অপরাধীর শাস্তি অপরাধ নির্মূল করতে পারে? অপরাধ নির্মূলন কীভাবে সম্ভব?
আপনি যদি অপরাধীকে দোষারোপ করেন এই ভেবে যে- এদেরই তো ভুল, এরাই তো বিপথে চলে গেছে, গোলাম হয়ে গেছে, লোভে পড়ে মান-মর্যাদা-সততা বেঁচে দিয়েছে এবং এদের অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
চলুন উদাহরণ হিসেবে ধরে নিই, আগামীকালই সকল ভিআইপি সহ সাধারণ অপরাধীকে ধরে নিয়ে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা হল। রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের কাছে শাস্তির ভিডিও সহ বিবরণ প্রেরণ করা হল।
এবার কি সকলে নিশ্চিত হতে পারবে তারপর কোনও সমস্যা উৎপন্ন হবে না? আর কেউ অসৎ হবে না?
সকলের জীবন সুখের হবে, আনন্দের হবে, সকলে সুরক্ষিত থাকবে?
সকল শিশুর সমান শিক্ষণ-প্রশিক্ষণের বন্দোবস্ত হবে?
সকলের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান হবে এবং উচিত পারিশ্রমিক দেওয়া হবে?
সকল বয়স্ক নাগরিকদের প্রয়োজনীয় দায়িত্ত্ব নেওয়ার ব্যবস্থা হবে?
কোনও ভেজাল ফসল এবং ভেজাল খাদ্যবস্তু তৈরি হবে না?
সকলের জন্য সমান এবং বিশ্বমানের স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান করা হবে?
জাত-পাত, ভেদাভেদ এবং ধর্মীয় জটিলতা সমস্যা থাকবে না?
সকলের জন্য আধুনিক সুযোগসুবিধাসম্পন্ন বাসস্থান হবে?
ভবিষ্যতে কোনও সমস্যা উৎপন্ন হলে তৎকাল সমাধান করে ফেলার পরিকাঠামো থাকবে?
উপরিউক্ত বিষয়গুলি বাস্তবে রূপায়িত হবে এমন গ্যারান্টি সত্যিই কেউ দিতে পারবে?
চলমান রাজনীতিতে যাদের হাতে সমাধানের দায়িত্ত্ব দেওয়া হয়েছে তারা কি বাস্তবে এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে যে, একজন অপরাধী অপরাধ কেন করে?
কেন একটি পবিত্র শিশু বড় হয়ে চৌর্যবৃত্তি , লুণ্ঠন, হত্যা, দাঙ্গা, যুদ্ধ কিংবা প্রতারণা করে?
সমস্যার মূল কারণ খুঁজে না বের করলে প্রকৃত সমাধানের ব্যবস্থা কীভাবে সম্ভব?
-ধ্যুর মশাই, এসব আবার কেমন কথা!!!
আপনি এমনটাই বলবেন তো?
-এসবের কোনও সমাধান হয় না। অপরাধ থাকবে, অপরাধী থাকবে।
এটাই বলবেন তো?
নাকি এমনতর লেখাকে অপ্রয়োজনীয় বা অপ্রাসঙ্গিক বলবেন?
আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করছি যেখানে সঠিক বা সুনির্দিষ্ট সমাধান নেই। আমরা সরকারকে দোষারোপ করছি, সরকারী কর্মীদের দোষারোপ করছি, নেতা-মন্ত্রীদের দোষারোপ করছি, পুলিশকে দোষারোপ করছি, ডাক্তারদের দোষারোপ করছি, হসপিটালকে দোষারোপ করছি, আইনজীবীদের দোষারোপ করছি, সংবিধানকেও দোষারোপ করছি। এমনকি পিতামাতাকে দোষারোপ করছি, সন্তানকে দোষারোপ করছি, পরিবারকে দোষারোপ করছি, সমাজকে দোষারোপ করছি, শিক্ষককে দোষারোপ করছি, পরিস্থিতিকে দোষারোপ করছি, ঈশ্বরকে দোষারোপ করছি, ভাগ্যকে দোষারোপ করছি, পূর্বজন্মকে দোষারোপ করছি ইত্যাদি। অর্থাৎ অনবরত দোষ চাপিয়েই চলেছি।
আর যাই হোক, দোষ চাপালে অন্তত কিছুটা কাল্পনিক স্বস্তি পাওয়া যায়। সরকারও নিস্তার পেয়ে যায় এই বলে যে, 'আমরা তো সাধ্যমত চেষ্টা করেছি, করে চলেছি। বাকিটা বিরোধীপক্ষের দোষ'। কিংবা বলে দেয়, 'বাজেট নেই'। ব্যাস, জনগণও বিশ্বাস করে ফেলে। কেউ সত্যতা বা তথ্যপ্রমানের খোঁজ নেন না। খোঁজ পেলেও বোধহয় কিছুই করবার থাকে না। বরং ঠিক উল্টোটাই হয়। হয় ব্রাত্য হয়ে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকো, নতুবা লুণ্ঠনের অংশীদার হও। তারপরও ভাল কিছু হবে এমন আশাতেই মানুষ রাজনীতিতে ভরসা রাখে। সাধারণের একটি বড় অংশ রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিয়ে উন্মাদ হয়ে উঠে। প্রাণ-হরণ কিংবা প্রাণ-বিসর্জনের উৎসবে মেতে উঠে। দল বদলায়। সরকার বদলায়। সরকার বদলে গেলে কিংবা নতুন রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করলেই কি সমস্ত সমস্যার সমাধান হয়ে যায়?
এবার হয়তো বলবেন, 'সমাজ ব্যবস্থা বড় জটিল। এসব বিষয় নিয়ে সময় বা শক্তি নষ্ট না করে নিজেরটা গুছিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সে যে পথেই হোক না কেন'। অর্থাৎ, অধিক থেকে অধিকতর সুযোগসুবিধা গ্রহণ করে হোক, লেনদেন করে কাউকে পাইয়ে দিয়ে হোক, ধাক্কা-টেক্কা দিয়ে হোক কিংবা ছিনিয়ে নিয়ে হোক- শুধুমাত্র নিজেরটা গুছিয়ে নিলেই জীবন সফল। "এছাড়া কোনও উপায় নেই"। এটাই তো বলবেন?
যদি দায়ী করতেই হয় তবে অপরাধের পেছনে এইসব গুছিয়ে নেওয়াটাও সমানভাবে দায়ী। এভাবে দায়ী করবার হিসেব করতে করতে দেখা যাবে সমাজের সকলেই দায়ী। অর্থাৎ আলাদা করে দোষ কাকে কীভাবে দেবেন?
সত্যিই কি তাহলে সামাজিক সমস্যার সমাধান নেই?
আমাদের জীবনে কি নানা সমস্যা, দুঃখ/কষ্ট, অসহায়তা-নিরাপত্তাহীনতা ক্রমাগত রয়েই যাবে?
সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এমন গ্যারান্টি কি কোনোদিন থাকবে না?
সত্যিই কি সমাধান সূত্র নেই?
এই বিরাট জগৎ কি তাহলে এমনি করে সমস্যা জর্জরিত হয়েই চলতে থাকবে?
জগতের সকল মনুষ্য ও প্রাণী আজীবন সুখসুবিধা উপভোগ করতে পারবে না?
তাহলে জীবনের জন্ম কেন হয়? জীবনের উদ্দেশ্যই বা কী?
সুখ থাকলে দুঃখও কি সমানসমান থাকবে? সকলে একসাথে আজীবন সুখসুবিধা, আনন্দ, নিরাপত্তা উপভোগ করা সম্ভব নয়? এমন কোনও ব্যবস্থা, কোনও সমাধান সূত্র বাস্তবে কি নেই যা প্রতিষ্ঠিত হলে সমস্যাদি উৎপন্নই হবে না?
অর্থাৎ সমস্যা একটি ক্ষেত্রে নয় বরং সার্বিক ক্ষেত্রে গেঁথে রয়েছে। একটি সমস্যার প্রতিবাদ কিংবা শাস্তি কোনও সমাধানই প্রদান করতে পারে না। ৭৫ বছর পেরিয়ে গিয়েছে। এই দীর্ঘ সময় কম সময় নয়। যদি সামাজিক কর্ম করতেই হয় তবে সমাজব্যবস্থা নিয়ে করা উচিত। ব্যক্তিকে দোষারোপ করে সমাধান সম্ভব নয়। কারণ ব্যক্তি তার স্বার্থ, উপযোগিতা দেখবেই। পরিবার-পরিজনের সুখসুবিধার জন্য নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবেই। তা বাধ্য হয়েই নেবে। বাধ্যবাধকতার সিদ্ধান্তকে কীভাবে যাচাই করবেন? সমাজের উচিত দল-ধর্ম-শ্রেনী নির্বিশেষে সকল নাগরিকের শিক্ষা, জীবিকা, সুখসুবিধা, সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি পূর্ণাঙ্গ সমাজব্যবস্থা কীভাবে রচনা এবং প্রতিষ্ঠিত করা যায় তার উদ্যোগ নেওয়া। একটি সার্বিক সংস্কার জরুরী হয়ে পড়েছে। অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সমাজ, পরিবার, জীবন দর্শন সহ সার্বিক দিক দিয়ে। এটি বৃহৎ কর্ম তবে স্থায়ী উদ্যোগ। সঠিক সমাধান সূত্র নির্ধারিত হলে মানুষ যুক্ত হবে, উদ্যোগ নেবে, মানুষই প্রচার করবে। এছাড়া অন্য পথ চোখে পড়ে না।
(আর্টিকেল: ২০২১)
এ বিষয়ে ULM সংস্থা একটি নতুন আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থার রূপরেখা উপস্থাপন করেছে। অধ্যয়ন করতে পারেন। সমীক্ষা করতে পারেন। মতামত জানেতে পারেন।
আগ্রহী বন্ধুরা ব্যক্তিগত ভাবনা, আলোচনা-পর্যালোচনা করতে চাইলে অবশ্যই যোগাযোগ করুন।
মাধব রঞ্জন সরকার
ফোন/মেসেজ: 9830925502
ইউটিউবঃ ULM Bangla
***
#education #social #political #economic #philosophy #employment #happiness #aimoflife
#crime #criminal #justice #punishment #trial
##newsystem #systemchange #universallifemanagement #ulmbangla
***

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন