সকলের জন্য কর্মসংস্থান কীভাবে সম্ভব?

                                             সমাজ মাধ্যমে প্রশ্নোত্তরের প্রেক্ষিতে মন্তব্যঃ

আমরা মানুষকে দোষারোপ করে চলেছি, ভাগ্যকে দোষারোপ করে চলেছি, পূর্বজন্মের কর্মফলকে দোষারোপ করে চলেছি; বাস্তবতা বলছে সরকারী-বেসরকারি মিলিয়ে সমস্ত বিভাগে সুরক্ষিত চাকরির শূন্যপদ অত্যন্ত সীমিত। যতই লড়াই-প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলুক না কেন যৎসামান্য পদের জন্য যৎসামান্য মানুষই চাকরি পাবে। কেউ মেধার জোরে পাবে, কেউ ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করবে। চলমান আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অনৈতিক কৌশল স্তব্ধ করা সম্ভব নয়। মূল কথা অধিকাংশ প্রার্থী ব্যর্থ হবে। ওই সীমিত সংখ্যক সফল মানুষকে নির্দেশ করেই উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়। এটি প্রার্থীর মেধাগত সমস্যা নয় অসম্পূর্ণ ব্যবস্থার সমস্যা। মেধা প্রসঙ্গে অনেক কথা বলা যায়। দরিদ্র শিক্ষার্থীরা মেধা বিকাশের সুযোগই তো পায় না। পেলেই বা কি লাভ হবে। শূন্যপদ যে সংখ্যায় থাকবে নিয়োগ ততজনেরই হবে। বাকিরা যোগ্য হলেও বঞ্চিত হবে। সুতরাং এইসব তর্ক সঠিক নয়। প্রতিটি সুস্থ্য মানুষ মেধাযুক্ত। রাষ্ট্রের ব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত প্রতিটি শিক্ষার্থী রুচি এবং যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষা, কর্মপযোগী প্রশিক্ষণ এবং জীবিকার সুনিশ্চিত বন্দোবস্ত পাবে। অর্থাৎ সকলের যোগ্যতা অনুযায়ী একটি সুরক্ষিত জীবিকার নিশ্চিত বন্দোবস্ত থাকা। কেন্দ্র-রাজ্য উভয় সরকারের এটিই উদ্যোগ হওয়া উচিত ছিল। চলমান ব্যবস্থায় এই ব্যবস্থাপনা সম্ভব? মতামত জানাবেন। অর্থ"নীতির" রূপান্তর ব্যতীত কীভাবে সম্ভব? 

সিস্টেম এমন হওয়া উচিত, জন্মগতভাবে নারীপুরুষ নির্বিশেষে প্রতিটি শিক্ষার্থীর রুচি এবং যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ এবং জীবিকার সুনিশ্চিত ব্যবস্থাপনা থাকবে। অর্থাৎ সকলের যোগ্যতা অনুযায়ী একটি সুরক্ষিত চাকরির নিশ্চিত বন্দোবস্ত, যা চলমান অসম্পূর্ণ ব্যবস্থায় সম্ভব নয়। প্রতিটি মানুষের সমৃদ্ধশালী-সুরক্ষিত জীবন প্রয়োজন। অর্থনীতিও তেমন করে গড়ে তোলা আবশ্যক। দেশে কাজের জন্য মানুষ রয়েছে, প্রয়োজনীয় বস্তু-পরিষেবা নির্মাণের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। বর্তমান সমাজের কাছে এই অসম্পূর্ণ ব্যবস্থার রূপান্তর প্রকৃত চ্যালেঞ্জ। এই বৃহৎ পদক্ষেপ নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা চলছে। সম্মিলিত সিদ্ধান্তে-উদ্যোগে অসম্ভব নয়। জানতে বুঝতে আলোচনা পর্যালোচনা করতে সকলের আমন্ত্রণ।

দেখুন পূর্বের জ্ঞানী ব্যক্তিরা উক্ত সময়ের নিরিখে সমাধান দিয়েছেন। সময় বদলেছে। অবস্থা-ব্যবস্থা, বোধ, অভিজ্ঞতা, চেতনা অধিক বিকশিত হয়েছে। নতুন নতুন তত্ত্ব, নতুন নতুন স্পষ্টতা উঠে আসছে। পূর্বের যা প্রয়োজনের তা থাকবেই। বাস্তবায়নের নিরিখে সম্মিলিত উদ্যোগে পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থার অভিমুখে সিদ্ধান্ত-পদক্ষেপ গৃহীত হলে আগামী এক দশকের মধ্যে একটি সমৃদ্ধশালী আর্থসামাজিক ব্যবস্থার রূপায়ণ সম্ভব।

রাষ্ট্র সকলের জন্য কর্মপযোগী শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, সুরক্ষিত কর্মসংস্থানের নিশ্চিত বন্দোবস্ত করতে ব্যর্থ বলেই মানুষ অনৈতিক পথ গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে। সিংহভাগ শিক্ষার্থী সাধারণ সরকারি শিক্ষা গ্রহণ করলেও উপযুক্ত ট্রেনিং নেবার অর্থ নেই। যৎসামান্য যাঁরা নিতে পেরেছেন তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত শূন্যপদ নেই। শূন্যপদ যৎসামান্য রাখলে মানুষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা কিংবা নানা কৌশল অবলম্বন করবেই। এ জীবন-জীবিকার প্রশ্ন। নীতি-নৈতিকতা দিয়ে শূন্যপদ বৃদ্ধি হয় না। বরং অসহায় দরিদ্র হয়ে দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে কাটাতে হয়। এটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাগত সমস্যা। সকলকে জীবিকা প্রদান করলে যে বিপুল অংকের পারিশ্রমিক প্রদান করতে হবে তা কোথা থেকে আসবে? উৎপাদন-বিতরণ পরিকাঠামো কী হবে? নেতা-মন্ত্রী-সাংসদ কিংবা কোনও রাজনৈতিক দলের সমস্যা নয়। রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির অসম্পূর্ণতা। বিস্তারিত বুঝতে "সম্পূর্ণ সমাধান - নতুন সামাজিক রাজনৈতিক অর্থব্যবস্থা" পুস্তক অধ্যয়ন করুন। 

মতামত এবং আলোচনার জন্য সকলে স্বাগত।

যোগাযোগ- 9830925502 

ইউটিউব চ্যানেল- ULM Bangla 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?