ধর্মীয় শোষণমুক্তির উপদেশ কেন বাস্তবে কাজে আসে না?

 

যে বাস্তবতাখানি সমাজকে অনুধাবন করতে হবে তা হচ্ছে আস্তিক-নাস্তিক-অজ্ঞেয়বাদী কোনোটিই মূল সমস্যা নয়। মূল সমস্যা হচ্ছে নারীপুরুষ নির্বিশেষে সকলের শিক্ষা-জীবিকা-সুখসুবিধা-সুরক্ষার সুনিশ্চিত বন্দোবস্ত না থাকাটা। এই না-থাকা মেটাতেই মানুষকে কখনো বিশ্বাস করতে হয়, কখনো অবিশ্বাস করতে হয়, কখনো অন্ধবিশ্বাসী হতে হয়। ওঝা-গুণিন, ধর্মীয় ব্যবসা, শোষণ-বঞ্চনার পেছনেও ওই না-থাকাটাই মূল কারণ। সমাজ ওই মূল দায়িত্বটি পালনে ব্যর্থ হয়েছে। যে-কারণে পেরিয়ার মশাইয়ের উপদেশও কাজে লাগছে না। বাস্তবে মানুষ অপ্রয়োজনীয় কিছুই করে না। বিনা লাভে এক টাকাও বিনষ্ট করে না। বিশ্বাস-অবিশ্বাস দুটোই লাভের জন্য করে। সমস্যা হচ্ছে চলমান অসম্পূর্ণ আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় বিশ্বাসের গুরুত্ব কোথাও না কোথাও কারোর না কাছে রয়েছে। যা ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি ভিন্ন হবে। ব্যক্তি অর্থনৈতিকভাবে অপরের উপর নির্ভরশীল না হলে বিশ্বাসের ভূমিকা বদলে যাবেলাভ-ক্ষতির হিসেব না থাকলে ব্যবসাও বন্ধ হয়ে যাবে। দান চেয়ে অসহায় হবার প্রয়োজন পড়বে না, দাতা সেজে মহানুভবতার প্রয়োজন পড়বে না। তারপরও কারোর মধ্যে বিশ্বাস থেকে গেলে সমস্যা কীসের? আসুন মিলিত উদ্যোগে মূল দায়িত্বটি পালনে অগ্রসর হই.. 

সর্বপ্রথম অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আমূল সংশোধন আবশ্যক। এ বিষয়ে ULM উপস্থাপিত ‘নতুন জীবন দর্শন’ এবং ‘নতুন সামাজিক রাজনৈতিক অর্থব্যবস্থা’ অধ্যয়ন করতে পারেন।  আপনি নিজে যাচাই করে দেখুন এই সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে ধর্মীয় শোষণের সমস্যা নির্মূল হবে কিনা। সমীক্ষা-মতামত জানাতে সকলে স্বাগত।
***

নতুন ব্যবস্থায় মোট ছটি মডেল রয়েছে

প্রথমতঃ নতুন অর্থনৈতিক মডেল”–

প্রাকৃতিক সম্পদ এবং মানব সম্পদ সরাসরি ব্যবস্থার অধীনে থাকবে ব্যক্তিগত মালিকানার প্রয়োজনীয়তা থাকবে না সম্পদ সঞ্চয় করে রাখার প্রয়োজন পড়বে না। লেনদেনের জন্য মুদ্রার ব্যবহার থাকবে না। ফলে আর্থিক দুর্নীতি কিংবা প্রতারণার সমস্যা গোড়া থেকেই নির্মূল হয়ে যাবে। ব্যাংকট্যাক্সবীমা, শেয়ার মার্কেট ইত্যাদি পরিষেবা থাকবে না। বর্তমান অর্থশাস্ত্রে মুল্যাঙ্কন বিধি যে উন্নয়নের অন্যতম বাধা সে বিষয়ে পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা মুদ্রা দ্বারা মূলত বস্তু  পরিষেবা ক্রয় করে থাকি নতুন ব্যবস্থা মুদ্রা ছাড়াই জন্মগতভাবে সকল নাগরিককে প্রয়োজনীয় সমস্ত বস্তু-পরিষেবা বিনামূল্যে প্রদান করবে।  পরিবর্তে ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী সকল সুস্থ্য নাগরিককে যোগ্যতা ও পছন্দ অনুযায়ী একটি জীবিকা সম্পাদন করতে হবে


"নতুন সমাজব্যবস্থার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা" আর্টিকেলটি পড়তে পারেন। লিংক রইল...

***

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?