‘সম্পূর্ণ জীবন দর্শন’ পুস্তক রচনার উদ্দেশ্য কী?

 


‘সম্পূর্ণ জীবন দর্শন’ পুস্তক রচনার উদ্দেশ্যঃ

জীবন দর্শনের অর্থ হচ্ছে এমন এক তত্ত্ব যা সকলের জীবনকে পূর্ণরূপে প্রকাশিত করে দেয়। প্রকাশিত করার অর্থ হচ্ছে এটি আমাদের জীবন সম্পর্কে সমস্তকিছু বিস্তারিতভাবে বলে দেয়। যেমন জীবন কি, জীবনের উদ্দেশ্য কি এবং কিভাবে তা পূরণ হবে। এছাড়াও কি করব, কি করব না, কখন করব, কখন করব না, কিভাবে করব, কিভাবে করব না, আমরা কে, কোথা থেকে এসেছি, কেন এসেছি, এখানে কি করব, কি করব না ইত্যাদি সমস্ত প্রকার প্রশ্নের সমাধান করে দেয়। যে দর্শন প্রতিটি সমস্যার মূলদেশে পৌঁছাতে সাহায্য করবে এবং প্রকৃত সমাধান প্রদান করতে সক্ষম হবে তাকেই সঠিক অর্থে জীবন দর্শন বলা উচিত। যা সকলের জীবনকে সমস্ত দিক দিয়ে ব্যবস্থিত করার পদ্ধতিও বলে দেবে। অথবা আমাদেরকে লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা প্রদান করবে।

আমি এইসকল প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানের এক সফল প্রয়াস করেছি। এবার এই প্রয়াস কতটা সফল হয়েছে সে আপনারা বলবেন। এইসব জানতে পেরে এবং লিখতে পেরে আমি তো সন্তুষ্ট হয়েইছি এমনকি এটিকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াসও করে চলেছি। কেননা নিজে জেনেবুঝে লিপিবদ্ধ করে দেওয়া তো যে কোনো ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব। যা আমি করে দিয়েছি। কিন্তু এটিকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা একজনের পক্ষে সম্ভব নয়। এই পুস্তক অধ্যয়ন করে আপনাদের যদি মনে হয় এটি একটি সঠিক প্রয়াস তবে দয়া করে এটিকে স্থাপন করার কাজে সকলে নিজেদের পছন্দ এবং ক্ষমতা অনুযায়ী অংশগ্রহণ করুন। আপনাদের সকলের সহযোগিতায় এটির উদ্দেশ্য সফল হতে পারে। এছাড়া দ্বিতীয় কোনো উপায় নেই। আর যদি আপনাদের মনে হয় এটি অপ্রয়োজনীয় অথবা আপনারা চান না এটি প্রতিষ্ঠিত হোক তবে তা স্থাপন করার কোনো অর্থ থাকবে না। এমনটি মনে হলেও দয়া করে আমায় জানান। তাহলে আমি এটির জন্য যা কিছু প্রয়াস করে চলেছি তা যেন বন্ধ করে দিতে পারি। যাই মনে হোক না কেন আপনাদের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আমায় অবশ্যই অবগত করাবেন। এটিকে স্থাপন করা বা না করার কারণও জানাবেন। এমনটি করলে আপনাদের কাছে আমি ঋণী থাকব। আপনি যে সিদ্ধান্তই নেবেন তার আধার সম্পর্কে দয়া করে আমায় বিস্তারিত লিখে প্রেরণ করবেন।



আমি ২০ বছর অনুসন্ধান করে এটিই জেনেছি এই জীবন সমস্তপ্রকার সুখ প্রাপ্তির জন্যই নির্মিত হয়েছে। এখানে আমরা সকলেই সেইসব সুখগুলিকে পেতে চাই যাদের ইচ্ছে করে থাকি। আমি অনুসন্ধান করে এটিও জেনেছি যে সমস্তপ্রকার সুখ আমরা সমষ্টিগতভাবেই প্রাপ্ত করতে পারব। ব্যক্তিগতরূপে সম্ভব নয়। ব্যক্তিগতরূপে আমরা যেনতেন প্রকারে শুধুমাত্র জীবিত থাকতে পারি। উদাহরণস্বরূপ যেনতেন প্রকারে বর্ষার জলের সাহায্যে আমরা চাষ করতে পারি। যে অঞ্চলে আমরা বসবাস করব সেখানকার জলবায়ু এবং ভূমি অনুযায়ী শুধুমাত্র কিছু পরিমাণ শাকসব্জি অথবা কিছু মাত্রায় ফল উৎপাদন করে উপভোগ করতে পারি। যদি অসুস্থ্য হই তবে নিজেকেই ডাক্তার হতে হবে। কাপড় পরতে চাইলে নিজেকেই তাঁতি হতে হবে। প্রযুক্তির জন্যও নিজেকেই গবেষণা করতে হবে এবং নিজেকেই তা ব্যবহারের উপযোগী করে নিতে হবে। এমনকি অবশেষে ব্যবহারও স্বয়ং নিজেকেই করতে হবে। এর থেকেই স্পষ্ট যে, সকল প্রকার কর্ম আমরা একা একা সম্পাদন করতে পারব না। সুতরাং নিজ ক্ষমতায় আমরা সকল প্রকার সুখ প্রাপ্ত করতে পারব না কেননা সকল প্রকার সুখ উৎপাদন করার জন্য মনুষ্যকে প্রথমে সেই বিষয়ে দক্ষ হওয়া জরুরী। যার জন্য বিদ্যালয় থাকাটা জরুরী। বিদ্যালয়য়ের জন্য পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা জরুরী যেন শিক্ষকরাও শিক্ষা প্রদানের জন্য তৈরি হতে পারেন। এমনকি যা কিছু গবেষণা হয়ে গিয়েছে সেসবের সংকলন, অধ্যয়ন, পুনরায় তুলনামূলক অধ্যয়ন ইত্যাদি জরুরী। এরপরই আমরা কাউকে কোনো বিষয়ে দক্ষ করতে পারব। তারপর সেই ব্যক্তি কোনো বস্তুকে সঠিকভাবে উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। এরপর তা আমাদের কাছে পৌঁছাবে। অর্থাৎ একটি সম্পূর্ণ ব্যবস্থা প্রয়োজন। নইলে এইসব সম্ভব নয়। নিজ উদ্যোগে কেবলমাত্র সামান্য ভোজন জোগাড় করা ছাড়া অন্য কোনো সম্ভাবনা দেখা যায় না।

জীবনের উদ্দেশ্য যে নিজেদের ইপ্সিত সুখকে অবিরত প্রাপ্ত করা তা আমি এই পুস্তকের মাধ্যমে স্পষ্ট করে দেব। সুতরাং সঠিক জীবন দর্শন আমরা তাকেই বলব যার মাধ্যমে আমাদের জীবনের সকল প্রকার সুখ পূরণ করার ক্ষমতা থাকবে। যদি আমাদের জীবনে কোনো সমস্যা এসেও যায় তবে সময় থাকতেই যেন সমাধান করার যোগ্যতা আমাদের ভেতর উৎপন্ন করে দেয়। তাই এই পুস্তক রচনার উদ্দেশ্য এমন এক জীবন দর্শন প্রদান করা যার দ্বারা সকলের জীবন সম্পূর্ণরূপে সুখী হতে পারে এবং নিরন্তর সুখী অবস্থা চলমান থাকতে পারে।

আমি যখন ছোটো ছিলাম তখন থেকেই আমার ভেতর জীবন সম্পর্কিত মূল প্রশ্নগুলির একটি দীর্ঘ তালিকা তৈরি হয়ে গিয়েছিল। যা সময়ের সাথে আরও দীর্ঘায়িত হয়ে চলেছিল। সেসবের মধ্যে প্রথম প্রশ্ন ছিল এই জীবন কেন? অর্থাৎ এই জীবনের উদ্দেশ্য কি? এই যে বিশাল জগৎ যার কোনো দিগন্ত দেখা যায় না, যার কোনো সীমারেখা দেখা যায় না, এর নির্মাণ কি কারণে করা হয়েছে? অর্থাৎ এই বিশাল জগৎ-সংসার নির্মাণের কি প্রয়োজন ছিল? কি উদ্দেশ্য ছিল? আমরা কি কখনও সুখী কখনও দুঃখী হবার জন্যই জন্ম নিয়েছি। অথবা আমরা সকলে কখনও নিজেদের ইচ্ছেমত জীবনযাপন করতে পারব? বর্তমানে উপলব্ধ কোনো দর্শনে আমার প্রশ্নের সন্তুষ্টিজনক উত্তর ছিল না। আমি অনুভব করছিলাম যে ওইসকল দর্শনগুলিতে আমার উত্থাপিত প্রশ্নগুলির উত্তর সম্পর্কে গভীরভাবে বিচার বিশ্লেষণ করা হয়নি। ব্যবহারিক জীবনে আমরা কোনো কর্ম সম্পাদনের পূর্বেই তার উদ্দেশ্য সুনিশ্চিত করি। তারপর সেই কর্মকে এইভাবে এগিয়ে নিয়ে যাই যেন আমরা নিজেদের উদ্দেশ্যকে প্রাপ্ত করতে পারি। কর্ম সম্পাদনের সময়ও এই কথার খেয়াল রাখি যে আমরা পূর্ব নির্ধারিত উদ্দেশ্যের অভিমুখে অগ্রসর হয়ে চলেছি কিনা। প্রতিটি মনুষ্য অল্পবিস্তর এমনটিই করে থাকে। অর্থাৎ সমস্তকিছুর পূর্বে উদ্দেশ্যকেই সুনিশ্চিত করে নেওয়া হয়। এর অর্থ এই যে আমাদের সকল কর্মের কোনো না কোনো উদেশ্য থাকে। একইভাবে দর্শনেরও তো কোনো না কোনো উদ্দেশ্য থাকা উচিৎ। সমাপ্তি অবধি দর্শনই তো জীবনের আধার হিসেবে টিকে থাকে। এটিকে আমরা এমনিই ছেড়ে দিতে পারি না। আর জীবন দর্শন ব্যতীত মনুষ্যের জীবন পশুদের জীবনের চাইতে কি ভিন্ন কিছু হবে? যদি কেউ প্রশ্ন করে জীবন দর্শনের আবশ্যকতা কি? যা বর্তমানে কিছু মনুষ্য বলতে প্রারম্ভ করেছে। এমন প্রশ্ন উত্থাপন করার পেছনেও নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। যদিও মনুষ্য জীবন দর্শনের উদ্দেশ্যকে এইজন্য অস্বীকার করে কেননা বর্তমান সময়ের দর্শনগুলি সকল প্রকার সমাধান প্রদানে ব্যর্থ হয়েছে। তাই মনুষ্যের এমনটি মনে হতে প্রারম্ভ করেছে যে জীবন দর্শনই আবার সকল সমস্যার মূল কারণ নয় তো? এমন হলে তো দর্শনকে অস্বীকার করাটা স্বাভাবিক। প্রিয় বন্ধুরা, এমনটিও হতে পারে হয়তো এখনো অবধি আমাদের কাছে সঠিক জীবন দর্শন আসেইনি। আমাদের পূর্বপুরুষেরা সঠিক জীবন দর্শন রচনার প্রয়াস তো করেছেন কিন্তু এখনো অবধি তা সঠিকভাবে প্রস্তুত করতে পারেননি। আমার মনে হয় তাঁরা দর্শন রচনার অনেক প্রয়াস করেছেন কিন্তু এখনও অবধি এমন একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন দর্শন নির্মাণ করতে পারেননি যার দ্বারা সকলের সমস্ত সমস্যার সমাধান হতে পারে। বহু অনুসন্ধান এবং গবেষণার পর আমি এইরকম একটি জীবন দর্শন রচনার প্রয়াস করেছি। যেন সকলের জীবনের সমস্ত সমস্যা তিরোহিত হয়ে যায়। যেন জীবনে কেবলমাত্র সুখই রয়ে যায়। দুঃখ নয়। সুতরাং জীবন দর্শনের প্রয়োজনীয়তা তো রয়েছে। এই প্রয়োজনীয়তার উপর ভিত্তি করেই আমাদের পূর্বপুরুষেরা নিজেদের বোধ ও ক্ষমতা অনুযায়ী নিজেদের জীবনকালে জীবন দর্শন রচনা করেছিলেন এবং লিপিবদ্ধ করেছিলেন। যদিও এখনো অবধি তা পর্যাপ্ত বা সঠিক বলে প্রমাণিত হয়নি। এইসব ততদিন পর্যন্ত চলতেই থাকবে যতদিন পর্যন্ত একটি সঠিক জীবন দর্শন রচিত না হয়। কোনো বিষয়ের উপর ততদিন অবধি গবেষণা চলতেই থাকবে যতদিন অবধি তা পূর্ণতায় না পৌঁছায়। তাই এ বিষয়ে আমি সহমত পোষণ করি যে আমাদের কাছে জীবন দর্শন থাকা উচিৎ এবং তা পূর্বের তুলনায় উৎকৃষ্ট হওয়া উচিৎ। এবং অবশ্যই দর্শন একটিই হওয়া উচিৎ। তা না হলে বিভিন্ন প্রকার দর্শন সমস্যা উৎপন্ন করে। এই যে মনুষ্য ভিন্ন ভিন্ন পথ অবলম্বন করতে প্রারম্ভ করে দেয় যার কারণে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। অবশেষে তা ছোট থেকে বড় লড়াইয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যা আপনারা নিত্যদিন প্রত্যক্ষ্য করে চলেছেন। আশ্চর্যের কথা এই দর্শন হওয়া উচিৎ জীবনের সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য, উল্টে যা ঘটে চলেছে তা হল দর্শনের নামেই যুদ্ধ সংঘটিত হয়ে চলেছে। চারদিকে বিভিন্ন প্রকার সন্ত্রাসবাদ ঘটে চলেছে। দর্শন যেখানে যুদ্ধকে সমাপ্ত করার জন্য হওয়া উচিৎ সেখানে দর্শন নিজেই যুদ্ধের কারণ সেজে বসে রয়েছে। সেইজন্য আমাদের প্রথমেই যা করা উচিৎ যখন কোনো নতুন জীবন দর্শন আসবে তখন সেই দর্শনকে জনগণের সম্মুখে উপস্থাপন করা উচিৎ এবং তার সমীক্ষা হওয়া উচিৎ। এই উদ্দেশ্য নিয়ে যে নতুন জীবন দর্শন চলমান জীবন দর্শনের চাইতে অধিক উৎকৃষ্ট কিনা। যদি বুঝে নেওয়া যায় তা উৎকৃষ্ট তবে পূর্বের জীবন দর্শনের স্থানে নতুন জীবন দর্শনকে প্রতিস্থাপন করে দেওয়া উচিৎ। এতে যা হবে সর্বদা একটিই জীবন দর্শন চলমান থাকবে এবং নিজেদের মধ্যে মতান্তর ঘটবে না। ফলে যুদ্ধ এবং বিদ্বেষভাব ছড়িয়ে পড়ার যে সম্ভাবনা থাকে তা ঘটবে না। ইতিহাস অধ্যয়ন করে এমনটি জানা যায় না যেখানে নতুন দর্শন রচিত হবার পর তা সেই সময়ের দার্শনিকদের সম্মুখে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সকলে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে বর্তমান জীবন দর্শনের তুলনায় নতুনটি অধিক উপযুক্ত। তবে এটিও ঠিক যে কোনো নতুন জীবন দর্শন তখনই আসবে যখন চলমান জীবন দর্শন আমাদের সম্পূর্ণরূপে সন্তুষ্ট করতে পারবে না। আবার এটিও নিশ্চিত এমনতর অনুসন্ধান ততদিন অবধি চলতেই থাকবে যতদিন আমরা এমন জীবন দর্শন না পাব যার দ্বারা সকলে সমস্ত প্রকার দিক দিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারব।

এরফলে যা হয়েছে পুরাতন জীবন দর্শনও চলমান রয়েছে এবং ধীরে ধীরে নূতন জীবন দর্শন মেনে চলা মনুষ্যও তৈরি হতে প্রারম্ভ করেছে। যেহেতু দুরকম দর্শনের মধ্যে অন্তর রয়েছে সেহেতু মনুষ্যের মধ্যেও মতান্তর প্রারম্ভ হয়েছে। একজনের সাথে অপরজনের জীবন-যাপনের মধ্যে বিভিন্নতার ফলে দুঃখ উৎপন্ন হতে প্রারম্ভ করেছে। যা আরও অধিক যুদ্ধের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এইভাবে আপনি দেখতে পাবেন বর্তমানে একটি-দুটি নয় বহু জীবন দর্শন পৃথিবীতে ক্রিয়াশীল রয়েছে। যার ফলে বিভিন্ন প্রকার যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিছু যুদ্ধ তো ইতিপূর্বে হয়েও গিয়েছে। ছোটো খাটো লড়াই তো সর্বদা ঘটেই চলেছে। এসব গণনাই বা কে করবে। সমস্তপ্রকার সন্ত্রাসবাদ এর প্রকৃত উদাহরণ।

যেমনভাবে বিজ্ঞানী প্রথমে বিজ্ঞানের সাহায্যে নতুন কিছু আবিষ্কারের পর তা অন্যান্য বৈজ্ঞানিকদের সম্মুখে উপস্থাপন করে থাকে এবং পরে বিচার বিবেচনা করে দেখা হয় কিভাবে ও কোন দিক দিয়ে সেই নূতন আবিষ্কার পুরাতন আবিষ্কারের চাইতে অধিক উন্নত। যদি তা অধিক উপযুক্ত বলে প্রমাণিত হয় তবে নূতন আবিষ্কারকে পুরাতন আবিষ্কারের পরিবর্তে বদলে দেওয়া হয়। এই বিষয়টিকে আমি একটি উদাহরণের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট করতে চাইব। আপনারা জানেন আজ থেকে ৪০ বছর পূর্বে পাখা বর্তমান সময়ের চাইতে অধিক বিদ্যুৎ ব্যয় করত এবং অধিক ভারী হত। একজনের দ্বারা সেই পাখাকে তোলা কঠিন ছিল। এরপর নতুন গবেষণা হয়েছে। ধীরে ধীরে পাখার ওজন কমে গিয়েছে এবং বিদ্যুৎও সাশ্রয় হতে শুরু করেছে। পাখা তৈরির কোম্পানি বুঝে নিয়েছে যে একই বস্তু দিয়ে কম দামে একাধিক পাখা তৈরি করা যেতে পারে এবং তাতে বিদ্যুৎ কম খরচ হবে। এভাবেই তারা পুরাতন প্রযুক্তিকে নতুন প্রযুক্তি দ্বারা বদলে নিয়েছে। দোকানদাররাও গ্রাহকদের বুঝিয়েছে, এবার নতুন পাখা এসে গিয়েছে যার ক্ষমতাও যেমন অধিক তেমনি বিদ্যুৎও সাশ্রয় হয় এবং স্থাপন করাও পূর্বের তুলনায় অধিক সহজ ইত্যাদি। ক্রমে মনুষ্য তা বুঝে গিয়েছে। বর্তমানে দেখা যায় সকলের ঘরে, স্কুলে, অন্যান্য স্থানে নূতন পাখা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। পুরাতন নয়। একইভাবে এই বিষয়টি আপনি পুরাতন মোবাইল এবং নতুন মোবাইলের ক্ষেত্রেও বুঝে নিতে পারেন। এমনতর বহু উদাহরণ রয়েছে। আমরা কিন্তু এই একই নিয়ম জীবন দর্শনের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করিনি এই ভেবে যে, ভাই এবার তো নূতন জীবন দর্শন এসে গিয়েছে, এটিকে গ্রহণ করে নাও এবং পুরাতনকে বিদায় দাও। যদি নতুন দর্শন অধিক সঠিক হয় তবে। যদি আমরা এমনটি করতাম তবে নিশ্চিতভাবে আমাদের কাছে অধিক উপযুক্ত জীবন দর্শন থাকতো এবং একটি সময়ে একটিই থাকতো। একই সময় অধিক জীবন দর্শন চলমান থাকার অর্থ এটিই প্রমাণ করে যে সেসবের মধ্যে সঠিকভাবে তুলনা করা হয়নি।

বন্ধুরা আমরা তাহলে এটি বলতে পারি যে পূর্বে আমাদের পূর্বপুরুষ দ্বারা এই ভুল তো হয়েছে এবং আমাদের দ্বারা বর্তমানেও একই ভুল হয়ে চলেছে। অন্যথায়, যদি একটিও সঠিক দর্শন উপস্থিত থাকতো তবে তা আমাদের সমাধান প্রদান করতো। সমস্যা নয়। অনেক জীবন দর্শন থাকার ফলে সমস্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে যা কিনা যুদ্ধের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জীবন দর্শন রচনা করা হয়েছিল এই ভেবে যে মনুষ্যের জীবনকে অধিক সুখী করে তুলবে। সুখী তো হয়ইনি বরং উল্টো এক সমস্যা তৈরি হয়েছে। একাধিক দর্শন থাকার কারণে মনুষ্য বিভিন্ন বর্গে বিভক্ত হয়ে একে অপরের বিরোধী হয়ে উঠেছে। আমাদের কাছে পূর্ব থেকেই একাধিক জীবন দর্শন উপলব্ধ থাকার পরও যেহেতু সকল সমস্যা নির্মূল হয়নি, ফলে আমি আরেকটি নতুন জীবন দর্শন লিপিবদ্ধ করেছি। আমি মনে করছি এই নতুন জীবন দর্শন পূর্বের সকল জীবন দর্শনের স্থান গ্রহণ করে নেবে এবং মনুষ্যকে অধিক সুখী করে তুলবে। আমি পুনরায় সকলের কাছে এই আবেদন রাখছি এবং পূর্বের সকল দার্শনিকদের কাছেও একই আবেদন করছি যে এবার একটি মঞ্চ তৈরি করে সকল জীবন দর্শন নিয়ে এই প্রয়োজনে চিন্তন-মনন করা উচিত যে কোন জীবন দর্শন ‘সর্বাধিক উপযুক্ত’, কোন জীবন দর্শন আমাদের সমস্যাগুলিকে ‘সর্বাধিক সমাধান’ প্রদান করতে সক্ষম এবং কোন জীবন দর্শন আমাদের জীবনকে ‘সর্বাধিক সুখী’ করতে সক্ষম। এরপর যে সকল জীবন দর্শন সর্বাধিক উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবে সেইসব দর্শনকে সকল দার্শনিকগণ মিলিত উদ্যোগে জনগণের কাছে ব্যখ্যায়িত করবে। তারপর যে দর্শনের উপর জনতার সহমতি সর্বাধিক হবে পরবর্তী সমগ্র জীবন সেই দর্শনের উপর ভিত্তি করে স্থাপিত করা হবে। আমাদের সমস্তকিছু সেই জীবন দর্শনের আধারেই হওয়া উচিৎ। সে রাজনীতি হোক, আধ্যাত্ম হোক, ভৌতিকতা হোক বা শিক্ষা হোক। ধরে নিন সবকিছু। বর্তমানে একথার সমীক্ষা হওয়া উচিৎ যে চলমান জীবন দর্শন আমাদের সমস্ত দিক দিয়ে সুখী করতে পারছে কিনা। যদি সুখী করতে পারছে বলে প্রমাণিত হয় তবে আমাদের বুঝে নিতে হবে পরম জীবন দর্শন আমরা পেয়ে গিয়েছি। এরপর এই বিষয় নিয়ে পুনরায় গবেষণা বা অনুসন্ধানের আবশ্যকতা থাকবে না। তারপরও যদি কিছু অবশিষ্ট রয়ে যায় এবং আমাদের জীবন সম্পূর্ণরূপে সুখী না হয় তবে দার্শনিকদেরকে গবেষণা-অনুসন্ধান চলমান রাখা উচিত এবং প্রয়াস করে যাওয়া উচিৎ যতদিন পরম জীবন দর্শন না আসে। একইভাবে বিজ্ঞানকেও প্রতিটি ক্ষেত্রে সংযুক্ত থাকা উচিৎ যতদিন অবধি সেই বিষয়ে অন্তিম অবস্থায় না পৌঁছয়।

এবার প্রশ্ন হচ্ছে কোনটিকে আমরা সঠিক জীবন দর্শন বলে বিবেচিত করব। আমি অনুসন্ধানকালে সেই সকল মনুষ্যদের সাথে মিলিত হবার অবসর পেয়েছি যারা ভিন্ন ভিন্ন দর্শনকে জেনে বুঝে নিয়েছেন। আমি তাদের সকল প্রকার প্রশ্ন করেছি কিন্তু সন্তুষ্টিজনক উত্তর পাইনি। দু-এক জনের উত্তর কিছুটা মিললেও তা থেকে সঠিক জীবন দর্শন উত্থিত হয়ে আসছিল না। এরপর আমি অবশিষ্ট কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রারম্ভ করি। এই অনুসন্ধানকালেই সঠিক জীবন দর্শন প্রকাশিত হয়ে ওঠে। এরপরই আমি সম্পূর্ণ নতুন এক জীবন দর্শন রচনা করি যা আপনারা এই পুস্তক অধ্যয়ন করে জানতে পারবেন।

আমি প্রকৃতি, মনুষ্য, জীবজন্তু, বনস্পতি, বিভিন্ন গ্রন্থ এবং স্বয়ং নিজেকে অত্যন্ত গভীরভাবে বাহ্যিক এবং আভ্যন্তরীণ দিক দিয়ে অধ্যয়ন করেছি। নিজের অধ্যয়ন সর্বদা এই প্রশ্নকে কেন্দ্রে রেখে করেছি যেন জানতে পারি মনুষ্য জীবনের পরম উদ্দেশ্য কি। আপনারা আবার এমনটি ভেবে বসবেন না যে আমি আয়ুর্বেদকে জানার জন্য বনস্পতিকে অধ্যয়ন করেছি। অথবা বিভিন্ন গ্রন্থকে অধ্যয়ন করেছি এটি জানার জন্য যে কোন গ্রহে কি রয়েছে এবং সেসব কি দিয়ে নির্মিত হয়েছে। এসব তো বিজ্ঞানের বিষয়। আমি যা কিছু অধ্যয়ন করেছি তা কেবলমাত্র জীবনের দৃষ্টিকোণ থেকে জীবনের উদ্দেশ্যকে জানার চেষ্টা করেছি। এ বিষয়ে এখনো অবধি যা কিছু গবেষণা এবং অনুসন্ধান হয়ে গিয়েছে সেইসব আমি জেনে বুঝে ব্যবহার করেছি। আমি যেহেতু বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম সেহেতু ওইসব প্রয়োগ আমার জন্য সরল ছিল। অধ্যয়নের পাশাপাশি আমি বহু সাধনাও করেছি। যখন এই সকল অভিজ্ঞতা আমি নিজের সম্মুখে রেখেছি তখন ধীরে ধীরে সব বুঝতে পেরেছি। ওই সব অভিজ্ঞতা আমাকে অধিক সুবিধা প্রদানে সহায়তা করেছে। এইভাবে বিভিন্ন প্রয়োগের মাধ্যমে আমি ধীরে ধীরে সবকিছু বুঝতে প্রারম্ভ করি। ক্রমানুযায়ী দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করার পর এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছি যেখানে আমি বলতে পারি, ‘হ্যাঁ এবার আমি সন্তুষ্ট’। এবার এতটুকু জ্ঞান আমার হয়ে গিয়েছে যার দ্বারা আমি এমন এক ব্যবস্থা নির্মাণ করতে পারি যেখানে সকলের লক্ষ্য পূরণ হতে পারে। সেই সকল জ্ঞান এবং প্রায়োগিক অভিজ্ঞতার তথ্য নিয়ে আমি ‘এক দার্শনিকের জীবনযাত্রা’ নামে অপর একটি পুস্তক রচনা করছি যা ‘সম্পূর্ণ জীবন দর্শন’ পুস্তকের সাথে সম্পর্কিত। যার দ্বারা জীবন সম্পর্কে এবং জীবনের ব্যবস্থা সম্পর্কে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর লিপিবদ্ধ থাকবে। এই দর্শন এবার আমার জীবনের আধার হিসেবে যুক্ত হয়েছে। এই দর্শন দ্বারা আমি নিজ জীবনের সর্বাধিক সমস্যাগুলির সমাধান তো করে ফেলি কিন্তু অন্তরে সর্বদা এটিই অনুভব করি যে, যদি এই দর্শনের ভিত্তিতে আমাদের জীবনের সম্পূর্ণ ব্যবস্থাকে নির্মাণ করা যায় তবে ভবিষ্যতে কারোর ক্ষেত্রে কোনো প্রকার সমস্যা উৎপন্নই হবে না। যা বর্তমানে সকলের জীবনে ঘটে চলেছে। তখন আমাদের সকলের জীবন সঠিক পথে অগ্রসর হবে এবং সর্বদা সমস্যার মধ্যে লিপ্ত থেকে লড়াই করে সমাপ্ত হবে না। সুতরাং এই পুস্তক রচনার পেছনে এটিই আমার উদ্দেশ্য।

আপনাদেরই একজন প্রেমজীৎ সিরোহী

***

বিষয়বস্তুর অধিক স্পষ্টতা, প্রশ্ন উত্তরের মীমাংসা, পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ULM Bangla সহ অন্যান্য ভাষার ইউটিউব চ্যানেলগুলিতে মুক্তমঞ্চ রয়েছে। যেখানে নিয়মিত লাইভ আলোচনা সম্প্রচার হয়ে থাকে। ইতিমধ্যে বহু আলোচনার ভিডিও উপস্থাপন করা হয়েছে। আপনি যে স্থানে রয়েছেন সেই স্থান থেকেই অনলাইন অনুষ্ঠানে যুক্ত হতে পারবেন। প্রশ্নকর্তা হয়ে অথবা বক্তা হয়ে আপনার মতাদর্শ উপস্থাপন করতে পারবেন। এই মঞ্চ সকলের জন্য উন্মুক্ত।

নতুন দর্শন কেন জরুরী? I Why is the new philosophy important?

What is the Vision of ULM I Premjeet Sirohi & Volunteers | Q&A Session

বিকল্প নতুন ব্যবস্থা কেন জরুরী I Why an alternative New System is extremely necessary

সত্যিই কি নতুন এবং বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে? I Do we really need a new and alternative system?

'সম্পূর্ণ সমাধান' নামক বিকল্প নতুন ব্যবস্থা বিষয়ক পুস্তকটির FREE E-BOOK ডাউনলোড করুন অথবা 9830925502 নম্বরে WhatsApp করুন–

Download ‘Sampurna Samadhan’ FREE E-Book (Hindi, English, Russian and Bengali):

সম্পূর্ণ সমাধান পেপারবুক Amazon Link:

সম্পূর্ণ সমাধান পেপারবুক Flipkart Link:
Subscribe ULM Bangla YouTube Channel:

ব্যবস্থা পরিবর্তন - व्यवस्था परिवर्तन Facebook Page:



ULM Hindi Facebook Page

ULM Hindi YouTube Channel:

Join ULM Telegram Group https://t.me/+mbH6zRruJBlhYWFl

ULM Bangla ইউটিউব চ্যানেলের মুক্তমঞ্চে বক্তা হিসেবে, প্রশ্নকর্তা হিসেবে এবং উন্মুক্ত আলোচনার জন্য সকলের সাদর আমন্ত্রণ। Contact: 98309 25502.
***

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?