ধর্ম, অর্থ, কাম এবং মোক্ষের বাস্তবিক অর্থ কী?

 


আমার পূর্বে এ বিষয়ে বহু মানুষ বলেছেন এবং লিখেছেন আমি নিজেও যা কিছু অধ্যয়ন করেছি এবং শুনেছি তাতে কখনও সন্তুষ্ট হইনি পরে যখন এইসব বিষয়ে গবেষণা করি তখন যে অর্থ বেরিয়ে আসে তা আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাইব ধর্ম, অর্থ, কাম এবং মোক্ষ আমাদের জীবনের প্রারম্ভ থেকে অন্তিম অবধি সবকিছু বলে দেয় বলছে ধর্ম দিয়ে জীবনের প্রারম্ভ হওয়া উচিত এবং মোক্ষ দিয়ে সমাপ্তি হওয়া উচিত মাঝে রয়েছে অর্থ এবং কাম ধর্মের তাৎপর্য হচ্ছে ধারণ করার যোগ্য যা কিছু ধারণ করার যোগ্য তাকেই ধর্ম বলা হয় এবার আমরা কীভাবে জানব যে কী ধারণ করার যোগ্য এবং কী ধারণ করার যোগ্য নয় এর উত্তরও এই বাক্যের মধ্যেই রয়েছে এবং তা হচ্ছে যা কিছু ধারণ করলে মোক্ষ প্রাপ্তি হয় তা হবে ধর্ম এবং যা কিছু ধারণ করলে বন্ধনে আবদ্ধ হয় তা হবে অধর্ম এই কারণে ধর্মের মাপকাঠি হবে মোক্ষ অর্থাৎ যে প্রকারের জীবন আমাদের মোক্ষ প্রদান করবে সেটি হবে ধর্ম এবং যে প্রকারের জীবন আমাদের বন্ধন প্রদান করবে তা হবে অধর্ম এখানে আরেকটি কথা মাথায় রাখা উচিত যে, এইসব জীবিত থাকাকালীন অবস্থার কথা বলা হচ্ছে মৃত্যুর পরের কথা এখানে বলা হচ্ছে না যদি মোক্ষের তাৎপর্য মৃত্যুর পরের অবস্থা নিয়ে হতো তবে তা থেকে আমরা কখনই জানতে পারতাম না যে কোনটি ধারণ করলে মোক্ষ প্রাপ্তি হয় অথবা কোনটি ধারণ করলে বন্ধন প্রাপ্তি হয় যেখানে বন্ধন থাকবে সেখানেই মোক্ষের কথা বলা যায় দুটোই একই স্তরের কথা এমনটি কখনো হতেই পারে না যে বন্ধন তো এই সংসারের মধ্যে প্রাপ্তি হয়েই যাচ্ছে এবং মোক্ষ অন্য কোনো সংসারে অথবা সংসারের ওপারে অন্য কোনো জগতে পাওয়া যাবে যদি অন্য কোনো জগতের কথা হতো তবে তো আমরা জানতেই পারতাম না ধর্ম মূলত কী তাহলে এর থেকে আমরা বুঝতে পারছি উপরে যে চার বিষয়ের কথা বলা হয়েছে তা জীবনের সাথে সম্পর্কযুক্ত, মৃত্যুর সাথে নয় আমার গবেষণা অনুযায়ী মোক্ষের তাৎপর্য হচ্ছে জীবনের সন্তুষ্টি প্রদানকারী চরম অবস্থা অর্থাৎ আমরা অনুভব করব যা কিছু জ্ঞান আমরা গ্রহণ করতে চাইছি গ্রহণ করতে পারছি যে কর্ম করতে চাইছি করতে পারছি যা কিছু ভোগ করতে চাইছি ভোগ করতে পারছিযখন বিশ্রাম করতে চাইছি নিতে পারছি যখন এমন জীবন মিলবে তখনই কেবলমাত্র সন্তুষ্টি উৎপন্ন হবে যদি এই অবস্থা আমাদের জীবনে সর্বদা বজায় থাকে তবে এমন অবস্থাকে মোক্ষ বলা হবে যদি এমন অবস্থা আমাদের জীবনে না আসে তবে তাকে বন্ধন নামে জানা উচিত বন্ধনের তাৎপর্য এটিই হবে যা কিছু জ্ঞান আমরা গ্রহণ করতে চাইছি তা গ্রহণ করতে পারছি না, যে কর্ম আমরা করতে চাইছি তা করতে পারছি না, যা কিছু ভোগ করতে চাইছি তা ভোগ করতে পারছি না, যখন বিশ্রাম করতে চাইছি তা করতে পারছি না তাই বন্ধনের অবস্থা কোনো মানুষই চায় না কোনো মানুষই চায় না কামনার পূর্তি না হোক সকলেই চায় তাদের কামনার পূর্তি নিরন্তর হতে থাকুক এই অবস্থাকেই মোক্ষ বলা উচিত সুতরাং জীবনের উদ্দেশ্য হচ্ছে মোক্ষ প্রাপ্তি অর্থাৎ সর্বদা সুখী অবস্থায় থাকা এবার যখন জীবনের উদ্দেশ্য নির্ধারণ হয়ে গেছে তখন প্রশ্ন এটিই উঠে আসছে যে এই অবস্থা কীভাবে প্রাপ্ত করা যাবে এ বিষয়টিকে বোঝার জন্য মানুষ ধর্ম নামক বিষয় দিয়ে প্রারম্ভ করেছে ধর্মের অর্থ বুঝতে চাইলে সর্বপ্রথম আমাদের যে বিষয়টিকে জানতে হবে তা হচ্ছে আমাদের জীবনের লক্ষ্য কী এবং তা পাবার জন্য কী ধারণ করা উচিত এবং কী উচিত নয় সঠিক শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ৫ থেকে ২০ বছর বয়স অবধি সকল শিক্ষার্থীদের প্রকৃত ধর্ম শিক্ষায় শিক্ষিত করানো উচিত যেন সকল শিক্ষার্থীর শিক্ষা গ্রহণের সময়কালেই প্রকৃত ধর্ম সম্বন্ধে সঠিক বোধ তৈরি হয়ে যায়

এরপর রয়েছে অর্থ অর্থ কী এবং এর উৎপত্তি কীভাবে হয়? এখানে অর্থের তাৎপর্য হবে যেসব বস্তু-পরিষেবা উপভোগ করলে আমাদের সার্বিকভাবে সুখ প্রাপ্তি হয় সেইসব বস্তু-পরিষেবাসমূহকেই অর্থ বলা হয় আর যা থেকে আমাদের দুঃখ প্রাপ্তি হয় তাকে অনর্থ বলা হয় এরপর আসে কাম কামের তাৎপর্য হচ্ছে আমাদের ইচ্ছে, কামনা, বাসনা ইতাদি এই সংসারে সকল মানুষের কামনা ভিন্ন-ভিন্ন হয়ে থাকে এইজন্য অর্থও আলাদা হয়ে থাকে একজন একটি বস্তু থেকে সুখ পেয়ে থাকলে অপরজন অন্য বস্তু থেকে দুঃখ পেয়ে থাকে আবার একই বস্তু থেকে কখনও সুখ কখনও দুঃখ পেয়ে থাকে আমাদের কীসের থেকে সুখ আসবে তা ঠিক হবে আমাদের কামনা বাসনা কী রয়েছে তার উপর কামনার পূর্তি থেকে আমরা সুখী হই এবং কামনার অপূর্তি থেকে আমরা দুঃখী হই জ্ঞানের আধারে আমাদের কামনা উৎপন্ন হয় কিন্তু পূর্তি হয় অর্থের আধারে। এখানেই মোক্ষের বিষয় আসে। যদি আমাদের কামনা অবিরত পূর্তি হতে থাকে তবে মোক্ষের অবস্থা উৎপন্ন হয় নীচের বাক্যগুলিকে দেখলে আপনি জীবন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন। জীবনের চরম লক্ষ্য হচ্ছে মোক্ষ প্রাপ্তি। যার জন্য আমাদের কিছু ধারণ করতে হবে। আমরা যা ধারণ করব তা থেকে যদি মোক্ষ প্রাপ্তি হয় তবে তা হবে ধর্ম ধর্ম কী হবে তার কষ্টিপাথর হবে মোক্ষ মোক্ষ প্রাপ্তি হয় কামের দ্বারা যদি আপনি জীবিত থাকেন এবং কামনাও না থাকে তাহলে আপনার জীবিত থাকার কোনো তাৎপর্য থাকে না তাই মোক্ষ নির্ভর করে আমাদের কামনার নিরন্তর পূর্তি হচ্ছে কিনা তার উপর কেবলমাত্র অর্থের দ্বারাই কামনার পূর্তি হতে পারে অর্থের প্রাপ্তি সম্ভব হবে ধর্মের দ্বারা ধর্মের তাৎপর্য হচ্ছে আমরা যেন মোক্ষ প্রাপ্তি করতে পারি এবার আমরা স্পষ্টতই বুঝে গিয়েছি যে- ধর্ম, অর্থ, কাম এবং মোক্ষ এই চার বিষয় কীভাবে একে অপরের সাথে সম্পর্কিত এবং একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। এবং কীভাবে মানুষের জীবনকে সঠিক দিকনির্দেশ প্রদান করবে

***

ইমেল-

 ulmbangla@gmail.com


ULM Bangla ইউটিউব চ্যানেল-

 https://www.youtube.com/@ulmbangla 


ULM Bangla ফেসবুক পেজ-

 https://www.facebook.com/profile.php?id=100063995684933


ব্যবস্থা পরিবর্তন - व्यवस्था परिवर्तन ফেসবুক পেজ - 

 https://www.facebook.com/ssbajarwb/


ULM ওয়েবসাইট-

 universallifemanagement.org


ULM উপস্থাপিত নতুন আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থা'র ইবুক বিনামূল্যে নিচের লিংক থেকে ডাউনলোড করতে পারেন। সমীক্ষা এবং মতামত প্রেরণে সকলে স্বাগত।



সম্পূর্ণ সমাধান  এক নতুন সামাজিক রাজনৈতিক অর্থব্যবস্থা ফ্রি PDF লিংক

https://drive.google.com/file/d/1rjuHZNuZnuS_vXwqhRi4YmRX8HAbAIud/view?usp=sharing



সম্পূর্ণ জীবন দর্শন  সুখী জীবনের অজ্ঞাত সূত্র” ফ্রি PDF লিংক

https://drive.google.com/file/d/1imrbnKBFqVxH8uHKsK_XPO2MBp5krqrv/view?usp=drive_link


আমাদের প্রয়াস ভালো লাগলে কমেন্ট বক্সে মতামত জানাতে পারেনলাইকশেয়ার করতে পারেন।

যোগাযোগ/অনুসন্ধান- 9830925502

 ***

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?