আরজি কর মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং রায়দানের ব্যর্থতা রাষ্ট্রব্যবস্থার ব্যর্থতা নয় কি? সমাধানের পথ কী?
আর জি কর মামলা রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত বিচারব্যবস্থার স্বরূপ উন্মোচন করে দিয়েছে। আরও গভীর ব্যখ্যা করলে এই নৃশংস ঘটনা রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত আইন-প্রশাসন-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ভেদ করে শিক্ষা-সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিসরের মধ্য দিয়ে জীবন দর্শনে গিয়ে পৌঁছায়। কারণ এ বিষয়ে আলোচনা-পর্যালোচনায় আগ্রহী ব্যক্তির সাথে কথোপকথন হলে একদিকে যেমন রাজনৈতিক ক্ষমতা-অপরাধ-দুর্নীতির বিষয় এসে যায় তেমনই রাষ্ট্রীয় সংবিধান জনগণের কাছে যে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রদান করেছে তার বাস্তবিকতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
মামলার সিদ্ধান্ত চলমান সাংবিধানিক বিচার-প্রক্রিয়া অনুযায়ী চালিত হবে এটিই স্বাভাবিক। প্রশ্ন হচ্ছে চালিত হবে ভাবলেই চালিত হয়ে যায় না। কারণ বাস্তবিকতা সেভাবে পরিচালিত হয় না। প্রভাবশালীদের কাছে রয়েছে প্রভাবিত করবার অধিকার। যা জনতার কাছে নেই। চিন্তার সংশয় এখানেই। এই সংশয়ের মুক্তি কীভাবে সম্ভব এই চিন্তন একক বিষয় নয়। এটি সম্মিলিত সামাজিক চিন্তন। কারণ একটি ঘটনা একাধিক শাখাপ্রশাখার সাথে সংযুক্ত। সমাজব্যবস্থা বিষয়ে আগ্রহী চিন্তকবর্গের সম্মিলিত উদ্যোগে কারণ-নিবারণের উদ্দেশ্যে আলোচনা-পর্যালোচনা এবং অনুসন্ধান-সিদ্ধান্ত জরুরী বিষয় হয়ে ওঠা কাম্য।
প্রথমত, কামবাসনা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। অস্বাভাবিক লাগছে কারণ রাষ্ট্র এবং সমাজ নির্দিষ্ট বয়সে লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থীর জন্য শারীরিক/মানসিক, সমন্ধ/সম্পর্ক বিষয়ে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করেনি।
দ্বিতীয়ত, নির্দিষ্ট বয়সের পর ইচ্ছে অনুযায়ী সুস্থ্য সমন্ধ স্থাপন করতে পারবে তারও ব্যবস্থা নেই। উভয় দিকেই অসম্পূর্ণতা। সমাধান এটিই সকলের শিক্ষা, জীবিকা, সুখসুবিধা, সুরক্ষার সুনিশ্চিত বন্দোবস্ত থাকা। এই উদ্দেশ্য পূরণে সমাজ সম্মিলিত উদ্যোগে পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র ব্যবস্থার উদ্যোগ-অগ্রসর প্রকৃত পদক্ষেপ।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন