মনুষ্য জীবনের উদ্দেশ্য কী? উদ্দেশ্যবিহীন জীবন হতে পারে?
জীবনের মূল উদ্দেশ্য সুখী হওয়া। 'সুখ' জীবনের উদ্দেশ্য হতে পারে? মনুষ্য জাতির বৈচিত্র্যময় জীবন একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে একথা যৌক্তিক বলে মেনে নেওয়া যায়? জীবনের উদ্দেশ্য তাহলে কী? উদ্দেশ্য বিহীন জীবন হতে পারে?
বহু মনীষী "জীবনের উদ্দেশ্য হবে মহৎ" এমন কথাই বলে গিয়েছেন। ত্যাগ-তপস্যা, দান-দক্ষিণা, সততা-করুণা কিংবা ইশ্বর বন্দনাই জীবনের মূল উদ্দেশ্য এবং যোগ্যতা। উক্ত যোগ্যতাসমূহ রয়েছে অথচ তিনি দরিদ্র, নিঃস্ব কিংবা অসহায়- সমাজের কাছে পরিবারের কাছে এমন ব্যক্তির কতখানি মুল্য তা নিয়ে সমাজের কাছেই সংশয় রয়েছে? এইস্থানে মনুষ্য সমাজের দ্বৈত রূপ প্রকাশিত হয়ে ওঠে। উপরের শব্দগুলো ভ্রষ্ট সমাজ ব্যবস্থার নেতিবাচক ফলাফল নাকি স্বাভাবিক অবস্থা? অসম্পূর্ণ সমাজ ব্যবস্থায় ওইসব অসঙ্গতিগুলো সৃষ্টি হয়নি? কেন সমাজসেবার প্রয়োজন হয়? মহান দাতার প্রয়োজন হয়? অসহায় প্রাপকের প্রয়োজন হয়?
মনুষ্য সুখী হতে চায় না? পরিবারকে সুখী রাখতে চায় না? কেউ সখ করে দান-খয়রাত করে সময়-অর্থ বিনষ্ট করতে চায়? অসহায় মানুষ রয়েছে বলেই "বাধ্য হয়ে" সমাজসেবা করতে হয় না?
বাধ্যবাধকতাকে সমাজের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলা যায়? অসম্পূর্ণ সমাজ ব্যবস্থার নেতিবাচক ফলাফলকে জীবনের উদ্দেশ্য বলে চালিয়ে দেওয়া যায়?
সমাজে সাধারণত প্রচলিত রয়েছে 'অর্থ উপার্জন' জীবনের মুখ্য উদ্দেশ্যে। মানুষ উপার্জিত অর্থ দ্বারা কী করে? সুখসুবিধা‐সুরক্ষা ক্রয় করে। অর্থাৎ মানুষ ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক সুখ উপভোগ করতে চায়। অধিক অর্থ উপার্জন মানে অধিক সুখসুবিধা। অধিক অর্থ উপার্জনের পরও মানুষ কতখানি সুখসুবিধা-সুরক্ষা উপভোগ করতে পারে সে বিষয়ে আবার প্রশ্ন থেকে গিয়েছে। বিজ্ঞান বস্তু-পরিষেবা দ্বারা সুখী করবার প্রচেষ্টা করে চলেছে, দর্শন সেখানে উল্টো পথ নিয়েছে। এ বিষয়ে পূর্বেই খানিকটা আলোকপাত করা হয়েছে। মনুষ্য পরিপূর্ণভাবে সুখী হতে পারে? সকলের সমস্ত ইচ্ছেপূরণ সম্ভব? কতখানি সম্ভব কতখানি সম্ভব নয় তার মাপকাঠি কী? সম্ভাবনা থাকলে কীভাবে সম্ভব? সম্ভব না হলে কেন সম্ভব নয়? অর্থ উপার্জনের পরও কেন সুখী জীবন অনিশ্চিত থেকে যায়? যদি সুখী জীবন অসম্ভব হয় তবে মানুষ সুখের পেছনে ছুটে চলেছে কেন? দিনরাত অর্থ উপার্জনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেতে রয়েছে কেন? হত্যা, হিংসা, শোষণে কেন লিপ্ত রয়েছে? এক্ষেত্রে জীবন দর্শন, মনুষ্য চেতনা, ইচ্ছেপূরণের সম্ভাবনার হিসেব নিকেশ, মনুষ্য সম্পদ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের হিসেব নিকেশ, অর্থশাস্ত্রসহ অর্থনৈতিক কাঠামো, চাহিদা-উৎপাদন-বিতরণ প্রক্রিয়া, প্রযুক্তিগত সহায়তা ইত্যাদি বিষয়গুলো উন্মুক্ত আলোচনা-পর্যালোচনার দাবী রাখে। মনুষ্য জীবনের আবশ্যক আকাঙ্ক্ষা এবং ইচ্ছেপূরণের সম্ভাবনা বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া একটি জরুরী বিষয়। যা এখনও পর্যন্ত অসম্পূর্ণ রয়ে গিয়েছে।
জীবনের উদ্দেশ্যকে জীবনযাপনের বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে যাচাই করলে দেখা যাবে জীবনের উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা কতটা সহজ। দেখা যাবে জীবন নিত্যদিন আবেগ, ভালোলাগা, চাহিদা, আনন্দ, ভ্রমণ, বিনোদন, সন্তুষ্টি, সৌন্দর্য, বস্তু-পরিষেবা-সম্বন্ধ উপভোগ, বিশ্রাম ইত্যাদির মধ্যেই ঘোরাফেরা করে চলেছে। এসব জীবনের উদ্দেশ্য নয় কি? চলমান দর্শনসমূহ জীবনের উদ্দেশ্যকে মোক্ষ, নির্বাণ, স্বর্গবাস ইত্যাদি ভারী ভারী শব্দজাল দ্বারা আচ্ছন্ন করে রেখেছে কি? জীবনের স্বাভাবিক বাস্তবতা উপেক্ষিত রয়ে যায়নি? সমস্ত রাষ্ট্রের পণ্ডিতগণ এখনও পর্যন্ত খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থানের মত প্রাথমিক এবং অত্যাবশ্যক উদ্দেশ্যে একমত হয়ে এক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেননি। সম্পদ সৃষ্টির পরিকাঠামো নির্মাণ তো দ্বিতীয় পর্যায়ের ধাপ। মূল উদ্দেশ্যের সিদ্ধান্তে একমত হওয়াই প্রাথমিক পদক্ষেপ।
পূর্বের দর্শন কিংবা বিজ্ঞান জীবনের অত্যাবশ্যক উদ্দেশ্য পূরণের সমাধান সূত্র রচনা করতে ব্যর্থ হয়েছে কি?
আপনি আপনার জীবনের উদ্দেশ্য কী সে বিষয়ে চিন্তন-মনন করে সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেন। উদ্দেশ্য বুঝতে অক্ষর জ্ঞান কিংবা পিএইচডি ডিগ্রির প্রয়োজন নেই। জীবনের মূল উদ্দেশ্য কী সে বিষয়ে স্পষ্ট না হলে কোনও পদক্ষেপই যথার্থ বলে বিবেচিত হবে না।
ভেবে দেখুন আপনি পছন্দের জ্ঞান অর্জন করতে চান কিনা। 'চান কিনা' এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া প্রথম পদক্ষেপ। কীভাবে পূরণ হবে সে দ্বিতীয় পদক্ষেপ। শিক্ষণ-প্রশিক্ষণের সুযোগ পেলে সুখ অনুভব করবেন কিনা প্রথমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হোন। এরপর পছন্দের কর্ম সম্পানার সুযোগ পেলে সুখ অনুভব করবেন কিনা, পছন্দের বস্তু/পরিষেবা/সম্বন্ধ/সমৃদ্ধশালী জীবন উপভোগের সুযোগ পেলে সুখ উপভোগ করবেন কিনা, সুরক্ষিত জীবনযাপনের সুযোগ পেলে সুখ অনুভব করবেন কিনা ভেবে সিদ্ধান্ত নিন। এইসব ইচ্ছে পূরণ হোক আপনি চাইছেন না? আপনার শরীর ও মন সুখ উপভোগ করতে চায় না? সুখ-আনন্দ-বিনোদন-সুরক্ষা উপভোগের জন্য জীবন ক্রমাগত নানা রঙের ইচ্ছে উৎপন্ন করে চলেছে কিনা ভেবে দেখুন।
সকলের ইচ্ছেসমূহ কীভাবে পূরণ হবে; কীভাবে ক্রমাগত সম্ভব হবে সেসব দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ পদক্ষেপ। যা ব্যক্তিগত কিংবা সংস্থাগত উদ্যোগে সম্ভব নয়। মনুষ্য জীবনের মূল উদ্দেশ্য জাতি-ধর্ম-শ্রেণী নির্বিশেষে এক ও অভিন্ন।
এক রাষ্ট্র এক সিদ্ধান্তে উপনীত হলে অগ্রগতির পথ সরল হয়ে যাবে। অর্থনীতি, রাজনীতি, সামাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা, পরিবার, জীবন দর্শন সহ নানা শাখার বিশেষজ্ঞদের মিলিত উদ্যোগে সম্পদ উৎপাদন-বিতরণ-পুনর্ব্যবহার সহ প্রকৃতি-মনুষ্য-পশুপাখি সহ সার্বিক উন্নয়নের বাস্তবায়ন দ্রুত সম্ভব হবে।
বিষয় বিস্তৃত। মতামত-আলোচনা-পর্যালোচনায় আগ্রহী বন্ধুরা স্বাগত। আপনিও ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় কিংবা বৈশ্বিক সমস্যার কারণ-নিবারণ বিষয়ক বক্তব্য ULM মঞ্চে উপস্থাপন করতে পারেন। ULM কর্তৃক উপস্থাপিত নতুন ব্যবস্থা বিষয়ক ও দর্শন বিষয় পুস্তকসমূহ অধ্যয়ন করে সমীক্ষা করতে পারেন।
ফোন: 9830925502
***
#system #social #politics #economics #education #lifestyle #employment #Security #Philosophy #government
@followers @highlight
***

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন