ULM প্রশ্নোত্তরীঃ অর্থনৈতিক মডেল

 


অর্থনৈতিক মডেল


. বর্তমান অর্থশাস্ত্রে যেসব মুখ্য সমস্যা আপনার চোখে পড়েছে সেগুলি কী কী?

বর্তমান অর্থশাস্ত্র কেবলমাত্র ১০% মানুষকে entertain করে এবং ৯০% মানুষকে সুবিধার বাইরে রাখে অর্থাৎ বেশীরভাগ মানুষকে ক্রীতদাস, শ্রমিক, দরিদ্র বানিয়ে রাখে এটি বর্তমান অর্থশাস্ত্রের সবচাইতে বড় অসুবিধা এই অর্থশাস্ত্র কেবলমাত্র ১০% মানুষের জন্য এখানে ৯০% মানুষকে ১০% মানুষ মিলে নিজেদের সম্পদ বানিয়ে রাখে এটিই বর্তমান অর্থশাস্ত্রের সবচাইতে বড় দুর্বলতা এটিকে দ্বিপাক্ষিক অসুবিধা বা মন্দ অর্থশাস্ত্র যাই বলুন না কেন


. আর্থিক অসমতাকে কমিয়ে আনার জন্য বিত্তশালীদের উপর অধিক পরিমাণ কর আরোপ করাই তো সরল উপায় এই উপায়ে সরকার দরিদ্রতা কমিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম চালাতে পারে এবং সামাজিক সুরক্ষা ইত্যাদি প্রদান করতে পারে?

এইসব কার্যক্রম তো সরকার একটি সীমা অবধি করেই চলেছে এটি খুব একটা সঠিক উপায় নয় এতে একটি বর্গের উপর বিভিন্ন রকম চাপ পড়ে কেননা ব্যবস্থাই এমনভাবে তৈরি হয়েছে প্রথমে আপনি কিছু মানুষকে বিত্তশালী হবার সুযোগ করে দিচ্ছেন, এরপর তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের প্রয়াস করছেন এর ফলে তাদের উপর একপ্রকার মানসিক প্রভাব পড়ে তাদের মনে হয় নিজেদের লভ্যাংশ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে তারা তখন এটিকে বন্ধ করার চেষ্টা করে এবং ক্ষতি পূরণ করার চেষ্টা করে এর থেকেই দ্বিধা-দ্বন্দ্ব এবং অসঙ্গতি তৈরি হয় ফলে অধিক মুনাফার লোভে কালোবাজারি, দুর্নীতিসহ, মানি লন্ডারিং বা অবৈধ অর্থনৈতিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন অপরাধ সংগঠিত হতে থাকে সরকার নিয়মনীতি প্রণয়ন করে যত পরিমাণ অর্থ বিত্তশালীদের কাছ থেকে আদায় করার চেষ্টা করবে ততই সরকার এবং বিত্তশালীদের মধ্যে দন্ড অধিক বৃদ্ধি পাবেযতগুলি রাজনৈতিক দল সরকার পরিচালনা করছে তাদেরকে নিজেদের দল চালানোর জন্য অর্থের প্রয়োজন হয় যা বিত্তশালীদের কাছ থেকে আসেমোটকথা, দুপক্ষের মধ্যে একপ্রকার পরস্পরসম্বন্ধ তৈরি হয়তেমন ঘটনাও বাস্তবে সম্ভব নয় যেখানে সরকার চাইলেই বিত্তশালীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে দরিদ্রদের দিয়ে দেবে

দ্বিতীয়ত, বর্তমান অর্থশাস্ত্রের যে নিয়মনীতি রয়েছে তাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ বস্তু-পরিষেবা উৎপাদন হয় না যতটা হলে সকলের চাহিদা পূরণ হবেসরকার ১০% বিত্তশালীদের কাছ থেকে অর্থ এনে দরিদ্রদের বিলিয়ে দিলেও তা মরুভূমিতে এক বিন্দু জল ফেলার মতনই হবেবিশেষ কিছু পরিবর্তন আসবে নাএর চাইতে ভাল একটি সঠিক ব্যবস্থা তৈরি করে নেওয়া যেখানে উৎপাদন ততটাই হবে যতটা বাস্তবে চাহিদা রয়েছেযদি অর্থশাস্ত্রকে পরিবর্তন না করা হয় তবে টাকা সেই ১০% মানুষের মধ্যেই কেন্দ্রীভূত থেকে যাবেএটিই বর্তমান অর্থশাস্ত্রের স্বভাব। 


. ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম (UBI) নিয়ে আপনার বিচার-বিবেচনা কী

বর্তমান ব্যবস্থা চলাকালীন সময়ে ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম একটি ভাল পদক্ষেপ, যদি এটির সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা করা যায় আপনি যদি বর্তমান ব্যবস্থাকে এবং বর্তমান অর্থনীতিকে চলমান রেখে দেন, তবে ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম দ্বারা জীবনস্তর ধীরে ধীরে বর্তমানের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে যাবে যদিও সেখানেও অসমতা-বিষমতা থাকবে, শোষণ-নিপীড়ন, উঁচু-নিচু মনোভাব ইত্যাদি অসুবিধা থাকবে তারপরও বলা যায় অপরাধ কিছুটা কমে যাবে মানুষ তুলনায় কিছুটা কম অসুস্থ্য হবে এবং জীবনস্তর বর্তমান সময় থেকে কিছুটা ভাল হয়ে যাবে এইসব দিক দিয়ে UBI ভাল

বিঃদ্রঃ ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম হচ্ছে এমন একটি পরিকল্পনা যেখানে সরকার প্রতি মাসে সকল নাগরিককে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থরাশি প্রদান করবে


১০. আপনার নতুন অর্থশাস্ত্র সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু বলুন?

নতুন অর্থশাস্ত্র থেকে আমি সেইসব কারণসমূহকে সরিয়ে দিয়েছি যা নেতিবাচকতা তৈরি করে এবং সেইসব কারণগুলিকে জুড়ে দিয়েছি যা ইতিবাচকতা তৈরি করে নতুন ব্যবস্থায় লগ্নী বা বিনিয়োগ নেই, মুদ্রা বা অর্থ নেই, পরস্পরের মধ্যে বিনিময় বা লেনদেন নেই, এমনকি বস্তু/পরিষেবা অথবা শ্রমের মুল্যাংকনও রাখা হয়নি এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই বরং সহযোগিতা রয়েছে সংক্ষেপে বললে এই হচ্ছে নতুন ব্যবস্থার গুণধর্ম এমন অর্থশাস্ত্র যা সবদিক দিয়ে সকলকে পরম স্বাধীনতা প্রদান করে তা সে পছন্দের শিক্ষা নিয়ে হোক, পছন্দের জীবিকা নিয়ে হোক বা সকল সুখসুবিধা উপভোগ করা নিয়েই হোক না কেন এই ব্যবস্থা মানুষকে অসীম স্বতন্ত্রতা প্রদান করে এখানে অসীম কথার অর্থ হচ্ছে আপনি যতটা চাইবেন ততটা আপনি এটিকে বলতে পারেন ‘sky is the limit’ কনসেপ্টের উপর নির্মিত নতুন অর্থশাস্ত্রকে বোঝার আগে বর্তমান অর্থশাস্ত্রকে বুঝতে হবে বর্তমান অর্থশাস্ত্রের পরিধিকে চিনতে হবে আমাদের বুঝতে হবে বিশ্বশান্তি, পরিবেশের ভারসাম্য এবং মানব কল্যানের বাঞ্ছিত পরিণাম বর্তমান অর্থশাস্ত্র দ্বারা কেন সম্ভব নয়

  


বর্তমান সময় অবধি অর্থশাস্ত্রের মুখ্য নীতি

বর্তমান অর্থ ব্যবস্থার নীতি হচ্ছে যতখানি মুদ্রা অথবা অর্থ আপনার কাছে রয়েছে বাজার থেকে আপনি ততখানিই চাহিদা বা ডিমান্ড করতে পারবেন অর্থাৎ, আমাদের চাহিদা অর্থের উপর নির্ভর করছে এর ফলে বাজার থেকে আমরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পূর্ণ ডিমান্ড করতে পারি না এবং বাজারে চাহিদাও অনেক কম থাকে ডিমান্ড যখন কম থাকে তখন বাজার সেই কম ডিমান্ডের ভিত্তিতেই বস্তু/পরিষেবা নির্মাণ করে অর্থাৎ বস্তু/পরিষেবার নির্মাণ কম হয় যখন বাজারে বস্তু/পরিষেবা নির্মাণ কম হয় তখন কর্মসংস্থানও কম উৎপন্ন হয় যখন কর্মসংস্থান কম উৎপন্ন হয় তখন বেকারত্ব অধিক উৎপন্ন হয় কেননা বর্তমান সমাজে উপার্জন তো কর্মসংস্থান থেকেই তৈরি হয় যার কাছে কোনো জীবিকা নেই তার আয়ও নেই অর্থাৎ উপার্জনহীন মানুষ তো সমাজের ভিক্ষার উপরই নির্ভর করে বেঁচে থাকে কেননা সে তো বাজার থেকে কিছু ডিমান্ড করতে পারে না যার উপার্জন স্বল্প সেও বাজার থেকে পর্যাপ্ত মাত্রায় ডিমান্ড করতে পারবে না যে সামান্য কিছু মানুষের কাছে পর্যাপ্ত অর্থ রয়েছে তারাই কেবলমাত্র নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পূর্ণ ডিমান্ড করতে পারে এমন প্রকার আর্থিক নীতির কারণেই বাজারে সর্বদা চাহিদার অভাব থেকে যায় কেননা বেশিরভাগ মানুষের আয় কম, আয় কম হবার কারণ কর্মসংস্থানের অভাব অর্থাৎ দেশ-দুনিয়ার একটি বড় অংশ সর্বদাই দরিদ্র অবস্থায় থাকে বর্তমান অর্থনীতির এই হচ্ছে মূল কাহিনী অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র এবং অসহায় জীবন যাপনে বাধ্য হয় যতদিন পর্যন্ত এই আর্থিক নীতি বদলাবে না ততদিন পর্যন্ত সকলের সুখী হবার কোনো সম্ভাবনা নেই

একথা তো আপনিও জানেন যে মানুষের কাছে যত পরিমাণ অর্থ রয়েছে তার সবটা তারা কেনাকাটাতে ব্যয় করে না, কিছু ভবিষ্যতের জন্য জমিয়েও রাখে কেননা বর্তমান ব্যবস্থায় সে নিজের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত মনে করে না সরকারও এই ক্ষেত্রে খুব কম কাজ করেছে, যার ফলে মানুষ নিজেদেরকে সুরক্ষিত অনুভব করছে না ধরুন সে যদি ভবিষ্যতের জন্য অর্থ নাও জমায় তাহলেও মানুষের কাছে যতটা অর্থ থাকবে সে শুধু ততটুকুই বাজার থেকে ডিমান্ড করতে পারবে জীবনে কখনো সর্বাধিক ডিমান্ড করতেই পারবে না যতক্ষণ অবধি তার কাছে পর্যাপ্ত অর্থ না আসে এমনকি অতীতের ইতিহাস পড়েও এটি বলা যায় যে আজ পর্যন্ত এমনটা হয়নি যে সকল নাগরিকের কাছে কেনাকাটা করার পর্যাপ্ত অর্থশক্তি এসেছে আমরা নিচের ছবিটি দেখলে তা সহজেই বুঝতে পারব এই নীতিকে মনোযোগসহ পর্যবেক্ষণ করলে আপনি বুঝতে পারবেন যে যতদিন অবধি আমাদের চাহিদা অর্থের উপর নির্ভর করবে ততদিন অবধি আমরা পর্যাপ্ত ডিমান্ড করতে পারব না বস্তু এবং পরিষেবার পর্যাপ্ত নির্মাণ হবে না এমনকি পর্যাপ্ত আয়ও উৎপন্ন হতে পারবে না নিচের চিত্রটি দেখলে তা ভাল করে বুঝতে পারবেন

যখন পর্যাপ্ত আয় তৈরি হবে না তখন পর্যাপ্ত ডিমান্ডও উৎপন্ন হবে না এই কুচক্র সর্বদা এমন করেই বৃত্তাকারে ঘুরতে থাকবে এই চক্র অধিকাংশ মানুষকে দরিদ্র এবং অসহায় বানিয়ে রাখবে বাস্তবে তেমনই রেখে চলেছে চলুন এই বিষয়টিকে আরেকবার বুঝে নিই অর্থ আসে কর্মসংস্থান থেকে, কর্মসংস্থান আসে নির্মাণ থেকে, নির্মাণ হয় বস্তু এবং পরিষেবার পর্যাপ্ত ডিমান্ড থেকে, ডিমান্ড আসে পর্যাপ্ত অর্থ থেকে এবার আপনি বুঝে গিয়েছেন যে সবার কাছে তো পর্যাপ্ত অর্থ থাকবেই না তার কারণ সবার কাছে তো কর্মসংস্থান নেই সবার কাছে কর্মসংস্থান এজন্য নেই কেননা বাজারে তো পর্যাপ্ত ডিমান্ড নেই আরে ভাই বাজারে যদি ডিমান্ড ন্যুনতম থাকে তবে বাজার ন্যুনতম উৎপাদন করবে ন্যুনতম উৎপাদনের জন্য ন্যুনতম কর্মসংস্থান উৎপন্ন হবে ফলে ন্যুনতম রোজগার উৎপন্ন হবে এই কুচক্র এভাবেই চলতে থাকবে যতদিন অবধি এই নীতি থাকবে, এই কুচক্র এইভাবে অধিকাংশ মানুষকে দরিদ্র বানিয়ে রাখবে এই নীতির কারণে সকল মানুষ কখনই সমৃদ্ধ হতে পারবে না এবার আশা করি বুঝে গিয়েছেন যে যতদিন এই নীতি থাকবে ততদিন আমরা সকলে দরিদ্র অবস্থাতেই থাকব যে কজন মানুষ ভোগ্যবস্তু এবং পরিষেবা নির্মাণ করে কেবলমাত্র তারাই অত্যধিক ধনী হন তারা সমগ্র জনসংখ্যার কেবলমাত্র ১ শতাংশ এই নীতি থাকলে অধিকাংশ মানুষের দরিদ্র অবস্থা কেউ দূর করতে পারবে না তাই নতুন নীতিটিকে বুঝুন, যা আমি বর্তমান নীতি থেকে কিছুটা পরিবর্তন করে রচনা করেছি


অর্থশাস্ত্রে মুখ্য নীতির পরিবর্তন

নতুন ব্যবস্থায় আমি মুদ্রা নীতির একটি পরিবর্তন করেছি ডিমান্ড করার জন্য যে অর্থ অতি আবশ্যক ছিল তা সরিয়ে দিয়েছি অর্থাৎ নতুন নীতি অনুযায়ী সবাই নিজ নিজ ডিমান্ড পর্যাপ্ত পরিমাণে করতে পারবে ডিমান্ড করার জন্য এখন আর অর্থের প্রয়োজন থাকবে না এতে আমাদের সমাজে সকল বস্তুর চাহিদা ১০০ শতাংশ হয়ে যাবে এই ১০০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করার জন্য সরকারকে ১০০ শতাংশ বস্তু এবং পরিষেবা উৎপাদন করতে হবে ১০০ শতাংশ উৎপাদনের কারণে ১০০ শতাংশ কর্মসংস্থান তৈরি হয়ে যাবে ফলে ১০০ শতাংশ কর্মসংস্থান প্রদান করতে হবে কেননা ১০০ শতাংশ ডিমান্ডকে পূরণ করার জন্য ১০০ শতাংশ কারখানা, মেশিন, বিদ্যুৎ, সড়ক, জল, মালবাহক গাড়ি এবং বহু বস্তু ও পরিষেবার প্রয়োজন হবে এই সব প্রয়োজনের জন্য বহু মানুষের প্রয়োজন হবে অর্থাৎ সোজা কথায় বললে সরকারের কাছে ১০০ শতাংশ কর্মসংস্থান সর্বদা তৈরি হয়ে থাকবে সকলের জন্য কর্মসংস্থান হবে অন্য ভাবে বললে সবাই সমৃদ্ধ হবে নিচের চিত্রটি দেখলে তা ভাল করে বুঝতে পারবেন

এবার নিশ্চয়ই বুঝে গিয়েছেন নতুন নীতির মাধ্যমে কী পরিবর্তন ঘটতে পারে আমি শুধু আপনার চাহিদা পূরণ করার ক্ষমতাকে অর্থের প্রয়োজন থেকে মুক্ত করে দিয়েছি অর্থনীতির মধ্যে একটি ছোট পরিবর্তন কতটা আশ্চর্যজনক পরিণাম দিতে পারে তা আমরা উপরের চিত্র থেকে ভাল করে বুঝে নিতে পারি মানুষ সত্যিকারের স্বাধীনতা তখনই অনুভব করবে যখন সকলে সমানভাবে সমস্ত সুখসুবিধা উপভোগের জন্য স্বতন্ত্র হবে মানুষ যা শিখতে চাইবে শিখতে পারবে, যা করতে চাইবে করতে পারবে এবং যা ভোগ করতে চাইবে ভোগ করতে পারবে তখনই সঠিক অর্থে বলা যাবে আমরা স্বাধীন অর্থাৎ যা করতে চাইছি করতে পারছি যেমন জীবন কাটাতে চাইছি তেমন জীবন-যাপনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে যাচ্ছি এরপর আমি মুদ্রার অর্থকেও বদলে দিয়েছি মুদ্রা সম্পর্কে আপনারা সম্পূর্ণ সমাধান পুস্তক থেকে আরও বিস্তারিতভাবে অধ্যয়ন করে নেবেন সরকারের কাছে আপনার একটি ব্যাংক একাউন্ট থাকবে সরকার আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ডিমান্ড করার সীমা নির্ধারণ করতে থাকবে যার মাধ্যমে সবাই ইচ্ছে অনুযায়ী যা কিছু বস্তু/পরিষেবা ভোগ করতে চাইবে তা পেতে থাকবে শুধু একটি শর্ত থাকবে শর্ত এটিই হবে যে আপনার ইচ্ছে অনুযায়ী যে কর্ম আপনাকে প্রদান করা হবে তা সম্পাদন করতে হবে যদি আপনার বয়স ২৫ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে থাকে যদি আপনি এই সহযোগিতা না করেন তবে এই নীতির লাভ থেকে বঞ্চিত হবেন যদি সহযোগিতা করতে থাকেন তবে আপনি যে কোনো সময় যে কোনো সুবিধা সরকারের কাছ থেকে নিতে পারবেন এবং উপভোগ করতে পারবেন একবার সামঞ্জস্য চলে এলে আর্থিক সীমা রাখার প্রয়োজন পড়বে না কর্মসংস্থানের গ্যারান্টি তো সরকারের তরফ থেকে থাকবেই ধরুন সরকার যদি আপনাকে কর্মসংস্থান প্রদান করতে না পারে তাহলেও ব্যবস্থার অন্তর্গত সমস্ত সুবিধা আপনি পেতে থাকবেন কোনো কিছু ডিমান্ড করার এবং গ্রহণ করার অধিকার আপনার থাকবে অর্থাৎ সরকার আপনাকে সবকিছু ডিমান্ড করবার এবং ব্যবহার করবার পূর্ণ অধিকার দেবে এই নীতি দ্বারা সকলের প্রয়োজনীয় ডিমান্ড এবং কর্মসংস্থানের সমাধান একসাথে হবে সমাজে যেসব বস্তুর ঘাটতি থাকবে সরকার সেইসব বস্তু ব্যক্তিগত স্তরে নয় বরং সামাজিক স্তরে গ্রহণ অথবা ব্যবহার করার ব্যবস্থা করে দেবে এর ফলে যে সব সম্পদের অভাব রয়েছে সেসব বস্তুও সকলে পর্যাপ্ত পরিমানে ব্যবহার করতে পারবে এই নীতির ফলে প্রাকৃতিক সম্পদের অপপ্রয়োগও বন্ধ হবে আসুন দেখে নিই কীভাবে তা সম্ভব হবে সরকার গঠনের পর সবার আগে প্রয়োজনীয় সরকারি পদে উপযুক্ত ব্যক্তিদের নিযুক্তি হবে এবং একইসাথে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের একটি বড় পরিষদ নিযুক্ত করা হবে যারা দ্রুত ইন্টারনেট ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইট নির্মাণ করবে যেখানে দেশের সকল নাগরিকের একটি একাউন্ট থাকবে এই পোর্টাল থেকেই সকলে নিজেদের সমস্ত ডিমান্ড করতে পারবে এবং সমস্ত তথ্য পূরণ করতে পারবে যেমন নিজেদের যোগ্যতা, কোন কাজে দক্ষতা রয়েছে, অন্য কী কাজ করার আগ্রহ রয়েছে, কী যোগ্যতা রয়েছে ইত্যাদি পূর্বে ট্রেনিং নিতে পারেননি এমন কোনো কাজের ট্রেনিং নিতে চান কিনা বা শিখতে চান কিনা ইত্যাদি অর্থাৎ নিজেদের পছন্দমত সবকিছু সবাই শিখতে পারবে সমস্ত ব্যবস্থা সরকার করবে যারা ইন্টারনেটের ব্যবহার জানেন না তাদের জন্য সরকার আশেপাশে কম্পিউটার অপারেটর নিযুক্ত করবে যাদের মাধ্যমে মানুষ নিজেদের প্রয়োজনীয় ডিমান্ড করতে পারবে এবং প্রোফাইল বানাতে পারবে  যেমন তাদের একমাসে কত চাল, আটা, ময়দা, চিনি, দুধ, ঘি, কাপড়, তেল, মশলা, সব্জি, সকল প্রকার ফল, ডাল, শস্যদানা, মিষ্টি, সুগন্ধি ইত্যাদি নিত্যদিনের বস্তু, সাপ্তাহিক বস্তু এবং মাসিক বস্তুর প্রয়োজন হয়, সেসবের ডিমান্ড বা অর্ডার করতে পারবে এছাড়াও মোটর সাইকেল, গাড়ি, মোবাইল, কম্পিউটার, টিভি, ওয়াশিং মেশিন, সব ধরনের ফার্নিচার, বসবাস করার ঘর ইত্যাদি সকল প্রয়োজনীয় বস্তুর অর্ডারও অনলাইনে করতে পারবে এছাড়াও অন্য সব তথ্য যেমন এখনো অবধি তাদের কোন কোন কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, ভবিষ্যতে তারা কোন পেশায় কর্ম করতে চায় এবং কতটা দক্ষতা রয়েছে অথবা কতটা দক্ষতা অর্জন করতে চায় ইত্যাদি বলার অর্থ এটিই যে, সফটওয়্যার তৈরি হবার পর কিছু দিনের মধ্যেই সমস্ত তথ্য সরকারের কাছে চলে আসবে অর্থাৎ একটি বোতাম টিপলেই সকলের সমস্ত ডিমান্ডসহ অন্য সকল তথ্য সরকার দেখতে পারবে এবং ভবিষ্যতেও সকলের সব তথ্য সর্বদা সরকারের কাছে আসতে থাকবে সকল ডিমান্ড কত রয়েছে, কত মানব সম্পদ রয়েছে, কত প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে, কর্মসংস্থানের চাহিদা কত রয়েছে ইত্যাদি মোটকথা সরকারের কাছে হিসেব থাকবে যে কোন বস্তু কতটা মাত্রায় প্রয়োজন এছাড়া নানাপ্রকার কর্মের জন্য কোন কোন বিভাগে কতজন রয়েছে এবং কে কী কাজ করছে, কারা খালি বসে রয়েছে, কোন কোন সম্পদ কতটা মাত্রায় মজুত রয়েছে  ইত্যাদি যে সব সম্পদ কম মাত্রায় রয়েছে সেসবের বিকল্প কী হতে পারে ইত্যাদি সমস্ত তথ্য সরকারের কাছে থাকবে মোট কথা সব তথ্য সরকার জানতে পারবে ওই সফটওয়্যারের মাধ্যমে একই সাথে কে কোন কর্ম সম্পাদনে কুশল এবং সেসবের মধ্যে কোন কাজটি সে করতে চায়, তার জন্য শিক্ষা বা ট্রেনিং কতটা আছে, এসবও জানা যাবে যদি কোনো কারণে কেউ শিখতে পারেনি এমন কোনো কর্ম যা পেশা হিসেবে নির্বাচন করতে চেয়েছিল, সেসব বিষয়েও শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা সরকার করবে ততদিন অবধি যে কর্ম সে করতে পারে তা চালিয়ে যেতে পারবে এইভাবে সরকারের কাছে সমস্ত তথ্য থাকবে যে দেশে জনসংখ্যা কত আছে এবং কোন কোন বয়সের কতজন রয়েছে, কোন কোন বিষয়ে কতজন শিক্ষিত এবং প্রশিক্ষিত রয়েছে ইত্যাদি নতুন ব্যবস্থায় সফটওয়্যারের ইউজার ইন্টারফেস দেখতে কেমন হবে তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচের চিত্রে উল্লেখ করা হয়েছে

এই প্রক্রিয়ায় সরকার মোট চাহিদা জানতে পারবে এবং তা পূরণ করার জন্য কতজন মানুষ, কত মেশিন, কত মালবাহন, কত কারখানা ইত্যাদি কোন কোন ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে যার মাধ্যমে সময়মত যেন সকলের চাহিদা পূরণ করা যায়, তার হিসেব সরকার সহজেই করতে পারবে সরকার সকলের অভাব পূরণ করার জন্য সকলকে যোগ্যতা এবং পছন্দ অনুযায়ী নিযুক্ত করবে, যেন সর্বাধিক পাঁচ বছরের মধ্যে সকলের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়, বিশেষ করে যাদের কাছে এখন কোনো প্রকারের অভাব রয়েছে এরপর সবাই অবিরত নিজেদের অর্ডার করতে থাকবে এবং একইরমভাবে সকলের চাহিদা পূরণ হতে থাকবে পাঁচ বছর অবধিই চাহিদা সর্বাধিক থাকবে, কেননা বর্তমান সময়ে অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যার কাছে কিছুই নেই তাই শুরুতে চাহিদা অধিক থাকবে এবং কাজও অধিক থাকবে ধীরে ধীরে সকল চাহিদা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং ততদিনে আমাদের কাছে উন্নত পরিকাঠামোও নির্মাণ হয়ে যাবে ফলে আনুমানিক পাঁচ বছর পর সামঞ্জস্য চলে আসবে এইভাবে সকলের চাহিদা খুব সহজেই পূরণ হতে থাকবে, ধীরে ধীরে কাজও অনেক কমে আসবে বেশীরভাগ বস্তুর জন্য বাজারে কোনো দোকানেরও প্রয়োজন থাকবে না কেননা মানুষের অর্ডার অনুযায়ী সকল বস্তু উল্লেখিত ঠিকানায় ক্যুরিয়ার ব্যবস্থার মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার বন্দোবস্ত থাকবে কেবলমাত্র সেই সব বস্তু এবং পরিষেবার জন্যই দোকানের প্রয়োজন হবে যা সরাসরি ঘরে পৌঁছানো সম্ভব নয় যেমন হোটেল, রেস্তোরাঁ, জিম, সেলুন, বিউটি পার্লার, ক্লাব ইত্যাদি এই ব্যবস্থায় রাস্তায় ভিড়ও কম হবে এবং পার্কিং ব্যবস্থাও অচল হবে না নতুন অর্থশাস্ত্রকে বিস্তৃতভাবে জানার জন্য সম্পূর্ণ সমাধান পুস্তক অধ্যয়ন করতে পারেন



  ১১. টাকা বা মুদ্রার ব্যপারে আপনার সিদ্ধান্ত কী?

টাকা অথবা মুদ্রার অর্থ এই যে এটি একধরণের মুল্যাংকন পদ্ধতি কোনো বস্তু বা শ্রমের মুল্যাংকন করার সময় টাকার সাথে পরিচয় হয় এছাড়া আলাদা করে মুদ্রার অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেইবার্টার সিস্টেমও একপ্রকার বিনিময় প্রথা যেখানে মুদ্রার বিনিময়ে বস্তু বিনিময় করা হয় তাই বস্তু বিনিময় বলুন, মুদ্রা বিনিময় বলুন, বিনিয়োগ বলুন, পারিশ্রমিক বলুন বা ক্রয়-বিক্রয় বলুন না কেন সমস্ত কিছু বাজারেরই ক্রিয়াকলাপ অন্যভাবে বললে আপনাকে বাজার ইত্যাদি চালাতে মুদ্রার প্রয়োজন হবে তাই এই মুদ্রা সেইসব বস্তুকেও বিকেন্দ্রীকরণ করে দেয় যা মূলত কেন্দ্রীভূত থাকা উচিত এটি ম্যানেজমেন্টকে decentralize করে দেয় ম্যানেজমেন্টকে decentralize হয়ে থাকা ভাল নয় এতে কেউ জানতেই পারে না যে কোথায় কতটা চাহিদা তৈরি হচ্ছে, কতটা পূরণ হচ্ছে, কে তৈরি করছে, কে বিক্রয় করছে, কে কী করছে কিছুই জানতে পারা যায় না যার ফলে ম্যানেজমেন্ট সঠিক পথে চালিত হতে পারে না চাহিদা এবং পূর্তির একটি অপরিপক্ক ম্যানেজমেন্ট হিসেবেই রয়ে যায় অর্থাৎ কোথাও ভীষণ রকম চাহিদা দেখা দিলে তবে সকলে জানতে পারে চাহিদা বাড়ার পূর্বে বা চাহিদা বৃদ্ধির মুহূর্তে জানতে পারলে পূর্তি যথাসময়ে সম্ভব হয় কোনো কিছুর চাহিদা কমে গেলে অথবা পূর্তি অত্যধিক বেড়ে গেলে মনে হয় হায় এমন ঘটনা কীভাবে ঘটে গেল? অর্থাৎ কীভাবে বেড়ে গেল অথবা কমে গেল? যখন বস্তু বাস্তবে কমে যায় তখন সমাধান খোঁজার কোন অর্থ থাকে না অর্থাৎ post arrangement-এর কোন অর্থ নেই সর্বদা pre-arrangement হওয়া উচিতpre-arrangement-এর জন্য জরুরী হচ্ছে একটি centralized management থাকা

মুদ্রা management কে decentralize করে দেয় প্রথম ব্যক্তি জানতে পারে না দ্বিতীয় ব্যক্তি কী করছে দ্বিতীয় ব্যক্তি বুঝতে পারে না তৃতীয় ব্যক্তি কী করছে এমনকি সরকারও জানতে বুঝতে পারে না কে কী করছে ফলে সরকার তাদের জন্য কোনো প্রকল্প তৈরি করতে পারে না কোনো management-এর ব্যবস্থা করতে পারে না এরপর বাকি সব উপর ওয়ালার ভরসায় চলতে থাকে, যার পরিণাম আমরা দেখতে পারছি কোনো কিছুর মূল্য অত্যধিক বৃদ্ধি পেয়ে গেলে সরকার জেগে ওঠে তখন কিছু একটা ব্যবস্থা নেয় অথবা যোগান দেবার চেষ্টা করে ততক্ষণে মানুষের যা লোকসান হবার তা হয়ে যায় সকলে সমস্যায় পড়ে যায় এবং দুঃখী হয়ে ওঠে

দ্বিতীয়ত, এতে অসমতা বাড়বে কেননা যখন কোনো management থাকবে না তখন তো অসমতা বাড়বেই যেসব চতুর ব্যক্তিরা পদে বসে রয়েছে তারাই বাজারের মধ্যে হেরফের করতে পারে তারা নিজেদের মত বাজার নিয়ন্ত্রিত করে এবং বিপুল অর্থ এক যায়গায় সঞ্চয় করে নেয় সোজা কথায় বললে কাউকে আলাদাভাবে অর্থ সঞ্চয় করতে দেওয়া উচিত নয় তৃতীয়ত, শ্রমের মুল্যাংকন করলে যোগান অধিক থাকা ব্যক্তিদের শ্রম-মূল্য অত্যধিক কমে যায় এরপর সামান্য আয় দিয়ে তারা জীবনের সকল সুখসুবিধা উপভোগ করতে পারে না সমাজে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সংখ্যা মাত্র ১০% রয়েছে ৯০% মানুষই দুঃখ দুর্দশা ভোগ করে চলেছে ১০% মানুষই কেবলমাত্র সুখে রয়েছে মুদ্রা থাকার ফলেই এই সমস্যা দেখা দিয়েছে সুতরাং মুদ্রার পরিণাম অত্যন্ত দুঃখদায়ী হিসেবে দেখা দিয়েছে এবং দুঃখের জীবন বাস্তবে কেউ চায় না যেহেতু দুঃখ বা অসুবিধা কেউ চায় না এবং অধিক পূঁজির মালিকানাতেই যেহেতু সমস্ত সুখসুবিধা, সেবা-পরিষেবা, সংরক্ষণ ইত্যাদি অর্জন করার মাধ্যম, সেহেতু পূঁজির অধিকার দখলের জন্য মানুষের মধ্যে সংগ্রাম শুরু হয়ে যায়


১২. টাকা বা মুদ্রা ছাড়া নতুন আর্থিক প্রণালী কীভাবে কাজ করবে?

কাজ করবে কারণ টাকা জমিয়ে রাখা জীবনের উদ্দেশ্য নয় জীবনের উদ্দেশ্য হছে সুখী হওয়া আর আমরা সুখী হই আমাদের ঈপ্সিত জ্ঞান, কর্ম এবং ভোগের মাধ্যমে যদি নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী জ্ঞান অর্জন করতে পারি, পছন্দ অনুযায়ী কর্ম অর্থাৎ জীবিকা পালন করতে পারি এবং পছন্দ অনুযায়ী ভোগ অর্থাৎ সুখসুবিধা উপভোগ করতে পারি তবেই আমরা সুখী হই এটিই জীবনের উদ্দেশ্য আর এটিই সকলে চেয়ে থাকে এসব সুবিধা সকলের জন্য প্রয়োজন, আর এটি তখনই সম্ভব হবে যখন সকলের মান সমান হবে আর মান সমান থাকার অর্থ হচ্ছে কারোর মুল্যাংকন যেন না হয় যখন মুল্যাংকন হবে না এবং কারোর শ্রমের মূল্য নির্ধারিত হবে না তখন সকলের মান সমান হয়ে যাবে সকলে সমানভাবে চাহিদার আবেদন করতে পারবে এবং সেইসব চাহিদা একটি কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থার মাধ্যমে পূরণ হতে থাকবে সুতরাং, যা কিছু প্রয়োজন তা গ্রহণ করে সকলে সুখী হতে পারবে এটিই হচ্ছে মূল উদ্দেশ্য আমি যে অর্থশাস্ত্র রচনা করেছি তাতে কোনো কিছুরই মুল্যাংকন রাখা হয়নি কেননা বস্তুর মুল্যাংকন শ্রমের মুল্যাংকন থেকেই উৎপন্ন হয় সেই কারণে নতুন অর্থশাস্ত্রে কোনো পারিশ্রমিক থাকবে না, কোনো ব্যাংক থাকবে না এবং কোনো tax system থাকবে না ফলে ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্য নানা প্রকারের ঝঞ্ঝাট এবং দৌড়ঝাঁপ সমাপ্ত হয়ে যাবে সামান্য কাজেও অধিক সুখসুবিধা পাওয়া যাবে নাগরিক যে কোনো ব্যবস্থায় এমন সুবিধাই আশা করে থাকে যেমন ফলাফল এবং সুবিধা সকলে চেয়ে থাকে তা উপভোগ করার জন্য এটি একেবারে সঠিক ব্যবস্থা বর্তমানে যে ব্যবস্থা চলমান রয়েছে তা সঠিক নয় কারণ এটি তেমন পরিণাম প্রদান করছে না যেমনটি মানুষ বাস্তবে চাইছে মোটকথা বর্তমান ব্যবস্থা আমাদের জীবনের উদ্দেশ্যকে পূরণ করতে সক্ষম হয়নি


১৩. একদিকে সম্পদ সীমিত এবং অপরদিকে মানবীয় ইচ্ছে অনন্ত, আপনি কীভাবে এই অভাব পূরণের বন্দোবস্ত করবেন?

বাস্তবে একথা সত্য নয় জানিনা কবে কোথা থেকে এই ভুল ধারণা শুরু হয়েছে ঐতিহাসিক গবেষণা করলেই এর উত্তর জানা যাবে বর্তমান অর্থশাস্ত্র অভাবের নিয়মের উপর প্রতিষ্ঠিতবলা যায় আজ অবধি যে অভাব চলে আসছে তা বর্তমান অর্থশাস্ত্র দ্বারা তৈরি পরিস্থিতির লক্ষণ এতে উপরে উপরে মনে হয় এই অভাব স্বাভাবিক, ৯০ শতাংশ মানুষ দরিদ্র এবং অসহায় অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছে, তাদের ইচ্ছেগুলি পূরণ হচ্ছে না; তাই মনে হয় সকলের ইচ্ছে পূরণের জন্য সম্পদ কম পড়বে কিন্তু বাস্তবতা ঠিক তার উল্টো যে প্রকার অর্থশাস্ত্র আমরা গ্রহণ করেছি তার কারণেই এই কৃত্রিম অভাব তৈরি হয়ে চলেছে যেখানে মানুষের সীমিত ইচ্ছেগুলিও পূরণ হতে পারে না

আমি অনুসন্ধান করে এটিই বুঝতে পেরেছি যে সমস্ত সম্পদ একটি চক্রের মাধ্যমে ঘুরে চলেছে, বলতে পারেন বিভিন্ন চক্রের কারণেই সম্পদের অস্তিত্ব বজায় রয়েছে উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি, জল বাষ্পে পরিণত হতে থাকে এবং বরফে পরিণত হতে থাকে বরফ আবার জলে পরিণত হতে থাকে এবং পুনরায় বাষ্পে পরিণত হতে থাকে অর্থাৎ প্রতিনিয়ত একে অপরের মধ্যে পরিবর্তিত হতে থাকে সব মিলিয়ে অর্থ এটিই দাঁড়ায় যে আমাদের যতটা জল প্রয়োজন তা সর্বদা উপলব্ধ রয়েছে, যতটা বরফ প্রয়োজন তা সর্বদা উপলব্ধ রয়েছে এবং যতটা বাষ্প প্রয়োজন তা সর্বদা উপলব্ধ রয়েছে যেহেতু জল এক অবস্থা থেকে অপর অবস্থায় পরিবর্তিত হয়ে চলেছে সেহেতু জলের মাত্রাও মোটামুটি ততটাই থাকে, কমে যায় যা না অথবা অতিরিক্ত হয়ে যায় না একইভাবে অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে যতখানি ভোজ্যবস্তু এবং বস্তুসামগ্রী তৈরি করতে চাই আমরা তৈরি করে নিতে পারি এটি পুরোপুরি আমাদের হাতে

সুতরাং সকলের জীবনযাপনের স্তর উন্নত হোক, যেখানে যেমন জ্ঞান, কর্ম এবং ভোগের প্রয়োজন তা যেন পূরণ হয়ে যায় আমার মনে হয় না এর জন্য প্রকৃতির মধ্যে কোনও অভাব রয়েছে সঠিক ম্যানেজমেন্ট এবং বিজ্ঞানের সাহায্যে সকলের জন্য বন্দোবস্ত করা যেতে পারে যদি কোথাও একটু আধটু অভাবও দেখা দেয় তাহলেও সঠিক ম্যানেজমেন্টের সাহায্যে সমস্ত সম্পদের সর্বাধিক ব্যবহার করা যেতে পারে সেইসব সম্পদের বিতরণ এমন করা হবে যখন যার প্রয়োজন হবে তিনি পেয়ে যাবেন, তা কোনো একজনের অধীনে যেন না থাকে কম মাত্রার বস্তুরও যেন সর্বাধিক ব্যবহার হয়যেমন আজকাল OLA, UBER যেমনভাবে পরিষেবা দিয়ে থাকে এই ধরণের পরিষেবার মাধ্যমে সংখ্যায় কম যানবাহন দ্বারা এবং সংখ্যায় কম মানব সম্পদ ব্যবহার করে অধিক মানুষকে পরিষেবা প্রদান করা সম্ভব যদি ব্যক্তিগত স্তরে যানবাহন প্রদান করা হয় তবে অধিকাংশ সময় অব্যবহুত অবস্থায় পড়ে থাকবে, ফলে সম্পদের অপব্যায় হবে সুতরাং এমন পদ্ধতি বের করা যেতে পারে যেখানে সীমিত সম্পদ প্রদান করেও সকলকে ঐশ্বর্যশালী অবস্থায় রাখা যেতে পারে, অধিক বস্তু-পরিষেবা উপলব্ধ করানো যেতে পারে এবং অধিক সুখ উৎপন্ন করা যেতে পারে সুতরাং এটি বলা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয় না যে সম্পদ কম রয়েছে এবং মানব ইচ্ছে অনন্ত ইত্যাদি ইত্যাদি বস্তু পড়ে থাকবে / শতাংশ মানুষের কাছে, ব্যবহারও হবে না, অপরদিকে অধিকাংশ মানুষ অসহায় অবস্থায় থাকবে, এটি অক্ষম ম্যানেজমেন্টের পরিচয় দেয়, অভাবের নয়

অপরদিকে মানুষের ইচ্ছেও যে অধিক তাও কিন্তু নয় সকলের জন্য ২৪ ঘণ্টা সময়ই রয়েছে যেখানে সকলকে - ঘণ্টা বিশ্রাম, - ঘণ্টা জীবিকা এবং অন্যান্য কর্ম সম্পাদন করতে হয় এরপর যতখানি সময় বেঁচে থাকে সেখানে কী করে অনন্ত ইচ্ছে থাকতে পারে যতখানি অবসর সময় পায় তাতে কত ইচ্ছে উৎপন্ন করতে পারে যে সম্পদ কম পড়ে যাবে একদিনে কেউই ১০-১২টির অধিক ইচ্ছে করতে পারবে না আর তাও যদি পূরণ না হয় তবে ধিক্কার সেই ব্যবস্থাকে যেখানে মানুষের ইচ্ছে অনন্ত এরূপ বাক্য উপরে উপরে বলে দিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যায়! এরূপ দায়িত্বজ্ঞানহীনতাকে কোনও ম্যানেজমেন্ট বলা যায়? এরূপ ম্যানেজমেন্টকে কি শাস্ত্র বলা যায়? যেসব পুস্তককে আমরা অর্থশাস্ত্র এবং সমাজশাস্ত্র বলে আসছি বাস্তবে তো এইসব দরিদ্রতাকে বাঁচিয়ে রাখার পুস্তক এবং অসহায় অবস্থাকে বাঁচিয়ে রাখার জ্ঞান হিসেবে পরিগণিত হয় এইসব অজ্ঞানতাকে জ্ঞানরূপে উপস্থাপন করা হচ্ছে বার বার বলা হচ্ছে ৯০ শতাংশ মানুষের অভাবের মধ্যে জীবনযাপন করাটা নিশ্চিত, তাহলে কি করে এইসবকে শাস্ত্র বলা যায়? সঠিক প্রকারের ব্যবস্থা সেটিই হবে যার মাধ্যমে সকলের জন্য সবকিছু সঠিকভাবে উপলব্ধ হবে, এরূপ সিস্টেমকে সঠিক ম্যানেজমেন্ট বলা হবে পরিবর্তে এটি বলা তো অজ্ঞানতার পরিচয় দেয় যে মানব ইচ্ছে অনন্ত এবং সম্পদ সীমিত বাস্তবে আমরা তো জানি ইচ্ছে তেমন অধিক নেই আপনি কোনো ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করুন যে, তিনি একদিন কতগুলি ইচ্ছে করেন? ১০ থেকে ১২টির অধিক ইচ্ছে কেউই করে না তার মধ্যেই ২৪ ঘণ্টা সমাপ্ত হয়ে যায় আর ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী বিশেষ কয়েকটি ইচ্ছেই ঘুরপাক খেতে থাকে সকল ব্যক্তির আনুমানিক ৫০ থেকে ১০০টি ইচ্ছেই থাকে যা চক্রাকারে ঘুরে ফিরে আসতে থাকে জীবনযাপন নিয়ে প্রতিটি ব্যক্তির নিজস্ব জীবনশৈলী থাকে, নিজস্ব রুচি থাকে এবং সেসব অনন্ত হয় নাআমাদের জীবনে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ই ঘুরতে থাকে এবং যা অত্যধিক হয় না কারোর পক্ষেই বহু বিষয়কে একসাথে সংলগ্ন রাখা সম্ভব নয় এমনকি মানুষের পক্ষে তা বাস্তবিকও নয়


১৪. যখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা (Competition) থাকবে না তখন মানুষ নতুন গবেষণা অথবা আবিষ্কার কীভাবে করবে?

প্রথমত, নতুন আবিষ্কার প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে হয় না আবিষ্কার হবার মূল কারণ হচ্ছে আবশ্যকতা এই কথাটি শুনে থাকবেন যে আবশ্যকতাই হচ্ছে আবিস্কারের জননী সুতরাং এটি আবশ্যকতার উপর নির্ভর করছে যখন আবশ্যকতা তৈরি হয় তখনই গবেষণা হয়

দ্বিতীয়ত, যাদের অনুসন্ধানে রুচি রয়েছে, বৈজ্ঞানিক স্তরে যে সব ব্যক্তি রয়েছেন, যারা গবেষণা করে আনন্দ পান তাঁরা নিজেদের ক্ষমতা অনুযায়ী গবেষণা করতে থাকেন সেইমত জ্ঞান, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিতেও আধুনিকীকরণ হতে থাকে তাঁরা এমন কিছু দেখতে পান যার মাধ্যমে কল্যানকর কিছু ঘটবে, মানুষ অধিক সুখসুবিধা উপভোগ করবে ইত্যাদি এইসব কারণে তাঁরা নিজেদের কাজ স্বাভাবিকভাবেই করে যেতে থাকেন এবং নিত্য নতুন আবিষ্কার হতে থাকে

তৃতীয়ত, মানুষের যখন কোনোকিছুর প্রয়োজন হয় তখন সে তা প্রকাশ করে প্রকাশ করে বলেই সেই হিসেবে গবেষণার কাজ শুরু হয় তাই গবেষণা প্রয়োজনীয়তার আধারে হতে থাকে এবং যারা গবেষণার কাজ করেন তাঁদের জ্ঞানের আধারে আধুনিকীকরণ (update) হতে থাকে এর সাথে গবেষণার কোনো যোগাযোগ নেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা উদ্যোগপতিদের মধ্যে হয়ে থাকে, যারা গবেষণার সাথে যুক্ত তাঁরা নিজেদের কাজে লীন থাকেন উদ্যোগপতিরা গবেষকদেরকে নিজেদের প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে দেন এই বলে যে এমন কিছু তৈরি করে দিলে সমাজের পক্ষে ভাল হবে এবং সমাজ উপকৃত হলে আমাদের বস্তু অধিক বিক্রি হবে বস্তুও অধিক বিক্রি হবে যখন মানুষের বাস্তবে প্রয়োজন হবে

সুতরাং মূল সারাংশ এটিই যে মূলত প্রয়োজনীয়তার জন্যই আবিষ্কার হয়ে থাকে, প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নয় আপনি সেখানে সহযোগিতা করলেও প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতেই গবেষণা হতে থাকবে প্রয়োজনীয়তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অথবা সহযোগিতার কোনো সম্পর্ক নেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সহযোগিতা একই প্ল্যাটফর্ম যা নিজের মত করে কোনোকিছু করতে বলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চাপ প্রদান করার নেতিবাচক পদ্ধতি যা মানুষের মধ্যে ব্যাকুলতা এবং অসুবিধা সৃষ্টি করে ফলে বস্তুর প্রাপ্যতা কমে যায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার উদ্দেশ্যই হচ্ছে কোনো বস্তুর উপস্থিতিকে কমিয়ে দেওয়া যদি আপনি প্রাচুর্য তৈরি করে দেন তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আপনিই সমাপ্ত হয়ে যাবে সুতরাং প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভ্রষ্ট ব্যবস্থার পরিণাম, সহযোগিতা সঠিক ব্যবস্থার পরিণাম এর সাথে গবেষণার কোনো সম্পর্ক নেই


১৫. পুঁজিবাদের উপর আপনার সিদ্ধান্ত কী?

সহজ কথায় পুঁজিবাদের অর্থ পুঁজিতে সমস্ত ক্ষমতা বিনিয়োগ করা। যখন পুরো শক্তি পুঁজিতে নিহিত করা হবে তখন যার যত পুঁজি থাকবে, সে তত অধিক শক্তিশালী হবে। তাই প্রতিটি মানুষ আরও শক্তিশালী হবার জন্য আরও অধিক পুঁজি নিজের কাছে রাখতে চাইবেআর সমস্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ক্ষমতার লড়াই, লুণ্ঠন, অপরাধের জন্ম সেখানেই হবে যেখানে অভাব থাকবেফলে সমাজে অশান্তি, দুঃখ, অনৈক্য ইত্যাদি বাড়তে শুরু করবে। এটি হচ্ছে পুঁজিবাদের নেতিবাচক দিক এর ইতিবাচক দিকও খুব কম রয়েছেইতিবাচক পক্ষটিকে বুঝতে হলে রাজতন্ত্রের ভিত্তি থেকে দেখতে হবে, মনে হবে কিছুটা ইতিবাচকপুঁজিবাদ মানুষকে কিছুটা স্বাধীনতা দেয়, জনগণ তাদের নিজের মতানুযায়ী সামান্য কিছু কর্ম করতে সক্ষম হয়, কারণ রাজতন্ত্রে রাজাই থাকে সর্বেসর্বা এবং ব্যবস্থা তার সিদ্ধান্তেই চালিত হয়তাই রাজতন্ত্রের দিক থেকে পুঁজিবাদ কিছুটা ইতিবাচক কিন্তু গণতন্ত্রের পরিপ্রেক্ষিতে পুঁজিবাদ সম্পূর্ণ নেতিবাচক।


১৬. সাম্যবাদের উপর আপনার সিদ্ধান্ত কী?

প্রথমত, এখনো পর্যন্ত সাম্যবাদ শুধুমাত্র একটি ধারণা মাত্র এটি সম্পূর্ণরূপে কোথাও আসেনি। সাম্যবাদের অর্থ সমতাভিত্তিক শ্রেণিহীন সমাজ, অর্থাৎ যেখানে যে সম্পদ রয়েছে তার উপর প্রত্যেকের সমান অধিকার থাকবে সাম্যবাদ এমনটিও বলে থাকে, সেখানে কোনো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা কিংবা কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা থাকবে না যা একটি অসম্ভব বিষয় কেননা একটি ব্যবস্থা থাকলে সেখানে ব্যবস্থাপনা থাকবে, কেন্দ্রীকরণ থাকবে কেন্দ্রীকরণ ছাড়া কোনো ব্যবস্থা সম্ভব নয়। যদি আপনি এটির পরিচালন ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীভূত করেন, তবে তেমন হয়ে যাবে যেমন পূর্বে ছোটো ছোটো রাজ্য কিংবা গোষ্ঠী ছিল। ছোটো রাজ্যগুলিও তো নিজেদের মধ্যে এক-একটি ব্যবস্থাএরপর সেই অংশের ব্যবস্থাপনা পুনরায় কেন্দ্রীকরণ হয়ে যাবেআবার পূর্ণ বিকেন্দ্রীকরণের অর্থ হচ্ছে আমরা সকলে নিজের বন্দোবস্ত নিজে করে নিই যদিও তা সম্ভব নয়

দ্বিতীয়ত, সাম্যবাদ বলছে সমাজের সমস্ত সম্পদের উপর সকলের সমান অধিকার, কিন্তু এই বিপুল চাহিদ, উৎপাদন এবং ব্যবস্থাপন প্রক্রিয়া কী হবে ও কীভাবে কার্য করবে তা স্পষ্ট হয় না সাম্যবাদী ব্যবস্থায় অধিকার এবং কর্তব্যের মধ্যে সার্বিক সামঞ্জস্য স্থাপিত হবে কিন্তু কীভাবে হবে তা স্পষ্ট হয় না তাই এটি একটি ইউটোপিয়ান ধারণা হিসেবেই রয়ে গিয়েছে

মার্কসবাদীরা সমাজতন্ত্রের ব্যর্থতা ঢাকতে বারংবার বলে থাকেন তাদের তত্ত্ব সঠিক পথেই এগোচ্ছে যদিও বাস্তবতা ঠিক উল্টোটাই প্রমাণ করেছে এখনো অবধি সাম্যবাদের যে পূর্বরূপ সমাজতন্ত্র সেটিই পূর্ণরূপে কোথাও প্রতিষ্ঠিত হয়নি যেখানে যতখানি এসেছে পুঁজিবাদের আকারে এসেছে অপরদিকে মার্কসবাদী রাজনৈতিক দলগুলোতে অর্থনৈতিক ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব চরমভাবে দেখা দিয়েছে। ফলস্বরূপ মার্কসবাদীরা বহুত্ববাদে বিভাজিত হয়ে গিয়েছে আমার মনে হয় এর পেছনে মূল কারণ হতে পারে দিকনির্দেশ সম্পর্কে অস্পষ্টতা রয়ে গিয়েছে কিংবা সমাজবাদ-সাম্যবাদের তত্ত্বে সংশোধনের আবশ্যকতা রয়েছেএছাড়া শ্রেণী সংগ্রাম, আন্দোলন, সহিংস-বিপ্লব ইত্যাদি ধাপগুলি দ্বারা মার্কসবাদ পরিবেষ্টিত এই প্রক্রিয়াগুলোরও আমূল রূপান্তর প্রয়োজন বলে আমার মত


১৭. আপনার মডেল সাম্যবাদের দ্বিতীয় সংস্করণ নয় কি? নতুন ব্যবস্থার প্রস্তাবনা সাম্যবাদ এবং পুঁজিবাদ থেকে কোথায় ভিন্ন?

সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থা সাম্যবাদের দ্বিতীয় সংস্করণ নয় এমনকি প্রথম সংস্করণও নয় প্রথমত, সাম্যবাদ হল এমন একটি কনসেপ্ট যা প্রস্তাবিত হবার পর বহুদিন কেটে গিয়েছে এটি পৃথিবীর কোথাও প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। এটি কেবলমাত্র মানুষের স্বপ্নের ব্যাপার হিসেবে রয়ে গিয়েছে মাত্র। আজ পর্যন্ত কোথাও বাস্তবের মাটিতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি এবং আসাও সম্ভব নয়। যেভাবে সাম্যবাদ বাস্তবের মাটিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব নয় তেমনই আদর্শসম্বলিত মুক্ত বাজারও সম্ভব নয় এটি কেবলই এক কল্পনাবিশুদ্ধ পুঁজিবাদের অর্থ হচ্ছে একটি সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত বাজার। আর সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থা হচ্ছে এক নতুন কনসেপ্ট, যা মূল থেকেই ভিন্ন এখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও শাসন ব্যবস্থাপনা কেমন হবে সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থা কোনো স্বপ্নময় উপস্থাপনা নয় বরং স্পষ্ট করে বলে দেয় কীভাবে আদর্শ অবস্থা প্রাপ্ত হবে যা বোঝা খুবই সহজ। সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থা এক ভিন্নতর দর্শনের ভিত থেকে বিকশিত হয়েছে যেখানে বিভ্রান্তি কিংবা অস্পষ্টতার অবকাশ নেই সুতরাং সম্পূর্ণ সমাধান একটি সম্ভাব্য মডেল, এর সাথে সাম্যবাদ, সমাজতন্ত্র এবং পুঁজিবাদের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই।

মৌলিকভাবে পার্থক্য এটিই যে সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থায় ম্যানেজমেন্ট ১০০% কেন্দ্রীকৃত এবং সমস্তপ্রকার ক্ষমতা ১০০% বিকেন্দ্রীকৃত। সমাজতন্ত্র এক্ষেত্রে একটি অদ্ভুত এবং অস্পষ্ট চিত্র উপস্থাপন করে। সমাজতন্ত্র উপস্থাপন করে যে সম্পদের মালিকানা এবং বন্টনের ব্যবস্থা সমাজের নিয়ন্ত্রণে থাকবে সমাজতন্ত্র একটি অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং আদর্শিক ধারণা হিসেবে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিরোধিতা করে। তার একটি মৌলিক প্রতিশ্রুতিও এটিই যে সম্পদের উৎপাদন ও বন্টন সমাজ অথবা রাষ্ট্রের হাতে থাকতে হবে।

যদি আমরা সোশ্যালিস্ট কমান্ড ইকোনমি (সেন্ট্রালি প্ল্যানড ইকোনমি) সম্পর্কে কথা বলি, তাহলে এতে ব্যবস্থাপনা এবং ক্ষমতা সরকারের তরফে কিছু ব্যক্তির হাতে চলে যায় এবং জনগণের স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হয় এমনটি যে হবে তা সেই অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যেই নিহিত রয়েছেতাহলে তো এটি সমাজতন্ত্র নয়। এটি একধরণের রাজতন্ত্রযদি আমরা একক মালিকানা অর্থনীতি অথবা শুধুমাত্র মিশ্র অর্থনীতির কথা বলি তবে এতে ক্ষমতা চলে যায় পুঁজিপতি এবং সরকারের হাতে। পাঁচ বছরে মাত্র একবার জনগণের হাতে ভোট প্রদানের অধিকার থাকে এতে জনগণের জীবন পুঁজিপতি এবং সরকারের মিলিত উদ্যোগে চালিত হয় অর্থসম্পদ কিছু ব্যক্তির হাতেই জমা হতে থাকে তাহলে তো এখানেও সমাজতন্ত্র নামমাত্রই রইল কোথায় দেখা যাচ্ছে সমাজ প্রাথমিক অগ্রাধিকার পাচ্ছে? এতে কোথায় সমাজের ভাল হচ্ছে?

এটি ভিন্ন কথা যে মিশ্র অর্থনীতির মডেল এক দিক থেকে কমান্ড অর্থনীতির চেয়ে ভালো, অন্যদিকে সামন্তবাদ ও রাজতন্ত্রের কাঠামোর চেয়ে উত্তম। এই প্রকার মিশ্র অর্থনীতির ব্যবস্থাপনায় কিছুটা কেন্দ্রীকরণ এবং কিছুটা বিকেন্দ্রীকরণ হয়ে থাকে মিশ্র অর্থনীতির মডেল বলে যে রাষ্ট্র চাই কিন্তু পুরোপুরি চাই নাসুতরাং এটি একটি মধ্যম স্তরের ব্যবস্থায় পরিণত হয়। ধরে নিন কিছুটা ভাল এবং কিছুটা মন্দ সেখানে বাজার থাকবে এবং সরকারের নিয়ন্ত্রণও থাকবে এতে না সঠিকভাবে পুঁজিবাদ হয়ে উঠতে পারে না সমাজতন্ত্র কাউকে সঠিকভাবে দায়ী করতে পারে না। জানা যায় না কে কার জন্য দায়ী, কে কী করছে এবং মনে হয় গাড়ি যেন ঈশ্বর ভরসায় চলছে এই ধরনের মডেলে বিভিন্ন গোষ্ঠী তৈরি হতে থাকে এবং যখন তাদের স্বার্থ বিপরীতমুখী হয়ে একে অপরের সাথে সংঘর্ষে পরিণত হয় তখন আবার একই প্রতিদ্বন্দ্বিতা, অশান্তি এবং সুখের অপ্রাপ্তি দেখা দেয়। তাই এটিও সমাধান নয়। প্রকৃতপক্ষে এই সমস্ত মডেলগুলি এখনও পর্যন্ত কয়েকজন মানুষের বিলাসবহুল জীবনযাপনেরই সুযোগ করে দিয়েছে সবাইকে দিতে হবে এমন ঘোষণাও তারা করছে না এবং তেমনভাবে ডিজাইনও করা হয়নি মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ স্বচ্ছলতা পেলে এমন ব্যবস্থা কীসের জন্য? এটি শুধুমাত্র একপ্রকার বাধ্যতামূলক জীবন প্রদান করবে, বাস্তবে যেমনটি দেখা যাচ্ছে যেখানে সম্পূর্ণ সমাধানের ঘোষণা হল সকলেই সুখী হোক, এমন এক ব্যবস্থা সবাই যেন তাদের কাঙ্খিত জীবন উপভোগ করতে পারে এমন ব্যবস্থা।

আরও একটি বিষয় আছে যা থেকে আপনি জানতে পারবেন সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থা পুঁজিবাদ, সমাজতন্ত্র এবং সাম্যবাদের সিদ্ধান্ত থেকে কোথায় ভিন্ন? সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদে সমাজ প্রথম; ব্যক্তি এবং পরিবারের কল্যাণ গৌণ। পুঁজিবাদে ব্যক্তি প্রথম এবং নিজের স্বার্থের জন্য কাজ করাটা উচিত বলে মনে করা হয়। যেখানে সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থায় ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং সমগ্র সমষ্টির জন্য উপযুক্ত পরিসর প্রদান করা হয়েছে, যেন মনুষ্য চারটি স্তরেই সম্পূর্ণরূপে সুখী হতে পারে অর্থাৎ ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং সমষ্টিগত স্তরে যেন নিজেকে সন্তুষ্ট মনে করে এই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে কেউ ধনী হবে না কেউ দরিদ্রও হবে না, সকলে নিজেদের পছন্দের জীবনযাপন করবে। সেখানে এমন ধনী কেউ হবে না যেখানে ধনী হওয়ার পরও দুশ্চিন্তা করবে, অপরদিকে কেউ দরিদ্র হয়েও চিন্তাগ্রস্ত থাকবে। যত ব্যবস্থা পূর্বে এসেছে কোনোটিই মানুষকে সুখী করতে সক্ষম হয়নিআপনি সম্পূর্ণ সমাধান পুস্তক অধ্যয়ন করলেই বুঝতে পারবেন যে মূল থেকেই বড় পার্থক্য রয়েছে ফলে স্বাভাবিকভাবেই অন্য সমস্ত দিকে পার্থক্য করে তোলে

সাম্যবাদের পূর্বপুরুষদেরও এই বক্তব্য যে সাম্যবাদ হল সমাজতন্ত্রের অগ্রসর পর্যায়। কিন্তু এখানে আদর্শগতভাবে সমাজতন্ত্র থেকে সাম্যবাদে যাওয়ার পথে এক দীর্ঘ লাফ মেরে দেয়বলে দেয় উৎপাদনের উপায় অনেক বেড়ে গিয়েছে। এটি বলা হয় না যে মানুষের বিভিন্ন আকাঙ্ক্ষার জন্য, পরিবর্তনের জন্য, ব্যবস্থাপনার জন্য সাম্যবাদ কীভাবে পরিচালনা করা হবে ফলে বিষয়টি স্পষ্ট হয় না সাম্যবাদী দর্শনে জনগণের আকাঙ্ক্ষার পূর্তি কেন্দ্রীভূত হয় এটি এভাবেও জানা যেতে পারে যখন তারা দায়িত্ব ও কর্তৃত্বের কথা বলে। যেখানে সমাজতন্ত্রে কর্তব্য ও অধিকারের বণ্টনকে 'প্রত্যেককে তার সামর্থ্য অনুযায়ী, প্রত্যেককে কার্য সম্পাদন অনুযায়ী' সূত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত করা হয়; সাম্যবাদে 'প্রতি জনের ক্ষমতা অনুযায়ী, প্রতি জনের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রয়োগ করা হয় তাহলে প্রয়োজনীয়তার অর্থ কী? এক কামরার ঘর, দুই জোড়া কাপড় আর সামান্য খাবার? জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি অস্পষ্ট রয়ে যায়

যেখানে সম্পূর্ণ সমাধানের বক্তব্য হল সকলের ইচ্ছে অনুযায়ী জীবন। এই ব্যবস্থার কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের ইচ্ছেসেই ইচ্ছের মূল আধার হচ্ছে নিরন্তর সুখী অবস্থায় থাকাআমরা বরং সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থাকে সুখকেন্দ্রিক ব্যবস্থা বলতে পারিযেখানে ব্যক্তির নিজস্বতা স্বাধীনতাই প্রাথমিক, সমাজ নয়বাহ্যিক দিক দিয়ে সাম্যবাদ কিংবা সমাজবাদের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে এমনটি মনে হয়কিন্তু অভ্যন্তরীণ অর্থে মূল থেকেই পার্থক্য রয়েছে। সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থার দর্শন ভিন্ন যেহেতু দর্শন ভিন্ন সেহেতু অন্যান্য বিসয়গুলিতে ভিন্নতা স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যমান যেমন অর্থনৈতিক মডেল ভিন্ন, রাজনৈতিক মডেল ভিন্ন, শিক্ষা মডেল ভিন্ন, পারিবারিক মডেল ভিন্ন এবং এমনকি সামাজিক-সাংস্কৃতিক মডেলও ভিন্ন সুতরাং সবকিছু ভিন্নপরিশেষে আমি মার্কসবাদীদের উদ্দেশ্যে একথাও বলতে পারি, দীর্ঘসূত্রতার স্বপ্নে নিমজ্জিত না থেকে সকলে একত্রে আলোচনা-পর্যালোচনার মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে দ্রুত রূপায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারি। মূলত সঠিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই সকলের উদ্দেশ্য।


১৮. যদি মানুষ আর্থিক দিক দিয়ে সুরক্ষিত থাকে তবে কর্মের প্রতি আগ্রহী হবে কেন?  ফলে বস্তু-পরিষেবার গুণগত মান এবং কর্মীর দক্ষতা কীভাবে বজায় থাকবে?

প্রথমত, যেমনটি আমি বইতে উল্লেখ করেছি যে শুধুমাত্র শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা অর্থনৈতিকভাবে সুরক্ষিত বাকিরা তখনই সুরক্ষিত হবে যখন তারা কোনো না কোনো কাজ করবে। যারা ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী সুস্থ মানুষ তারা যদি কর্মে যোগদান না করে তবে আর্থিকভাবে সুরক্ষিত হবে নাসুতরাং প্রশ্নে যা বলা হয়েছে বিষয়টি তেমন নয় আর্থিকভাবে সুরক্ষিত থাকার জন্য ব্যবস্থায় কোনো না কোনো কাজ সম্পাদন করা অনিবার্য

গুণগত মান এবং দক্ষতা সম্ভব হবে কারণ সবাই নিজেদের আগ্রহ এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করতে থাকবে যখন নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়ে যাবে তখন মানুষ তার পছন্দ অনুযায়ীই জীবিকা পাবে পছন্দের কাজ করতে সকলেরই ভাল লাগেযখন কাজ করে আনন্দ হয় তখন প্রতিটি মানুষ তার সেরাটা দেয়। ভেতর থেকে যখন সেরাটা বেরিয়ে আসবে তখন তার পছন্দের কর্ম গুণগত মানের বস্তু এবং পরিষেবা হিসেবে রূপান্তরিত হবে

দ্বিতীয়ত, ব্যক্তি তখন তার সামর্থ্য অনুযায়ী একটি গ্রহণযোগ্য উৎপাদন লক্ষ্যে কার্য করতে সম্মত হবে। ব্যবস্থা তাকে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে বাধ্য করবে না। সে ২ দিনের কাজ ১ ঘণ্টায় করুক বা ৬ ঘণ্টার মধ্যে করুক এটি তার ব্যাপার। ব্যবস্থা কোনো ধরা-বাঁধা গতি নির্দিষ্ট করে দেবে না সকলে আনুমানিক ৪/ ঘন্টা কাজ করবে প্রতিটি কর্মীর আউটপুট নির্দিষ্ট থাকবে যা ধীরে সম্পাদন করলেও অর্জন করা সম্ভব হবে সকলে নিজেদের গতি অনুযায়ী কর্ম সম্পাদন করবে। ব্যবস্থা দেখবে চূড়ান্ত আউটপুট এবং গুণগতমান সঠিক রয়েছে কিনাআপনি কত দ্রুত বা কত ধীরে কর্ম করবেন তা নিয়ে কোনো সমস্যা থাকবে না। শুধুমাত্র আপনার স্ব-স্বীকৃত এবং অনুমোদিত লক্ষ্যমাত্রা পূর্বনির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূরণ করতে হবে। ফলে কেউ কারোর উপর পুলিশের মত নজরদারি রাখবে না। মানুষকে ভয় ও লাঠির জোরে কাজ করাবে না মানুষ তাদের নিজস্ব ইচ্ছে অনুযায়ী কাজ করতে থাকবে এবং স্বাভাবিকভাবেই সেরাটুকু দিতে থাকবে নির্দিষ্ট বিভাগ বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিটি কাজের গুণগত মান যাচাই করতে থাকবে।

তৃতীয়ত জনগণের প্রতিক্রিয়া ক্রমাগত আসতে থাকবে। ক্ষমতা এখানে বিকেন্দ্রীভূত এবং জনসাধারণ ওই বস্তু/পরিষেবা ব্যবহার করবে, যদি তা গুণগত মানের না হয় তবে তাদের কাছ থেকেই চূড়ান্ত পর্যালোচনা চলে আসবে। যদি রিভিউ নেগেটিভ আসে তবে সেই ব্যক্তি, টিম অথবা বিভাগ নিয়ে প্রশ্ন উঠবে যিনি উৎপাদন করেছেন তাকে প্রশ্ন করা হবে কী ঘটেছে, মূল কারণ বিশ্লেষণের পর সেই সমস্যাটি সংশোধন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে অন্তিম ব্যবহারকারী সন্তুষ্ট হয় এবং একই সমস্যা দ্বিতীয়বার না ঘটে। এতে গুণগতমান নিয়ন্ত্রণে থাকবে।


১৯. কেউ ঝুঁকিপূর্ণ কর্ম অথবা হীন কর্ম করতে রাজী হবে কেন?

প্রথমত, নতুন ব্যবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ কাজ অথবা নিম্নমানের কাজ তো থাকবেই না। নতুন অর্থনীতিতে কোনো বিনিয়োগ তো নেই যে ডুবে যাওয়ার ভয় থাকবে এটি একেবারে শূন্য সংখ্যার ঝুঁকিপূর্ণ এক অর্থব্যবস্থা এই ব্যবস্থায় সকলের ইচ্ছে পূরণ হচ্ছে এবং সবকিছুর মূল্য সমান থাকছে, তাই কোনো কাজকে নিকৃষ্ট হিসেবে দেখা হবে না। দ্বিতীয়ত, নতুন ব্যবস্থায় যন্ত্রপাতির বিপুল ব্যবহার থাকবে তাই কোনো কাজ আর কঠিন থাকবে নাতৃতীয়ত, কোনো কাজে যখন আমরা কঠিন অথবা অসুবিধা বোধ করি তা আমাদের রুচির উপর ভিত্তি করে হয়ে থাকেআপনাকে আপনার রুচি অনুযায়ী কাজ দেওয়া হলে তা সহজ হয় এবং রুচির বাইরে হলে সমস্যা হয় তাই এই কঠিন এবং সরলতা মনস্তাত্ত্বিক। নতুন ব্যবস্থায় বাধ্যতামূলক এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজ নেই এটি পুরোপুরি ঝুঁকিবিহীন সমাধান যেখানে সকলে নিজেদের রুচি, ক্ষমতা, যোগ্যতা, মেধা ইত্যাদির ভিত্তিতে কোনো কাজ নির্বাচন করবে তাই কেউ অসুবিধা অনুভব করবে না। বর্তমান অর্থনীতিতে সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানিগুলো টাকা বাঁচানোর তাগিদে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ চাকরি তৈরি করে যেখানে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তার দিকে পুরোপুরি নজর দেওয়া হয় না। পর্যাপ্ত গবেষণা ও প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয় না কেননা তা সাশ্রয়ী হয় না। তারপর অর্থনৈতিক দিক থেকে বিশৃঙ্খলা ও অসমতা থাকার ফলে অনেক রকম বিপদ তৈরি হয়ে যায় নতুন ব্যবস্থায় বাধ্যতামূলক কিছু থাকবেই না প্রত্যেকটি কাজ সুচিন্তিত পরিকল্পনার মাধ্যমে করা হবে যেন ঝুঁকির সম্ভাবনা প্রায় শূন্য থাকে যদি ছোটো খাটো কিছু অসুবিধা থেকে যায় তবে বিজ্ঞানীরা অনুসন্ধান করে সরল প্রক্রিয়া খুঁজে বের করবেন এবং কর্মটি সহজ করে দেবেন।


২০. আপনি চার প্রকারের মানব ব্যক্তিত্বের কথা বলে থাকেন এই প্রকার বর্গীকরণ কেন এবং এর উপযোগিতা নিয়ে কিছু বলুন?

বোঝার দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষের চার প্রকার শ্রেণীবিভাগ করা হয়েছে কেননা কর্মসংস্থানের বর্গীকরণ করা হয়েছেযেহেতু বিভিন্ন ধরনের কাজ রয়েছে এবং প্রতিটি কর্ম সম্পাদনের জন্য বিভিন্ন যোগ্যতা, ক্ষমতা, রুচি ইত্যাদির প্রয়োজন রয়েছে এই আধারের ভিত্তিতে আমাদের বুঝতে হবে কারা কোন কাজের যোগ্য, কার কী ক্ষমতা রয়েছে, কী রুচি রয়েছে ইত্যাদি বিষয় আমাদের বুঝতে হবে। এমনটি না হলে কোনো কর্ম নির্ধারিত হতে পারবে না কর্ম নির্ধারিত না হলে সেই কর্মে যে গুণাবলী থাকা উচিত তা ​​আসতে পারবে না। যদি গুণগত মান না পাওয়া যায় তবে উচ্চমানের ভোগ থেকেও আমরা বঞ্চিত হব সুতরাং মানুষ কত রকমের হয়ে থাকে এটি জানা জরুরী এবং শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকল্পনাও এই শ্রেণীবিভাগ অনুযায়ী করা উচিত একইভাবে মানুষদের বোঝানো উচিত যে তারা কোন শ্রেণীবিভাগের অন্তর্গত, যেন পছন্দের জ্ঞান, পছন্দের জীবিকা, পছন্দের জীবনযাপন, পছন্দের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, পছন্দের সম্পর্ক ইত্যাদি নির্বাচন করাটা সহজ হয় ব্যক্তি আপন রুচি অনুযায়ী যা নির্বাচন করবে তাতে সহযোগিতার জন্যই এই শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। যেন সকলে নিজেদের ব্যক্তিত্ব অনুসারে ইপ্সিত চাওয়া-পাওয়াগুলিতে সহজে পৌঁছাতে পারে

এটি পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন যে এই শ্রেণীবিভাগের সাথে অসমতার কোনো সম্পর্ক নেই এই শ্রেণীবিভাগের অর্থ এই নয় যে একজন মানুষ মহান হন এবং অন্যজন নগণ্য হন এটি নিখুঁত বিচার নয়। সমস্ত মানুষ সমান হন এ কথার অর্থ এমনও নয় যে একজন মানুষ অন্য মানুষের সামনে মাথা নত করে নমস্কার করবে। এমন কিছুই সেখানে নেই। ২৫ বছর বয়স হলে প্রতিটি মানুষ সমান। কোনো অর্থেই তাদের মধ্যে কেউ উচ্চ নয় বা নিকৃষ্টও নয় তারা একে অপরের কাছে যেই হোন না কেন এমনকি পিতা-পুত্র হলেও। ছেলে অথবা মেয়ে ২৫ বছর বয়স হলে তারা একেকটি স্বাধীন সত্তা। পিতা, মাতা, ঠাকুরদা, ঠাকুরমা এমনকি অন্য কারোর সমকক্ষ হিসেবে তিনি একই মর্যাদা পাবেন। কেউ ইচ্ছে করলে বয়স্কদের অভিবাদন করতেই পারেন, কিন্তু সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থা অনুযায়ী সকলের অভিবাদন সমান হওয়া উচিত। আলাদাভাবে মাথা নত করার কোনো প্রয়োজন হবে না। যেহেতু সমস্ত ক্ষেত্রে সকলের মধ্যে সমতা প্রদান করা হয়েছে এবং সেই কারণে নতুন ব্যবস্থায় সকলেই সমান নাগরিক তাদের সকল অধিকার সমান। যতদিন পর্যন্ত ২৫ বছর বয়স না হয় ততদিন অবধি এটি ধরা হবে এখনও সে অনেক বিষয়ে বিকশিত হয়ে ওঠেনি এবং সে এখনও পর্যন্ত অনেক কিছু বুঝতে পারবে না তাদের নির্দেশ প্রদানের প্রয়োজন রয়েছে, তারা এমন কিছু না করুক যেখানে নিজেকে এবং অন্যদের ভোগান্তি পোহাতে হয়

সুতরাং তারা যেমন যেমন বড় হবে তাদের স্বাধীনতাও সেইভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং নির্ভরতা কম হতে থাকবে। এই ব্যবস্থা এমন ভাবেই নির্মাণ করা হয়েছে ২৫ বছর পর একজনের যেমন স্বাধীনতা থাকবে তেমনটি অন্য কারোর ক্ষেত্রেও থাকবে অর্থাৎ সম্পূর্ণ স্বাধীনতা সুতরাং নতুন ব্যবস্থায় যে শ্রেণীবিভাগ রাখা হয়েছে তাকে এভাবেই বোঝা উচিত। এটিকে প্রথমে মনুষ্যের স্বভাব এবং পরে ব্যবস্থার দৃষ্টিকোণ থেকে বিভাজন করা হয়েছে অধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে বিভিন্ন মানুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

***

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?