"নিজের বলে কিছু নেই, ছেড়েই তো যেতে হবে"। জীবনের মর্মার্থ কী?
কোন ব্যক্তির মনে কোন প্রেক্ষিত থেকে এসব ইচ্ছে উদয় হয় তা প্রথমে জানা-বোঝা প্রয়োজন। বিশেষ করে ভারতীয় দর্শনে এইসব বাক্যসমূহ বহুল প্রচারিত। সব ছেড়ে সন্যাসি হবার ভাবনা। অতীতে বহু মানুষ ছেড়ে গিয়েছেন, যাচ্ছেনও। ছেড়ে গিয়ে ব্যবসায়ী-বাবাজী বাদে ৯৯.৯ শতাংশ মানুষ যে কী মর্মান্তিক অবস্থা-ব্যবস্থায় দিনযাপন করেছেন, করছেন তা দেশটি পর্যবেক্ষণ না করলে অনুভব করা যায় না। সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত বহু মানুষ সন্যাসি ভাবনা, ত্যাগের ভাবনা সগর্বে প্রচার করেন, প্রবন্ধ পুস্তক রচনা করেন, কিন্তু বাস্তবে সন্যাসি হন কয়জন? বিষয়-সম্পদ-সম্বন্ধ পরিত্যাগ করেন কয়জন? এর থেকেই স্পষ্ট যে মানবজীবন সুখভোগ করতে চাইছে। যদি সন্যাসি জীবনে অধিক সুখভোগ থাকতো তবে তাঁরা সকলে ঠিকই সন্যাসি হয়ে যেতো। এতে সমাজের দ্বৈতরূপও প্রকাশ্যে চলে আসে। ভোগ করতে করতে ত্যাগের বাণী প্রচার করছে। ত্যাগের সিদ্ধান্ত জীবনের উদ্দেশ্য-অভিপ্রায় নয়। এমন ভাবনার মূল উৎস কোনও না কোনও সমস্যা থেকে উৎপন্ন হয়েছে। সমস্যার সেই কারণটির শনাক্তকরণ আবশ্যক। আর, মৃত্যু ভাবনা থেকেও কখনো-সখনো এসব চিন্তা আসে। কখনো অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা থেকে আসে। পছন্দের জীবন না পাবার অভাব থেকে আসে। চারিপাশের দুঃখ-দুর্দশা-অসহায়তা থেকে আসে। মৃত্যু স্বাভাবিক ঘটনা। মৃত্যু প্রসঙ্গে বাস্তবতা হচ্ছে মানুষ তার পূর্ণাঙ্গ আয়্যুকাল সুস্থ্যভাবে বাঁচতে পারে না। সকল আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সমর্থ হয় না। যেমন জীবন সে বাঁচতে চায়, কাটাতে চায় তেমন জীবন উপভোগ করতে পারে না। এইসব অপূর্ণতার সমস্যা মিটে গেলে মৃত্যুভয় অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
হিসেব বলছে বর্তমানে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে, বেড়ে চলেছে। অধিক বৃদ্ধির পথে বিজ্ঞানও নিত্যদিন কর্মরত রয়েছে। যেখানে যারা যতখানি সম্ভব পূর্ণ জীবন উপভোগ করতে পারছেন তাঁরা ততখানি সন্তুষ্টি নিয়ে যাচ্ছেন। অবশ্য, এতে অন্য সকলের জীবনও তেমন পূর্ণতার হওয়া উচিত। নাহলে অন্যের অপূর্ণ জীবন দেখে দুঃখবোধ জাগবে। এ বিষয়ে যতখানি কাজ অবশিষ্ট রয়েছে সেসব দর্শনের দিক থেকে রয়েছে, সমাজ ব্যবস্থার দিক থেকে রয়েছে। মানুষ পছন্দের জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে সুখী হতে চায়, পছন্দের কর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে সুখী হতে চায়, বস্তু-পরিষেবা-সামাজিক সুখসুবিধা-সম্বন্ধ-ভ্রমন-বিনোদন উপভোগের মাধ্যমে সুখী হতে চায়। জীবন হবে সুখের, আনন্দের, সন্তুষ্টির, সমৃদ্ধির। এখনো অবধি এসব ভাবনা কল্পনাই অনুভূত হবে। এ প্রসঙ্গে বলা যায় চলমান সমাজ ব্যবস্থা মানব জীবনযাপনের সমস্ত দিকগুলো পর্যালোচনা করে নির্মিত হয়নি। ফলে জীবনের বহু বিষয় দর্শনের দিক থেকে যেমন অসম্পূর্ণ থেকে গিয়েছে তেমনই সমাজ ব্যবস্থাতেও। আবার, একা-একা জীবনের সব সুখ সকলে উপভোগ করবে তাও সম্ভব নয়। মানুষ পূর্ণাঙ্গ সমাজ ব্যবস্থার অভাব ক্রমশঃ বুঝতে পারছে, ধীরে হলেও অগ্রসর হয়ে চলেছে। মানুষের কোথায় সংশয় রয়েছে, কোথায় অসঙ্গতি রয়েছে, কোথায় অপূর্ণতা রয়েছে এসব খোলামেলা আলোচনা হলে বেরিয়ে আসে।
***
দর্শন বিষয়ে আমাদের একটি ছোট্ট পুস্তক রয়েছে (১২৫ পৃষ্ঠা), আগ্রহী হলে পড়তে পারেন।
লিংক সকলের জন্য রইল। অধ্যয়নের পর মতামত জানাতে ভুলবেন না। ভালো লাগলে অবশ্যই সকলকে শেয়ার করুন।
https://drive.google.com/.../1imrbnKBFqVxH8uHKsK.../view...
***


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন