ULM প্রশ্নোত্তরীঃ স্থানান্তরকাল
স্থানান্তরকাল
৩৮. বর্তমান ব্যবস্থা থেকে নতুন ব্যবস্থায় কীভাবে যাব?
এইসব খুবই
মসৃণভাবে ঘটবে, কাউকে কোনোপ্রকার অসুবিধা না করেই। সর্বপ্রথমে আমরা এই ব্যবস্থার জ্ঞানকে জনগণের সম্মুখে উপস্থাপন করছি যেন তারা
ভালোভাবে বুঝে নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে যে এই ব্যবস্থাকে আনা উচিত কী উচিত নয়। একইসাথে ‘মুক্ত মঞ্চ’ নামে একটি কর্মসূচি পরিচালনা করা
হচ্ছে, একইসাথে অন্যান্য মাধ্যমেও এই সমাধান সূত্রকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থা সম্পর্কে সমস্ত দৃষ্টিকোণ থেকেই
বার্তা প্রেরণ করা হচ্ছে এবং পরস্পরের সাথে কথোপকথন চলছে। সার্ভে করার পর যদি দেখা
যায় জনসাধারণ পক্ষে রয়েছে এবং দাবী করছে এই ব্যবস্থাকে আনা উচিত, তবে বিষয়টি
সাংবিধানিকভাবে এগিয়ে যাবে যেন নতুন ব্যবস্থাটি বর্তমান সরকার অথবা নতুন সরকার
দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। এর তাৎপর্য হচ্ছে বিদ্যমান ব্যবস্থা দ্বারা নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হোক। সংখ্যাগরিষ্ঠরা চাইলে
এটি নির্বাচনের মুখ্য বিষয় হয়ে উঠবে এবং সমাজ আগে থেকে তৎপর থাকবে। অর্থাৎ সমাজ পূর্ব হতেই
প্রস্তুত হয়ে যাবে। কেননা এবিষয়ে সমাজে অনেক আলোচনা হয়ে যাবে এবং
মানুষের মানসিকতাও তৈরি হয়ে যাবে। নতুন ব্যবস্থা সম্পর্কিত বিস্তারিত বিষয়ে ‘সম্পূর্ণ সমাধান’ নামক পুস্তক ইতিমধ্যে হিন্দি, ইংরেজি, রাশিয়ান এবং বাংলা ভাষায় উপলব্ধ হয়ে গিয়েছে। যেখানে ধাপে ধাপে
বর্ণনা করা রয়েছে কীভাবে কোনোপ্রকার হিংসা, সংঘাত, লড়াই, আন্দোলন, বিপ্লব, অভিযোগ ইত্যাদি ছাড়াই সাংবিধানিকভাবে বিদ্যমান ব্যবস্থা নতুন ব্যবস্থায়
স্থানান্তরিত হবে। পূর্বেই পুস্তকটি অধ্যয়ন করে সকলে জেনে নিতে পারবে। নতুন ব্যবস্থা প্রারম্ভ
হলে বর্তমান সময়ের বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা থেকে কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থায় প্রবেশকালে প্রথমে কয়েকটি নিয়মে পরিবর্তন আসবে এবং
একটি স্থানান্তরণ প্রক্রিয়া চলবে। সফটওয়্যার প্রোগ্রাম, ইন্টারনেট প্রক্রিয়া, অনলাইন পোর্টাল, বস্তু/পরিষেবাগত বিভিন্ন প্রকার পরিকাঠামো, নগর পরিকল্পনা ইত্যাদির ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হবে। ফলে ২ থেকে ৩ বছরের একটি রূপান্তর পর্ব চলবে। কেন্দ্রীকরণের পর
শুরুতেই সকলের পারিশ্রমিক সমান হয়ে যাবে। অর্থাৎ সকলের শ্রমের মূল্যায়ন একসমান হয়ে
যাবে। এইভাবে পর্যায়ক্রমে
নতুন ব্যবস্থা স্থাপিত হতে থাকবে এবং প্রতিটি দিবস সকলের জন্য সর্বাধিক সুখ প্রদানকারী
হয়ে উঠবে। ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে।
৩৯. মুক্ত মঞ্চের (Open
Forum) রূপরেখা কী রয়েছে এবং কীভাবে কাজ করবে?
মুক্ত মঞ্চের নাম থেকেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। যারা মনে করেন তাদের কাছে এমন কিছু বক্তব্য অথবা নিজস্ব
কোনো আবিষ্কার রয়েছে যার দ্বারা সমাজ বর্তমানের চেয়ে অধিক সুখী হতে পারে, অথবা তাদের ধর্মীয় গ্রন্থে অথবা
পুরনো কোনো পুস্তকে কোনো না কোনো সমাধান খুঁজে পেয়েছেন অথবা উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে
এমনটি দাবী করেন তাহলে তাদের সকলকে আমরা মুক্ত মঞ্চে
আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। এছাড়াও সমাজের কল্যাণে জনগণের কাছে বক্তব্য উপস্থাপন
করতে চাইছেন এমন খবর জানতে পারলেও আমরা আমন্ত্রণপত্র প্রেরণ করব। মুক্ত মঞ্চে প্রশ্ন
উপস্থাপন করা হবে এই বলে যে তাদের সমাধান সমাজকে কীভাবে সুখী করবে। যদি তারা
নিজেদের সমাধানকে প্রত্যক্ষ প্রমাণসহ প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন এবং সমাজের কল্যানে প্রমাণিত হয় তবে তা সামাজিকভাবে গ্রহণ করে নেওয়া হবে। যদি না হয় তবে প্রশ্নচিহ্ন জুড়ে দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে। যদি এমন হয় সেই সমাধান সম্পূর্ণ অচল তবে একটি অযৌক্তিক সংজ্ঞায় আখ্যায়িত করা হবে। এমনকি যৌক্তিক প্রমাণিত না করতে পারলেও
একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন বসিয়ে দেওয়া হবে, পরিবর্তী কোনো সময় এসে দাবি প্রমাণ করতে চাইলে তা করতে পারবেন। কোনো যুক্তি প্রমাণিত
হলেই স্বীকৃতি পেয়ে যাবে। যুক্তি যাচাই করার জন্য আপনাকে আপনার দাবী নিয়ে তর্ক করতে হবে এবং প্রমাণসহ
বক্তব্য উপস্থাপন করতে হবে। সকলে সব বিষয়ে পারদর্শী না হওয়ায় অনেকে গভীরভাবে প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারেন না, যে কারণে সমাজে সর্বদা বিভ্রান্তিমূলক
অবস্থা তৈরি হয়। কেননা একমাত্র বিশেষজ্ঞরাই সমাধান দিতে পারেন এবং সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করতে
পারেন। সেইজন্য এই ‘মুক্তমঞ্চ’ সকল বিশেষজ্ঞকে একস্থানে একত্রিত করার
দায়িত্ব পালন করছে। যারা যে বিষয় বোঝেন তারা তা উপস্থাপন করবেন এবং যখন
প্রশ্নোত্তর পর্ব চলবে তখন মানুষ সহজেই সমাধানের দিকটি বুঝতে পারবে। প্রশ্নোত্তর
পর্বের পর একরকম জ্ঞানের স্থিরতা এসে যাবে এবং মানুষ বুঝতে পারবে নতুন ব্যবস্থার বিষয়টি
তাদের কাজে আসবে কিনা। এটি সুখ বৃদ্ধি করবে বলে মনে হলে তারা সমর্থন করবে, অন্যথায়
প্রত্যাখ্যান করবে। এইভাবে সমাজে যে ভিন্ন ভিন্ন সমাধান চলমান রয়েছে সে সম্পর্কে সকলে
একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারবে এবং সমাজ বিভ্রান্তির কবল থেকে মুক্ত হতে পারবে। বলা যায় একটি স্পষ্ট
দিকনির্দেশ নির্ধারিত হবে।
৪০. যদি কোনো একটি রাষ্ট্র নতুন ব্যবস্থাকে গ্রহণ করে তবে সেই রাষ্ট্র অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে ব্যবসায়িক লেনদেন কীভাবে বজায় রাখবে?
যতদিন না এই
ব্যবস্থা সব রাষ্ট্রে না আসে অথবা যেসব দেশে আসবে না সেই রাষ্ট্রগুলির সাথে একইরকম লেনদেন চলবে যেমনটি বর্তমানে চলছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক মুদ্রা বা Hard currencies ব্যবহার করতে পারবে। অথবা বহিঃপ্রবাহের জন্য একটি সম্পূর্ণ সমাধান
ব্যবস্থার মুদ্রাও উপস্থাপন করা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে যার মূল্য থাকবে। ব্যবসা বাণিজ্য আজকের মতোই চলবে। নতুন ব্যবস্থা এবং
বর্তমান ব্যবস্থার মধ্যে প্রয়োজন অনুসারে সমস্ত ব্যবসায়িক লেনদেন চলতে থাকবে।
৪১. যদি বিদেশি পর্যটক সেই দেশে ভ্রমনে আসে যে-দেশ নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তবে তাঁরা আর্থিক লেনদেন ব্যতীত বস্তুসামগ্রী কীভাবে ক্রয় করবেন?
যখন বিদেশি পর্যটক সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থায় প্রবেশ
করবে তখন তাদের ডলার অথবা কোনো আন্তর্জাতিক
হার্ড কারেন্সি জমা করতে হবে। বদলে একটি ডেবিট কার্ড পাবেন এবং নিজেদের মোবাইলে সরকার দ্বারা প্রদত্ত
অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করতে পারবেন, যেখানে সমস্তকিছুর আন্তর্জাতিক মূল্য বসানো থাকবে। অথবা সরকার দ্বারা জারি
করা কোনো গ্যাজেট প্রাপ্ত হবে যেখানে বস্তু/পরিষেবার আন্তর্জাতিক মূল্য বসানো থাকবে, যার মাধ্যমে তাঁরা লেনদেন
করতে পারবেন। সুখসুবিধা, সেবা-পরিষেবা, ভোজন, বাসস্থান, ভ্রমণ, কেনাকাটাসহ সমস্তকিছুর মূল্য উক্ত কার্ড থেকে কাটা হবে। নিজ দেশে ফিরে যাবার সময়
অবশিষ্ট মুদ্রা ফেরত পেয়ে যাবেন। ভ্রমণকালে অর্থরাশি ফুরিয়ে গেলে নিজ দেশ থেকে উক্ত কার্ডে
মুদ্রা ট্রান্সফার করতে পারবেন। সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থায় কোনো সীমান্ত সমস্যা থাকবে
না। ফলে পর্যটক কতদিন অবধি থাকতে চাইবেন তা নিয়ে সমস্যা হবে না এবং ভিসার জন্যও কোনোপ্রকার
সংগ্রাম করতে হবে না। লাইনে দাঁড়িয়ে সময় কিংবা মোটা অর্থ ব্যয় করতে হবে না। তাঁরা সরাসরি নতুন ব্যবস্থার
দেশে চলে আসুন, নিজের কার্ড তৈরি করুন, নিজ দেশের একাউন্ট থেকে অর্থ ট্রান্সফার করে নিন এবং যতদিন চান ততদিন নতুন ব্যবস্থার
সুখ উপভোগ করুন।
***

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন