

বর্তমান ব্যবস্থায় সুযোগ যৎসামান্য থাকার কারণেই মূলত লড়াই। সমস্ত জীবিকার সমান পারিশ্রমিক তথা সকলের মর্যাদা একসমান না থাকার ফলেই দুর্নীতি, হত্যা, হিংসা, লুণ্ঠন, শোষণ, দাঙ্গা, ধর্ষণ ইত্যাদি সংঘটিত হয়ে চলেছে। এমন অর্থনীতি নির্মাণ করাই হয়নি যেন কাউকেই অপরের উপর নির্ভরশীল না থাকতে হয়। পুনরায় উল্লেখ করছি যে, এটি ব্যবস্থাগত সমস্যা। ব্যক্তিগত উদ্যোগের সমস্যা নয়। ১০০% জনগণ শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, সুখসুবিধা এবং সুরক্ষার একসমান সুযোগ-অধিকার পাবে এমন ব্যবস্থা নির্মাণ করাই হয়নি। অর্থাৎ অর্থনৈতিক সংস্কার না ঘটিয়ে আপনি যতই ধর্ম পরিবর্তন করুন না কেন বা যতই রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করুন না কেন সমস্যা যেখানে রয়েছে সেখানেই থাকবে। বর্তমান পৃথিবীতে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ধর্মের সংখ্যা চার হাজারের উপর। প্রতিতি মানুষ জন্মগতভাবেই ভিন্ন প্রকৃতির হয়ে থাকে। ফলে সকলের পছন্দ-অপছন্দও ভিন্ন-ভিন্ন হয়ে থাকে। এটিই স্বাভাবিক নিয়ম, সমস্যা নয়। সমস্ত জীবিকার সমান পারিশ্রমিক হলে, সকলের মর্যাদা সমান হলে, সকলে একসমান সুযোগসুবিধার অধিকারী হলে ভিন্ন ধর্মমত কোনো সমস্যা সৃষ্টি করবে কি? সমস্ত কিছুর কেন্দ্রে রয়েছে রাষ্ট্র ব্যবস্থা। চলমান অসম্পূর্ণ ব্যবস্থার ব্যর্থতার কারণে ধর্মীয় সংগঠনের বাড়বাড়ন্ত, দায়দায়িত্ব। সরকার সাধারণের আর্থিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক-প্রশাসনিক সুরক্ষা প্রদানে ব্যর্থ হলে জনতা কাদের শরণাপন্ন হবে? পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র ব্যবস্থার সিদ্ধান্তে সম্মিলিত উদ্যোগই প্রকৃত পদক্ষেপ।

ULM প্রস্তাবিত নতুন সমাজব্যবস্থায় ধার্মিক উন্মত্ততা এবং সংঘাত কীভাবে বন্ধ হবে?

নতুন ব্যবস্থায় একটি ছোট নিয়ম থাকবে। নিয়ম এটিই হবে যে, সকলেই ধর্মীয় বিশ্বাস পালনে স্বাধীন থাকবে। শুধুমাত্র একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে, একজনের বিশ্বাস পালন যেন অন্যের সমস্যা উৎপন্ন না করে। একজনের বিশ্বাসের সাথে অপরজনের বিশ্বাসে সামঞ্জস্যের কথা বলছি না, জীবনযাপনের বাস্তবতায় কোনো অসুবিধা সৃষ্টি করলে অপরাধ বলে ধরা হবে। প্রথমত, ধর্মীয় বিশ্বাস পালনে যদি কোনো ব্যক্তি কোথাও শোরগোল করে, পথ অবরোধ করে অথবা মিছিল বের করে তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং দণ্ডনীয় হবে। দ্বিতীয়ত, ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ভিন্ন ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে, বসতি অঞ্চল থেকে দূরে। সেখানে জমায়েত হয়ে নিজেদের ধর্মীয় কার্যক্রম পালন করতে পারবে। এরপর সমাজে ফিরে এসে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে হবে। তৃতীয়ত, কেউ নিজস্ব বিশ্বাসকে অন্যের উপর আরোপিত করতে পারবে না। ইচ্ছের বিরুদ্ধে ধর্মান্তরিত করতে পারবে না। কেউ স্বেচ্ছায় কারোর সাথে ধর্ম পালনে যেতে চাইলে যাবে, না চাইলে যাবে না। যদি কেউ কারোর সাথে বলপূর্বক আচরণ করে অথবা বাধ্য করে তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং শাস্তিযোগ্য হবে। চতুর্থত, কেউ এটিকে মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে দেখুন যে, মানুষ কেন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে চায়? কারণ তাদের বর্তমান জীবনে অনেকপ্রকার দুঃখ রয়েছে, জীবনে বিভিন্ন ধরনের সুখের অভাব রয়েছে, তাই তারা এইসব আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একটু সুখী হবার চেষ্টা করে, কোথাও একসাথে জড় হয়, দু-চারজন মিলে কিছুটা সময় আনন্দময় মনোভাব নিয়ে কথা বলে। এই বিষয়গুলোর জন্যও ধর্মের কিছুটা গুরুত্ব রয়েছে। মানুষ দুঃখী হলে মন্দির, মসজিদ, চার্চ বা অন্যান্য দেবালয়ে গিয়ে ঈশ্বর, পরমাত্মা, আল্লার সামনে কাকুতি মিনতি করে, এতে সাময়িক কালের জন্য দুঃখ কিছুটা দূর হয়। কিছুটা মানসিক শক্তি পাওয়া যায় এই ভেবে যে, কেউ তো আছেন যিনি দেখছেন। তাছাড়া তারা স্বর্গের গল্প, নরকের গল্প, এখানে না হলে সেখানে গিয়ে সুখী হব ইত্যাদি বিষয় নিয়েও কল্পনা করতে থাকে। বিশ্বাস এইটুকুই সাহায্য করে। যখন নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সকলে সবদিক দিয়ে সুখী এবং সমৃদ্ধশালী হবে, আমার মনে হয় না তখন পরমাত্মার কাছে কেউ কিছু চাইতে যাবে। তখন এইসব বিশ্বাস এবং আচার-অনুষ্ঠানগুলোর কোনো অর্থ অবশিষ্ট থাকবে না। হয়তো সামাজিক অনুষ্ঠান হিসেবেই পালিত হবে। আপনি বাস্তব জগতে দেখতেই পান বিত্তশালী পরিবারগুলি থেকে কেউ এসব পালন করে না। বরং তারা ব্যবসায়িক লাভের জন্য এবং সাধারণ নাগরিকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সব ধর্মের দেবালয়ে ঘোরাঘুরি করেন। এ নিয়ে মানুষ ব্যাঙ্গও করে থাকেন। নতুন ব্যবস্থাতে এসব সমস্যা ধীরে ধীরে বেমানান হয়ে যাবে। তবে বর্তমানে যা কিছু চলমান রয়েছে সেইসব রীতিনীতিকে এভাবেই রেখে দেওয়া যেতে পারে। কারোর ক্ষতি না করে কিছু টিকে থাকলে সমস্যা কি? এরপরও ব্যবস্থা ধর্মীয় বিশ্বাসীদের সম্পূর্ণ সুযোগ প্রদান করবে এই ভেবে যে সমাজের জন্য উপকারী হবে এমন কোনো জ্ঞান থাকলে তারা যেন মুক্তমঞ্চে এসে প্রমাণিত করেন। এরপর তা আর মান্যতা হিসেবে থাকবে না বরং তথ্য হিসেবে প্রকাশিত হবে। যতদিন পর্যন্ত বিষয়টি প্রমাণিত না হয় ততদিন পর্যন্ত এইসব বিশ্বাস ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে থাকবে।
***

আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, নতুন ব্যবস্থায় নতুন অর্থনৈতিক মডেল উপস্থাপন করা হয়েছে যেখানে আর্থিক দুর্নীতির সমস্যাটিকে গোঁড়া থেকেই নির্মূল করা হয়েছে। জনতার লেনদেনের জন্য মুদ্রার ব্যবহার রাখা হয়নি। কারণ বর্তমান ব্যবস্থায় মুদ্রার বিনিময় দুর্নীতিকে পক্ষপাতিত্ব করে থাকে। যা মানবীয় অধিকার প্রদানে বাধা উৎপন্ন করে। যেহেতু অর্থ দ্বারাই সমস্ত কার্য পরিচালিত হয় সেহেতু ধর্মীয় অপরাধমূলক কর্মকান্ডের পেছনেও অর্থের প্রধান ভূমিকা থাকবে এটিই স্বাভাবিক। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি নাগরিক সরাসরি ব্যবস্থার সাথে সংযুক্ত থাকবে। ফলে এজকন অপরজনকে শোষণ করতে পারবে না অথবা অনৈতিক কর্মে লিপ্ত করতে পারবে না। এমনটি করার কোনো কারণও থাকবে না। কারণ কেউই অপরের উপর নির্ভরশীল থাকবে না। ইতিমধ্যে নতুন ব্যবস্থা সম্পর্কে দেশে-বিদেশে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। আমাদের দেশেও বিভিন্ন রাজ্যে আঞ্চলিক ভাষায় প্ল্যাটফর্ম তৈরি হতে শুরু করেছে। যেখানে ধর্মীয় বিষয় ছাড়াও বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও বহু উন্মুক্ত আলোচনা হয়ে চলেছে। এইসব ভিডিও/অডিও অনুষ্ঠানগুলি শুনলে বুঝতে পারবেন যে সমস্ত ধর্মের মানুষ সম্পূর্ণ সমাধানের নতুন এবং বিকল্প ব্যবস্থাকে সমর্থন করেছে এবং এই সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মুদ্রা দ্বারা আমরা মূলত বস্তু এবং পরিষেবা ক্রয় করে থাকি। নতুন ব্যবস্থা মুদ্রার পরিবর্তে জন্মগতভাবেই সকল নাগরিককে প্রয়োজনীয় বস্তু এবং পরিষেবা বিনামূল্যে প্রদান করবে। পরিবর্তে ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী সমস্ত সুস্থ্য নাগরিককে পছন্দের একটি জীবিকা বা কর্ম সম্পাদন করতে হবে সেকথা পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং নতুন অর্থনৈতিক মডেল নির্মাণের ফলে আর্থিক দুর্নীতির সমস্যাটি গোঁড়া থেকেই নির্মূল করা হয়েছে। পুনরায় একটি কথা বলতে চাই সকলের জন্য শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, সুখসুবিধা এবং সুরক্ষিত জীবনযাপনের সুযোগসুবিধার সমস্যাটিই মূল এবং প্রাথমিক সমস্যা। যা সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। এই সমস্যাটির সমাধান হলে ৯৯% সমস্যা এমনিতেই সমাপ্ত হয়ে যাবে।
অবশিষ্ট সমস্যা দূরীকরণ শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা।


আমাদের প্রয়াস ভাল লাগলে মেসেজটিকে লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার করতে ভুলবেন না।


***

একক উদ্যোগে সুখী জীবন অতিবাহিত করা সম্ভব নয়জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে অপরের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। প্রতিটি নাগরিকের শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, জীবিকা, সুখসুবিধা ও সুরক্ষার প্রয়োজন হয়। ফলে সকলের মিলিত উদ্যোগে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা নির্মাণ জরুরী হয়ে পড়েছে প্রয়োজন অনুযায়ী সেইসব ব্যবস্থা বহুবার পরিবর্তিত হয়েছে। সেই সকল পরিবর্তন রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে হয়েছে। বর্তমানে আমরা যে গণতন্ত্র পেয়েছি তাও ফলাফলও আশানুরূপ নয়।

অধিক স্পষ্টতার জন্য পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ULM Bangla, ULM Hindi সহ অন্যান্য ভাষার ইউটিউব চ্যানেলগুলিতে মুক্তমঞ্চ রয়েছে। যেখানে নিয়মিত লাইভ আলোচনা সম্প্রচার হয়ে থাকে। ইতিমধ্যে বহু আলোচনার ভিডিও উপস্থাপন করা হয়েছে আপনি যে স্থানে রয়েছেন সেই স্থান থেকেই অনলাইন অনুষ্ঠানে যুক্ত হতে পারবেন। প্রশ্নকর্তা হয়ে অথবা বক্তা হয়ে আপনার মতাদর্শ উপস্থাপন করতে পারবেন। এই মঞ্চ সকলের জন্য উন্মুক্ত।সম্পূর্ণ সমাধানপুস্তকেও বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে


'সম্পূর্ণ সমাধান' হল সকলের উন্নত জীবনযাপনের জন্য একটি বৈশ্বিক ব্যবস্থা। সম্পূর্ণ সমাধানের অর্থ চলমান বিশ্বে উৎপন্ন হওয়া সমস্ত সমস্যার মূল থেকে স্থায়ী সমাধান। বিশ্বস্তরের এই কনসেপ্ট প্রতিষ্ঠিত হলে বসুধৈব কুটুম্বকমের সার্থক রূপায়ন সম্ভব হবে এবং সকলের জীবন স্থায়ীরূপে সুখময় হয়ে যাবে। এই ব্যবস্থা মোট ৬টি মডেল নিয়ে রচিত হয়েছে।

নতুন অর্থনৈতিক মডেল নতুন শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান মডেল নতুন জীবনশৈলী ও সাংস্কৃতিক মডেল নতুন রাজনৈতিক মডেল নতুন পারিবারিক মডেল নতুন দর্শনশাস্ত্রের মডেল


What is the Vision of ULM I Premjeet Sirohi & Volunteers | Q&A Session

https://www.youtube.com/watch?v=VqUIVLnGb64&t=3s

Republic Day Special Live with philosopher Premjeet Sirohi & Volunteers

https://www.youtube.com/live/mfaSzUY45Qc?feature=share

বিকল্প নতুন ব্যবস্থা কেন জরুরী I Why an alternative New System is extremely necessary

https://www.youtube.com/watch?v=TXz2iDILdeI&t=23s

সত্যিই কি নতুন এবং বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে? I Do we really need a new and alternative system?

https://www.youtube.com/watch?v=8FHfo3pP_7A


সম্পূর্ণ সমাধান - এক নতুন সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থব্যবস্থার রূপরেখাপুস্তকটির FREE E-BOOK ডাউনলোড লিংকঃ

https://drive.google.com/file/d/1rjuHZNuZnuS_vXwqhRi4YmRX8HAbAIud/view?usp=drive_link


সম্পূর্ণ জীবন দর্শন - সুখী জীবনের অজ্ঞাত সূত্রপুস্তকটির FREE E-BOOK ডাউনলোড লিংকঃ

https://drive.google.com/file/d/1imrbnKBFqVxH8uHKsK_XPO2MBp5krqrv/view?usp=drive_link


সম্পূর্ণ সমাধান পেপারবুক Amazon Link:

https://www.amazon.in/dp/1685865909/ref=cm_sw_r_cp_apan_glt_fabc_YXX08DQVPKW4WQD4NDDY


সম্পূর্ণ সমাধান পেপারবুক Flipkart Link:

https://dl.flipkart.com/dl/sampurna-samadhan/p/itmd6e15270d2ab4?pid=9781685865900&cmpid=product.share.pp&_refId=PP.59f228eb-9f38-49a5-a0aa-59f2cf56093e.9781685865900&_appId=CL


Subscribe ULM Bangla YouTube Channel:

https://www.youtube.com/channel/UCz5uy_BQaQUYLJQg-PN7ERw

ব্যবস্থা পরিবর্তন - व्यवस्था परिवर्तन Facebook Page:

https://www.facebook.com/ssbajarwb/

ULM Bangla Facebook Page https://www.facebook.com/সম্পূর্ণ-সমাধান-106139834749271/

ULM Bangla YouTube Channel: https://www.youtube.com/channel/UCz5uy_BQaQUYLJQg-PN7ERw

ULM Hindi Facebook Page

https://www.facebook.com/ulmteam2020/about/?ref=page_internal

ULM Hindi YouTube Channel:

https://www.youtube.com/channel/UCfOiDZxI7BkObjJe1qwxCqg

Join ULM Telegram Group https://t.me/+mbH6zRruJBlhYWFl

ULM Bangla ইউটিউব চ্যানেলের মুক্তমঞ্চে বক্তা হিসেবে, প্রশ্নকর্তা হিসেবে অথবা উন্মুক্ত আলোচনার জন্য সকলে আমন্ত্রিতContact: 9830925502.


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?