নৈতিকতা-মানবিকতার অভাব নয় সমস্যার মূল কারণ অন্যত্রে নিহিত। পড়ুন বিশেষ প্রতিবেদন
সততাই মহৎ গুণ, সততাই জীবনের মূলমন্ত্র, সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা, সৎসঙ্গে স্বর্গবাস অসৎসঙ্গে সর্বনাশ ইত্যাদি বহুল প্রচলিত বাক্যগুলি আমরা সর্বত্র শুনে থাকি। এমনকি দেশ-রাজ্য পরিচালনার ভার যে দলের হাতেই ন্যাস্ত থাকুক না কেন সাধারণ মানুষ বলে থাকেন, ‘সৎ মানুষজনের দ্বারা দেশ পরিচালিত হলে এমন দুর্দশা হত না’ ইত্যাদি। অর্থাৎ সততা এমন এক যোগ্যতা যা দিয়ে সবকিছু জয় করা সম্ভব। এই রচনাটিতে আমরা সততার প্রচারিত দিক এবং প্রয়োগের বাস্তবিক দিক নিয়ে পর্যালোচনা করব। যদি আমরা নিজের ভেতর উঁকি দিয়ে একটি বিষয় দেখার চেষ্টা করি তাহলে বুঝতে পারব কখন আমরা অপরকে দুঃখ দিয়েছি অথবা দুঃখ দেবার কথা ভেবেছি। যখন সোজা পথে কাজ হয় না কেবলমাত্র তখনই বাঁকা পথ নিতে বাধ্য হয়েছি। এ প্রসঙ্গে একটি কথা আপনারা নিশ্চয়ই শুনেছেন, ‘সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করে নিতে হয়’। এর অর্থ মানুষ প্রথমে সোজা আঙুল দিয়ে ঘি বের করার চেষ্টা করে। অর্থাৎ সংবিধান অনুযায়ী চলার চেষ্টা করে। তাতে যদি সফল না হয় তখন সংবিধানের বিপরীত পথ ধরে নেয়। সমাজে এইসব ঘটনাগুলিকে আমরা বিভিন্ন অপরাধের নামে জেনে থাকি। মানুষ সর্বকালে এভাবেই জীবন কাটিয়ে এসেছে। মানুষ প্রথমে সংবিধান অনুযায়ী জীবনযাপনের সাধ্যমত চেষ্টা করে। এমনকি সংবিধানের নিয়ম কঠোর হলেও মানুষ প্রথমে সেইমত চলার আপ্রাণ চেষ্টা করে। এই সময়কালে অনেক বাধা-বিপত্তি-প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্মুখীন হতে হয়। তারপরও মানুষ চেষ্টা করে যায়। যখন সোজা পথে জীবন অসম্ভব হয়ে পড়ে তখনই বিকল্প পথের সন্ধানে পা বাড়ায়। বলা যায় অপরাধের পথ গ্রহণ করে অগ্রসর হয়ে যায়। বর্তমান ব্যবস্থায় এছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। সামগ্রিকভাবে বলা যায় যেখানে ১,০০০ মানুষের সুখসুবিধা প্রয়োজন সেখানে সুখসুবিধা রয়েছে কেবলমাত্র ১০ জন মানুষের জন্য। যেখানে ১,০০০ মানুষের কর্মসংস্থান প্রয়োজন সেখানে কর্মসংস্থান রয়েছে কেবলমাত্র ১০ জন মানুষের জন্য। বর্তমান ব্যবস্থা ১০ জনকে কোনোভাবে কর্মসংস্থান প্রদান করলেও ৯৯০ জনকে ছেড়ে দিয়েছে নিজেদের পরিস্থিতির উপর। সিংহভাগ মানুষ কীভাবে বেঁচে রয়েছে সে সম্পর্কে সকলে অবগত। দুর্দশায় জর্জরিত মানুষ তারপরও যেমন তেমন করে দরিদ্রতার সাথে মানিয়ে চলার চেষ্টা করে। কিন্তু দরিদ্র অবস্থায়, অসহায় অবস্থায় কয়জন কতদিন সৎ হয়ে থাকতে পারে? প্রেমপূর্ণ মনোভাব কিংবা নৈতিকতা বজায় রেখে চলতে পারে? হাতে গোনা কিছু মানুষ জর্জরিত অবস্থাতেও অন্যকে প্রতারণা করে না। তারা পরিত্যক্ত অবস্থা, জীর্ণ অবস্থা ভবিতব্য বলে মেনে নিতে বাধ্য হয়। পারিবারিক অশান্তি, সামাজিক গঞ্জনা ইত্যাদি চাপে মানুষ হয় আত্মহত্যা করে ফেলে নাহয় মানসিক রোগীতে পরিণত হয়। অপরদিকে, ইচ্ছে সত্ত্বেও কেন সকলে সততা ধরে রাখতে পারে না? কথা দিয়ে কথা রাখতে পারে না? উত্তর হচ্ছে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বারংবার বাধা হয়ে দাঁড়ায়। শতভাগ মানুষের উচ্চতর আয়ের সুনিশ্চিত জীবিকার বন্দোবস্ত ব্যতীত শুধুমাত্র সততা বা নৈতিকতা দ্বারা কীভাবে জীবনযাপনের অভাব পূরণ করা সম্ভব? এইরূপ অসহনীয় অবস্থায় অধিকাংশ মানুষ একটা সময় পর অনৈতিক পথ ধরে নিতে বাধ্য হয়। দেখা যায় সমাজ তাঁদের’কেই সরাসরি দোষারোপ করে থাকে। সমাজের এই অভিযোগ কি সঠিক বিচার বলে মনে হয়? কয়েকজন লোক মিলে তো সমাজ গঠিত হয় না। সমাজ সকলে মিলে তৈরি হয়। সেখানে শক্তিশালীরা থাকে, দুর্বলরা থাকে, শিশুরা থাকে, মহিলারা থাকে। বলার অর্থ সমস্তপ্রকার মানুষজন থাকে। ত্রুটিপূর্ণ সমাজ-ব্যবস্থায় সকলের কাছে নৈতিকতা কীভাবে আশা করা যায়? বরং নৈতিকতাকে একটি সঠিক ব্যবস্থার ‘পরিণাম’ অথবা ‘মাপকাঠি’ হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত। সততা বা নৈতিকতা মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে সঞ্চারিত হলে বুঝতে হবে ‘ব্যবস্থা’ সঠিক রয়েছে। অন্যথায় বুঝতে হবে ব্যবস্থায় কোথাও না কোথাও ত্রুটি রয়েছে। নৈতিকতা বা অনৈতিকতা কোনো না কোনো ব্যবস্থারই পরিণাম। ব্যবস্থা যখন সঠিক হয়ে যাবে পরিণামস্বরূপ নৈতিকতা স্বাভাবিকভাবে চলে আসবে। জোর করে নিয়ে আসতে হবে না। বর্তমান ব্যবস্থা একইরকমভাবে চলমান থাকলে এটি নিশ্চিত যে ৯৯০ জন সুখসুবিধা থেকে সর্বদা বঞ্চিতই থাকবে।
নিঃস্ব মানুষকে, বঞ্চিত মানুষকে, অসহায় মানুষকে কোন নৈতিকতার পাঠ পড়াবেন? তাকে পুনরায় কী ত্যাগ করার উপদেশ দেবেন? তাকে আর কোন বিবেকের আত্মদর্শন করতে বলবেন? তার হাতে অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক কোনো অধিকারই তো অর্পণ করা হয়নি। তার মানসিক বিকাশের, যোগ্যতা অর্জনের, উপযুক্ত আয়ের জীবিকা গ্রহণের, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি অনুশীলনের-অধ্যয়নের কোনও ব্যবস্থাপনাই প্রদান করা হয়নি। অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে নৈতিক-মানবিক বলেই তারা বঞ্চিত, নিঃস্ব। এই পরিস্থিতি সইতে না পেরেই তো সে অমানবিক হতে বাধ্য হয়। মানবিকতা বা নৈতিকতা কোনো যোগ্যতা বা দক্ষতা নয় যা দিয়ে বাজার থেকে প্রয়োজনীয় বস্তু-পরিষেবা-নিরাপত্তা ক্রয় করা যাবে। ব্যবস্থা একদিকে সুযোগসুবিধা রেখেছে মাত্র ১০ জনের জন্য অপরদিকে বঞ্চিতদেরকে উপদেশের বাণী শোনাচ্ছে সৎ হতে হবে, নৈতিক হবে হবে, মানবিক হতে হবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাবিহীন মনোভাব রাখতে হবে ইত্যাদি। যেখানে পূর্বেই অনুমান করা যাচ্ছে ৯৯০ জন অসফল হবেই, প্রতারিত হবেই। এইরূপ অমানবিক ও অসম্পূর্ণ ব্যবস্থায় ব্যক্তির সততা বা নৈতিকতাকে দোষারোপ করা যায়? দোষ তাহলে কোথায়? ব্যক্তির যোগ্যতায় নাকি অযোগ্য ব্যবস্থায়? সংশোধন কীসের প্রয়োজন? ব্যক্তির নাকি ব্যবস্থার? ১,০০০ জনের মধ্যে মাত্র ১০ জনই যোগ্য এই সিদ্ধান্ত কতটা মানবিক? শুধুমাত্র যোগ্যতাও কি ১০ জনের তালিকায় প্রবেশের পক্ষে যথেষ্ট? এমন ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনায় যারা বাধ্য হয়ে কৌশল অবলম্বন করবেন তাদের অমানবিক বলবেন নাকি অসম্পূর্ণ ব্যবস্থাকে অমানবিক বলবেন? ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ সংশোধন প্রয়োজন নাকি অসম্পূর্ণ ব্যবস্থার রূপান্তর প্রয়োজন? ব্যবস্থা কি এমন হওয়া উচিত নয় যেখানে শতভাগ মানুষের জন্যই সুযোগসুবিধা সর্বদা সুনিশ্চিত থাকবে? বিষয়টি ব্যক্তিগত নয় সামাজিক। সমাজকেই নতুন করে চিন্তন-মনন করতে হবে।
যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, কৌশল অবলম্বন করে, মেধা-অর্থ-শ্রম-শক্তি ব্যয় করে সম্পদশালীদের মধ্যে স্থান করে নিয়েছেন তারাও সর্বদা ভয়ে ভয়ে থাকেন এই ভেবে- যেকোনো সময় বঞ্চিতরা দল বেঁধে অর্জিত সম্পদ লুণ্ঠন করতে পারে। কারণ বর্তমান ব্যবস্থায় সকলের জন্য সুযোগসুবিধা এবং সম্পদ-সুরক্ষার বন্দোবস্ত নেই। এমনকি বর্তমান দর্শনও 'মানুষের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন' এমনতর সিদ্ধান্ত নির্দিষ্ট করে রেখেছে। নিঃস্ব, অসহায়, পরিত্যক্তদের কথা ছেড়েই দিন, যাদের দখলে কিছু না কিছু রয়েছে তাঁরাও সর্বদা ভয়ে ভয়ে জীবন কাটাচ্ছে। এইপ্রকার অস্পষ্ট দর্শন এবং অসম্পূর্ণ সমাজব্যবস্থা চলমান থাকলে নিশ্চিন্তের জীবন কীভাবে আশা করা যায়? কঠোর সংগ্রাম কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করে যে সামান্য কিছু মানুষ সুখসুবিধা অর্জন করেন কিংবা সমাজের চোখে তথাকথিত সফল বলে পরিচিত হন সেইসব মানুষজনও অর্জিত সম্পদ ঠিকমত উপভোগ করতে পারেন না। কেননা তারা এই ভেবে সর্বদা দুশ্চিন্তায় থাকেন, কি জানি এই সুখসুবিধা কতদিন আমাদের কাছে থাকবে। কবে কে ছিনিয়ে নিয়ে চলে যাবে কে জানে। কেননা বহু মানুষ লুণ্ঠনের চেষ্টায় প্রচেষ্টারত রয়েছে। কি জানি কখন তারা সফল হয়ে যায়। পরিবারের কাউকে অপহরণ না করে ফেলে। আত্মীয়-বন্ধুদের উপরও সর্বদা সন্দেহ থাকে এই ভেবে কে কখন প্রতারণা করে ফেলে। কিংবা মামলা মোকদ্দমায় না ফেঁসে যেতে হয়। যে কারণে নিকটজনের সম্পর্কও একরকম সন্দেহজনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলে। যেটুকু সুখসুবিধা তাঁদের কাছে থাকে সেটুকুও ভয়ে ভয়ে উপভোগ করতে হয়। সুতরাং সিদ্ধান্ত এটিই বেরিয়ে আসে, পেয়েও অসুখী জীবন না পেয়েও অসুখী জীবন। এমন সমাজব্যবস্থা আবশ্যক যেন সম্পদশালীরাও সুরক্ষিত জীবনযাপনের সুখ উপভোগ করতে পারে এবং যারা নিঃস্ব তারাও যেন সমস্তপ্রকার সুযোগ-সুবিধার অধিকারী হয়ে সমৃদ্ধশালী জীবনযাপন উপভোগ করতে পারে। এইস্থানেই অসম্পূর্ণ সমাজব্যবস্থা হতে পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থার অভিমুখে অগ্রসর হবার প্রসঙ্গ চলে আসে।
সীমিত সুযোগসুবিধা দখলের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যারা পিছিয়ে পড়ে তাঁদের বহু উপমা, পুরস্কার ইত্যাদি মোড়কে ভূষিত করা হয়। এটিও একপ্রকার বৈষম্য। বাস্তবতা বলছে কেউই অলস অবস্থায় কিংবা অদক্ষ অবস্থায় পড়ে থাকতে চায় না। কেউই অপরের উপর নির্ভরশীলতায় বেঁচে থাকতে চায় না। প্রতিটি মানুষ আত্মনির্ভরশীল ও স্বাধীন জীবনযাপন উপভোগ করতে চায়। সকলেই পছন্দ ও যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ-জীবিকার বন্দোবস্ত পেতে চায়। সকলেরই কোনো না কোনো বিষয়ে রুচি রয়েছে, মেধা রয়েছে। পছন্দের কর্ম সম্পাদনেও তো আনন্দ রয়েছে। সকলেই সেই আনন্দ উপভোগ করতে চায়। শতভাগ মানুষের জন্য সুযোগ-সুবিধার বন্দোবস্ত না করে কাউকে অলস, মেধাবিহীন ইত্যাদি বিশেষণে আখ্যায়িত করাটা কি আদৌ যুক্তিযুক্ত? এমনতর অবস্থা কি সততা বা নৈতিকতার অভাবের কারণে ঘটে চলেছে? অসম্পূর্ণ সমাজব্যবস্থা একমাত্র দায়ী নয় কি? অনেকে পূর্বজন্মের কর্মফলকে দায়ী করেন এবং মানুষের মধ্যে জন্মগত পাশবিক প্রবৃত্তি রয়েছে এমনটি মনে করেন। প্রথমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া আবশ্যক যে, একটি শিশু পৃথিবীতে পাশবিক প্রবৃত্তি বয়ে নিয়ে আসে নাকি নিষ্পাপ অবস্থায় আসে। সে কি পূর্বজন্মের পাপ বয়ে নিয়ে আসে নাকি শুদ্ধ অবস্থায় আসে। নিজেদের পরিবারের সন্তানদের দেখে কখনো এমন মনে হয়েছে তাদের মধ্যে জন্মগত পাশবিক প্রবৃত্তি রয়েছে? নাকি প্রতিটি শিশু নিজ পরিবার, পরিজন, পরিবেশ, বাহ্যিক অবস্থা-ব্যবস্থা যেমন তেমন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে করতে জ্ঞান অর্জন করে থাকে এবং উক্ত পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী নিজেকে পরিচালিত করে থাকে? তাহলে বাহ্যিক অসম্পূর্ণ অবস্থা-ব্যবস্থার রূপান্তর প্রয়োজন নাকি নিষ্পাপ মনের? সমাজের তথাকথিত সিদ্ধান্তটি প্রচলিত আধ্যাত্মিক জগতের ভ্রান্ত ধারণা নাকি সঠিক সিদ্ধান্ত? এ বিষয়ে পুনরায় বিবেচনা করা উচিত নয় কি? গবেষণা-অনুসন্ধান-আলোচনা-পর্যালোচনা করলে এই সিদ্ধান্তই উঠে আসবে, বাহ্যিক অবস্থা-ব্যবস্থার রূপান্তর আবশ্যক। যে কারণে পুনরায় ব্যবস্থা পরিবর্তনের বিষয়টি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে।
এবার অপরাধ-অপরাধীর বিষয় নিয়ে সামান্য পর্যালোচনা করা যাক। একজন অপরাধীর ক্ষেত্রে সমাজ এই আশা করে সে যেন সঠিক শাস্তি পায়। ধরুন সাজা পেয়ে জেলবন্দি বা ফাঁসি হল। শাস্তি প্রদানের পাশাপাশি উপদেশ হিসেবে জনগণের উদ্দেশ্যে প্রচারও করা হল আর কেউ যেন অপরাধ না করে। করলে ঐরূপ শাস্তি পেতে হবে। এতেই কি সব সমস্যা মিটে যায়? সমাজ কি অপরাধমুক্ত হয়? অপর কেউ একই অপরাধে লিপ্ত হয় না? যারা অপরাধ করে তারা কি জানে না ধরা পড়লে সম্মানহানি হবে, কঠোর শাস্তি পেতে হবে কিংবা মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে? তারপরও মানুষ কেন অপরাধে লিপ্ত হয়? কোন প্রবৃত্তি তাকে অপরাধের পথে প্রেরিত করে? কেনই বা প্রেরিত করে? সেই প্রবৃত্তি কি ‘অপরাধী’ জন্মজাত নিয়ে আসে? নাকি সমাজ থেকে গ্রহণ করে? তারপরও কি বলবেন সমস্যা মনুষ্যের অভ্যন্তরে রয়েছে? আপনারা যেকোনো একটি সমস্যা উদাহরণ হিসেবে ধরে নিয়ে পর্যালোচনা করলে বুঝতে পারবেন প্রতিটি সমস্যা সরাসরি সমাজব্যবস্থার সাথে সংযুক্ত।
সুতরাং বিষয়টি প্রথমত দর্শনগত, তারপর ব্যবস্থাগত। এটি নিশ্চিত মানুষের অভ্যন্তরে কোনো সমস্যা নেই। বাহ্যিক পরিস্থিতিই ধাপে ধাপে বাধ্য করে অনৈতিকতার পথে ঠেলে দেয়। যদিও সামান্য কিছু মানুষ আছেন যারা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও অনৈতিক পথ গ্রহণ করেন না। তারা সমস্ত দুঃখ সহ্য করে চলেন। এমনতর অসহনীয় জীবনই বা কীপ্রকার ভবিতব্য? সৎ-মানবিক-নৈতিক মানুষের জীবন পরিত্যক্ত হবে, অসহায় হবে, জীর্ণ হবে এটিই বা কী প্রকারের বিধান? তাদের কি সুখসুবিধার প্রয়োজন নেই? দেখা যায় সৎ মানুষকে অধিক দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে হয়। তাদের পরিবারের সদস্যরাও কষ্টের জীবন চায় না। নীতিবান মানুষদের বাড়ি গেলে দেখা যায় তাদের পরিবার কত দুঃখে রয়েছে। তাদের আত্মীয় পরিজনরাও এইসব নীতিবান মানুষদের তিরস্কার করতে থাকে। তাঁরা নানা সংগঠন তৈরি করে কখনো সরকারকে ফ্যাসিবাদী আখ্যায়িত করে প্রতিবাদে নামে, কখনো বিত্তশালী ব্যক্তিদের শোষক বলে তিরস্কার করে, কখনো সাধারণ অপরাধীকেও আক্রমণ করে। সরকার কেন ফ্যাসিবাদী হয়? কেন জনতাকে বঞ্চিত করে? বঞ্চনা-দুর্দশার শিকার শুধুমাত্র ভারতেই রয়েছে এমনটিও তো নয়। বহির্বিশ্বেও বিদ্যমান। সরকার সকলের জন্য শিক্ষা-জীবিকা-সুখসুবিধা-সুরক্ষার বন্দোবস্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছে বলেই মূলত এত অভিযোগ এত আন্দোলন। চলমান অর্থনৈতিক কাঠামো মূল অন্তরায়। নেতামন্ত্রীর সততা, নৈতিকতা কিংবা মানবিকতা দ্বারা জনগণের বিপুল চাহিদা পূরণ করা কীভাবে সম্ভব? সততা-নৈতিকতা-মানবিকতা কোনো যোগ্যতা বা দক্ষতা নয় যা দিয়ে সমৃদ্ধশালী জীবনযাপন প্রদান করা সম্ভব। যতখানি সরকারি রাজস্ব আদায় হয় তা বিরাট দেশের বিপুল অভাব মেটানোর পক্ষে যথেষ্ট নয়। দু-পাঁচশো-হাজার কোটির দুর্নীতির অর্থ মিশিয়েই বলছি। অর্থনীতিবিদগণ দেশের সকল বিভাগের চাহিদা এবং আয়-ব্যয়ের হিসেব মিলিয়ে যাচাই করে নিতে পারেন। ধরে নিন আদায়কৃত রাজস্ব চুরি হলো না। সমস্ত বিভাগে যথাস্থানে ব্যয় হলো। তারপরও দেখা যাবে অভাব-বঞ্চনা-আন্দোলন-অভিযোগ যেমন ছিল তেমনই রয়েছে। উল্টে জরুরী ঘাটতি মেটাতে কেন্দ্র এবং রাজ্য উভয়কেই বিরাট অংকের ঋণের বোঝা বইতে হয়। সমস্যা চলমান অসম্পূর্ণ আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় লুকিয়ে রয়েছে। ব্যক্তি কিংবা সরকারের মধ্যে নয়। সরকার বদল হলেই সমস্যা মিটবে এমনটিও নয়। নিষ্ঠাবান, নীতিবান হয়ে আজীবন দুর্দশার জীবন ধারণ করে প্রাণত্যাগ করাও যেমন সঠিক বিধান নয় তেমনই সম্পদ অর্জন করে অসুরক্ষিত জীবনযাপনও সঠিক বিধান নয়। অপরদিকে ব্যবস্থা যেমন-তেমন নির্মাণ করে ‘জনতা ভাল হলে ব্যবস্থা সফল হবে’ এবং ‘জনতা মন্দ হলে ব্যবস্থা বিফল হবে’ এটিও সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। জনতাকে বাধ্য হয়ে অসম্পূর্ণ ব্যবস্থার নীতিকে মেনে নিতে হবে এটিও সঠিক বিধান নয়। মানুষ অন্তরে যেমন বাহ্যিক জগতের ব্যবস্থাপনাও তেমন হওয়া উচিত। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, সংস্কৃতি তথা মূর্খ, জ্ঞানী, দরিদ্র, বিত্তশালী সকলকে প্রথম সারিতে রেখেই ব্যবস্থা নির্মিত হওয়া উচিত। যেখানে শিশু, যুবা, বৃদ্ধ, অসুস্থ্য, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ সহ সকলের সমৃদ্ধশালী জীবন আজীবন সুরক্ষিত থাকবে। মানুষ সমৃদ্ধশালী হলে, সুনিশ্চিত হলে, সুরক্ষিত হলে পশু-পক্ষী-জলবায়ু-প্রকৃতি ইত্যাদি দিকগুলিকেও সুরক্ষিত করা সম্ভব হবে। তবেই বাস্তবিক অর্থে স্বাধীনতা তথা প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলা যাবে।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে এই সিদ্ধান্তই বেরিয়ে আসে, বাস্তবিক জীবনের সাথে সমন্বয় রয়েছে এমন কোনো দর্শনের উপর ভিত্তি করে একটি পূর্ণাঙ্গ সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত। জীবন বাস্তবে প্রতিনিয়ত সুখসুবিধা উপভোগ করতে চাইছে, সুতরাং আমাদের একটি সুখকেন্দ্রিক ব্যবস্থা আবশ্যক। যদি সকলের কাছে সমস্তপ্রকার সুখ উপভোগের জন্য সঠিক বন্দোবস্ত থাকতো তবে কেউই অনৈতিক পথ নির্বাচন করতো না। প্রকৃতিগতভাবে মানব চেতনায় যে স্বাভাবিক মানবিকতা রয়েছে তা বিকৃত করতে হতো না। সকলে যেমন জ্ঞান অর্জন করতে চাইছে করতে পারছে, যেমন কর্ম সম্পাদন করতে চাইছে করতে পারছে, যেমন বস্তু-পরিষেবা উপভোগ করতে চাইছে পেয়ে যাচ্ছে, যেমন সুরক্ষিত জীবন পেতে চাইছে পেয়ে যাচ্ছে এমন ব্যবস্থাপনা থাকলে স্বার্থসিদ্ধির জন্য মিথ্যা কিংবা শোষণ-বঞ্চনার প্রয়োজন হতো না। সম্পদ সঞ্চয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকতো না। সকলের কাছে সমস্তরকম সুযোগ-সুবিধার অধিকার সুনিশ্চিত থাকলে কিছু হারানোর ভয় থাকতো না। সকলে সমৃদ্ধশালী জীবনযাপনের আনন্দ উপভোগে ব্যস্ত থাকতো। এটি সাম্য-অসাম্যের কথা নয়, কারণ প্রতিটি মানুষের পছন্দ-অপছন্দ ভিন্ন ভিন্ন থাকবে। এটিই প্রাকৃতিক নিয়ম। বিষয়টি হচ্ছে সকলে যেমনভাবে জীবনযাপন করতে চায় তেমনভাবে জীবনযাপন করবার স্বাধীনতা থাকাটা। এই স্বাধীনতার বন্দোবস্ত অন্য কেউ করে দেবে না। সকলকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে সামাজিক মনোভাবাপন্ন মানুষকে সর্বাগ্রে এগিয়ে আসতে হবে, দায়িত্ব নিতে হবে। মূল কথা সকলের সুখসুবিধা নির্মাণের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সমাজব্যবস্থা আবশ্যক। যেন প্রতিটি ব্যক্তির অংশগ্রহণের সুযোগ এবং অধিকার সুনিশ্চিত থাকে। এ বিষয়ে একটি সমাধান তত্ত্ব আমাদের কাছে এসেছে। দিল্লী নিবাসী দার্শনিক প্রেমজীৎ শিরোহী মহাশয় দীর্ঘকালীন অনুসন্ধান-পর্যালোচনার পর এমন এক দর্শন এবং এমন এক সমাজব্যবস্থা জনগণের সম্মুখে উপস্থাপন করেছেন যার দ্বারা সকলপ্রকার সুখসুবিধা সকলের জন্য স্থায়ীরূপে বন্দোবস্ত করা সম্ভব হবে। ইউনিভার্সাল লাইফ ম্যানেজমেন্ট (ULM) সংস্থা এই নতুন ব্যবস্থার রূপরেখাটি বিভিন্ন মাধ্যমে সমাজের কাছে উপস্থাপন করে চলেছে। এটি একটি সামাজিক সংস্থা যা বিশ্বের সকল মানুষের সমস্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য অবিরাম কর্মরত রয়েছে। এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে বুদ্ধিমান ব্যক্তিবর্গ মিলিত উদ্যোগে বিশ্বব্যবস্থার উন্নতির জন্য নিজেদের বৈচারিক অবদান রেখে চলেছেন। আপনি আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হাজার হাজার বুদ্ধিমান মানুষের কাছে আপনার বক্তব্য পৌঁছে দিতে পারেন এবং মতামত আদান প্রদান করতে পারেন। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় মোট ছ’টি মডেল রয়েছে। নতুন অর্থনীতি, নতুন রাজনীতি, নতুন সমাজনীতি, নতুন শিক্ষানীতি, নতুন পরিবারনীতি ও নতুন জীবনদর্শন। “সম্পূর্ণ সমাধান – এক নতুন সামাজিক রাজনৈতিক অর্থব্যবস্থা” ও “সম্পূর্ণ জীবন দর্শন – সুখী জীবনের অজ্ঞাত সূত্র” নামক পুস্তকদ্বয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পুস্তক দুটি একধিক ভাষায় অনূদিত হয়েছে। দুটি পুস্তকের পিডিএফ কপি সকলের জন্য বিনামূল্যে অর্পণ করা হয়েছে। কাগজের পুস্তকও অনলাইন-অফলাইন মাধ্যমে উপলব্ধ রয়েছে।
যে-কোনো সমাধান তত্ত্ব প্রয়োগের পূর্বে বৌদ্ধিক স্তরে যাচাই করে নেওয়া আবশ্যক। একটি বিকল্প ব্যবস্থার রূপরেখা চলমান সময়ে অত্যন্ত্য জরুরী। সিরোহী মহাশয় প্রাথমিক দায়িত্বটি সম্পাদন করে দিয়েছেন। তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমার্জনের বিষয়টিও জনতার উদ্দেশ্যে উন্মুক্ত করে রেখেছেন। এবার একটিই কর্ম অবশিষ্ট রয়ে যায় তা হল ব্যবস্থাটিকে অধ্যয়ন করা ও আলোচনা-পর্যালোচনার মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া। এই সমাধান সঠিক বলে বিবেচিত হলে সমাজের উচিত দ্রুত ব্যবস্থার বিষয়টিকে সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সরকারি স্তরে প্রতিষ্ঠিত করবার প্রয়াস প্রারম্ভ করা। আমরা জানি চলমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নিয়ম অনুযায়ী জনগণ যে নীতিকে চাইবে তাই প্রতিষ্ঠিত হবে। জনসাধারণের উচিত সকলের স্বার্থে এই ব্যবস্থাটিকে সার্বিকভাবে যাচাই করে নেওয়া। যেমন– এই ব্যবস্থা নিজের ও পরিবারের সমস্ত সমস্যার সমাধান কীভাবে করবে, বিত্তশালী ব্যক্তিবর্গ কেন সমর্থন করবে, মধ্যবিত্ত ব্যক্তিবর্গ কেন সমর্থন করবে, দরিদ্র ব্যক্তিবর্গ কেন সমর্থন করবে, সকলের অর্থনৈতিক চাহিদা কীভাবে পূরণ করবে, মুদ্রা কিংবা মুল্যাঙ্কনজনিত সমস্যা কীভাবে নির্মূল করবে, আর্থিক দুর্নীতির সমস্যাটি কীভাবে নির্মূল করবে, রাজনৈতিক ক্ষমতা বণ্টনের সমস্যাটি কীভাবে সমাধান করবে, জনগণ এবং সাংবিধানিক প্রতিনিধিদের মধ্যে সামঞ্জস্য কেমন থাকবে, বিপক্ষে রায় দেবার কোনো কারণ অবশিষ্ট থাকবে কিনা, ব্যবস্থা কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে, কারা প্রতিষ্ঠা করবে, কবে প্রতিষ্ঠিত হবে ইত্যাদি। স্বল্প পরিসরে বিস্তারিত বর্ণনা সম্ভব নয়। প্রশ্নোত্তর পর্ব কিংবা আলোচনা-পর্যালোচনার জন্য ULM Bangla, ULM Hindi সহ অন্যান্য ভাষার ইউটিউব চ্যানেলে অনলাইন মুক্ত মঞ্চ রয়েছে। আপনারা যে স্থানে রয়েছেন সেই স্থান থেকেই অনলাইন আলোচনায় যুক্ত হতে পারবেন। ইতিমধ্যে বহু বিষয়ে আলোচনার অডিও-ভিডিও উপস্থাপন করা হয়েছে। সেসবও দেখে নিতে পারেন। এই সামাজিক কাজে আপনাদের অংশগ্রহণ ও মতামত সকলের সুখের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে গতানুগতিক বিপ্লব, আন্দোলন, সংঘর্ষ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ইত্যাদির প্রয়োজন পড়বে না। সকলের শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, আধুনিক সুবিধাযুক্ত আবাস, যাতায়াত, নিত্যদিনের বস্তু-পরিষেবা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, ভ্রমণ-বিনোদন, সমস্তপ্রকার সামাজিক সুখসুবিধাসহ সকলপ্রকার নিরাপত্তা স্থায়ীরূপে সুনিশ্চিত থাকবে। সমগ্র বিশ্ব এই ব্যবস্থাকে গ্রহণ করলে প্রতিটি দেশের নাগরিক সকলপ্রকার সুখসুবিধা সহজেই উপভোগ করতে পারবে। সমস্ত দেশের মধ্যে প্রাকৃতিক সম্পদ ও মানব সম্পদের আদানপ্রদান সহজ হবে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যুদ্ধের অবসান ঘটবে। এমনকি দেশের অভ্যন্তরেও লড়াই, দাঙ্গা কিংবা অরাজকতার সমস্যা উৎপন্ন হবে না। যুদ্ধ সামগ্রীতে বিনষ্ট হওয়া বিপুল সম্পদ মানুষের সুখসুবিধা বৃদ্ধির কাজে ব্যবহুত হবে। নতুন ব্যবস্থার অর্থনীতি অনুযায়ী সুখসুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে অর্থের প্রয়োজন পড়বে না। এটি মুদ্রাবিহীন ব্যবস্থা। ফলে আর্থিক দুর্নীতির সমস্যা গোড়া থেকেই নির্মূল হয়ে যাবে। সকলে অর্থ ছাড়াই সরকারীভাবে সমস্তপ্রকার বস্তু-পরিষেবা-সুখসুবিধা পেতে থাকবে। প্রাথমিক দৃষ্টিতে অনেকে এই ব্যবস্থার তত্ত্বকে সমাজবাদ এবং সাম্যবাদের সাথে তুলনা করেন। এক্ষেত্রে উল্লেখ করা প্রয়োজন, ‘সম্পূর্ণ সমাধান’ এবং ‘সম্পূর্ণ জীবন দর্শন’ পুস্তক দুটি গভীরভাবে অধ্যয়নের পর তাঁরা বুঝতে পারেন এই তত্ত্ব অন্যান্য তত্ত্বগুলির তুলনায় মূল স্থানেই পৃথক। দর্শনের তত্ত্বগত সিদ্ধান্ত পৃথক, জীবনের উদ্দেশ্যজনিত ব্যাখ্যা পৃথক, অর্থনৈতিক পরিকাঠামো পৃথক, রাজনৈতিক পরিকাঠামো পৃথক, রূপান্তরজনিত প্রক্রিয়া পৃথক ইত্যাদি। এর অর্থ এই নয় পূর্বের যা কিছু সঠিক রয়েছে তা বর্জন করা হয়েছে। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সহ সমস্তপ্রকার সামাজিক সুখসুবিধা প্রতিটি নাগরিকের জন্য সুনিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা বরং এই তত্ত্বকে ‘ব্যক্তিবাদ’ নামে আখ্যায়িত করতে পারি। কারণ এই ব্যবস্থায় প্রতিটি ব্যক্তি সরাসরি ব্যবস্থার সাথে সংযুক্ত। অপর কোনো ব্যক্তির উপর নির্ভরশীল নয়। রাজনৈতিক ক্ষমতাও ২৪ ঘণ্টা ও ৩৬৫ দিন জনগণের হাতে ন্যাস্ত থাকবে। বর্তমান ব্যবস্থার মত নির্দিষ্ট পদাধিকারী কিংবা নেতা-নেত্রীর হাতে নয়। শর্ত কেবলমাত্র এটিই যে ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী সকল সুস্থ্য নারী-পুরুষকে যোগ্যতা ও পছন্দ অনুযায়ী একটি জীবিকা সম্পাদন করতে হবে। জীবিকা সম্পাদনের সময়সীমা দিনে আনুমানিক ৫ ঘণ্টা ও সপ্তাহে ৫ দিন রাখা হয়েছে। তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের জন্যও সমস্ত সুযোগসুবিধার অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ্য, প্রতিবন্ধী ইত্যাদি মানুষের জন্য কোনোপ্রকার কর্ম সম্পাদনের বাধ্যবাধকতা ছাড়াই সমস্তপ্রকার সুখসুবিধা স্থায়ীরূপে বরাদ্দ করা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন ব্যবস্থায় কাউকেই অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অপরের উপর নির্ভরশীল থাকার প্রয়োজন পড়বে না। ফলে কাউকেই গোপন অভিসন্ধির আশ্রয় নিতে হবে না। পারিবারিক অশান্তি স্থায়ীরূপে নির্মূল হবে এবং সকলের সাথে সমস্ত সম্পর্ক স্থায়ীরূপে মধুর থাকবে। নতুন ব্যবস্থার কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত পুস্তক, অডিও-ভিডিও, বুকলেট, আর্টিকেল ইত্যাদি উপলব্ধ রয়েছে। প্রস্তাবনাটি কীভাবে জনগণের কাছে দ্রুত পৌঁছে যাবে, ইত্যাদি বিষয়ে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী পদক্ষেপ বিষয়ক মতামত আদান প্রদানের জন্য সকলে আমন্ত্রিত। আসুন মিলিত উদ্যোগে এই সামাজিক দায়িত্বটি পালন করি, নতুন ব্যবস্থার রূপরেখাটিকে যাচাই করি, পর্যালোচনা করি এবং একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে সহযোগিতা করি।
ধন্যবাদ।
-মাধব রঞ্জন সরকার
ফোন- 9830925502.
ইমেল- ulmbangla@gmail.com,
ইউটিউব চ্যানেল- https://www.youtube.com/@ulmbangla
ফেসবুক পেজ- https://www.facebook.com/profile.php?id=100063995684933
ব্যবস্থা পরিবর্তন - व्यवस्था परिवर्तन - https://www.facebook.com/ssbajarwb/
ওয়েবসাইট- universallifemanagement.org
“সম্পূর্ণ সমাধান – এক নতুন সামাজিক রাজনৈতিক অর্থব্যবস্থা” ফ্রি PDF লিংক
https://drive.google.com/file/d/1rjuHZNuZnuS_vXwqhRi4YmRX8HAbAIud/view?usp=sharing
“সম্পূর্ণ জীবন দর্শন – সুখী জীবনের অজ্ঞাত সূত্র” ফ্রি PDF লিংক
https://drive.google.com/file/d/1imrbnKBFqVxH8uHKsK_XPO2MBp5krqrv/view?usp=drive_link
আমাদের প্রয়াস ভালো লাগলে কমেন্ট বক্সে মতামত জানাতে পারেন; লাইক, শেয়ার করতে পারেন।
***



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন