ব্যক্তিত্ব এবং পছন্দ-অপছন্দজনিত বিভিন্নতার মূল কারণ কী? এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান কী?
চার প্রকার ব্যক্তিত্ব
প্রকৃতিগতভাবেই প্রতিটি মানুষের মধ্যে
ভিন্নতা থাকে। রং-রূপ, পছন্দ-অপছন্দ, ইচ্ছে-অনিচ্ছসহ সমস্ত দিক দিয়েই একটি মানুষ অপর একটি
মানুষের তুলনায় ভিন্ন প্রকৃতির হয়ে থাকে। অনেকে এই মত-মতান্তরকে
সমস্যা হিসেবে দাবী করেন, অনেকে বিভিন্নতার বিষয়টিকে মানুষের
স্বাভাবিক প্রবৃত্তি বলে আখ্যায়িত করে থাকেন। আমরা এই রচনায় বিষয়টির নানা দিক একত্রিত করে বোঝার
প্রয়াস করব যে,
বিভিন্নতার এই দ্বন্দ্বটি স্বাভাবিক ও সঠিক নাকি গুরুতর সমস্যা, ভিন্নতার মতপার্থক্য সত্ত্বেও মহামিলন সম্ভব কিনা, দেখে
নেব সুনির্দিষ্ট কোনো সমাধানের সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব কিনা। এই রচনাটি মূলত জীবন-দর্শন সম্পর্কিত। যা নিজের
অভ্যন্তরীণ স্বত্বাকে এবং ব্যক্তিত্বকে জানবার আকাঙ্ক্ষাকে উজ্জীবিত করবে। যেমন আমি কে, আমার উদ্দেশ্য কী, আমার ব্যক্তিত্ব কী, আমরা কোন তত্ত্ব দ্বারা নির্মিত
হয়েছি, উক্ত তত্ত্বগুলির মধ্যে কোথায় তারতম্য রয়েছে, মানুষের ভেতর বিভিন্নতার বিষয়টি কীভাবে উৎপন্ন হয় ইত্যাদি। এছাড়াও উত্তর
পাব আরও কিছু অতিরিক্ত বিষয়ের। যেমন, এই সংসার কি শুধুমাত্র জন্ম নেওয়া
এবং মৃত্যুর আশায় বেঁচে
থাকার জন্যই রচিত হয়েছে? দুঃখ এবং সংঘর্ষের মাধ্যমে মৃত্যু প্রাপ্তিই কি জীবনের উদ্দেশ্য? তাহলে
কেন জীবনের সময়কালকে এত দীর্ঘায়িত
করা হয়েছে? এই দীর্ঘ সময়ে তো লাখ বার জন্ম-মৃত্যু হতে পারতো। নাকি জন্ম-মৃত্যুর মাঝে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে? তাহলে মনুষ্য জীবনের মূল উদ্দেশ্য কী রয়েছে? স্বতন্ত্র
ব্যক্তি হিসেবেই বা আমাদের কী উদ্দেশ্য
রয়েছে? আত্মা কেনই বা নিজেকে তিন অবস্থা
দ্বারা (জাগ্রত, স্বপ্ন ও সুষুপ্তি) অভিব্যক্ত করেছে এবং চতুর্থ অবস্থাকেই বা কেন অব্যক্ত রেখেছে? এই চার অবস্থায় নিজেদের কী কী কর্ম রয়েছে এবং এসবের মধ্যে
পারস্পরিক সম্বন্ধ কীরূপ রয়েছে? কীভাবে এসবের সঠিকভাবে বিকশিত করা যেতে পারে? জীবন
সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে চিন্তন-মনন করার জন্য আপনি ‘সম্পূর্ণ জীবন দর্শন’ (মাত্র ১২৫ পৃষ্ঠা) পুস্তক অধ্যয়ন করতে পারেন। এই পুস্তক অধ্যয়নের মাধ্যমে আপনি এই প্রথমবার জীবন-দর্শনকে নিজ জীবনের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির দ্বারা মিলিয়ে পরীক্ষা করতে পারবেন এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজে সুনিশ্চিত করতে পারবেন। যা এতটাই সরল এবং সাবলীল হবে যা সকলে সহজেই বুঝে নিতে পারবে। এই রচনায় সংক্ষিপ্ত বর্ণনা করা হয়েছে।
আমরা জানি শরীর পাঁচ প্রকারের পদার্থ দ্বারা নির্মিত। আকাশ, বায়ু, অগ্নি, জল এবং পৃথিবী। এই পাঁচ পদার্থকেই পঞ্চতত্ব বলা হয়। ভারতীয় দর্শনে এই পঞ্চতত্ব ‘পঞ্চমহাভূত’ নামেও পরিচিত। যেমন– ক্ষিতি(পৃথিবী), অপ(জল), তেজ(অগ্নি), মরুৎ(বায়ু), বোম্(আকাশ)। এই পঞ্চতত্ব থেকেই সকল বস্তু নির্মিত হয়েছে। জগতের প্রত্যেকটি সৃষ্টিতেই এই পঞ্চতত্ত্বের সমাবেশ রয়েছে। আমাদের শরীরে যে স্থূল তত্ত্ব রয়েছে তা হচ্ছে পৃথিবী, যে দ্রব্য তত্ত্ব রয়েছে তা হচ্ছে জল, যে তাপ রয়েছে তা হচ্ছে অগ্নি, যে বল-শক্তি রয়েছে তা হচ্ছে বায়ু এবং যে শূন্যভাগ রয়েছে তা হচ্ছে আকাশ। সৃষ্টির প্রতিটি অংশ নির্মাণে পঞ্চতত্ত্বের এইসব মূল সামগ্রী সংযুক্ত হয়। আকাশ, বায়ু, অগ্নি, জল এবং পৃথিবীর মধ্যে কোনো একটির ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে সকলের বিনাশ অনিবার্য। যেহেতু আমাদের শরীরও এই পঞ্চতত্ব দিয়েই নির্মিত হয়েছে সেহেতু এই তত্ত্বগুলির মধ্যে কোনো একটির ভারসাম্যহীনতা আমাদের বিনষ্ট করার পক্ষে যথেষ্ট। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখলে আমরা বুঝতে পারব যে, এই মূল তত্ত্বই প্রসারিত হয়ে জগত-সংসারে রূপান্তরিত হয়েছে। যদি এই সংসারের সাথে একটি অতিকায় বৃক্ষের তুলনা করে বলা যেতে পারে আমরা সকলে একটি বৃক্ষের শাখাপ্রশাখা, পাতা, ফুল, ফল এবং বীজ। অর্থাৎ আমরা যেন সকলে একে অপরের সাথে কোনো না কোনো দিক দিয়ে জুড়ে রয়েছি। যদি মূল শিকড়ের খোঁজ করা যায় তবে জানা যাবে সকলের উৎসস্থান একই। এতে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, মূলে আমরা সকলে এক এবং উপরের দিকে বিভিন্ন। তাহলে গোঁড়াতে এক হলে সকলের মূল ইচ্ছেও তো একই হবে। দ্বিতীয় কিছু তো হতে পারে না। সেই ইচ্ছেটি হচ্ছে সর্বদা সুখী অবস্থায় থাকা। সহজ করে বললে সুখী হওয়াই জীবনের মূল উদ্দেশ্য। অর্থাৎ আমাদের সকল কর্মকান্ডের পেছনে রয়েছে সুখ উপভোগের আকাঙ্ক্ষা। অন্যদিকে পঞ্চতাত্ত্বিক উপাদানগত তারতম্যই হচ্ছে প্রত্যেকের পছন্দ-অপছন্দজনিত বিভিন্নতার মূল কারণ। এই মূল তত্ত্ব জন্মগতভাবেই নির্দিষ্ট হয়ে থাকে। এই বিভিন্নতা বা তারতম্য কোনো সমস্যাও নয়। মূল সমস্যা হচ্ছে রং-রূপ, পছন্দ-অপছন্দ, জাতি-ধর্ম-বর্ণ-ভাষা-সংস্কৃতি নির্বিশেষে সকলের জন্য শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, সুখসুবিধা এবং সুরক্ষার একসমান সুযোগসুবিধা তথা পছন্দ অনুযায়ী জীবনযাপনের বন্দোবস্ত না থাকাটা। একইসাথে সকল কর্ম এবং কর্মীর মুল্যাঙ্কনের তারতম্যও অন্যতম মূল কারণ। সুতরাং মানুষের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই কারণ সকলের উদ্দেশ্য এক, সমস্যা হচ্ছে বাইরের অবস্থা-ব্যবস্থা তথা সঠিক পরিকাঠামো না থাকাটা।
এ তো গেল তত্ত্বগত উপাদানের কথা। অর্থাৎ যাকে আমরা জড় উপাদানও বলে থাকি। আমাদের রুচি, পছন্দ-অপছন্দ অথবা বিভিন্নতার মূলে আরেকটি বিষয়ের সমাবেশ রয়েছে। তা হচ্ছে অন্তঃকরণ চতুষ্টয়। জন্মগতভাবেই সকলের অন্তঃকরণ প্রাপ্ত হয়ে যায়। অন্তঃকরণ চতুষ্টয় হচ্ছে মন, বুদ্ধি, চিত্ত এবং অহংকারের সম্মিলিত রূপ। মনের ভেতর চিন্তন-মনন করার শক্তি থাকে। বুদ্ধির ভেতর সিদ্ধান্ত নেবার শক্তি থাকে। চিত্তের ভেতর ধারণ করার শক্তি থাকে। আর অহংকারের ভেতর জ্ঞান অর্জনের শক্তি থাকে। আমি কে, আমি কী প্রকারের, আমার পছন্দ-অপছন্দ, কর্ম, ইচ্ছে-অনিচ্ছে ইত্যাদি অন্তঃকরণ চতুষ্টয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। বলা যায় অন্তঃকরণ চতুষ্টয় হচ্ছে অপর একটি মূল তত্ত্ব। অন্তঃকরণ চতুষ্টয় বিকশিত করার জন্য উপযুক্ত শিক্ষার প্রয়োজন হয়। উপযুক্ত শিক্ষা প্রসারের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা নির্মাণ করা আবশ্যক যেন অর্থনৈতিক সুখসুবিধার অভাবে কোনো শিক্ষার্থীই পছন্দের শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ-গবেষণার জন্য বঞ্চিত না হয়।
সুখ-দুঃখ, রূপ-রস, গন্ধ-বর্ণ ইত্যাদি বিষয় অনুভবের জন্য; অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক কর্ম সম্পাদনের জন্য আমাদের শরীরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ রয়েছে। যা জন্মাবস্থা থেকেই আমাদের মধ্যে রয়েছে। সাতটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ (মাথা, উভয় কাঁধ থেকে হাত, বুক, পেট এবং উভয় নিতম্ব থেকে পা পর্যন্ত), উনিশটি মুখ; যথা– পাঁচ জ্ঞানেন্দ্রিয় (চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা এবং ত্বক), পাঁচ কর্মেন্দ্রিয় (বাক্/বাণী, পাণি/হাত, পাদ/পা, পায়ু/মলদ্বার এবং উপস্থ/মুত্রদ্বার), পাঁচ প্রাণ (প্রাণ, অপান, উদান, সমান এবং ব্যান) এবং অন্তঃকরণ চতুষ্টয় (মন, বুদ্ধি, চিত্ত এবং অহংকার)। বিভিন্ন প্রকার বিষয় অনুভব করার জন্য অন্তঃকরণ চতুষ্টয় এবং পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয়ই মূল কর্ম সম্পাদন করে থাকে। এইসকল অঙ্গ যাদের সুস্থ্য রয়েছে তাঁরা সমস্ত প্রকারের বিষয়বস্তু অনুভব করতে পারে। কর্মেন্দ্রিয়ের মাধ্যমে আমরা শরীরের আভ্যন্তরীণ কর্ম এবং বাহ্যিক কর্ম সম্পাদন করে থাকি। মানব শরীরের সাতটি অঙ্গ ও উনিশটি মুখকে সুস্থ্য রাখা আবশ্যক। জ্ঞান, ক্রিয়া এবং উপভোগের জন্য এইসব প্রয়োজন। ওইসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যদি অস্বাস্থ্যকর হয় তাহলে আমরা সুখী জীবন ব্যতীত করতে পারব না।
উপরে উল্লেখিত বিবরণগুলি থেকে জানা যায়, প্রতিটি সুস্থ্য মানুষ অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক দিক দিয়ে এক, কিন্তু রুচি ও পছন্দ-অপছন্দের দিক দিয়ে ভিন্ন। এই বিভিন্নতার কারণগুলিও উপরে বর্ণনা করা হয়েছে। পঞ্চতাত্ত্বিক সংমিশ্রণজনিত তারতম্যের ভিত্তিতে মনুষ্য ক্ষমতা, যোগ্যতা, কুশলতা, গুণাগুণ এবং রুচি অনুযায়ী ভিন্ন-ভিন্ন হবে এমনটিই স্বাভাবিক নিয়ম। মনুষ্য ক্ষমতা, যোগ্যতা, কুশলতা, গুণাগুণ এবং রুচি অনুযায়ী জন্মগতভাবেই চার শ্রেণীর হয়ে থাকে। যথা– শারীরিক স্তরের, মানসিক স্তরের, ভাবনাত্মক স্তরের এবং চেতনাত্মক স্তরের। এই চার স্তরের মনুষ্যের কর্মও চার শ্রেণীর হয়ে থাকে। কর্মের পছন্দ-অপছন্দজনিত বিভিন্নতা প্রকৃতিগতভাবেই মনুষ্যের মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে। এই বিভিন্নতা সমাজের জন্য অপরিহার্যও বটে। এতে কাউকেই দোষারোপ করা যায় না। যেহেতু সমাজে সকল প্রকার কর্মের জন্য সকল প্রকার কর্মীর প্রয়োজন হয় সেহেতু সকলের মান-মুল্যাংকনও একইরকম থাকা উচিত। অর্থাৎ একজনের পারিশ্রমিক ৫ হাজার এবং অপরজনের ৫ লাখ হবে এমনটি অন্যায়। এই অন্যায়ের কারণেই হাজার রকম বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের জন্য সকলের মিলিত উদ্যোগে একটি নতুন, বিকল্প এবং পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করা উচিত। যেন সকল নাগরিক ক্ষমতা, যোগ্যতা, কুশলতা, গুণাগুণ ও রুচি অনুযায়ী জাতি-ধর্ম-বর্ণ-ভাষা-সংস্কৃতি নির্বিশেষে শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, জীবিকা, সুখসুবিধা এবং সুরক্ষার একসমান অধিকার পেতে পারে। চার প্রকার কর্মের বিবরণ নিন্মে উল্লেখ করা হল।
যথা– শারীরিক স্তরের, মানসিক স্তরের, ভাবনাত্মক স্তরের এবং চেতনাত্মক স্তরের।
শারীরিক স্তরের মনুষ্য (ব্যক্তিগত)
শারীরিক স্তরের যোগ্যতা প্রধান ব্যক্তিরা কৃষিকর্ম, পশুপালন, দুগ্ধ উৎপাদন, উদ্যান নির্মাণ ইত্যাদি কর্ম সম্পাদন করবে।
মানসিক স্তরের মনুষ্য (পারিবারিক)
মানসিক স্তরের যোগ্যতা প্রধান
ব্যক্তিরা উৎপাদনশিল্প, বস্তু ও পরিষেবা, বিভিন্ন প্রকার সুখসুবিধার প্রবন্ধন এবং নির্মাণ সংক্রান্ত
কর্ম যেমন সড়ক, জল, বিদ্যালয়, আবাস, বিদ্যুৎ, পার্ক, স্টেডিয়াম, ক্লাব ইত্যাদি
কর্ম সম্পাদন করবে।
ভাবনাত্বক স্তরের মনুষ্য (সামাজিক)
ভাবনাত্বক স্তরের যোগ্যতা প্রধান ব্যক্তিরা জনসেবা, প্রশাসনিক কর্ম, ন্যায়বিচার সংক্রান্ত
কর্ম, চিকিৎসা, সুরক্ষা ইত্যাদি কর্ম সম্পাদন করবে।
চেতনাত্বক স্তরের মনুষ্য (সমষ্টিগত)
চেতনাত্বক স্তরের যোগ্যতা প্রধান ব্যক্তিরা নেতৃত্ব কর্ম, অধ্যাপনা, গবেষণা, অনুসন্ধান, আইন এবং নীতিনিয়ম প্রণয়ন, বিভিন্ন প্রকার ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কর্ম সম্পাদন করবে।
উপরোক্ত তথ্যাবলী অনুযায়ী আমরা বলতেই পারি একজন সুস্থ্য মানুষের রং-রূপ-গঠন, পছন্দ-অপছন্দ, বাহ্যিক কিংবা অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে সংশোধন করার মত কিছুই নেই। সকলকে রুচি এবং যোগ্যতা অনুযায়ী সমান সুযোগ-সুবিধা প্রদান করাটাই হবে মূল এবং স্থায়ী সমাধান। সকলেই যেন নিজেকে বিকশিত করবার এবং পছন্দ অনুযায়ী জীবনযাপন করবার পরিপূর্ণ সুযোগ-সুবিধা পেতে পারে। অর্থাৎ সকলের জন্য শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, জীবিকা, সুখসুবিধা এবং সংরক্ষণের একসমান সুযোগ প্রদানের ব্যবস্থাকে সুনিশ্চিত করা। এমনটি হলে মনস্তাত্ত্বিক বৈষম্যজনিত সমস্যাগুলিও নির্মূল হয়ে যাবে। অর্থাৎ না কেউ কম সম্মানের হবে, না কেউ অধিক সম্মানের হবে। না কেউ ছোটো হবে, না কেউ বড় হবে। তবেই বলা যাবে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতার অধিকার সুরক্ষিত করা হয়েছে। সুতরাং সমস্যার মূল কারণগুলি চিহ্নিত না হলে, মানুষ প্রকৃতিগতভাবে যেমন স্বভাবের তেমন করে ব্যবস্থা নির্মিত না হলে সমস্যা যেখানে রয়েছে সেখানেই থাকবে। কোনো মানুষই জন্মগতভাবে নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে জন্মগ্রহণ করে না। বাহ্যিক অবস্থা-ব্যবস্থা পরিকাঠামোর চাপে বাধ্য হয়েই দুর্নীতির পথে অগ্রসর হয়। এটি ব্যক্তির আভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, বাইরের পরিকাঠামো তথা ব্যবস্থাগত সমস্যা। সুতরাং বলা যায় প্রথমে মুখ্য নীতির পরিবর্তন আবশ্যক। যা বর্তমান ব্যবস্থার পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে সকলের মিলিত উদ্যোগে নতুন এবং বিকল্প ব্যবস্থার চিন্তন-মনন ছাড়া স্থায়ী সমাধানের অন্য কোনো উপায় নেই।
***
পূর্বের বহু ‘তত্ত্বজ্ঞান’ পরম্পরাগতভাবে সমাজে ভেসে বেড়াচ্ছে। সেসব প্রচলিত বিষয় আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান বিকাশের পূর্বে রচিত। সেসবের সিংহভাগ সমাজে প্রয়োগ হয়ে গিয়েছে। উপযোগিতা প্রমাণিত হয়নি। হলেও পুরাকালে প্রয়োজনীয়তা থেকে থাকবে। বর্তমানকালে অপ্রয়োজনীয়। তারপরও মানুষ সেসব প্রচার করে চলেছে। এর কারণ বিকল্প বাস্তবিক সমাধানতত্ত্বের অভাব। তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে জীবনযাপনের প্রায়োগিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়নি। বহু মানুষ সেসব তত্ত্বকে নিজ জীবনে যাচাই না করেও শুধুমাত্র বিশ্বাসবলে প্রচার করে চলেছে। কোনো জ্ঞানতত্ত্বকে কী কারণে সঠিক বলা যায় তা নির্ধারণ করবার পদ্ধতিও রচিত হয়নি। হলেও তা সাধারণের মাঝে প্রচারিত হয়নি, আলোচনা হয়নি। দৈনন্দিন জীবনে ভৌতিক বস্তু কাজের না হলে আমরা যেমন তৎক্ষণাৎ বর্জন করে ফেলি কিংবা প্রয়োজনের বস্তু দ্বারা বদলে ফেলি, জ্ঞানের ক্ষেত্রে তেমন পরম্পরা তৈরি হয়নি। ফলে মানুষ ধরতেই পারে না যে-বিষয়টি জীবনে কাজে আসছে না সেটিকে পুনরায় ‘জ্ঞানতত্ত্ব’ বলা বৃথা। প্রচার করা বৃথা। আলোচনা করা বৃথা। পুস্তক রচনা করা বৃথা। অর্থ, সময়, শ্রম ব্যয় করা বৃথা। এতে সম্মান-অসম্মানের কিছুই নেই। এটি প্রাকৃতিক নিয়ম। মানুষ প্রকৃতি সৃষ্ট, তার ক্ষেত্রেও তো একই নিয়ম প্রযোজ্য।
***
https://drive.google.com/file/d/1rjuHZNuZnuS_vXwqhRi4YmRX8HAbAIud/view?usp=drive_link
“সম্পূর্ণ জীবন দর্শন - সুখী জীবনের অজ্ঞাত সূত্র” পুস্তকটির FREE E-BOOK ডাউনলোড লিংকঃ
https://drive.google.com/file/d/1imrbnKBFqVxH8uHKsK_XPO2MBp5krqrv/view?usp=drive_link
আমাদের প্রয়াস ভালো লাগলে কমেন্ট বক্সে মতামত জানাতে পারেন; লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করতে পারেন।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন