একটি পূর্ণাঙ্গ আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার উদ্যোগ কেন আবশ্যক?


সরকারি ব্যবস্থাটা যদি এমন হতো যেমন শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ-জীবিকা চাইছি পেয়ে যেতাম, যেমন বস্তু-পরিষেবা-সুখসুবিধা চাইছি পেয়ে যেতাম, যেমন সুরক্ষিত জীবনযাপন চাইছি পেয়ে যেতাম... সকলেই ভাবে। ভাবলে সমাধান হয় না। পূর্ণাঙ্গ সমাধানসূত্র থাকতে হয়। পূর্বে যে সকল ব্যবস্থা এসেছে এদেশে কিংবা বিদেশে জনগণ সুযোগ দিয়েছে। যেমনটা ভাবা হয়েছিল তেমন ব্যবস্থাপনায় সেসব ব্যবস্থা বিফল হয়েছে। অসৎ নেতৃত্বের কারণে বিফল হয়েছে তা কিন্তু নয়। সমাধানসূত্র অসম্পূর্ণ ছিল। কথাটি নতুন মনে হতে পারে। বহু মানুষ এই সিদ্ধান্তটিকে মানতে নারাজ। কারণ প্রায় সকলেই কোনও না কোনও ব্যবস্থাকে বিশ্বাস করে বসে রয়েছে। যেন তাঁর বিশ্বাসী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলেই সব সমস্যার নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। তা হতে পারে ধর্মীয় ব্যবস্থা, গতানুগতিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কিংবা কম্যুনিস্ট ব্যবস্থা। বিশ্বাস কী বস্তু তা আর বোঝানোর প্রয়োজন নেই। বিফল হলে মানুষকে দায়ী করেন ব্যবস্থাকে নয়। মানুষ জন্মগতভাবে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বয়ে আনে না। সমাজ ব্যবস্থা যেমন মানুষ তেমন তৈরি হয়। এ বিষয়ে দীর্ঘ আর্টিকেল রয়েছে খুঁজে পড়ে নিতে পারেন। যেমন ব্যবস্থা হবে তেমন বন্দোবস্ত হবে। পূর্বের ব্যবস্থা দ্বারা যতখানি ভালোমন্দ সম্ভব ছিল হয়েছে। এবার একটি নতুন পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থার রূপরেখা কিংবা সমাধানসূত্র রচনা হওয়া আবশ্যক। পূর্বের যা কাজের তা যেমন থাকবে, বর্তমানের আবশ্যকতার বন্দোবস্ত সামিল হবে, এমনকি ভবিষ্যতের প্রয়োজন পূরণের সাধ্যও সামিল করবার যথাসাধ্য প্রচেষ্টা থাকবে। এ কাজ স্থায়ী সমাধানের উদ্দেশ্যে পদক্ষেপ। রাতারাতি প্রতিষ্ঠিত হবে না। সময় নেবে। দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সামাজিক পরিবর্তন বিষয়ে আগ্রহী ব্যক্তিদের একত্রে আলোচনা-পর্যালোচনায় মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। এটি প্রাথমিক পদক্ষেপ। সমাজে এমন মানুষজন যৎসামান্য। যৎসামান্য থাকবে। কারণ সকলের জীবন-জীবিকা তথা পারিবারিক দায়দায়িত্বের বন্ধন রয়েছে। বড় কথা সকলের একই কাজে রুচিও থাকে না। দ্বিতীয়ত, এ কাজে একটি উন্মুক্ত সামাজিক গবেষণা কেন্দ্রের প্রয়োজন পড়বে। এ কাজ যত দ্রুত সম্পন্ন হবে পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ তত দ্রুত প্রসারিত হবে।

ব্যবস্থা বিষয়ক উদাহরণ হিসেবে বলা যায় কম্যুনিস্ট ব্যবস্থাকে মার্ক্সের মত করে চেষ্টা করে দেখা হয়েছে। নরম পথে দেখা হয়েছে। চরম পথে দেখা হয়েছে। এমনকি পাকামো করেও দেখা হয়েছে। আশানুরূপ ফলাফল সম্ভব হয়নি। অনেকে বলেন এভাবেই বিফলতার ধাপ পেরিয়ে সফলতা আসবে। একই ফর্মুলা কীভাবে ভিন্ন ফলাফল প্রদান করবে? পূর্বে সাধারণ মানুষকে যেভাবে বিপ্লবের পথে নামানো গিয়েছে সেভাবে বর্তমানকালে সম্ভব? সহিংস আন্দোলন কিংবা বিপ্লব দ্বারা শান্তিপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব? এসব মধ্যযুগের কায়দা বলেই মনে হয়। সে যুগ এখন নেই। কী প্রকার ব্যবস্থা রচিত হলে দল-মত-শ্রেণী নির্বিশেষে সকলে সমর্থন করবে এটিই মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত। যেন সংঘর্ষ, আন্দোলন বা গতানুগতিক বিপ্লবের প্রয়োজন না পড়ে। এইটি রচনা করা মূল কাজ। যে কাজে বহু মানুষ প্রচেষ্টারত রয়েছে।


আপনিও সামিল হতে পারেন। সকলে স্বাগত।


মতামত জানাতে পারেন, ভালো লাগলে লাইক শেয়ার করতে পারেন।

#একটি_পূর্ণাঙ্গ_ব্যবস্থার_উদ্যোগ_কেন_আবশ্যক?

***

#economy #society #politics #employment #jobs #lifestyle #security 


সম্পূর্ণ সমাধান - संपूर्ण समाधान - The Complete Solution 

সম্পূর্ণ জীবন দর্শন - सम्पूर्ण जीवन दर्शन - A Complete Philosophy of Life 

Universal Life Management 

ULM Bangla 

ব্যবস্থা পরিবর্তন - व्यवस्था परिवर्तन 


Sukanta Pradhan Amiya Majumder Partha Pratim Guha Madhab Ranjan Sarkar 


#follower #highlight 

***

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?