পুঁজিবাদী অর্থনীতিকে ধ্বংস করে নয় বরং ব্যবহার করেই বিকল্প অর্থনীতি গড়তে হবে


মার্কস মহাশয় পুঁজিবাদের পাশাপাশি পুঁজিপতির কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। পুঁজিবাদ থেকে সমাজবাদ হয়ে সাম্যবাদে পৌঁছানোর বিকল্প ব্যবস্থা রচনা করেছিলেন। মূল মাধ্যম শ্রেণী সংগ্রাম, সশস্ত্র বিপ্লব। সমাজবাদ-সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে শাস্তিপূর্ণ-সশস্ত্র-গণতান্ত্রিক পথ সহ একাধিক উপায় অবলম্বন করা হয়েছে। জনগণও নিরাশ করেনি, ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করেছে, সুযোগ দিয়েছে। একাধিক দেশে কম্যুনিস্ট পার্টি একছত্র ক্ষমতা ভোগ করেছে, করে চলেছে। এরপরও মার্কস সাহেবের কাঙ্খিত উদ্দেশ্য পূরণ সম্ভব হয়নি।

পুঁজিবাদকে সরাতে হলে পুঁজিবাদের তুলনায় অধিক উন্নত, অধিক সুবিধাজনক বিকল্প অর্থশাস্ত্র-অর্থনীতি প্রয়োজন। পুঁজিপতির সমালোচনা কিংবা হনন সমাধান নয়। পরবর্তী যে অর্থনীতিই আসবে তা পুঁজিবাদকে বিনষ্ট করে আসতে পারে না। পুঁজিবাদকে ব্যবহার করেই আসতে হবে। 

মার্কস তাঁর সময়ের অবস্থা-ব্যবস্থা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, অভিজ্ঞতা-বোধ অনুযায়ী সমাধানের পথ রচনা করেছিলেন। একইসাথে সময়োপযোগী পরিবর্তনশীলতার-প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করতে ভোলেননি।

সময়োপযোগী-উপযোগিতার নিয়মেই বলা যায় বর্তমান সময়ের অবস্থা-ব্যবস্থা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, অভিজ্ঞতা-বোধ অনুযায়ী সমাধানের পথ রচিত হওয়া আবশ্যক। পূর্বের জ্ঞান-বিজ্ঞান, চেতনা, অভিজ্ঞতা বর্তমান সময়ে হুবহু কাজে আসবে না। মধ্যযুগীয় কায়দায় সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে আর যাই হোক শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। এতে সহিংসতার পুনরাবৃত্তিই ঘটিত হয় মাত্র।

পুঁজিবাদ কিংবা পুঁজিপতির ধ্বংস নয়, উভয়কে সঙ্গী করে, ব্যবহার করে বিকশিত আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার অভিমুখে সম্মিলিত উদ্যোগ হবে প্রকৃত পদক্ষেপ।


উল্লেখ্য:

বাংলাদেশে আন্দোলনের শুরুতে সাম্যবাদী বিপ্লবীদের বিরাট আগ্রহ-অনুপ্রেরণা ছিল। সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছিল বিরাট মার্কেটিং। আগষ্ট মাসে সরকারের পতন ঘটে বা ঘটানো হয়। বৃহৎ বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান সহ একাধিক সরকারি সম্পদ-ব্যক্তিগত সম্পদ বিনষ্ট করা হয়েছে। হত্যা-হিংসা-অরাজকতা যেন নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। দেশে অভাব, মূল্যবৃদ্ধি সহ চরম আর্থিক সংকট দেখা দিচ্ছে। একদিকে সরকার অর্থ উপার্জনের নানা কৌশল খুঁজছে অপরদিকে জনগণও ভিন্ন দেশে পাড়ি দেবার সুযোগ খুঁজছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির বিরাট অংশ আসে ভিন্ন দেশে কর্মরত নাগরিকের উপার্জন থেকে। পরিবারগুলোতে এই উপরি অর্থপ্রাপ্তি না ঘটলে সরকারের উপর চাপ দ্বিগুণ হয়ে যেতো। এমনতর বিধ্বংসী বিপ্লবের পর অর্থনীতি শূন্য থেকে শুরু করতে হয়। যা অপরের দান-দক্ষিণা ব্যতীত সম্ভব নয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট উল্লেখিত করবার কারণ হচ্ছে চলমান অসম্পূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ধ্বংস নয় বরং পূর্ণাঙ্গ অর্থব্যবস্থা নির্মাণের মাধ্যমে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ।


অর্থাৎ আমাদের এমন এক বিকল্প আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রণয়ন করতে হবে এবং গ্রহণ করতে হবে যা শ্রেণী-ধর্ম-সংস্কৃতি নির্বিশেষে নিত্যদিন উন্নয়নের দিকে, সমৃদ্ধির দিকে, সুখের দিকে অগ্রসর করবে।

***

মতামত জানাতে পারেন। আলোচনায় আগ্রহী বন্ধুদের আমন্ত্রণ।


#economics #politics #Education #employment #security #technology #development #togetherness #ratantata #karlmarx #socialist #communism #socialism #communists #communistpartyofindia #CommunistPartyOfIndiaMarxist #everyone #highlight @highlight

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?