বিকল্প বিপ্লব কী প্রকার হওয়া উচিত?
বিপ্লব তো পূর্বে হয়েছে, বলা যায় এখনও হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে বিপ্লব কি কাঙ্ক্ষিত সমাধান করতে পারছে? দেশে-বিদেশে-রাজ্যে-কেন্দ্রে সরকার বদলও তো একপ্রকার বিপ্লব। পুনরায় প্রতিবিপ্লব তৈরি হয়েছে, হচ্ছে। বিপ্লব পূর্বের সূত্র মেনে প্রতিফলিত হলে পূর্বের মতোন ফলাফল আসবে। চিন্তন-মনন, আলোচনা-পর্যালোচনার আবশ্যকতা এখানেই। নতুন কিংবা বিকল্প বিপ্লব কী প্রকার হতে পারে যেখানে সকলের একমত সাধিত হবে। সকল পক্ষ লাভবান হবে, মেনে নেবে, নতুন সূত্র প্রতিষ্ঠা করতে সম্মিলিত উদ্যোগে অগ্রসর হবে।
কাজকর্মে, চেহারা চরিত্রে, পছন্দ-অপছন্দে বৈচিত্র্য আছে থাকবে এতে কোনো সমস্যা নেই। জাত-ধর্ম-সংস্কৃতিতেও বৈচিত্র্য থাকবে থাকুক। এইসব মূল সমস্যা নয়। সমস্যা হচ্ছে অর্থনৈতিক অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, সুখসুবিধার আসম বন্টনের অব্যবস্থা নিয়ে। অধিকার প্রতিষ্ঠার বিকল্প সূত্র চরম চরিত্রের হলে পুনরায় সমতার নামে অমানবিক অসম পরিবর্তনই সাধিত হবে। ফলে মৌলিক বিকল্প কী হতে পারে, তেমন বিকল্প কীভাবে সম্ভব যেখানে সকল শ্রেণীর স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে, সকলে লাভবান হবে এবং স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করবে। এই বিকল্প সমাধান সূত্রের আলোচনা-পর্যালোচনা পরবর্তী সমাধানের সিদ্ধান্ত সমাজের মূল দায়িত্ব, এটিই প্রাথমিক পদক্ষেপ।
প্রশ্ন হচ্ছে-
মানুষ কেন ভাবে না তার কারণ-নিবারণ নিয়েও চিন্তন প্রয়োজন। মানুষ কখন অপরের নীতিমালা মেনে নেয় না? বিরুদ্ধে আচরণ করে?
প্রকৃতির রাজ্যে সকলের সমান অধিকার, বাস্তবে ক্ষমতাবানদের হাতে সিংহভাগ অধিকার-অর্থ, তাঁরা কীভাবে সমতায় ফিরবে?
একাধিক দেশে তো বিপ্লব, মৃত্যু, সংঘর্ষ-সংগ্রামের পর কম্যুনিস্ট পার্টি ক্ষমতায় এসেছে, দীর্ঘকাল ক্ষমতায় রয়েছে। অর্থনৈতিক স্বাধীনতার কথা যেভাবে বলছেন তা প্রতিফলিত হয়নি। USSR ব্যর্থ হয়ে গিয়েছে। এদেশেও একাধিক প্রদেশে ক্ষমতায় এসেছে, রাজ্যের সংখ্যা বৃদ্ধি হবার কথা ছিল। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পাবার কথা ছিল? কিংবা উন্নয়নের পথে উত্তরোত্তর অগ্রগতির কথা ছিল। না হবার কারণ কী? তাঁরা কি মার্কসবাদ বোঝেন নি? নাকি সারা পৃথিবীতে একযোগে ক্ষমতায় এলে পরিবর্তন হবে? ফোনে কিংবা ভিডিও লাইভ আলোচনা করতেও আগ্রহী। তাহলে রেকর্ড থেকে যাবে।
সশস্ত্র বিপ্লব হয়ে ক্ষমতায় এলে প্রতি বিপ্লব হবে। হয়েওছে। হয় কম্যুনিস্ট সরকারের হয় পতন ঘটে যায় নাহয় স্বৈরাচারী হয়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে হয়। পুনরায় কম্যুনিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে কম্যুনিস্টরাই বিদ্রোহ করবে। নাহলে সমাজতন্ত্র হয়ে সাম্যবাদ আসবে কীভাবে? এই ট্রানজিশনগুলো বর্তমানে সমীক্ষা করা, সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া এবং উচ্চতর বিকল্প থাকলে গ্রহণ করা.. এইসব জরুরী। সাক্ষাতে আলোচনা করলে খুশি হব। সময় জানাবেন।
পুঁজিপতি ক্ষমতা কোনওদিন ছাড়বে না। কেন ছাড়বে? ব্যবসায়ীর মুনাফা-সুখসুবিধা-নিরাপত্তার সংশয় থাকলে ছাড়বে কেন? এইসব মিলিয়েই তো ক্ষমতা। কিংবা ক্ষমতা বহাল থাকলেই ওইসব সুবিধা লাভ হয়। এমন বিকল্প অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক সমাধান সূত্র সমাজকে দিতে হবে যেখানে উভয় শ্রেণীর সুখসুবিধা-নিরাপত্তা স্থায়ীরূপে সুনিশ্চিত হবে। এই ঐতিহাসিক-মৌলিক সমস্যা নিরসনের উদ্দেশ্যই নতুন ভাবনা, নতুন দর্শন এবং নতুন তত্ত্বের সূচনা হয়েছে। সমাধান সূত্র যথার্থ পরিগণিত হলে সংঘাত-সংঘর্ষ ক্রমাগত অধ্যয়ন এবং দীর্ঘ আলোচনার দাবী রাখে।
আপনি তো "কমরেড" বিশেষণ জুড়ে সিংহভাগ উত্তর দিয়ে দিয়েছেন।
তারপরও সংযোজন এই যে, শ্রেণী নির্বিশেষে তা "'ইউনিভার্সাল" হওয়া উচিত। সহজ করে বললে অভিজ্ঞতা, চেতনার আকাঙ্ক্ষা, প্রযুক্তির বিকশিত ধারাকে সঙ্গী করে সম্মিলিত উদ্যোগে পূর্বের সকল অপ্রয়োজনীয় দুঃখদায়ী তত্ত্বের সমীক্ষা-পর্যালোচনা করে সর্বজনীন সমাধান তত্ত্ব-সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব। সততই নতুন তত্ত্ব যদি সকলের কল্যাণের, সুরক্ষার পরিপূরক হয় সকলের গ্রহণে দ্বিধা থাকার কথা নয়।
দেখুন যাঁদের আপনি সংখ্যালঘু চিহ্নিত করছেন তাঁরাই শুধু নয় পুঁজিবাদ শুরু হয়েছে পরিবার থেকে, সমাজ থেকে ধাপে ধাপে। পুঁজিবাদের পরিধিতে সকলেই বন্দী। আমাদের চারপাশে বহু ক্ষুদ্র মাঝারি ব্যবসায়ী আছেন তাঁরাও শোষণ করছেন। সংখ্যালঘু পুঁজিপতিরাই তাঁদের উদ্দেশ্য-আইডল। এটি চলমান অসম্পূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থার নেতিবাচক ফলাফল। মানুষ তো ধনী হতে চাইবে। ধনী হলে সুখে থাকবে। ধনী হবার বিকল্প শোষণ বিহীন পথ তো নেই। মানুষকে দোষারোপ করলে আমরা মূল কারণ-নিবারণ করতে ব্যর্থ হব। যা সঠিক পন্থা নয়। যে কারণে ULM নতুন জীবন দর্শন এবং নতুন সমাজ ব্যবস্থার প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছে। দারিদ্রের অর্থনীতি নয় মানুষের সুখী জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজন সমৃদ্ধশালী অর্থনীতি। যা পূর্বের অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থনীতি বিষয়ে আরো অধ্যায়-আর্টিকেল রয়েছে। পাশাপাশি আলোচনাও আবশ্যক।
ব্যাংক এবং পুঁজিপতি মাধ্যম মাত্র। যা পরিবার থেকে শুরু হয়েছে। কালের নিয়মে দুটোই বদলে যায়। ব্যক্তিকে দোষী করলে ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় হয়ে যাবে। পুঁজিতন্ত্রের বিকল্প প্রয়োজন। রূপান্তর জরুরী।
মার্ক্স পুঁজিবাদের ব্যাখ্যা সমালোচনা করেছেন, শোষণ নিপীড়নের তাত্ত্বিক আলোচনা করেছেন, সাম্য বিষয়ে সচেতন করেছেন। রাষ্ট্র বিষয়ে, রাষ্ট্রের নায়কত্ত্ব বিষয়েও অবহিত করেছেন। এসব অবশ্য পাথেয়। তারপরও বহু বিষয় থেকে যায় যা যথার্থ সমাজ গড়বার পথে মাথায় রাখতে হয়। যে কারণে সাধারণ মানুষের বিরাট অংশ মার্ক্সকে অনুসরণ করতে পারছে না। কারণ সমাধান সূত্র এবং প্রতিষ্ঠার পথ উভয়ই অসম্পূর্ণ। প্রমাণ হিসেবে বলতে হয় একছত্র অধিকার পাবার পরও কাঙ্খিত সমাধান প্রদানে ব্যর্থ। মার্ক্স যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তার চাইতেও পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থার রূপরেখা-প্রস্তাবনা ULM উপস্থাপন করেছে। যেখানে শোষণ নিপীড়ন কিংবা রাষ্ট্রের একনায়কতন্ত্র স্বৈরাচারী হবার কারণটিই উৎপন্ন হবে না। শ্রেণী সংগ্রামের প্রয়োজন নেই, কেড়ে নেবার প্রয়োজন নেই, সশস্ত্র বিপ্লবেরও প্রয়োজন পড়বে না। যদি এমন কোনো সমাধান সূত্র আসে এবং এমনতর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয় তাহলে তো মার্ক্সবাদীদের অধিক আনন্দিত হবার কথা। আমরাও সহায়তার আশাই রাখি। ব্যবস্থাটি জেনে-বুঝে নিলে তাই হবে। আর তাই, ULM প্রস্তাবিত নতুন রাষ্ট্র ব্যবস্থাটি উন্মুক্ত সমীক্ষার জন্য, সংশোধনের জন্য সকল স্তরের মানুষের কাছে প্রেরিত হচ্ছে।
একেকজনের জীবনকাল পার হয়ে গিয়েছে। সমাজতন্ত্রই সম্ভব হয়নি। আর কত আশা রাখতে বলছেন। ক্রমাগত বিশ্বাস ধরে রাখা, অনন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া ইত্যাদি motivation এর সীমা আছে তো!! নাকি? উত্তর ব্যখ্যা করে দিন।
নিত্যদিন সামাজিক কাজে কত মানুষ যে ব্যক্তিগত সুখসুবিধা বিসর্জন দিয়ে চলেছেন হিসেব করা দুষ্কর। বহু সামাজিক কর্মী হত্যা হচ্ছেন, এমনকি গুমও হয়ে যাচ্ছেন। আপনাদের কাছে কী এমন পন্থা আছে যেখানে বলিদানের মাধ্যমে, হিংসার মাধ্যমেই সমাজের শান্তি-প্রগতি প্রতিষ্ঠিত হবে? মানুষ কি আপনাদের পথ বুঝতে পারছে না? নাকি বোঝাতে পারছেন না। ব্যখ্যা করুন। বুঝতে আগ্রহী।
লড়াই শোষিতের সাথে শোষকের নয়। মার্ক্সের দর্শন অনুযায়ী শাসন কার্যকর হলে সংঘর্ষ, লড়াই, বিপ্লব চলতেই থাকবে। বিপ্লব হবে, পুনরায় প্রতিবিপ্লব হবে। সাম্য আসবে না। বাস্তবে হয়েছেও তাই। সংঘর্ষ ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির নয়। নতুন তত্ত্ব, নতুন ব্যখ্যা। এই ব্যখ্যা জীবনের সাথে, অভিজ্ঞতার সাথে মিলিয়ে যাচাই করে নেবেন। এ বিষয়ে স্পষ্ট হওয়া জরুরী। নতুন তত্ত্বের অধ্যয়ন, বিস্তারিত আলোচনা জরুরী। বিষয়টি একদিকে জীবন দর্শনের অপরদিকে রাষ্ট্র ব্যবস্থার। মানুষ অন্তর থেকে লড়াই চায় না। বঞ্চিত অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে লড়াই চলে আসে। এটি বাধ্যতামূলক আসছে। বাধ্যতামূলক প্রবৃত্তিকে সহজাত-পাশবিক বলা যায় না। যা অবস্থা-ব্যবস্থা-পরিস্থিতির সম্মিলিত ফলাফল। বাস্তবতা হচ্ছে মনুষ্য চেতনা অন্তর থেকে নিজের, অপরের, প্রকৃতির সুখসমৃদ্ধি চায়। সুখসুবিধা উপভোগ করতে চায়। সুরক্ষা চায়। সমাজে যাঁরা আর্থিক দিক দিয়ে সুরক্ষিত তাঁদের সুরক্ষা কেড়ে কিংবা ধ্বংস করে সমাধান সম্ভব নয়। বরং চলমান অর্থনীতিকে ব্যবহার করে ধাপে ধাপে এমন বিকল্প অর্থনীতি নির্মাণ করা যেখানে অসুরক্ষিতবর্গ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সমৃদ্ধশালী হবে, সুরক্ষিত হবে। যদি পুঁজিপতিবর্গের সুরক্ষা হানির সম্ভাবনা না থাকে তবে তাঁরা বরং অসম্পূর্ণ অর্থনীতিকে পূর্ণাঙ্গ করবার উদ্যোগে সহায়ক হবে। সমাজে সর্ববৃহৎ, বৃহৎ, মাঝারি, ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র হয়ে পুঁজিতন্ত্র পরিবার পর্যন্ত বিস্তৃত। মানুষে মানুষে শত্রুতা নেই। চলমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় অর্থবান হতে হলে শোষণ ব্যতীত ভিন্নপথ নেই। এটি অসম্পূর্ণ অর্থনীতির সমস্যা, অর্থশাস্ত্রের অসম্পূর্ণতা। ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সংঘাত নয়। সম্মিলিত উদ্যোগে পূর্ণাঙ্গ আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্মাণের উদ্দেশ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণই হবে প্রকৃত পদক্ষেপ।
#capitalism #capital #economy #economics #economicgrowth #economicdevelopment #economicempowerment
যোগাযোগ করুন 9830925502
যোগাযোগ 9830925502
মতামত জানাতে সকলের আমন্ত্রণ।
#revolution #economics #politics #Education #employment #security #happiness

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন