গণতান্ত্রিক শাসনের লাভ



অধ্যায় ১১

 

গণতান্ত্রিক শাসনের লাভ

নতুন গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় সর্বদা জনগণই হবে শক্তির কেন্দ্র এবং নেতৃত্ব সর্বদা যোগ্য নেতৃত্বের হাতে ন্যস্ত থাকবে কেননা ১০ শতাংশ নাগরিক যদি কোনো নেতার কাজে সন্তুষ্ট না হয় তবে জনগণ সেই নেতাকে পুনরায় নির্বাচনে প্রেরণ করতে পারবে এই কারণে সকল নেতাদের স্মরণ রাখতে হবে যে সকল নাগরিক যেন তাদের কাজে সন্তুষ্ট থাকে এই ব্যবস্থায় প্রতিটি ব্যক্তির সন্তুষ্টিসূচক মাপদণ্ড থাকবে যা সরাসরি জনগণ দ্বারা প্রেরিত হতে থাকবে এর মাধ্যমে সর্বদাই জানতে পারা যাবে যে এই ব্যবস্থায় কতজন সন্তুষ্ট আর কতজন নয় প্রথমত যে কোনো নীতি প্রণয়ন করার সময় নেতাদের মাথায় রাখতে হবে সেই নীতির দ্বারা সকলের যেন লাভ হয় দ্বিতীয়ত নেতারা যা সিদ্ধান্ত নেবেন সেই সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণসহ সবকিছুর ব্যখ্যা ইন্টারনেটে রাখা থাকবে ফলে জনগণ যে কোনো সময় ইন্টারনেট থেকে যে কোনো তথ্য দেখতে এবং পড়তে পারবে তারা বুঝতে পারবে যে কী প্রকার নীতি অথবা সিদ্ধান্ত নেতারা নিয়েছেন এবং কেন নিয়েছেন তাতে সকলের কী লাভ হবে ইত্যাদি জনগণের কাছে নেতাদের সকল নীতি এবং সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ থাকবে সরকার এবং জনগণের মাঝে কোনো প্রাচীর না থাকার কারণে কোনোপ্রকার ভ্রম উৎপন্ন হবে না সবকিছুই স্বচ্ছ থাকবে সকল সুখসুবিধা সকলের জন্য একসমান থাকবে এবং সর্বোৎকৃষ্ট থাকবে তাই নিজের জন্য অথবা পরিবারের জন্য ভিন্নভাবে কিছু করার প্রয়োজন পড়বে না দুর্নীতি করার জন্য কেউ বাধ্য হবে নাস্বচ্ছ পরিকাঠামো থাকার ফলে তেমন কিছু করা সম্ভবও হবে না এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় এবং মুখ্য লাভ যেটি হবে তা হল নেতারা কখনোই নিরঙ্কুশ হতে পারবে না তারা কখনোই নিজেদের দায়িত্বের প্রতি অলসতা এবং উদাসীনতা দেখাতে পারবে না নতুন ব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তিই নিজ কর্মের প্রতি অলসতা দেখাতে পারবে না যদি এমনটি করার প্রয়াসও করে জনগণ তা তৎক্ষণাৎ পরিষ্কারভাবে ধরে ফেলবে কেননা সকলের কাজের তথ্য ইন্টারনেটে রাখা থাকবে যা সকলে দেখতে সর্বদা পারবে এমনটি নয় যে তার জন্য আর.টি.আই. (R.T.I. Right to Information) তথ্য গ্রহণের অধিকার) করতে হবে যে কোনো সময় সকলেই তা ইন্টারনেট থেকে দেখতে পারবে নেতা-নেত্রীসহ অন্য সকলকেও তাদের যোগ্যতা ও পছন্দের কর্মই প্রদান করা হবে যে কারণে সেই কর্ম সম্পাদন করে তারা সুখ অনুভব করবে এই কারণেই কারোর নিজের কর্ম করতে স্বাভাবিকভাবেই কোনোপ্রকার অলসতা এবং উদাসীনতা আসবে না কেননা আমরা যে কর্ম করে সুখী হই সেই কর্ম বিনা পারিশ্রমিকে করার জন্যও তৈরি থাকি

 

একদিকে পছন্দের কর্ম পাবার কারণে এবং অন্যদিকে সেই কর্ম সম্পর্কিত শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ থাকার ফলে উচ্চ গুণসম্পন্ন বস্তু, পরিষেবা এবং সুখসুবিধার নির্মাণ হবে যা ভোগ করে সকলে সুখী এবং সন্তুষ্ট হবে নিজের পছন্দ অনুযায়ী যে ব্যক্তি যেমন জ্ঞান অর্জন করতে চাইবে গ্রহণ করতে পারবে এইভাবে আমরা দেখতে পাব যে সকলে নিজেদের পছন্দের জ্ঞান, কর্ম এবং ভোগ প্রাপ্ত করতে থাকবে ফলে প্রত্যেক স্তরেই সকলে সর্বদা সুখী অবস্থায় থাকবে কারণ সবকিছুর মান সমান থাকবে জ্ঞান এবং কর্ম নির্বাচনের সময় আমাদেরকে কেবলমাত্র নিজেদের পছন্দের দিকে খেয়াল রাখতে হবে বর্তমান সময়ের মত ভাবতে হবে না আমার তো ড্রাইভার হবার ইচ্ছে কিন্তু আজকাল তো অন্য কোনো কাজের তুলনায় ড্রাইভারের বেতন খুবই কম; যদি আমি নিজের পছন্দ অনুযায়ী চলি তবে কম বেতনের জন্য অধিক সুখসুবিধা উপভোগ করতে পারব না আর যদি অধিক বেতনের কর্ম করার প্রয়াস করি তবে সেই কাজের প্রতি রুচি না থাকার কারণে নিজের সর্বাধিক দক্ষতা প্রদান করতে পারব না যার ফলে সেখানে কর্মের গুণগত মান ও সফলতা অনিশ্চিত থাকবে অনেক কষ্ট করে সংরক্ষণের সাহায্য নিয়ে কিছু দূর অবধি সফল হলেও অতঃপর সেই রোজগার দ্বারা প্রসন্ন হতে পারব না কেননা তাতে আমার রুচি নেই অন্যমনস্ক হয়ে সেই কর্ম করতে হবে যার কারণে অন্যকে সন্তুষ্ট করতে পারব না বরং সকলের রোষের মুখে পড়ব এর থেকে পারিশ্রমিক অধিক পেয়ে যাব এবং অধিক সুখসুবিধাও ভোগ করব কিন্তু জীবনে পূর্ণ সন্তুষ্টি মিলবে না কেননা কর্মটি আমার রুচি ও পছন্দের হবে না অধিকাংশ মানুষ অপছন্দের কর্ম করে আসছে বলে তারা আমারই মত উচ্চ গুণসম্পন্ন ভোগের নির্মাণ করতে পারছে না এই কারণেই মনে হবে আমি উচ্চ বেতন পাওয়া সত্ত্বেও উচ্চগুণসম্পন্ন সুখসুবিধা উপভোগ করতে পারছি না অর্থাৎ সুখসুবিধার উপকরণও ভেজাল হবে সকলের বেতন একসমান না হবার কারণে যখন আমি অন্য সহকর্মীদের দেখব, তখন একই কারণে আমি দুঃখ অনুভব করব কেননা সকলে নিজেদের আশেপাশের মানুষজনকেও সুখী দেখতে চায় আমার কথার অর্থ এই যদি কোনো কারণে কিছু লোক অধিক সুখসুবিধা পেয়েও যায় তারপরও এই অসমান অর্থব্যবস্থায় অন্যান্য দুঃখগুলির কোনো সমাধান হবে না সেইজন্য যতদিন সকলের আর্থিক স্তর সমান না হবে ততদিন সকলের মান সমান হবে না। ততদিন আমাদের জন্য সকল প্রকার দুঃখের দরজা উন্মুক্তই থাকবে তিনি ধনী হন বা নির্ধন, ভাল হন বা মন্দ, উঁচু পদে থাকুন বা নিন্ম পদে থাকুন, অথবা বিনা পদে থাকুন না কেন। তাই বর্তমান সময়ের অসমান আর্থিক স্তরের ব্যবস্থায় সকলেই দুঃখী অর্থাৎ ব্যবস্থা যদি সঠিক না হয় তবে সকল প্রকার মানুষের দুঃখী হওয়াটা নিশ্চিৎ একইভাবে যদি ব্যবস্থা সঠিক হয় তবে সকল প্রকার মানুষের সুখী হওয়া নিশ্চিৎ অতএব সব মিলিয়ে ব্যবস্থাই হচ্ছে আমাদের দুঃখী ও সুখী হবার মূল কারণ এইজন্য আমাদের সকলের দুঃখের জন্য একে অপরের প্রতি দোষারোপের পরিবর্তে সঠিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টা করা উচিত পছন্দের জ্ঞান, কর্ম এবং ভোগ থাকার কারণে সকলেই ব্যক্তিগতভাবে সুখী হবে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ করার কোনো কারণ থাকবে না এতে আমাদের সম্পর্ক মধুর থাকবে পারিবারিক সুখের প্রাপ্তি হতে থাকবে অপরজনকে অসত্য বলার প্রয়োজন হবে না এবং সকলের সবকিছুতে বিশ্বাস অটুট থাকবে আমাদের মধ্যে কখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা উৎপন্ন হবে না, কেননা তা করার কোনো কারণ আর অবশিষ্ট থাকবে না

 

ব্যক্তিগত সুখের প্রাপ্তি

নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী জ্ঞান, কর্ম, ভোগ, বিশ্রাম ইত্যাদি সকল সুখসুবিধা সর্বদা মিলতে থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সকলে সুরক্ষাও সর্বদা পেতে থাকবে শিশুরা নিজের মাতা পিতার সাথে থাকুক বা আলাদা স্থানে সরকারের কাছে থাকুক সকল শিশুর সম্পূর্ণ লালন-পালন, শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত সরকার নির্বাহ করবে এই নীতির লাভ এটিই হবে যে সকল শিশুদের জীবনের মাপদন্ড একইরকম হবে কোনো শিশু নিজেকে অন্য শিশুর তুলনায় মহান বা তুচ্ছ অনুভব করবে না। কেননা সকলের আর্থিক জীবনস্তর সমান থাকবে ছোটবেলা থেকেই কোনো শিশু নিজেকে অন্য শিশুর সাথে তুলনা করতে পারবে না এমনকি বড়দের ক্ষেত্রেও অন্যের সাথে তুলনা করার কোনো কারণ থাকবে না কোনো শিশু সে যে বিষয়ই নির্বাচন করুক না কেন এবং যতই অধ্যয়ন করুক না কেন সমস্ত শ্রেণীতে সকলের মান বরাবর থাকবে এমনকি মেধার মূল্যায়নও কারোর কম হবে না কারোর অধিকও হবে না এমনকি সমাজেও সকল বিষয়ের মান একসমান থাকবে ফলে শিশুদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইচ্ছে জাগ্রত হবে না একে অপরের প্রতি বড় বা ছোটো মনোভাব উৎপন্ন হবে না একে অপরের প্রতি ঈর্ষা উৎপন্ন হবে না, একে অপরের প্রতি শত্রুভাব উৎপন্ন হবে না, অন্যের বস্তু চুরি করার মনোভাব উৎপন্ন হবে না, অনাবশ্যক কিছু সংগ্রহ করার মনোভাব উৎপন্ন হবে না, মাতা-পিতা এবং অন্য কারোর সম্পর্কে হীন ভাবনা অথবা উচ্চ ভাবনা উৎপন্ন হবে না ইত্যাদি ইত্যাদি যখন কোনো নেতিবাচক মনোভাব উৎপন্নই হবে না তখন এইসব মনোভাব সম্পর্কিত ভাবনারও উদয় হবে না এইসব মনোভাব এবং ভাবনা সম্পর্কিত কর্মেরও উদয় হবে না কেননা নেতিবাচক ভাবনা উৎপন্ন হবার জন্য যেসব কারণগুলি থাকে সেইসব নতুন ব্যবস্থায় উৎপন্নই হবে না সব মিলিয়ে সকল শিশুদের মধ্যে একে অপরের প্রতি মৈত্রীর মনোভাব স্বাভাবিকভাবেই সর্বদা বজায় থাকবে যখন শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ নিয়ে তাদের বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হয়ে যাবে তখন সমাজে তাদের পেশাদার ব্যক্তির মর্যাদা স্থাপিত হয়ে যাবে কেননা তাদের যোগ্যতা ও পছন্দ অনুযায়ী একটি জীবিকা তারা পেয়ে যাবে যার যা জীবিকা হবে সেটিই তার পরিচয় হবে উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ চুল কাটার কর্ম করে তাহলে লোকে তাকে ক্ষৌরকার হিসেবে জানবে এবং যিনি চাষের কর্ম করবে তাকে কৃষক হিসেবে জানবে এইভাবে সকলের জীবিকাই মূল পরিচয় এই বিষয়টিকে বুঝে নেওয়া উচিত কর্ম অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকার পরিচয় থাকা সত্ত্বেও সকলের মূল্য একসমানই থাকবে অর্থাৎ সমস্তপ্রকার জীবিকার মূল্য একসমান হবে এর অর্থ হচ্ছে পেশা বা পদ যাই হোক না কেন সকলের জীবনস্তর সমান থাকবে। বিভিন্ন পেশার মর্যাদাও একসমান থাকবে তাহলে আমরা বলতে পারি যে সকল প্রকার কর্মসংস্থানের মান-মর্যাদাও একসমান থাকবে যে সকল ব্যক্তি কর্ম করতে অক্ষম তাদের জীবনেও মান-মর্যাদা সমান থাকবে। তাহলে আমরা বুঝে নিতে পারি যে কারোর উপর ক্রোধ করা, লোভ করা অথবা মোহ করার কোনো কারণ অবশিষ্ট থাকবে না কেননা ক্রোধ তখনই আসে যখন কেউ আমাদের ইচ্ছেপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় লোভ তখন উৎপন্ন হয় যখন সময়মত আমাদের ইচ্ছেপূরণ হয় না অথবা ভবিষ্যতের প্রতি নিরাপত্তাহীনতার ভাবনা তৈরি হয় এই ভেবে তৈরি হয় জানি না আমাদের ইচ্ছেপূরণ কবে হবে নাকি আর হবেই না আর মোহ তখন উৎপন্ন হয় যখন কারোর আশ্রয়ে থাকতে হয় এবং ভাবনা আসে যে আমার পিতা অথবা আমার ভাই অথবা আমার পুত্র অথবা আমার স্বামী বর্তমানে বা বৃদ্ধাবস্থায় আমার সেবা করবে এই সকল কারণে তাদের প্রতি মোহ উৎপন্ন হয় নতুন ব্যবস্থায় কেউ কারোর আত্মীয় পরিজনের উপর কোনো ব্যক্তিগত সুখের জন্য আশ্রিত থাকবে না সময়মত সকলের সমস্ত ইচ্ছেপূরণ হতে থাকবে, কারোর ইচ্ছেপূরণে অন্য কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াবে না কেননা এইসবের কোনো কারণই থাকবে না আমরা এটি নিশ্চয় বুঝতেই পেরেছি।

 

শুদ্ধ এবং উচ্চ গুণসম্পন্ন ভোজনের প্রাপ্তি

সুস্থ্য জীবনের জন্য শুদ্ধ এবং উচ্চ গুণসম্পন্ন ভোজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একথা তো আমরা সকলেই জানি যদি আমরা ক্রমাগত মন্দ ভোজন গ্রহণ করি তবে আমাদের স্বাস্থ্য এবং আয়ু অত্যন্ত দ্রুতগতিতে কমতে থাকে এরফলে আমাদের সমস্ত অর্থ এবং সময় কেবলমাত্র অসুখের সাথে লড়াই করতেই খরচ হয়ে যাবেএরপর শুধুমাত্র মৃত্যুর জন্যই অপেক্ষা করতে হবে একজনের অসুস্থ্য অবস্থা দেখে আশেপাশের সকলেও এই ভেবে ভয়ে ভয়ে থাকে যে খুব দ্রুত তাদেরও এমনতর মন্দ অবস্থা হতে চলেছে এইসব বিষয়কে জানার জন্য আমাদের বুঝতে হবে কোন কোন স্তরে ভেজাল বস্তু তৈরি হয় এবং কেন তৈরি হয়? নতুন ব্যবস্থায় কী এমন থাকবে যার ফলে ভেজাল বস্তু তৈরিই হবে না? আসুন তা বুঝে নিই বর্তমান সময়ের অসমান আর্থিক পরিস্থিতির কারণে অধিকাংশ মানুষকে নিজের প্রচেষ্টায় জীবিকার সন্ধান করে আর্থিক ব্যবস্থা করে নিতে হয় ফলে সকলের রোজগার একরকম থাকে না বিশেষ করে তাদের যারা খাদ্য সম্পর্কিত বস্তু নির্মাণ ও বিতরণ করে থাকে তারা নিজেদের লাভের জন্য খাদ্য সামগ্রীতে ভেজাল মেশাতে থাকে যা থেকে তারা অধিক অর্থ আয়ের সুযোগ পায় কারণ তাদেরও তো পরিবার রয়েছে যাদেরকে তাঁরা ভালোভাবে রাখতে চায় কেননা সকলেই নিজেদের পরিবারকে ভালবাসে পরিবারের সুখের জন্য অর্থের প্রয়োজন হয় অধিক অর্থ সংগ্রহ করার উপায় এটিই যে খাদ্য সামগ্রীতে ভেজাল মেশানো, দুর্নীতি করা এবং কিছু অপরাধমূলক কর্ম করা যা থেকে অধিক অর্থ আসে উদাহরণ হিসেবে ধরে নিন যারা দুধের কারবার করে তারা যদি সমস্ত দুধ গোরু বা অন্যান্য গবাদি পশুদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে তাহলে মূল্য অনেকগুণ বেড়ে হয়ে যায় অন্যদিকে প্রতিযোগিতার কারণে বাজার থেকে বিশুদ্ধ দুধের উচিত মূল্যও তারা পায় না যা মূল্য পায় তাতে পরিবার খুব টানাপড়েনের মধ্যে চলে যখন তারা দেখে অন্য লোকেরা সচ্ছলভাবে জীবন-যাপন করছে তখন তারাও অধিক অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করে এই চেষ্টাতেই তারা নকল দুধ তৈরি করে বিক্রয় করে থাকেঅর্থাৎ নিজেদের পরিবারের কিছু সদস্যকে সুখী করার জন্য তারা সমাজের অনেক সদস্যকে দুঃখের দিকে ঠেলে দেয় নকল দুধ খুব সস্তায় তৈরি হয়ে যায় ফলে তারা কম সময়ে অধিক অর্থ উপার্জন করার সুযোগ পেয়ে যায় একইভাবে আমরা অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীর অবস্থাটিও বুঝে নিতে পারি

 

এমন একটি সময় আসে যখন আমাদের অধিকাংশ খাদ্যবস্তু বিষাক্ত হয়ে যায় এবং স্বাস্থ্যকে নষ্ট করে ফেলে খাদ্য পদার্থের তালিকায় যত প্রকারের ভেজাল রয়েছে সেইসব কাজে যুক্ত ব্যক্তিরাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভেজাল মিশিয়ে থাকে ফলে খাদ্য সামগ্রী অধিক থেকে অধিকতর বিষাক্ত হতে থাকে যতদিন অবধি আর্থিক ব্যবস্থা এমন থাকবে ততদিন পর্যন্ত এই সমস্যা থাকবে শুধুমাত্র কড়া নীতিনিয়ম প্রণয়ন করে দিলেই দুর্নীতি বন্ধ করা যায় না সরকার সমস্ত খাদ্যবস্তুর জন্য পর্যাপ্ত পরিদর্শক নিযুক্ত করে দিলে দুর্নীতি অধিক বাড়বে কারণ পরিদর্শকের কাজে যুক্ত ব্যক্তিরাও তো মানুষ তাদেরও পরিবার রয়েছে। তারাও অধিক অর্থ উপার্জন করতে চায় তারা জানে কেবলমাত্র দুর্নীতি করেই অধিক অর্থ উপার্জন করা সম্ভব যত বেশী দুর্নীতি হবে তত বেশী ভেজাল হবেসুতরাং দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য এটি সঠিক উপায় নয় অর্থাৎ উপদেশ দিয়ে, আইন প্রণয়ন করে অথবা পদাধিকারী নিযুক্তির মাধ্যমে দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব নয় এর কারণ যে ব্যক্তি দুর্নীতি বন্ধ করার দায়িত্বে থাকেন অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি স্বয়ং দুর্নীতি করে সেই পদে নিযুক্ত হন উদাহরণস্বরূপ, প্রতিটি বিধানসভা প্রতিনিধির নির্বাচন ক্ষেত্রে প্রচারের জন্য নির্বাচন কমিশন ২৮ লক্ষ টাকার পরিসীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে এবার আপনিই বলুন যদি কোনো ব্যক্তি ২৮ লক্ষ টাকার মত বড় অর্থরাশি খরচ করে নির্বাচনে জয়লাভ করে তাও কেবলমাত্র পাঁচ বছরের জন্য, তাহলে সে কেন ১ কোটি টাকার দুর্নীতি করবে না? আর যদি দুর্নীতি না করে তবে তিনি নিজের এবং নিজের পরিবার নিয়ে সুখী জীবন কাটাবেন কীভাবে? পাঁচ বছর পর পুনরায় তাকে নির্বাচনে দাঁড়াতে হবে এবং আবারও যে জয়লাভ করবেন তা সুনিশ্চিত নয় এইভাবে দুর্নীতি তো নেতাদের থেকেই প্রারম্ভ হয়ে যায়যাদের উপর দুর্নীতি বন্ধ করার দায়িত্ব অর্পণ করা হয় তারা দুর্নীতি করার কোনো না কোনো উপায় বের করেই নেয়সেইজন্য সঠিক ব্যবস্থা ছাড়া কোনো দুর্নীতিবিহীন সমাজ গঠন করা সম্ভব নয় যে নতুন ব্যবস্থা উপরে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে তাতে দুর্নীতি করার প্রয়োজন হবে না এবং সেখানে কেউ দুর্নীতি করতেও পারবে না তা কীভাবে সম্ভব আসুন তা বুঝে নিই এই নতুন ব্যবস্থায় সকলেই আর্থিক দিক দিয়ে সমান হবে সকলের চাহিদা অনুযায়ী বস্তু এবং পরিষেবা অর্ডার করার একসমান অধিকার থাকবে অর্থাৎ যার যা কিছু প্রয়োজন হবে তা অর্ডার করতে পারবে এবং গ্রহণ করতে পারবে কেননা সরকার প্রতি বছরের প্রথম দিনেই পুরো বছরের অর্থরাশি সকলের একাউন্টে জমা করে দেবে নতুন ব্যবস্থায় মুদ্রা শুধুমাত্র ডিজিটাল হবে এবং কেবলমাত্র সরকার এই মুদ্রাকে আর্থিক গণনার জন্য ব্যবহার করবে মানুষ কেবলমাত্র নিজের ব্যাংক একাউন্ট দেখতে পারবে নতুন ব্যবস্থায় মুদ্রার ব্যবহার কেবলমাত্র আর্থিক গননার জন্যই ব্যবহার হবে এবং তা হবে শুধুমাত্র সরকার দ্বারা পরিচালিত মানুষ নিজেদের মধ্যে মুদ্রার লেনদেন করতে পারবে না যার কারণে মুদ্রার জন্য কোনো দুর্নীতি করা সম্ভব হবে না মুদ্রার জন্য কোনো অপরাধ করাও সম্ভব হবে না প্রথমত বর্তমানে যে উদ্দেশ্যে অপরাধমূলক ঘটনা ঘটে থাকে সেই কারণটিই আর থাকবে না অর্থাৎ অপরাধ করার কোনো প্রয়োজনই হবে না কারণ যেসব কারণে অপরাধ সংঘটিত হয় সেসবের কোনো কারণ নতুন ব্যবস্থায় উৎপন্নই হবে না সমস্ত সম্পদ সরকারের অন্তর্গত থাকবে মানুষ শুধুমাত্র নিজের প্রয়োজন এবং পছন্দ অনুযায়ী সবকিছু সমানভাবে ব্যবহার করবে ব্যবহার করাই তো মুখ্য বিষয় নতুন ব্যবস্থায় কেউ ব্যক্তিগতভাবে কোনো সম্পদের মালিক হবে না কেউ হতেও পারবে না এমনকি মালিক হবার কারণও থাকবে না আপনি হয়তো একটি প্রবাদ শুনে থাকবেন ভোগ্য বস্তু, নারী এবং জমির জন্যই সমস্ত বিবাদ ঘটে থাকে এখানে ভোগ্য বস্তু এবং জমির ক্ষেত্রে তো আপনি বুঝেই গিয়েছেন যে সেখানে সবকিছুই সরকারি হবে নতুন ব্যবস্থায় ভোগ্য বস্তু এবং জমির জন্য বিবাদ সৃষ্টি হবার কোনোরূপ সম্ভাবনাই থাকবে না এবার রইল নারী নতুন ব্যবস্থায় এই সমস্যারও সমস্ত কারণ সমাপ্ত করে দেওয়া হয়েছে নারী বলতে বোঝানো হচ্ছে মহিলা জীবন সাথী নারীর ক্ষেত্রেও বিবাদের সেই একই কারণ তা হচ্ছে মালিকানা-মনোভাব মালিকানা-মনোভাব এইজন্য উৎপন্ন হয় কারণ বর্তমান ব্যবস্থায় এমনটি করেই আমাদের সুখ সুনিশ্চিত হয়ে থাকে বর্তমান ব্যবস্থায় যা কিছুর আপনি মালিক হন তার ভোগ যখন ইচ্ছে তখন পূরণ করে নিতে পারেন এবং কোনোরূপ বাধা ছাড়াই সুখ উপভোগ করে নিতে পারেন যদিও তা ১০০ শতাংশ সত্য নয় তাই বর্তমান ব্যবস্থায় মালিক হলে সুখী হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায় আপনি মালিক নাহলে কোনোকিছু থেকে সুখ পাবেন কিনা তা নিশ্চিত থাকে না এইজন্য সকলেই মালিক হবার চেষ্টা করে থাকে তার জন্য যুদ্ধে নামার প্রয়োজন হলেও রাজি কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় আমরা কোনোকিছুর মালিক না হয়েও সমস্তপ্রকার সুখ উপভোগ করতে পারব যা এখন মালিক হয়েও পারছি না কেননা মালিক হলে তার দেখভাল ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিজেকেই করতে হয় কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় এইসব সমস্যা উৎপন্নই হবে না দেখভাল ও নিরাপত্তার তো প্রশ্নই নেই ভবিষ্যতের জন্য নিরাপত্তাহীনতার ভাবনা থাকবে না কেননা যখন যা কিছু আপনার প্রয়োজন হবে পেতে থাকবেন যখন আপনি বারবার এমনটি অনুভব করবেন যে আপনি যখনই কিছু চাইছেন পেয়ে যাচ্ছেন, এতে আপনার মধ্যে সুরক্ষার ভাবনা উৎপন্ন হবে এরপর আপনি কোনোকিছুই আর সংগ্রহ করে সঞ্চয় করে রাখতে চাইবেন না সংগ্রহ করা থেকেই মালিকানার প্রারম্ভ হয় সংগ্রহ করা এবং মালিক হওয়া একই ব্যাপার, আলাদা কিছু নয় অর্থাৎ সংগ্রহ করা এবং মালিক হওয়া একসমান বর্তমান সময়ে মহিলাদের নিয়ে যে বিবাদ তৈরি হয় নতুন ব্যবস্থায় সঠিক শিক্ষা এবং সঠিক পরিবেশের মাধ্যমে তা সমাপ্ত হয়ে যাবে বর্তমান ব্যবস্থায় নিজেদের সম্বন্ধ নিয়ে যারা একে অপরের মালিক হবার চেষ্টা করে নতুন ব্যবস্থায় তার কোনো প্রয়োজন হবে না এমনটি কেউ করতে চাইবেও না কেউ এমনতর চেষ্টা করলেও নিজের আচরণে তা দেখাতে পারবে না কেননা বাস্তবে এমনটি করা সম্ভব হবে না এইভাবে মহিলাদের নিয়ে পুরুষের যে মালিক হবার বিবাদ চলতে থাকে তা আর থাকবে না ব্যক্তিগত সম্পর্ক কেবলমাত্র তখনই সম্ভব হবে যখন একে অপরের প্রতি আকর্ষণ অথবা প্রেমের অনুভব থাকবে স্ত্রী-পুরুষ সকলে আর্থিক দিক দিয়ে স্বতন্ত্র হবে ফলে কেউ আর্থিক কারণে একে অপরের প্রতি মালিকানা মনোভাব দেখাবে না তখন একে অপরের সাথে থাকার কেবলমাত্র একটিই কারণ থাকবে এবং একটিই প্রয়োজন থাকবে তা হল বাস্তবিক প্রেম আর এরও কোনো সময়সীমা থাকবে না যতদিন প্রেম রয়েছে একসাথে থাকবে যখন প্রেম সমাপ্ত সম্পর্কও সমাপ্ত সম্পর্ক যখন সমাপ্ত সহাবস্থানও সমাপ্ত শুধুমাত্র যার সাথে প্রেম অনুভব হবে তার সাথে জীবন কাটাবে ফলে কোনো সমস্যা ছাড়াই সকলের জীবন সুখপূর্ণভাবে চলতে থাকবে

 

সকল প্রকার আবর্জনা থেকে মুক্তি

এখন যেমন হয় সকলে নিজেদের বসবাসের স্থান নিজেরা তৈরি করে নেয় নিজেরাই একে অপরের সাথে জমি-জায়গা কেনাবেচা করেকোন স্থানের ক্ষেত্রফল কতটা হবে, সড়ক কতটা চওড়া রাখতে হবে, পার্কের জন্য জায়গা ছাড়তে হবে কিনা, যদি ছাড়তে হয় তবে কতটুকু ছাড়তে হবে, বাড়ি তৈরির জন্য নক্সা কেমন হবে, এমনকি বাড়ি নির্মাণের জন্য কোন মানের দ্রব্যসামগ্রী ব্যবহার করবে ইত্যাদি সমস্ত বিষয়ে মানুষকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সিদ্ধান্ত নিতে হয় এইভাবে আরও অনেক সিদ্ধান্ত মানুষ ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঠিক করে নেয় এরপর যেসব জায়গাগুলি পড়ে থাকে সেখানে সড়ক ও পার্কের জন্য যা কিছু সামাজিক সুখসুবিধা তৈরি করা সম্ভব হয় সরকার তার জন্য প্রয়াস করে সেই সমস্ত যায়গায় মুখ্য সড়ক, গাড়ি রাখার ব্যবস্থা, বাজার এবং অন্যান্য সুখসুবিধার ব্যবস্থা করে দিতে হয় যা সরকারের পক্ষে খুবই কঠিন হয়ে পড়ে নতুন ব্যবস্থায় যা হবে বাড়িঘর তৈরির সকল ব্যবস্থা সরকার করবে বাড়ি তৈরির জন্য কতটা স্থান প্রয়োজন তা সরকার ঠিক করবে এমনকি সড়ক, পার্ক, পার্কিং, পুস্তকালয়, বিদ্যালয়, স্টেডিয়াম, সামাজিক স্থান, বাজার, নিকাশি ইত্যাদি সমস্ত ব্যবস্থা সরকার করবে বাড়ির নক্সা, বাড়ি তৈরির জন্য যাবতীয় দ্রব্যসামগ্রী এবং তার মান নির্ধারণ ইত্যাদিও সরকার ঠিক করবে এর ফলে সকল প্রকার সুবিধার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকবে এবং পর্যাপ্ত গাছপালা থাকবে বাড়িঘরের মাঝখান দিয়ে মুখ্য সড়ক থাকবে না ফলে পর্যাপ্ত নিকাশি ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হবে। আবাস স্থানের উচ্চতা সঠিক থাকলে নিকাশি ব্যবস্থাও সঠিকভাবে হবে ফলে কোথাও জল জমবে না, দুর্গন্ধ উৎপন্ন হবে না এবং বায়ু দূষণ হবে না আবাসন ব্যবস্থার কর্ম সম্পূর্ণরূপে তৈরি হয়ে গেলে তবেই সরকার মানুষকে সেখানে বসবাসের জন্য আমন্ত্রণ করবে, তার পূর্বে নয় অনেক সময় কম গুণমানের বিদ্যুতের তার আমরা বাড়িতে ব্যবহার করি, ফলে আগুন ধরে যাবার বিপদ অনেকগুণ বেড়ে যায় অনেক সময় আমরা শুনেও থাকি যে শর্ট-সার্কিটের কারণে কোথাও আগুন লেগেছে এইভাবে অন্যান্য সমস্যাগুলিও মন্দ ব্যবস্থার কারণেই উৎপন্ন হয়ে চলেছে নতুন ব্যবস্থায় এমন সমস্যা উৎপন্নই হবে না এই সকল সমস্যাগুলির সমাধানের জন্য প্রচুর সময় ও অর্থ নিরন্তর খরচ হতে থাকে এই প্রকার অসুবিধা থেকে মুক্তি মিলবে এবং জীবন অধিক সুখময় হবে কারোর ব্যক্তিগত দুশ্চিন্তা বা পরিশ্রম ছাড়াই এসব কর্ম স্বাভাবিকভাবেই হতে থাকবে। নিরাপত্তার জন্যও সময় ও অর্থ খরচ করতে হবে না ফলে বহু সংখ্যায় মানব সম্পদ ও প্রাকৃতিকভাবে সম্পদ রক্ষা হবে ব্যবহারের পর উপকারী যেসব সম্পদ অবশিষ্ট থাকবে যা মানুষ সাধারণত ফেলে দেয় সরকার সেইসব একত্রিত করবে তারপর রিসাইকেল সিস্টেমে কম্পোষ্ট সার তৈরি করে চাষের জমিতে ব্যবহার করবে এইসব বলার তাৎপর্য এই যে সরকারই সমস্ত ব্যবস্থা দেখভাল করবে জনগণের অথবা ব্যক্তিগত স্তরে কিছু দেখভাল করতে হবে না সব কাজের জন্য কর্মী সরকার নিযুক্ত করবে সরকার এমনটি কখনো বলবে না যে শহর পরিষ্কার কর যে কোনো সমস্যাকে সরকারের সমস্যা বলে ধরা হবে এবং সরকারকেই তার সমাধান করতে হবে সকলে মিলেই সরকার সরকারের বাইরে কিছুই থাকবে না

 

সম্পর্কের মধ্যে বাস্তবিক প্রেম থাকবে

 

উপরে আপনি বুঝে গিয়েছেন যে নতুন ব্যবস্থায় নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্যের কোনো কারণ উৎপন্নই হবে না বাধ্য হয়ে সম্পর্কে জড়ানোর মত কোনো কারণ থাকবে না বরং নিজেদের সম্মতিতেই সম্পর্ক তৈরি হবে বাধ্যবাধকতাবিহীন সম্পর্কের মধ্যেই তো বাস্তবিক প্রেম থাকে, যা কেবলমাত্র পরস্পরের সম্মতির উপর নির্ভরশীল থাকবে যদি সম্পর্কের বিজ্ঞানকে বুঝতে চাই তাহলে জানা যাবে যে আমরা নানারকম সম্পর্ক থেকে ভিন্ন-ভিন্ন সুখ পাবার জন্যই সকল প্রকার সম্পর্ক তৈরি করে থাকি। সম্পর্কের সুখ আমরা এমনতর পরিবেশ থেকেই পূর্ণরূপে গ্রহণ করতে পারি যেখানে কোনোপ্রকার বাধ্যবাধকতা থাকে না আমাদের সম্পর্ক শুধুমাত্র সেইসব সুখ উপভোগের জন্যই তৈরি হোক যার জন্য আমরা সম্পর্ক স্থাপন করতে চাই উদাহরণ হিসেবে পিতা-পুত্রের সম্পর্ককে ধরে নেওয়া যাক এই সম্পর্ক দত্তক নেওয়া পিতা-পুত্র অথবা বাস্তবিক পিতা-পুত্র উভয়ই হতে পারে পিতা পুত্রের থেকে এবং পুত্র পিতার থেকে পরস্পরের সাথে বসবাসের ফলে যা কিছু সুখ পেয়ে থাকে সেই সুখ সর্বাধিক হয়ে যাবে যদি দুজনেই আর্থিক দিক দিয়ে স্বতন্ত্র হয় তখনই নিজেদের মধ্যে সকল প্রকার সুখ উপভোগ করা সম্ভব যেমন পুত্র পিতার থেকে বাৎসল্য সুখ পেয়ে থাকে একইভাবে পিতা পুত্রের থেকে শিশুসুলভ ক্রীড়া ইত্যাদির সুখ পেয়ে থাকে প্রথমত দুজনেই যেন সমৃদ্ধশালী এবং আর্থিক দিক দিয়ে স্বাধীন হয় সম্পর্কের মধ্যে আর্থিক পরনির্ভরতা যত অধিক হবে ততই সেই সম্পর্ক বাধ্যবাধকতার মধ্যে থাকবে এবং উক্ত সম্পর্ক থেকে সুখের পরিবর্তে দুঃখ অধিক উৎপন্ন হবে বর্তমানে পিতা পুত্রকে সর্বাধিক ভালবাসা এবং প্রেমপূর্ণ ব্যবহার করতে সঙ্কোচ বোধ করে, কারণ যদি তিনি অধিক প্রেমপূর্ণ ব্যবহার করেন তবে পুত্র এমন কোনো বস্তু দাবী করে বসতে পারে যা পিতার আর্থিক পরিস্থিতির বাইরে এমনটি হলে পিতা সঙ্কোচ অনুভব করবেই এবং অধিক ভালবাসা থেকে বিরত থাকবে যখন পিতা অধিক ভালবাসা দিতে সঙ্কোচ করবে সেখানে পুত্র কীভাবে অধিক প্রেমপূর্ণ ব্যবহার করবে? দ্বিতীয়ত পুত্রকে ভালবাসার কারণ হচ্ছে পিতা সর্বদাই পুত্রের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ তৈরির ইচ্ছেয় সেইরূপ শিক্ষা গ্রহণে বাধ্য করতে থাকবে হতে পারে পুত্রের তাতে রুচি নেই ফলে পিতা এবং পুত্রের মধ্যে সম্পর্কের দূরত্ব বাড়বে, সঙ্কোচ তৈরি হবে এবং দুজনে একে অপরের থেকে দূরে থাকতে চাইবে কখনো অজুহাত দেখাবে, কখনো মিথ্যে বলবে, কখনো একে অপরের প্রতি ক্রোধ উৎপন্ন হবে কেননা পুত্র পিতার ইচ্ছে অনুযায়ী কর্ম করছে না এইভাবে আমরা যদি সকল সম্পর্ককে বোঝার চেষ্টা করি তবে দেখব পিতার কাছে যদি পর্যাপ্ত অর্থ না থাকে, যদি পুত্রের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত না থাকে এবং যদি দুজনে একে অপরের কাছে আর্থিকভাবে নির্ভরশীল থাকে তাহলেও পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক গভীর হয় না সেখানে দূরত্ব যেমন থাকবে তেমনি একটি আলগা মনোভাব তৈরি হবে ভেতর থেকে দুজন দুজনকে কাছে চাইছে কিন্তু পরিস্থিতি সেখানে দুজনকে বিপরীত দিকে প্রেরিত হতে বাধ্য করে দিচ্ছে এমনতর সম্পর্ক গভীরে যেতে পারে না তারা এই সমস্যাকে ব্যক্তও করতে পারবে না অন্যান্য সকল সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একইভাবে বুঝে নিতে হবে এইসব অভিজ্ঞতা আমরা নিজেদের জীবনে অনুভব করেই থাকি যদিও এইসব বিষয় বুঝতে পারাটাও একেবারে কঠিন নয় নতুন ব্যবস্থায় সমৃদ্ধি যেমন চরম শিখরে থাকবে এবং তেমনি সকলে আর্থিকভাবে স্বতন্ত্রও থাকবে কোনো প্রকারের পরনির্ভরতা আমাদের জীবনে থাকবে না যার কারণে কোনো দুঃখ উৎপন্ন হতে পারে আশ্চর্যের কথা এই যে আর্থিক দিক দিয়ে স্বতন্ত্র হোক বা পরতন্ত্র হোক সম্পদ একইরকম খরচ হয়ে থাকে কেবলমাত্র সঠিক ব্যবস্থা এলেই এত বড় পার্থক্য আসবে যে পরনির্ভরতা থাকবে না শুধুমাত্র স্বাধীনতা থাকবে খাবার তো সকলে গ্রহণ করছে তা সে যেভাবেই হোক না কেন, আবার কোনো না কোনো স্থানে তো তারা বসবাস করছেই সেখানে ঘর থাকুক বা না থাকুক কাপড়ও পরছে তা সে পুরনো হোক বা ছেঁড়া মানুষ ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবন কাটাক বা অপরাধের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে জীবন কাটাক, জীবন-যাপন তো তারা করছে তাহলে প্রাকৃতিকভাবে সম্পদ ও মানব সম্পদের ব্যবহার তো হয়েই চলেছে ব্যবহারই নয় অপব্যবহারও হয়ে চলেছে তাহলে কেন একটি সঠিক ব্যবস্থা স্থাপন করে সবকিছু  সুপরিকল্পিতভাবে ব্যবস্থিত করব না? যেখানে কোনোপ্রকার দুঃখ উৎপন্ন হবে না কেবলমাত্র সুখ উৎপন্ন হবে। যার মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবে সম্পদ এবং মানব সম্পদের সদুপয়োগ হবে এবং পরিণাম স্বরূপ আসবে কেবলমাত্রই সুখ

 

ছোট বড় সকল যুদ্ধের চিরকালীন অবসান

সকল প্রকার দ্বন্দ্ব, বিবাদ, ছোট বড় যুদ্ধ, কলহ, লড়াই ইত্যাদির মূল কারণ এটিই যে সকলে সম্পূর্ণরূপে নিজেদের ইচ্ছে অনুযায়ী জীবন-যাপনের সুযোগ সুবিধা পাচ্ছি না। বর্তমান ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেখানে সর্বদা সকল বস্তুর অভাবই প্রতীয়মান হচ্ছে যার কারণে সকলে প্রয়োজনীয় বস্তু সংগ্রহ করার জন্য নিজের মত করে প্রয়াস করতে থাকে আগামীকাল পাব কিনা এই ভয়ে সে অধিক সংগ্রহ করে রাখতে চায় সে পুরো জীবন সংগ্রহ করা সেইসব বস্তুর সুরক্ষা দিতেই কাটিয়ে দেয় এই জন্যই সমাজে বিভিন্ন বস্তুর অভাব অধিক হতে থাকে একদিকে মন্দ ব্যবস্থার কারণে সকলের কেনাকাটা করার সামর্থ্য থাকে না, যে কারণে বাজারে চাহিদা এবং বস্তুর নির্মাণ অনেক কম থাকেএরপর সংগ্রহ করার প্রবণতার জন্য কিছু মানুষ সমস্তকিছু সংগ্রহ করে নেয় ফলে সকল বস্তুর শুধুমাত্রই অভাব দেখা দেয় আমরা সকলে জানি যে বিশ্বের ১ শতাংশ লোকের কাছে প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থ রয়েছে যার কাছে সোজা পথে রোজগারের ব্যবস্থা নেই সে ভাবতে থাকে অর্থ কোথা থেকে আসবে এবং সোজা পথ না পেয়ে একসময় সে অন্য কোনো পথের সন্ধান করতে থাকে বলার প্রয়োজন নেই যে ওইসব পথগুলি আইনের বিপরীত দিকের হয় অর্থাৎ অপরাধের পথ অপরাধ যখন একটি সীমা ছাড়িয়ে যায় তখন তা ছোট বড় যুদ্ধে পরিবর্তিত হয় অপরাধ যে স্তরের হয় সেই স্তরের যুদ্ধের জন্ম দেয় ব্যক্তিগত যুদ্ধ, পারিবারিক যুদ্ধ, সামাজিক যুদ্ধ এবং সমষ্টিগত যুদ্ধ এই চার স্তরের যুদ্ধ জগতে দেখা যায় এইভাবে আমরা বুঝে নিতে পারি যে মুখ্য সমস্যা মূলত কোথায় রয়েছে সেটি হচ্ছে ভুল ব্যবস্থা দ্বারা তৈরি অসমান অর্থশাস্ত্র

 

ক্ষতিকারক উৎপাদন সামগ্রী থেকে মুক্তি

বোমা, যুদ্ধের জন্য অস্ত্রশস্ত্র, ভেজাল খাদ্য পদার্থ, ধূমপান সম্পর্কিত উৎপাদন সামগ্রী, নেশা সম্পর্কিত বস্তু ইত্যাদি যা কিছু থেকে সমাজে কোনোপ্রকার দূষণ ছড়ায় সেইসব বস্তু সরকার উৎপাদনই করবে না এইসবের মধ্যে যেসব বস্তুসামগ্রী সমাজের জন্য জরুরী সেসবের বিতরণ সরকার সামাজিক ক্ষেত্রে করবে যেন কম উৎপাদন দিয়েই সকলের চাহিদা পূরণ হয়ে যায় সেইসব বস্তুর সঠিক বিকল্প হিসেবে সরকার বৈজ্ঞানিকদের মাধ্যমে গবেষণা করাবে, ফলে প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং দূষণ কম হবে অবশিষ্ট দূষণকে সরকার বৈজ্ঞানিক উপায়ে সঠিক করে নেবে কেননা নতুন ব্যবস্থায় সকল প্রকার উৎপাদন সরকার দ্বারা পরিচালিত হবে অর্থাৎ সমস্তপ্রকার দূষণ সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকবে ফলে দূষণ হয়তো উৎপন্নই হবে না অথবা হলেও ন্যুনতম হবে বৈজ্ঞানিক উপায়েও দূষণের উপর সমতা প্রদান করা হবে

 

সুস্বাস্থ্য এবং আয়ু বৃদ্ধি

আমরা তো সকলেই জানি ভ্রষ্ট ব্যবস্থায় মানুষ সর্বদা কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে সর্বদা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকে অধিকাংশ মানুষের কাছে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা এতই স্বল্প যে তারা ভালোভাবে জীবন-যাপন করতেই পারে না খাদ্য সামগ্রী, জল, বায়ু ইত্যাদি দূষিত অবস্থায় থাকে এমনকি স্বাস্থ্য সম্পর্কিত জরুরী পরিষেবাগুলিও সঠিকভাবে উপলব্ধ থাকে না শিক্ষাও সকলের জন্য ঠিকঠাক উপলব্ধ থাকে না ফলে অধিকাংশ মানুষ জানেই না আয়ুর বৃদ্ধি এবং আয়ুর হ্রাস কী কারণে হয়ে থাকে তাই তারা এইসব দিকে খেয়াল রাখতে পারে না এবং বহু অসুখের সাথে জীবন কাটায় তৎসহ আয়ুও কমতে থাকে নতুন ব্যবস্থায় এইসব বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকবে না স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমস্ত পরিষেবা উচ্চমানের হবে বৈজ্ঞানিকরাও আয়ু বৃদ্ধির জন্য অনুসন্ধান করবে নতুন ব্যবস্থায় ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা থাকবে না যে আগামীকালের জন্য খাবার কোথা থেকে আসবে, সন্তানদের শিক্ষার বন্দোবস্ত কীভাবে হবে, তাদের লালন পালন কীভাবে হবে, বড় হলে চাকরি হবে কিনা ইত্যাদি সমস্ত দিক দিয়ে জীবন সুরক্ষিত থাকবে এবং সকল প্রকার সুখ সর্বদা ভরপুর থাকবে আর্থিক দিক দিয়ে সকলে স্বাধীন হবে এই প্রকার চিন্তামুক্ত ব্যবস্থায় সকলের সুস্বাস্থ্য বজায় থাকবে এবং জীবনের আয়ু আপনিই বাড়তে থাকবে ইতিহাস পড়লে আপনি জানতে পারবেন যে সকল দেশে সুখ প্রদানকারী ব্যবস্থা অধিক মাত্রায় রয়েছে সেইসব দেশের গড় আয়ু বেড়েছে সুতরাং আমাদের নতুন ব্যবস্থায় গড় আয়ু দ্রুত বেড়ে যাবে

 

মানসিক সুখ প্রাপ্তি

মানসিক সুখ প্রাপ্তির জন্য সর্বপ্রথমে আমাদের অন্তঃকরণের বিকাশ আবশ্যক সঠিক শিক্ষা দ্বারা অন্তঃকরণের বিকাশ হয় অন্তঃকরণ চতুষ্টয় অর্থাৎ মন, বুদ্ধি, চিত্ত ও অহংকারের বিকাশ করতে হয় বা তাদের সংস্কার করতে হয় শিক্ষার মাধ্যমে অবগত করাতে হয় যে এই জীবন কীসের জন্য এবং কীভাবে জীবনের সেইসব লক্ষ্য পূরণ করে জীবন কাটাতে হয় ইত্যাদি তার জন্য একটি ভাষার প্রয়োজন হয়, যার মাধ্যমে আমরা একে অপরের সাথে বার্তালাপ করতে পারি এবং সকল শিক্ষাকে সহজেই গ্রহণ করতে পারি গণিত যার মাধ্যমে আমরা গণনা করতে পারি এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি সংজ্ঞান যার মাধ্যমে জীবনের জন্য আবশ্যক সকল তথ্য নিজের স্মৃতিতে রাখতে পারি এবং জীবনযাপনের লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী তা যেন প্রয়োগ করতে পারি আর জীবন দর্শন যার মাধ্যমে আমরা জীবনের সারমর্ম এবং দিশানির্দেশজনিত জ্ঞান যেন গ্রহণ করতে পারি এই প্রকার সঠিক দিশা প্রদানকারী শিক্ষা থেকে আমরা একে অপরের সহযোগিতায় সুখী জীবন-যাপন করতে পারব তাহলে নিজেদের মধ্যে কোনো অন্তর্বিরোধ উৎপন্ন হবে না, যার ফলে সকলের মানসিক শান্তি বজায় থাকবে মানসিক শান্তিতে থিতু হয়ে আমরা সকল প্রকার মানসিক সুখ উৎপন্ন করতে পারব এবং নিজেদের ইচ্ছে অনুযায়ী সেই সুখ উপভোগ করে সুখী হতে পারব এতে আমাদের মন ও বুদ্ধি এক গতিপথে থাকবে ভাষার মাধ্যমে মনের বিকাশ হয়, গণিতের মাধ্যমে বুদ্ধির বিকাশ হয়, সজ্ঞানের মাধ্যমে চিত্তের বিকাশ হয় এবং দর্শনের মাধ্যমে অহংকারের বিকাশ হয়ে থাকে মানসিক সুখের জন্য মন ও বুদ্ধিই হচ্ছে মুখ্য ভিত জ্ঞান, কর্ম এবং ভোগের উপর মন ও বুদ্ধির বিশেষ যোগদান রয়েছে নিজেদের রুচি অনুযায়ী মানসিক স্তরের ক্রীড়া থেকেও আমরা জ্ঞান, কর্ম, ভোগ, বিশ্রাম ইত্যাদির সুখ গ্রহণ করতে পারব

 

ভবিষ্যতের প্রতি সুরক্ষার ভাবনা

বর্তমানে সময়ে আপনি দেখছেন সকল মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে নিরাপত্তাহীনতার দুশ্চিন্তায় আচ্ছন্ন রয়েছে এই ভেবেজানি না আগামীকাল কি হবে আগামীকালের জন্য সুখ সুবিধার বন্দোবস্ত করতে পারব কিনা ইত্যদি। যাদের কাছে সম্পদ মজুত রয়েছে তারাও ভাবছে কেউ এসে না আবার সব চুরি করে নেয় অথবা ছিনিয়ে না চলে যায়। ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষ এই প্রকার বহু দুশ্চিন্তা এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভয়ে ভয়ে থাকে তারা যখন নতুন ব্যবস্থায় কিছুকাল জীবন-যাপন করে অনুভব করবে যে তাদের যখন যা কিছু প্রয়োজন হচ্ছে সহজেই পেয়ে যাচ্ছে তখন ধীরে ধীরে ভবিষ্যতের প্রতি সুরক্ষার ভাবনা আসতে থাকবে বলতে গেলে তারা নিশ্চিত হতে থাকবে যে উদ্বিগ্ন হবার কোনো কারণ নেই যখন যা কিছুর প্রয়োজন হবে তা তো সকলে পেয়েই যাবে এরপর জীবনে হায় হায় কি হবে এইসব নেতিবাচক ভাবনা সমাপ্ত হয়ে যাবে এবং মানুষ এক সন্তুষ্টির ভাবনা প্রাপ্ত করবে সর্বদা তাদের জীবনে ভরপুর সুখ অবস্থান করে থাকবে কারোর জীবনে কোনোপ্রকার পীড়া থাকবে না ফলে জীবন শান্তিময় হবে

 

আত্মিক সুখের প্রাপ্তি

আত্মিক সুখ প্রাপ্তির জন্য অন্তঃকরণ চতুষ্টয়ের মধ্যে চিত্ত এবং অহংকারের বিশেষ যোগদান থাকে জীবন সম্পর্কে জ্ঞান প্রাপ্তির ইচ্ছে সকলের সমানরূপে থাকে চারপাশে আমরা সেই জ্ঞানেরই অনুরূপ জীবন অনুভব করি অর্থাৎ আমরা চারিদিকে যতদূর অবধি দেখতে পাই সকলকে সুখী দেখতে পাই নিজের সুখী জীবন, আপনজনদের সুখী জীবন, এমনকি আমাদের দৃষ্টি যতদূর অবধি যায় সেই পর্যন্ত যেন সকলে সুখী অনুভব করতে পারে এতে নিজের জন্য এবং সকলের জন্য আমাদের ভেতরে এক শান্তি ও সন্তুষ্টির বাতাবরণ উদয় হয় কোনো প্রকারের দুশ্চিন্তা থাকে না আমাদের সকল ইচ্ছে সময়মত পূরণ হতে থাকে ভবিষ্যতের জন্য কোনো সমস্যা আর দেখা দেয় না এই প্রকার অবস্থার কারণে আমরা নিজেকে আত্মিক দিক দিয়ে তৃপ্ত মনে করি আপন মনে জীবনের প্রকৃত অর্থ উপলব্ধি হয় এমনটি আর মনে হয় নাজগৎ হচ্ছে দুঃখের সাগর বরং এমন মনে হয় যে এই জগৎ শুধুমাত্র সুখেরই সাগর মূলত অধিকাংশ মানুষের জীবনে সর্বদা দুঃখ থাকার কারণে তারা জীবন মরণের চক্র থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে থাকে। যাকে আমরা মোক্ষ বলে জানি তা প্রাপ্তির চেষ্টাই সম্পূর্ণ জীবনে দেখতে পাওয়া যায় এমন ভাবনার ফলে জীবনের বাস্তবিক কোনো অর্থ খুঁজে পাওয়া যায় না মনে হয় পৃথিবীতে জন্ম নিয়ে কোনো পাপ করে ফেলেছি অথবা কেউ আমাদের শাস্তি দেবার জন্যই জন্ম দিয়েছেন, সেই সাজা আমরা এই জীবনে পূরণ করে চলেছি। ঈশ্বরের কাছে প্রতিনিয়ত প্রার্থনা করে চলেছি হে ঈশ্বর আমাদের এই নরক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দাও এর ভিত্তিতেই আমাদের পূর্বপুরুষরা জগতে সকল দর্শনশাস্ত্র নির্মাণ করেছেন এবং নানা উপায় খুঁজে বের করেছেন কীভাবে এই সংসারের চক্র থেকে মুক্তি পাওয়া যায় বর্তমান সময়ে পৃথিবীতে ১০টিরও অধিক মুখ্য দর্শনশাস্ত্র প্রচলিত রয়েছে সেসবে এটিই বলা হয়েছে যে মোক্ষ কীভাবে প্রাপ্তি হবে সেইসব দর্শনশাস্ত্রগুলি এই প্রকার মুক্তিলাভের আধারেই নির্মিত হয়েছে এর মধ্যে ৬টির অধিক তো ভারতেই রয়েছে সমস্ত দর্শনশাস্ত্রে স্বর্গ অথবা বৈকুণ্ঠ নামক কোনো এক স্থানের কথাই বলা হয়েছে যা এই জগতে নেই কিন্তু অন্য কোথাও রয়েছে তার বাস্তবিক অবস্থান জানা নেই কিন্তু সমস্ত সুখ, শান্তি এবং আনন্দ সেই স্থানেই রয়েছে আপনি কেবলমাত্র মৃত্যুর পরেই সেখানে পৌঁছাতে পারবেন তার পূর্বে নয়। ভয়কে নিয়েও নরক নামের আরেকটি স্থানের কথা বলা আছে যেখানে পৃথিবীর চাইতে অনেক বেশী দুঃখ রয়েছে সেখানেও আপনি মৃত্যুর পরেই প্রবেশ করতে পারবেন এখন প্রশ্ন হচ্ছে সেই স্বর্গ এই পৃথিবীতে কেন হতে পারে না অবশ্য এই বিষয়ে দর্শন কিছুই বলে না জীবনের উদ্দেশ্য কী এই বিষয়েও দর্শন সঠিক কোনো উত্তর দেয় না মানুষের সমগ্র জীবন অসঙ্গতি এবং অজ্ঞানের অন্ধকারে সমাপ্ত হয়ে যায় কোনো সঠিক জ্ঞান সে অর্জন করতে পারে না

 

যদি সঠিকভাবে চিন্তা করা যায় তবে বোঝা যাবে যে দর্শন একটিই হওয়া উচিত ভিন্ন-ভিন্ন দর্শন থাকলে মানুষ সর্বদা সন্দেহের মধ্যে থাকে এই ভেবে কোন দর্শনটি মূলত সঠিক বহু প্রয়াস করার পরও যখন সে সঠিক দর্শনের খোঁজ পায় না তখন কোনো একটি দর্শনকে নির্বাচন করে বেঁচে থাকার অসফল প্রয়াস করতে থাকে সঠিক দর্শন দিয়ে এইসব অজ্ঞানের নিবারণ করা সম্ভব এমনটি হলে মানুষের জীবনে কোনো অসঙ্গতি থাকবে না মানুষ নিশ্চিতভাবে সুখী এবং সফল জীবন-যাপন করতে পারবে এমন ব্যবস্থায় মানুষ পূর্ণরূপে সুখ অনুভব করতে পারবে তখন আমরা নিজেকে ভেতর এবং বাহির উভয় দিক থেকে প্রকৃত অর্থে সুখী অনুভব করব এই অবস্থাকেই আমরা আত্মিক স্তরের সুখ বলতে পারি প্রত্যেক স্তরের মানুষ সকল প্রকার জ্ঞান, কর্ম, ভোগ এবং বিশ্রামকে প্রাপ্ত করে নিজেদের সুখী অনুভব করতে পারে

 

প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমাপ্তি

সমাজের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তখনই উৎপন্ন হয় যখন জ্ঞান, কর্ম, ভোগ এবং বিশ্রামের অভাব দেখা দেয় অর্থাৎ জ্ঞান, কর্ম, ভোগ এবং বিশ্রামের যত অভাব হবে তা পাবার জন্য নিজেদের মধ্যে তত বেশি টক্কর হবে এই টক্করকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা বলে এমনতর অবস্থা যখন ঘটে তখন অধিকাংশ মানুষ যারা নিজেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার উপযুক্ত মনে করে না তারা বলহীন হয়ে চুপচাপ ওই সকল লোকদের কাড়াকাড়ির লড়াইটা দেখতে থাকে কিছু লোক ক্ষমতানুযায়ী সবকিছু  দখল করে বসে পরিণাম এটিই হয় যে কিছু লোকের কারণে অধিকাংশ মানুষের জীবন দাসত্বে পরিণত হয় যারা সম্পদ দখল করে বসে পড়ে তারা এদের দাস বানিয়ে ফেলে এই দাসদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য মূলত খাবারটুকুই প্রদান করা হয়, তার বদলে সব রকম শোষণ করতে থাকে এমনকি সমস্তপ্রকার পরিষেবাও এদের থেকেই পেয়ে থাকে শারীরিক, মানসিক, ভাবনাত্মক, আত্মিক সকল প্রকারের শোষণ চলতে থাকে এই শ্রেণীর মানুষ শোষিত হতে বাধ্য থাকে সমস্ত কর্ম দাস করে দেয় কিন্তু তার ফল গুটিকয়েক লোক ভোগ করে থাকে একটি কথা আমরা বলতে শুনিবীর ভোগ্য বসুন্ধরা, যার অর্থ কেবলমাত্র বীরপুরুষরাই দুনিয়ার সবকিছু  ভোগ করতে পারে ভ্রষ্ট ব্যবস্থায় এমনটিই হয়ে থাকে কখনো সখনো দাসদের মধ্য থেকে কোনো বলশালী মানুষ তৈরি হয়ে যায়সে তিনি তথাকথিত বীরদের সাথে লড়াই করে এই প্রকার ব্যক্তিরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে মৃত্যুবরণ করে কেননা বলশালীদের কাছে নানা রকমের সুরক্ষার সরঞ্জাম থাকে সেইসব ঠেকানো অনেক কঠিন হয়ে পড়ে কখনো কখনো আবার কেউ জিতেও যায় তার ফলে ব্যবস্থার মধ্যে কিছুটা পার্থক্য এসে যায় নাহলে এই শোষক-শোষিত ব্যবস্থা এমন ভাবেই চলতে থাকে এইভাবেই সামাজিক জীবন চলতে থাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সকলের মনোযোগ ওইসব সীমিত সম্পদকে ছিনিয়ে নেবার মধ্যেই ঘোরাফেরা করে তারা এটি চিন্তা করে না বা বোঝার চেষ্টা করে না যে আমরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পদকে বিকশিত করে নিই এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা, লড়াই, বিবাদ ইত্যাদি থেকে মুক্ত হয়ে যাই এর ফলে সম্পদ সর্বদাই সীমিত হতে থাকে, তৎসহ আমাদের জীবনে সর্বদা প্রতিদ্বন্দ্বিতাও লেগেই থাকে এইভাবে আমরা না বুঝে পরিস্থিতির বশে একে অপরের জন্য দুঃখ উৎপন্ন করতে থাকি এটি ততদিন অবধি চলতে থাকে যতদিন অবধি আমাদের মধ্য থেকে বুদ্ধিমান কেউ উঠে না আসে যিনি এই ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তন-মনন করবেন এবং সমাধান বের করবেন একসময় কেউ না কেউ সমাধান বের করে নেন এবং জনগণের সামনে এসে সেই সমাধানকে ব্যাখ্যা করেন যদি জনগণ সেই সমাধানকে বুঝে নেয় এবং স্বীকার করে নেয় তবে তা ব্যবস্থার অঙ্গ হয়ে যায় এভাবেই নিরন্তর ব্যবস্থা তৈরি হতে থাকে এবং সংশোধন হতে থাকে আর এই সংশোধন ততদিন অবধি চলতে থাকে যতদিন অবধি আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পদের ঘাটতি পূরণ না হয় নতুন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সম্পদের ঘাটতি খুব সহজেই পূরণ হয়ে যাবে এর ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও সমাপ্ত হয়ে যাবে এবং স্বাভাবিকভাবেই পরস্পরের সহযোগিতার উদয় হবে আরেকটি ভাববার বিষয় এইযারা সম্পদ দখল করে রয়েছে তারাও সম্পদকে সঠিকভাবে ভোগ করতে পারছে না এমনকি তাদের জীবনও সর্বদা আতঙ্কের মধ্যে কাটছে তবে এটি ঠিক যে তাদের জীবন এইসব দাসদের থেকে অনেকগুণ ভাল এদের মধ্যেও এমন অনেক সমস্যা রয়েছে যা আবার দাসদের মধ্যে নেই তাহলে সব মিলিয়ে বলতে হয় সকলেই দুঃখী এবং অসন্তুষ্ট জীবন কাটাচ্ছে এবার উপায় একটিই রয়েছে তা হল ব্যবস্থাকে সঠিক করে নেওয়া অন্যের উপর দোষ চাপানো নয় দুই পক্ষ একে অপরের প্রতি আরোপ-প্রত্যারোপ করলে কাজের কর্ম কিছু হয় কি? এতে কিছুই প্রমাণিত হয় না কেবলমাত্র অর্থ, সময় এবং সম্পদেরই অপচয় হয় আবার অভিযোগ করলেও তো সেই ব্যবস্থাকেই সর্বাগ্রে সঠিক করে নিতে হবে তাই না? ব্যবস্থা সঠিক হলে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্মই হবে না

 

সহযোগিতা স্থাপন

আমরা সকলে পরস্পরকে সহযোগিতা করলে সকলের জন্য প্রয়োজনীয় বস্তু, পরিষেবা এবং সমস্ত সুখসুবিধা ইচ্ছানুযায়ী উপলব্ধ হতে থাকবে নতুন ব্যবস্থাকে বুঝে নিলে এমনটি অনুভবও হবে


 
 এতে মানুষ সহযোগিতার সুবিধা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার লোকসানকে বুঝতে পারবে এরপর তারা স্বাভাবিকভাবেই সহযোগিতার প্রতি উৎসুক হবে এবং অগ্রসর হবে ব্যবস্থাও তাদের সেই দিকেই প্রেরিত করবে কেননা আমি নতুন ব্যবস্থায় সেইসব কারণগুলিকে নির্মূল করে দিয়েছি যা মানুষকে নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে বাধ্য করে। এই ব্যবস্থার কাঠামো আমি এমনভাবে তৈরি করেছি যার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভবই হবে না সকলে স্বেচ্ছায় কেবলমাত্র সহযোগিতার জন্যই অগ্রসর হবে এইভাবে সহযোগিতার ভাবনা স্থাপিত হবে যার মাধ্যমে বসুধৈব কুটুম্বকমের অভিপ্রায় বাস্তবায়িত হবে অর্থাৎ সম্পূর্ণ সংসারই আমাদেরে হচ্ছে কুটুম্ব আমরা সকলে একই বৃক্ষের বিভিন্ন বীজ

 

সমস্ত অপরাধের কারণ গোড়া থেকে নির্মূল হবে

সকল অপরাধ সুখসুবিধা অর্জনের জন্যই সংঘটিত হয়ে থাকে নতুন ব্যবস্থায় তো সকল প্রকার সুখসুবিধা অতি সহজেই সকলের পছন্দ অনুযায়ী প্রাপ্ত হতে থাকবে ফলে সমাজে সমস্ত অপরাধের অবসান হয়ে যাবে নতুন ব্যবস্থা এমন করেই তৈরি করা হয়েছে যে কেউ চাইলেও কোনোপ্রকার অপরাধ করতে পারবে না কারণ এমনটি করে তার অতিরিক্ত কিছুই লাভও হবে না কেননা সকলে সমস্ত প্রয়োজনীয় লাভ তো আপনা আপনি পেতেই থাকবে অপরাধ থেকে যখন অতিরিক্ত কিছুই লাভ হবে না বরং ক্ষতিই হবে তখন মানুষ কেন অপরাধ করার কথা ভাববে মানুষ এখন মিথ্যে এইজন্য বলে কেননা এতে তাৎক্ষণিক বা ভবিষ্যতের জন্য কোনো না কোনো লাভের সম্ভাবনা জড়িয়ে থাকে কোনোপ্রকার লাভ ছাড়া বড় কোনো অপরাধের সম্ভাবনা কীভাবে উদয় হবে? একইরকমভাবে আমরা বুঝে নিতে পারি যে নতুন ব্যবস্থায় কোনো অপরাধের জন্মই হবে না সকলে নির্ভয়ে ন্যায়পূর্ণ জীবন-যাপন করবে

 

সকল প্রকার নেতিবাচকতার সমাপ্তি

উপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝে গিয়েছি যে সীমিত সম্পদের অসম্পূর্ণ বণ্টনই হচ্ছে আমাদের জীবনের সকল প্রকার নেতিবাচকতার কারণ সম্পদ বিকশিত না করতে পারার কারণ হচ্ছে আমাদের ভেতরে জ্ঞানের অভাব আরেকটু খুলে বললে বাইরে একটি কারণ রয়েছে এবং ভেতরে আরেকটি কারণ রয়েছে আমাদের ভেতরে বোধের অভাব এই যে প্রাকৃতিকভাবে সীমিত সম্পদ রয়েছেআমরা এই ভাবনাকে মুখ্য কারণ বলে মনে করি যখন আমাদের ভেতরে বোধ উৎপন্ন হবে যার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারব যে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে সেইসব সম্পদগুলিকে ভাল করে ভোগ করতে পারছি না যেসব ইতিমধ্যে আমাদের কাছে রয়েছে পরস্পরের মধ্যে সম্পদ নিয়ে কাড়াকাড়িই হচ্ছে এর কারণ তাহলে একটি সঠিক ব্যবস্থা তৈরি নেওয়া হোক প্রথমত আমাদের কাছে যে সকল সম্পদ রয়েছে তা সমানভাবে বিতরণ করে দেওয়া এবং দ্বিতীয়ত যে সম্পদ কম রয়েছে তা ব্যক্তিগত ভোগের বদলে সামাজিক স্তরে ব্যবহারের ব্যবস্থা করে দেওয়া এতে সমস্ত সম্পদ সকলে ভোগ করতে পারবে এবং কখনো অভাব অনুভব হবে না যেসব সম্পদ পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে সেসবের ব্যবহার সকলে ব্যক্তিগত ভিত্তিতে করতে পারবে যেমন যুদ্ধে সকল প্রকার সম্পদ বিনষ্ট হয়ে থাকে সঠিক ব্যবস্থা এলে আমাদের জীবন থেকে সকল প্রকার নেতিবাচকতা উৎপন্ন হওয়াই বন্ধ হয়ে যাবে এবং একটি ইতিবাচক পরিবেশের উদয় হবে এক নতুন জীবনের সঞ্চার ঘটবে। বলা যায় এক নতুন যুগের সূত্রপাত হবে যা সম্ভবত এর পূর্বে কখনো হয়নি

 

সকল প্রকার প্রচার থেকে মুক্তি

এই যে টিভিতে আমরা নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভিন্ন-ভিন্ন প্রচার বা বিজ্ঞাপন দেখে থাকি, অথবা পথে পথে হোর্ডিং দেখে থাকি নতুন ব্যবস্থায় এইসব সমস্যাও থাকবে না। প্রচারের জন্য একটি ওয়েবসাইট থাকবে যেখানে আপনি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনো প্রোডাক্ট অথবা পরিষেবা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন আমি দেখেছি টেলিভিশনে যখন কোনো অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয় তখন অনবরত বিজ্ঞাপন আসতে থাকে, এতে আমরা খুবই অসুবিধে অনুভব করি প্রথমত আমরা কোনো বিজ্ঞাপন বিরতি ছাড়াই সকল অনুষ্ঠান দেখতে চাই দ্বিতীয়ত পথে টাঙানো বিজ্ঞাপন বোর্ডের কারণে বিভিন্ন প্রকার দুর্ঘটনা ঘটে থাকে কেননা বিজ্ঞাপনের আকর্ষণ অনেক সময় মানুষের নজর কেড়ে নেয় ফলে দুর্ঘটনা ঘটে যায় কখনো প্রবল বাতাসের প্রবাহে এইসব হোর্ডিং মানুষের উপর আছড়ে পড়ে একদিকে প্রাণ অপরদিকে অর্থের হানি হয়। নতুন ব্যবস্থায় কাগজ, রঙ ইত্যাদি বস্তুর বিরাট সাশ্রয় হবে এইসব হোর্ডিং তৈরি করতে যেসব মেশিন ব্যবহার হয় তারও কোনো প্রয়োজন থাকবে না ফলে প্রাকৃতিকভাবে সম্পদ সাশ্রয় হবে সেসব সম্পদ আমরা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করতে পারব এসব কাজে মানুষের যে শ্রমশক্তি ব্যবহার হয় তা থেকেও মুক্তি মিলবে ফলে আমাদের কাছে পছন্দসই জীবন-যাপন করার সময় অধিক থাকবে সকলের গৃহে সর্বাধুনিক এবং বড় মাপের টেলিভিশন থাকবে আমরা অধিক সুখ উপভোগ করতে পারব কোনো বিজ্ঞাপনের বাধা ছাড়াই

 

সত্য, প্রেম, ন্যায় এবং পুণ্যের উদয়

আমরা সহজেই বুঝতে পেরেছি যে সঠিক ব্যবস্থা থাকলে ব্যক্তি সত্যকে কেন্দ্র করে জীবন-যাপন করবে পরিবারের সদস্যরা পরস্পরকে ভালবাসবে, সমাজে সকল নাগরিক ন্যায়ের পথে জীবন কাটাবে এবং সমষ্টির মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই সমতা বজায় থাকবে, বাধ্য হয়ে বা জোরপূর্বক নয় বাইরে এবং ভেতরে সকল প্রকার শান্তি সর্বদা বজায় থাকবে জীবনে লড়াই বিবাদের কোনো কারণই আর অবশিষ্ট থাকবে না সকলে যখন সমস্ত সুখসুবিধা সমানভাবে পেতে থাকবে তখন সকলের জীবনস্তর একসমান হবে সকলে যা জানতে চাইবে সহজেই জেনে নিতে পারবে, যা করতে চাইবে করতে পারবে, যা ভোগ করতে চাইবে ভোগ করতে পারবে পারিবারিক সমস্যার সম্ভাবনা থাকবে না, সামাজিক সমস্যার সম্ভাবনা থাকবে না, সমস্যা উদয় হলেও সহজেই সমাধান হয়ে যাবে এরপর আর কি নিয়ে নিজেদের মধ্যে লড়াই করব? কীসের জন্য নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব? কীসের জন্য চুরি বা অপহরণের কথা ভাবব? কারোর নেতিবাচক কারণে অন্যরা কীসের জন্য কষ্ট পাবে? আমি তো এইসবের কোনো কারণ দেখছি না এরপরও যদি আপনাদের মনে কারণ দেখা দেয় তবে অবশ্যই আমার জ্ঞানবর্ধন করাবেন আমি এতে অত্যন্ত প্রসন্ন হব সেই নির্দিষ্ট কারণকে দূর করে এই ব্যবস্থাকে অধিক সুখকর বানানো যাবে

 

পারিবারিক সুখ প্রাপ্তি

পরিবারের ভেতরেও সকল বিবাদের মূলে আর্থিক কারণই থাকে সে দরিদ্র হোক অথবা ধনী হোক ভবিষ্যতের ভয় নিয়ে দু-পক্ষের মনই এই ভেবে অশান্ত থাকে যে ভবিষ্যতের জন্য কি জানি কতটা অর্থ পর্যাপ্ত থাকবেসকলে এই দুশ্চিন্তায় নিজ নিজ সম্ভাবনার কথা ভেবে সর্বাধিক অর্থ একত্রিত করে রাখতে চায় বিষয়টি এমন যে তারা নিশ্চিত হতে পারে না ঠিক কতটা অর্থ নিজেদের জন্য পর্যাপ্ত হবে অনবরত তারা অর্থ একত্রিত করেই যায় এমনটি কখনও চিন্তা করে না যে কবে সেই অর্থ ব্যবহার করবে নাকি একত্রিত করাটাই শুধুমাত্র উদ্দেশ্য ছিল কিন্তু নতুন ব্যবস্থাকে আমি অনেকটা এইরকমভাবে নির্মাণ করেছি যেখানে অর্থ একত্রিত করার না কোনো কারণ থাকবে, না কেউ একত্রিত করতে পারবে যেখানে পরিবারের কোনো সদস্যই একে অপরের উপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল থাকবে না তারা কেবলমাত্র তখনই একে অপরের সাথে থাকবে যখন তারা অনুভব করবে একে অপরের সাথে থাকলে সুখ পাওয়া যায় পরিবার তৈরির পেছনেও একমাত্র কারণ থাকবে প্রেম যারা একে অপরকে দেখে অনুভব করবে যে, একে অপরের সাথে থাকলে সুখী হব তারাই কেবলমাত্র পরিবারের মত বসবাস করবে পরে যদি মনে হয় একে অপরের সাথে সুখ অনুভব করছে না তবে তারা স্বেচ্ছায় আলাদা হতে পারবে এবং আরেকটি নতুন পরিবার তৈরির খোঁজ করতে পারবে এতে সকলের পারিবারিক জীবন সর্বদা সুখী থাকবে। এমনটি তো ভালই, যারা যেমন উদ্দেশ্য নিয়ে সম্বন্ধ তৈরি করেছে তাদের তেমন কারণেই জন্যই একসাথে বসবাস করা উচিত তবেই সম্পর্কের সার্থকতা থাকে যদি সকলের আর্থিক অবস্থা সমান থাকে, সঠিক শিক্ষা থাকে তবেই তো পরিবার সুখে থাকবে পরিশেষে, প্রেমই পারিবারিক সম্বন্ধের আধার হওয়া উচিত অন্য কিছু নয়

 

সামাজিক সুখ প্রাপ্তি

সামাজিকভাবে সকলে সুখী তখনই হবে যখন সকলের আয় সমান হবে এবং সকলের কাছে তাদের ইচ্ছানুযায়ী সবকিছু  থাকবে সকলের কাছে ভরপুর সুখসুবিধা থাকবে এবং সকলে সুরক্ষিত থাকবে এতে জ্ঞান-বিজ্ঞানও সঠিক পথে চালিত হতে থাকবে এমন ব্যবস্থায় সুখের নতুন নতুন উপকরণ নিরন্তর উৎপন্ন হতে থাকবে এর বাইরে অন্য কোনো কারণ অবশিষ্ট থাকে না যাতে সামাজিক স্তরে দুঃখ উৎপন্ন হয় সমাজের আধার হচ্ছে ন্যায়, যার অর্থ হচ্ছে সকলের সমান অধিকার অর্থাৎ প্রয়োজনীয়তা এবং ইচ্ছানুযায়ী যা কিছু প্রয়োজন তা মিলতে থাকা সার্বজনিক সুখসুবিধাও সকলে সর্বদা সমানভাবে পেতে থাকবে এই প্রকার সমাজে নিজেদের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় থাকে স্ত্রী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ সকলে রাত-দিন যে কোনো সময় নিজেকে সবদিক থেকে সুরক্ষিত অনুভব করাটাই হচ্ছে কোনো সমাজে সুখের আদর্শ অবস্থা আমার গবেষণা অনুযায়ী নতুন ব্যবস্থায় এই সুরক্ষিত অবস্থার বিষয়টি অতি শীঘ্রই এসে যাবে আপনার কি মনে হয়? যদি আপনাদের মধ্যে কারোর সিদ্ধান্ত ভিন্ন হয় তবে তার কারণসহ আমায় অবশ্যই জানান

 

সমষ্টিগত সুখ প্রাপ্তি

যদি পৃথিবীতে সবকিছু র মধ্যে সুখ এবং ভারসাম্য থাকে তাহলে বুঝবেন এটি আদর্শ অবস্থা এই ব্যবস্থায় না কোনো দুঃখ থাকবে না কোনো দূষণ থাকবে সকল মানুষ এবং সকল পশু-পক্ষী সুখী হোক, বৃক্ষ-বনস্পতি চারিদিকে সবুজ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকুক, কোনো বস্তু বা পদার্থ দূষিত না হোক অর্থাৎ জল, বায়ু, খাদ্য ইত্যাদি সবকিছু  দূষণমুক্ত হোক তাহলেই বুঝবেন আমরা সকলে সমষ্টিগত দিক থেকে ভরপুর সুখী সমষ্টিগত সুখের আধার হচ্ছে পুণ্য

প্রাকৃতিকভাবে সম্পদের সুনিশ্চিত সদুপয়োগ

মানুষ এমনটি বলে থাকে যে প্রাকৃতিকভাবে সম্পদ হচ্ছে সীমিত চলুন কিছুক্ষণের জন্য এটি মেনে নিই এবং বোঝার চেষ্টা করি কীভাবে নতুন ব্যবস্থায় প্রাকৃতিকভাবে সম্পদের সুনিশ্চিত সদুপয়োগ হবে কিছু উদাহরণের মাধ্যমে এটি জানার চেষ্টা করি কীভাবে বর্তমান সময়ে প্রাকৃতিকভাবে সম্পদের অপপ্রয়োগ হচ্ছে চলুন একটি সড়কের উদাহরণ নিই আজকাল সড়ক তৈরি হবার পর খুব বেশী হলে ৬ মাস থেকে ১ বছর অবধি ঠিক থাকে অর্থাৎ ভেঙ্গে যায়। তারপর ভাঙা সড়কের উপর দিয়ে যানবাহন চলাচলে সেই পথ আরও দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় পুনরায় নতুন করে তৈরি করতে হয় এমনকি যানবাহনের টায়ারও দ্রুত ক্ষয়ে যাবার ফলে ঘনঘন বদলাতে হয় পথে গর্ত থাকার কারণে যাত্রীগণের সমস্যা তো আলাদা যানবাহনের ইঞ্জিন এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশও দ্রুত মন্দ হয়ে যায় যে বাহন ২৫ বছর চলার কথা তা ১০ বছর পর ব্যবহারের উপযোগী থাকে না এইভাবে প্রতি বছর যানবাহনসহ অন্যান্য সম্পদের অযাচিত ব্যবহার চলতে থাকলে দুদিকেই প্রাকৃতিকভাবে সম্পদের অধিক ব্যবহার হবে এবং দূষণও অধিক হবে আমরা যদি একইরকমভাবে নতুন ব্যবস্থায় যানবাহন এবং সড়কের উদাহরণ নিয়েই বোঝার চেষ্টা করি তাহলে পার্থক্য করাটা সহজ হবে নতুন ব্যবস্থায় সমস্ত গাড়ি সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে এবং নতুন অর্থশাস্ত্র সামাজিক লাভের ভিত্তিতেই সমস্ত কার্য পরিচালনা করবে। ফলে উন্নতমানের সড়ক তৈরি হবে যা এখন বিভিন্ন রকম দুর্নীতির কারণে তৈরি হতে পারে না প্রথমত আমার তথ্য যদি সঠিক হয় তবে আমাদের এখন কাছে যতটা আধুনিক কলাকৌশল এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান রয়েছে যার মাধ্যমে ২০ বছর অবধি টিকে থাকবে এমন সড়ক নির্মাণ করতে পারি চলুন এর অর্ধেক ধরে নিই তাহলেও ১০ বছর তো দ্বিতীয়বার সড়ক মেরামতের প্রয়োজন হবে না এতে ১০ গুণ প্রাকৃতিকভাবে সম্পদের সাশ্রয় হবে দ্বিতীয়ত এতে ১০ গুণ সময় সাশ্রয় হবে, ফলে আমরা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ কর্ম করতে পারব অথবা অন্য কোনো সুখ উপভোগ করতে পারব যা সময়ের অভাবে উপভোগ করা হয়ে ওঠেনা এতে প্রাকৃতিকভাবে সম্পদের সাথে সাথে মানব সম্পদেরও সাশ্রয় হবে যানবাহনও ২৫ বছর অবধি ভাল থাকবে সড়ক তৈরি করার মেশিনও অধিক ব্যবহার হবে না মানব সম্পদ এবং প্রাকৃতিকভাবে সম্পদের অপপ্রয়োগ হবে না নতুন ব্যবস্থায় এইভাবে সকল সম্পদের সঠিক ব্যবহার হবে খাদ্য পদার্থের ক্ষেত্রেও আমরা একইরকমভাবে বুঝে নিয়েছি বর্তমান ব্যবস্থায় কোন খাদ্য পদার্থের কতটা চাহদা রয়েছে অথবা ভবিষ্যতে কতটা চাহিদা হতে পারে সে সম্পর্কে সরকারের কাছে সঠিক তথ্য থাকে না

বর্তমানে কৃষক বন্ধুরা একপ্রকার অনুমান করে ফসল চাষ করে এবং উৎপাদন হয়ে গেলে বুঝতে পারে কিছু ফসল অধিক উৎপন্ন হয়েছে তখন তারা বুঝতে পারে ফসল চাহিদার তুলনায় অধিক হবার কারণে সঠিক মূল্য পাওয়া যাবে না তখন কৃষক বন্ধুরা তাদের প্রিয় ফসল বাজারে এবং সড়কে ফেলে চলে যায় এতে প্রাকৃতিকভাবে সম্পদ এবং মানব সম্পদের শুধুমাত্র অপপ্রয়োগই হয়ে চলেছে। এর ফলে যেসব দুঃখ উৎপন্ন হচ্ছে তার কথা আলাদা এবার এই সমস্যাটিকে নতুন ব্যবস্থায় বোঝার চেষ্টা করি নতুন ব্যবস্থায় চাহিদার দিকটি মুক্ত থাকবে চাহিদার পরিমাণ পূর্ব হতেই জানা যাবে এরপর সরকারের মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে কর্মরত ব্যক্তিদের জানিয়ে দেওয়া হবে কোথায় কোন ফসল কতটা পরিমাণে উৎপন্ন করতে হবে এতে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন হবার কারণে এবং সম্পূর্ণ কার্য সরকার দ্বারা পরিদর্শকের কারণে কোনো ফসল অধিক উৎপন্ন হবে না অথবা কমও উৎপন্ন হবে না ব্যক্তিগত হানির সম্ভাবনা তো থাকবেই না প্রাকৃতিকভাবে সম্পদ এবং মানব সম্পদের অপপ্রয়োগও হবে না, বস্তুর মানও বজায় থাকবে এইরকমভাবে অন্য সব প্রোডাক্টের ক্ষেত্রেও বুঝে নিতে পারি যেখানে প্রাকৃতিকভাবে সম্পদ এবং মানব সম্পদের অপপ্রয়োগ হয়ে থাকে শুধুই অপচয় হতে থাকলে প্রাকৃতিকভাবে সম্পদ সীমিত হবার সম্ভাবনাও বেড়ে যায় অপরদিকে মানব সম্পদেরও অনাবশ্যক অপপ্রয়োগ হতে থাকেপ্রাকৃতিকভাবে সম্পদ সীমিত এই সমস্যাটি নতুন ব্যবস্থায় থাকবে না এবং থাকলেও খুবই ন্যুনতম থাকবে তাহলে উপরের চিন্তন-মনন থেকে আমরা বুঝতে পারি যে নতুন ব্যবস্থায় সবকিছু  ঘনিষ্টভাবে একে অপরের সাথে সংযুক্ত থাকবে। একটি মন্দ হয়ে গেলে অন্যটিও মন্দ হয়ে যায়। সেইজন্য আমাদের সবকিছুই সঠিক অবস্থায় রাখতে হবে এমন ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে যেন মন্দ হবার কারণই না থাকে অথবা মন্দ কিছু উৎপন্ন হতেই না পারে সর্বদা কারণের উপর কার্য করা উচিত, প্রভাবের উপর নয় এই বিষয় নিয়ে অমূলক কিছু বলে থাকলে আমার সাথে আলোচনা করতে পারেন আপনাদের সকলকে আগাম স্বাগত আমার কোনো কথায় কেউ যদি আঘাত পেয়ে থাকেন তবে আমি ক্ষমাপ্রার্থী মন্দ ব্যবস্থায় যতই না সঠিক বলার চেষ্টা করা হয় তাতে কোনো না কোনো উপায়ে আঘাত লেগেই যায় এটিকে মন্দ ব্যবস্থার নেতিবাচক ফল বলা যায় কাউকে আঘাত করা আমার অভিপ্রায় নয় সকলে কীভাবে সর্বদা সুখী থাকবে এই উদ্দেশ্য পূরণের জন্যই আমি প্রয়াস করে চলেছি যদি কারোর মনে হয় তার কাছে নতুন ব্যবস্থায় যুক্ত করবার এর থেকেও ভাল কিছু আছে যাতে মানুষ অধিক সুখী হতে পারে তবে আমার প্রার্থনা এইআপনি আমার কাছে আসুন এই পুস্তককে অধিক উৎকৃষ্ট করতে আমায় সহযোগিতা করুন আপনাকে বক্তব্য পরিবেশনের পুরো সুযোগ প্রদান করা হবে আরও ভাল হবে যদি আপনি তার একটি খসড়া বানিয়ে নিয়ে আসেন এতে আপনার কথা সহজেই বুঝতে পারব এবং আপনিও সহজে বুঝে নিতে পারবেন

আপনার জন্য অন্তর থেকে ধন্যবাদ রইল।

 

                                                    ***


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?