অধ্যায় ৭: সরকারের প্রয়োজনীয়তা কেন?


অধ্যায়

 

সরকারের প্রয়োজনীয়তা কেন

আমাদের জীবনে মোট চার প্রকার কর্ম রয়েছে সেসব নিন্মে বর্ণিত হয়েছে

 

. ব্যক্তিগত কর্ম

. পারিবারিক কর্ম

. সামাজিক কর্ম

. সমষ্টিগত কর্ম

 

মানুষ প্রথম দু-প্রকার কর্ম নিজের জন্য এবং ব্যক্তিগত স্তরে সম্পাদিত করে নেয় যেমন স্নান করা, ভোজন করা, কাপড় পরা, খেলাধুলো করা, বিবাহ করা, সন্তান জন্ম দেওয়া, পরিবারের দেখাশোনা করা, ঘর তৈরি করা, ঘরের আশেপাশে অন্যান্য ব্যবস্থা করে নেওয়া ইত্যাদি কিন্তু এইসব কর্মও সে সরকারি সাহায্য ছাড়া সঠিকভাবে করে উঠতে পারে না কোনোরকমভাবে ব্যবস্থা করে নেয় যেন চালিয়ে নেওয়া যায় দূরবর্তী অনেক গ্রামে দেখবেন যেখানে সরকারি সুবিধা এখনো অবধি পৌঁছাতে পারেনি সেখানকার মানুষজন মিলিত উদ্যোগে সাধারণভাবে কিছু না কিছু ব্যবস্থা তৈরি করে নেয় সেখানে সামাজিক সুখসুবিধা থাকলেও তা না থাকার মতনই যেটুকু থাকে তা সেখানকার সমাজের সাহায্য নিয়ে করতে হয় নাহলে সেটুকুও সম্ভব হতো না

 

পরের দুটি সামাজিক এবং সমষ্টিগত কর্মের জন্য একটি সার্বজনিক সংস্থার প্রয়োজন হয় যাকে সরকার বলা হয় যেমন শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ জীবিকা, কৃষি, উৎপাদনশিল্প, প্রশাসন, নেতৃত্ব সুখসুবিধা আবাস, সড়ক, বিদ্যুৎ, জল, যাতায়াত, দূরভাষ, ডাক সংরক্ষন ন্যায়ালয়, হসপিটাল, আপৎকালীন সুরক্ষা, বীমা ইত্যাদি এইসব কর্মকে কেউ ব্যক্তিগত বা পারিবারিক স্তরে সম্পাদিত করতে পারবে না অর্থাৎ সামাজিক সমষ্টিগত কর্মকে ব্যবস্থিতরূপে সম্পাদন করার জন্যই সরকার নামক সংস্থা গঠন করা হয় ব্যবস্থা গঠন করার পর সরকার এইসব কর্মকে সম্পাদিত করার জন্য নীতিপ্রণালী তৈরি করে এবং সেই অনুযায়ী প্রশাসন তাদের কর্ম সম্পাদন করে এটিই হচ্ছে কার্যপ্রণালী

সরকারের কার্যপ্রণালীর বিবরণ

     . শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ

. জীবিকা

. সুখসুবিধা

. সংরক্ষণ

 

শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ

প্রথমত, যখনই কোনো সভ্য সমাজ তৈরি করার কথা আসে তখন কিছু নীতিনিয়ম তৈরি করতে হয় সেখানে একটি উদ্দেশ্য থাকে এবং একটি সম্পূর্ণ দর্শন থাকে যা মেনে নিয়ে একে অপরের সাথে আচরণ করে এটি তখনই সম্ভব যখন নীতিনিয়ম সম্পর্কিত জ্ঞান সেই সমাজের মধ্যে বিদ্যমান থাকে যদি সমাজের কাছে সেই নীতিনিয়মের জ্ঞান না থাকে তাহলে পালন কীভাবে করবে অথবা ব্যবহারিক জীবনে সুখের জন্য কীভাবে কাজে লাগাবে? এইজন্যই সমাজের মধ্যে শিক্ষার বৃহৎ গুরুত্ব রয়েছে এই জ্ঞানকে অর্জন করার জন্যই শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে দ্বিতীয়ত, জীবন-যাপনকে কীভাবে সমৃদ্ধশালী বানানো যায়, সুখসুবিধাগুলিকে বাড়ানোর জন্য কীভাবে জ্ঞান-বিজ্ঞানকে খুঁজে নেওয়া যায় এবং কীভাবে সেই জ্ঞান-বিজ্ঞানকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে প্রেরিত করা যায় যেন সেই প্রজন্ম কম সময়ে সহজেই সেই জ্ঞান-বিজ্ঞানকে অর্জন করে পরবর্তী গবেষণা করতে পারে এবং যা আবিষ্কার করা হয়েছে তা জীবনের সুখসুবিধার জন্য ব্যবহার করতে পারে যেন আমরা অধিক থেকে অধিকতর সুখী হতে পারি এটিই হচ্ছে পরিবার, সমাজ ইত্যাদি রচনার উদ্দেশ্য এর জন্য শিক্ষার প্রয়োজন হয়

 

শিষ ধাতু থেকে শিক্ষা শব্দ তৈরি হয়েছে শিক্ষা সেটিই যা আমাদের শিষ্টতায় পরিণত করে যা আমাদের অন্তঃকরণে শিষ্টতা প্রদান করে শিষ্টতা থেকেই মনুষ্য সভ্য হয় বর্তমানে সভ্যের অর্থ হচ্ছে যেমন সমাজ নির্মিত হয়েছে তাতে যেন সে আচরনের যোগ্য হয় সভ্যের অর্থ অবশ্যই এটি নয় মানুষ একটি নষ্ট প্রাণী তাকে শিক্ষার মাধ্যমে শোধরাতে হবে মনুষ্য প্রাকৃতিকভাবে শোধরানো অবস্থাতেই রয়েছে যেমনটি তার হওয়া উচিত শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবলমাত্র এটিই হওয়া উচিত সে যেন সমাজের নীতিনিয়মের জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং সভ্য হয় অর্থাৎ সমাজের সাথে সঠিক ব্যবহার করার জন্য সফল হতে পারে এবং ওই সমাজে তার কর্ম কী হবে যার মাধ্যমে সে সমাজের উদ্দেশ্য পূরণে নিজের যোগদান দিতে পারে এর জন্যই তো সমাজ তৈরি করা হয়েছে যেন নিজেদের ইপ্সিত সুখগুলিকে প্রাপ্ত করতে পারি শিক্ষার মাধ্যমে আমরা এটি জানতে পারি কী কর্ম করা উচিত, কেন করা উচিত, কীভাবে করা উচিত, কোনটি সঠিক কোনটি ভুল, কার সাথে কেমন ব্যবহার করা উচিত, কেমন আচার ব্যবহার করা উচিত ইত্যাদি এসব কেবলমাত্র শিক্ষার মাধ্যমে সহজেই এবং তড়িৎ গতিতে জেনে নেওয়া যেতে পারে প্রত্যেক মানুষের মধ্যে একটি অন্তঃকরণ চতুষ্টয় থাকে এর অর্থ আমাদের ভেতরে চারপ্রকার ক্ষমতা থাকে মন, বুদ্ধি, চিত্ত এবং অহংকার মনের ভেতর চিন্তন-মনন করার শক্তি থাকে বুদ্ধির ভেতর সিদ্ধান্ত নেবার শক্তি থাকে চিত্তের ভেতর ধারণ করার শক্তি থাকে আর অহংকারের ভেতর জ্ঞান অর্জনের শক্তি থাকে আমাদের অন্তঃকরণের এই হচ্ছে পুরো প্রক্রিয়া এই অন্তঃকরণ বিকাশের জন্যই শিক্ষার প্রয়োজন হয় মন, বুদ্ধি, চিত্ত এবং অহংকারকে পরিষ্কৃত করার জন্য চারটি বিষয়ের প্রয়োজন হয় মন পরিষ্কৃত করার জন্য ভাষা, বুদ্ধিকে পরিষ্কৃত করার জন্য গণিত, চিত্তকে পরিষ্কৃত করার জন্য সংজ্ঞান এবং অহংকারকে পরিষ্কৃত করার জন্য দর্শনের প্রয়োজন হয় শিক্ষা সমাপ্ত হতে হতে যে শিশুর যতটা বোধ তৈরি হবে সেই শিশু ততটাই অগ্রসর হবে এবং তার ওই চার ক্ষমতাও সেইরূপ কর্ম করবে আচার ব্যবহারও তার অভিজ্ঞতা অনুসারে রচিত হবে তার রুচিও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী উৎপন্ন হবে প্রশিক্ষণও সেই আধারেই হবে এরপর কর্মসংস্থানও সেইমত নিশ্চিত হয়ে যাবে

 

১৫ বর্ষীয় পাঠ্যক্রম তার উদ্দেশ্য

শিক্ষা দু-প্রকারের হবে সাধারণ এবং পেশাগত। ১৫ বছর বয়স অবধি সাধারণ পাঠ্যক্রম থাকবে যা সকলেকে অনিবার্যভাবে পড়ানো হবে কোনো ছাত্রকে কখনো অকৃতকার্য করানো হবে না যে ছাত্র যেমন নম্বর অর্জন করবে সেই নম্বরের ভিত্তিতে তাকে পরবর্তী কক্ষে প্রবেশ করানো হবে কেবলমাত্র চারটি বিষয়ই এই সাধারণ শিক্ষা প্রণালীতে পড়ানো হবে ভাষা, গণিত, সংজ্ঞান এবং দর্শন যা সকল শিশুর ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করবে ভাষা মনের বিকাশ করবে, গণিত বুদ্ধির বিকাশ করবে, সংজ্ঞান চিত্তের বিকাশ করবে এবং দর্শন অহংকারের বিকাশ করবে অন্তঃকরণ বিকাশের মাধ্যমেই মনুষ্যের মধ্যে ঠিক এবং ভুলের জ্ঞান তৈরি হয় কখন কী করা উচিত তার জ্ঞান শিক্ষার মাধ্যমেই হয় আচার ব্যবহার কেমন হবে তার জ্ঞানও শিক্ষার মাধ্যমেই হয়ে থাকে মন তর্ক-বিতর্ক করে যখন আমাদের সামনে কিছু পরিস্থিতি আসে তখন আমরা মন দ্বারা তা বিচার করি পরিস্থিতি বিচার করার জন্য অনেক বিকল্প আমাদের সামনে চলে আসে মন সেইসব বিকল্পগুলিকে অভিজ্ঞতার মাধ্যমে চিন্তন-মনন করে এবং বোঝার চেষ্টা করে কী করলে দুঃখ আসতে পারে এবং কী করলে সুখ আসতে পারে এটিই হচ্ছে মনের কর্ম এই কর্মকে সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য যৌক্তিক ভাষার প্রয়োজন হয় ভাষার মাধ্যমে বিচার-পরামর্শ করা সহজ হয় এটি মূলত তখন প্রয়োজন হয় যখন আমরা অন্যের সাথে আলোচনা করি কেননা ভাষার মাধ্যমেই বিভিন্নতার নানারকম রূপ দেওয়া যায় নাহলে ভাষার অভাবে কেবলমাত্র শারীরিক সংকেতের মাধ্যমে এই কর্ম মূলত অসম্ভব ছিল যেমন কারোর সম্পর্কে কাউকে কিছু বলা তাই ভাষার মাধ্যমে এইসব কর্ম খুব সরল হয়ে যায় ভাষার মাধ্যমে আমরা একে অপরের সম্পর্কে সমস্ত তথ্য গ্রহণ করতে পারি এবং প্রদান করতে পারি যদি এইভাবে করি তাহলে সুখ পাব অথবা যদি ওইভাবে করি তাহলে দুঃখ পাব ইত্যাদি বুঝতে পারিতারপর সেই তথ্যগুলিকে নিজের মাধ্যমে অপরের সাথে পরামর্শ করে স্পষ্ট করে নিতে পারি নানারকম বিকল্প বের করে নেওয়া অথবা কারোর সম্পর্কে নানারকম কল্পনা করাই হচ্ছে মনের কর্ম যদি এইভাবে করি তবে কী হবে অথবা যদি সেইভাবে করি তবে কেমন হবে যদি এটি করে ফেলি তবে কী হবে আর যদি সেটি করে ফেলি তবে কী হবে তাহলে বোঝা গেল বিভিন্ন প্রকার কল্পনা করা এবং বিভিন্ন প্রকার বিকল্প তৈরি করাই হচ্ছে মনের কর্ম আর মনের এই কাজের জন্য ভাষার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে যদি মানুষের ভেতর থেকে এই ভাষাকে সমাপ্ত করে দেওয়া যায় তাহলে এখনই আমরা সকলে আদি মানবদের মতন হয়ে যাব সমস্ত জ্ঞান-বিজ্ঞান বিলুপ্ত হয়ে যাবে তখন কেবলমাত্র এক আদিম জীবনই বিকল্প হিসেবে থাকবে যেমন আমরা পশুদের জীবন-যাপন দেখি এর থেকে আমরা বুঝতে পারি সমস্ত জ্ঞান-বিজ্ঞানের আধার হচ্ছে ভাষা ভাষা সমাপ্ত হওয়ার অর্থ হচ্ছে জ্ঞান-বিজ্ঞান সমাপ্ত হয়ে যাওয়া সুতরাং এবার বিচার বিবেচনার পর সিদ্ধান্তে আসা প্রয়োজন তা নাহলে বিচার বিবেচনার কোনো যুক্তি থাকে না যদি আমরা সকলে বসে কেবলমাত্র বিচার বিবেচনা করি কিন্তু কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছই তবে কেমন হবে? ব্যাপারটা এমন হবে, যেন কোনো বিচারক আদালতে অন্য উকিলদের থেকে সব তথ্য-বিবেচনা শুনে নিলেন কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত নিলেন না তবে আমরা কী বলব বিচার প্রক্রিয়া এখনও সমাপ্ত হয়নি? তাহলে জানা গেল বিচার পরামর্শের পর সিদ্ধান্তে আসা উচিত এই সিদ্ধান্তজনিত অভ্যাসের ফলেই গণিত বিষয়টি বিদ্যালয়ে পড়ানো হয় আর সিদ্ধান্ত নেবার জন্য অন্তঃকরণের দ্বিতীয় করণ বুদ্ধি দায়বদ্ধ থাকে এই বুদ্ধির বিকাশের জন্যই রয়েছে গণিত বিষয় গনিতের মাধ্যমে আমরা সর্বদা প্রতিটি গণনায় কোনো না কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি যেমন এর সাথে যুক্ত করলে কী সিদ্ধান্ত হবে সিদ্ধান্ত আসবে ১৩ আর গণনা করার সময় প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনি শুধুমাত্র সিদ্ধান্তই নিয়ে থাকেন এবং সেই স্থানে গিয়ে থেমে যান যেখানে আপনি অন্তিম সিদ্ধান্ত বা অভীষ্ট উত্তর পেয়ে যান যা আপনি পেতে চেয়েছেন তাহলে এটিই হচ্ছে নির্ণয় বা সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা যাকে বৌদ্ধিক ক্ষমতা বলা হয় এবং এর বিকাশের জন্য গণিতের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। যে কোনোপ্রকার সিদ্ধান্ত এই প্রকার বুদ্ধির সহায়তায় নেওয়া হয়

 

আমরা বিচার পরামর্শ করলাম এবং কোনো সিদ্ধান্তেও পৌঁছলাম তবে কি এবার কর্ম সম্পূর্ণ হয়ে গেল? তাহলে দেখব যে তা হয়নি এখনও আমরা কোথাও একটি মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছি এখনও আমাদের সেই উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি যার জন্য আমরা সকলে সিদ্ধান্ত নেবার জন্য বিচার-বিমর্শ করছিলাম অর্থাৎ বিচারক মহাশয় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কার ভুল ছিল এবং তাকে কি সাজা দেওয়া হবে তাহলে এবার বিচারকের কর্ম তো সমাপ্ত হল, বুদ্ধির কর্মও সমাপ্ত হল, কিন্তু সমাজের কর্ম কি সমাপ্ত হল? হয়নি কেননা এখনও তো সেই সিদ্ধান্তের উপর কর্ম সম্পাদন করা অবশিষ্ট রয়েছে তাহলে কী হবে পরবর্তী পদক্ষেপ? পরবর্তী পদক্ষেপ হবে বিচারক মহাশয়ের সিদ্ধান্তকে স্বীকার করে নেওয়া এই বলে যে, হ্যাঁ বিচারক সাহেব আপনার সিদ্ধান্তকে স্বীকার করে নিচ্ছি এবং আপনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যনির্বাহ করা হবে তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপ হল সেই সিদ্ধান্তকে প্রশাসন দ্বারা স্বীকার করে নেওয়াসিদ্ধান্তকে স্বীকার করে নেবার কর্ম সম্পাদন হয় আমাদের চিত্তের সহায়তায় আর চিত্ত বিকাশের জন্য উপযোগী বিষয় হচ্ছে সংজ্ঞান সংজ্ঞানের অর্থ হছে সামান্য জ্ঞান সংজ্ঞানের মধ্যে সেই সকল সামান্য শিক্ষা থাকে যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে উপযোগী যেমন কীভাবে বসব, কীভাবে ঘুমোব, কীভাবে হাঁটব, কীভাবে খাওয়া দাওয়া করব, কী খাবার খাব বা পান করব, কোন কাপড় কীভাবে পরব, কীভাবে অপরের সাথে ব্যবহার করব ইত্যাদি এইসব কর্মের মূলে যেন শুধুমাত্র সুখ বিরাজ করে। ইতিহাস-ভূগোল এবং প্রযুক্তির প্রয়োগ এইভাবে করব যেন সকলেই শুধুমাত্র সুখী হয় কোনো দুঃখ যেন না আসে অথবা সুখ যেন সর্বাধিক আসে দুঃখ এলেও তা যেন ক্ষণস্থায়ী হয় অথবা অতি সামান্য আসে সংজ্ঞান থেকে জীবনযাপনের উপযোগী শিক্ষা পাওয়া যায় কিন্তু এই সংজ্ঞান রয়েছে আমাদের হাতে এটিকে আমরা গ্রহণ করব কি করব না মানুষ আপন স্বভাবেই নিজেদের সুখ প্রদানকারী বস্তু এবং পরিষেবা গ্রহণ করেই নেয় সেইজন্য সঠিক সংজ্ঞানকে সে স্বীকার করে নেবেই সংজ্ঞানের অর্থ এটিই যে সংজ্ঞান বিষয় আমাদের বলে দেয় কীভাবে নিজেকে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা যায় যেন সকলে অধিক থেকে অধিকতর সুখী হতে পারে আর সংজ্ঞান অথবা সাধারণ জ্ঞান শুধুমাত্র বলে দিয়েই ক্ষান্ত হয় না বিস্তারিত বুঝিয়েও দেয় যে এটিই কেন এর বাইরে অন্য কিছু কেন নয় তাহলে জানা গেল মনুষ্য এমন শিক্ষাকে স্বীকার করেই নেয় যা থেকে কেবলমাত্র সুখই প্রাপ্ত হয় আর যদি কেউ এই শিক্ষাকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করে তাহলে বুঝতে হবে যে তার সংজ্ঞানে কিছু ঘাটতি রয়েছে এর অর্থ এই নয় যে মানুষের মধ্যে কোনো ঘাটতি খুঁজে বের করতে হবে। এই হল আমাদের জীবনে সংজ্ঞানের অর্থ একথা স্বীকার তো করে নিলাম কিন্তু কর্মে রুপান্তরও তো করতে হবে কেননা ফলাফল তো কর্ম করার পর আসে যাকে কেন্দ্র করে এত দীর্ঘ প্রক্রিয়া চলছে আর এটি তখনই সম্ভব হয় যখন অহংকার একে স্বীকার করে নিয়ে কর্ম সম্পাদন করার ইচ্ছে প্রকাশ করে কারণ প্রয়োজনীয় ফলাফল তার চাইই চাই অন্তঃকরণের চতুর্থ ধাপ হচ্ছে অহংকারএটির সঠিক বিকাশের জন্য দর্শন নামক বিষয়ের প্রয়োজন কেননা সমস্তকিছু এই অহংকার থেকেই শুরু হয় অহংকারের জন্যই হয় আর এই অহংকারেই এসে সমাপ্ত হয়ে যায় এই হচ্ছে ব্যাখ্যা এর চারপাশেই সবকিছু আবর্তিত হতে থাকে সম্পূর্ণ মানব জাতির জন্য এই অহংকারই হচ্ছে মুখ্য অধ্যাপক মনুষ্য সম্পর্কিত সমস্তকিছু এই অহংকার থেকেই শুরু হয় অহংকারেই এসে সমাপ্ত হয় এবং মধ্যবর্তী অবস্থায় এটিই কেন্দ্র হিসেবে উপস্থিত থাকে এটিই ইচ্ছে প্রকাশ করে কোনোকিছু প্রারম্ভ করে, এটিই মনের সাহায্য নিয়ে চিন্তন-মনন করে, এটিই বুদ্ধির সাহায্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, এটিই চিত্তের সাহায্যে স্বীকার করে নেয়, এটিই কর্মেন্দ্রিয়ের সহায়তায় কর্ম সম্পাদন করে, এটিই পরিণাম হিসেবে জ্ঞানেন্দ্রিয়ের মাধ্যমে উপভোগ করে সুখী হয় এইসব প্রক্রিয়ার মধ্যে সর্বদা সুখ উপস্থিত থাকে সুখের এই উপস্থিতি একপ্রকার পরীক্ষাও বটে যদি অহংকারের জন্য এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সুখ প্রদানকারী হয় তবেই সেই ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে সঠিক হবে কোনো দুঃখের উদয় হলে প্রথমেই আমাদেরকে সেই ব্যবস্থাকে নিরীক্ষণ করা উচিত এবং তার অপূর্ণতাকে পূর্ণ করা উচিত এইজন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এই অহংকার বিকাশের জন্য দর্শন বিষয় প্রয়োজন। এই বিষয়টির গুরুত্ব বোঝা উচিত কারণ সকল ভালো মন্দ ক্রিয়াকলাপের প্রারম্ভ এখান থেকেই হয় যখন শুরুটাই ভুল দিয়ে হবে তবে অবশিষ্ট প্রক্রিয়াও শেষ অবধি ভুল পথেই চলবেএবং সকলের জন্য দুঃখই উৎপন্ন করবে যেমনটি আমরা দেখছি অর্থাৎ অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমনটিই হয়ে চলেছে কোনো সমাজে সুখ-দুঃখ নামক ফলাফলের জন্য দর্শন বিষয়ই মূলরূপে দায়ী যে সমাজের দর্শন যেমন হবে তার ফলাফল দিকনির্দেশ অনুযায়ী তেমন প্রকারের সুখী দুঃখী হবে এর থেকে আমরা বুঝতে পারি আমাদের দর্শন পূর্ণ না অপূর্ণ এই পর্যালোচনা আমাদের সমাজের পরিস্থিতির মাধ্যমে নির্ধারিত হবে যদি আমাদের সমাজ পূর্ণরূপে সুখী হয় তবে বুঝবেন আমাদের দর্শন পূর্ণরূপে সঠিক অন্যথায় নয় উদ্দেশ্য পূরণ না হওয়া অবধি এর উপর নিরন্তর গবেষণা চলা উচিত দর্শন আমাদের বলে দেয় আমরা পৃথিবীতে কেন এসেছি এবং এই আসার উদ্দেশ্যকে কীভাবে জানব, অর্থাৎ এই জীবনের উদ্দেশ্য কী এবং সেই উদ্দেশ্যকে কীভাবে পূরণ করা যাবে মূলরূপে এটিই দর্শনশাস্ত্রের বিষয়বস্তু হওয়া উচিত এরই মাঝে দর্শনশাস্ত্র অধিক অনেক প্রশ্নের সমাধান করে দেয় যেমন আমরা কে, এই প্রকৃতির সাথে আমাদের কী সম্পর্ক, আমাদের নিজেদের মধ্যে কী সম্পর্ক ইত্যাদি অহংকার অথবা ব্যক্তিত্ব কত প্রকার হয়ে থাকে এবং তাদের কীভাবে বিকশিত করা যায়, যে কারণে বিভিন্ন প্রকার অহংকারের নির্মাণ করা হয়ে থাকে যেন সেই সকল উদ্দেশ্য পূরণ হয় এর নির্মাণ প্রক্রিয়া কী? এইসব বিষয়গুলি দর্শনের অন্তর্গত তাহলে সাধারণ শিক্ষার কর্ম এবং উদ্দেশ্য এটিই তা যেন আমাদের অন্তঃকরণকে সুনিয়োজিতভাবে বিকশিত করতে পারে

 

এখনো অবধি যত প্রকার দর্শন আমরা পাই সেসবের প্রারম্ভে যে মূল প্রশ্ন আসে তা হল এই ব্রহ্মাণ্ডময় জীবন কী অথবা এই ব্রহ্মাণ্ডময় জীবনের উদ্দেশ্য কী অথবা এই ব্রহ্মাণ্ডময় জীবন কোন পথে চলছে, সেই সকল দর্শনে কিন্তু তার স্পষ্ট উত্তর দেওয়া হয়নি আর উদ্দেশ্য সম্পর্কে যতটা অস্পষ্ট উত্তর দেওয়া হয়েছে তার অর্থ এই যে মানুষকে মোক্ষের পথে চলা উচিত আর মোক্ষের অর্থ এই বলা হয়ে থাকে তা হল এই সংসার থেকে মুক্তি অর্থাৎ সংসারের জন্ম, জীবন ও মরণ থেকে মুক্তি এখন আপনিই বলুন যে এই সংসারে জন্ম নেওয়ার পূর্বে সে তো এই সংসারের বাইরেই ছিল তাই না? অর্থাৎ সংসার থেকে তো সে মুক্তই ছিল যদি সংসার থেকে মুক্তিই জীবনের উদ্দেশ্য হয় তবে জন্মের পূর্বে তো সকলে মুক্তই ছিল তাহলে এই সংসারকে তৈরি করার কি প্রয়োজন হল? উদাহরণ হিসেবে ধরে নিন আপনি নিজের ঘরে বাস করছেন এবং একদিন আপনি অন্য কোনো স্থানে যাবার পরিকল্পনা করেছেন সেখানে আপনাকে কেউ জিজ্ঞেস করল, আপনি দ্বিতীয় স্থানে কেন যাচ্ছেন তাহলে আপনি জবাবে কি এই কথাই বলবেন যে, বন্ধু আমি সেখানে এইজন্য যাচ্ছি যেন সেখানে গিয়ে আবার নিজের ঘরে ফিরে আসতে পারি? যেন সেই দ্বিতীয় স্থান থেকে মুক্ত হতে পারি! আপনার এই উত্তর শুনে আপনার বন্ধু বলবে কি বলবে না তার কি কোনো প্রয়োজন আছে? আপনি তো প্রথম থেকেই এখানে রয়েছেন অর্থাৎ আপনি তো প্রথম থেকেই দ্বিতীয় স্থান থেকে মুক্তই রয়েছেন তাহলে আবার এইসব গমনাগমন কেন? বর্তমান সময়ের দর্শন এই প্রশ্নের কোনো উত্তর দেয় না দিতেও পারবে না কারণ এই প্রশ্নের উত্তর আর কি হতে পারে? এখন যদি আপনি বিভিন্ন দার্শনিকদের থেকে জানতে চান যাদের আপনি বিভিন্ন নামে চেনেন, যারা বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন, আর আমি এইসব ধর্মগুলিকেও দর্শন হিসেবেই বলছি দর্শনের অর্থ উপরে উল্লেখ করা হয়েছে জীবনের যে সিদ্ধান্ত অনুসারে আমরা জীবন-যাপন করি অথবা জীবনযাপনের দিকনির্দেশ পেয়ে থাকি তাকেই দর্শন বলছি আমার বিবেচনায় আজ যেটিকে আমরা ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র বলছি এটিও একপ্রকার দর্শন অথবা একপ্রকার ধর্ম আপনি এটিকে গণধর্ম নাম দিতে পারেন দেশের সংবিধানও একপ্রকার দর্শন, বলতে গেলে একপ্রকার ধর্ম ধর্মের অর্থই হচ্ছে ধারণ করার উপযুক্ত আর সংবিধানও তো এটিই বলছে এর অন্তর্গত নাগরিকদের কী ধারণ করা উচিত কী করা উচিত নয় অর্থাৎ কোনটি ধর্ম আর কোনটি অধর্ম আর পুরো সংসারের পরিস্থিতি দেখে এটি বলা যায় এখনো অবধি সেই ধর্ম বা দর্শন আসেই নি যা সকলের জীবনের উদ্দেশ্যকে পূরণ করতে সক্ষম হতে পারে এইভাবে আমরা আমাদের জীবনযাপনের মধ্য দিয়েই দর্শনের গুরুত্বকে বুঝতে পারি আর এমনও বলা হয়ে থাকে যে সকল ধর্মকে সমানভাবে দেখা উচিত ব্যবহারিক দিক দিয়ে তা সম্ভব নয় কারণ প্রতিটি ব্যক্তি কোনো না কোনো ধর্মকে তো বিশেষভাবে মেনে চলে তবেই তো সে একটি ধর্মকে চয়ন করে যখন কেউ কোনো একটি ধর্মকে বিশেষরূপে দেখবে অথবা সেইরূপ মেনে চলবে তবে তো অবশিষ্ট ধর্মকে সে দ্বিতীয় শ্রেণীতেই রাখবে তাই না? নাহলে কীভাবে কেউ একটি ধর্মকে বেছে নেবে? উদাহরণস্বরূপ, আপনি বাজারে গেলেন কোনো সব্জি কিনতে আর সেখানে একই সব্জির বিভিন্ন প্রকারভেদ দেখতে পেলেন এবং তা থেকে কোনো একটি সব্জি নিজের পছন্দ অনুযায়ী কিনে নিলেন। এবার বলুন যে আপনি কীভাবে সমস্ত প্রকারের সব্জিকে সমানভাবে দেখবেন? সমানভাবে দেখার অর্থ হছে আপনার কাছে সকল সব্জির প্রকারভেদ একইরকম মনে হবে ধরুন আপনি সব্জি বিক্রেতাকে বলছেন যে কোনো এক প্রকার সব্জি দিয়ে দিন সবই তো একই মনে হচ্ছে কিন্তু আপনারা সকলে জানেন যে ব্যবহারিক দিক দিয়ে তা এক নয় তাহলে ধর্মের ব্যপারে এমনটি কি করে হবে? অর্থাৎ আপনি ১৬ ক্যারাট সোনাকে ২৪ ক্যারাট মুল্যে কিনতে পারবেন না অর্থাৎ যখন ধর্ম অনেক হবে তখন তার দর্শনও তো অনেকগুলিই হবে তাই না? নাহলে অনেক বলার অর্থ কী? সকলের নিজের নিজের পছন্দ রয়েছে এবং সকলে নিজের মত করে ভিন্ন-ভিন্ন মূল্যায়ন করে থাকে অতঃপর নিজ বিবেচনায় কোনো একটি ধর্মকে আপন করে নেয় কিন্তু অনেক সময় বিভিন্ন প্রকার ধর্ম একে অপরের ক্ষতি করতে চলে আসে এবং পরস্পরের শত্রু হয়ে ওঠে যেমনটি আমরা সকলে দেখতেও পাচ্ছি এখন এই অবস্থায় সর্বধর্ম-সমন্বয় কীভাবে সম্ভব? তাহলে এর একটিই সমাধান আছে তা হল এক এমন দর্শন নিয়ে আসা যা নিজেই স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে সেই দর্শন সকলেকে সমস্তকিছু উপলব্ধ করে দেবে যা মূলত সকলে জীবনভর চেয়ে থাকে এরপর আর ভিন্ন-ভিন্ন দর্শনের প্রয়োজনীয়তা থাকবে না এবং অনেক প্রকার দর্শন থেকে যে সমস্যা উৎপন্ন হয় তা সমাপ্ত হয়ে যাবে এরপর আর এমন ভয় আসবে না এই ভেবে যে অন্য ধর্মের জনসংখ্যা যদি অধিক হয়ে যায় তবে আমাদের বাঁচতে দেবে নাতাহলে আমরা নিজেদের জনসংখ্যা বাড়িয়ে নিই যেন কোনো সমস্যা এলে তাদের সাথে লড়াই করতে পারি ইত্যাদি ইত্যাদি দর্শনকে ভয় অথবা লোভের উপর নির্ভর করা উচিত নয় বর্তমান সময়ে আপনি দেখতে পাবেন যে প্রায় সকল দর্শন স্বর্গের লোভ এবং নরকের ভয়ের উপর নির্ভরশীল দর্শনকে যেখানে সত্য, প্রেম, ন্যায় এবং পুণ্যের উপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত ছিল অথবা এক লাইনে বলতে গেলে সকল প্রকার সুখ যেন সকলের জন্য প্রাপ্ত হতে পারে এমন কোনো দর্শন থাকা উচিত ছিল সঠিক দর্শন থাকলে সঠিক প্রকারের অহংকার অর্থাৎ ব্যক্তিত্বের নির্মাণ হয় সেইজন্য আমাদের এটি বোঝা উচিত যে ব্যক্তিত্বের নির্মাণের জন্য দর্শনের ভূমিকা সর্বাধিক দর্শনের অর্থ হচ্ছে উদ্দেশ্য আনুসারে দিক নির্দেশ যখন উদ্দেশ্য এক তবে দর্শন কীভাবে অনেক হতে পারে? একটি দর্শনই হওয়া উচিত যতদিন দর্শন একাধিক থাকবে ততদিন মানুষ বিভিন্নরকমভাবে মেনে চলবে আর যদি সেইসব দর্শনের দিকনির্দেশগুলি ভিন্ন-ভিন্ন হয় তবে এর অর্থ কি দাঁড়ায়? এতে এটিই হবে যে পরস্পরের মধ্যে কোনো সহযোগিতা থাকবে না কেননা সকলে আপন আপন উদ্দেশ্য অনুযায়ী চলতে পছন্দ করবে যা হবে পরস্পর থেকে ভিন্ন। এর ফলে সহযোগিতার সংস্কৃতি অথবা সভ্যতা কখনো স্থাপন হবে না এবং সকল মানুষ কখনো সুখী হতে পারবে না যতদিন দর্শন একাধিক থাকবে ততদিন এটি বুঝতে হবে যে সঠিক দর্শন এখনও আমাদের সম্মুখে আসেই নি যেদিন সেই দর্শন এসে যাবে সেইদিন সকলে তা সহজেই স্বীকার করে নেবে

 

এই প্রকার সাধারণ শিক্ষা গ্রহণ করলে চার প্রকারের ব্যক্তিত্ব বেরিয়ে আসে এখানে যাদের নম্বর ০০ থেকে ২৫ শতাংশ অবধি আসবে তাকে শারীরিক অবস্থার (PQ) সক্ষমতা বলা হবে যাদের নম্বর ২৫ শতাংশের বেশী এবং ৫০ শতাংশ অবধি আসবে তাদের মানসিক অবস্থার (IQ) সক্ষমতা বলা হবে আর যাদের নম্বর ৫০ শতাংশের বেশী এবং ৭৫ শতাংশ অবধি আসবে তাদের ভাবনাত্বক অবস্থা (EQ) বলা হবে আর যাদের নম্বর ৭৫ শতাংশের বেশী এবং ১০০ শতাংশ অবধি আসবে তাদের চেতনাত্বক অবস্থার (CQ) সক্ষমতা বলা হবে

 

ভাষার স্বরূপ

কোনো ভাষা যদি পুরোপুরি তর্কসঙ্গত হয় তবে তাকে একটি ভাষা হিসেবে পড়ানো উচিত ভাষাকে তর্কসঙ্গত হওয়া এইজন্য আবশ্যক কারণ ভাষার মাধ্যমেই মানুষের মন বিকশিত হয় ভাষা যেমন হবে মনও সেইরূপ বিকশিত হবে ভাষাই ভবিষ্যৎ সময়ের শিক্ষণ-প্রশিক্ষনের আধার হয়ে থাকে সেইজন্য মনকে তর্কসঙ্গত বানানোর জন্য ভাষা তর্কসঙ্গত হওয়া আবশ্যক উদাহরণস্বরূপ ইংরেজি ভাষায় যেমন PUT এর উচ্চারণ পুট হয় একইভাবে কিন্তু BUT এর উচ্চারণ বুট হয় না তাহলে এটি অযৌক্তিক। সকল স্বরবর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণের উচ্চারণ সকল স্থানে একইরকম হওয়া উচিত এইজন্য ভাষার ব্যকরণকেও পুরোপুরি তর্কসঙ্গত হওয়া উচিত এমনটি নয় যে কোনোটার অর্থ কোথাও একরকম হবে আবার কোথাও অন্যরকম হবে। কোনো অক্ষর কোথাও লেখা হবে কিন্তু উচ্চারিত হবে না ইত্যাদি ইত্যাদি ভাষা সঠিক এবং ব্যবহারিক নাহলে আমরা শিশুদের মধ্যে তর্ক করার জ্ঞান উৎপন্ন করতে পারব না যে কারণে শিশুরা কোনো একটি বিষয়ে সম্পূর্ণরূপে তর্কসঙ্গত চিন্তা-ভাবনা করতে পারে না আর যদি সঠিকভাবে চিন্তা-ভাবনা করতে না পারে তাহলে তো কোনো বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে তাই অধিকাংশ মানুষ সিদ্ধান্তবিহীন পরিস্থিতিতে জীবন-যাপন করতে বাধ্য হয় তাহলে ভাষা হচ্ছে সমগ্র জীবনের আধারযদি এতে কিছুমাত্র ঘাটতি রয়ে যায় তবে তা ভুল পথে প্রভাবিত করতে থাকবে মানুষ প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেকে সীমিত এবং অসহায় অনুভব করবে এর কারণে সে এমন অনেক দুঃখ নিয়ে বাঁচতে বাধ্য হবে যেখানে ভাষা সঠিক হলে সুবিধা করতে পারত তবে আপনি যদি চান কোনো একটি ঐচ্ছিক ভাষা শিখতেই পারেন যদি প্রয়োজন পড়ে আর যদি অন্য কোনো ভাষা আপনি পড়তে চান তো আপনি ভিন্নভাবে পড়তেই পারেন কিন্তু কোনো একটি নির্দিষ্ট ভাষা সম্পূর্ণ জগতের জন্য স্বাভাবিকভাবেই থাকা উচিত যা হবে শুদ্ধ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যখন একটিই ভাষা হবে তখন একজন ব্যক্তি যা বলবে অপর ব্যক্তি সেইরূপ বুঝতে পারবে অধিক ভাষা থাকার ফলে মানুষ বিরাট অসুবিধের সম্মুখীন হয় একজন কিছু বলছে এবং অপর ব্যক্তি নিজের মত করে বুঝে নিচ্ছে এবং উত্তরও সেইরূপ ভিন্ন-ভিন্ন অর্থের মাধ্যমে দিতে হয় অর্থাৎ নিজেদের মধ্যে আদান-প্রদান সঠিক ভাবে হতে পারে না যা কিনা ভাষার একটি মুখ্য কর্ম এবং মুখ্য উদ্দেশ্য আর কখনও কখনও ভিন্ন-ভিন্ন ভাষা যুদ্ধের কারণও হয়ে উঠেতার কারণ কেউ কিছু একটি বলেছে কিন্তু দেখা গেল অপর ব্যক্তি তার উল্টো বুঝে নিয়েছে এর ফলে সমাজে নানারকম ভ্রম উৎপন্ন হয় সুতরাং ভাষার কর্ম কেবলমাত্র অভিব্যক্তি প্রকাশের জন্যই হওয়া উচিত এবং সেইরূপেই দেখা উচিত মাতৃভাষা বা প্রতিবেশীর ভাষা হিসেবে নয় একটি সঠিক ভাষা থাকলে অভিব্যক্তির আদান প্রদানে কোনোপ্রকার ভ্রম বা বিরোধ উৎপন্ন হবে না এবং আদান প্রদানের কর্ম সহজ দ্রুত হবে একজন যা বলবে অবশিষ্ট সকলে তাই বুঝবে সারা পৃথিবীতেই এটি হতে পারে অর্থাৎ বিশ্বের কোনো প্রান্তে যা বলা হবে অন্য প্রান্তে সকলে তা বুঝতে পারবে এরজন্য সকলের কাছে একটিই ভাষা থাকা উচিত এতে পরিশ্রমও কম হবে বিভিন্ন ভাষা থাকার কারণে জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য, চলচ্চিত্র ইত্যাদিকে বহুবার অনুবাদ করতে হয় ভাষা একটি হলে এইসবকে বহুবার অনুবাদ করার প্রয়োজন সমাপ্ত হয়ে যাবে একইভাবে আরও অনেক প্রকার কর্ম রয়েছে যেখানে ভুল ব্যবস্থার কারণে অসুবিধেয় পড়তে হয় আর সঠিক ব্যবস্থা থাকলে এইরূপ করার কোনো প্রয়োজন পড়বে না এর ফলে অতিরিক্ত সময় বাঁচবে অথবা অধিক সৃজনশীলতায় মনোযোগ দেওয়া যাবে অথবা নিজের পরিবারের জন্য অধিক সময় বের করে পারিবারিক সুখ উপভোগ করা যাবে

 

ভাবনার প্রয়োগ কেবলমাত্র জীবিত প্রাণীদের মধ্যে সম্পর্ক অনুযায়ী হওয়া উচিত, ভাষা ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে নয় ভাবনার প্রয়োগ সেখানেই করা উচিত যেখানে তা গ্রহণ করার যোগ্যতা থাকবে যা কেবলমাত্র চেতনার মাধ্যমে হতে পারে অচেতন অবস্থায় নয় ভাষা একটি কাল্পনিক অচেতন মাধ্যম জীবজন্তুর মত ভাষার তো কোনো চেতনা নেই যে সে আপনার ভাবনাকে বুঝতে পারবে বরং ভাষা নিজেই একটি মাধ্যম নিজের ভাবনাকে ব্যক্ত করার জন্য ভাষা তাদের জন্য যারা তা বুঝতে পারে অথবা গ্রহণ করার ক্ষমতা রাখতে পারে এটি শুধুমাত্র আমার ভাষা আর ওটি শুধুমাত্র আপনার ভাষা এসব বলে অনাবশ্যক সকল ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখার বিন্দুমাত্র প্রয়াসও করা উচিত নয় বর্তমান সময়ের কোনো একটি ভাষা থেকে সমগ্র জগতের জন্য এমন একটি ভাষা চয়ন করা উচিত যা সর্বাধিক মাপদণ্ডকে পূরণ করবে এবং অবশিষ্ট ঘাটতিগুলিকে শুধরে নিয়ে ধীরে ধীরে শিক্ষার মাধ্যমে তা সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত এইজন্য সকলের অনুমতিও নেওয়া উচিত এটি করলে আমরা সেইসব সমস্যা থেকে মুক্ত হতে পারব যা ভিন্ন-ভিন্ন ভাষার কারণে হয়ে থাকে নতুন ব্যবস্থা এলে এতে দ্রুত কর্ম করা যাবে

 

গণিতের স্বরূপ

গণিতের মাধ্যমে বুদ্ধির বিকাশ হয় গণিতের মাধমে আমরা সর্বদাই কোনো না কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি সেইজন্য গণিত হচ্ছে একটি যুক্তি সঙ্গত মাধ্যম যেখানে অযৌক্তিকতার স্থান থাকতে পারে না নইলে আমাদের সমস্ত গণনা ভুল হয়ে যাবে আমাদের সমস্ত লেনদেন অসম্ভব হয়ে পড়বে লড়াই এবং মারামারির সংখ্যা অধিক বেড়ে যাবে গণিতের বেলায় মানুষ এমনটি বলার চেষ্টা করে না যে এটি আমাদের গণিত এবং ওটি তোমাদের গণিত; এটি হিন্দুদের গণিত এবং ওটি খৃষ্টানদের গণিত যেমনটি ভাষার বেলায় বলতে শোনা যায় কেননা সকলে জানে যে গণিতের বেলায় যিনি যুক্তিহীন কথা বলবেন সর্বপ্রথমে তিনিই ঠকবেন সেইজন্য আজ অবধি গণিতকে কখনও আমার গণিত বা আপনার গণিত বলতে শোনা যায় নাকিন্তু ভাষার বেলায় মানুষকে সকল যুগে অযৌক্তিক এবং ছেলেমানুষি কথাবার্তা বলতে শোনা যায় ভাষাকে ভিন্ন-ভিন্ন ধর্মের সাথে যুক্ত করা হয় এবং ভিন্ন-ভিন্ন সংস্কৃতির সাথে যুক্ত করা হয় আমার ভাষা তার ভাষা এইরূপ বিপরীত ভাবা হয়, এমনকি আমার ভাষা মহান আর তার ভাষা মহান নয় ইত্যাদি ইত্যাদি মত পোষণ করা হয় বিশ্বের সর্বত্র ভাষা, গণিত, সংজ্ঞান দর্শন একইরকম হওয়া উচিত তাহলেই সকলের ব্যক্তিত্ব একই আধারে নির্মিত হবে কখনই একে অপরের বিপরীত হবে না এর ফলে সকলের বোধ একই আধারে নির্মিত হবে এবং নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা উৎপন্ন করতে সাহায্য করবে অভিব্যক্তি আদান প্রদান করার জন্য কোনোরূপ ভ্রম অথবা বাধা উৎপন্ন করবে নাএর ফলে আদান প্রদানে সরলতা দ্রুত চলে আসবে একজন যা বলবে, লিখবে বা সিদ্ধান্ত নেবে সকলে তাই বুঝতে পারবে এটি সমগ্র বিশ্বেই হতে পারে জগতের কোনো প্রান্তে যা বলা হবে সমগ্র বিশ্ব ঠিক তাই বুঝবে এই কারণে শিক্ষা সকলের জন্য একইরকম হওয়া উচিত

 

সংজ্ঞানের স্বরূপ

সংজ্ঞানের মাধ্যমে আমাদের চিত্ত বিকশিত হয় চিত্ত হচ্ছে সকল তথ্যের ভাণ্ডার গৃহ যার কাছে যত বেশী এবং যত প্রকার তথ্য থাকবে তার জীবন-যাপন তত সুগম হবে সংজ্ঞান বিষয় মূলত স্মরণশক্তি বা স্মৃতি শক্তির উপর নির্ভর করে আপনার আচার ব্যবহারের সমস্ত জ্ঞান সংজ্ঞানের অন্তর্গত আপনার জীবনে স্বাভাবিকভাবে যত প্রকার সাধারণ জ্ঞানের প্রয়োজন হয় ওইসব সংজ্ঞান বিষয়ের মধ্যে পড়ে যেমন ইতিহাস, ভূগোল, আচার-ব্যবহার শাস্ত্র এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ হওয়া সকল প্রকার প্রযুক্তিগত জ্ঞান-বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন সাধারণ জ্ঞান এটি এমন একটি জ্ঞানের ভাণ্ডার যা স্মৃতির উপর নির্মিত যেমন ইনি আমার পিতা এবার এই বিষয়ের উপর আপনি কখনও বলতে পারেন না কেন ইনি আমার পিতা? ব্যস পিতা হন তো হন এবং নাহলে হন না যেমন দিল্লী এখান থেকে ১৫০০ কিলোমিটার দূরে আছে এখানে আপনি এটি বলতে পারেন না যে ১৫০০ কিলোমিটার কেন? ১৫৫০ কিলোমিটার নয় কেন? অর্থাৎ এমন জ্ঞান যা তর্ক সঙ্গত নয় এটিকে শুধুমাত্র মনে রাখতে হয় আপনার স্মৃতির বিকাশ সংজ্ঞান বিষয় দ্বারা হয়ে থাকে আর এটি উপযোগিতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত যার যেমন প্রকার তথ্যের প্রয়োজন সেসব সহজলভ্য থাকা উচিত অনাবশ্যক তথ্য দিয়ে নিজেকে ভারী করা উচিত নয় জীবনে সবকিছু উপযোগিতার আধারেই হওয়া উচিত অনাবশ্যক ভার দুঃখ প্রদানকারী হয়ে থাকে

 

দর্শনের স্বরূপ

আমাদের অহংকারের বিকাশ দর্শন বিষয় দ্বারা হয়ে থাকে আমাদের অহংকার অর্থাৎ আমরা কেমন প্রকার ব্যক্তিত্বকে ধারণ করব এবং কোন পথে করব সেইসব দর্শন বিষয়ের অন্তর্গত দর্শন বিষয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ের সমাধান করা যায় যেমন এই সংসার কেন তৈরি হয়েছে? এই সংসার কী? আমরা এখানে কী করছি? কেন করছি? আমাদের জীবনের কি কোনো লক্ষ্য আছে? যদি থাকে তাহলে তা কি? আমরা কি একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত? আমাদের কীভাবে জীবন-যাপন করা উচিত? যেন সকলের লক্ষ্য পূরণ হতে পারে এই সংসার সৃষ্টির কী কোনো কারণ রয়েছে এবং যদি থাকে তবে তা কি? এইরকম বহু প্রশ্নের উত্তর মূলত বৈজ্ঞানিক আধার থেকে এবং যুক্তিসঙ্গত আধার থেকে পূরণ হোক তাহলে তা পুরোপুরি তর্কসঙ্গত হবে আর এটি ততক্ষণ পরিমার্জিত হতে থাকবে যতক্ষণ না এই বিষয় নিজস্ব পূর্ণতায় পৌঁছায়

 

ভাষা ছাড়া সিদ্ধান্তে আসা যায় না গণিত ছাড়া বোধ আসে না সংজ্ঞান ছাড়া স্মৃতি আসে না এবং দর্শন ছাড়া গবেষণা সম্ভব নয় কাউকে জোর করে শিক্ষা প্রদান করা হবে না বিদ্যালয়ে সকলের জন্য প্রবেশাধিকার থাকবে সকলের পঞ্জীকরণ হবে সকলে প্রতি বছর পরের কক্ষেও উত্তীর্ণ হতে থাকবে কিন্তু কাউকেই জোর করে শিক্ষা প্রদান করা হবে না শিক্ষা প্রদান করার জন্য উৎকৃষ্ট এবং সবচেয়ে সহজ উপায় বের করা হবে সমস্ত শিক্ষা এই প্রকারে প্রদান করা হবে যেন কোনো শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করার সময় কোনোপ্রকার কষ্টের সম্মুখীন না হয় সাধারণত ৫ বছর বয়স পূর্ণ হবার পর ৬ষ্ঠ বর্ষে শিশুকে বিদ্যালয়ে পঞ্জীকরণ করে প্রথম কক্ষে প্রবেশ করানো হবে ২০ বছয় বয়স অবধি প্রত্যেক শিক্ষার্থী সাধারণ শিক্ষা গ্রহণ করবে অতঃপর বিদ্যালয় দ্বারা সকল শিক্ষার্থীর পরবর্তী অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা হবে এরপর তার পছন্দ ও ইচ্ছে অনুযায়ী কোনো একটি বিষয়ে জীবিকামূলক ব্যবহারিক শিক্ষা পরবর্তী ৫ বছর অবধি প্রদান করা হবে যাকে বলা হবে মহাবিদ্যালয় এর আধারেই সকলকে নিশ্চিত জীবিকা প্রদান করা হবে

 

এরপর গবেষণামূলক শিক্ষা গ্রহণের জন্য কেবলমাত্র যোগ্য শিক্ষার্থী নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী গবেষণামূলক শিক্ষা চালিয়ে যেতে পারবে একে বিশ্ববিদ্যালয় বলা হবে যেটি হবে তাদের পেশাগবেষণামূলক শিক্ষার কোনো সময়সীমা থাকবে না এইসকল গবেষণা এবং অনুসন্ধান সমগ্র জগতের জন্য উৎসর্গ করা হবে এর উপর সমগ্র বিশ্বের সমান অধিকার থাকবে জগতের প্রয়োজনে এই সকল আবিষ্কার বিনা শুল্কে ব্যবহার করা হবে

 

উপরের বিষয়বস্তুর ফলাফল এটিই হচ্ছে যে মানব জীবনের সামগ্রিক বিকাশের জন্য শিক্ষা অনিবার্য শিক্ষাই মূলত সঠিক অর্থে আমাদের সামাজিক প্রাণীতে পরিণত হতে সহায়তা প্রদান করে থাকে সামাজিক হলেই সকল প্রকার সুখের দরজা খুলতে শুরু করে

 

মনুষ্যের প্রকার

মনুষ্যের জন্ম থেকেই জাগ্রত অবস্থায় অন্তঃকরণ প্রাপ্ত হয়ে যায় জাগ্রত অবস্থায় অন্তঃকরণের ফলেই মনুষ্য এত বিকাশ করতে পারে সে সবকিছু বুঝতে সক্ষম হয়ে উঠে সে প্রকৃতিকে অধ্যয়ন করতে পারে তা থেকে তথ্যসমূহ বের করে নিতে পারে এতপ্রকার গবেষণা করতে পারে বর্তমানে আমরা যে এত উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছি এর মূলে রয়েছে এই জাগ্রত অন্তঃকরণ যে মানুষের অন্তঃকরণ যত বেশী জাগ্রত হয় সে ততটাই সকল বিষয়কে গভীরভাবে বুঝতে সক্ষম হয় তারপর সেই স্তর থেকে সে সমস্তরকম কর্ম করে থাকে মানুষের অন্তঃকরণকে বিকশিত করাই হচ্ছে শিক্ষার উদ্দেশ্য মানুষের মন, বুদ্ধি, চিত্ত এবং অহংকারকেই অন্তঃকরণ বলা হয় যেভাবে পাঁচ কর্মেন্দ্রিয় এবং পাঁচ জ্ঞানেন্দ্রিয়কে বাহ্যকরণ বলা হয় করণের অর্থ হচ্ছে কিছু করার সাধন যার মাধ্যমে কোনো কর্ম সম্পন্ন হয় তাকে সংস্কৃত ভাষায় করণ বলা হয় মানুষের অন্তঃকরণে চার প্রকার কর্ম হয়ে থাকে মন দ্বারা চিন্তন-মনন করার কর্ম হয় বুদ্ধি দ্বারা সিদ্ধান্ত গ্রহণের কর্ম হয় চিত্ত দ্বারা গ্রহণ বা স্মৃতিধারণের কর্ম হয় অহংকার দ্বারা সেইসব কাজের ইচ্ছে উৎপন্ন হয় এবং বাহ্যকরণ দ্বারা তাদের সম্পন্ন করা হয় এই অহংকারকেই কর্তা, ভোক্তা, দ্রষ্টা, স্রষ্টা ইত্যাদি নামে জানা যায় মন কতটা গভীরতা দিয়ে চিন্তন-মনন করতে পারে, বুদ্ধি কতটা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে, চিত্ত কত দ্রুত এবং কতটুকু গ্রহণ করতে পারে এর থেকেই আপনার অহংকারের কর্ম সম্পন্ন হয় যা থেকে আপনার স্তর কিরূপ তা বোঝা যায় অহংকার মানে আপনার আমি কি প্রকারের তা আপনার অন্তঃকরণ বিকাশের মাধ্যমেই নিশ্চিতভাবে জানা যায় যারা নিজেদের কেবলমাত্র শরীর মনে করে তারা কেবলমাত্র নিজেদের সুখ-দুঃখকে অনুভব করে তাদের রুচিও কেবলমাত্র শরীর দ্বারা সম্পাদিত কর্মের মধ্যেই আবদ্ধ থাকে তাদের সম্পূর্ণ দিনযাপন নিজেদের মধ্যেই সীমিত থাকে তাহলে এর অভিপ্রায় এটিই হবে যে আপনি শরীরী অবস্থায় রয়েছেন আপনি নিজ সুখের আশায় কোনোকিছু করার জন্য সর্বদা তৎপর থাকবেন মানসিক স্তরের ব্যক্তিরা পরিবারের সদস্যদের সুখ-দুঃখকে ঠিক সেইভাবেই অনুভব করে যেমনটি আপনি নিজে করেন তারা সুখকে বাড়াতে ও দুঃখকে কমানোর জন্য কর্মও করে থাকে তারা কোনো বিষয়ে চিন্তা করতে পারে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে কোনোকিছু গ্রহণ করতে পারে নির্দিষ্ট সীমা অবধি তারা বুদ্ধিমানও হয় তাহলে এর অভিপ্রায় এটিই হবে যে আপনি মানসিক অবস্থায় রয়েছেন আপনার আমিত্বের পরিসর আপনার পরিবার অবধি আসছে ভাবনা স্তরের ব্যক্তিরা নিজের সুখের সাথে সাথে পরিবারের সুখের জন্যও কিছু না কিছু করার জন্য তৎপর থাকেন এইভাবে যদি আপনি পুরো সমাজের সুখ-দুঃখকেও একই প্রকার অনুভব করতে পারেন যেমনটি নিজের বেলায় করে থাকেন, নিজের পরিবারের বেলায় করে থাকেন আর তাদের সুখকে বাড়াতে এবং দুঃখকে সমাপ্ত করার জন্য কর্ম করে থাকেন। তারা গভীরভাবে কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তন-মনন করতে পারেন সিদ্ধান্তও অনেকটা সঠিক নিতে পারেন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্যও সর্বদা তৎপর থাকেন অর্থাৎ যখনই আপনি জানতে পারেন যে এটি সঠিক এবং যা করলে সমাজ সুখী হবে শীঘ্রই তা গ্রহণ করতে শুরু করেন সম্পর্ককে খুব গুরুত্ব দিয়ে থাকেন যা করতে বলা হয় তাই করে দেন এনারা যা প্রতিজ্ঞা করেন মৃত্যু পর্যন্ত তা পালন করার ক্ষমতা রাখেন এদের শুধুমাত্র এমন একটি ভয় থাকে যেন কোথাও কখনও ভুল প্রতিজ্ঞা না করে ফেলেন এদের অভিপ্রায় হচ্ছে এরা ভাবনা স্তরের মনুষ্য আত্মিক স্তরের ব্যক্তির আমিত্বের পরিসর পুরো সমাজের পরিসর অবধি চলে আসে এরা সমাজের সুখের জন্য কিছু না কিছু করার জন্য তৈরি থাকেন যারা এই প্রকার গভীরভাবে কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তন-মনন করতে পারেন তারা সমস্ত দিকগুলি জেনে নিয়ে একেবারে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এরা সিদ্ধান্তকে শীঘ্রই গ্রহণ করেন এবং শীঘ্রই তা কর্মে রুপান্তর করতে পারেন সমষ্টির আধারে তাদের সকল কর্ম সম্পাদিত হয় সমষ্টির সকল সুখ-দুঃখ তারা এভাবে অনুভব করে যেভাবে নিজের সুখ-দুঃখকে অনুভব করেন, নিজের পরিবারের বেলায় অনুভব করেন, নিজের সমাজের বেলায় অনুভব করেন তারা গবেষণা ও অনুসন্ধানে দক্ষ হন এবং স্বভাবে বৈজ্ঞানিকদের মতন হন দূরদৃষ্টি সম্পন্ন হন পক্ষপাতহীন হন অন্তর্মুখী হন সর্বদা সত্য, ন্যায়, প্রেম এবং পুণ্যের পক্ষ নিয়ে থাকেন এদের প্রতিটি কর্ম সমষ্টির স্তরেই হয়ে থাকে এদের আত্মিক স্তরের মনুষ্য বলা হয় তারা সকলের মধ্যে নিজেকে দেখতে পান এবং নিজের মধ্যে সকলকে দেখতে পান এরা জ্ঞানের ভাণ্ডারস্বরূপ হন বিবেকবান হন প্রজ্ঞাবান হন এদের দ্বারা কদাচিৎ কোনো ভুল হয় তাও অজ্ঞাতসারে সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে আমরা এটি বুঝেছি যে শিক্ষার উদ্দেশ্য মূলত কী এবং কী কারণে শিক্ষা সকলের জন্য আবশ্যক এবং অনিবার্য হওয়া উচিত তা হবে সহজভাবে জোরপূর্বক নয় যে শিশু সহজভাবে স্বেচ্ছায় নিজেকে যতটা বিকশিত করতে পারবে করবে তবে আমরা


 
 এমন পদ্ধতি খুঁজে নিতে পারি যার মাধ্যমে শিশু খেলতে খেলতে সর্বাধিক বিকশিত অবস্থাকে প্রাপ্ত করে নিতে পারে জীবনের উদ্দেশ্য হচ্ছে সুখী হওয়া বিকশিত হওয়া নয় বিকশিত হওয়া কেবলমাত্র একটি সাধন মাত্র লক্ষ্য কিন্তু নয় সুখ প্রাপ্তিই হচ্ছে মূল লক্ষ্য অন্য কিছু নয় এই সত্যকে সদা মনে রাখা উচিত

 ভাষার মাধ্যমে মন, গণিতের মাধ্যমে বুদ্ধি, সংজ্ঞানের মাধ্যমে চিত্ত এবং দর্শনের মাধ্যমে অহংকার বিকশিত হয় শিক্ষার শুধুমাত্র এটিই একমাত্র উদ্দেশ্য হবে এর থেকে কমও হবে না এবং এর থেকে অধিকও হবে না এটি খেয়াল রাখতে হবে যে সমস্ত শিক্ষা যেন আনন্দের সাথে প্রদান করা হয় সামান্যতমও ক্লেশ না দিয়ে পুনরায় উল্লেখ করছি যে জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য সদা সুখী হওয়া এই কথাকে সর্বদা মনে রাখা উচিত কর্ম আপনি যাই করুন না কেন আমাদের কোনো কর্ম থেকে কেউ যেন দুঃখী না হয় শিক্ষার অন্তর্গত খেলাধূলোরও বড় অবদান রয়েছে শারীরিক ক্রীড়া, মানসিক ক্রীড়া, ভাবনাত্মক ক্রীড়া এবং চেতনামূলক ক্রীড়া এই চারপ্রকার ক্রীড়া হয়ে থাকে এদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আজীবন চলতে থাকবে যে ব্যক্তি যে ক্রীড়া অনুশীলন করতে চাইবে সর্বদা তা করার সুযোগ-সুবিধা পাবে

 

পঞ্চবর্ষীয় প্রশিক্ষণ বিধান

এই জগতে বিভিন্ন প্রকারের শিশুরা রয়েছে যারা বড় হয়ে পছন্দমত কোনো একটি কর্মকে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী নির্বাচন করবে যেন সে সমাজের সুখের জন্য পছন্দের কর্মের মাধ্যমে তা পূরণ করতে পারে আমরা জানি যে একজনের কর্ম অন্য জনের জন্য সুখসুবিধা এবং অধিকার তৈরি করে উদাহরণস্বরূপ যদি কেউ অধ্যাপকের কর্ম চয়ন করেন তাহলে এর অর্থ অধ্যাপনা তার কর্ম তবে উভয়েই শিক্ষা আদান প্রদানের সুবিধা অধিক নিতে পারবেন আর যদি অধ্যাপকের চয়ন সঠিকভাবে না হয় তাহলে অধ্যাপনার কর্মও সঠিকভাবে হবে না অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে বিদ্যা বা অধ্যয়নের সুবিধা পাবে না এবং প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে কর্ম প্রদান করার সময়ও তাদের পছন্দের উপর ধ্যান রাখা উচিত, নাহলে মানুষ মনপ্রান দিয়ে দায়িত্ব পালন করবে না যার ফলে উচ্চ গুণ সম্পন্ন ফলাফল আসবে না এই কথাটি আপনি প্রতিটি কর্ম, অধিকার এবং সুবিধার উপর পরখ করে দেখতে পারেন যদিও আমরা চাই সকলেই যেন নিজেদের সমস্ত সুখসুবিধা পরিপূর্ণভাবে পায় তাই সমস্ত কর্মকে সমুচিতভাবে বিতরণ করে দিতে হবে অতঃপর উচিত মনুষ্য তৈরি করা এবং তাকে পরীক্ষা করে সমুচিত কর্ম নির্বাহ করার দায়িত্ব প্রদান করাই বিদ্যালয়ের কর্ম পরীক্ষা যেন শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করার জন্যই নেওয়া হয়ে থাকে দুটো শিক্ষার্থীর মধ্যে তুলনা করার জন্য নয় পরীক্ষা যেন এটি জানার জন্য নেওয়া হয় যে শিক্ষার্থী কোনোপ্রকার কর্ম সম্পাদন করার জন্য যোগ্য হয়ে উঠেছে কিনা তা যাচাই করা। দুজন শিক্ষার্থীর মধ্যে তুলনা করার জন্য নেওয়া উচিত নয় এটি সম্পূর্ণ নিরর্থক এবং দুঃখদায়ী আমাদের একজনের সাথে অপরজনের তুলনা কখনও করা উচিত নয় প্রতিটি মানুষ ভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে কেউ একটি বিষয়ের যোগ্য হয়ে থাকে, অন্য কেউ অপর কোনো বিষয়ের যোগ্য হয়ে থাকে বিভিন্ন প্রকার যোগ্যতা সমাজের জন্য প্রয়োজন হয় তা নাহলে বিভিন্ন প্রকার কর্ম সম্পাদিত হতে পারবে না ভিন্ন-ভিন্ন সুখসুবিধা উৎপন্ন হবে না, ফলে আমরাও ভিন্ন-ভিন্ন  সুখসুবিধা উপভোগ করতে পারব না এইজন্য আমাদের বোঝা উচিত যে একটি পূর্ণ সমাজ তৈরি করার জন্য সকল স্তরের মানুষের প্রয়োজন হয় এবং সকল প্রকার মানুষের যোগদান প্রয়োজন হয় তত্ত্বগত দিক দিয়ে সকলেই তো এক কারোর মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই বিভিন্ন প্রকার কর্মকে সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য এই ভেদ কেবলমাত্র ব্যক্তিত্বের দিক দিয়ে হয়ে থাকে যা আবশ্যকও বটে

 

 

পঞ্চবর্ষীয় পাঠ্যক্রমে চার প্রকারের প্রশিক্ষণ থাকবে

 

. কৃষি শিক্ষা

. উৎপাদনশিল্পকর্ম শিক্ষা

. প্রশাসনিক শিক্ষা

. নেতৃত্ব শিক্ষা

 

পরীক্ষা বার্ষিকরূপে হবে এবং দু-প্রকারের হবে লিখিত এবং মৌখিক দুটো পরীক্ষাতেই প্রশ্ন ভিন্ন-ভিন্ন আসবে ফলাফল নম্বর দিয়ে প্রকাশ করা হবে শিক্ষার্থীর নম্বর অধিক আসার ভিত্তিতে তাদের মূল্যায়ন হবে কাউকেই অনুত্তীর্ণ করা হবে না যে শিক্ষার্থীর নম্বর শূন্য থেকে ১০০ অবধি আসবে সেই নম্বর দেখেই তাকে পরবর্তী শ্রেণীতে প্রবেশ করানো হবে পরীক্ষা দ্বারা প্রতিটি শ্রেণীতেই তাদের যোগ্যতা এবং গুনাগুণ যাচাই করা হবে তিন প্রকারের শ্রেণী থাকবে ০ থেকে ৩৩ শতাংশ অবধি তৃতীয় শ্রেণী, ৩৩-র উপরে ৬৬ শতাংশ অবধি দ্বিতীয় শ্রেণী, ৬৬-র উপর ১০০ শতাংশ অবধি প্রথম শ্রেণী এই প্রকারে ক্রমশঃ নিন্ম, মধ্যম এবং উচ্চপদে তারা আসীন হবে

 

 

গবেষণা অনুসন্ধানের বিধান

এই বিধানের মাধ্যমে গবেষণা পরিচালিত হবে বিভিন্ন বিভাগে ভিন্ন-ভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা চলতে থাকবে গবেষকদের বৈজ্ঞানিক উপাধিতেই জানা যাবে গবেষণামূলক শিক্ষাকে তিন ভাগে রাখা যেতে পারে অর্থাৎ এখানেও তিনটি শ্রেণী থাকবে যেমন আপনার শরীর, মন এবং প্রাণ হয়ে থাকে সেই প্রকারে সমষ্টির মধ্যেও পদার্থ, প্রকৃতি এবং প্রাণ হয়ে থাকে পদার্থের জ্ঞান-বিজ্ঞান অনুসন্ধানের জন্য অধিভৌতিক বিজ্ঞান, প্রকৃতির জ্ঞান-বিজ্ঞান অনুসন্ধানের জন্য অধিদৈবিক বিজ্ঞান এবং প্রাণের জ্ঞান-বিজ্ঞান অনুসন্ধানের জন্য আধ্যাত্মিক বিজ্ঞান অধিভৌতিক শিক্ষা, অধিদৈবিক শিক্ষা এবং আধ্যাত্মিক শিক্ষা এই তিন প্রকারের গবেষণামূলক শিক্ষা থাকবে অধিভৌতিক শিক্ষায় কৃষি, উৎপাদনশিল্প, প্রশাসন, নেতৃত্ব প্রদানের অধ্যয়ন এবং গবেষণা থাকবে অধিদৈবিক শিক্ষার অন্তর্গত সমস্ত প্রকৃতি নিয়ে অধ্যয়ন এবং গবেষণা থাকবে আর আধ্যাত্মিক শিক্ষার অন্তর্গত প্রাণ বিষয়ে অধ্যয়ন ও গবেষণা আসবে যে কর্ম অধিভৌতিক বিজ্ঞান দ্বারা সম্পন্ন হবে না তার জন্য অধিদৈবিক বিজ্ঞানের সাহায্য নেওয়া হবে যেমন পরিবেশ দূষণ, অগ্নিকাণ্ড, গ্রহ-নক্ষত্রের দুষিত প্রভাব, ভুমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, বড় মহামারী, খরা বা অনাবৃষ্টি, অতি বর্ষণ, উল্কাপিণ্ড ইত্যাদি সকল প্রকার দুর্যোগ প্রকৃতির নিয়মকে জেনে তার ভারসাম্য বজায় রাখাই অধিদৈবিক বিজ্ঞানের মুখ্য কর্ম হবে এই প্রকারে যে কর্ম অধিদৈবিক বিজ্ঞান দ্বারা সম্পন্ন হবে না তা আধ্যাত্মিক বিজ্ঞান দ্বারা সম্পন্ন করা হবে যেমন প্রাণশক্তি সম্পর্কিত কোনো রোগ অথবা সমষ্টির মধ্যে প্রাণশক্তি সম্পর্কিত যে কোনো সমস্যা অথবা আত্মিক শান্তির জন্য যোগ ইত্যাদি উপায়সমূহ প্রাণশক্তির বিজ্ঞানকে জেনে তার ভেতর এবং বাহিরের ভারসাম্য বজায় রাখাই এই আধ্যাত্মিক বিজ্ঞানের কর্ম হবে এমন কোনো কর্ম এই সংসারে নেই যা এই তিন প্রকার বিদ্যা দ্বারা সম্পন্ন করা যাবে না এই তিন প্রকার বিদ্যা নিয়ে যারা অধ্যয়ন, গবেষণা এবং জগতের ভারসাম্য বজায় রাখবে তাদেরকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক বলা হবে সাধারণতঃ অধিভৌতিক বিজ্ঞানীদের আবাসস্থল এবং কর্মস্থল সমাজের মধ্যেই থাকবে অধিদৈবিক বিজ্ঞানীদের আবাসস্থল এবং কর্মস্থল অরণ্যের মধ্যে থাকবে কোনো বিশেষ প্রয়োজনেই তারা জনগণের সান্নিধ্যে আসবে সম্পূর্ণ একাগ্রতার সাথে গবেষণা কর্ম সম্পাদনের জন্য তাদের একান্তে থাকা আবশ্যক আর তাদের গবেষণাও তো প্রকৃতিকে নিয়েই এইজন্য সমাজের মধ্যে বসবাস করা এদের পক্ষে উপযুক্ত হবে না সরকার দ্বারা তাদের জন্য সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ও ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে এদের পরিবার চাইলে সমাজের মধ্যে বাস করতে পারে চাইলে অরণ্যে থাকতে পারে আধাত্মিক বৈজ্ঞানিকরা পুরো পৃথিবীর যে কোনো স্থানে বিচরণ করতে পারে অথবা যে কোনো স্থানে বসবাস করতে পারে অর্থাৎ আজ এখানে তো কাল অন্য কোথাও এই শ্রেণীর বিজ্ঞানীরা হবেন পরিযায়ী প্রকৃতির এনারা পূর্ণ জ্ঞানী হবেন প্রাণ বিষয়ে এদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে এদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তী কোনো সময় করব সচেতন অবস্থায় থাকা মানুষই কেবলমাত্র তাদের রুচি অনুসারে এই তিন প্রকার বিদ্যা অধ্যয়নের অধিকারী হবেন

 

***

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?