শোষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, শ্লীলতাহানি, ধর্ষণ ইত্যাদি ঘটনাগুলির বিপরীতে অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থা কিভাবে দায়ী?
ইতিপূর্বে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে একটি রচনা লিখেছিলাম। ফেসবুক তৎক্ষণাৎ সেটি সরিয়ে দিয়েছিল। এবার মূল বক্তব্যটি ভিন্নভাবে এবং সংক্ষিপ্ত আকারে উপস্থাপন করছি। হতে পারে এই পোষ্টটিও সরিয়ে দেবে। ধর্মীয় বিশ্বাস এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ দুটি বিষয়ই সরাসরি অর্থশাস্ত্রের সাথে জড়িত। মূলত অসমান অর্থনৈতিক অবস্থার কারণেই মানুষের মধ্যে ভিন্নতা, দ্বেষ, ঘৃণা, হিংসা এবং ষড়যন্ত্রের মানসিকতা জন্ম নেয়। অবস্থা-ব্যবস্থার কবলে পরে কেউ দুর্নীতিতে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য হয়, কেউ করাতে বাধ্য হয়। শোষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, শ্লীলতাহানি, ধর্ষণ ইত্যাদি ঘটনাগুলি তারই বহিঃপ্রকাশ। সকলেই সুখী এবং সমৃদ্ধশালী জীবনযাপন করতে চায়। এরজন্য অবশ্যই আর্থিক সুবিধা থাকা আবশ্যক। সমস্যা হচ্ছে আর্থিক সুবিধা ভোগের অধিকার বরাবর ১০% মানুষের কাছেই রয়েছে, যাদের মধ্যে নেতা-মন্ত্রী এবং ধর্মগুরুরাও রয়েছেন। লাভের কথা ভেবে স্বাভাবিকভাবে তারা ক্ষমতা-সুবিধা ধরে রাখতে চাইবে। আবার তাদের কাছে এমন কোনো সমাধানও নেই যার দ্বারা ৯০% দরিদ্র এবং অসহায় মানুষকেও একইরকম সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে তারা স্বপ্ন দেখানোর বিষয়টিকেও হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগায়। একদিকে ধর্মগুরুরা স্বর্গসুখ বা জান্নাতের স্বপ্ন দেখায়, অপরদিকে রাজনৈতিক নেতা-মন্ত্রীরা বাস্তবিক জীবনে সুখসুবিধার স্বপ্ন দেখায়। মজার কথা দুটো স্বপ্ন কোনোদিন সফলতার মুখ না দেখলেও জনতা কিন্তু ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শ রক্ষায় সর্বদা উদ্যত। অনেকটা দাবা খেলার মতন। যারা খেলে তারা সুখসুবিধা ভোগ করে, যারা ঘুঁটি সাজে তারা বাক্সবন্দী থাকে। সুতরাং প্রথমেই অর্থনৈতিক সংস্কার আবশ্যক। অর্থনৈতিক সংস্কার বলতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের কাছে আর্থিক সুবিধার সমান অধিকার না থাকলে আপনি যতই উপদেশ, মিটিং, মিছিল, প্রতিবাদ, আন্দোলন, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপ্লব ইত্যাদি ঘটান না কেন; যতই শান্তির বাণী শোনান না কেন, যতবারই ধর্ম এবং রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করুন না কেন সমস্যা যেখানে রয়েছে সেখানেই থাকবে। সকলে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সমৃদ্ধশালী হলে, শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, সুখসুবিধা এবং সুরক্ষার একসমান সুযোগসুবিধা পেলে, সকল কর্মী এবং সমস্ত শ্রমের একসমান মুলাংকন হলে তবেই কেউ কাউকে শোষণ করতে পারবে না, লোভ দেখাতে পারবে না, ব্যবহার করতে পারবে না। এমন অর্থনীতি নির্মাণ করাই হয়নি যেন কাউকেই অপরের উপর নির্ভরশীল না থাকতে হয়। যেন কাউকেই দুর্নীতি করার প্রয়োজন না হয়। এটি ব্যবস্থাগত সমস্যা। ব্যক্তিগত আরোপ-প্রত্যারোপের সমস্যা নয়। শুধুমাত্র শিক্ষাব্যবস্থা এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান বিকাশের জন্যই বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, এই বাজেট কোনো সরকারের কাছে নেই। ফলতঃ সকলের মিলিত উদ্যোগে বিকল্প এবং নতুন ব্যবস্থার চিন্তন-মননই স্থায়ী সমাধান।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন