শিক্ষাব্যবস্থার মূল সমস্যা কোথায় এবং সমাধানের দিকনির্দেশ কী?

 


বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার টালমাটাল অবস্থার জন্য কে দায়ী? এই বিষয়টিকে সাম্প্রতিককালে ঘটে যাওয়া উদাহরণের মাধ্যমে সহজ করে বোঝানোর প্রয়াস করছি। ২০২২ সালে পশ্চিমবঙ্গের ঘটনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যাচ্ছে যে সকল পরীক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হয়েছে তারা পাশের দাবীতে রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করছে। সাংবাদিকরা রাস্তায় তাদের যোগ্যতার লাইভ টেস্ট নিচ্ছেন। এক সাংবাদিক অনুত্তীর্ণ ছাত্রীকে ছাতার ইংরিজি বানান জিগ্যেস করায় ছাত্রী উত্তর দেয় ‘Amrela’। অর্থাৎ সে নিত্যদিন যেভাবে মেসেজে বাক্য বিনিময় করে থাকে সেই নিয়মে উত্তর দিয়েছে। এই উত্তরের প্রেক্ষিতে বাংলা সোশ্যাল মিডিয়া সরগরম হয়ে গিয়েছে। এই ভাইরাল হট টপিকের কন্টেন্ট নিয়ে ভিডিও তৈরি করতে সাংবাদিকদের মধ্যে যেন প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গিয়েছে। এইসব ভিডিও দেখতে দেখতে নাগরিকবৃন্দের মধ্যে তুমুল আলোচনা-তর্কবিতর্ক শুরু হয়েছে। একেক জন একেক পক্ষকে দোষী বলে প্রতিপন্ন করে চলেছেন। যেমন শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনোযোগ নেই। তারা সর্বক্ষণ মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকে, রিলস তৈরি করে, প্রেম করে ইত্যাদি। অন্যপক্ষ শিক্ষকদের দায়ী করছেন। অনেকে শিক্ষার্থীদের মাতাপিতাকে দায়ী করছেন। একপক্ষ শিক্ষামন্ত্রীকে দায়ী করছেন। বিরোধী পক্ষ সরকারকে দায়ী করছে। ভাইরাল যন্ত্রণায় অপমানিত বোধ করে অনেক ছাত্রছাত্রী বিষণ্ণ হয়ে পড়েছে। হয়তো অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হবে। যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এরই মাঝে আরেকটি গরম খবর বাজারে এসেছে। ২০১৭ সালে প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক পদে যারা নিযুক্ত হয়েছেন তাদের বিপক্ষে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। তারা নাকি পাশ না করে বা মেরিট লিস্টে নাম না ওঠা সত্ত্বেও চাকরি পেয়ে গিয়েছে। সেই মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট ২৬৯ জন শিক্ষকের চাকরি বরখাস্ত করেছে এবং সমস্ত বেতন ফেরত দিতে বলেছে। একইসাথে একাধিক নেতামন্ত্রীর বিরুদ্ধেও মামলা মোকদ্দমা চলছে। শোনা যাচ্ছে আরও বহু শিক্ষকের চাকরি বাতিল হবার সম্ভবনা রয়েছে। পরপর এই দুটি ঘটনা জনসাধারণের মধ্যে তুমুল সমালোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। একদিকে ছাত্রদের অযোগ্যতা নিয়ে সমালোচনা চলছে, অপরদিকে শিক্ষকদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এমনতর ঘটনা প্রমাণিত হবার পর পশ্চিমবঙ্গবাসী শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছটা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে এটিই স্বাভাবিক। প্রার্থীরা যদি উচ্চ বেতনের লোভে সরকারী কর্মী হিসেবে শিক্ষক পদে নিযুক্ত হয়, তবে শিক্ষা আদান-প্রদান যে যথাযথ হবে না এটি নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। কারণ প্রতিটি কর্মের জন্য সেই কর্ম সম্পাদনে ইচ্ছুক এমন দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হয়। শুধুমাত্র সুখসুবিধা উপভোগের লোভে কর্মে যোগদান করলে উক্ত কর্মের গুণগত মান ব্যহত হবে এমনটিই স্বাভাবিক। অপরদিকে উচ্চ বেতনের কর্মস্থানগুলিতে সুযোগ এবং শূন্যপদ দুইই যৎসামান্য থাকলে শুধুমাত্র শিক্ষাক্ষেত্রেই নয় বরং সমস্ত বিভাগে দুর্নীতি ঘটবে এমনটিও অস্বাভাবিক নয়। সুতরাং শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যা মিটিয়ে দিলেই যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে তা বলা যায় না। সমাজের প্রতিটি বিভাগ একে অপরের সাথে সংযুক্ত। উচ্চ বেতনের চাকরি এবং সুখসুবিধা কে না পেতে চায়। দুর্নীতি বা অপরাধমূলক সমস্যা উৎপন্ন হবার মূল কারণটিকে শনাক্ত না করে কোনোভাবেই সমাধান সম্ভব নয়।
চলুন বিষয়টি সহজভাবে বোঝার প্রয়াস করি। প্রথমত, সরকারের কাছে পর্যাপ্ত বাজেট নেই। ফলে সকল শিক্ষার্থীকে উপযুক্ত শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থান প্রদান করা সম্ভবপর হয় না। দ্বিতীয়ত, সরকার সক্ষম হয়ে সকল শিক্ষার্থীকে শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ দিয়ে জীবিকা প্রদান করলে সকলের জন্য পারিশ্রমিক কোথা থেকে আসবে, কর্মীরা কি প্রকার পরিষেবা প্রদান করবে অথবা কোন বস্তু নির্মাণ করবে, সেইসব বস্তু/পরিষেবার গুণগত মান, মুল্যাংকন, বাজারে চাহিদা, মুনাফা কি থাকবে ইত্যাদি বহু ফ্যাক্টরের উপর জীবিকা প্রদানের বিষয়টি নির্ভর করে। বর্তমান ব্যবস্থায় সরকারী পদে শূন্যপদ রয়েছে যৎসামান্য, অপরদিকে প্রার্থীদের সংখ্যা বিপুল। এই সামান্য শূন্যপদ দখলের জন্য লড়াই, দুর্নীতি থাকবে এটিই স্বাভাবিক। ধরুন কোনো একটি বিভাগে শূন্যপদ রয়েছে ১০০টি এবং প্রচেষ্টারত প্রার্থীর সংখ্যা ১০,০০০ জন। স্বাভাবিকভাবে ৯,৯০০ জন বাতিল বলে গণ্য হবে। এবার সামান্য কয়েকটি শূন্যপদের ভিত্তিতে ৯,৯০০ জনকে কিভাবে অযোগ্য বলে বিবেচিত করা হয়? এটি কি প্রকারের ন্যায়? একথাও সত্য যে অধিকাংশ প্রার্থীর শিক্ষক পদে আসীন হবার মূল কারণ উচ্চ বেতন। কারণ অর্থ দ্বারাই সমাজে মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সুখসুবিধা উপভোগ করা যায়। ফলে শিক্ষা প্রদানের কাজটি পছন্দ কি পছন্দ নয় সেকথা গৌণ হয়ে যায়। এতে একদিকে শিক্ষার্থীরা প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। অন্যদিকে শিক্ষকরাও শিক্ষা প্রদান করে আনন্দ উপভোগ করেন না। পুনরায় হিসেবের অংকটিতে ফিরে আসি। আমরা সাধারণভাবে ১০০ জন নির্বাচিত প্রার্থীদের যোগ্যতম বলে আখ্যায়িত করে থাকি। তারা সমাজে সফলতার মর্যাদায় ভূষিত হয়। অপরদিকে ৯,৯০০ জনকে অযোগ্য বলে আখ্যায়িত করি। অনেক সময় অসফল প্রার্থীরাও নিজেকে অযোগ্য বলে ভাবতে শুরু করে এবং বিষণ্ণতা ঘিরে ধরে। নিত্যদিন অপমান, বঞ্চনা, ব্যাঙ্গ-বিদ্রূপের স্বীকার হতে হয়। অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়, বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়, গৃহশিক্ষক হিসেবে অথবা ছোটোখাটো কর্ম করে দারিদ্রের সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকতে বাধ্য হয়। এই সংখ্যাটিই অধিক। তাদের সন্তানরাও অনুরূপ জীবনযাপনে বাধ্য হয়। আমাদের চারপাশে একটু খেয়াল করলেই এমনতর অসংখ্য উদাহরণ দেখতে পাওয়া যায়। ধরুন যদি এমন হত যে জাতি/ধর্ম/বর্ণ/বিত্তশালী/দরিদ্র নির্বিশেষে প্রতিটি শিক্ষার্থী পছন্দের বিষয় নিয়ে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং পেশাগত ট্রেনিং-এর সুযোগসুবিধা তথা পছন্দের জীবিকা পেয়ে যেত, তবে কাউকে অযোগ্য বলে আখ্যায়িত করবার প্রশ্নই উঠত না? প্রতিটি শিক্ষার্থীর কোনও না কোনও পছন্দের বিষয় থাকে। সেই বিষয়ে সে উচ্চশিক্ষা, ট্রেনিং, গবেষণা অথবা কর্ম সম্পাদন করতে চায়। এমনতর ব্যবস্থাই তো থাকা উচিত ছিল। এমনটি হলে সমস্ত বস্তু/পরিষেবাও উচ্চমানের নির্মিত হত। দুঃখের বিষয় বর্তমান ব্যবস্থা ৯০% মানুষকে নিজেদের ভরসায় ছেড়ে দিয়েছে। এইস্থানেই ব্যবস্থার চরম অপারদর্শিতা ফুটে উঠেছে। ব্যবস্থাকে প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রতি যত্নবান হওয়া উচিত ছিল। অনুরূপভাবে, চাহিদা, উৎপাদন এবং বিতরণ ব্যবস্থা সংশোধনের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের জন্য পরিপূর্ণ সুখসুবিধা তথা বিত্তশালী জীবনযাপনের ব্যবস্থা নির্মাণ করার প্রয়োজন ছিল। অসহায় হয়ে দুঃখের জীবন কে কাটাতে চায়? ব্যবস্থাকে ব্যর্থ বা ভ্রষ্ট না বলে সমাজ ৯,৯০০ জনকে অযোগ্য, শ্রমবিমুখ, নির্বোধ ইত্যাদি বিশেষণে আখ্যায়িত করে থাকে। এটি কি প্রকার ন্যায়?
বর্তমান সময়ের অসমান আর্থিক পরিস্থিতির কারণে অধিকাংশ মানুষকে আপন প্রচেষ্টায় জীবিকার সন্ধান করে নেবার কারণে সকলের রোজগার একসমান থাকে না। কারোর রোজগার ৫ হাজার আবার কারোর ৫ লাখ। ফলে অধিক অর্থ আয়ের সুযোগ রয়েছে এমন সুবিধা পেতে মানুষ অনৈতিক কর্মে লিপ্ত হতে পিছুপা হয় না। অধিক অর্থ আসুক কে না চায়। একইকারণে মানুষ খাদ্য সামগ্রীতেও ভেজাল মেশায় এবং নকল বস্তুসামগ্রী তৈরি করতে বাধ্য হয়। অতিরিক্ত আয়ের জন্যই মানুষ এমনটি করে থাকে। সকলেই নিজের পরিবারকে ভালবাসে এবং তাদের সুখী দেখতে চায়। সুখ প্রাপ্তির জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়। অধিক অর্থ সংগ্রহ করার উপায় এটিই যে খাদ্য সামগ্রীতে ভেজাল মেশানো, দুর্নীতি করা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা, অপরকে সরিয়ে সেই পদে আসীন হওয়া, অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত হওয়া ইত্যাদি। যা থেকে অধিক অর্থ এবং অধিক সুখসুবিধা পাওয়া যায়। অনেকে ন্যায়ের পথে, সততার পথে, উপদেশের বাণী শুনিয়ে অথবা অপরাধীকে শাস্তি প্রদান করে দুর্নীতিকে প্রতিহত করার কথা বলে থাকেন। অথচ কেউই অপরাধপ্রবণতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে না। অর্থাৎ ভেতর থেকে না কেউ সৎ হয় না অসৎ হয়। এর থেকে পরিষ্কার যে মানুষকে ভেতর থেকে সংশোধন করার মত কিছুই নেই। অর্থাৎ মানুষের ভেতরে কোনো সমস্যা নেই। তাহলে বাইরের ব্যবস্থাকে সঠিক না করে ভেতর থেকে বদলানোর প্রয়াস করলে সমাধান কিভাবে সম্ভব হবে? অর্থাৎ বলা যায় মানুষকে না জেনে না বুঝেই ব্যবস্থা নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে ব্যবস্থাকে সংশোধন না করে উপদেশ বা নৈতিকটার প্রচেষ্টা সর্বকালে সর্বযুগে বিফল হয়েছে।
জগতে বিভিন্ন প্রকার শিশু রয়েছে। যারা বড় হয়ে নিজের পছন্দ এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কোনো একটি কর্মকে নির্বাচন করতে চাইবে। সমাজের সুখের জন্য পছন্দের কর্ম সম্পাদন করতে চাইবে, গবেষণা করতে চাইবে অথবা বস্তু/পরিষেবা নির্মাণ করতে চাইবে। সমাজে একজনের কর্ম অন্যজনের জন্য সুখসুবিধা এবং অধিকার প্রদান করে। যেমন কেউ যোগ্যতা এবং রুচি অনুযায়ী অধ্যাপনার কর্ম চয়ন করতে চাইলে যেন সেই কর্ম তিনি পেয়ে যান। শিক্ষার্থীও যেন পছন্দের বিষয়ে জ্ঞান আহরণের সুযোগসুবিধা পেয়ে যায়। তবেই উভয়পক্ষ শিক্ষা আদান-প্রদানের অধিক সুবিধা নিতে পারবে এবং উভয়ই সন্তুষ্ট হবে। যদি অধ্যাপকের চয়ন সঠিকভাবে না হয় তবে অধ্যাপনার কাজও সঠিকভাবে সম্পন্ন হবে না। শিক্ষার্থীরাও বিদ্যা অর্জনের সুবিধা তথা অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। সুতরাং জীবিকা প্রদান করার সময় পছন্দের উপর ধ্যান রাখা উচিত, নাহলে কেউই মনপ্রান দিয়ে দায়িত্ব পালন করবে না এবং উচ্চগুণসম্পন্ন ফলাফল প্রাপ্ত হবে না। এই কথাটি আপনি প্রতিটি কর্ম, অধিকার এবং সুবিধার উপর পরখ করে দেখে নিতে পারেন। ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামো এমন হওয়া উচিত যেন সকলেই নিজেদের সুখসুবিধা এবং অধিকার পরিপূর্ণভাবে পেতে থাকে। তাই সমস্ত কর্মকে সমুচিতভাবে বিতরণ করে দিতে হবে। পরীক্ষা যেন শিক্ষার্থীকে পছন্দের কর্ম নির্বাচন করার জন্য এবং নির্দিষ্ট কর্মটি সম্পাদনের যোগ্য হয়ে উঠেছে কিনা তা যাচাই করার জন্য নেওয়া হয়ে থাকে। দু’জন শিক্ষার্থীর মধ্যে তুলনা করার জন্য নেওয়া উচিত নয়। এটি নিরর্থক এবং দুঃখদায়ী। একজনের সাথে অপরজনের কখনও তুলনা করা উচিৎ নয়। প্রতিটি মানুষ ভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। কেউ একটি বিষয়ের যোগ্য হলে অন্য কেউ অপর কোনো বিষয়ের যোগ্য হয়ে থাকে। সমাজের জন্য বিভিন্ন প্রকার যোগ্যতা বা কর্মদক্ষতা প্রয়োজন হয়। তা নাহলে ভিন্ন ভিন্ন কর্ম সম্পাদিত হতে পারবে না, ভিন্ন সুখসুবিধা উৎপন্ন হবে না, ফলে আমরাও ভিন্ন প্রকার সুখসুবিধা উপভোগ করতে পারব না। এইজন্য আমাদের বোঝা উচিৎ একটি পূর্ণাঙ্গ সমাজ নির্মাণ করার জন্য সকল স্তরের মানুষের যোগদান প্রয়োজন হয়। ফলে সকল প্রকার কর্মীর মুল্যাংকনও একসমান থাকা উচিত। একজনের জন্য ৫০০০ এবং অপরজনের জন্য ৫ লাখ, এটি অন্যায়। তত্ত্বগত দিক দিয়ে আমরা সকলেই এক। অর্থাৎ সকলের মধ্যেই পঞ্চতত্ত্বের সমাবেশ রয়েছে। সকলেই পছন্দ অনুযায়ী সুখসুবিধা এবং সুখী জীবনযাপন উপভোগ করতে চায়। প্রতিটি ব্যক্তির পছন্দ অপছন্দের মধ্যে ভিন্নতা এবং জীবন যাপনের মধ্যে বৈচিত্র থাকবে এমনটিই স্বাভাবিক, এটি সমস্যা নয়। বরং জীবনে বৈচিত্র থাকলে ক্লান্তি-বিরক্তি-একঘেয়েমি চেপে ধরে না। মূল সমস্যা হচ্ছে সকলের জন্য শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, সুখসুবিধা, সুরক্ষার একসমান সুযোগসুবিধা তথা পছন্দ অনুযায়ী জীবনযাপনের ব্যবস্থা না থাকাটা। সুতরাং বিভিন্ন প্রকার কর্মকে সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য বাহ্যিক ভেদাভেদ কেবলমাত্র ব্যক্তিত্বের দিক দিয়েই থাকা উচিত, সুযোগসুবিধার দিক দিয়ে নয়।
শিক্ষা আমাদের অন্তঃকরণকে সার্বিকভাবে শিষ্ট করে তোলে। শিষ্টতা দ্বারাই মানুষ সভ্য হয়ে উঠে। সভ্যের অর্থ হচ্ছে যে সমাজ তৈরি হয়েছে তাতে যেন সে আচরণের যোগ্য হয়ে ওঠে। সভ্য হবার অর্থ এই নয় যে মানুষ একটি নষ্ট প্রাণী, তাকে শিক্ষা দিয়ে সংশোধন করতে হবে। মানুষ স্বাভাবিকভাবে যেমন হওয়া উচিৎ তেমনই হয়ে থাকে। শিক্ষার লক্ষ্য কেবলমাত্র এটিই হওয়া উচিৎ সে যেন সমাজের নীতিনিয়ম সম্পর্কে সচেতন হতে পারে, সে যেন সামাজিক আচার ব্যবহারে সফল হতে পারে এবং সমাজে তার কর্ম কি হবে তা নির্বাচন করতে পারে। অতঃপর সে যেন সমাজের উদ্দেশ্যে নিজের অবদান রাখতে পারে। এজন্যই সমাজের রচনা হয়েছে, যেন পারস্পরিক যোগদানের মাধ্যমে আমরা ইপ্সিত সুখ প্রাপ্ত করতে পারি। শিক্ষার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি কেন আমাদের কর্ম করা উচিৎ, কিভাবে করা উচিৎ, কোনটি সঠিক এবং কোনটি ভুল। কার সাথে কেমন ব্যবহার করা উচিৎ, সমাজে নিজের অবস্থান কী হবে, কার সাথে কিভাবে মোকাবিলা করতে হবে, কিভাবে আচরণ করতে হবে– এইসব শিক্ষার মাধ্যমে সহজে এবং দ্রুত জানা যায়। এটিই শিক্ষার পরিভাষা। শিক্ষা আমাদের শেখায় কীভাবে সুখী হওয়া যেতে পারে, কীভাবে জীবনের ইচ্ছেগুলি পূরণ করা যেতে পারে, কেমন ব্যবস্থা আমাদের প্রয়োজন, কিভাবে আমরা সেই ব্যবস্থায় একে অপরের সাথে সহযোগিতার সাথে বসবাস করতে পারি ইত্যাদি। শিক্ষা আমাদের কোনো একটি পেশায়, কোনো একটি বিষয়ে দক্ষ এবং প্রশিক্ষিত করে তোলে। শিক্ষার অর্থ এটি কখনই হতে পারে না মানুষ খারাপ হয় এবং নৈতিকতা পাঠ করিয়ে তাকে ভাল মানুষ হিসেবে তৈরি করতে হবে। অথবা মূর্খ থেকে বিদ্বান হবার জন্য জোর প্রদান করতে হবে। দুটোই সঠিক পন্থা নয়। অর্থাৎ মানব জীবনের সার্বিক বিকাশের জন্য শিক্ষা অপরিহার্য। শিক্ষা আমাদের জন্য সঠিক অর্থে সামাজিক হয়ে উঠতে সহায়তা করে। সামাজিক হওয়ার মাধ্যমেই সবরকম সুখের দরজা উন্মুক্ত হতে শুরু করে। কিভাবে সমাজের সকলকে সমৃদ্ধ করা যায়, কিভাবে সুযোগসুবিধা বৃদ্ধি করা যায়, কিভাবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের সন্ধান করা যায়, কিভাবে সেই জ্ঞান-বিজ্ঞানকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে প্রেরণ করা যায় ইত্যাদি। যেন আগামী প্রজন্ম সহজে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে সেই জ্ঞান লাভ করতে পারে। এরপর সেই জ্ঞান দ্বারা কিভাবে নূতন আবিষ্কারের দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং যা আবিষ্কৃত হয়েছে তা জীবনের সুবিধার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে যেন আমরা অধিক সুখী হতে পারি। পরিবার এবং সমাজ গঠনের উদ্দেশ্যও একই। এই কাঠামো তৈরি করার জন্যই শিক্ষার প্রয়োজন হয়।
এইবার ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতার বিষয়টি নিয়ে একটু ব্যাখ্যা প্রয়োজন। অর্থাৎ সমস্যার মূল কারণ শনাক্ত করা। একইসাথে স্থায়ী সমাধান উপস্থাপন করা। অর্থনীতির বিষয়টিই সর্বপ্রথমে চলে আসে। বর্তমান অর্থনীতির বিষয়টি একটি বাস্তবিক উদাহরণের মাধ্যমে বোঝার প্রয়াস করি। যেমন আমেরিকার জনসংখ্যা ৩৩ কোটি, GDP ২০ ট্রিলিয়ন; চীনের জনসংখ্যা ১৪৫ কোটি, GDP ১৩ ট্রিলিয়ন এবং ভারতের জনসংখ্যা ১৪০ কোটি, GDP ৩.৫ ট্রিলিয়ন। কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারের বিপুল ঋণের হিসেব আর সংগ্রহ করিনি। ভারতের সরকার যদি সম্পূর্ণ ট্যাক্স শুধুমাত্র শিক্ষাখাতে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অন্যান্য প্রফেশনাল কোর্সের পরিকাঠামো তৈরি এবং শিক্ষক নিয়োগে ব্যয় করতে চায় তাহলেও কম পড়ে যাবে। অর্থাৎ সর্বপ্রথম আর্থিক সংস্কার জরুরী। প্রয়োজন হলে মুদ্রানীতিকে পরিবর্তন করে নেওয়া। কারণ বর্তমান ব্যবস্থায় মুদ্রার বিনিময় দুর্নীতিকে পক্ষপাতিত্ব করে থাকে। যা মানবীয় অধিকার প্রদানে বাধা উৎপন্ন করে। এমন অর্থনৈতিক মডেল নির্মাণ করে নেওয়া যেন আর্থিক দুর্নীতির সমস্যাটি গোঁড়া থেকেই নির্মূল হয়ে যায়। মুদ্রা দ্বারা আমরা মূলত বস্তু এবং পরিষেবা ক্রয় করে থাকি। বিকল্প কোনো মুদ্রানীতি নির্মাণ করে নেওয়া যেন আর্থিক দুর্নীতি দূরীকরণের পাশাপাশি ক্রয়-বিক্রয়ে বা সুখসুবিধা উপভোগের ক্ষেত্রে বাধা উৎপন্ন না হয়।
দুর্নীতির প্রসঙ্গে অনেকে পদস্থ কর্তাব্যক্তি বা নেতামন্ত্রীদের দায়ী করে থাকেন। এই বিষয়টির উপরও কিছুটা আলোকপাত করা জরুরী। বর্তমান ব্যবস্থায় আমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি নেতামন্ত্রীর পদে আসীন হই তাহলেও সমাধান করা সম্ভব হবে না। ঠিক যেমন বর্তমান সময়ে বহু নিষ্ঠাবান-ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা সমাধান করতে পারছেন না। ব্যক্তিগত উন্নয়নটুকুই সম্ভব। কোনো সরকারই ইচ্ছে করে উন্নয়ন আটকে রাখতে চায় না। এ নিয়ে ক্ষমতাপ্রাপ্ত সকল রাজনৈতিক দলের অভিজ্ঞতাই আমাদের হয়ে গিয়েছে। অনেকে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র নির্মাণের পক্ষে, এমনটি হলেও যে ভয়ানক দুর্দশা হবে সেকথা না বলাই ভাল। ধরুন যদি এমনটি হত তবে ধর্মীয় বিধান মেনে যেসব দেশে সিংহভাগ একই ধর্মের মানুষের বসবাস সেইসব দেশ সর্বাধিক সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে পরিগণিত হত। মূল সমস্যা অন্য কোথাও রয়েছে। বর্তমান ব্যবস্থাও কেবলমাত্র ১০% মানুষকেই জীবিকা বা সুখসুবিধা প্রদান করতে সক্ষম। ৯০%-এর জন্য দুর্ভাগ্যই ভরসা। সকলেই আরামদায়ক জীবন-যাপনের জন্য সুখসুবিধা পেতে চায়। এতে দোষের কিছু নেই। বর্তমান ব্যবস্থায় সুযোগ যৎসামান্য থাকার কারণেই মূলত লড়াই। সমস্ত জীবিকার সমান পারিশ্রমিক তথা মুল্যাংকন একসমান না থাকার ফলেই দুর্নীতি, হত্যা, হিংসা, লুণ্ঠন, শোষণ ইত্যাদি অপরাধ সংঘটিত হয়ে চলেছে। এমন অর্থনীতি নির্মাণ করাই হয়নি যেন কাউকেই অপরের উপর নির্ভরশীল না থাকতে হয়। এমন ব্যবস্থা নির্মাণ করা হয়নি যেন কোনো কাজের জন্য কাউকে সুপারিশ করতে না হয়। এটি ব্যবস্থাগত সমস্যা। ব্যক্তিগত উদ্যোগের সমস্যা নয়। আন্দোলন/মিছিল/ধর্না/অভিযোগ/হিংসা/সংঘর্ষ; এমনকি ধর্ম/বর্ণ/সংস্কৃতি নির্বিশেষে সমস্ত বর্গের মানুষের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নির্মাণ করাই হয়নি। এমন ব্যবস্থা নির্মাণ করা হয়নি যেখানে বিত্তশালী থেকে দরিদ্র কোনো পক্ষেরই সমস্যা উৎপন্ন হবে না। অর্থাৎ ১০০% জনগণ শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, সুখসুবিধা, সুরক্ষার একসমান সুযোগ পাবে এমন ব্যবস্থা নির্মাণ করাই হয়নি। সুতরাং সমস্যার মূল কারণগুলি চিহ্নিত না করে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, যত প্রকল্পই নির্মাণ করা হোক না কেন, যত বড় সৎ ব্যক্তিই আসুক না কেন, যত আলোচনাই হোক না কেন, যত পুস্তকই রচিত হোক না কেন সমস্যা যেখানে রয়েছে সেখানেই থাকবে। বর্তমান ব্যবস্থার পক্ষে এইসকল মুখ্য নীতিগুলি পালন করাও সম্ভব নয়। ফলে সকলের মিলিত উদ্যোগে নতুন এবং বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তন-মনন করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।
আমরা ‘সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থা’ নামক একটি নতুন এবং বিকল্প ব্যবস্থার খোঁজ পেয়েছি যেখানে একটি নতুন শিক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়েছে। এই নতুন শিক্ষাব্যবস্থার পরিকাঠামো শিশুদের রুচি অনুযায়ী হবে এবং খুবই সহজ সরল হবে। স্কুল সপ্তাহে পাঁচ দিন এবং দুই ঘণ্টার হবে। কোনো শিশুর আগ্রহ অধিক হলে তার জন্য অতিরিক্ত দুই ঘণ্টা বৃদ্ধি করা হবে এবং তাদের রুচি অনুযায়ী অনুকূল ব্যবস্থা তৈরি করা হবে। এই ধরণের শিক্ষার জন্য বিভিন্নরকম উদ্ভাবনী শিক্ষা পদ্ধতি বিদ্যমান থাকবে যা শিশুদের আগ্রহের উপর ভিত্তি করে নির্মাণ করা হবে। শিশুরা যে বিষয়ই অধ্যয়ন করুক না কেন সকলের স্বীকৃতি সমান থাকবে। তারা যে বিষয়ে যতটা গভীরে যেতে চায় তার জন্য সম্পূর্ণ ব্যবস্থা থাকবে। ফলে তারা যতটা শিখতে চায় শিখতে পারবে। না শিখতে চাইলে শিখবে না। সেজন্য কাউকেই জোর করা হবে না। এমনভাবেই শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা হবে। শিক্ষা হতে হবে শিক্ষার্থীর ইচ্ছানুযায়ী। তাতে শিক্ষা গ্রহণকারীও সুখী হবে, এমনকি শিক্ষা প্রদানকারীও সুখী হবে। এটিই হচ্ছে নতুন শিক্ষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। যেখানে কেউ কোনো প্রকার নিষ্পেষণ বা পীড়ন অনুভব করবে না। বলা যায় খেলতে খেলতে শেখানো-পড়ানো চলতে থাকবে।
সাধারণত জন্মের পর পঞ্চম বর্ষ পূর্ণ হলে ষষ্ঠতম বছরে শিশু প্রথমবারের মতো বিদ্যালয়ে নিবন্ধিত হবে এবং প্রথম কক্ষে প্রবেশ করবে। ২০ বছর বয়সের মধ্যে প্রতিটি শিশু সাধারণ শিক্ষা সম্পন্ন করবে। অতঃপর বিদ্যালয় দ্বারা সমস্ত শিশুর যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের পছন্দ বা রুচি অনুযায়ী কোনো একটি বিষয়ে জীবিকার প্রশিক্ষণ ৫ বছরের জন্য প্রদান করা হবে। এই সময়কালকে মহাবিদ্যালয় বলা হবে। প্রশিক্ষণ শেষে সকলকে একটি জীবিকা প্রদান করা হবে। জীবিকাভিত্তিক প্রশিক্ষণের পর শুধুমাত্র যোগ্য শিক্ষার্থীরাই তাদের ইচ্ছানুযায়ী অনুসন্ধান বা গবেষণা কর্ম চালিয়ে যেতে পারবে। এই সময়কালটির নাম হবে বিশ্ববিদ্যালয়। একইসাথে যা হবে তাদের কর্মসংস্থান।
পঞ্চবর্ষীয় প্রশিক্ষণ বিধানের অন্তর্গত চার প্রকার ব্যক্তিত্বের জন্য চার ধরনের প্রশিক্ষণ থাকবে।
১. কৃষি শিক্ষা
২. উৎপাদনশিল্পকর্ম শিক্ষা
৩. প্রশাসনিক শিক্ষা
4. নেতৃত্ব শিক্ষা
শিক্ষা দুই ধরনের হবে– সাধারণ এবং জীবিকানির্ভর। ১৫ বছরের সাধারণ পাঠ্যক্রম থাকবে। যা সকলের জন্য অনিবার্য থাকবে। কোনো শিক্ষার্থীকে কখনোই অনুত্তীর্ণ করানো হবে না। প্রত্যেকের প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতেই পরবর্তী ক্লাসে প্রবেশ করানো হবে। সাধারণ পাঠ্যক্রমে মাত্র চারটি বিষয় পড়ানো হবে। ভাষা, গণিত, সংজ্ঞান এবং দর্শন। যা সকল শিশুর ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটাবে। ভাষা মনের বিকাশ ঘটাবে, গণিত বুদ্ধির বিকাশ ঘটাবে, সংজ্ঞান চিত্ত বা বোধশক্তির বিকাশ ঘটাবে, দর্শন অহংকারের বিকাশ ঘটাবে। অন্তঃকরণ বিকাশের দ্বারাই মনুষ্য সঠিক ও অন্যায়ের জ্ঞান লাভ করে। কখন কি করতে হবে তার জ্ঞান শুধুমাত্র শিক্ষার মাধ্যমেই তৈরি হয়। আচার-আচরণ কেমন হওয়া উচিত তা মানুষ শিক্ষার মাধ্যমেই জানতে পারে। সাধারণ শিক্ষা অর্জনের পর চার ধরনের ব্যক্তিত্বের উদ্ভব হবে। শারীরিক স্তরের (Physical quotient), মানসিক স্তরের (Intelligence quotient), ভাবনাত্মক স্তরের (Emotional quotient) এবং চেতনাত্মক স্তরের. (Conciousness quotient)। এই বিষয়ে 'সম্পূর্ণ সমাধান’ পুস্তকে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। এমনকি এই নতুন ব্যবস্থা কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে তারও রুপরেখা এই পুস্তকে বর্ণিত হয়েছে। এছাড়া ইউটিউব, ফেসবুক, ওয়েবসাইট ইত্যাদি সোশ্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মে বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ অডিও-ভিডিও রয়েছে।
শারীরিক স্তরের যোগ্যতা-প্রধান ব্যক্তিরা কৃষিকর্ম, পশুপালন, দুগ্ধ উৎপাদন, ফল উৎপাদন, উদ্যান, বাগান ইত্যাদি কর্ম সম্পর্কিত শিক্ষা গ্রহণ করবে।
মানসিক স্তরের যোগ্যতা-প্রধান ব্যক্তিরা উৎপাদনশিল্পকর্ম, বস্তু, পরিষেবা, বিভিন্ন প্রকার সামাজিক সুখসুবিধার প্রবন্ধন যেমন– সড়ক, জল, বিদ্যুৎ, বিদ্যালয়, পুস্তকালয়, আবাস, পার্ক, স্টেডিয়াম, ক্লাব, সাংস্কৃতিক মঞ্চ ইত্যাদি নির্মাণ সম্পর্কিত শিক্ষা গ্রহণ করবে।
ভাবনামূলক স্তরের যোগ্যতা-প্রধান ব্যক্তিরা প্রশাসনিক কর্ম, জনসেবা, ন্যায়-বিচার সংক্রান্ত কর্ম, চিকিৎসা, সুরক্ষা ইত্যাদি কর্ম সম্পর্কিত শিক্ষা গ্রহণ করবে।
চেতনামূলক স্তরের যোগ্যতা-প্রধান ব্যক্তিরা নেতৃত্ব, অধ্যাপনা, গবেষণা, অনুসন্ধান, আইন এবং নীতিনিয়ম প্রণয়ন, বিভিন্ন প্রকার ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কর্ম সম্পর্কিত শিক্ষা গ্রহণ করবে।
শিক্ষার্থী যখন তার যোগ্যতা এবং রুচি অনুযায়ী শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বস্তু/পরিষেবা নির্মাণ করবে, তখন সেইসকল বস্তু/পরিষেবা স্বাভাবিকভাবেই উচ্চমানের হবে এবং নাগরিক তা ব্যবহার করে সন্তুষ্ট হবে। কোনো ব্যবস্থায় ১০০% জনগণ শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, সুখসুবিধা, সুরক্ষার একসমান সুযোগসুবিধা তথা পছন্দ অনুযায়ী জীবনযাপনের ব্যবস্থা পেলে কে দুর্নীতি করবে, কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, কে অপরাধ করবে?
সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্টতা, প্রশ্ন উত্তরের মীমাংসা, পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ULM Bangla ইউটিউব চ্যানেলে একটি মুক্ত মঞ্চ রয়েছে। আপনি যে স্থানে রয়েছেন সেই স্থান থেকেই লাইভ অডিও/ভিডিও অনুষ্ঠানে যুক্ত হতে পারবেন। আপনি প্রশ্নকর্তা হয়ে অথবা বক্তা হয়ে আপনার মতবাদ উপস্থাপন করতে পারবেন। এই মঞ্চ সকলের জন্য উন্মুক্ত।
যোগাযোগ – 9830925502.

'সম্পূর্ণ সমাধান' নামক বিকল্প নতুন ব্যবস্থা বিষয়ক পুস্তকটির E-BOOK বিনামূল্যে ডাউনলোড করুন অথবা 9830925502 নম্বরে WhatsApp করুন-
‘Sampurna Samadhan’ FREE E-Book, Download Link (Hindi, English, Russian and Bengali):
সম্পূর্ণ সমাধান পেপারবুক Amazon Link:
সম্পূর্ণ সমাধান পেপারবুক Flipkart Link:
ULM Bangla/ULM Hindi/ULM English/ULM Russian ইউটিউব চ্যানেলের মুক্ত মঞ্চে বক্তা হিসেবে এবং উন্মুক্ত আলোচনার জন্যও সকলে আমন্ত্রিত: 98309 25502.

#নতুন_ব্যবস্থা, #New_System, #ব্যবস্থা_পরিবর্তন, #Unemployment, #FinancialSecurity, #Poverty, #Education, #Jobs, #Health, #Happiness, #Love, #Satisfaction, #Security, #Unity, #Cooperation, #Sampurna_Samadhan, #ULM_Bangla, #ULM_Hindi, #ULM_English, #ULM_Russian, #Universal_Life_Management, #সম্পূর্ণ_সমাধান, #সম্পূর্ণ_সমাধান_ব্যবস্থা, #Byabastha_Parivartan, #System_Change, #व्यवस्था_परिवर्तन


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?