এই পুস্তক রচনার উদ্দেশ্য
এই পুস্তক রচনার উদ্দেশ্য
আমি প্রকৃতি, মনুষ্য, জীবজন্তু, বনস্পতি, জড়-চেতন, এমনকি স্বয়ং নিজেকে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ দিক থেকে গভীরভাবে
অধ্যয়ন করেছি। অধ্যয়নের পর যা অনুভব করেছি এবং উপলব্ধি করেছি তা প্রয়োগ
করার জন্য আমি সম্পূর্ণ নতুন এক বিশ্বব্যবস্থা নির্মাণ করেছি। এই নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত
হলে এবং চলমান থাকলে জগতের সমস্ত প্রাণী সকল প্রকার অভীষ্ট সুখ উপভোগ করতে পারবে, এমনকি ভবিষ্যতেও কোনোপ্রকার
দুঃখের উদয় হবে না। এই ব্যবস্থায় সকল প্রকার জ্ঞান, কর্ম এবং ভোগের বিতরণ এমনভাবে
করা হয়েছে যেখানে কাউকে কোনোপ্রকার দুঃখ না দিয়ে সকলের কাছে তাদের ঈপ্সিত জ্ঞান, কর্ম এবং ভোগ সুনিশ্চিতভাবে
পৌঁছাতে পারবে। অর্থাৎ এই ব্যবস্থা দ্বারা সকলেই যেন পূর্ণরূপে সর্বদা সুখী জীবন উপভোগ করতে পারে
এই হচ্ছে আমার মূল অভিপ্রায়।
যদি আপনি এই পুস্তক অধ্যয়ন করে নতুন
ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা বুঝে থাকেন ঠিক যেমনভাবে এবং যেমন উদ্দেশ্য নিয়ে আমি এই পুস্তক
রচনা এবং বর্ণনা করেছি যে নতুন ব্যবস্থায় সকলেই স্থায়ীরূপে সুখী হবে তবে আপনার কাছেও
এই আশা রাখি আপনি অবশ্যই অন্য সকলকে এই পুস্তক সম্পর্কে অবগত করাবেন। আপনার এই সহযোগিতা
আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়ক হবে। এটি সামাজিক কর্ম যা একজনের দ্বারা সম্ভব নয়। ফলে সকলের
কাছ থেকে সমস্ত রকমের সহযোগিতা আবশ্যক। যখন সকলে এই ব্যবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়ে এই সিদ্ধান্তে
পৌঁছে যাবে যে এই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে আমাদের জীবন সমস্তরকম সুখের দ্বারা পরিতৃপ্ত
হবে তখন এটিকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সকলকেই প্রয়াস করা উচিত। এমনটি সম্ভব হলে তবেই আমাদের
ইচ্ছেগুলি বাস্তবে রুপায়িত হবে এবং এমনতর ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠিত করা সকলের জীবনের পরমলক্ষ্য হওয়া উচিত। তবেই প্রত্যেকে সকল প্রকার
সুখ উপভোগ করতে পারবে। এই পুস্তক নির্বাচন করার জন্য হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে আপনাকে
অভিনন্দন ব্যক্ত করছি। আশা করছি পুস্তকটি অধ্যয়নের পর আপনি সকল সমস্যার মূল
কারণ জেনে যাবেন এবং সকল প্রকার সুখের প্রাপ্তি কীভাবে সম্ভব হবে তাও বুঝে যাবেন। তারপর শুধুমাত্র নতুন ব্যবস্থাকে
প্রতিষ্ঠিত করার কর্ম অবশিষ্ট থাকবে। বর্তমান ব্যবস্থা চলাকালীন সময়ে এই নতুন ব্যবস্থাকে যারা
যতখানি আমল দেবে ঠিক সেই দিন থেকেই তারা মানসিকভাবে ততখানি সুখী হয়ে উঠবে। আর, সকলেই পূর্ণরূপে সুখী তখনই হবে যখন
এই পুস্তকে বর্ণিত নতুন ব্যবস্থা আমাদের কাছে চলে আসবে। এই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত
হবার পর আর কাউকে ভিন্নভাবে অন্য কোনো প্রয়াস করতে হবে না। কারণ এই ব্যবস্থার মাধ্যমে
আমাদের প্রয়োজনীয় সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই পূরণ হতে থাকবে। এই পুস্তক অধ্যয়নের পর
আপনি এমন অনেক বিষয় জানতে পারবেন যা পূর্বে জানতেন না। আপনার মানসিক ক্ষমতা এবং বৌদ্ধিক ক্ষমতারও বিকাশ ঘটবে। যার দ্বারা আপনার সিদ্ধান্ত
নেবার ক্ষমতা বেড়ে যাবে। আপনি জানতে পারবেন আমাদের সকলের জীবনের উদ্দেশ্য কী এবং
কীভাবে তা পূরণ হতে পারে। হয়তো বা এইপ্রকার বিষয়বস্তু নিয়ে এটি আপনার জীবনে প্রথম
পুস্তক হবে যা সরাসরি আপনার-আমার জীবনের সাথে সংযুক্ত কথাগুলোকে সরাসরি প্রকাশ করে দেবে এবং আমাদের জীবনের
সমস্ত রহস্যের আবরণ অতি সহজেই উন্মোচিত করে দেবে। এমনকি বহুকাল ধরে চলে আসা
যে মান্যতা, ‘সকলের জীবন পূর্ণরূপে সুখী করা সম্ভব
নয়’ এমন মিথকেও ভেঙ্গে দেবে।
এখনও অবধি আমরা সকল মহাপুরুষদের কাছ থেকে এটিই শুনে আসছি
এবং পড়ে আসছি যে এই সংসার হচ্ছে দুঃখের সাগর, এখানে কেউ সুখী হতে পারবে না। যেমন‒ দুঃখ থেকে যদি বাঁচতে চাও তবে পূজা কর, পাঠ কর, নামাজ পড়, দান কর, মানুষের সেবা কর, মন্ত্র জপ কর, ধ্যান কর, সমাধিস্থ হও, মন্দিরে যাও, গির্জায় যাও, মসজিদে যাও, ভোগী হবে না, যতটুকু আছে ততটুকুতেই সন্তুষ্ট থাক, দীন-দুঃখীদের সেবা কর, অধিক সময় ভগবানের সেবায় উৎসর্গ কর— ইত্যাদি বহু প্রকারের
বাক্য আমরা শুনে থাকি। যদি সবগুলি লিপিবদ্ধ করতে যাই তবে এই বিষয়ের উপরই একটি ছোট্ট
পুস্তিকা রচিত হয়ে যাবে। ‘সম্পূর্ণ সমাধান’ পুস্তক অধ্যয়নের পর এই প্রকার ভ্রমগুলি
আপনার ভেঙ্গে যাবে। আপনি এটিও বুঝে যাবেন যে মানুষ মানুষের দুঃখের কারণ নয়
বরং ভ্রষ্ট ব্যবস্থা দায়ী। আপনার ভেতর একটি আশার সঞ্চার জাগ্রত হবে এবং আপনিও বলে
উঠবেন দুঃখের জীবন অনেক হয়েছে। এই সংসার দুঃখী হবার জন্য রচিত হয়নি বরং পূর্ণরূপে সুখী
হবার জন্যই রচিত হয়েছে। সুখী হবার সেই সকল উপায়গুলিকেও এই পুস্তকে সহজ-সরলভাবে পূর্ণাঙ্গ ব্যখ্যাসহ বর্ণনা
করা হয়েছে। সামান্য বোধসম্পন্ন ব্যক্তিও তা অতি সহজেই বুঝে যাবেন। এরপরও যদি কোনো প্রশ্ন
উদয় হয় তবে আপনি সরাসরি আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনার প্রশ্নের উত্তর প্রদানের
জন্য আমি সমস্তরকম প্রয়াস করব।
RZF- 1/252,
Gali- 2A Mahaveer Enclave,
Palam Village,
S.W. Delhi-45
Mob-901338342 প্রেমজীৎ সিরোহী

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন