সরকার, প্রশাসন এবং নেতৃত্ব গঠনের প্রক্রিয়া



অধ্যায়

 

সরকার, প্রশাসন এবং নেতৃত্ব গঠনের প্রক্রিয়া

সরকার গঠন করা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ সরকারের জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে সঠিক নেতৃত্বমণ্ডলী নিযুক্ত করা অর্থাৎ নেতাদের চয়ন প্রক্রিয়া কীভাবে হবে তা সুনিশ্চিত করা সরকার গঠন কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবে তার উপরই অন্যান্য বিষয়গুলি নির্ভর করে সরকার গঠন এমনভাবে হওয়া উচিত যেন নিয়ন্ত্রণ জনগণের হাতে থাকে এবং নেতৃত্ব নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে থাকে। এমনটি হলে যে কোনো নেতার পক্ষে নিরঙ্কুশ হবার সম্ভাবনা সমাপ্ত হয়ে যাবে এবং নেতৃত্বও সঠিকভাবে সম্পাদন হতে পারবে এইভাবে আমরা দুটি সুবিধা একসাথে পেয়ে যাব নেতৃত্ব যেমন সর্বদা উচ্চপর্যায়ের হবে তেমনি নিয়ন্ত্রণও সর্বদা জনগণের হাতে থাকবে বর্তমান সময়ের মত নির্বাচন প্রক্রিয়া কেবলমাত্র ৫ বছরে একবার নয় বরং নির্বাচন এবং নিয়ন্ত্রণের অধিকার সর্বদা জনগণের কাছে থাকবে জনগণ যে কোনো সময় নেতা-নেত্রী, প্রতিনিধি অথবা নীতিনিয়মকে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিযুক্ত করতে পারবে এবং অপসারণ করতে পারবে সরকার, সরকারী নেতা-নেত্রী অথবা প্রতিনিধি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে তার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া ইন্টারনেট মাধ্যমে রাখা থাকবে জনগণ যখন খুশি তা দেখতে পারবে এবং অন্তিম সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এই ব্যবস্থায় এমন একটি মুক্তমঞ্চ থাকবে যেখানে সকল নাগরিক নিজেদের বক্তব্য জনতার কাছে উপস্থাপন করতে পারবে উদাহরণস্বরূপ এমন কিছু তথ্য যার দ্বারা ব্যবস্থা উন্নত হতে পারে অথবা কোনো নেতা বা নেত্রী নিজ কর্ম সঠিকভাবে সম্পাদন করছে কিনা ইত্যাদি বিষয়গুলি রাখা থাকবে কোনো ব্যক্তি যদি এমন কিছু আবিষ্কার করেন যার মাধ্যমে সমাজ লাভবান হতে পারে তবে সেইসব তথ্যও তিনি মুক্তমঞ্চের মাধ্যমে সরকার অথবা জনগণের কাছে উপস্থাপন করতে পারবেন এই প্ল্যাটফর্ম সর্বদা জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে জনগণ সমাজের লাভের জন্য এই প্ল্যাটফর্মকে যে কোনো সময় ব্যবহার করতে পারবে

 

একটি প্রধান নির্বাচন কমিশন থাকবে যা সরকারের গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এই ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না গ্রাম পর্যায়ে চেতনাত্মক স্তরের ব্যক্তিরা নির্বাচনের জন্য মনোনীত হতে পারবেন প্রত্যেক ক্ষেত্রে কেবলমাত্র সর্বাধিক ১০ জন যোগ্য আবেদনকারীকেই নির্বাচনের জন্য মনোনীত করা হবে যাদের মধ্য থেকে জনগণ ৫ জন নেতা নির্বাচন করবে

 

 উদাহরণস্বরূপ ২ লক্ষ্য অবধি জনতার জন্য ১০ জনের মধ্যে ৫ জন নেতা থাকবে। অর্থাৎ একটি নগরের জন্য ৫ জন নেতা চয়ন করা হবে আনুমানিক ৪০ হাজার আবাসিকদের জন্য সকল সুবিধাসম্পন্ন একটি অঞ্চলকে টাউনশিপের সংজ্ঞা দেওয়া হবে ধীরে ধীরে পুরো ভারতে এইপ্রকারে টাউনশিপ স্থাপন করা হবে সকল অঞ্চলে একইরকম সুযোগ-সুবিধা এবং সংরক্ষণ থাকবে ২০টি নগর মিলে একটি জেলা ধরা হবে এইভাবে ২০টি জেলা মিলে একটি রাজ্য ধরা হবে ২০টি রাজ্য মিলে একটি দেশ ধরা হবে এইভাবে সকল দেশ মিলে একটি বিশ্ব ধরা হবে কেবলমাত্র টাউনশিপ স্তরের নেতাদের জনগণ দ্বারা নির্বাচিত করা হবে এরপর এই নির্বাচিত নেতাদের দ্বারা জেলা স্তরে ৫ জন নেতা নির্বাচন করা হবে আবার জেলা স্তরের নেতাদের দ্বারা ৫ জন রাজ্য স্তরের নেতা নির্বাচিত করা হবে আর এইপ্রকারে রাজ্য স্তরের নেতাদের দ্বারা দেশের জন্য ৫ জন নেতা নির্বাচিত করা হবে শেষে সকল দেশের নেতাদের দ্বারা বিশ্ব স্তরের ৫ জন নেতা নির্বাচিত করা হবে অথবা প্রতিটি দেশ থেকে একজন নেতা বিশ্ব সরকারের জন্যও নির্বাচিত হতে পারবে এইস্তরে ৫ জনের মধ্যে ১ জন মুখ্য নেতা এবং ৪ জন সহায়ক নেতা হবেন ভবিষ্যতে যদি কোনো নেতার কাজে ১০ শতাংশ জনগণও অসন্তুষ্ট হন তবে সেই নেতাকে পুনরায় নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যেতে হবে তিনি যদি ৫০ শতাংশের কম ভোট পান তবে তিনি পদচ্যুত হয়ে যাবেন সাধারণত সকল নেতাদের কার্যকাল ৫ বছরই থাকবে এই প্রণালীতে নেতাদের নির্বাচন নীচ থেকে উপরের দিকে হবে এবং ব্যবস্থা উপর থেকে নিচের দিকে থাকবে অন্তিম নিয়ন্ত্রণ সর্বদা জনগণের হাতেই ন্যাস্ত থাকবে

 

মুখ্য সংবিধান বিশ্বস্তরের নেতাদের দ্বারা সংশোধন করা হবে যেখানে সকল স্তরের ব্যবস্থা থাকবে বিশ্ব সরকার নিজের স্তরে কর্ম সম্পাদন করবে এবং দেশের সরকারদের প্রয়োজন অনুযায়ী পথনির্দেশ দিতে থাকবে এবং সকল কর্মের নিরীক্ষণ করতে থাকবে দেশের সরকার নিজ কর্মের পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে পথনির্দেশ দেবে এবং তাদের কর্মের নিরীক্ষণ করবে গ্রাম স্তরের সরকার অবধি এইভাবে চলতে থাকবে। নির্বাচন নীচ থেকে উপরে এবং প্রশাসন উপর থেকে নিচের দিকে থাকবে ফলে সর্বদা ক্ষমতার সমতা বজায় থাকবে চেতনাত্মক স্তরের ব্যক্তিরা মূলত সংখ্যাগরিষ্ঠ হন না তবুও যতটা উপায় করা যেতে পারে চেষ্টা করা উচিত গ্রাম স্তরের নেতাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিন্মের বর্ণনা অনুযায়ী হওয়া উচিত

 

যোগ্যতা

কেবলমাত্র চেতনাত্মক স্তরের ব্যক্তিদেরকেই এই পদের জন্য মনোনীত করা উচিত

 

চয়ন প্রক্রিয়া

একটি নগর থেকে প্রাপ্ত সকল আবেদনকারীর মধ্য থেকে সর্বোচ্চ ১০ জন যোগ্য ব্যক্তিদের নেতৃত্ব বিভাগ দ্বারা নির্বাচিত করা হবে এরপর জনতা নিজেদের ভোটাধিকার দ্বারা তাদের থেকে ৫ জন নেতৃত্ব নির্বাচন করবে তারা নিজেদের মধ্য থেকে একজন মুখ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করে নেবে নির্বাচনের সমস্ত খরচ সরকারের তরফ থেকে করা হবে নির্বাচন কমিশন সকল প্রতিনিধিদের জন্য এবং তাদের নীতিনিয়মকে বিভিন্ন মাধ্যমের দ্বারা জনগণকে অবগত করবে এবং প্রচার করবে কোনো প্রতিনিধি নিজের প্রচার নিজে করবে না কেবলমাত্র নির্বাচন কমিশনই সমস্ত প্রচার করবে নির্দিষ্ট সময়েই ভোটগ্রহণ করা হবে যিনি সর্বাধিক ভোট পাবেন তাকে সেই অঞ্চলের নেতৃত্ব আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রদান করা হবে সাধারণভাবে সকলের কার্যকাল পাঁচ বছরের জন্য হবে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিজের দায়িত্ব পালন করার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা পাবেন তবে জনগণ চাইলে উপরে উল্লেখিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মধ্যবর্তী সময় তাকে পদচ্যুত করতে পারে যদি সেই অঞ্চলের জনগণ অসন্তুষ্ট হয়ে ১০ শতাংশ ভোট প্রদান করে কোনো প্রতিনিধিকে সরাতে চায় এবং নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে সেই আবেদনপত্র নির্বাচন কমিশনকে প্রেরণ করে দেয় তবে কমিশন উক্ত প্রতিনিধির জন্য পুনরায় নির্বাচনের আয়োজন করবে যদি সেই ব্যক্তিকে পদচ্যুত করার সর্বাধিক আবেদন আসে তবে নেই প্রতিনিধিকে সরিয়ে দিয়ে পুনরায় নির্বাচনের আয়োজন করা হবে সমস্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া অনলাইন মাধ্যমেই হবে সকলে নিজেদের অনলাইন প্রোফাইল থেকেই সরাসরি ভোট প্রদান করতে পারবে এমনকি তারা কোন নেতাকে ভোট প্রেরণ করেছে তা পরেও সকলে দেখতে পারবেতৎকাল জানিয়েও দেওয়া হবে যে তাদের ভোট কোন নেতার কাছে পৌঁছেছে নির্বাচন কমিশন একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হবে যেখানে জনগণ নিজেদের যোগ্যতা এবং পছন্দ অনুযায়ী নেতৃত্ব পদ গ্রহণ করতে পারবে সরকার সরাসরি তাদের পদে আসীন করতে পারবে না কেবলমাত্র প্রথমবারই সরকার দ্বারা পদে আসীন হবে এই সকল পদে চেতনাত্মক স্তরের উচ্চশ্রেণীর ব্যক্তিরাই থাকবেন যতজন ব্যক্তি এই বিভাগে আবেদন করবেন তাদের মধ্য থেকে যোগ্য ব্যক্তিদের নিযুক্ত করা হবে এরপর নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন অনুসারে স্বয়ং নির্বাচন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবে অবশিষ্ট অন্য চার জীবিকা বিভাগ নিজ স্তরে সরকারের অধীনে কর্ম করবে এইভাবে নগরস্তরের নেতৃত্ব দ্বারা ১০ জনের মধ্যে ৫ জন জেলাস্তরের জন্য নির্বাচিত হবে আবার জেলা নেতৃত্ব দ্বারা ১০ জন থেকে ৫ জন রাজ্যস্তরের জন্য নির্বাচিত হবে রাজ্য স্তরের নেতাদের দ্বারা ১০ জন্য থেকে ৫ জন দেশস্তরের জন্য নির্বাচিত হবে সরকার গঠন করার জন্য শেষে প্রতিটি দেশস্তরের নেতৃত্বের ২ জন আবেদনকারীর মধ্যে ১ জনকে বিশ্বস্তরের নেতা নির্বাচিত করা হবে অথবা সমগ্র বিশ্ব থেকে ১০ জনের মধ্যে ৫ জনকে নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চয়ন করা হবে ধরা যাক ১০০টি দেশ আছে তবে ১০০ জন প্রতিনিধি বিশ্বস্তরের সরকারের জন্য নির্বাচিত করা হবে যদিও ৫ জনই অধিক হয়ে যায় তবুও প্রারম্ভে প্রতিটি দেশ থেকে ১ জনের নিযুক্তি হতে পারে এতে কোনো সমস্যা হবে না কেননা যে কর্ম ৫ জন করতে পারবে তার জন্য ১০০ জন অনাবশ্যক কিন্তু প্রারম্ভে জনগণ এটি ভেবে নিতে পারে যে নিজেদের দেশ থেকে বিশ্ব সরকারে প্রতিনিধিত্ব করা উচিত সেকথা ভেবে এমনটি করা যেতেও পারে কিছু বছর পর যখন জনগণ অনুভব করবে যে ৫ জনই যথেষ্ট তখন আবার নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশ্ব সরকারের জন্য ৫ জন নেতৃত্ব নির্বাচিত করা হবে

 

একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সর্বপ্রথম প্রতিনিধি মণ্ডলীকে চয়ন করা হবে যারা সমস্ত নীতিনিয়ম নির্ধারণ করবে প্রতিনিধি তিনিই হবেন যিনি পূর্ণরূপে যোগ্য হবেন এবং জনগণের প্রিয়পাত্র হবেন যখন সরকার গঠনের জন্য এমন প্রতিনিধি মণ্ডলীর নির্বাচন সম্পূর্ণ হয়ে যাবে তখন সরকার পরিচালনার অন্যান্য বিভাগে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে এই তো গেল সরকার গঠনের সংক্ষিপ্ত প্রক্রিয়া এবার এই সরকার কীভাবে কর্ম করবে তা সংক্ষেপে নিন্মে বর্ণনা করা হয়েছে সরকার সর্বপ্রথমে চার প্রকার জীবিকা বিভাগ গঠন করবে যাদের নাম নেতৃত্ব জীবিকা বিভাগ, প্রশাসনিক জীবিকা বিভাগ, উৎপাদনশিল্পকর্ম জীবিকা বিভাগ এবং কৃষি জীবিকা বিভাগ এই চার বিভাগের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণকে বিভিন্ন পেশায় নিযুক্ত করবে মুখ্যত যে কোনো সরকারের চার প্রকার কার্য থাকবে

 

সকল বিভাগ এমন নীতিপ্রণালী তৈরি করবে এবং পরিচালনা করবে যার দ্বারা নিন্মলিখিত উদ্দেশ্য পূরণ হতে পারে

 

. শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ

প্রতিটি শিশুর সমান স্তরের সম্পূর্ণ শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ সুনিশ্চিত করা হবে


. জীবিকা

২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী ব্যক্তিদের যোগ্যতা এবং পছন্দ অনুযায়ী একটি পেশা সুনিশ্চিত করা হবে।


. সুখসুবিধা

প্রতিটি বিভাগে ও প্রতিটি অঞ্চলে সমান এবং সমুচিত সুখসুবিধা সুনিশ্চিত করা হবে


 

. সংরক্ষণ

প্রতিটি বিভাগে ও  প্রতিটি অঞ্চলে সমান এবং সমুচিত সংরক্ষণ সুনিশ্চিত করা হবে

 

জীবিকা বিভাগের গঠন প্রক্রিয়া

সকল স্তরের সরকার জীবিকা বিভাগের গঠন এই প্রক্রিয়ায় করবে যে সেখানে মুখ্য পদগুলির জন্য চেতনাত্মক এবং ভাবনাত্মক স্তরের যোগ্য ব্যক্তিরাই নিযুক্ত হবেন সুতরাং যেখানে এমনতর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকবে সেখানে কখনো কোনো সমস্যা উৎপন্নই হবে না আমি এই কথাটিকে পুনরায় বলতে চাই যে, কোনোপ্রকার সমস্যা উৎপন্নই হবে না আর যদি নতুন কোনো সমস্যা উৎপন্ন হয় তাহলে তা অতিশীঘ্র গোঁড়া থেকে সমাধান করে ফেলা হবে যাতে কখনই ভবিষ্যতে দ্বিতীয়বার কোনো সমস্যা উৎপন্ন না হতে পারে

 


বিভিন্ন বিভাগে নেতৃত্ববর্গের গঠন প্রক্রিয়া

নেতৃত্ব-জীবিকা বিভাগের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থায় চেতনাত্মক স্তরের ব্যক্তিদের নিযুক্তি তাদের যোগ্যতা, ক্ষমতা, কুশলতা, গুণাগুণ এবং পছন্দের ভিত্তিতে হবে যেমন সকল বিভাগের পরিচালক, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সকল বিচারপতি, বৈজ্ঞানিক, মুখ্য চিকিৎসক, ব্যবস্থার সকল পরিদর্শক, তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের মুখ্য সম্পাদক প্রমুখ পদাধিকারী ব্যক্তিবর্গ

 

প্রশাসন অথবা জনসেবক ব্যক্তিবর্গের গঠন প্রক্রিয়া

প্রশাসনিক-উপজীবিকা বিভাগ দ্বারা প্রশাসনিক পদে নিযুক্তি তাদের যোগ্যতা, ক্ষমতা, কুশলতা এবং পছন্দের ভিত্তিতে হবে এই পদের জন্য ভাবনাস্তরের ব্যক্তিবর্গ নিযুক্ত হবেন প্রশাসন সেইসব কর্ম সম্পাদন করবে যা জনগণের সুখসুবিধার সাথে সম্পর্কিত হবে যেমন শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, আবাস, সড়ক, বিদ্যুৎ, জল, ডাক, দূরভাষ, দূরদর্শন, রেডিও ইত্যাদি ছাড়াও পরিবহন, পার্ক, স্টেডিয়াম, পুস্তকালয়, দেশের সকল নাগরিকের সুরক্ষা প্রদান করবে। প্রকৃতির চার শ্রেণী জড়-পদার্থ, বৃক্ষ-বনস্পতি, পশু-পক্ষী এবং মনুষ্যবর্গের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা, সহায়তা ও সহযোগিতা, সুরক্ষা ও বিচারালয় ইত্যাদির সার্বজনিক পরিষেবার সমুচিত সংরক্ষণ প্রাপ্তির ব্যবস্থাপন থেকে ক্ষেত্রীয় স্তর অবধি সকল কর্ম

এ তো গেল শাসন ও প্রশাসনিক গঠন প্রক্রিয়া এখন আরও দুটি ক্ষেত্র অবশিষ্ট রয়েছে এক উৎপাদনশিল্প এবং দ্বিতীয় কৃষি আসুন সেগুলি দেখে নিই

 

উৎপাদনশিল্প বিভাগে ব্যক্তিদের গঠন প্রক্রিয়া

উৎপাদনশিল্প-উপজীবিকা বিভাগ এই বিভাগের নিযুক্তি কার্য করবে এই বিভাগের জন্য ন্যুনতম মানসিক স্তরের ব্যক্তিবর্গ নির্বাচিত হবেন এখানেও তিনটি স্তর থাকবে মৃদু, মধ্যম এবং উচ্চ স্তর সমস্ত নেতৃত্ব এবং প্রবন্ধনের ব্যবস্থা সরকার করবে অবশিষ্ট ব্যক্তিদের কেবলমাত্র নিজেদের প্রদান করা কর্ম সম্পাদনের জন্যই আসতে হবে যেমন ছুতোর, প্লাম্বার, দর্জি, ইলেকট্রিশিয়ান, রিপেয়ারিং মিস্ত্রি, মেশিন চালক, মুচি, নাপিত, ধোবা, ওয়েল্ডার, রাজমিস্ত্রি, কামার, জুয়েলারী, বিজ্ঞাপন কর্মী, নির্মাণ কর্মী, বিভিন্ন প্রকার ইঞ্জিনিয়ারিং-এর কর্ম, কোয়ালিটি কনট্রোল, সফটওয়্যার প্রোগ্রামিং, বিভিন্ন প্রকার ডিজাইনিং, অন্যান্য বিশেষ কারিগরি কর্ম ইত্যাদি সকল প্রকার ব্যক্তিদের যোগ্যতা এবং পছন্দের ভিত্তিতে কোনো একটি জীবিকায় নিযুক্ত করা হবে

 

কৃষিক্ষেত্রে ব্যক্তিদের গঠন প্রক্রিয়া

কৃষি-উপজীবিকা বিভাগ দ্বারা শারীরিক ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের যোগ্যতা এবং পছন্দের ভিত্তিতে এই বিভাগে শস্য উৎপাদন, ফল উৎপাদন এবং দুগ্ধ উৎপাদন সম্পর্কিত কোনো একটি জীবিকাতে নিযুক্ত করা হবে সরকার সকলকেই তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কোনো একটি জীবিকা প্রদানে বাধ্য থাকবে কর্মসংস্থান না প্রদান করতে পারলেও সরকারকে তাদের জন্য সমান জীবনস্তর দিতে হবে, তারা যে কোনো বর্গেরই হোক না কেন জীবিকা প্রদান করার পর যদি কর্ম না করে তবে সে স্বয়ং জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে, সরকার নয় সরকার তাদের জন্য সবরকমের সহায়তা করার জন্য সর্বদা তৎপর থাকবে এমনকি তাদের সকল প্রকার সংরক্ষণ দেবে যদি সরকারের কোনো নীতিনিয়ম আপনার ভুল মনে হয় তার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম থাকবে যেখানে জনগণের জন্য অনলাইনে সরাসরি সমস্ত তথ্য সম্প্রচারের ব্যবস্থা থাকবে যেখানে আপনি কোনো বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করতে পারবেন জনতাকে জানাতে পারবেন যে কি ভুল হয়েছে আর যদি সঠিক তথ্য আপনি জানেন তবে তাও জানাতে পারবেন পরে নেতৃত্ববর্গের দ্বারা অথবা জনগণের মান্যতার ভিত্তিতে তা পরিবর্তন করে দেওয়া হবে আপনি যদি কোনোপ্রকার অসুবিধের সম্মুখীন হন তবে দয়া করে নির্দিষ্ট আধিকারিক অথবা বিভাগে উক্ত বিষয় সম্পর্কে অবগত করাতে পারবেন যা অনলাইন প্রক্রিয়াতেই হবে ফলে কাউকে কোথাও যেতে হবে না আপনার নিজের যে অনলাইন আকাউন্ট থাকবে সেখান থেকেই আপনি যে কোনোপ্রকার অভিযোগ করতে পারবেন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই উক্ত আধিকারীক আপনাকে সেই সমস্যার সমাধান করে দেবে যদি উক্ত আধিকারী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমাধান না দিতে পারেন এবং উপরের বিভাগে আপনার সমস্যা না জানিয়ে থাকেন তবে তাকে নিন্ম পদে স্থানান্তরিত করে দেওয়া হবে এই ভেবে যে তিনি উক্ত পদের যোগ্য নন, অথবা উক্ত কাজে তার রুচি নেই একটি নির্দিষ্ট সময় পরে আপনার সেই সমস্যা স্বাভাবিক নিয়মে পরবর্তী অধিকারিকের কাছে স্থানান্তরিত হয়ে যাবে তা চলতে থাকবে যতক্ষণ অবধি কোনো সমাধান না হয় যতদিন সঠিক সমাধান না আসে ততদিন একটি বিকল্প সমাধান তৎক্ষণাৎ আপনাকে দিয়ে দেওয়া হবে যেন আপনার জীবন-যাপন সঠিকভাবে চলতে থাকে

 

যদি কাউকে নিজের জীবিকা বদলাতে হয় তবে পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যতা প্রমাণ করে নতুন জীবিকাতে নিযুক্তি নিতে পারবেন নিজ যোগ্যতার নীচে কোনো জীবিকায় কেউ যেতে চাইলে তিনি যেতে পারেন তার জন্য কোনো পরীক্ষার প্রয়োজন হবে না কিন্তু নিজ যোগ্যতার উপর কোনো জীবিকায় আপনি তখনই যেতে পারবেন যখন উক্ত পদের জন্য যোগ্য হবেন ব্যবস্থা আপনাকে যোগ্যতা প্রাপ্তির জন্য সবরকম সহযোগিতা করবে সকল বিভাগ বিদ্যালয়ের অন্তিম দিনেই আপনার যোগ্যতা যাচাই করে আপনাকে উচিত জীবিকা প্রদান করে দেবে আপনাকে কোথাও যেতে হবে না সাধারণত একজন ব্যক্তি একই সময়ে একটি জীবিকার জন্য নিযুক্ত হতে পারবে

 


 

 

রাষ্ট্রীয় সুখসুবিধা নীতি

এটি হচ্ছে সামাজিক স্তরের কার্য সুখসুবিধার অর্থ হচ্ছে সরকারি স্তরে প্রদান করা সকল সুযোগ-সুবিধা যা কিনা ব্যক্তিগত অথবা পারিবারিক স্তরে সম্ভব হয় না এবং যার জন্য সরকার গঠন করা হয় যেমন সকল সুবিধা সম্পন্ন আবাসিক অঞ্চল, যেখানে জল, বিদ্যুৎ, গ্যাস কানেকশন, ইন্টারনেট কানেকশন, টিভি কানেকশন, নিকাশি ব্যবস্থা, সকল প্রকার সুরক্ষা বিষয়ক সরঞ্জাম ইত্যাদি সকল অঞ্চলে বিদ্যালয়, সড়ক, যাতায়াত ব্যবস্থা, পরিবহন, স্টেডিয়াম, উন্নত পার্ক, ডাক ব্যবস্থা, মোবাইল ব্যবস্থা, পুস্তকালয়, ঔষধালয় ইত্যাদি এই সকল সুখসুবিধা সকল ক্ষেত্রীয় স্তরে প্রদান করা উচিত যেসব সুবিধা গ্রামীণ স্তরে প্রদান করা সম্ভব হবে না তা জেলা স্তরে প্রদান করা উচিত এবং জেলা স্তরেও সম্ভব নাহলে তা রাজ্য স্তরে প্রদান করা উচিত, এইভাবে রাজ্য স্তরে সম্ভব নাহলে সেইসব সুখসুবিধা দেশীয় স্তরে অথবা বিশ্বস্তরে প্রদান করা উচিত এই সকল সুখসুবিধা সার্বিক দিক দিয়ে সকলকে সমানরূপে প্রদান করা উচিত এটিকেই ন্যায় বিচার বলা হবে কেননা এই জগতে যা কিছু প্রাকৃতিকভাবে সম্পদ রয়েছে তার উপর সকল জীবের সমান অধিকার রয়েছে কারোর জন্য কমও নয় কারোর জন্য বেশীও নয় যদি এইপ্রকারে ন্যায় ব্যবস্থাকে স্থাপিত করে দেওয়া যায় তবে জগতে কারোরই কোনো প্রকারের অভাব থাকবে না এবং কোনোপ্রকার সমস্যা উৎপন্নই হবে না যেমন সন্ত্রাসবাদ, নকশালবাদ, দরিদ্রতা, অসুস্থতা, অনাহার, ধর্ষণের মানসিকতা, কাউকে প্রতারিত করার মানসিকতা, নিজেকে তুচ্ছ এবং অপরকে মহান ভাবার মানসিকতা, ভবিষ্যতের প্রতি নিরাপত্তাহীনতার ভাবনা, ভবিষ্যতে কি হবে, ভবিষ্যতের জীবন কীভাবে চলবে ইত্যাদি ইত্যাদি

 

রাষ্ট্রীয় সংরক্ষণ নীতি

এটি হচ্ছে সমষ্টিগত স্তরের কার্য অর্থাৎ চার বর্গকেই সমুচিত সংরক্ষণ প্রদান করা উচিত যেমন মনুষ্য, পশু-পক্ষী, বৃক্ষ-বনস্পতি এবং পদার্থ সমূহের যে চার শ্রেণীবিভাগ রয়েছে এদের মধ্যে কারোর কোনোপ্রকার দুঃখ থাকা উচিত নয় সরকারের সংরক্ষণ নীতি এই প্রকার হওয়া উচিত যে চার প্রকার বর্গের মধ্যে কোনোপ্রকার ভারসাম্যহীনতা এবং কোনোপ্রকার ভয় বা ক্ষতি যেন না হয় যেভাবে একজন ভালো ও বিচক্ষণ কৃষক নিজের জমিতে উৎপন্ন হওয়া অন্যান্য আগাছাগুলিকে তুলে ক্ষেতের বাইরে ফেলে দেয় এবং নিজ ফসলকে রক্ষা করে একইভাবে সকল প্রচেষ্টার পরও যদি কোনো প্রাণী অন্যের ক্ষতি করে অথবা ক্ষতি করতে চায় তবে তাকে সমাজের বাইরে এনে তার উচিত চিকিৎসা করানো কর্তব্য। যদি চিকিৎসা সম্ভব না হয় তবে তাকে সমুদ্রের মাঝে কোনো দ্বীপে ছেড়ে আসা উচিততাকে কদাপি সমাজের মাঝে রাখা উচিত হবে না আর যদি সে অধিক হানিকারক হয় তবে তাকে চিরতরে শান্ত করে দেওয়া উচিততার জন্য বিশ্ব সরকার যেন আবশ্যক অস্ত্র-শস্ত্র, সেনা, কারাগার ইত্যাদির ব্যবস্থা রাখে বিচার, চিকিৎসা, সুরক্ষা ইত্যাদি স্থাপন করে এবং প্রয়োজনীয়তার অনুরূপ উন্নয়ন করেএতে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে, ভূমিকম্পের সম্ভাবনা কমে যায়, বিভিন্ন অসুখ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, আয়ু বৃদ্ধি হয়, অন্য সকল প্রকার শক্তি বৃদ্ধি হয়, জীবনে স্বচ্ছতা আসে, জীবনের প্রতি সঠিক দৃষ্টিকোণ উৎপন্ন হয় ইত্যাদি সরকার সকলেকে স্বাধীনতা, সম্মান, স্বাস্থ্য ইত্যাদির প্রাপ্তি সংরক্ষণ নীতির অন্তর্গত করবে যারা কোনো কারণে পরিবারের সাথে থাকতে চান না তাদের জন্য সংরক্ষিত আবাসের ব্যবস্থা থাকবে সেখানে সকল প্রকার সুখসুবিধার বন্দোবস্ত থাকবে যেখানে বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ইত্যাদি ব্যক্তিগণ যতক্ষণ থাকতে চান ভালোভাবে থাকতে পারবেন যেহেতু সরকারই তাদের জন্য সকল ব্যবস্থা করবে সেইজন্য তারা পরিবারের সাথে থাকুক বা সংরক্ষণ গৃহে থাকুক, এর ফলে সরকারের আলাদা বা অতিরিক্ত ব্যয় হবে না সরকার চার বর্গের মধ্যে এক সমতা এবং সুখের পরিবেশ তৈরি করবে তার জন্যই এই সংরক্ষণনীতির সমাবেশ করা হয়েছে কেননা এই সংসারে যদি কেউ কোনোভাবে দুঃখী অথবা ভারসাম্যহীন হয় তবে সে নিজের কাছের ও দূরের সকলেকে দুঃখী এবং ভারসাম্যহীন করে দেয় সেইজন্য যদি মানুষকে সুখী থাকতে হয় তাহলে অবশিষ্ট সকলেকেও সুখী ও সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকতে হবে এছাড়া দ্বিতীয় কোনো উপায় নেই কারাগার কখনোই দণ্ড প্রদানের স্থান হওয়া উচিত নয় বরং তা মনোরোগীদের চিকিৎসাকেন্দ্র হওয়া উচিত কেননা যে কোনো অপরাধের পেছনে হয় মন্দ ব্যবস্থার হাত থাকে অথবা মানসিক অসুস্থ্যতার কারণ থাকে এই যে সমাজে ভুল ব্যবস্থার কারণে আর্থিক অসমতা, দলাদলি, দমন, উৎপীড়ন, শোষণ, কুণ্ঠা, কুৎসা, অসুস্থ্যতা, বিক্ষিপ্ত অবস্থা ইত্যাদি রয়েছে যার কারণেই সমস্ত অপরাধ ঘটছে এরজন্য সঠিক প্রকারের শিক্ষা ব্যবস্থা, জীবিকা ব্যবস্থা, সুখসুবিধার ব্যবস্থা এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থা থাকা উচিত

 

সে জন্যই এই নতুন ব্যবস্থার কথা বলছি যেন সকলেই এই নতুন ব্যবস্থাকে ভালভাবে বুঝে নিতে পারে সেইকারণে এই পুস্তক রচনা করা হয়েছে। যদি আপনারা সকলে আগ্রহী হন তবে এই ব্যবস্থা সমগ্র বিশ্বের জন্য উপযোগী হতে পারে দণ্ডনীতির পরিবর্তে আমাদের চিকিৎসানীতি এবং তার আগে সঠিক ব্যবস্থানীতি পালন করা উচিত সকল প্রকারের ব্যাধি ভুল ব্যবস্থারই পরিণাম এছাড়া আর কিছু নয় সমৃদ্ধি-সূচক মান সর্বদা ব্যক্তিগত সুখের স্তরেই হওয়া উচিত এই নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি ব্যক্তি নিজের সকল সুখের জন্য সর্বদাই নিজেদের রেটিং নম্বর দিতে থাকবে যদি কোনো ব্যক্তি কখনো এই ব্যবস্থার কারণে কোনো দুঃখ পায় তবে সে নিজের রেটিং দ্বারা অবগত করাতে পারবে যা সকলে ইন্টারনেট থেকে যখন খুশি দেখতে পারবে নির্দিষ্ট তথ্য অনুযায়ী সরকারকে তৎক্ষণাৎ তাদের দুঃখের কারণ নির্মূল করতে হবে এই সূচকের আধারে সরকারের কার্যকলাপের পরিস্থিতি বোঝা যাবে যে সরকার কতটা সফলতা পেল যদি একজন ব্যক্তিও কোনো কারণে দুঃখী হয় তবে তা সরকারের জন্য বিচারাধীন প্রশ্ন হবে এই ভেবে যে এখনও কোথায় সমস্যা রয়েছে যার কারণে দুঃখ উৎপন্ন হচ্ছে সেই নির্দিষ্ট কারণ শীঘ্রই সমাজের কাছে উপস্থাপন করে দেওয়া হবে এই কারণে যদি কারোর কাছে কোনো সমাধান থাকে তা যেন তিনি সরকারকে দিতে পারেন উক্ত সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার তো নিজ স্তরে অনুসন্ধান করতেই থাকবে

 

***


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?