অধ্যায় ৪: সুখের প্রকারভেদ


অধ্যায়

 সুখের প্রকারভেদ

এবার আমাদের এটি বুঝতে হবে যে নতুন ব্যবস্থার অন্তর্গত এই সুখ মূলত কী, কত প্রকার এবং আমরা তা কীভাবে উপভোগ করতে পারি? যে সকল অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের তৃপ্তি অনুভব হয় এবং প্রকৃতির কোনো নিয়মকে লঙ্ঘন করে না সেইসব বিষয়কেই আমরা সুখ বলতে পারি বুঝে নেবার সুবিধার দিক থেকে আমরা সুখকে চার ভাগে বিভক্ত করতে পারি

জ্ঞানের সুখ

কর্মের সুখ

ভোগের সুখ

বিশ্রামের সুখ

 

জ্ঞান সুখের অভিপ্রায় এটিই থাকে যে আমরা সারা জীবন জানতে, পড়তে শিখতে চাই কর্ম সুখের অভিপ্রায় এটিই থাকে যে আমরা যোগ্যতা ইচ্ছে অনুযায়ী কর্ম করতে চাই এর বাইরে আরও কিছু কর্ম রয়েছে যা আমরা পারিবারিক বা ব্যক্তিগত স্তরে সম্পন্ন করতে চাই যা থেকে প্রকৃতির মধ্যে যেন কোনো দোষ উৎপন্ন না হয়

ভোগ সুখের অভিপ্রায় এটিই থাকে যা কিছু ভোগ্য বস্তু সুখসুবিধা রয়েছে সেইসব নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী যখন চাইব ভোগ করতে পারব বিভিন্ন প্রকার খেলায় অংশ নিতে চাওয়া অথবা অন্য কারোর খেলা দেখতে চাওয়াও হতে পারে যেমন নৃত্য, সংগীত ইত্যাদিতে অংশ নিতে চাওয়া বা অন্যের পারফর্মেন্স দেখতে চাওয়া আর বিশ্রাম সুখের অভিপ্রায় এটিই যে আমরা কাজের পর আরাম করতে চাই অথবা স্বপ্ন সুখের আনন্দ নিতে চাই এটি বিশ্রাম অবস্থাতেই সম্ভব তাহলে মুখ্যরূপে এই চার প্রকারের সুখ হয়ে থাকে এবং এদের অধিক সরলভাবে বোঝার জন্য একে অপরের দৃষ্টিকোণ থেকে আরও বিভাজিত করে নিতে পারি

 

) ব্যক্তিগত সুখ

খ) পারিবারিক সুখ

গ) সামাজিক সুখ

ঘ) সমষ্টিগত সুখ

. ব্যক্তিগত সুখ

এখানে ব্যক্তিগত সুখের অর্থ বলতে বোঝায় কোনো জীবের নিজের ব্যক্তিগত সুখ যেমন তার কি ভাল লাগে, কি খেতে পছন্দ করে, কেমন যায়গায় থাকতে পছন্দ করে, কোন খেলা দেখতে এবং খেলতে পছন্দ করে, সারাদিনের রুটিন কেমন রাখতে পছন্দ করে, কেমন কাপড় পরতে পছন্দ করে, কেমন প্রকার সম্পর্ক পছন্দ করে, কি কি বিষয় জানতে ইচ্ছে হয় ইত্যাদি। এই যে এত রকম ইচ্ছে যা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির সাথেই সম্পর্কযুক্ত এসবই ব্যক্তিগত সুখের অন্তর্গত কেননা মানুষ পৃথিবীর সর্বাধিক বুদ্ধিমান প্রাণী তাই আমাদের তাদের দিয়েই শুরু করা উচিত কারণ মানুষ যদি সঠিক ভাবে জীবন-যাপন করতে পারে তবে তাদের অন্যান্য সমস্তকিছু এই ব্যবস্থায় যুক্ত করতে সুবিধা হবে এমনকি মানুষকেই তো সমস্ত কিছুকে ব্যবস্থাযুক্ত করতে হবে, আর তো কেউ আসবে না সেসব ব্যবস্থানুকূল করার জন্য তাহলে আমরা বুঝতে চেষ্টা করি যে মানুষের সুখ কীসের মধ্যে নিহিত রয়েছে মানুষের ব্যক্তিগত সুখকে বোঝার জন্য এটিকেও আমরা চারভাগে বিভক্ত করতে পারি তাহলে বোঝার পথ অধিক সুগম হয়ে যাবে অবশিষ্ট প্রাণীদের ক্ষেত্রেও একইরকমভাবে বুঝে নিতে হবে যদিও অন্যান্য প্রাণীদের মধ্যে শারীরিক সুখই হচ্ছে প্রমুখ অবশিষ্ট সুখগুলি গৌণ হয়ে থাকে ব্যক্তিগত সুখকে আমরা চারভাগে বিভক্ত করতে পারি।

 

শারীরিক স্তরের সুখ

মানসিক স্তরের সুখ

ভাবনাত্মক স্তরের সুখ

চেতনাত্মক স্তরের সুখ

 

শারীরিক স্তরের সুখ

আমাদের সকলের শরীর আহার-বিহারের কারণেই সুখী অবস্থায় থাকে অর্থাৎ সুস্থ থাকে আমাদের সকলের শরীর একই প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি আবার এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলিকে পরিবেশ অনুযায়ী আহাররূপে গ্রহণ করলে শরীর জীবিত থাকে সঠিক নিয়মে ঘুমোলে, বিশ্রাম নিলে, বসলে, চললে, দৌড়লে, ওজন তুললে, মালিশ করলে, ব্যায়াম করলে, স্নান করলে, ঋতু অনুসারে বস্ত্র চয়ন ইত্যাদির কারণে সুস্থ থাকা যায় প্রথমত, আহার এমন হতে হবে যেন তা সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর হয় দ্বিতীয়ত, সেই আহার গ্রহণ করার পর শরীর যেন কোনো ভাবে অসুস্থ না হয়অথবা বাসি ভোজন যেন গ্রহণ না করা হয় ইত্যাদি যদি এইসব কথার খেয়াল রাখা যায় তবে আমরা সকলে শারীরিক স্তরে সুখী থাকবে পারব এভাবে বিহারের ক্ষেত্রেও আমরা একইরকম সিদ্ধান্ত নিতে পারি যদি আমাদের ব্যায়াম, ওঠাবসা ইত্যাদি আরামদায়ক এবং সুন্দর হয় তবে এইসব থেকেও আমরা শারীরিকভাবে সুখী হতে পারি

 

মানসিক স্তরের সুখ

মনের স্তরে নিজস্ব একরকম সুখ থাকে যেমন জ্ঞান আহরণ করা, কল্পনা করা, গল্প/কবিতা/উপন্যাস ইত্যাদি পড়ে আনন্দ আহরণ করা, কৌতুক বা হাস্যরস উপভোগ করা ইত্যাদি এই কল্পনা শক্তির কারণেই আমাদেরকে মানুষের সংজ্ঞা দেওয়া হয় মানসিক বিকাশের জন্যই মানসিক সুখের ইচ্ছে উদয় হতে থাকে সমস্তরকম বিষয়ের সুখকেই মানসিক সুখ বলা হয় যেমন শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস, গন্ধ এই পাঁচ প্রকার বিষয় মনের অন্তর্গত এবং এই সকল বিষয় নিয়ে তার জ্ঞান হতে শুরু করে এই পাঁচ বিষয়ের সাহায্য নিয়ে সে বিভিন্ন কল্পনা করতে শুরু করে আবার এই পাঁচটি বিষয় শুধুমাত্র শরীরের মধ্যেই আবদ্ধ থাকে না, তা বিকশিত হয়ে কল্পনার ডানা জুড়ে অন্তর আকাশে যাত্রা করে বহিরাকাশে তেমন করেই কার্যকলাপের চেষ্টা করতে থাকে অন্তরাকাশ জ্ঞানের আধারে মনুষ্য নানা কিছুর নির্মাণ করতে থাকে কেননা প্রাকৃতিক ব্যবস্থার পরিকাঠামো তার কাছে স্বল্প বলে মনে হয় তখন সে অধিক রুচিকর শব্দ ও রুচিকর সঙ্গীত শুনতে চায় রুচিকর স্পর্শ অনুভব করতে ও রুচিকর পোশাক পরিধান করতে চায় সে চারিদিকে রুচিকর সৌন্দর্য রুচিকর নৃত্য দেখতে চায় রুচিকর রস পান করতে চায়, রুচিকর ভোজন গ্রহণ করতে চায় এবং রুচিকর গন্ধ অনুভব করতে চায় এইভাবে সে এই পাঁচপ্রকার বিষয়গুলোকে নিজের রুচি অনুযায়ী রস আস্বাদন করে সুখী হতে চায় আবার প্রয়োজন অনুযায়ী সে এইসবকে তৈরিও করে নিতে পারে কেননা প্রকৃতি থেকে এইসব বিষয় সহজে গ্রহণ করা যায় না নিজের জ্ঞান অনুযায়ী নানারকম কল্পনা করে বিভিন্ন প্রকার বিষয়ের সাথে প্রাকৃতিক উপাদানের মেলবন্ধন ঘটিয়ে তা বানিয়ে নেয় বিভিন্ন প্রকার খেলাধুলো তৈরি করে নেয়, নিজে অংশগ্রহণ করে অথবা অন্যের খেলা দেখেও সুখ অনুভব করে সুতরাং মানসিক স্তরের সুখ এই পাঁচটি বিষয়ের উপর সম্পর্কিত মানসিক স্তরের সুখ অনুভবকে আমরা সঠিক তখনই বলব যখন উপরিউক্ত বিষয়গুলো আপনার শরীর মনের জন্য সবদিক দিয়ে উপকারী রুচিকর হবে

 

ভাবনাত্মক স্তরের সুখ

ভাবনাত্মক সুখ হল আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের দ্বারা নির্মিত সুখ নানারকম সম্পর্ক থেকে আমরা বিভিন্ন প্রকারের সুখ অনুভব করে থাকি যেমন মায়ের কাছ থেকে মাতৃসুখ, পিতার কাছ থেকে পিতৃসুখ, ভাইয়ের কাছ থেকে ভিন্ন সুখ, বোনের কাছ থেকে ভিন্ন সুখ, দাদু-দিদিমা এবং যাদের সাথে আমাদের যেমন সম্পর্ক তাদের থেকে সেইরূপ সুখের প্রাপ্তি হয়ে থাকে। আমরা বিভিন্ন মানুষজনদের সাথে সম্পর্ক অনুযায়ী সেইরূপ ব্যবহার করে থাকি এইভাবে সেই সম্পর্কের মাধ্যমে একটি বিশ্বাস তৈরি হতে থাকে তার ফলে আমাদের ভেতরে সেই প্রকার প্রেমের উদয় হতে থাকে এর ফলস্বরূপ আমাদের জীবনে সুখের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে আমাদের সম্পর্কের বিস্তার যত বেশী হতে থাকবে সুখের মাত্রাও ততধিক হতে থাকবে জগতে আমরা ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক সম্পর্ক, সমষ্টিগত সম্পর্ক ইত্যাদি সম্পর্কগুলি পেয়ে থাকি যে ব্যক্তি যেমন সম্পর্কের ভেতর যতটা গভীরে প্রবেশ করতে পারে সেই ব্যক্তি সেইরূপ স্তরের ভাবনাত্মক সুখ পেয়ে থাকে এবং অনুভব করতে থাকে সম্পর্কের সুখ ততক্ষণ অবধি থাকে যতক্ষণ অবধি সেই লোকজন আমাদের পছন্দ অনুযায়ী হয় দুপক্ষই সুখ অনুভব করে এবং এদের উপর কোনো সম্পর্ক চাপিয়ে দেওয়া হয় না যখন কোনো সম্পর্ক প্রত্যক্ষ বা অপ্রত্যক্ষভাবে বাধ্য হয়ে তৈরি হয় তখন এমনতর সম্পর্ক মূলত দাসত্ব এবং বন্ধন তৈরি করে সন্তুষ্টি প্রদান করে না এটি মানুষকেই নিশ্চিত করতে হবে সে কার সাথে, কেমনভাবে, কতটুকু এবং কতদিন সম্পর্ক রাখতে চায়যেন প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে কেউ কারোর উপর বাধ্য না থাকে এতটুকু জ্ঞান মানুষকে শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রদান করতে হবে যদি কোনো সম্পর্ক থেকে কেউ কখনো বেরিয়ে যেতে চায় তবে অপরপক্ষ যেন স্বাভাবিকভাবেই স্বীকার করে নিতে পারে নাহলে সে অপরকে দুঃখী করে তুলবে অথবা নিজেও সুখী হতে পারবে না তবেই আমাদের সম্পর্কগুলি সার্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে এইভাবে সকলের জন্য ভাবনাত্মক স্তরের সুখ সর্বদা অবস্থান করতে পারে সঠিক ব্যবস্থা থাকলে এইসব অতি সহজেই প্রাপ্ত হয়ে যাবে কেননা সঠিক ব্যবস্থায় নতুন নতুন সম্পর্কও খুব সহজেই তৈরি হয়ে যাবে একটি সম্পর্ক সমাপ্ত হয়ে গেলে সেইরূপ অনেক সম্পর্ক আপনার কাছে সর্বদা বিকল্প হিসেবে থাকবে যাদের থেকে আপনি নিজের প্রয়োজনীয় সম্বন্ধ সহজেই নির্বাচন করতে পারবেন এমনকি সম্বন্ধ শুরু করার জন্যও অপরের কাছে নিবেদন করতে পারবেন কোনো একটি সম্বন্ধ সমাপ্ত করতে অসুবিধে তখনই হয় যখন আমাদের কাছে অন্য কোনো বিকল্প থাকে না যেহেতু এই পরিবর্তনশীল সংসারে আমাদের রুচি প্রতিনিয়ত বদলাতে থাকে সেইজন্য সবকিছুই যদি পরিবর্তনশীল রাখা যায় তবেই অধিক সুখময় হবে আমাদের জ্ঞানেন্দ্রিয়ও যদি কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের সাথে ক্রমাগত জুড়ে থাকে তবে তাদের সংবেদনশীলতা সেইরকম থাকে না যেমনটি শুরুতে থাকে উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি কোনো সুগন্ধি প্রতিদিন ব্যবহার করেন তবে সময়ের সাথে ধীরে ধীরে সেই সুগন্ধ কম অনুভব হতে থাকে এবং একসময় তা বন্ধ হয়ে যায় যদি আপনি নিরন্তর সুগন্ধিকে বদল না করেন এর অর্থ এটিই হবে যে আপনি নিজের সুখের বিষয়টিকে কমিয়ে দিচ্ছেন এবং যে সম্পর্ক একসময় আপনাকে অপার সুখ দিয়ে আসছিল ধীরে ধীরে তা দুঃখ দিতে শুরু করবে এবং আপনার জীবনকে নরকের থেকেও ভয়ানক বানিয়ে দেবে তাহলে প্রতিটি ক্ষেত্রে নিরন্তর পরিবর্তনশীল থাকা উচিত বিশেষ করে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তো অধিক সংবেদনশীল থাকা উচিত যেন একে অপরের প্রতি উদাসীনতা পরিলক্ষিত না হয় উদাসীন থেকেও যদি আমরা সম্পর্ক ধরে রাখি অথবা অপরজনকে বাধ্য করে থাকি তবে এটিই বুঝে নিতে হবে আমরা মূলত দুঃখকেই নিমন্ত্রণ করছি

 

চেতনাত্মক স্তরের সুখ

কিছু উদ্ভাবন করা অথবা কোনো জ্ঞান-বিজ্ঞানের আবিষ্কার বুঝে নিলে চেতনাত্মক সুখের অনুভব হয়। স্থুল ভাবে বলতে গেলে অধ্যাপনা, গবেষণা, অন্তর্মুখী হয়ে নিজের সম্পর্কে অন্বেষণ করা, বহির্মুখী প্রকৃতিকে নিয়ে পর্যবেক্ষণ করা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা, কোনোকিছুর পর্যালোচনা করা ইত্যাদি রুচি অনুযায়ী যদি এইসব প্রাপ্তির সুযোগ পাওয়া যায় তবে তা থেকে চেতনার সুখ অনুভব হয় এবং তা থেকে আত্মিক সুখ প্রাপ্তি হতে থাকে

উপরোক্ত আলোচনায় আপনি নিশ্চয়ই বুঝে গিয়েছেন যে ব্যক্তিগত সুখ প্রাকৃতিক তথ্য এবং সংস্কৃতিক তথ্য এই দুটির মেলবন্ধনে নির্মিত সেইজন্য ব্যক্তিগত সুখ সত্যের উপর অধিষ্ঠিত সত্য এইজন্য যে প্রকৃতি কোনো এক উপাদানকে আধার করে নিয়ে বহুত্বে রুপান্তরিত হয়েছে সেটিও সকল প্রকার সুখী হবার ইচ্ছে নিয়েই তাহলে প্রকৃতিই এই অনৈক্যের মূল কারণ এবং আমাদের শরীর যেহেতু পুরোপুরি প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি এবং প্রকৃতির মধ্যেই বেঁচে থাকতে হয় সেইজন্য প্রকৃতিই হচ্ছে আমাদের ব্যক্তিগত সুখের আধার সুতরাং সত্যের ভিত্তিতেই একটি সঠিক ব্যবস্থার মাধ্যমে আমাদেরকে বক্তিগত সুখ এবং ব্যক্তিত্ব নির্মাণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন

 

. পারিবারিক সুখ

ব্যক্তিগত সুখের পর আমরা পারিবারিক সুখকে বোঝার চেষ্টা করি এটি এমন একটি সুখ যা ব্যক্তিগতভাবে অনুভব করা যায় না সেজন্য অন্যের সান্নিধ্য দীর্ঘ সময় অবধি প্রয়োজন হয় এবং তা প্রাপ্তির জন্য পারিবারিক কাঠামো নির্মাণ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে প্রকৃতিগতভাবে দেখা যায় সকল প্রাণী দলবদ্ধভাবে বসবাস করেএদের প্রাকৃতিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে সাংস্কৃতিকভাবেও সেইরূপ ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে এই ব্যবস্থার অন্তর্গত ছোট দলের নাম পরিবার দেওয়া হয়েছে পরিবারের অর্থ দুই বা ততোধিক ব্যক্তি একে অপরের সাথে সবকিছু ভাগ করে নেওয়াকে বোঝায় অর্থাৎ আমার যা কিছু আছে সেসব তোমারও এইরকম মানুষজন মিলেমিশে এক স্থানে থাকতে শুরু করলে সেই দলকে আমরা পরিবার বলে জানি অর্থাৎ যাদের মধ্যে প্রেম থাকে এবং তারা একসাথে থাকতে পছন্দ করে শিশুদের পরিবারের অংশ ততদিন অবধি ধরা হবে যতদিন অবধি তারা প্রাপ্তবয়স্ক না হয় যদি কোনো পরিবার সন্তানকে রাখতে না চায় অথবা সন্তানরা কিছুটা বড় হলে মাতাপিতা যদি অন্য কারোর সাথে থাকতে চায় এমন পরিস্থিতিতে ব্যবস্থা সেই বাচ্চাকে নিজের দায়িত্বে নিয়ে নেবে প্রেমপূর্ণভাবে একে অপরের সাথে বসবাস করে যে সুখ প্রাপ্তি হয় তাকে পারিপারিক সুখের সংজ্ঞা দেওয়া হয় সমস্ত পারিবারিক সিদ্ধান্ত প্রেমের আধারেই গ্রহণ করা উচিত সত্যের আধারে নয় কেননা পরিবারের মধ্যে সমস্তরকম ব্যবহার প্রেমের উপরেই নির্ভর করে থাকে এখানে প্রেমের অর্থ একে অপরের প্রতি আকর্ষণ এবং ফলস্বরূপ একে অপরের সাথে বসবাস করার ইচ্ছেকেই ধরা উচিত যদি কখনো সন্তানরা তাদের মাতাপিতার সাথে থাকতে না চায় তবে সরকার সমস্ত সুখসুবিধাসহ তাদের আলাদা বসবাসের সম্পূর্ণ ব্যবস্থা করবে যদিও ২৫ বছর বয়স অবধি বাচ্চাদের সমস্ত খরচ সরকার থেকেই প্রদান করা হবে কারোর সাথে দীর্ঘ সময় বসবাসের ফলে যে সুখ পাওয়া যায় তাকে পারিবারিক সুখ বলে যা ব্যক্তিগতভাবে কখনই সম্ভব নয়

 

. সামাজিক সুখ

এমন সুখ যা ব্যক্তিগতভাবে বা পারিবারিকভাবে উপভোগ করা সম্ভব নয় যা প্রাপ্তির জন্য একটি বড় গোষ্ঠীর প্রয়োজন হয় অর্থাৎ সমাজের প্রয়োজন হয় এই সুখ প্রাপ্তির জন্য সামাজিক কাঠামো নির্মাণ করার প্রয়োজন হয় অনেক পরিবার মিলে একটি সমাজ গঠিত হয় সমাজের অর্থ হচ্ছে সম্‌ + অজ সম্‌-এর অর্থ সমান আর অজ এর অর্থ হচ্ছে গোষ্ঠী বা দল অর্থাৎ যেসব পরিবার একইরকম মতামত পোষণ করে এর অর্থ যখন কিছু পরিবার মিলে একটি সমাজের নির্মাণ করে তখন তা পরিচালনার জন্য একটি নিয়মাবলী তৈরি করা হয় যার প্রতি সকল পরিবার সহমত হয় এখন আমরা এটির সঠিক ব্যখ্যা করব কোনো একটি নিয়য়মাবলীকে কিছু পরিবার মেনে নিয়ে একটি সমাজ গঠন করে যেখানে ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং পারিবারিক স্বাধীনতা থাকে তা এমনভাবে গঠন করা হয় যেন কারোর সামাজিক স্বাধীনতা ব্যাহত না হয় এইপ্রকার একটি গ্রামকে আমরা একটি সমাজ বলতে পারি যারা একে অপরের সাথে বসবাস করাটা স্বীকার করে নেয় এমন অনেক কর্ম রয়েছে যেসব আমরা ব্যক্তিগতভাবে নির্মাণ বা দায়িত্ব পালন করতে পারি না যেমন সড়ক, বিদ্যুৎ, জল, জ্ঞানবিজ্ঞান, কলাকৌশল নির্মাণ, উন্নত ঘরবাড়ি নির্মাণ, বিভিন্ন রকমের খাদ্য পদার্থ উৎপাদন ইত্যাদি যতক্ষণ পর্যন্ত এইসবের নির্মাণ হবে না ততক্ষন পর্যন্ত এইসবের ভোগ থেকে সুখ প্রাপ্তি হবে না এমন সুখকে সামাজিক সুখের শ্রেণীতে রাখা হয় অর্থাৎ সরকারের মাধ্যমে যে সমস্ত সুখ আমাদের প্রদান করা হয় সেই সকল সুখ সামাজিক সুখের শ্রেণীতে পড়ে এইরকম সুখ দেখতে সাধারণত ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সুখের মত মনে হয় কিন্তু তার নির্মাণ সরকার ছাড়া সম্ভব নয় এভাবে আমাদের ব্যক্তিগত পারিবারিক সুখেরও বৃদ্ধি হয় যদি সামাজিক সুখ আমাদের জীবনে প্রবেশ করে

সমাজের আধার হবে ন্যায় প্রেম অথবা সত্য নয় এখন প্রশ্ন হচ্ছে ন্যায় কী? পৃথিবীতে প্রাকৃতিকভাবে অবস্থান করছে এমন সমস্তকিছুর উপর সকলের সমান অধিকার হবে একজন ব্যক্তি বা পরিবারের যতটা অধিকার অন্য একটি ব্যক্তি বা পরিবারেরও ঠিক ততটাই অধিকার থাকবে ঠিক এই মান্যতাকে অথবা এইপ্রকার ব্যবস্থিত নিয়মকেই ন্যায় বলা হয় সবরকম সুখ উপভোগ করার জন্য সমাজে সকলের একসমান অধিকার থাকবে আর তা শুধুমাত্র এমন হলে হবে না যে সংবিধানে তো লেখা থাকবে সকলের একসমান অধিকার কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর হতে দেখা যাবে না যদি তাই হয় তবে একে ন্যায় বলা যাবে না সমাজ ব্যবস্থা তৈরি করার সময় ন্যায়কেই আধার হিসেবে ধরে নিয়ে সমস্ত নীতিনিয়মের নির্ণয় করা উচিত

 

. সমষ্টিগত সুখ

সমষ্টিগত সুখের অর্থ হচ্ছে সমস্ত সমাজের মধ্যে একটি স্বাস্থ্যকর ছন্দ থাকা। সমষ্টির মধ্যে সকলের জীবন চক্র যেন সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে এটি তখনই সম্ভব যখন সমস্ত সৃষ্টিকে এমনভাবে ব্যবহার করা হবে যেন সবকিছু সঠিকভাবে ব্যবস্থিত হয়ে যায় এটি তখনই সম্ভব হবে যখন বিশ্ব ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত প্রদান করার জন্য একটি কেন্দ্র থাকবে এবং সবকিছু বাস্তবায়ন করার ক্ষমতা থাকবে সকলের কল্যানের জন্য যে সিদ্ধান্তই গ্রহণ করা হবে সেটি সঠিক হবে এবং বাস্তবায়িত করা যাবে অন্যভাবে বলতে গেলে আমাদের একটি বিশ্ব সরকারের প্রয়োজন যেমনভাবে কোনো দেশের ভেতর একটি সরকার থাকে সেইমত বিশ্বেরও একটি সরকার প্রয়োজন সমষ্টির অন্তর্গত মনুষ্য, পশু-পক্ষী, বৃক্ষ-বনস্পতি এবং জড় পদার্থ ইত্যদির মধ্যে ভারসাম্য থাকা অন্ত্যন্ত আবশ্যক কোনো একটি শ্রেণীর ভারসাম্যহীনতা অন্য একটি শ্রেণীকে ভারসাম্যহীন করার পক্ষে যথেষ্ট কেননা এখানে সবকিছু একে অপরের সাথে এমনভাবে সংযুক্ত যে একজনের প্রভাবে অন্যজনও প্রভাবিত হয় কেননা একের থেকেই তো অনেকের সৃষ্টি হয় কোথাও কিছু ঘটলে তার প্রভাব সকলের উপর পড়ে এর শুরুটা মনুষ্য দিয়ে করা যেতে পারে প্রথমে মানুষের মধ্যে সামঞ্জস্য আসুক তারপর অবশিষ্ট তিন শ্রেণীর কথা আসবে কেননা সকলের থেকে মানুষের মধ্যেই উন্নতমানের চেতনা রয়েছে তাহলে প্রথমে মানুষ নিজেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে নেবে তারপর অবশিষ্টদের করবে এইজন্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের ব্যবহার আবশ্যক হবে কেননা এর অভাবে আমরা কিছুই ব্যবস্থিত করতে পারব না জ্ঞান-বিজ্ঞানের দ্বারাই আমরা বুঝতে পারি যে কি করলে কোনো সমষ্টির মধ্যে কেমন পার্থক্য আসবে যে পার্থক্য আসবে তা অবশিষ্ট সকলের জন্য হিতকর হবে কিনা এইজন্য একটি সঠিক ব্যবস্থায় জ্ঞান-বিজ্ঞানের নিরন্তর গবেষণা সঠিক দিশা অনুযায়ী হওয়া উচিত জ্ঞান-বিজ্ঞানের উপর নির্মিত ব্যবস্থাই আমাদের সুখী করে রাখতে পারে আর মানুষই একমাত্র প্রাণী যারা এই পৃথিবীতে নিজের জ্ঞান-বিজ্ঞান বিকশিত করে সৃষ্টিকে স্বর্গ বানাতে পারে আবার নরকে পরিণত করতে পারে সমস্ত সৃষ্টির ব্যবস্থা মানুষের উপরেই নির্ভর করছে সে চাইলে সবকিছু সঠিকভাবে নির্মাণ করতে পারে অথবা সবকিছু নষ্ট করে নরকে রূপান্তরিত করতে পারে অথবা কিছুটা সঠিক করে স্বর্গ এবং কিছুটা ভুল করে নরক নির্মাণ করতে পারে সবকিছু তার ইচ্ছে, জ্ঞান এবং কর্মের উপর নির্ভর করছে সে চাইলে পশু-পক্ষীর মত প্রাকৃতিকভাবে জঙ্গলে থাকতে পারে অথবা চাইলে সাংস্কৃতিকভাবে সঠিক ব্যবস্থা নির্মাণ করে সমস্ত সুখ উপভোগ করতে পারে যা এই সৃষ্টির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন নির্ণয় করা মনুষ্যের হাতে রয়েছে সমষ্টিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার জন্য এমন কিছু কর্ম করার প্রয়োজন পড়ে যার মাধ্যমে সরাসরি প্রত্যক্ষরূপে কিছু প্রাপ্ত হয় না কিন্তু সৃষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে এই প্রকার কর্মকে পুণ্য বলা হয় প্রকৃতিকে সুন্দর এবং ব্যবস্থিত রাখার জন্য যেসব কর্ম করা হয় তাকেই পুণ্য বলা হয়ে থাকে তাহলে সমষ্টিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার জন্য পুণ্যকে আধার হিসেবে ধরা যাক আবার মাথায় রাখতে হবে জ্ঞান-বিজ্ঞানও একপ্রকার সুখের বিষয় তবে চার প্রকার সুখের জন্য চার প্রকার আধারই যেন আমাদের প্রাপ্ত হয় যেমন

ব্যক্তিগত সুখের আধার সত্য অর্থাৎ যিনি সত্যের উপর নির্মিত জীবন-যাপন করবেন তিনি ভরপুর ব্যক্তিগত সুখ উপভোগ করবেন ফলে অন্যরাও ব্যক্তিগত সুখের প্রেরণা পাবেন তাকে জীবন-যাপন করার জন্য কখনই ব্যক্তিগত দুঃখের মুখোমুখি হতে হবে না এমনকি অন্য কেউ তার দ্বারা ব্যক্তিগত দুঃখের কারণও হবে না একটি সঠিক ব্যবস্থায় এটি স্বাভাবিকভাবেই হয়ে যাবে কিন্তু যদি ব্যক্তিগতভাবে কোনোপ্রকার দুঃখ আসে তবে ব্যবস্থার মধ্যে সত্যের অবস্থানকে যাচাই করতে হবে আর যদি তা সত্য হয় তবে সেই ব্যক্তিকে দেখতে হবে যে সত্যকে নিয়ে তার দ্বারা কিছু ভুল হয়ে গিয়েছে কিনা বা অজ্ঞানবশত তিনি সত্য থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন কিনা অথবা কিছু এদিক সেদিক হয়ে গিয়েছে কিনা সেই কারণকে বুঝে নিয়ে জীবনে তা প্রয়োগ করে সর্বদা সে দুঃখ থেকে মুক্ত হতে পারে উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ কোনো ভোজন খুব পছন্দ করে এবং সে তা যদি প্রতিদিন গ্রহণ করে থাকে তবে দেখা যাবে প্রথমে কিছুদিন খুব সুস্বাদু মনে হবে কিন্তু ধীরে ধীরে সেই স্বাদে ভিন্নতা আসতে শুরু করবে তারপরও সে যদি ওই ভোজন একইরকমভাবে গ্রহণ করতে থাকে তবে কিছুকাল পর থেকে সে দুঃখের সম্মুখীন হতে থাকবে এমনটি হলে তা হবে ব্যক্তিগত দুঃখ এইজন্য তাকে সত্যের উপর যে জ্ঞান রয়েছে তা যাচাই করা উচিত বোঝা উচিত যে কোথাও না কোথাও সে সত্যের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে আমি এবার এইস্থানে উল্লেখ করছি এই বলে সেই ব্যক্তি নিশ্চয়ই বুঝতে পারে নি যে সংসার হচ্ছে পরিবর্তনশীল এবং আমাদের জ্ঞানেন্দ্রিয়গুলিও পরিবর্তনশীল  যদি আমরা নিজেদের বিষয়গুলিকে নিরন্তর পরিবর্তন না করি তবে ধীরে ধীরে আমাদের জ্ঞানেন্দ্রিয়গুলিও সংবেদনহীন অনুভব হতে থাকবে এবং এটিই সত্য তাহলে আমাদেরকে এই বিষয়টি বুঝে নিয়ে সঠিক সময়ে নিজেদের রুচিগুলিকেও বদল করে নেওয়া প্রয়োজন এমনটি করলে আমাদের ব্যক্তিগত সুখ অধিক পরিমাণে থাকবে এইভাবে সকল প্রকার ব্যক্তিগত সুখকে বুঝে নিতে হবে

পারিবারিক সুখের আধার হচ্ছে প্রেম প্রেমের মাধ্যমে কারোর সাথে দীর্ঘ সময় ব্যতীত করলে আমাদের বিভিন্ন প্রকার সুখ প্রাপ্তি হয় অর্থাৎ পারিবারিক সুখ উপভোগের জন্য দুই বা ততোধিক ব্যক্তি যখন একে অপরের সাথে থাকতে চায় যখনই পরিবারের কোনো সদস্যের মধ্যে কিছু সমস্যা উৎপন্ন হবে তা সমাধান করার জন্য সত্যের সাথে প্রেমের অবস্থার নিরীক্ষণও করে নেওয়া উচিত কেননা কোনো সমস্যা তখনই উৎপন্ন হয় যখন সত্যের নিয়ম ভঙ্গ হয় অথবা যখন তাদের মধ্যে প্রেমের ঘাটতি দেখা দেয় তাই সত্যের সমাধান শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমেই করা সম্ভব যদি প্রেমের ঘাটতি হয়ে যায় তবে আলাদা হওয়া ছাড়া সমাধানের অন্য কোনো উপায় নেই সেইজন্য যদি পরস্পরের মধ্যে প্রেম থাকে তবেই পরিবারের সদস্য হিসেবে একসাথে থাকা উচিত অন্যথায় সেই স্থান থেকে প্রস্থান করা উচিত এবং তাকে অন্য কোনো নতুন পরিবারের খোঁজ করা উচিত সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থায় এটি স্বাভাবিকভাবেই হবে কেননা সঠিক শিক্ষা থাকলে এবং সঠিক ব্যবস্থা থাকলে সকলেই সত্য প্রেমের আধারে নেওয়া সিদ্ধান্তকেই গ্রহণ করবে আর অন্যান্য সিদ্ধান্তগুলিও এমন হবে যে ওই স্থান থেকে প্রস্থান করা ব্যাস! এই প্রকার প্রেমের ভাবকে এভাবে যাচাই করে জানতে হবে যে প্রেমের অবস্থাটি ঠিক কেমন রয়েছে অর্থাৎ একসাথে থাকার ইচ্ছে রয়েছে না পূরণ হয়ে গেছে উত্তর যদি প্রথমটি হয় তবে সাথে থাকুন যদি পূর্ণ হয়ে যায় তবে আলাদা হয়ে যাওয়া উচিত এইজন্য প্রেমই হবে পরিবারের আধার যতক্ষণ অবধি প্রেম থাকবে ততক্ষণ অবধিই পরিবার থাকবে প্রেমের সমাপ্তি ঘটলে তো একসাথে থাকার কোনো অর্থ নেই যদি কোনো কারণে থাকতে হয় তবে তা দুঃখদায়ী হবে

সামাজিক সুখের আধার হচ্ছে ন্যায় ন্যায়ের অর্থ হচ্ছে এই পৃথিবীতে সমস্ত প্রাকৃতিক সম্পদ সকলের জন্য সমান থাকবে এবং সামাজিক হবে অর্থাৎ সমস্ত প্রাকৃতিক সম্পদ সরকারের অধীন থাকবে যেন সরকার ন্যায়পূর্ণভাবে সব সম্পদ সঠিকভাবে বণ্টন করতে পারে ন্যায় বলুন আর সমতা বলুন দুটো একই কথা সমতার মাধ্যমেই ন্যায় সম্ভব অসমান সমাজে অপরাধকে কেঊ দমন করতে পারবে না আর সমতাযুক্ত সমাজে অপরাধের কোনো অর্থই থাকে না সেইজন্য যদি সামাজিক সুখ উপভোগ করতে হয় তাহলে সমতা এবং ন্যায়কে বুঝুন এতে সকলের জন্য সুখ অধিকতর হয়ে যায় যে ব্যক্তি সমাজে ন্যায়ের উপর নির্মিত জীবন-যাপন করবে সেই নাগরিকের কাছে সামাজিক সুখ ভরপুর থাকবে আর এই সামাজিক সুখ প্রাপ্তির কারণেই বাস্তবে পারিবারিক সুখ এবং ব্যক্তিগত সুখ প্রাপ্ত হয় যে সমাজে সমতা থাকে না সেই সমাজে পারিবারিক সুখ ব্যক্তিগত সুখ সঠিকভাবে প্রাপ্ত হতে পারে না আর সুখ যদিওবা আসে তা দুঃখ সঙ্গে নিয়ে আসে আবার তারাই বলতে থাকে যে সুখ আর দুঃখ একই মুদ্রার দুটো পিঠ যা কিনা ভূল ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপন্ন অবস্থা এটি সঠিক সমতাযুক্ত অবস্থা নয় সঠিক ব্যবস্থায় তা স্বাভাবিকরূপেই হবে

সমষ্টিগত সুখের আধার হচ্ছে পুণ্য অর্থাৎ সমাজের সকল সমষ্টি যদি পূণ্যের উপর নির্মিত জীবন-যাপন করে তবে সমষ্টিগত সুখ ভরপুর থাকবে সমাজকে কোনোপ্রকার সমষ্টিগত দুঃখের মুখোমুখি হতে হবে না আবার এক সমষ্টিতে অন্য কোনো সমষ্টির কারণে দুঃখ বা অসমতার সৃষ্টি হবে না আর সঠিক ব্যবস্থায় তা স্বাভাবিকরূপেই হবে

এই চার প্রকার সুখও একে অপরের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে যদি সামাজিক ব্যবস্থা সঠিক হয় তবে তা পারিবারিক ব্যক্তিগত জীবনে বড় প্রভাব ফেলে এইজন্য আমাদের একটি সঠিক এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্যবস্থার উপরই কর্ম করা উচিত আসুন এবার এই নতুন ব্যবস্থার আধারকে এক এক করে বোঝার চেষ্টা করি

 

***


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?