মন্দ আচরণ কি সহজাত প্রবৃত্তি?
একটি সংস্থা দুটি ভোজের আয়োজন করেছে। দুটি আয়োজনেই নির্দিষ্ট ১০০ জন নিমন্ত্রিত। স্পষ্ট করে বললে ওই নির্দিষ্ট সংখ্যক অতিথিগণ উভয় অনুষ্ঠানেই নিমন্ত্রিত। দুটি আয়োজনের মাঝে এক সপ্তাহের বিরতি রাখা হয়েছে। উভয় অনুষ্ঠানে কী প্রকার, কত পরিমাণ আহার সামগ্রী থাকবে তা নিমন্ত্রিতবর্গকে জানানো হবে না। ধরে নিন এটি একপ্রকার পরীক্ষামূলক পর্যালোচনা। প্রথম আয়োজনে সকল নিমন্ত্রিতের পছন্দ অনুযায়ী একাধিক সুস্বাদু, পুষ্টিকর, উপাদেয় আহারসামগ্রী সজ্জিত রাখা হয়েছে। আধুনিক বুফে যেমন হয়। রয়েছে ভোজন গ্রহনের আরামদায়ক স্থান, সুসজ্জিত পরিবেশ। সমস্ত ভোজন সামগ্রী অভিজ্ঞ রন্ধনকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগে প্রস্তুত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে কী ঘটবে?
সকলেই পছন্দের ভোজন আনন্দ-তৃপ্তি সহযোগে ধীরে সুস্থ্যে গ্রহণ করবে। একইসাথে আয়োজক সংস্থাকেও ধন্যবাদ জানাবে।
চলুন দ্বিতীয় অনুষ্ঠানে যাই। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে আহার-আয়োজন বিষয়ে নিমন্ত্রিতদের কিছু জানানো হয়নি। দ্বিতীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে প্রথম অনুষ্ঠানের ঠিক বিপরীত। সেখানে আহারের পরিমাণ, পছন্দ কিংবা রন্ধনশিল্প কিছুরই খেয়াল রাখা হয়নি। এবার কী ঘটবে?
ক্ষুধার্ত নিমন্ত্রিতবর্গ অস্বাস্থ্যকর স্বল্প আহারের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়বে। আহারের দখল নিয়ে পরস্পরকে প্রহার করবে। আহার সামগ্রী বিনষ্ট করার পাশাপাশি বাসনপত্র থেকে আসবাব সবকিছু ভেঙ্গে ফেলবে। অনেকে আয়োজক সংস্থার কর্মকর্তাদের প্রহারের উদ্দেশ্যে খুঁজে বেড়াবে।
উক্ত দুটি আয়োজন থেকে আমরা কী সিদ্ধান্তে উপনীত হব? প্রথম অনুষ্ঠানে সকলে আনন্দ-তৃপ্তি সহযোগে ভোজন গ্রহণ করেছে। দ্বিতীয় অনুষ্ঠানে বিপরীত। একই সংখ্যার একই মানুষ ভিন্ন অনুষ্ঠানে ভিন্ন আচরণ কেন করবে? সমস্যা কোথায় রয়েছে? নিমন্ত্রিত ব্যক্তিদের মধ্যে ত্রুটি রয়েছে? নাকি আয়োজন-ব্যবস্থাপনায় ত্রুতি রয়েছে। এখানেই ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব। ব্যবস্থাপনা যত পূর্ণাঙ্গ হবে ব্যক্তি তত সন্তুষ্ট হবে। ব্যবস্থাপনা যত অসম্পূর্ণ হবে ব্যক্তি তত অসন্তুষ্ট হবে। ব্যবস্থাপনা থেকেই কার্যকারণের, চরিত্রের, ব্যবহারের, সিদ্ধান্তের দিকদর্শন নির্ধারিত হয়। একই মানুষ ভিন্ন ব্যবস্থাপনায় ভিন্ন আচরণ করে থাকে। ফলে মানুষের দোষ ত্রুটির সংশোধন আজ অবধি সফলতা পায়নি। কারণ মানুষের অভ্যন্তরে কোনও ত্রুটি নেই। সে উপযোগিতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। আজ লাভ হলে ভালো আচরণ করবে কাল ক্ষতি হলে মন্দ আচরণ করবে। সকল চেতনা সুখী হতে চায়। ভালো করতে চায়। ভালো থাকতে চায়। ভালো রাখতে চায়। ভালো দেখতে চায়। অসম্পূর্ণ ব্যবস্থাপনা মুখ্য সমস্যা।
একই উদাহরণ রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অনেকে সম্পদের অভাবকে কারণ হিসেবে উপস্থাপন করেন। উদাহরণ হিসেবে প্রশ্ন আসে সুবিশাল ভারতরাষ্ট্রে খাদ্যবস্তু উৎপাদনে কী এমন ঘাটতি রয়েছে যে একটি বৃহৎ অংশের মানুষের দু'বেলা ভরপেট আহার জোটেনা? অনেকে দুর্নীতি কিংবা অসাধু ব্যবসায়ীদের দায়ী করেন। এ সমস্যাও তো ব্যবস্থাপনারই অংশ। অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষানীতি, ধর্মনীতি, সংস্কার-সংস্কৃতি সবই রাষ্ট্র ব্যবস্থার অংশ। প্রথমে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা, জীবিকা, সুখসুবিধা, সুরক্ষার সুনিশ্চিত বন্দোবস্ত প্রয়োজন নাকি মানুষকে দোষারোপ বর্ষণ করে শোধরানোর বৃথা প্রচেষ্টা প্রয়োজন? হিংস্র পশুও অবিরত আহার-পরিচর্যা পেতে থাকলে শিকার হতে বিরত হয়ে পড়ে। উক্ত ভোজ অনুষ্ঠানের মতই রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা যতখানি পূর্ণাঙ্গ হবে নাগরিকের জীবনযাপনের মান ততখানি সুখ-সমৃদ্ধি-সন্তুষ্টির হবে। রাষ্ট্র ব্যবস্থা সকল নাগরিকের। ভেদাভেদ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সম্মিলিত উদ্যোগে পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত গ্রহণই হবে প্রকৃত পদক্ষেপ।
তাই তো মূল থেকে ব্যবস্থা পরিবর্তনের কথা উঠছে। এমন ব্যবস্থা আসুক যেন কোনো বিভাগের কেউ দুর্নীতি করতে না পারে, এমনকি প্রয়োজনও না পড়ে।
মতামত জানাতে ভুলবেন না। ভালো লাগলে কপি শেয়ার করতে পারেন। আলোচনায় আগ্রহী সকলে স্বাগত।
যোগাযোগ- 9830925502
***
#story #storytelling #aimoflife #behaviour #happiness #system #systemchange #economics #politics #Education #employment #security #happiness #philosophy #highlight #everyone

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন