কর্মের প্রকারভেদ
অধ্যায় ৮
কর্মের প্রকারভেদ
সমাজে চার প্রকারের কর্ম হয়ে থাকে— কৃষি কর্ম, উৎপাদনশিল্পকর্ম কর্ম, প্রশাসনিক কর্ম এবং নেতৃত্ব কর্ম। সাংস্কৃতিক সুখ বাস্তবে কীভাবে উৎপন্ন
হয় যদি জেনে যাই তবে ব্যবস্থা তৈরির ভিতকে আমরা সরলভাবে বুঝতে পারব। যখন কেউ কোনো কর্মকে সফলতার সাথে সম্পন্ন
করে তখন সেই কর্মের মাধ্যমে ভোগ করার সামগ্রী উৎপাদিত হয়। আর সেই ভোগের জ্ঞান, উৎপাদন এবং উপভোগকরাকেই সুখ নামে আমরা
জানি। অর্থাৎ বিশ্বে যত রকম কর্ম সফলতার সাথে
সম্পন্ন করা হয় তা সবই নিজ নিজ ক্ষেত্রে কোনো না কোনো ভোগের নির্মাণ করে থাকে। আর এই ভোগ জ্ঞান, কর্ম এবং উপভোগের মাধ্যমে ভোগ করা হয়। এই ভোগের মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন প্রকার
সুখ প্রাপ্ত করতে পারি। সফলতার সাথে সম্পন্ন হওয়া কর্মের উপরই
এইপ্রকার সুখ নির্ভর করে। এটি মনে রাখতে হবে যে নতুন ব্যবস্থা তৈরির
সময় পেশা নির্বাচন এমনভাবে করতে হবে যেন তারা নিশ্চিতভাবে সফল হয়। আপনারা সকলে এটি নিশ্চয়ই জানেন যে প্রতিটি
কর্ম সফলতার সাথে সম্পাদন করার জন্য সুনির্দিষ্ট যোগ্যতা, ক্ষমতা, গুণাগুণ, কুশলতা এবং পছন্দ— এই পাঁচ উপাদানের প্রয়োজন হয়। এই পাঁচ উপাদান থেকে যদি কোনো একটি
উপাদান অনুপস্থিত থাকে তবে কর্মের সফলতা ততটাই অনিশ্চিত হয়ে যাবে অথবা হতে পারে
সেই কর্ম ফলাফল হিসেবে সুখের পরিবর্তে দুঃখ বয়ে আনবে। কর্ম যত বেশী সংবেদনশীল হবে তাতে এই পাঁচ
উপাদানের মাত্রার প্রয়োজন ততটাই বেশী হবে। অর্থাৎ প্রথমে আমাদেরকে
কর্মের বর্গীকরণ করতে হবে এবং জানতে হবে যে কোন ধরনের কর্মের জন্য এই পাঁচ উপাদান কতটা
মাত্রায় লাগবে। তারপর সেইমত কর্ম সম্পাদন করার জন্য মানুষকে
তা বণ্টন করে দিতে হবে। এই বিষয়টিকে বোঝার জন্য আমরা একটি উদাহরণের
সাহায্য নিতে পারি। যদি কোনো একটি যানবাহন চালকের উদাহরণ নিই— যেমন সাইকেল, রিক্সা, মোটর সাইকেল, মোটরগাড়ি, বাস, রেলগাড়ি, বিমান, মহাকাশযান ইত্যাদি। এখন সাইকেল চালককে দেখলে বুঝতে পারব যে
সাইকেল চালনা শেখার জন্য সাধারণ জ্ঞান এবং সামান্য অভ্যাস প্রয়োজন হয়, এতে ঝুঁকিও কম থাকে। যদি সাইকেল নিয়ে কেউ পড়েও যান তবে দুর্ঘটনা
ঘটার আশংকা না হবার মতনই থাকে। সাইকেল চালক খুব বেশি
আঘাতপ্রাপ্তও হন না আর সাইকেল বিরাট অংকের দামীও হয় না। রিক্সা চালানো আরেকটু কঠিন এবং সাইকেলের
চাইতে একটু বেশী ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এইভাবে মোটর সাইকেল
চালানো শেখা আরেকটু কঠিন এবং দুর্ঘটনা ঘটলে দুজনের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। সাইকেল ও রিক্সার তুলনায় মোটর সাইকেল বেশ
দামীও হয়। মোটরগাড়ি চালানো শেখা আরেকটু কঠিন এবং
দুর্ঘটনা ঘটলে গাড়িতে বসা পাঁচ জনেরই প্রাণ বিসর্জন হতে পারে। এইভাবে আপনি দেখতে পারেন যে বাস চালানো
শেখা অধিক দায়িত্বপূর্ণ এবং দুর্ঘটনা ঘটলে ৬০ জন সওয়ারির মৃত্যু হতে পারে। আবার রেলগাড়ির ক্ষেত্রে শতাধিক যাত্রী
হতাহত হতে পারে। ঠিক এভাবে অবশিষ্ট সব কর্মের দায়িত্বসমূহকে
বুঝে নিতে হবে যে কোন কর্ম কতটা জ্ঞানযুক্ত এবং সংবেদনশীল। সমুচিত যোগ্যতা, ক্ষমতা, গুণাগুণ, কুশলতা ইত্যাদির ভিত্তিতে পছন্দসই ব্যক্তিকেই
নির্দিষ্ট কাজের দায়িত্ব প্রদান করা উচিত। এর সাথে কোনোভাবেই
সমঝোতা করা উচিত নয় নাহলে দেরী হলেও এর পরিণাম দুঃখদায়ীই হবে এবং আমরা তা এড়াতে পারব না। কিছু মানুষ বলেন যে
সকল কর্ম সকলের জন্য বরাদ্দ থাকা উচিত। কিন্তু এখানে এটি বোঝা
আবশ্যক যে কর্মের স্বাধীনতা অবশ্যই থাকা উচিত যদি সেই ব্যক্তি ওই পাঁচ উপাদান পূরণ
করতে পারেন। নাহলে সমাজে দুর্ঘটনার বন্যা বয়ে যাবে। কোনো ভোগ্য বস্তুই উচ্চ গুণমানের নির্মিত
হবে না। এতে সুখ উৎপন্ন না হয়ে বরং দুঃখ উৎপন্ন
হতে শুরু করবে। এমন কোনো জেদ করা উচিত নয় যেখানে সম্পূর্ণ
যোগ্যতা ছাড়াও কাউকে সেই কর্ম সম্পাদনের দায়িত্ব দিয়ে দেবে। সকলের জন্য এটি অত্যন্ত হানিকারক হবে। আর আমরাও তো সাধারণত নিজেদের পছন্দের কর্মই
করতে চাইব। যখন আমরা নিজেদের রুচি অনুসারে বিদ্যা
অর্জন করতে পারছি, নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী
প্রশিক্ষণ নিতে পারছি, যেখানে সকল কর্মের
বেতনও সমান থাকবে, যেখানে সমান
বেতনের প্রভাবে সকল কর্মের মান বরাবর হয়ে যাবে— তাহলে আমরা ভিন্ন কর্ম কেন করতে চাইব? রুচিহীন কর্ম করলে আমরা তো স্বাভাবিকভাবে দুঃখই অনুভব করব। তাহলে যেসব ব্যক্তি এমনটি বলছে যে সকলেকে
সব কর্ম করতে দেওয়া উচিত, বাস্তবে এটি বলার কারণ হচ্ছে তারা মনে করে কিছু কর্ম আরামদায়ক
এবং অধিক আয়যুক্ত। এমনকি অধিক আয় থাকার কারণে সমাজে অধিক
সম্মান পাওয়া যায়। সুতরাং সকলেকে যদি কর্মের সুযোগ না দেওয়া
হয় তবে তারা সেই সম্মান থেকে বঞ্চিত হবে এবং দুঃখী হবে। আমি এই বিষয়ে তাদেরকে বলতে চাই— যদি সকল কর্মের মান একসমান করে দেওয়া যায় তাহলে তো সমস্যাই থাকে না। আর মান ঠিক হয় জীবন-যাপনের স্তরের উপর। যার জীবন-যাপনের মান কম স্তরের হয় তার মানও কম হয়
এবং যার জীবন-যাপনের মান অধিক স্তরের হয় তার মানও অধিক
হয়। তাহলে নতুন ব্যবস্থাতে তো এই সমস্যা উৎপন্নই
হবে না কেননা সকল কর্মের মান একসমান হবার ফলে সকলের মান একসমান হয়ে যাবে। এখন আপনি বলতে পারেন যে কিছু কর্ম তো কম
বেতনের হলেও তা অধিক সম্মানীয় হয়ে থাকে। মূলত বাস্তবে এমনটি
নয়। যদি আপনি পুরো হিসেব মিলিয়ে দেখতে চান
তাহলে জানবেন যে বেতনের অর্থ সেটি নয় যেটি আপনি মূল্য হিসেবে পান। বরং সেই পদের কারণে যে উপকার আপনি পান
সেটিকেও তো বেতন হিসেবে ধরা উচিত। আমরা এই বিষয়টিকে
এভাবে বুঝে নিতে পারি— সমাজে আমাদের মান এই বিষয়ের উপর নির্ভর
করে যে বাস্তবে আমরা কীরূপে জীবন-যাপন করতে পারছি। আর নতুন ব্যবস্থায় তো সকলের জীবনস্তর সমান
হবে এবং সর্বাধিক উন্নত হবে। এতে মান-সম্মানজনিত সমস্যার দূরীকরণ ঘটবে।
একটি কথা তো স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে কর্মের নির্ধারণ কীভাবে করতে হবে। এবার দ্বিতীয় কথা হচ্ছে এই কর্মগুলি সফলতার
সাথে সম্পন্ন হলে যে ভোগ উৎপন্ন হবে তার বিতরণ কীভাবে করা হবে যেন তা সকলের ইচ্ছানুসারে
সহজেই সকলের কাছে পৌঁছে যায়। কার কোন ভোগের ইচ্ছে
অথবা ডিমান্ড রয়েছে তা জানতে অথবা কোন প্রকারের ভোগ সে চাইছে তার জন্য পূর্বেই উল্লেখ
করে দিয়েছি যে একটি অনলাইন পোর্টালের অন্তর্গত সকলে নিজেদের ইচ্ছে অনুযায়ী ভোগ্যবস্তুর
চাহিদা রাখতে পারবে বা অর্ডার করতে পারবে।
রাষ্ট্রীয় উপজীবিকা নীতি
যোগ্যতা, ক্ষমতা, কুশলতা, গুণাগুণ ও পছন্দ অনুযায়ী সকলেকে কোনো একটি
কর্ম উপজীবিকা বা পেশা হিসেবে নিশ্চিতভাবে প্রদান করা হবে। যদি কোনো কারণবশত সরকার কোনো জীবিকা প্রদান
করতে না পারে তাহলে সরকার তাকেও সমান জীবন-যাপনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করবে।
শিশুদের ২৫ বছর বয়স অবধি সমস্ত খরচ সরকার বহন করবে এবং গৃহকর্মের সেবায় নিযুক্ত স্ত্রী
অথবা স্বামীকেও সরকার সমান জীবনস্তর প্রদান করবে। সকল অসুস্থ্য, অযোগ্য এবং ৫০ বছরের উপরের ব্যক্তিদের
জীবনস্তরও সমান থাকবে। অর্থাৎ সকলের জীবনস্তর একসমান হবে। এর অর্থ হচ্ছে কেউ আর্থিক ভাবে অপরের উপর
নির্ভর থাকবে না। সরাসরি সরকার সকলের জন্য সবরকম ব্যবস্থা
করবে। ফলে সকলের জীবনস্তর একসমান থাকবে।
উপজীবিকার প্রকারভেদ
১. কৃষি
২. উৎপাদনশিল্প
৩. প্রশাসন
৪. নেতৃত্ব
এই চার প্রকার জীবিকার তিনটি করে শ্রেণী থাকবে। মৃদু, মধ্যম এবং উত্তম। ৩৩ শতাংশ নম্বর অবধি মৃদু শ্রেণী, ৩৩ থেকে ৬৬ শতাংশ নম্বর অবধি মধ্যম শ্রেণী
এবং ৬৬ শতাংশ থেকে অধিক নম্বর প্রাপকদের উত্তম শ্রেণী হিসেবে মান্য করা হবে। যেমন— কৃষি ক্ষেত্রে যদি ধরে নিই মৃদু শ্রেণীর মানুষ চাষবাস করবে, মধ্যম শ্রেণীর মানুষ বাগান করবে এবং উত্তম
শ্রেণীর মানুষ দুগ্ধ উৎপাদন করবে। একইভাবে উৎপাদনশিল্পের
ক্ষেত্রে মৃদু শ্রেণীর মানুষ সামান্য কারিগরি কর্ম করবে, মধ্যম শ্রেণীর মানুষ মাঝারী কারিগরির কর্ম
করবে এবং উত্তম শ্রেণীর মানুষ উচ্চ পর্যায়ের কারিগরি কর্ম করবে। এইভাবে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে মৃদু শ্রেণীর
মানুষ জনগণের মাঝে কর্ম করবে, মধ্যম শ্রেণীর মানুষ তথ্য সংগ্রহের কর্ম করবে এবং উত্তম শ্রেণীর
মানুষ ব্যবস্থাপনার কর্ম করবে। এইভাবে নেতৃত্বদানের
ক্ষেত্রেও মৃদু শ্রেণীর ব্যক্তি বিধায়কের কর্ম সম্পাদন করবে, মধ্যম শ্রেণীর ব্যক্তি মন্ত্রিত্বের কর্ম
সম্পাদন করবে এবং উত্তম শ্রেণীর ব্যক্তি প্রশিক্ষকের কর্ম সম্পাদন করবে। উদাহরণ হিসেবে মৃদু শ্রেণীর
ব্যক্তিদের গ্রাম এবং জেলায় বিধায়ক স্তরের নেতৃত্ব হিসেবে নির্বাচন করা হবে। মধ্যম শ্রেণীর ব্যক্তিদের রাজ্য এবং দেশের
মন্ত্রী স্তরের নেতৃত্ব হিসেবে নির্বাচন করা হবে এবং উত্তম শ্রেণীর ব্যক্তিদের বিশ্বস্তরের
প্রশিক্ষকদের থেকে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।
জীবিকার ভিত্তিতে চার প্রকারের কর্ম হবে—
১. শারীরিক যোগ্যতা-প্রধান কর্ম
এই শ্রেণীর
ব্যক্তিরা পুষ্টি সম্পর্কীত প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য অন্ন উৎপাদন, ফল উৎপাদন, পশুপালন ইত্যাদি কৃষিকর্ম সম্পাদন
করবেন।
এই শ্রেণীর
ব্যক্তিরা সমৃদ্ধি সম্পর্কীত প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য উৎপাদনশিল্পকর্ম সম্পাদন
করবেন।
৩. ভাবনাত্মক যোগ্যতা-প্রধান কর্ম
এই শ্রেণীর
ব্যক্তিরা জনসেবা সম্পর্কীত প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য কর্ম সম্পাদন করবেন। অর্থাৎ প্রশাসন, ন্যায় ব্যবস্থা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জনসেবা, সুরক্ষা, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদি কল্যানকারী কর্মসমূহ।
৪. চেতনাত্মক যোগ্যতা-প্রধান কর্ম
এই শ্রেণীর
ব্যক্তিরা জনগণের নেতৃত্ব সম্পর্কীত প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য কর্ম সম্পাদন করবেন। অর্থাৎ আইন কানুন অথবা নীতিনিয়মের ব্যবস্থাপনার মত গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক বিষয় সম্পর্কিত কর্মসমূহ।
বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সরকার বিভিন্ন বস্তু এবং পরিষেবা উৎপাদন করবে। যে সকল বস্তু অথবা পরিষেবা প্রদান করা
সমাজের পক্ষে সুখদায়ক হবে কিন্তু প্রকৃতির মধ্যে কোনো দুস্প্রভাব পড়বে না ততদিন অবধি
সরকার সেইসব বস্তু বা পরিষেবা উৎপাদন করবে। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয় এমন বস্তু অথবা পরিষেবা ব্যবহারের অনুমতি বৈজ্ঞানিকগণ না দিলে সরকার তা উৎপাদন
করতেও পারবে না।
কৃষি উপজীবিকা
কৃষি উপজীবিকার অন্তর্গত
মূলত তিন প্রকারের কর্ম থাকবে। অন্ন উৎপাদন, ফল উৎপাদন এবং দুগ্ধ উৎপাদন। কৃষি বিভাগ এইসবের প্রবন্ধন করবে।
১. নির্বাচন অনুযায়ী যাদের শারীরিক অবস্থা
মৃদু শ্রেণীর হবে তারা অন্ন উৎপাদনের কর্ম করবে। যেমন রবি শস্য, খারিফ শস্য ইত্যাদি। তারা চাষবাস সম্পর্কিত কর্ম সম্পাদন
করবে।
২. নির্বাচন অনুযায়ী যাদের শারীরিক অবস্থা
মধ্যম শ্রেণীর হবে তারা উদ্যান বিষয়ক কর্ম করবে। অর্থাৎ শাক, ফল এবং ফুলের উৎপাদন সম্পর্কিত কর্ম সম্পাদন
করবে।
৩. নির্বাচন অনুযায়ী যাদের শারীরিক অবস্থা
উত্তম শ্রেণীর তারা দুগ্ধ উৎপাদন সম্পর্কিত কর্ম করবে। দুগ্ধ উৎপাদনের জন্য কেবলমাত্র সেইসব পশু
এবং উদ্ভিদের ব্যবহার করা হবে যাদের বৈজ্ঞানিকগণ উপকারী হিসেবে নির্বাচিত করে দেবেন। তারা দুধ, দই, ঘি, লস্যি ইত্যাদি উৎপাদন করবে।
উৎপাদনশিল্প উপজীবিকা
উৎপাদনশিল্পকর্ম বিভাগ এই উপজীবিকার অন্তর্গত সকল ব্যবস্থা প্রবন্ধন করবে। নির্বাচন অনুযায়ী যাদের মানসিক অবস্থা
মৃদু শ্রেণীর হবে তারা সাধারণ কারিগরি বিষয়ক কর্ম করবে। অর্থাৎ যেসব কর্মে কারিগরি প্রযুক্তি সাধারণ
স্তরের হবে। যেমন— ছুতোর, প্লাম্বার, দর্জি, ইলেকট্রিক ফিটার অথবা রিপেয়ারিং, সাধারণ মেশিন চালক, মুচি, নাপিত, ধোবা, ছুতোর, রাজমিস্ত্রি, কামার, গয়না প্রস্তুতকারক, বিজ্ঞাপনদাতা, নির্মাণ কর্মী ইত্যাদি। একইরকমভাবে মধ্যম স্তরের জীবিকার
নির্বাচন হবে। যেমন— বিভিন্ন প্রকার ইঞ্জিনিয়ারিং কর্ম, কোয়ালিটি কন্ট্রোল, সফটওয়ার প্রোগ্রামিং, বিভিন্ন প্রকার ডিজাইনিং ইত্যাদি। আর উচ্চস্তরের জীবিকার মধ্যে বিশিষ্ট অভিজ্ঞতা
এবং দক্ষতা অর্জনকারীদের জন্য নির্দিষ্ট পদ থাকবে।
প্রশাসনিক উপজীবিকা
প্রশাসনিক জীবিকা বা
সার্বজনিক পরিষেবার অন্তর্গত তিনপ্রকার কর্ম থাকবে। শ্রমিক, কেরানি এবং ব্যবস্থাপন। প্রশাসনিক বিভাগে তাদের যোগ্যতা, পছন্দ ইত্যাদির আধারে তাদের পেশা প্রদান
করবে।
১. নির্বাচন অনুযায়ী ভাবনাত্মক স্তরে
যারা মৃদু শ্রেণীর অন্তর্গত তারা ক্ষেত্রীয় শ্রমিকের পদে কর্ম করবে। অর্থাৎ সার্বজনিক ক্ষেত্রে কর্মের জন্য
শ্রমিকদের যোগ্যতা, পছন্দ ইত্যাদির আধারে
তাদের কোনো একটি পদ প্রদান করা হবে। এখানে শ্রমিকের অর্থ
হচ্ছে নিজ ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত কর্ম সম্পাদন করা।
২. নির্বাচন অনুযায়ী ভাবনাত্মক স্তরে
যারা মধ্যম শ্রেণীর হবে তারা কেরানির পদে কর্ম করবে। অর্থাৎ সার্বজনিক ক্ষেত্রে কেরানি পদের
জন্য তাদের যোগ্যতা ও পছন্দের আধারে কোনো একটি পদ প্রদান করা হবে। কেরানির অর্থ হচ্ছে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ
করে এমনভাবে রাখতে হবে যেন প্রয়োজন পড়লে তারা সমস্ত তথ্য নির্দিষ্ট আধিকারিককে উপলব্ধ
করে দিতে পারেন। তথ্য সম্প্রচার বিভাগের অধীনে কর্মরত সকল
শ্রমিকরা তা উপলব্ধ করাবে। তারা একপ্রকারের ডাটা
ম্যানেজমেন্টের কর্ম করবে।
৩. নির্বাচন অনুযায়ী ভাবনাত্মক স্তরে
যারা উত্তম শ্রেণীর হবে তারা ব্যবস্থাপনার কর্ম করবে। ব্যবস্থাপক পদে তাদের যোগ্যতা ও পছন্দের
আধারে কোনো একটি পদ প্রদান করা হবে। ব্যবস্থাপকের অর্থ
হচ্ছে তিনি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কোনো কর্ম সম্পূর্ণ হয়েছে কিনা তার জন্য উত্তরদায়ী থাকবে। যা প্রশাসনিক দিক থেকে প্রদান করা হবে। যদি কোনো সমস্যা আসে এবং নিজের থেকে সমাধান
করতে না পারেন তাহলে প্রশাসন থেকে সমাধান নিতে পারেন।
সংসদীয় উপজীবিকা
সংসদীয় অথবা নেতৃত্ব
অথবা প্রশাসনিক উপজীবিকার অন্তর্গতও তিন প্রকার কর্ম থাকবে। অধিভৌতিক নেতৃত্ব, অধিদৈবিক নেতৃত্ব এবং আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব। কর্মসংস্থান বিভাগ এইসব উপজীবিকার অন্তর্গত
প্রত্যেক কর্মচারীর যোগ্যতা ও পছন্দের আধারে জীবিকা প্রদান করবে।
১. নির্বাচন অনুযায়ী চেতনাবস্থায় মৃদু শ্রেণীর
ব্যক্তিরা অধিভৌতিক নেতৃত্ব প্রদানের জন্য কর্ম করবেন গ্রাম অথবা জেলা স্তরের
নেতৃত্ব প্রদানের জন্য। এই বিভাগের নেতৃত্ব প্রদানের জন্য
থাকবেন বিচারক, উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রমুখ
ব্যক্তিরা। অর্থাৎ বিধায়ক পদের জন্য গ্রাম বা জেলা স্তরের নেতৃত্ব পদ থাকবে। যাদের অধিভৌতিক বিজ্ঞান গবেষণার জন্য নির্বাচিত
করা হবে।
২. একইভাবে নির্বাচন অনুযায়ী চেতনাবস্থায়
মধ্যম শ্রেণীর ব্যক্তিরা অধিদৈবিক নেতৃত্ব পদের জন্য কর্ম করবেন রাজ্য অথবা দেশ স্তরের
নেতৃত্ব প্রদানের জন্য। এই বিভাগের নেতৃত্ব প্রদানের জন্য থাকবেন
বিচারক, উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রমুখ।
যাদের অধিদৈবিক বিজ্ঞান গবেষণার জন্য নির্বাচিত করা হবে।
৩. নির্বাচন অনুযায়ী চেতনাবস্থায় উত্তম শ্রেণীর
ব্যক্তিরা আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব পদের জন্য কর্ম করবেন বিশ্বস্তরের নেতৃত্ব প্রদানের জন্য। এই বিভাগের নেতৃত্ব প্রদানের জন্য থাকবেন
বিচারক, উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রমুখ।
যাদের আধ্যাত্মিক বিজ্ঞান গবেষণার জন্য নির্বাচিত করা হবে।
প্রারম্ভে আমি চার প্রকার প্রশ্নপত্র তৈরি
করে দেব যার মাধ্যমে এই চার স্তরের ব্যক্তিদের নির্বাচিত করা হবে। অতঃপর শিক্ষা ব্যবস্থার অন্তর্গত বিদ্যালয়
থেকেই তাদের নির্বাচন হতে থাকবে। এর পরও যদি কারোর মনে
হয় তিনি উপযুক্ত, তবে তিনি পরিক্ষায়
উত্তীর্ণ হয়ে নির্দিষ্ট বিষয়ে জীবিকা গ্রহণ করতে পারবেন।
সকলের মান-মর্যাদা এবং পারিশ্রমিক সমান থাকবে
কেন?
কেউ কেউ বলেন বিভিন্ন
প্রকার কর্মসংস্থানের জন্য বেতনও ভিন্ন-ভিন্ন হওয়া উচিত। কেননা কর্ম বিশেষে শ্রম ভিন্ন-ভিন্ন হয়ে
থাকে। স্থুল ভাবনায় একথা সঠিক বলেই মনে হয়। কিন্তু তা বাস্তবে জীবনের উদ্দেশ্যকে পূরণ
করে না বরং বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আসুন বুঝে নিই এই নীতি
মূলত কীভাবে বাধা হয়ে দাঁড়ায়?
যদি আমরা পারিশ্রমিক সমান না রাখি তবে যেসব বস্তু উচ্চ বেতনভোগী মানুষ দ্বারা নির্মিত
হবে তার মূল্য স্বাভাবিকভাবে অধিক হবে। আর অধিক মুল্যের হলে
স্বল্প আয়ের মানুষ তা ক্রয় করতে পারবে না। অর্থাৎ সমাজের একটি
বড় অংশ উচ্চ মুল্যের বস্তু বা পরিষেবা উপভোগ করতে পারবে না। অর্থাৎ এই বর্গের মানুষ উক্ত সুখ থেকে
বঞ্চিতই থেকে যাবে। তখন কম বেতনভোগী মানুষ দামী বস্তু পেতে
কোনো না কোনো উপায় খুঁজবে। কেননা তারাও উচ্চ মূল্যের বস্তু এবং পরিষেবা থেকে প্রাপ্ত
সুখ উপভোগ করতে চাইবে। সমাজে মানুষ দু-প্রকারের সুখ উপভোগকারী হয়ে থাকে। প্রথমত— সংবিধান অনুযায়ী এবং দ্বিতীয়ত— সংবিধানের বিপরীত। সংবিধানে তো আমরা উল্লেখ করে দিয়েছি যে
কম বেতনভোগী মানুষ উচ্চ মুল্যের বস্তু/পরিষেবা উপভোগ করতে পারবে না। তাহলে দ্বিতীয় উপায়
যেটি থাকে তা হল বিভিন্ন প্রকার অপরাধমূলক পথ। এভাবেই দুর্নীতি এবং অপরাধের কারণ তৈরি
হয়ে যাবে। বলপ্রয়োগ দ্বারা অপরাধ কিছুটা কম করা গেলেও
নির্মূল করা সম্ভব হবে না। এই প্রকার বলপ্রয়োগ সমাজে অশান্তি, অস্থিরতা, সন্ত্রাসী ইত্যাদি উৎপন্ন করবে। সকলে সর্বদা কলহ এবং অসন্তোষ নিয়ে বেঁচে
থাকবে। এমনতর পরিবেশে আমরা সাধারণ বস্তুও
সঠিকভাবে উপভোগ করতে পারব না। প্রশাসনও সময়, শ্রম এবং অর্থ এইসকল অশান্তি, কলহ, অপরাধ ইত্যাদির ভারসাম্য রক্ষার কাজে লেগে
থাকবে। তাহলে আমরা বুঝতে পারছি সমাজে আর্থিক সমতা
কতটা আবশ্যক। আর্থিক সমতা না হবার কারণে অন্যান্য সমতাগুলিও
বাস্তবিক ক্ষেত্রে সমান হতে পারবে না। কিন্তু সকল মানুষই
তো সমস্ত রকমের সুখ উপভোগ করতে চায়। তা নাহলে চুরি, ডাকাতি, জালিয়াতি, অপহরণ, দুর্নীতি, ঈর্ষা, বিশ্বাসঘাতকতা, হিংসা, ক্রোধ, লোভ, মোহ, প্রতিদ্বন্দ্বিতাসহ অন্যান্য সকল সমস্যা
যা থেকে মানুষ দুঃখ অনুভব করে আসছে তা ঘটতে শুরু করবে। এর থেকে আমরা বুঝতে পারি যে পারিশ্রমিক
সমান হওয়াটা কতটা অনিবার্য। পারিশ্রমিক সমান ধার্য
করা ছাড়া বিশ্বের কোনো ব্যবস্থা ন্যায়শীল হতে পারে না এবং ন্যায়শীল ব্যবস্থা স্থাপিত
না হলে সমস্তরকম ভৌতিক ও আধ্যাত্মিক সমস্যা উৎপন্ন হতেই থাকবে। যেমনটি আপনি বর্তমান ব্যবস্থায় দেখছেন। একথাও যুক্তিযুক্ত যে সকলের পারিশ্রমিক
যখন সমান রাখতে হবে তখন বাস্তবে পারিশ্রমিক থাকার প্রয়োজনীয়তাও আর গুরুত্ব পাবে না। ব্যাস তারপর সকল শ্রমের মূল্য আপনিই সমান
হয়ে যাবে। অর্থাৎ যার যা প্রয়োজন হবে তা সে স্বাভাবিকভাবেই
পেয়ে যাবে। ফলে সকলের জীবনস্তর সমানরূপে সমৃদ্ধশালী
হবে।
ভৌতিক এবং আধ্যাত্মিক সমস্যার জন্য দায়ী কে?
এটি শুনে আপনি আশ্চর্য
হবেন যে আর্থিক বৈষম্যও আধ্যাত্মিক সমস্যার কারণ। এখনো অবধি মানুষ জেনে আসছে যে ভৌতিক সমস্যা
এবং আধ্যাত্মিক সমস্যা ভিন্ন-ভিন্ন, আর এদের পেছনে কারণও রয়েছে ভিন্ন-ভিন্ন। বাস্তবে কিন্তু এমনটি নয়। মূল কারণ একটিই তা হচ্ছে সামাজিক ক্ষেত্রে
আর্থিক অসমতা। এটিই হচ্ছে আধ্যাত্মিক সমস্যা। আমাদের ভেতরে মন অশান্ত হয়ে গিয়েছে এমনটি
মূলত নয়। আমরা নিজেদের বন্ধনে আবদ্ধ অনুভব করি। জীবনকে স্বাধীন অনুভব করি না। নিজেকে হীন অনুভব করি। আমাদের ভেতরে অনাবশ্যক চিন্তা-ভাবনা চলতে
থাকে। যখন তা নিরন্তর চলতে থাকে তখন সবকিছু নিয়ন্ত্রণহীন
হয়ে যায়। আমরা বিরক্ত হতে থাকি। কথায় কথায় ক্রোধ উৎপন্ন
হয়। কোনো কর্ম সঠিকভাবে সম্পাদন করতে পারি
না। কর্ম হাতে নিয়ে ভ্যাবাচ্যাকা খেতে থাকি। নিজের উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা গ্রাস করতে থাকে। এমন মনে হতে থাকে যেন ভবিষ্যৎকালে জীবন-যাপন
করছি। অথবা যেন অতীতকালে জীবন-যাপন করছি। বর্তমানকালের জন্য বাঁচতেই পারি না। পরিবারের জন্য সময় বের করতে পারি না। সকলের সাথে দুর্ব্যবহার করতে থাকি। জীবন অশান্ত হতে শুরু করে। বহু মানুষ তো পাগলই হয়ে যায়। হয় তারা আত্মহত্যা করে ফেলে অথবা পাগলা
গারদে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আমরা স্বয়ং অসুখী থাকি এবং আমাদের কারণেই
অন্য সকলে অসুখী হতে থাকে। এমনকি অবশিষ্ট জীবনেই এইরকম অবস্থা নিরন্তর চলতে থাকে। কখনো সখনো হয়তো সুখের মুহূর্ত চলে আসে। তাহলে এটিই তো আমাদের আধ্যাত্মিক সমস্যা
নাকি অন্য কিছু? সামান্য চিন্তা-ভাবনা করলে বোঝা যাবে যে
অন্তরে অশান্তি তখনই হয় যখন বাইরের ঘটনা আমাদের ইচ্ছের বিপরীত চলতে থাকে। এই অশান্তির কারণ আপনারা সকলে জানেন যে
বাইরে যতক্ষণ ভয়ের পরিবেশ থাকবে ততক্ষন আমাদের অন্তরে ভয় এবং অশান্তি থাকবেই। বাইরের ভয়ের পরিবেশ অসমান ব্যবস্থার কারণেই
তৈরি হয় যা আমরা উপরের আলোচনা থেকে বুঝে নিয়েছি। যখন আমাদের ইচ্ছে পূরণ হয় না তখন সকলে
যেনতেন প্রকারে অপরের থেকে ছিনিয়ে নিয়ে সেই ইচ্ছেগুলিকে পূরণ করার চেষ্টা করতে থাকি। এতে কেউ বা সফল হয়ে যায় কিন্তু
বেশীরভাগই অসফল হয়। যিনি সফল হন তিনিও ভয়ে ভয়ে থাকেন এই
ভেবে— নিজে যেমন করে ছিনিয়ে এনেছি তেমন করে অন্য কেউ যেন আমার থেকে ছিনিয়ে না নেয়। কারণ যিনি ছিনিয়ে নিতে সফল হননি তিনি তো
পুনরায় চেষ্টা করবেন। যার ফলে সমাজে সর্বদা ভয়ের পরিবেশ তৈরি
হয়ে থাকে, আমাদের অন্তর সর্বদা ভয়ে ভয়ে থাকে এবং
মনও অশান্ত থাকে। এটিই জীবনের স্বাভাবিক অবস্থা— বাস্তবে আমরা এমনটিই মনে করি। বাইরে বিভিন্ন ধর্মের সাধু-সন্যাসিদের কাছ থেকে আমরা শুনেও থাকি যে
সংসার হচ্ছে দুঃখের ঠিকানা, এক সরাইখানার মত, এ তো আমাদের নিজের ঘর নয়, আমাদের ঘর তো দূরে কোথাও মেঘের ওপারে, সাত সমুদ্রের পারে, স্বর্গে অথবা বৈকুণ্ঠে ইত্যাদি ইত্যাদি। এরপর আমরা সারাজীবন নিজেদের
সন্তানদেরকেও এইপ্রকার সংস্কার প্রদান করার প্রয়াস করতে থাকি এবং তাদের ছেলেবেলার সুখ
প্রাপ্তির বিনাশ ঘটাতে থাকি। নিজেদের ধর্মগুলিকেও
একইভাবে আমাদের দূষিত অভিজ্ঞতার আধারে তৈরি করে নিই, একইরকম দূষিত শিক্ষার মাধ্যমে গড়ে নিই। সন্তানরা এরপর বড় হয়ে
এমনতর শিক্ষা এবং ধর্ম পেয়ে এমন ভয়ংকর হয়ে যায় যে তাদের আমরা সন্ত্রাসবাদী বলে থাকি। আমাদের শ্রমের একটি বড় অংশ এদের সাথে লড়াই
করতে অথবা নিজেদের সুরক্ষা প্রদানের জন্য খরচ করতে থাকি। এইভাবে বহু কু-চক্র আমাদের জীবনে চলতে থাকে যাদের কারণে
আমরা অন্তরে অবিরত ভয় এবং অশান্তি অনুভব করতে থাকি যার পরিণামস্বরূপ আমরা সর্বদা দুঃখে
থাকি। এমন মনে হয় যেন আমরা সবদিক থেকে বন্ধনে আবদ্ধ রয়েছি। সেইকারণে আমরা এই সংসার থেকে মুক্তি অথবা
মোক্ষ প্রাপ্তির কল্পনা করতে থাকি যার বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। সমস্যা যখন বাইরের জগতে থাকবে তখন কীভাবে
মানুষের অন্তরে সুখ-শান্তি বজায় থাকবে? কেন সে অপরকে ঈর্ষা করবে না? কেন অপরের উপর ক্রোধিত হবে না? কেন অপরকে হিংসা করবে না? কেন একজন অপরজনের জন্য ভয় উৎপন্ন করবে না? কেন একজন অপরজনের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
করবে না? কেন সে ভবিষ্যতের চিন্তা করবে না? কেন একে অপরের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে
না? কেন হত্যা করবে না? কেন ধর্ষণ করবে না? কেন সে অসত্য বলবে না? কেন সে ভাল ব্যবহার করবে? এইসব মিলিয়ে সে কীভাবে সুখ-শান্তিতে থাকবে এবং অপরকে থাকতে দেবে? যেমনটি সে নিজের ক্ষেত্রে চায়? তাহলে কোনো সংবিধানে কেবলমাত্র ন্যায় শব্দ
লিখে দিলেই ন্যায় প্রতিষ্ঠা হয়ে যায় না? ন্যায়ের জন্য সেই সকল আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাও জরুরী যেখানে এই ন্যায়
প্রতিষ্ঠিত হতে পারে এবং বাস্তবায়িত হতে পারে। চাঁদে সকলেই যেতে চায় কিন্তু কোনো উপায়
অবলম্বন না করে চাঁদে পৌঁছানো সম্ভব? আমরা সকলে জানি তা সম্ভব নয়। তাহলে সংবিধানে কেবলমাত্র ন্যায়ের প্রস্তাবনা
লিখে দিলেই ন্যায় করা হয় না। তার জন্য সকল ব্যবস্থা
তৈরি করা প্রয়োজন যেন ন্যায় বাস্তবে অভিব্যক্ত হতে পারে। ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য যেসব নীতিমালার
প্রয়োজন হয় তা যদি থাকে তবেই ন্যায় সম্ভব হতে পারে। ন্যায় বলুন বা সমতা বলুন একই কথা। তাহলে এটি পরিষ্কার যে আর্থিক সমতা বা
আর্থিক ন্যায়ই মূল কথা এবং তা অবশিষ্ট অন্য সব সমতাগুলির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যদি আমরা সমাজে আর্থিক সমতা নিয়ে না আসি
তবে দ্বিতীয় কোনো উপায় আমি দেখতে পারছি না যাতে অন্যান্য ক্ষেত্রেও সমতা আসতে পারে। সুতরাং আর্থিক সমতা ছাড়া সকলকে নিজেদের
ইচ্ছেমত উপভোগের ব্যবস্থা করে দেবার অন্য কোনো উপায় নেই। যদি কারোর কাছে অন্য কোনো ভাল উপায় থাকে
তাহলে দয়া করে আমাদেরকে জানান। আমরা যারা এমন উদ্দেশ্য
নিয়ে এই কর্মে লিপ্ত রয়েছি সকলেই আপনার সাথী হব। আর যদি এটিই একমাত্র উপায় হয় তবে আর বিলম্ব
করবেন না। শীঘ্রই আমাদের সাথে যুক্ত হোন এবং এই ব্যবস্থাকে
বিশ্ব সংসারে বাস্তবায়িত করতে আপনার ক্ষমতা অনুযায়ী সাহায্য করুন। আমরা সকলে অপেক্ষায় রয়েছি।
***

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন