জনি ডেপের সাথে ফরাসি অভিনেত্রী ও গায়িকা ভেনেসা প্যারাডিসের সম্পর্কের সূত্রপাত হয় ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সে, ‘দ্য নাইনথ গেট’ ছবির শুটিং করার সময়। পরের বছরই অর্থাৎ ১৯৯৯ সালে কন্যা লিলি-রোজের জন্ম হয়। এরপর ২০০২ সালে পুত্র জ্যাকের জন্ম হয়। ডেপ এবং ভেনেসা একসাথে ১২ বছর থাকলেও আইনি বিয়ে বা প্রথাগত বিয়ে তারা করেননি। যদিও বিয়ে ছাড়াই সন্তানের জন্ম হওয়া ইউরোপ-আমেরিকাসহ অনেক উন্নত দেশে নতুন কিছু নয়। ডেপ বলেছিলেন, ‘সন্তানের জন্ম তার জীবনকে কর্মক্ষেত্রসহ সমস্তকিছুতে আরও শক্তিশালী করেছে। সন্তানরা তাদের গভীর ভালবাসার উপহার’। পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব তাদের সচেতন সিদ্ধান্ত ছিল কিনা সে প্রসঙ্গ ভিন্ন। অবশেষে ২০১২ সালের জুন মাসে ডেপ এবং ভেনেসা তাদের ১৪ বছরের সম্পর্কের সমাপ্তি ঘোষণা করেন, অর্থাৎ আলাদা হয়ে যান। এই সম্পর্কের পূর্বেও দুজনের একাধিক সম্পর্ক ছিল। তা থাকাটাই স্বাভাবিক।
ভেনেসা প্যারাডিসের সাথে সম্পর্ক সমাপ্তির পর, ডেপ অভিনেত্রী অ্যাম্বার হার্ডের সাথে ডেটিং শুরু করেন, ‘দ্য রাম ডায়েরি’ (২০১১) ছবিতে অভিনয়কালীন সময়ে দুজনের পরিচয়। ২০১২ তে উভয়ই প্রেমে পড়েন এবং ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেন। বলা যায় বিয়ের এক বছর অতিবাহিত হতে না হতেই হার্ড ২০১৬ সালের মে মাসে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন এবং ডেপের বিরুদ্ধে একটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ পান। তিনি অভিযোগ করেন যে, তাদের সম্পর্ক চলাকালীন পুরো সময়কালেই ডেপ মৌখিক এবং শারীরিকভাবে অশোভন আচরণ করেছেন, বিশেষত ড্রাগ বা অ্যালকোহলের প্রভাব থাকাকালীন সময়। ডেপ তা অস্বীকার করেন এবং পাল্টা অভিযোগ করেন যে অ্যাম্বার ‘আর্থিক সুবিধা নেবার চেষ্টা করছেন’। ২০১৬ সালের আগস্টে একটি মীমাংসা হয় এবং ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। হার্ড নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রত্যাখ্যান করেন এবং দুজনে একটি যৌথ বিবৃতি জারি করে বলেন যে, তাদের সম্পর্ক ছিল তীব্র আবেগপূর্ণ এবং মাঝে মাঝে অস্থিরতা থাকলেও সর্বদা প্রেমপূর্ণ ছিল এবং কোনো পক্ষই আর্থিক লাভের জন্য মিথ্যা অভিযোগ করেননি। শারীরিক বা মানসিক হেনস্থারও অভিপ্রায়ও কারোর ছিল না। বিবাহবিচ্ছেদের মীমাংসা বাবদ ডেপ হার্ডকে ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়েছিলেন যা তিনি লস এঞ্জেলসের একটি শিশু হাসপাতালে এবং ACLU নামে কোনো সংস্থায় দান করবেন বলে প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন।
২০১৮ সালে ডেপ ‘দ্য সান’ -এর প্রকাশক ‘নিউজ গ্রুপ নিউজপেপারস’ (এনজিএন) এর বিরুদ্ধে গ্রেট ব্রিটেনে একটি মানহানির মামলা দায়ের করেন, উক্ত কাগজটি ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসের একটি প্রবন্ধে ‘ডেপ স্ত্রীকে পেটান’ বলে একটি আর্টিকেল প্রকাশিত করেছিল। ২০২০ সালের জুলাই মাসে মামলাটি শুরু হয়, যেখানে ডেপ এবং হার্ড উভয়কেই বেশ কয়েক দিন সাক্ষ্য দিতে হয়েছিল। ২০২০ সালের নভেম্বরে হাইকোর্ট রায় দেয়, হার্ড দ্বারা দাবি করা সহিংসতার ১৪টি ঘটনার মধ্যে ১২টির যথেষ্ট সত্যতা রয়েছে। অর্থাৎ ডেপ হেরে যান। এই রায়ের পর তাকে বাধ্য হয়ে বিখ্যাত প্রযোজনা সংস্থা ‘ওয়ার্নার ব্রাদারস’-এর ‘ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস’ সিনেমার ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে পদত্যাগ করতে হয়।
এরপর ডেপ ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারীতে ‘দি ওয়াশিংটন পোস্টে’র ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত একটি আর্টিকেলের জন্য পুনরায় হার্ডের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন। এই মামলাটির মাধ্যমেই যেন এক ইতিহাস রচিত হল। উক্ত আর্টিকেলটিতে সরাসরি ডেপের নাম না থাকলেও হার্ড যে ডেপকে উদ্দেশ্য করেই লেখাটির অনুমোদন দিয়েছিলেন তা বলাই বাহুল্য। যেখানে ডেপের বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতনের এক ভয়ানক গল্প সাজানো হয়েছিল। ডেপ ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবী করে অভিযোগ দায়ের করে উল্লেখ করেন যে তিনিই বরং হার্ড দ্বারা নির্যাতিত হয়েছিলেন এবং এই অভিযোগগুলির মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে একটি প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে। এই আর্টিকেলটির জন্য হলিউডে ডেপ খুবই সমালোচিত হন এবং একে একে কাজের প্রোজেক্টগুলি হাতছাড়া হয়ে যায়। বিশেষ করে 20’র দশকে ওয়াল্ট ডিজনির ফিল্ম সিরিজ ‘পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান’ থেকেও বাদ পড়েন। যেখানে তিনি ‘ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো’ চরিত্রে অভিনয় করে বাণিজ্যিকভাবে সফল চলচ্চিত্র তারকাদের একজন হয়ে উঠেছিলেন। অপরদিকে অ্যাম্বার হার্ডও ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবী করে ডেপের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন।
ডেপ-হার্ড এর বিচার প্রক্রিয়া ২০২২ সালের ১১ই এপ্রিলে ভার্জিনিয়ার একটি কোর্টে শুরু হয়। দেড় মাসের অধিক সময় ধরে চলতে থাকা এই মামলায় উভয় পক্ষই বহু ব্যক্তির সাক্ষ্য ছাড়াও প্রচুর ছবি, ভিডিও, অডিও, মেসেজ, ইমেল ইত্যাদি প্রমাণাদি হিসেবে পেশ করেন। বিশেষ করে অ্যাম্বার হার্ডের পক্ষ থেকে। বিচারক শেষ পর্যন্ত মামলাটি দুপক্ষের জুরিদের উপর ন্যাস্ত করেন। জুরিরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে হার্ডের তিনটি মূল অভিযোগ ছিল মিথ্যা, ডেপকে মানহানি করা হয়েছে এবং তা করা হয়েছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিদ্বেষের সাথে। ২০২২ সালের ১লা জুন জুরিরা ডেপকে অ্যাম্বার হার্ডের পক্ষ থেকে মোট ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ প্রদান করার নির্দেশ দিয়েছে। অর্থাৎ জনি ডেপ বিজয়ী হয়েছেন।
বিশ্বব্যাপী বহুল চর্চিত এই মামলাটিকে কোর্টরুম থেকে লাইভ সম্প্রচার করা হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মামলাটি সমাপ্তির পরও সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে একজন নারীর প্রতিপক্ষ হিসেবে একজন পুরুষ, বিশেষ করে একজন বিবাহিত পুরুষ বিজয়ী হয়েছেন। পূর্বে এই প্রকার মামলায় সাধারণত দেখা গিয়েছে নারীই সর্বদা জয়লাভ করেছে। প্রায় সমস্ত দেশের আইনগুলি সাধারণত নারীদের পক্ষে অধিক সক্রিয়। বাস্তবেও দেখতে পাওয়া যায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যে কোনো মামলায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বামীকে হয় জেলের ভেতর দিন গুনতে হয়, নইলে মোটা অংকের অর্থ প্রদান করে অসহায় জীবন কাটাতে হয় অথবা প্রতি মাসে মোটা খরচের হিসেব গুণতে হয়। বিচ্ছেদজনিত মামলাগুলি নানা জটিলতার কারণে বহুদিন ধরে চলতে থাকে এবং উভয় পক্ষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। বিচ্ছেদ হলেও সুখের হয় না। জটিল এই সমস্যাটি নিয়ে বহুকাল ধরে মানুষ দাবী করে আসছে যে, বিচ্ছেদজনিত আইনগুলির সংশোধন প্রয়োজন। অন্যদিকে পুরুষদের সংগঠনগুলি এই মামলাটিকে যেন একপ্রকার উদাহরণ বা নজির হিসেবে পেয়েছে। অন্যদিকে বহু নারীও সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছে যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এইপ্রকার মামলাগুলি যেভাবে নারীদের পক্ষ অবলম্বন করে এমনটি হওয়া উচিত নয়। বিত্তশালি নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক দিক এবং বিকল্প সঙ্গী-সঙ্গিনী খুঁজে পাবার দিক থেকে তেমন অসুবিধা না হলেও ৯০% দরিদ্র মানুষের পক্ষে কোনো মামলা বহন করা এবং বিচ্ছেদ পরবর্তী জীবনযাপন হয়ে ওঠে অত্যন্ত্য দুঃখের।
দাম্পত্য সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধান কিভাবে সম্ভব?
প্রেমঘটিত বিষয়ের ক্ষেত্রে অথবা বিবাহের পর কবে একজন অপরজনকে ছেড়ে যেতে চাইবে সেই দুশ্চিন্তায় বহু মানুষ প্রেম বা বিবাহজনিত সম্পর্কে জড়াতে ভয় পান। হয়তো তারা ভাবেন সম্পর্কে জড়ালে হয়তো একজনের লাভ হবে এবং অপরজনের ক্ষতি হবে। অথবা দুজনেরই ক্ষতি হবে। দুজনেই সমান লাভবান হবেন এমনটি ভেবে নিশ্চিত হতে পারেন না। অর্থাৎ সম্পর্ক শুরু হবার পূর্বেই মনের ভেতর আনুসঙ্গিক বহু বিষয় ঘুরপাক খেতে থাকে। এমনতর অবস্থায় সম্পর্কে জড়ালেও সম্বন্ধের সুখ থেকে উভয়ই বঞ্চিত হন। হয়তো এই প্রকার ভীতির কারণেই বহু মানুষ প্রেম এবং বিবাহের বিষয়টিকে ‘প্রেমের ফাঁদ’ বা ‘বৈবাহিক বন্ধন’ বলে ব্যাঙ্গ করে থাকেন। কারণ কে কি প্রকার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রেম অথবা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চাইছে তা সঠিকভাবে বুঝতে পারা যায় না। আবার, প্রেম বা বিবাহ যে সম্পর্কই হোক না কেন তা থেকে মুক্ত হবার পথে বিপুল পরিমাণ ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়। এমনকি জটিল আইনি প্রক্রিয়াও উভয়পক্ষের জীবনযাপনের স্বাভাবিকতাকে বিনষ্ট করে ফেলে। এইস্থানে দেখা যাচ্ছে মূলত দুটি মুখ্য সমস্যা উদয় হয়েছে। এক, বিপরীত সঙ্গীর মনোভাব বুঝতে না পারা, অর্থাৎ ম্যাচিং সঙ্গী-সঙ্গিনী না পাওয়াটা; দুই, মাঝপথে কেউ বিচ্ছেদ চেয়ে বসার দুশ্চিন্তা। যে কোনো কাজের মত সম্পর্কের পেছনেও যে উদ্দেশ্য থাকবে এটিই স্বাভাবিক। তা হতে পারে নিখাদ সম্পর্কজনিত সুখ উপভোগের বাসনা, আর্থিক সুবিধা গ্রহণের ইচ্ছে অথবা থাকতে পারে অন্য কোনো গোপন অভিসন্ধি। দুটি সমস্যারই পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাসহ মূল কারণ এবং স্থায়ী সমাধান প্রদানের প্রচেষ্টা থাকবে এই লেখায়। পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একইরকমভাবে বুঝে নিতে পারি। অর্থাৎ পারিবারিক কলহ, বিবাদ, বিভাজন, মতামতের ভিন্নতা, অর্থনৈতিক অসন্তোষ, মামলা-মোকদ্দমা, হত্যা-হিংসা ইত্যাদি সমস্যাগুলিরও মূল কারণ এবং স্থায়ী সমাধান থাকবে এই লেখায়। প্রেম বা বিবাহজনিত সম্পর্কের বাইরেও বিভিন্ন প্রকার সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে। সেইসব সম্পর্কগুলি থেকেও আমরা নানা প্রকার সুখ অনুভব করে থাকি। যেমন মায়ের থেকে মাতৃসুখ, পিতার থেকে পিতৃসুখ, ভাই-বোনের থেকে ভ্রাতৃত্বের সুখ, দাদু-ঠাকুমা-দিদিমার কাছ থেকে আলাদা সুখ পেয়ে থাকি। এরপর বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-পরিজন, সহকর্মী ছাড়াও যাদের সাথে আমাদের যেমন সম্পর্ক তাদের থেকে আমরা সেইরূপ সুখ প্রাপ্ত করে থাকি। অর্থাৎ ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, সমষ্টিগত ইত্যাদি সম্পর্কগুলি থেকে বিভিন্ন প্রকার সুখ অনুভব করে থাকি। সম্পর্কজনিত সুখ পরিপূর্ণভাবে উপভোগের মাঝে যে বিষয়টি প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায় তা হচ্ছে অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা। আর্থিক পরনির্ভরতা যত অধিক থাকবে সেই সম্পর্কও ততটাই বাধ্যবাধকতার মধ্যে থাকবে এবং উক্ত সম্পর্ক থেকে সুখের পরিবর্তে দুঃখ অধিক উৎপন্ন হবে।
জীবনের মূল উদ্দেশ্য কি? জীবনযাপনের সমস্ত কর্মকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সুখী হতে চাওয়া। সকলেই পছন্দের জ্ঞান, কর্ম, ভোগ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের মাধ্যমে সুখী এবং সমৃদ্ধশালী জীবন উপভোগ করতে চায়। সকলেই শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, সুখসুবিধা এবং সুরক্ষিত জীবনযাপনের সুযোগসুবিধা পেতে চায়। জীবনের উদ্দেশ্যও তাই। সুখী এবং সমৃদ্ধশালী জীবনযাপন উপভোগ করতে চাওয়াটা দোষের নয়। সকলে নিজের পছন্দ অনুযায়ী সুখসুবিধা পেতে চাইবে এবং সুখী জীবনযাপন উপভোগ করতে চাইবে এমনটিই স্বাভাবিক। তেমনি প্রতিটি ব্যক্তির পছন্দ-অপছন্দের মধ্যে এবং জীবন যাপনের মধ্যে বৈচিত্র থাকবে এমনটিও স্বাভাবিক। এটি সমস্যা নয়। বরং জীবনে বৈচিত্র থাকলে ক্লান্তি-বিরক্তি-একঘেয়েমি-অবসাদ চেপে ধরে না। মূল সমস্যা হচ্ছে সকলের জন্য শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, সুখসুবিধা, সুরক্ষার একসমান সুযোগসুবিধা তথা পছন্দ অনুযায়ী জীবনযাপনের ব্যবস্থা না থাকাটা। একইসাথে ম্যাচিং সঙ্গী-সঙ্গিনী পাবার ব্যবস্থা না থাকাটা। যদি জীবনযাপনের মূল ইচ্ছেগুলি পূরণ হয়ে যায় তবে কেউই অপরের কাছে থেকে সম্পর্কের সুখ ব্যতীত অন্য কিছুর আশা করবে না। সেজন্য প্রাথমিক পদক্ষেপ হচ্ছে সকলের জন্য জীবনযাপনের আবশ্যিক দিকগুলিকে সুনিশ্চিত করা। যেন সম্পর্কজনিত সুখ প্রাপ্তির ইচ্ছে ব্যতীত একজন অপরজনের উপর নির্ভরশীল না থাকে। তবেই চাওয়া-পাওয়ার গোপন অভিসন্ধি থাকবে না। এমনটি হলে তবেই সমস্ত সম্পর্ক প্রেমের আধারে নির্মিত হবে। অর্থাৎ শুধুমাত্র সম্বন্ধ সুখ উপভোগের জন্যই সম্পর্ক স্থাপিত হবে।
এবার বিচ্ছেদের বিষয়টিতে আসি। বিচ্ছেদ হওয়া উচিত সহজ সরল।
পারস্পরিক নির্ভরতা থেকে একে অপরের প্রতি প্রেমের উৎপত্তি হয়। একজন বুঝতে পারে অন্যজনের সান্নিধ্য ছাড়া সম্পূর্ণরূপে সুখী হওয়া সম্ভব নয়। যখন একজন অপরজনের গুরুত্ব অনুভব করতে পারে তখন পরস্পরের মধ্যে প্রেম হয়ে যায়। বৃক্ষের মূল এবং শাখার সাথে যে সম্বন্ধ সেটিই প্রেমের সম্পর্ক। অপরদিকে, পারিবারিক সুখ প্রাপ্তির জন্যও প্রেমই মূল আধার হওয়া উচিত। পরিবারের অর্থ হচ্ছে দুই বা অধিক ব্যাক্তি দীর্ঘ সময় অবধি একসাথে থাকতে চায়। দীর্ঘ সময় অবধি একসাথে বসবাসের ফলেই পারিবারিক সুখের উদয় হয়। এইজন্যই পরিবার নামক কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। সাধারণভাবে প্রেমের অর্থ এই যে কারোর সান্নিধ্য পেয়ে যখন সুখ প্রাপ্তি হতে থাকে এবং ক্রমাগত বসবাস করার ইচ্ছে জাগ্রত হতে থাকে। এমনটি হলে বুঝতে হবে প্রেমের সম্বন্ধ তৈরি হচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত ইচ্ছে থাকবে ততক্ষন অবধি প্রেমের সুখও যেন প্রাপ্তি হতে থাকে। এইরকম আকর্ষণকেই প্রেম বলা হয়।
আর্থিক বিষয়টির ব্যাখ্যা পূর্বেই করা হয়েছে। প্রথমত, উভয়পক্ষ আর্থিক দিক দিয়ে স্বতন্ত্র এবং আত্মনির্ভরশীল হলে পরস্পরের মধ্যে অহংকার বা হিংসার কারণ উৎপন্নই হবে না। এরজন্য নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের মানমর্যাদা এবং সমস্ত কর্মের মুল্যাংকন একসমান থাকা উচিত। একটি পূর্ণাঙ্গ সমাজ নির্মাণের জন্য সকল স্তরের মানুষের যোগদান প্রয়োজন হয়। ফলে সকল প্রকার কর্মীর মুল্যাংকনও একসমান থাকা উচিত। একজনের জন্য ৫০০০ এবং অপরজনের জন্য ৫ লাখ, এটি অন্যায়। দ্বিতীয়ত, ম্যাচিং সঙ্গী-সঙ্গিনীর বিষয়টি। পছন্দসই সঙ্গী-সঙ্গিনী বা জীবনসাথী পেলে মতভেদের বিষয়টি গুরুত্বই পাবে না। মূলত আর্থিক বৈষম্যের বাধাটি নির্মূল হয়ে গেলে, অর্থাৎ প্রতিটি নারী-পুরুষ আত্মনির্ভরশীল হলে গোপন অভিসন্ধির দ্বিধা নিয়ে সম্পর্কে জড়ানোর কোনো কারণ থাকবে না। বরং নিজেদের সম্মতিতেই সম্পর্ক তৈরি হবে। বাধ্যবাধকতাবিহীন সম্পর্কের মধ্যেই বাস্তবিক প্রেম থাকে, যা কেবলমাত্র পরস্পরের সম্মতির উপর নির্ভর করে। যদি সম্পর্কের বিজ্ঞানকে বুঝতে চাই তাহলে জানা যাবে যে, আমরা নানারকম সম্বন্ধ থেকে ভিন্ন ভিন্ন সুখ পাবার জন্যই সম্পর্ক তৈরি করে থাকি। সম্পর্কের সুখ আমরা এমনতর পরিবেশ থেকেই পূর্ণরূপে গ্রহণ করতে পারি যেখানে কোনো প্রকার বাধ্যবাধকতা থাকে না। আমাদের সম্পর্ক শুধুমাত্র সেইসব সুখ উপভোগের জন্যই তৈরি হোক যার জন্য আমরা সম্পর্ক স্থাপন করতে চাই। সঠিক সম্পর্ক কেবলমাত্র তখনই সম্ভব হবে যখন পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ অথবা প্রেমের অনুভব থাকবে। অপরদিকে স্ত্রী-পুরুষ সকলে আর্থিক দিক দিয়ে স্বতন্ত্র হলে একে অপরের প্রতি কেউ মালিকানা মনোভাব দেখাবে না। তখন একে অপরের সাথে থাকার একটিই কারণ এবং একটিই প্রয়োজন থাকবে তা হল বাস্তবিক প্রেম। সম্পর্কের কোনো সময়সীমা থাকা উচিত নয়। যতদিন প্রেম রয়েছে একসাথে থাকবে। যখন প্রেম সমাপ্ত সম্পর্কও সমাপ্ত। যখন সম্পর্ক সমাপ্ত সহাবস্থানও সমাপ্ত। শুধুমাত্র যার সাথে প্রেম অনুভব হবে তার সাথে জীবন কাটাবে। ফলে কোনো সমস্যা ছাড়াই সকলের জীবন সুখপূর্ণভাবে চলতে থাকবে।
সম্পর্ক যখন প্রত্যক্ষ বা অপ্রত্যক্ষভাবে বাধ্য হয়ে তৈরি হয় তখন সেইসব সম্পর্ক দাসত্বের জন্ম দেয় এবং বন্ধন তৈরি করে। সন্তুষ্টি প্রদান করে না। সুতরাং এই বিষয়টি মানুষকেই নিশ্চিত করতে হবে যে সে কার সাথে, কেমনভাবে, কতটুকু এবং কতদিন সম্পর্ক রাখতে চায়। এই বিষয়টিকে অত্যন্ত্য গুরুত্বসহ দেখা উচিত যেন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কেউই অপরের উপর বাধ্য না থাকে। যদি কোনো সম্পর্ক থেকে কেউ বেরিয়ে যেতে চায় তবে অপরপক্ষ যেন স্বাভাবিকভাবেই তা স্বীকার করে নিতে পারে। কোনো প্রকার আইনি জটিলতা যেন না থাকে। এমনটি হলে সে অপরকে দুঃখী করে তুলবে অথবা নিজেও সুখী হতে পারবে না। তবেই আমাদের সম্পর্কগুলি সার্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে। কোনো একটি সম্বন্ধ সমাপ্ত করতে তখনই অসুবিধে হয় যখন আমাদের কাছে কোনো বিকল্প থাকে না। যেহেতু এই পরিবর্তনশীল সংসারে আমাদের রুচি প্রতিনিয়ত বদলাতে থাকে সেইজন্য সবকিছুই যদি পরিবর্তনশীল রাখা যায় তবেই অধিক সুখময় হবে। অর্থাৎ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিরন্তর পরিবর্তনশীল থাকা উচিত। বিশেষ করে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তো অধিক সংবেদনশীল থাকা উচিত যেন একে অপরের প্রতি উদাসীনতা পরিলক্ষিত না হয়। উদাসীন থেকেও যদি আমরা সম্পর্ক ধরে রাখি অথবা অপরজনকে বাধ্য করে থাকি তবে এটিই বুঝে নিতে হবে আমরা আসলে দুঃখকেই নিমন্ত্রণ করছি। দুটি সমস্যারই মূল কারণ এবং স্থায়ী সমাধান আমাদের কাছে থাকলেও বর্তমান ব্যবস্থায় তা সম্ভব নয়। কারণ ১০০% জনগণের জন্য শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, সুখসুবিধা, সুরক্ষার একসমান সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা প্রথমে নির্মাণ করা চাই। অর্থাৎ সকলের মিলিত উদ্যোগে নতুন এবং বিকল্প ব্যবস্থার চিন্তন মনন আবশ্যক।
আমরা ‘সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থা’ নামক একটি নতুন এবং বিকল্প ব্যবস্থার খোঁজ পেয়েছি যেখানে সমস্যার মূল কারণ শনাক্ত করে স্থায়ী সমাধান উপস্থাপন করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় সকলের জন্য শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, সুখসুবিধা এবং সুরক্ষার একসমান সুযোগসুবিধা তথা পছন্দ অনুযায়ী জীবনযাপনের দিকটি সুনিশ্চিত করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় পছন্দ অনুযায়ী ম্যাচিং সঙ্গী-সঙ্গিনী খুঁজে পাবার সমস্যাটিকেও নির্মূল করা হয়েছে। যেখানে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত প্রোফাইল থাকবে। এই প্রোফাইলের মাধ্যমে সম্পর্ক সূচনার পূর্বেই প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ পছন্দের বিষয়গুলি মিলিয়ে নিতে পারবে এবং আলোচনা করে নিতে পারবে। যেহেতু নতুন ব্যবস্থায় কোনো নাগরিকই একে অপরের উপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল থাকবে না ফলে গোপন অভিসন্ধি বা ঠকে যাওয়ার বিষয়টি আর প্রাধান্য পাবে না। ইচ্ছে-অনিচ্ছে এবং পছন্দ-অপছন্দদের বিষয়টিই প্রাধান্য পাবে। এর ফলে যার সাথে ম্যাচ করবে কেবলমাত্র তার সাথেই প্রেম হবে। একজন অপরজনের সাথে বন্ধুত্ব বা সম্পর্ক তৈরির উদ্দেশ্যটি আগাম বুঝতে পারবে। একজন অপরেজনের উপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল না থাকলে কেউ অতিরিক্ত কিছু পাওয়ার আশায় সম্পর্ক করবে না। ফলে ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা, নিরাপত্তাহীনতা বা ভয়ের অবকাশ থাকবে না। প্রেম বা বৈবাহিক সম্পর্ক ছাড়াও অন্যান্য পারিবারিক সম্বন্ধগুলিও নতুন করে ম্যাচিং ব্যক্তির সাথে তৈরি করে নিতে পারবে। নতুন ব্যবস্থায় পরিবারের প্রতিটি সদস্য সরাসরি ব্যবস্থার সাথে সংযুক্ত থাকবে। এই ব্যবস্থা শিশু-বৃদ্ধ, যুবক-যুবতী, স্বামী-স্ত্রী, প্রতিবন্ধী-অসুস্থ্য এবং তৃতীয় লিঙ্গসহ সকলের জন্য প্রয়োজনীয় বস্তু/পরিষেবা বিনামূল্যে প্রদান করবে। শর্ত এটিই থাকবে যে ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী প্রতিটি সুস্থ্য নাগরিককে পছন্দ এবং যোগ্যতা অনুযায়ী একটি জীবিকা সম্পাদন করতে হবে। এই ব্যবস্থায় সকলের জন্য অত্যাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা বিনামূল্যে থাকবে। অসুস্থ্য এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দেখভালের জন্যও নির্দিষ্ট ব্যবস্থা থাকবে। কেউই একে অপরের উপর বোঝা হয়ে থাকবে না। এমনকি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা অথবা নিরাপত্তাজনিত সমস্যা থাকবে না। ফলে সমস্ত সম্বন্ধ প্রেমের আধারেই নির্মিত হবে। প্রথমত, ম্যাচিং না হলেও একসাথে থাকতে হবে এমনতর বাধ্যবাধকতা থাকবে না। দ্বিতীয়ত, কেউ সহিংসতার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হবে। অপরাধীর জন্য উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে। এমনকি ব্যবস্থা থেকে বরখাস্তও হতে পারে। একে তো হিংসার কোনো কারণ থাকবে না, তারপরও যদি কেউ নেতিবাচক কর্মে লিপ্ত হয় অথবা অপরের জন্য অসুবিধার সৃষ্টি করে তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে পরিগণিত হবে। নতুন ব্যবস্থায় বিচার ব্যবস্থারও আমূল পরিবর্তন করা হয়েছে। সম্পূর্ণ নতুন এবং বিকল্প এই ব্যবস্থায় মোট ছ’টি নতুন মডেল উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রথমতঃ “নতুন অর্থনৈতিক মডেল”– যেখানে আর্থিক দুর্নীতির সমস্যাটিকে গোঁড়া থেকেই নির্মূল করা হয়েছে। লেনদেনের জন্য মুদ্রার ব্যবহার রাখা হয়নি। কারণ বর্তমান ব্যবস্থায় মুদ্রার বিনিময় দুর্নীতিকে পক্ষপাতিত্ব করে থাকে। যা মানবীয় অধিকার প্রদানে বাধা উৎপন্ন করে। মুদ্রা দ্বারা আমরা মূলত বস্তু এবং পরিষেবা ক্রয় করে থাকি। নতুন ব্যবস্থা মুদ্রার পরিবর্তে জন্মগতভাবেই সকল নাগরিককে প্রয়োজনীয় বস্তু এবং পরিষেবা বিনামূল্যে প্রদান করবে। পরিবর্তে ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী সমস্ত সুস্থ্য নাগরিককে পছন্দের একটি জীবিকা বা কর্ম সম্পাদন করতে হবে সেকথা পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন অর্থনৈতিক মডেল নির্মাণের ফলে আর্থিক দুর্নীতির সমস্যাটি গোঁড়া থেকেই নির্মূল করা হয়েছে।
দ্বিতীয়তঃ “নতুন রাজনৈতিক মডেল”– যেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতা বর্তমান ব্যবস্থার মত পাঁচ বছরে একবার নয় বরং ২৪ ঘণ্টা এবং ৩৬৫ দিনই জনগণের কাছে নিহিত থাকবে। কোনো নেতা-নেত্রী অথবা পদাধিকারীর ব্যর্থটা প্রমাণিত হলে নাগরিকবৃন্দ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যে কোনো সময় সরাসরি ভোটাধিকার এবং সন্তুষ্টি রেটিং প্রয়োগ করে সেই ব্যক্তিকে পদচ্যুত করতে পারবে।
তৃতীয়তঃ “নতুন সামাজিক মডেল”– এটি নগরীয় ব্যবস্থা। যেখানে সমস্ত প্রকার সামাজিক সুখসুবিধা সকল নাগরিকের জন্য বরাদ্দ থাকবে। যেমন আধুনিক সুবিধাযুক্ত আবাস, সড়ক, বিদ্যুৎ, জল, বিদ্যালয়, গবেষণাগার, লাইব্রেরী, হাসপাতাল, পার্ক, স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, জিম, ক্লাব, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।
চতুর্থতঃ “নতুন শিক্ষানীতি”– যেখানে সমস্ত প্রকার শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ সকল শিক্ষার্থীর জন্য সরকারীভাবে বিনামূল্যে বরাদ্দ থাকবে। সাধারণ পাঠ্যক্রমে চারটি বিষয় পড়ানো হবে। ভাষা, গণিত, সংজ্ঞান এবং দর্শন। যা সকল শিশুর ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটাবে। ভাষা মনের বিকাশ ঘটাবে, গণিত বুদ্ধির বিকাশ ঘটাবে, সংজ্ঞান চিত্ত বা বোধশক্তির বিকাশ ঘটাবে, দর্শন অহংকারের বিকাশ ঘটাবে। জীবনযাপনের নানা ব্যবহারিক দিক ছাড়াও যৌনতার উৎস, কারণ, ফলাফল ইত্যাদি বিষয়েও শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট বয়সে অবগত হয়ে যাবে। ফলে সম্পর্কের বিষয়টি কারোর মনে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব উৎপন্ন করবে না। শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ সমাপ্তির পর সকল শিক্ষার্থীর জন্য একটি জীবিকা সুনিশ্চিত থাকবে। অর্থাৎ নতুন ব্যবস্থায় ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী সুস্থ্য নাগরিককে পছন্দ এবং যোগ্যতা অনুযায়ী একটি জীবিকা সম্পাদন করতে হবে।
পঞ্চমতঃ “নতুন পারিবারিক মডেল”– যেখানে পরিবারের একজন সদস্য অপর সদস্যের উপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল থাকবে না। ফলে স্বাভাবিকভাবে সকলের সাথে সম্বন্ধ মধুর থাকবে। এবিষয়ে উপরে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
ষষ্ঠতঃ “নতুন জীবন দর্শন”। জীবনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সুখী হওয়া। কেন সুখী হওয়াই মূল উদ্দেশ্য? অন্য কিছু নয় কেন? এইসব বিষয় ছাড়াও জীবন কি, জীবন কেন, নতুন ব্যবস্থা কেন প্রয়োজন ইত্যাদি বিষয়গুলির স্পষ্ট ব্যাখ্যা মানুষের মূল স্বভাব অনুযায়ী করা হয়েছে। এই দর্শন এতটাই সহজ যে আপনি নিজ জীবনের সাথে মিলিয়ে সুনিশ্চিত করে নিতে পারবেন। অনেকে সম্পূর্ণ সমাধানের তত্ত্বকে সমাজবাদ এবং সাম্যবাদের সাথে তুলনা করেন। এক্ষেত্রে উল্লেখ করা আবশ্যক যে ‘সম্পূর্ণ সমাধান’ এবং ‘সম্পূর্ণ জীবন দর্শন’ পুস্তক দুটি অধ্যয়ন করলে স্পষ্টতই বুঝে যাবেন যে এই তত্ত্ব পূর্বের তত্ত্বগুলির তুলনায় সম্পূর্ণ পৃথক। এই পুস্তক দুটি দার্শনিক প্রেমজীৎ সিরোহী মহাশয়ের দীর্ঘ ২৫ বছরের গবেষণা এবং অভিজ্ঞতার ফসল। আমরা বরং সম্পূর্ণ সমাধানের তত্ত্বকে ‘ব্যক্তিবাদ’ বলে আখ্যায়িত করতে পারি। কারণ এই তত্ত্ব ব্যক্তিকে পছন্দের শিক্ষা, পছন্দের ট্রেনিং, পছন্দের জীবিকা, পছন্দের সুখসুবিধা এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষাসহ পূর্ণ স্বাধীনতা তথা পছন্দসই জীবন যাপনের দিকে অগ্রসর হয়ে নতুন ভবিষ্যতের নতুন নাগরিক হিসেবে উপস্থাপন করেছে। যে কোনো সরকার নাগরিককে পছন্দের সুখসুবিধা উপভোগ করার সুযোগ সুবিধা প্রদান করলে কে হিংসা করবে, কে দাঙ্গা-হাঙ্গামা করবে, কে দুর্নীতি করবে, কেই বা অপরাধ করবে? নতুন ব্যবস্থায় শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ্য এবং প্রতিবন্ধীদের জন্যও সমান অধিকার এবং সমস্ত সুখসুবিধা প্রদান করা হয়েছে। এমনকি তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের জন্যও শিক্ষা, জীবিকা, সুখসুবিধা উপভোগ করার সমান অধিকার প্রদান করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় মানব সম্পদ, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং প্রযুক্তির মেলবন্ধনে নতুন পরিকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। যেখানে চাহিদা, উৎপাদন এবং বিতরণ প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হবার সম্ভাবনা নেই। যেখানে প্রতিটি নাগরিক পছন্দসই জীবনযাপনের পূর্ণ স্বাধীনতা উপভোগ করবে।
নতুন ব্যবস্থার পরিকাঠামো এমন করেই নির্মাণ করা হয়েছে যে এটি প্রতিষ্ঠিত করতে কোনো আন্দোলন, মিছিল, ধর্না, অভিযোগ, হিংসা, সংঘর্ষ ইত্যাদির প্রয়োজন পড়বে না। এই ব্যবস্থা ধর্ম, বর্ণ, সংস্কৃতি নির্বিশেষে সমস্ত বর্গের মানুষের জন্যই উপযুক্ত। নতুন ব্যবস্থা বিষয়ক সমস্ত তথ্য এবং এই ব্যবস্থা কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত রূপরেখা 'সম্পূর্ণ সমাধান' পুস্তকে বর্ণনা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই পুস্তক হিন্দি, ইংরেজি, রাশিয়ান এবং বাংলা ভাষায় উপলব্ধ হয়ে গিয়েছে। অন্যান্য ভাষাতেও অনুবাদের কাজ চলছে। সকলের অধ্যয়নের সুবিধার্থে এই পুস্তকের E-BOOK বিনামুল্যে প্রদান করা হয়েছে। এর বাইরেও ULM Hindi/ULM Bangla/ULM English/ULM Russian সহ অন্যান্য ইউটিউব চ্যানেলগুলিতেও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এবং বহু ব্যাক্তির সাথে আলোচনার অডিও-ভিডিও রয়েছে। যা সকলের জন্য উপলব্ধ। সমস্ত লিংক নিন্মে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া জীবন সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে “সম্পূর্ণ জীবন দর্শন” পুস্তকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এটির বাংলা অনুবাদের কাজ চলছে।
বিষয়বস্তুর অধিক স্পষ্টতা, প্রশ্ন উত্তরের মীমাংসা, পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ULM Bangla নামে একটি মুক্ত মঞ্চ রয়েছে। যেখানে লাইভ আলোচনা সম্প্রচার হয়ে থাকে। অর্থাৎ আপনি যে স্থানে রয়েছেন সেই স্থান থেকেই অনলাইন অনুষ্ঠানে যুক্ত হতে পারবেন। আপনি প্রশ্নকর্তা হয়ে অথবা বক্তা হয়ে আপনার মতবাদ উপস্থাপন করতে পারবেন। এই মঞ্চ সকলের জন্য উন্মুক্ত।
'সম্পূর্ণ সমাধান' নামক বিকল্প নতুন ব্যবস্থা বিষয়ক পুস্তকটির E-BOOK বিনামূল্যে ডাউনলোড করুন অথবা 9830925502 নম্বরে WhatsApp করুন-
‘Sampurna Samadhan’ FREE E-Book, Download Link (Hindi, English, Russian and Bengali):
সম্পূর্ণ সমাধান পেপারবুক Amazon Link:
সম্পূর্ণ সমাধান পেপারবুক Flipkart Link:
Subscribe ULM Bangla YouTube Channel:
Hindi Facebook Page
Hindi YouTube Channel:
ULM Bangla/ULM Hindi/ULM English/ULM Russian ইউটিউব চ্যানেলের মুক্ত মঞ্চে বক্তা হিসেবে এবং উন্মুক্ত আলোচনার জন্যও সকলের সাদর আমন্ত্রণ: 98309 25502.
#নতুন_ব্যবস্থা,
#New_System,
#ব্যবস্থা_পরিবর্তন,
#Unemployment,
#FinancialSecurity,
#Poverty,
#Education,
#Jobs,
#Health,
#Happiness,
#Love,
#Satisfaction,
#Security,
#Unity,
#Cooperation,
#Sampurna_Samadhan,
#ULM_Bangla,
#ULM_Hindi,
#ULM_English,
#ULM_Russian,
#Universal_Life_Management,
#সম্পূর্ণ_সমাধান,
#সম্পূর্ণ_সমাধান_ব্যবস্থা,
#Byabastha_Parivartan,
#System_Change,
#व्यवस्था_परिवर्तन,
#PremjeetSirohi,
#SukantaPradhan,
#MadhabRanjanSarkar ***
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন