"আমি গান্ধীজিকে কেন হত্যা করেছি"' - নাথুরাম গডসে।

গান্ধী সম্পর্কে মিথ্যা ইতিহাস পড়ে পড়ে বড় হয়েছি। গান্ধীকে যে কারনে ভারত মাতার বীর সন্তান নাথুরাম হত্যা করে ছিল.......   

ঠিক আজকের দিনে, ১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারি নাথুরাম গডসে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করেছিল। হত্যা করার পর সে, সেখান থেকে পালানোর চেষ্টাও করেনি। কারণ সে চেয়েছিল তার এই জঘন্যতম হত্যা করার কারণ যাতে দেশবাসী জানতে পারে। আদালতে বিচার চলার সময় সে গান্ধীকে হত্যা করার পেছনে মোট ১৫০টা কারণ জানিয়েছিল। তবে সেই সময়কার কংগ্রেস সরকার সেই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতে দেয়নি। কিন্তু নাথুরামের দাদা গোপাল গডসের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর তা প্রকাশ পায়।

***

‘আমি গান্ধীজিকে কেন হত্যা করেছি' - 

              নাথুরাম গডসে।


সুপ্রীম কোর্টের অনুমতি পাওয়ার পর প্রকাশিত হয় নাথুরাম গোডসের ভাষন --- আমি গান্ধীজিকে কেন হত্যা করেছি?


১)গান্ধীজি ৩১- ৩২ বছর ধরে মুসলিম তোষণ করে গেছেন।উদবাস্তু স্রোতে পাকিস্তান থেকে ভেসে এসে যখন হিন্দুরা দিল্লীতে আশ্রয় নেয়,তখন স্থানীয় মুসলিমদের সাথে উদবাস্তুদের সংঘর্ষ লাগে।উদবাস্তুদের যাতে সেখান থেকে উচ্ছেদ করা হয় সেইজন্য গান্ধীজি প্রশাসনকে জানান।শুধু তাই নয় পাকিস্তানকে ৫৫ কোটি টাকা বকেয়া দেওয়ার জন্য অনশন শুরু করেন, গান্ধীজির এই চেহারা আমায় ব্যাথিত করেছিল,তখন থেকেই মনে হয়েছিল গান্ধীজিকে ক্ষতম করে দেওয়া উচিত।


২) খিলাফৎ আন্দোলন সফল না হওয়ায় মালাবার, পাঞ্জাব এবং বাংলায় হিন্দুদের উপর সীমাহীনভাবে অত্যাচার শুরু হয়।মালাবারে ইহা মোপলা বিদ্রোহ নামে পরিচিত।কংগ্রেস এটিকে কৃষক বিদ্রোহ বলে চালাতে চেষ্টা করলেও ইহা ছিল হিন্দুদের উপর একতরফা অত্যাচার। হিন্দুদের ধন সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া হয়,তাদের হত্যা করা হয়,প্রায় ১৫০০ হিন্দু নিহত হয়,মা বোনেদের সম্মান নষ্ট করা হয়,বলপূর্বক হিন্দুদের ধর্মান্তরিত (প্রায় ২০০০)করা হয়।গান্ধী তখন মৌন ছিলেন।গান্ধীর বক্তব্য ছিল ধর্ষণে বাধা দিতে না পারলে দাঁতে দাঁত চিপে সহ্য কর।শুধু তাই নয় গান্ধী বললেন মুসলিমরা হিন্দু মা বোনকে ধর্ষণ করলে হিন্দুরা যেন ধর্ষণকারীদের পদ- চুম্বন করে। তাছাড়া ইহা আল্লার বাহাদুর বান্দার কাজ বলে গান্ধী বিদ্রোহীদের তারিফ করেন।


৩) খিলাফৎ আন্দোলন অসফল হলে গান্ধী আলিদের ভাই আফগানিস্তানের আমিরকে ভারতে হামলা করার জন্য নিমন্ত্রণ করে।গান্ধীজির বক্তব্য ছিল "আমি কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিনা যে যখন খবর হল কি আলি ভাইকে জেলে ভরা হবে,আর আমি আজাদ থাকব বাইরে...........ও এমন কোনও কাজ করেনি যে আমি মনে করি........আমি ওকে চিঠি লিখে জানাবো ও ভারতে এসে নির্বিঘ্নে থাকতে পারবে যেখানে যেখানে আমার আদেশ মানবে, সেখানে ভারত সরকার ওকে বের করে দিতে পারবেনা, আর হিন্দুরা আমার কথাই মানতে বাধ্য হবে"।


৪) গান্ধীজি হিন্দির বদলে হিন্দি উর্দু মিশিয়ে হিন্দুস্তানি ভাষার প্রচলন করেন।এতে হিন্দির গুরুত্ব হ্রাস পায়।মুসলিমদের খুশি করার জন্য হিন্দুস্তানি ভাষার প্রচার করতে লাগলেন এইরকমভাবে - বাদশাহ রাম,সীতা বেগম ইত্যাদি।


৫) বন্দেমাতরম ধ্বনি বিপ্লবীরা উচ্চারণ করলেও মুসলিমদের তীব্র আপত্তি ছিল।যেখানে যেখানে মুসলিমদের আপত্তি ছিল, বন্দেমাতরম বা শিবাজি কি জয় ধ্বনি সেখানে সেখানে এই ধ্বনির ব্যবহার গান্ধীজি বন্ধ করিয়ে দেন। 


৬) কাশ্মীরের দায়ভার গান্ধীজি আব্দুল্লার উপর দিয়েছিলেন।মহারাজ হরি সিংকে গান্ধীজি সবসময় বলতেন সন্ন্যাস নিয়ে কাশী চলে যাও,কিন্তু সেইসময় হায়দ্রাবাদে হিন্দু বেশি ছিল।গান্ধীজি হায়দ্রাবাদের নিজামকে একবারও বলেননি যে তুমি মক্কা চলে যাও।


৭) কংগ্রেস গান্ধীজিকে সম্মান দেবে বলে চরকা পতাকা রাষ্ট্রীয়ভাবে তৈরি করে।নোয়াখালী দাঙ্গার পরেও এই পতাকা গান্ধীজির ঘরে শোভা পেত।কিন্তু একদিন একজন মুসলিম আপত্তি তোলায় সেই পতাকা ঘর থেকে নামিয়ে দেন। এইভাবে কোটি কোটি ভারতবাসীর শ্রদ্ধাকে পদদলিত করেন গান্ধীজি।


৮) নেতাজী সুভাষ কংগ্রেসের সভাপতি পদে থাকার সময় গান্ধী নীতিতে আস্থা রাখেননি।কিন্তু বেশিরভাগ 

ভারতীয়'র সমর্থন বসু পেয়েছিলেন।এতে গান্ধীজি রুষ্ট হন।গান্ধীজির কথায় সুভাষের জিত মানে আমার হার। গান্ধীজি সবসময় সুভাষকে হিংসা করতেন এবং যেন তেন প্রকারে সুভাষকে তাড়াতে চেয়েছিলেন।


৯) গান্ধী জিন্নাকে সবসময় তোষণ করতেন, তাকে কাইজার- এ- হিন্দ বলে ডাকতেন, অথচ জিন্না গান্ধীজিকে পাত্তা দিতনা। গান্ধীর মুসলিম তোষণে ভারত ভেঙে টুকরো হয়ে গেল।গান্ধী জীবিত থাকলে ভারত আরও টুকরো হত।


১০) জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডে দেশবাসী যখন রাগে আগুনে ফুঁসছে এবং ডায়ারের বিরুদ্ধে শাস্তি গ্রহণের কথা বলে, গান্ধী তাতে পাত্তাই দেননি। এরপর উধম সিং ডায়ারকে ইংল্যান্ডে হত্যা করলে গান্ধী বলেন উধম সিং পাগল,উন্মাদ এর শাস্তি হওয়া উচিত।


১১) ভগত সিং ও তার সাথি শুখদেব, রাজগুরুর মৃত্যু দণ্ডের আদেশ এলে সারা দেশ যখন ক্ষুব্ধ ও গান্ধীজির দিকে তাকিয়েছিল এবং চাইছিল গান্ধীজি এতে হস্তক্ষেপ করুক এবং দেশভক্তদের রক্ষা করুক,কিন্তু গান্ধীজি জবাবে বললেন ভগত সিংরা জঙ্গি অতএব তাদের বাঁচানোর কোন প্রশ্নই নেই।


১২) ১৯২৬ -র মে মাসে আর্য সমাজের নেতা স্বামী শ্রদ্ধানন্দকে আবদুল রসিদ নামে একজন হিংস্র মুসলিম হত্যা করেন,গান্ধীজি সেই হত্যাকারীকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন ঠিক করেছ এই বদমাশ মুনিটাকে হত্যা করে,এ হিন্দু মুসলিম একতা নষ্টকারী ছিল এবং দেশদ্রোহী ছিল।


১৩) গান্ধীজির বক্তব্য ছিল ছত্রপতি শিবাজি, মহারাণা প্রতাপ,গুরু গোবিন্দ সিং এরা প্রত্যেকে পথভ্রষ্ট দেশদ্রোহী ছিল।


১৪) কংগ্রেস পতাকা নির্ধারণের জন্য সমিতি তৈরি করেন। ১৯৩১ সালে সকলের সম্মতিতে ভাগবা পতাকা নির্ধারণ করা হয়, কিন্তু গান্ধী জেদ ধরেন ভগবান নয়,পতাকা হবে তেরঙ্গা। 


১৫)বল্লভভাই প্যাটেলের জায়গায় একমাত্র গান্ধীজির ইচ্ছায় নেহরুকে কংগ্রেসের সভাপতি করা হয়।


১৬) যে গান্ধী একদিন বলেছিলেন দেশভাগ হলে আমার লাশের উপর দিয়ে হবে সেই গান্ধী নেহরু ও জিন্নার সমস্ত প্রস্তাব মেনে নেন, ভারত ভেঙে দ্বিখণ্ডিত হয়।


১৭) ভারত ভাগ হওয়ার সময় জিন্না চেয়েছিলেন সমস্ত মুসলিম সম্প্রদায় যাতে পাকিস্তানে চলে আসে, কিন্তু গান্ধী তাতে বাধা দেন।পরবর্তীকালে তাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয়।


১৮) প্যাটেল সোমনাথ মন্দির পুননির্মাণ শুরু করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু গান্ধী তাতে বাধা দেন। 


১৯) ১৯৪৮ সালের ১৩ ই জানুয়ারী গান্ধী দিল্লীতে আমরণ অনশন শুরু করে সরকারকে বাধ্য করে সরকারি খরচে মসজিদ নির্মাণে।সেই সময় পাকিস্তান থেকে উচ্ছেদ হয়ে আসা হিন্দুরা দিল্লীর মসজিদ চত্বরে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিলে গান্ধীজি গিয়ে তাদের বের করে দেন, প্রবল শীতে অনেকেই মারা যান।


 জিন্নাহ ও অন্ধ পাকিস্তান প্রীতি দেখে বলতে পারি উনি প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপিতা ছিলেন ---- ভারতের নয়। প্রতিটি মুহুর্তে পাকিস্তানের সমর্থনে কথা বলেছেন ---- সে পাকিস্তানের দাবী যতই অন্যায় হোক! 


আদালতে দেওয়া নাথুরাম গোডসের কিছু বয়ানের বঙ্গানুবাদ। 


আমি ওনাকে অনেক শ্রদ্ধা করি। কিন্তু কোন দেশভক্তকে দেশ ভাগ ও একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের পক্ষপাতিত্ব করার অনুমতি দিতে পারি না। আমি গান্ধীকে মারি নি ---- বধ করেছি --- বধ। গান্ধীজিকে বধ করা ছাড়া আমার কাছে আর কোন উপায় ছিল না। উনি আমার শত্রু ছিলেন না ---- কিন্তু ওনার সিদ্ধান্ত দেশের বিপদ ডেকে আনছিল। যখন কোন ব্যক্তির কাছে আর কোন রাস্তা থাকে না তখন ঠিক কাজ করার ভুল রাস্তা নিতে হয়। 


মুসলিম লীগ ও পাকিস্তান নির্মাণে গান্ধীজির সমর্থনই আমাকে বিচলিত করেছে। পাকিস্তানকে 55 কোটি টাকা পাইয়ে দেবার জন্য গান্ধীজি অনশনে বসেন। পাকিস্তানে অত্যাচারের জন্য ভারতে চলে আসা হিন্দুদের দুর্দশা আমাকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। গান্ধীজির মুসলিম লীগের কাছে মাথা নত করার জন্য অখন্ড হিন্দু রাষ্ট্র সম্ভব হয়নি। ছেলের মাকে টুকরো করে ভাগ করতে দেখা আমার অসহনীয় ছিল। নিজ দেশেই যেন বিদেশী হয়ে গেলাম। 


মুসলিম লীগের সমস্ত অন্যায় আবদার উনি মেনে চলছিলেন। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম ---- ভারত মাতাকে পুনরায় টুকরো হওয়ার হাথ থেকে ও দুর্দশার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য আমাকে গান্ধীজির বধ করতে হবে। আর সেইজন্যই আমি গান্ধীকে বধ করেছি। 


আমি জানতাম এর জন্য আমার ফাঁসী হবে এবং আমি এর জন্য প্রস্তুত। আর এখানে যদি মাতৃভূমির রক্ষা করা অপরাধ হয় ----- তাহলে এরকম অপরাধ আমি বার বার করব ---- প্রত্যেক বার করব। আর যতক্ষণ না সিন্ধু নদী অখন্ড ভারতের মধ্যে না বাহিত হয় ---- আমার অস্থি ভাসিও না। আমার ফাঁসির সময় আমার এক হাতে কেশরীয় পতাকা ও অন্য হাতে অখন্ড ভারতের মানচিত্র যেন থাকে। আমি ফাঁসিতে চড়ার আগে অখন্ড ভারত মাতার জয় বলতে চাই। হে ভারত মাতা আমার খুব দুঃখ যে আমি কেবল এইটুকুই তোর সেবা করতে পেরেছি ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?