সততার সত্যতা আসলে কী?


ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় প্রবচনটির অর্থ হচ্ছে ভালো মানুষ পাওয়া দুষ্কর। ভালো মানুষ খুঁজে পেলেও তাঁর দ্বারা বৃহৎ অর্থে যে সমাধান আবশ্যক তা সম্ভব নয়। এ প্রচেষ্টা বহু আদর্শবান  নেতামন্ত্রী, আমলা, ব্যবসায়ী, সমাজ সংস্কারক থেকে সাধারণ মানুষ করে নিয়েছেন। আন্দোলন, বিক্ষোভ কিংবা প্রতিবাদী সমাবেশ হয়েছে, হয়ে চলেছে। না সমস্যার মূল কারণ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে না সার্বিক সমাধান সম্ভব হয়েছে। বিষয়টি ভালো মানুষ কিংবা মন্দ মানুষের নয়। রাজনৈতিক দলেরও নয়। মানুষ পরিবার, পরিবেশ, সমাজ, শিক্ষা, জীবিকা, সংস্কৃতি, সুখসুবিধা, সুরক্ষার দ্বারা প্রভাবিত হয়, পরিচালিত হয়। ব্যবস্থা যদি এইসব মৌলিক বিষয়ের যথার্থ বন্দোবস্ত করতে ব্যর্থ হয় তবে মানুষ তার মত করে জীবনযাপনের ব্যবস্থা করে নিতে বাধ্য হয়। অসম্পূর্ণ ব্যবস্থার কারণে বিকৃত মানসিকতার জন্ম হতে পারে, শোষণ হতে পারে, শোষিত হতে পারে, দুর্নীতি করতে পারে, প্রতিহিংসা করতে পারে, লড়াই-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে, ধর্ষণ করতে পারে, হত্যা করতে পারে।

অবস্থা-ব্যবস্থা-পরিস্থিতি যা কিছু করাতে পারে। এর অর্থ কি এই দাঁড়ায়, মানুষ অন্তর থেকে ভালো হতে চায় না? বরং বাহ্যিক রাষ্ট্রব্যবস্থা তথা সমাজ ব্যবস্থাই মানুষকে পরিচালিত করে থাকে। ব্যবস্থাই মূল আধার। চলমান অসম্পূর্ণ ব্যবস্থায় কেউ অপরাধ করে ফেললে তার যথার্থ সাজা প্রাপ্য। কিন্তু এমন বিকৃত মানসিকতার মূল কারণ খুঁজতে গেলে ব্যক্তি ভালো কিংবা মন্দ হয় এই সূত্র কাজে আসে না। এতে ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় হয়ে যাবে। সমাজে যে পরিমাণ অপরাধ ঘটিত হয় তার যৎসামান্যই প্রকাশিত হয়। 

প্রকৃত সমাধানের দিকে যেতে হলে আমাদের পূর্ণাঙ্গ সমাজ ব্যবস্থার প্রস্তাবনা, রূপরেখা উপস্থাপন করে আলোচনা-পর্যালোচনা মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্র ব্যবস্থা নির্মাণের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হতে হবে। কোনও বিকল্প শর্টকাট নেই।

 যত বড় দুর্নীতি করে তাঁরা তত জ্ঞানী। তাঁরা শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক, সারা পৃথিবী ভ্রমণ করে থাকেন। বলার কথা নৈতিকতা অনৈতিকতা ভালো মন্দ সব বোঝেন। অপরদিকে একজন সাধারণ মানুষও বোঝে কোন কাজ করলে অপরের ক্ষতি হবে। তারপরও করে চলে। একই পরিবারের একই শিক্ষা পেয়ে নৈতিক অনৈতিক উভয় হতে পারে। কেউ আজ নৈতিক আগামীকাল অনৈতিক হয়ে যেতে পারে। উল্টোও হতে পারে। আজ অনৈতিক আগামীকাল নৈতিক হয়ে যেতে পারে। মূল কারণ কোন ফর্মুলায়-বিজ্ঞানে-জিনতত্ত্বে কীভাবে বিচার করবেন? 


প্রতিটি ব্যক্তি একটি স্বতন্ত্র চেতনা। এই চেতনাকে বস্তুর সাথে গুলিয়ে নিলে, সমাজের ভিড়ে মিশিয়ে দিলে সহজ বিষয়টি উপেক্ষিত রয়ে যাবে। ব্যক্তির চেতনাকে, স্বতন্ত্র ইচ্ছেকে, সুখসুবিধা-সুরক্ষাকে সমাজ পূর্তির পরিবর্তে উপেক্ষিত রেখে দিলে, দীর্ঘসূত্রতায় বেঁধে দিলে উক্ত ব্যক্তি যা কিছু হয়ে যেতে পারে। লুণ্ঠনকারী, হত্যাকারী, আত্মহত্যাকারী, ধর্ষক, পুঁজিপতি-শোষণ, অসহায়-শোষিত কিংবা মধ্যবিত্ত যা কিছু..। মানুষের চেতন মন নিরন্তর ইচ্ছে উৎপন্ন করে চলেছে। নিরন্তর সুখ উপভোগ করতে চাইছে। এটি স্বাভাবিক-প্রাকৃতিক। স্বাভাবিক নিয়মেই ইচ্ছের পূর্তি আবশ্যক।


***

ভালো লাগলে লাইক শেয়ার মন্তব্য করতে ভুলবেন না। বক্তা এবং প্রশ্নকর্তা হিসেবে সকলে স্বাগত।

যোগাযোগ- 9830925502

***

#system #systemchange #economics #Politics #social #Education #employment #health #philosophy #spirituality #security #highlight #everyone

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?