অধ্যায় ১: জীবনের মূল উদ্দেশ্য কী?
অধ্যায় ১জীবনের মূল উদ্দেশ্য কী?
সর্বপ্রথম জানা আবশ্যক জগৎ-সংসারে সমস্ত প্রাণীর সামগ্রিক উদ্দেশ্য কী? অথবা সমগ্র সমষ্টির উদ্দেশ্য কী? যদি আমরা এই উত্তর জেনে যাই তবেই পরবর্তী সমস্ত বিষয় সহজেই বুঝতে পারব এবং অন্যকেও বোঝাতে পারব। কেননা উদ্দেশ্য না জেনে এটি কেউই বলতে পারে না যে এরপর কী করতে হবে এবং কীভাবে করতে হবে। যতক্ষণ আমরা ‘কেন করব’ তার উত্তর না জানব ততক্ষণ ‘কী করব’ এবং ‘কীভাবে করব’ তা জানতে পারব না। তাহলে প্রথমে ‘কেন করব’ জানতে হবে, এরপর ‘কী করব’ তা জানব এবং সবশেষে ‘কীভাবে করব’ তা জানার সময় আসবে। কিছু করার জন্য আমরা যা নির্বাচন করেছি তা সঠিক রয়েছে কিনা তা কীভাবে বিচার করব? অবশ্যই এই দেখে বিচার করব যে এতে আমাদের উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে কিনা। যদি পূরণ হয় তাহলে তো ঠিক আছে, নাহলে তাকে অবশ্যই ভুল বলা হবে। অর্থাৎ কোনোকিছু সঠিক না ভুল তা জানার জন্য উদ্দেশ্যকেই মাপকাঠি হিসেবে ধরা হয়। যদি আপনি নিজে কোনো কর্ম করতে চান তবে সেই কর্মের উদ্দেশ্য কী তা আপনি নিশ্চয়ই আগে থেকে জানবেন। নাহলে ‘কী করতে হবে’ তা ঠিক করবেন কি করে? আপনি এটি জেনেই করবেন যে এই কর্ম আপনি কেন করতে চাইছেন। কিছুক্ষণের জন্য মেনে নিচ্ছি আপনি ভুলে গিয়েছেন যে এই কর্ম আপনি ‘কেন করছেন’। ‘কী করতে হবে’ তা যদি আপনি মনে রাখেন তবে সেই কর্মটি আপনি করে ফেলবেন কিন্তু সেই কাজের ফলাফল সঠিক আসছে কিনা তা জানতে পারবেন না। কেননা আপনি তো জানেনই না সেই কর্ম করার কী প্রয়োজন ছিল। পরিণাম সঠিক আসছে কিনা তা তো কেবলমাত্র তখনই বলা সম্ভব যখন জানা যাবে যে সেই কর্ম কেন করছি। উদাহরণস্বরূপ, আপনি জ্বরের ওষুধ নিতে কোনো ডাক্তারের কাছে গেলেন এবং উদ্দেশ্য হচ্ছে সুস্থ্য হওয়া। ডাক্তারবাবু আপনাকে জ্বর সেরে যাবার ঔষধ দিলেন। ঔষধ নিয়ে বাড়ি ফিরে আপনি ভুলে গেলেন যে ওই ঔষধ আপনি কেন নিয়েছেন। শুধুমাত্র মনে রেখেছেন যে সকালে এবং বিকেলে জলের সাথে খেতে হবে কেননা সেসব আপনার নিজ ভাষায় কাগজে লেখা ছিল। কিন্তু অসুখের নাম এমনভাবে লেখা ছিল যে তা শুধুমাত্র ডাক্তারবাবুই বুঝতে পারবেন। আপনি সকাল-বিকাল ঔষধ খেলেন। দিন চারেকের ঔষধ ছিল এবং চারদিন পর শেষ হয়ে গেল। এমনটি অনুভব করে ঔষধের পরিণাম বুঝতে পারলেন যে এখন পূর্বের তুলনায় ভাল আছেন। কিন্তু এই পরিণাম সঠিক আছে না ত্রুটি আছে তা আপনি বুঝতে পারছে না কেননা ঔষধ কেন খাচ্ছিলেন তা আপনি ভুলেই গিয়েছেন। তখন আপনি পুনরায় ডাক্তারের কাছে গেলেন এবং ডাক্তারবাবুকে জিজ্ঞেস করলেন, ডাক্তারবাবু আমি ভুলে গিয়েছি যে ঔষধ কেন খাচ্ছিলাম? তখন ডাক্তারবাবু প্রেসক্রিপশন দেখে বলে দিলেন, আপনি জ্বরের ওষুধ খাচ্ছিলেন। এরপর ডাক্তারবাবু জ্বর মাপলেন এবং দেখলেন যে জ্বর পূর্বের মতই রয়েছে শুধুমাত্র শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা যেটুকু ছিল তা কিছুটা উপশম হয়েছে। তাহলে আপনি বুঝতে পারলেন— যে ঔষধ আপনাকে দেওয়া হয়েছিল তা কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি। তখন ডাক্তারবাবু ঔষধ বদলে দিলেন এবং কিছুদিন পর আবার চেক-আপে আসতে বললেন। এইভাবে আমরা সমস্ত কর্ম কোনো না কোনো উদ্দেশ্য পূরণের জন্যই করে থাকি এবং যদি আমরা দেখি যে উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না তবে সেই কাজে পরিবর্তনও করে থাকি। এবার আমরা তাহলে বুঝে গিয়েছি যে আমাদের জীবনে উদ্দেশ্য থাকাটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে সব মিলিয়ে একথাই উঠে আসে যে উদ্দেশ্য না জেনে কখনই কিছু বোঝা সম্ভব নয়। এই প্রয়োজনের কারণ হচ্ছে আমরা যা করছি তা থেকে যে পরিণাম আসছে তা সঠিক না ভুল। তাই আসুন প্রথমে জীবনের উদ্দেশ্যকে জানার চেষ্টা করি। তবেই আমরা বুঝতে পারব— যা কিছু আমরা করছি এবং যা কিছু আমাদের দিয়ে করানো হচ্ছে তা সঠিক রয়েছে কিনা। যা পরিণাম আসছে তা উদ্দেশ্য অনুযায়ী আসছে নাকি ভিন্ন কিছু আসছে। এই বিষয়কে আমি আমার দ্বিতীয় পুস্তক ‘সম্পূর্ণ জীবন দর্শনে’ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি। এখানে আমি তা সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি। তার কারণ এই পুস্তক ব্যবস্থাকে বোঝানোর জন্য লিখেছি। যদি আপনি নিজেকে ও অন্যান্য সকল প্রাণীদের পর্যবেক্ষণ করেন এবং সমস্ত গতিবিধি অধ্যয়ন করেন তাহলে দেখতে পাবেন যে জগতের সমস্ত প্রাণীরা কেবলমাত্র সর্বদা সুখী হতে চাইছে। কেউ শুধুমাত্র নিজেকে সুখী দেখতে চায়, কেউ নিজের সাথে নিজের পরিবারকে সুখী দেখতে চায়, কেউ নিজের পরিবারের সাথে সাথে নিজের সমাজকে সুখী দেখতে চায়। আর এমন মানুষও আছেন যারা নিজের, নিজের পরিবারের, নিজের সমাজের এবং সম্পূর্ণ জগতের সকলকে সুখী দেখতে চায়। অর্থাৎ গভীরভাবে দেখলে আপনি বুঝতে সক্ষম হবেন যে শুধুমাত্র সুখই হচ্ছে এই জীবনের এবং সংসারের একমাত্র লক্ষ্য, একমাত্র উদ্দেশ্য। এটিই হচ্ছে সঠিক এবং তর্কের দিক দিয়ে দেখলেও তাই মনে হবে। যদি এই জীবন থেকে সুখকে বের করে দেওয়া যায় তবে এখানে জন্ম নেবার অর্থই বা কী রয়ে যায়? অন্য কারোর জন্যই বা ভিন্নভাবে কী অর্থ থাকতে পারে? এই জগৎ সংসার সৃষ্টির কী অর্থ থাকতে পারে? তাহলে আসুন সর্বপ্রথমে এই সুখ নামক তত্ত্বকে জেনে নিই যে এটি মূলত কী এবং এর প্রয়োজনই বা কী? সুখ ছাড়া কি আমাদের জীবনের অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে? যদি আমরা নিজেদের জীবনকে গভীর দৃষ্টিতে দেখি, সকল গতিবিধিকে পর্যবেক্ষণ করি এবং নিজেদের অতীতের কার্যকলাপকে যদি স্মরণ করি তাহলে দেখতে পাব যে আমরা কোনো না কোনো সুখ উপভোগের জন্যই সমস্তকিছু করছি। আমরা সুখী হবার জন্য সঠিক বা ভুল যে পথই বেছে নেবার প্রয়োজন হোক না কেন তা গ্রহণ করে থাকি। যদি একথা অন্য কাউকে জিজ্ঞেস করি তাহলে তিনিও এই উত্তরই দেবেন যে— ‘হ্যাঁ আমিও জীবনে যা কিছু করছি তা নিজের জন্য, নিজের পরিবারের জন্য অথবা সকলের সুখের জন্যই করছি’। কারোর পিতা-মাতাকে জিজ্ঞেস করুন তারা সন্তানদের কেন লেখাপড়া শেখাচ্ছে। অভিভাবকরা এই উত্তরই দেবেন যে লেখাপড়া করে সন্তানরা বুদ্ধিমান হবে, অনেক অর্থ উপার্জন করবে এবং সুখে জীবন-যাপন করবে। অধিকাংশ মাতা-পিতার অভিজ্ঞতা এটিই যে বর্তমান ব্যবস্থায় সাধারণত অশিক্ষিত বা কম লেখাপড়া করলে কেউ অধিক সুখে জীবন-যাপন করতে পারবে না। কেননা তারা অধিক অর্থ রোজগার করতে পারবে না এবং বুদ্ধিও কম হবে। অর্থাৎ যতই আপনি গভীরভাবে জানার চেষ্টা করবেন আপনি বুঝতে পারবেন যে ‘সুখ’ ছাড়া জীবনের আর কোনো অন্তিম উদ্দেশ্য নেই। মানুষ যাই করুক যেমন ভাবেই করুক আপনি খুঁজে পাবেন যে সুখ প্রাপ্তিই হচ্ছে তার মূল ইচ্ছে। একথা সে জানুক বা না জানুক। এই পুস্তকে আমি নতুন ব্যবস্থার একটি ঝলক দেখাতে চাইছি যা বিস্তারিতভাবে পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে বর্ণনা করেছি। এই ব্যবস্থা একবার প্রতিষ্ঠিত হবার পর আমাদের সকলের জীবনে আর কোনো সমস্যা উৎপন্নই হবে না। যা বর্তমানে অবিরত হয়ে চলেছে। এই পুস্তক অধ্যয়ন করলে আপনি বুঝতে পারবেন যে জীবনের সমস্তপ্রকার সুখ উপভোগ খুবই সহজ, অর্থাৎ একেবারেই কঠিন কর্ম নয়। শুধুমাত্র আপনার জেনে নেওয়া অবশিষ্ট। এখনও অবধি এই জ্ঞান আমাদের কাছে ছিল না তাই আমরা সুখ থেকে বঞ্চিত থেকেছি। এবার যখন থেকে এই বিষয়টি আপনি জেনে যাবেন ঠিক তখন থেকেই আপনার সুখ উপভোগ করার পথও তৈরি হয়ে যাবে। পরের অধ্যায়ে আমি একটি নতুন অর্থনীতি সম্পর্কে বর্ণনা করব যার মাধ্যমে আপনি অতি সহজেই বুঝে যাবেন যে এই কর্ম অতি সহজেই করে ফেলা সম্ভব। এই পুস্তক অধ্যয়ন করলেই আপনি জানতে পারবেন এই নতুন ব্যবস্থার নীতিপ্রণালী কী হবে, কীভাবে এই ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হবে, কীভাবে পরিচালিত হবে ইত্যাদি সমস্ত বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে বুঝে নিতে পারবেন।#aimoflife #জীবনের_উদ্দেশ্য_কী? #জীবনের_উদ্দেশ্য #WhatIsTheUltimateAimOfLife #জীবনের_মূল_উদ্দেশ্য_কী? ***
অধ্যায় ১
জীবনের মূল উদ্দেশ্য কী?
সর্বপ্রথম জানা আবশ্যক জগৎ-সংসারে সমস্ত প্রাণীর সামগ্রিক উদ্দেশ্য কী? অথবা সমগ্র সমষ্টির উদ্দেশ্য কী? যদি আমরা এই উত্তর জেনে যাই তবেই পরবর্তী সমস্ত বিষয় সহজেই বুঝতে পারব এবং অন্যকেও বোঝাতে পারব। কেননা উদ্দেশ্য না জেনে এটি কেউই বলতে পারে না যে এরপর কী করতে হবে এবং কীভাবে করতে হবে। যতক্ষণ আমরা ‘কেন করব’ তার উত্তর না জানব ততক্ষণ ‘কী করব’ এবং ‘কীভাবে করব’ তা জানতে পারব না। তাহলে প্রথমে ‘কেন করব’ জানতে হবে, এরপর ‘কী করব’ তা জানব এবং সবশেষে ‘কীভাবে করব’ তা জানার সময় আসবে। কিছু করার জন্য আমরা যা নির্বাচন করেছি তা সঠিক রয়েছে কিনা তা কীভাবে বিচার করব? অবশ্যই এই দেখে বিচার করব যে এতে আমাদের উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে কিনা। যদি পূরণ হয় তাহলে তো ঠিক আছে, নাহলে তাকে অবশ্যই ভুল বলা হবে। অর্থাৎ কোনোকিছু সঠিক না ভুল তা জানার জন্য উদ্দেশ্যকেই মাপকাঠি হিসেবে ধরা হয়। যদি আপনি নিজে কোনো কর্ম করতে চান তবে সেই কর্মের উদ্দেশ্য কী তা আপনি নিশ্চয়ই আগে থেকে জানবেন। নাহলে ‘কী করতে হবে’ তা ঠিক করবেন কি করে? আপনি এটি জেনেই করবেন যে এই কর্ম আপনি কেন করতে চাইছেন। কিছুক্ষণের জন্য মেনে নিচ্ছি আপনি ভুলে গিয়েছেন যে এই কর্ম আপনি ‘কেন করছেন’। ‘কী করতে হবে’ তা যদি আপনি মনে রাখেন তবে সেই কর্মটি আপনি করে ফেলবেন কিন্তু সেই কাজের ফলাফল সঠিক আসছে কিনা তা জানতে পারবেন না। কেননা আপনি তো জানেনই না সেই কর্ম করার কী প্রয়োজন ছিল। পরিণাম সঠিক আসছে কিনা তা তো কেবলমাত্র তখনই বলা সম্ভব যখন জানা যাবে যে সেই কর্ম কেন করছি।
উদাহরণস্বরূপ, আপনি জ্বরের ওষুধ নিতে কোনো ডাক্তারের কাছে গেলেন এবং উদ্দেশ্য হচ্ছে সুস্থ্য হওয়া। ডাক্তারবাবু আপনাকে জ্বর সেরে যাবার ঔষধ দিলেন। ঔষধ নিয়ে বাড়ি ফিরে আপনি ভুলে গেলেন যে ওই ঔষধ আপনি কেন নিয়েছেন। শুধুমাত্র মনে রেখেছেন যে সকালে এবং বিকেলে জলের সাথে খেতে হবে কেননা সেসব আপনার নিজ ভাষায় কাগজে লেখা ছিল। কিন্তু অসুখের নাম এমনভাবে লেখা ছিল যে তা শুধুমাত্র ডাক্তারবাবুই বুঝতে পারবেন। আপনি সকাল-বিকাল ঔষধ খেলেন। দিন চারেকের ঔষধ ছিল এবং চারদিন পর শেষ হয়ে গেল। এমনটি অনুভব করে ঔষধের পরিণাম বুঝতে পারলেন যে এখন পূর্বের তুলনায় ভাল আছেন। কিন্তু এই পরিণাম সঠিক আছে না ত্রুটি আছে তা আপনি বুঝতে পারছে না কেননা ঔষধ কেন খাচ্ছিলেন তা আপনি ভুলেই গিয়েছেন। তখন আপনি পুনরায় ডাক্তারের কাছে গেলেন এবং ডাক্তারবাবুকে জিজ্ঞেস করলেন, ডাক্তারবাবু আমি ভুলে গিয়েছি যে ঔষধ কেন খাচ্ছিলাম? তখন ডাক্তারবাবু প্রেসক্রিপশন দেখে বলে দিলেন, আপনি জ্বরের ওষুধ খাচ্ছিলেন। এরপর ডাক্তারবাবু জ্বর মাপলেন এবং দেখলেন যে জ্বর পূর্বের মতই রয়েছে শুধুমাত্র শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা যেটুকু ছিল তা কিছুটা উপশম হয়েছে। তাহলে আপনি বুঝতে পারলেন— যে ঔষধ আপনাকে দেওয়া হয়েছিল তা কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি। তখন ডাক্তারবাবু ঔষধ বদলে দিলেন এবং কিছুদিন পর আবার চেক-আপে আসতে বললেন। এইভাবে আমরা সমস্ত কর্ম কোনো না কোনো উদ্দেশ্য পূরণের জন্যই করে থাকি এবং যদি আমরা দেখি যে উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না তবে সেই কাজে পরিবর্তনও করে থাকি। এবার আমরা তাহলে বুঝে গিয়েছি যে আমাদের জীবনে উদ্দেশ্য থাকাটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে সব মিলিয়ে একথাই উঠে আসে যে উদ্দেশ্য না জেনে কখনই কিছু বোঝা সম্ভব নয়। এই প্রয়োজনের কারণ হচ্ছে আমরা যা করছি তা থেকে যে পরিণাম আসছে তা সঠিক না ভুল। তাই আসুন প্রথমে জীবনের উদ্দেশ্যকে জানার চেষ্টা করি। তবেই আমরা বুঝতে পারব— যা কিছু আমরা করছি এবং যা কিছু আমাদের দিয়ে করানো হচ্ছে তা সঠিক রয়েছে কিনা। যা পরিণাম আসছে তা উদ্দেশ্য অনুযায়ী আসছে নাকি ভিন্ন কিছু আসছে। এই বিষয়কে আমি আমার দ্বিতীয় পুস্তক ‘সম্পূর্ণ জীবন দর্শনে’ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি। এখানে আমি তা সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি। তার কারণ এই পুস্তক ব্যবস্থাকে বোঝানোর জন্য লিখেছি। যদি আপনি নিজেকে ও অন্যান্য সকল প্রাণীদের পর্যবেক্ষণ করেন এবং সমস্ত গতিবিধি অধ্যয়ন করেন তাহলে দেখতে পাবেন যে জগতের সমস্ত প্রাণীরা কেবলমাত্র সর্বদা সুখী হতে চাইছে। কেউ শুধুমাত্র নিজেকে সুখী দেখতে চায়, কেউ নিজের সাথে নিজের পরিবারকে সুখী দেখতে চায়, কেউ নিজের পরিবারের সাথে সাথে নিজের সমাজকে সুখী দেখতে চায়। আর এমন মানুষও আছেন যারা নিজের, নিজের পরিবারের, নিজের সমাজের এবং সম্পূর্ণ জগতের সকলকে সুখী দেখতে চায়। অর্থাৎ গভীরভাবে দেখলে আপনি বুঝতে সক্ষম হবেন যে শুধুমাত্র সুখই হচ্ছে এই জীবনের এবং সংসারের একমাত্র লক্ষ্য, একমাত্র উদ্দেশ্য। এটিই হচ্ছে সঠিক এবং তর্কের দিক দিয়ে দেখলেও তাই মনে হবে। যদি এই জীবন থেকে সুখকে বের করে দেওয়া যায় তবে এখানে জন্ম নেবার অর্থই বা কী রয়ে যায়? অন্য কারোর জন্যই বা ভিন্নভাবে কী অর্থ থাকতে পারে? এই জগৎ সংসার সৃষ্টির কী অর্থ থাকতে পারে? তাহলে আসুন সর্বপ্রথমে এই সুখ নামক তত্ত্বকে জেনে নিই যে এটি মূলত কী এবং এর প্রয়োজনই বা কী? সুখ ছাড়া কি আমাদের জীবনের অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে? যদি আমরা নিজেদের জীবনকে গভীর দৃষ্টিতে দেখি, সকল গতিবিধিকে পর্যবেক্ষণ করি এবং নিজেদের অতীতের কার্যকলাপকে যদি স্মরণ করি তাহলে দেখতে পাব যে আমরা কোনো না কোনো সুখ উপভোগের জন্যই সমস্তকিছু করছি। আমরা সুখী হবার জন্য সঠিক বা ভুল যে পথই বেছে নেবার প্রয়োজন হোক না কেন তা গ্রহণ করে থাকি। যদি একথা অন্য কাউকে জিজ্ঞেস করি তাহলে তিনিও এই উত্তরই দেবেন যে— ‘হ্যাঁ আমিও জীবনে যা কিছু করছি তা নিজের জন্য, নিজের পরিবারের জন্য অথবা সকলের সুখের জন্যই করছি’। কারোর পিতা-মাতাকে জিজ্ঞেস করুন তারা সন্তানদের কেন লেখাপড়া শেখাচ্ছে। অভিভাবকরা এই উত্তরই দেবেন যে লেখাপড়া করে সন্তানরা বুদ্ধিমান হবে, অনেক অর্থ উপার্জন করবে এবং সুখে জীবন-যাপন করবে। অধিকাংশ মাতা-পিতার অভিজ্ঞতা এটিই যে বর্তমান ব্যবস্থায় সাধারণত অশিক্ষিত বা কম লেখাপড়া করলে কেউ অধিক সুখে জীবন-যাপন করতে পারবে না। কেননা তারা অধিক অর্থ রোজগার করতে পারবে না এবং বুদ্ধিও কম হবে। অর্থাৎ যতই আপনি গভীরভাবে জানার চেষ্টা করবেন আপনি বুঝতে পারবেন যে ‘সুখ’ ছাড়া জীবনের আর কোনো অন্তিম উদ্দেশ্য নেই। মানুষ যাই করুক যেমন ভাবেই করুক আপনি খুঁজে পাবেন যে সুখ প্রাপ্তিই হচ্ছে তার মূল ইচ্ছে। একথা সে জানুক বা না জানুক। এই পুস্তকে আমি নতুন ব্যবস্থার একটি ঝলক দেখাতে চাইছি যা বিস্তারিতভাবে পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে বর্ণনা করেছি। এই ব্যবস্থা একবার প্রতিষ্ঠিত হবার পর আমাদের সকলের জীবনে আর কোনো সমস্যা উৎপন্নই হবে না। যা বর্তমানে অবিরত হয়ে চলেছে। এই পুস্তক অধ্যয়ন করলে আপনি বুঝতে পারবেন যে জীবনের সমস্তপ্রকার সুখ উপভোগ খুবই সহজ, অর্থাৎ একেবারেই কঠিন কর্ম নয়। শুধুমাত্র আপনার জেনে নেওয়া অবশিষ্ট। এখনও অবধি এই জ্ঞান আমাদের কাছে ছিল না তাই আমরা সুখ থেকে বঞ্চিত থেকেছি। এবার যখন থেকে এই বিষয়টি আপনি জেনে যাবেন ঠিক তখন থেকেই আপনার সুখ উপভোগ করার পথও তৈরি হয়ে যাবে। পরের অধ্যায়ে আমি একটি নতুন অর্থনীতি সম্পর্কে বর্ণনা করব যার মাধ্যমে আপনি অতি সহজেই বুঝে যাবেন যে এই কর্ম অতি সহজেই করে ফেলা সম্ভব। এই পুস্তক অধ্যয়ন করলেই আপনি জানতে পারবেন এই নতুন ব্যবস্থার নীতিপ্রণালী কী হবে, কীভাবে এই ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হবে, কীভাবে পরিচালিত হবে ইত্যাদি সমস্ত বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে বুঝে নিতে পারবেন।
#aimoflife #জীবনের_উদ্দেশ্য_কী? #জীবনের_উদ্দেশ্য #WhatIsTheUltimateAimOfLife #জীবনের_মূল_উদ্দেশ্য_কী?
***

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন