একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থায় কি কি সুবিধা থাকা জরুরী?

  

               Universal Life Management (ULM)

প্রস্তাবিত নতুন রাষ্ট্র-ব্যবস্থার প্রস্তাবনা

শিক্ষাকর্মসংস্থান

·   জন্মগ্রহণের পর থেকেই সকলের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত সুখসুবিধা সমানভাবে উপলব্ধ থাকবে, যা সেইসময় নির্মাণ করা সম্ভব হবে। ব্যবস্থা দ্বারা পরিকল্পিত ডিজিটাল পোর্টালের মাধ্যমে অর্ডার করে প্রয়োজনীয় বস্তু-পরিষেবা গ্রহণ করা যাবে। 

·         সকল ছাত্র-ছাত্রীর ইচ্ছে অনুযায়ী বিনামূল্যে শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ এবং গবেষণার ব্যবস্থা থাকবে। শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ সমাপ্তির পর যোগ্যতা এবং পছন্দ অনুযায়ী সকল শিক্ষার্থীর জন্য একটি জীবিকা সুনিশ্চিত থাকবে। ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষা প্রদানের মনোরম পরিবেশ সহ সমস্ত সুখসুবিধার ব্যবস্থা থাকবে। 

·         সমস্তপ্রকার সুবিধা উপভোগের জন্য ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী সুস্থ্য নাগরিককে পছন্দ এবং যোগ্যতা অনুযায়ী একটি জীবিকা নির্বাচন করতে হবে। শিশু, প্রবীণ, অসুস্থ্য এবং প্রতিবন্ধী নাগরিক কোনোপ্রকার কর্ম সম্পাদন ব্যতীত নিজেদের ইচ্ছে অনুযায়ী সমস্ত সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। প্রতিটি পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একজনের কর্মে যোগদান অনিবার্য থাকবে।

·    সকলেই নিজ ইচ্ছে অনুযায়ী জীবিকা পরিবর্তন এবং স্থানান্তরিত হবার স্বাধীনতা থাকবে। মাপদন্ড কেবলমাত্র এটিই থাকবে যে, প্রার্থীকে উক্ত পদের যোগ্য হতে হবে। কেউ যখন নতুন অঞ্চলে স্থানান্তরিত হবে সেখানে বাসস্থানের ব্যবস্থা থাকবে। বাসস্থান থেকে কর্মস্থলের দূরত্ব যথাসম্ভব নিকটবর্তী থাকবে যেন কাউকে যাতায়াতকালে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে না হয়। সড়কে ভিড় ন্যুনতম হবে। 

·    কাজের সময়সীমা ন্যুনতম থাকবে। দিনে আনুমানিক ঘণ্টা এবং সপ্তাহে দিন মাত্র। অধিকাংশ কর্ম সম্পাদন-প্রক্রিয়ার গুণগতমান পূর্ব নির্ধারিত থাকবে এবং সমস্ত সিস্টেম অটোমেটিক হবে। প্রযুক্তির সর্বাধিক প্রয়োগের ফলে নূন্যতম কায়িক শ্রমের পাশাপাশি সুরক্ষা বজায় থাকবে এবং সকলের কাছে অতিরিক্ত অবসর সময় থাকবে। 

অর্থনৈতিক ব্যবস্থাবস্তু-পরিষেবা

  • এই ব্যবস্থায় মুদ্রা কিংবা টাকার প্রয়োজনীয়তা থাকবে না। বস্তু-পরিষেবার মূল্য নির্ধারিত থাকবে না। বস্তু-পরিষেবা গ্রহণের বিনিময়ে ব্যবস্থাকে কিছু প্রদান করতে হবে না। জীবিকা অথবা কর্ম-সম্পাদনার বিনিময়ে কোনো বেতন থাকবে না।  
  • ব্যক্তিগত স্তরে বস্তু-পরিষেবা আদান-প্রদানের প্রয়োজন পড়বে না। অর্থ উপার্জনের জন্য জীবিকা, ব্যক্তিগত ব্যবসা অথবা বস্তু বিনিময়ের প্রয়োজনীয়তা থাকবে না। ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য বাজার থাকবে না। সকলের চাহিদা পূরণের জন্য একটি কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা দ্বারা সমস্ত বস্তু-পরিষেবা উৎপাদন এবং বিতরণ করা হবে।  
  • এই ব্যবস্থায় সকলের নিজস্ব অনলাইন প্রোফাইল থাকবে। যেখানে প্রতিটি নাগরিকের সমস্ত বিবরণ পঞ্জীভূত থাকবে। যেমননাম, ঠিকানা, ছবি, বয়স, উচ্চতা, ওজন, যোগ্যতা, দক্ষতা, পছন্দ-অপছন্দ ইত্যাদি।  
  • সকলে নিজেই অনলাইন প্রোফাইল তৈরি করতে পারবে এবং বস্তু-পরিষেবা গ্রহণের জন্য অর্ডার প্লেস করতে পারবে। নিরক্ষর মানুষদের জন্যও সরল প্রক্রিয়া এবং সহায়তার বন্দোবস্ত থাকবে। সকলের সমস্ত অর্ডার কেন্দ্রীভূত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমেই প্রেরিত এবং গৃহীত হবে।  
  • সমস্তরকম চাহিদাকে বিকেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। অর্থাৎ আপনি ঈপ্সিত বস্তু-পরিষেবা কোনোপ্রকার অর্থ ছাড়াই অর্ডার করতে পারবেন। উৎপাদন এবং বিতরণ ব্যবস্থা সরকার দ্বারা কেন্দ্রীভূত রয়েছে। কেন্দ্রীভূত থাকায় সকল চাহিদা, মানব সম্পদ, প্রাকৃতিক সম্পদ, উৎপাদন-বিতরণের সময়কাল ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ব্যবস্থাপনা সহজ হবে। 
  • নতুন ব্যবস্থায় সম্পদ দখলের লড়াই থাকবে না। ব্যক্তি মালিকানা থাকবে না। আবার এটি সমাজতান্ত্রিক কিংবা একনায়কতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাও নয়। এই ব্যবস্থায় জনগণই সকলের জন্য সমস্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এই প্রস্তাব সাম্যবাদের নির্দিষ্ট রূপান্তরও নয় যা আপনি নতুন সমাজব্যবস্থার পুস্তকসমূহ অধ্যয়ন করলে বুঝতে পারবেন।  
  • সরকারের কাছে সকলের অর্ডার অবিরত পৌঁছাতে থাকবে। অর্ডারের শৃঙ্খলা অনুযায়ী বস্তু নির্মিত হবে এবং বিতরণ বিভাগ প্রেরণের বন্দোবস্ত করবে।  
  • শুরুতে নিরাপত্তার জন্য বস্তু-পরিষেবা গ্রহণের নির্দিষ্ট সীমারেখা থাকবে। দুর্লভ বস্তু-পরিষেবা সামাজিক ভিত্তিতে বণ্টন করা হবে। যেন সকলে সেইসব সুবিধা গ্রহণ করে সুখ উপভোগ করতে পারে। 
  • মানব সম্পদ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ দুটোই ব্যবস্থার অধীন থাকবে। চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদনের জন্য মানব সম্পদ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সংমিশ্রণে সকলের প্রয়োজনীয়তা পূরণ হতে থাকবে। সকলে জানি জগতে প্রাকৃতিক সম্পদের অভাব নেই। সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য শুধুমাত্র একটি সঠিক ব্যবস্থা প্রয়োজন। নতুন ব্যবস্থায় অত্যাধুনিক পরিচালন ব্যবস্থা দ্বারা সকল নাগরিক নিজেদের চাহিদা পূরণের জন্য পছন্দের কর্ম করতে থাকবে।
  • এই ব্যবস্থায় গুণমান এবং দক্ষতা নিশ্চিতরূপে উচ্চমানের হবে। কারণ সকলেই নিজ পছন্দ এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কার্য সম্পাদন করতে থাকবে। পছন্দের কর্ম সম্পাদনের ফলে সকল বস্তু-পরিষেবা উচ্চমানের নির্মিত হবে। এতে নির্মাণকারী যেমন সুখ অনুভব করবে তেমনি ব্যবহারকারীও অনুরূপ সুখ অনুভব করবে।
  • ব্যক্তি নিজ ক্ষমতা অনুযায়ী ব্যবস্থা দ্বারা নির্ধারিত ন্যুনতম লক্ষ্য পূরণের জন্য কর্ম সম্পাদন করবে। ব্যবস্থা কখনোই কাউকে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বাধ্য করবে না। প্রতিদিনের কাজের সময়কাল আনুমানিক ঘণ্টা থেকে ঘণ্টার হবে। ব্যবস্থা শুধুমাত্র দেখবে বস্তু-পরিষেবার গুণগত মান সঠিক রয়েছে কিনা। এই ব্যবস্থায় কেউ কারোর উপর পুলিশি নজরদারি রাখবে না। এমনকি ভয় দেখিয়ে অথবা জোরপূর্বক কর্ম করানোর প্রয়োজনও হবে না।   
  • জনগণের প্রতিক্রিয়া এবং মতামত ক্রমাগত আসতে থাকবে। ব্যবহারকালীন সময় কোনও বস্তু-পরিষেবার গুণগত মান সঠিক না থাকলে তৎক্ষণাৎ জনগণের থেকে চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া চলে আসবে। প্রতিক্রিয়া যদি নেতিবাচক হয় তবে উক্ত পদাধিকারী অথবা বিভাগের উপর প্রশ্নচিহ্ন চলে আসবে। নির্দিষ্ট বিভাগে যুক্ত ব্যক্তিরা পর্যালোচনা করবে কোথায় ত্রুটি রয়েছে এবং সংশোধনের জন্য নির্মাণ বিভাগে প্রেরণ করে দেবে। ফলে যে-কোনো সমস্যাকে জরুরী ভিত্তিতে সমাধান করে নেওয়া হবে যেন ব্যবহারকারী সন্তুষ্ট হয় এবং একই সমস্যা পুনরায় উৎপন্ন না হয়। এইভাবে সমস্তকিছুর গুণমান সুনির্দিষ্ট করা হবে।
  • জনগণের মাঝে আদান-প্রদানের জন্য অর্থের ব্যবহার না থাকায় আর্থিক প্রতারণা এবং অন্যান্য অপরাধের সম্ভাবনা থাকবে না। এটি এমন একটি সরল প্রক্রিয়া যেখানে সততা বজায় রাখার জন্য গোয়েন্দা ব্যবস্থার ব্যবহার ন্যুনতম হবে। ধীরে ধীরে গোয়েন্দা ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়ে যাবে।  
  •  কিছু বস্তু-পরিষেবা এমন থাকবে যা আপনি ব্যক্তিগত অথবা পারিবারিক স্তরে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত করতে পারবেন। ব্যবহারের পর সেই বস্তু-পরিষেবা রিসাইক্লিং বা নবীকরণের জন্য পুনরায় ব্যবস্থার কাছে ফেরত যাবে। কাউকেই বস্তু-পরিষেবার মালিক হবার প্রয়োজন পড়বে না। যিনি যে বস্তু-পরিষেবা যতদিন অবধি ব্যবহার করবেন ততদিন তার অধিকারী হবেন। আপনার যখন যা কিছু প্রয়োজন হবে তা পেতে থাকবেন। ফলে সকলে সর্বদা সন্তুষ্টির অবস্থায় থাকবে।  
  • সকল চাহিদা যেহেতু সর্বদা নির্ধারিত সময়ে পূরণ হতে থাকবে সেইজন্য সম্পদ জমিয়ে রাখার প্রয়োজন পড়বে না। সম্পদ সঞ্চয়ের সম্ভাবনা উদয় হবে হবে না। কোনও নাগরিককে কখনই ভবিষ্যতের নিরাপত্তাহীনতার দুশ্চিন্তা করতে হবে না। যে কোনও প্রয়োজনে ব্যক্তি নিজস্ব প্রোফাইলের মাধ্যমে সরাসরি ব্যবস্থার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে। এই ব্যবস্থায় শতভাগ মানুষের কর্মসংস্থান থাকবার ফলে সমস্ত বিভাগে প্রয়োজনীয় কর্মী সর্বদা উপলব্ধ থাকবে।

সামাজিক সুখসুবিধা-সুরক্ষা

  • সকলের জন্য টাউনশিপ অথবা নগরীয় জীবনযাপনের বন্দোবস্ত থাকবে এবং সমস্ত সুখসুবিধা সামাজিক স্তরে প্রদান করা হবে। যেমনসড়ক, পরিবহণ, সুইমিং পুল, জিম, রেস্তোরাঁ, ক্লাব, রিসোর্ট, সিমেনা হল, সেলুন, বিউটি পার্লার, স্টেডিয়াম, আর্ট গ্যালারী, সাংস্কৃতিক মঞ্চ ইত্যাদি। কাউকে ভিন্নভাবে ওইসকল সুখসুবিধা উপভোগের জন্য ব্যক্তিগতভাবে মালিক হবার প্রয়োজন পড়বে না। এইসকল সুখসুবিধার বন্দোবস্ত-রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা দ্বারাই প্রদান করা হবে। কোনোরূপ দুশ্চিন্তা ছাড়াই সকলে সমস্ত অত্যাধুনিক সুখসুবিধার আনন্দ উপভোগ করতে পারবে।
  • বিদ্যালয়, হাসপাতাল, জিম, সুইমিং পুল, পার্ক, পুস্তকালয়, সংগ্রহালয়, রেস্তোরাঁ, থিয়েটার, বিভিন্ন প্রকার ক্লাব, স্টেডিয়াম ইত্যাদি পরিষেবা উপভোগের জন্য আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন টাউনশিপ তৈরি হবে। সকল বয়সী মানুষ সম্পূর্ণরূপে জীবনের আনন্দ উপভোগ করতে পারবে।  

 

জাতি, ধর্ম, সাংস্কৃতিক সুখসুবিধা-সুরক্ষা

  • সামাজিক-সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সকলে ব্যক্তিগত স্তরে নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস পালনে স্বতন্ত্র থাকবে। একজনের নিয়ম পালন যেন অন্যের অসুবিধা উৎপন্ন না করে। নতুন ব্যবস্থায় ধর্মীয় রীতি-নিয়ম পালন না করবার জন্যও সকলে স্বতন্ত্র থাকবে। কেউ কাউকে বাধ্য করতে পারবে না কিংবা অপরের স্বতন্ত্রতায় আঘাত হানতে পারবে না। সামাজিক স্তরে পালনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিকে তত্ত্ব অথবা জ্ঞানকে প্রথমে নির্দিষ্ট ফোরামে প্রমাণিত করতে হবে। 
  • ধর্মীয় বিশ্বাস পালনে যদি ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠী কোথাও শোরগোল করে, রাস্তা অবরোধ করে, শোভাযাত্রা বের করে অথবা সামাজিক অসুবিধা সৃষ্টি করে তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং দণ্ডনীয় হবে। সকল প্রকার ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে বন্দোবস্ত থাকবে, বসতি অঞ্চল থেকে কিছুটা দূরে; সেখানে সকল ধর্মীয় গোষ্ঠী জমায়েত হয়ে নিজেদের ধর্মীয় কার্যক্রম পালন করতে পারবে। এরপর সমাজে ফিরে এসে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে হবে।  একজনের বিশ্বাস অন্যের উপর আরোপিত করা দণ্ডনীয় হবে। কেউ স্বেচ্ছায় আপনার সাথে যেতে চাইলে যাবে, যেতে না চাইলে যাবে না। যদি আপনি কারোর উপর জোরজুলুম করেন তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং শাস্তিযোগ্য হবে।
  • বর্ণবাদ থাকার দুটি কারণ রয়েছে। একটি হল অসমতা, যেখানে অর্থনৈতিক বৈষম্যই মুখ্য কারণ। বিত্তশালীদের সাথে জীবনযাত্রার মান, শিক্ষা, আদব কায়দা, খাদ্যাভ্যাস, পরিচ্ছন্নতা, ঐশ্বর্যময়তা ইত্যাদি মেলে না। ভিন্ন স্তরের জীবনযাপন করছে তখন তারা একে অপরের সাথে কীভাবে সমান আচরণ করবে কীভাবে সমান সম্বন্ধ বজায় রাখবে? যখন তারা একইরকমভাবে জীবনযাপন করে না তখন দুপক্ষের মধ্যে মিলও থাকে না। সমান জীবনস্তর থাকলে আচরণ সমান হবে। উঁচু-নিচুর মধ্যে কোনো সম্পর্কই ঠিকঠাক কাজ করে না। অপছন্দ এসেই যায়। পরে এইসব বিষয়ই ঐতিহ্যের মধ্যে প্রবেশ করে সামাজিক কাঠামোর রূপ নেয়। কিন্তু অর্থনৈতিক সমতা এসে গেলে এইসব সমস্যা থাকবে না। যখন সকলে সমান শিক্ষার অধিকার এবং সমান সুখসুবিধা-সুরক্ষা পাবে তখন এইসবের কোনো মূল্য অবশিষ্ট থাকবে না। নতুন ব্যবস্থায় কাউকে জিজ্ঞাসা করা হবে না আপনার জাত-ধর্ম-বর্ণ কী। তাই ধীরে ধীরে আপনা থেকেই বিষয়টি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। যে জিনিসের প্রাসঙ্গিকতা থাকে না তা আপনই বিলুপ্ত হয়ে যায়। এভাবেই ধীরে ধীরে এইসব কুপ্রথা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তবে যারা এসব ধরে রাখতে চাইবে, তারা রাখতে পারে। কেননা মানুষ যেভাবে জীবনযাপন করতে চায় সেভাবে করতে পারবে। এরপরও যদি কেউ নিজেকে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, কায়স্থ কিংবা SC/ST/OBC’ ছাপ লাগিয়ে চালিয়ে যেতে চায় অথবা এইসব অপ্রয়োজনীয় শব্দ ব্যবহার করতে পছন্দ করে নিজের জন্য করবে। এছাড়াও নির্দিষ্ট জাতি কিংবা ধর্মীয় সমাজ যদি নির্দিষ্ট অঞ্চলে কিংবা নগরে বসবাস করতে চায় করতে পারবে।
  • অন্ধবিশ্বাস-কুসংস্কারের ক্ষেত্রেও মূলত অর্থনৈতিক সুখসুবিধার অভাব দায়ী। আধুনিক শিক্ষণ-প্রশিক্ষণের বন্দোবস্তও রাষ্ট্র কর্তৃক ব্যবস্থাপনার অঙ্গ। যা চলমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিকল্প অর্থনীতি এবং শিক্ষানীতির সৃজন আবশ্যক। এছাড়া জনমানুষের কাছে অলৌকিক সমাধান কিছু কার্যকরী হলে তাদের সেটি মুক্তমঞ্চে প্রমাণিত করতে হবে। মিথ্যা প্রমাণিত হলে তা সামাজিকভাবে বর্জিত হবে। সকলে উপযুক্ত শিক্ষা-স্বাস্থ্য-সাংস্কৃতিক পরিবেশ পেলে নানা কুপ্রথার প্রাসঙ্গিকতা বিলুপ্ত হবে। অর্থনৈতিক পরিকাঠামো-পরিষেবা মুখ্য সমস্যা। যা রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ব্যতীত সম্ভব নয়।  বহু মানুষ ব্যক্তিগত এবং সংস্থাগত উদ্যোগে অর্থ-সময়-শ্রম ব্যয় করে বিজ্ঞানবাদী-যুক্তিবাদী জনজাগরণের প্রচেষ্টা করে চলেছেন। বিরাট রাষ্ট্রে কোন জাতি গোষ্ঠী কোথায় কী অবস্থায় কী করছে জানা সম্ভব হয় না। সার্বিক স্থায়ী সমাধানের উদ্দেশ্যে সম্মিলিত উদ্যোগে পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রব্যবস্থার নির্মাণ প্রকৃত পদক্ষেপ।
  • সমাজে জাতি, লিঙ্গ এবং ভাষা নিয়ে যা-কিছু ভেদাভেদ রয়েছে তা আপনিই বিলীন হয়ে যাবে। বিভিন্ন ধর্ম, দেশ, সম্প্রদায়, পরিবার এবং গোষ্ঠীর মধ্যে যেসব বিবাদ রয়েছে সেসবও সমাপ্ত হয়ে যাবে। কেননা নতুন ব্যবস্থায় সমস্যার মূল কারণ নির্মূল হয়ে যাবে। 

রাজনৈতিক ব্যবস্থা

  • এই ব্যবস্থায় রাজনৈতিক মডেল এমন রয়েছে যেখানে সমস্ত ক্ষমতা ২৪ ঘণ্টা ৩৬৫ দিন জনগণের হাতে নিহিত থাকবে। নির্দিষ্ট ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীর কাছে নয়। সমস্ত ক্ষমতা সর্বদা জনগণের হাতে নিহিত থাকার কারণে কখনও কেউ স্বেচ্ছাচারী-স্বৈরাচারী হতে পারবে না। সমস্ত ব্যবস্থা জনগণ দ্বারা, জনগণের পছন্দ অনুযায়ী এবং জনগণের জন্য চালিত হতে থাকবে। সঠিক অর্থে এটিই হবেপ্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা
  • সমস্ত পদাধিকারীর নির্বাচন পরীক্ষার মাধ্যমে হবে। নেতা-নেত্রী হবার জন্যও প্রার্থীকে পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। উত্তীর্ণ ব্যক্তিরাই কেবলমাত্র নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করবে।
  • সাংবিধানিক সংশোধন জনগণের সহমত ছাড়া সম্ভব হবে না। এমন কোনো নীতিনিয়ম থাকবে না যা জনহিতকে আঘাত করবে। জনগণের সুখসুবিধা, সুরক্ষা এবং অধিকার সুনিশ্চিত করাই হবে এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য। এখন আমরা মতামত প্রকাশের অধিকার যেমন বছরে একবার পেয়ে থাকি, নতুন ব্যবস্থায় এই অধিকার সর্বদা জনগণের কাছে থাকবে। যদি ১০% নাগরিক কোনো নীতিনিয়ম কিংবা নেতা-নেত্রীর প্রতি অসম্মতি প্রকাশ করে তবে তা বাতিল হয়ে যাবে অথবা উক্ত পদাধিকারী পদচ্যুত হয়ে যাবে। নতুন সমাজব্যবস্থা বিষয়ক পুস্তকে বর্ণিত নতুন রাজনৈতিক মডেল অধ্যয়ন করে আপনি বিষয়টিকে গভীরভাবে বুঝতে পারবেন।

অভিযোগ নিষ্পত্তি

  • কোনো নীতিনিয়মের বিরোধিতার জন্য মানুষকে অনশন, ধর্না, বিক্ষোভ, আন্দোলন, ধর্মঘট ইত্যাদি করতে হবে না। কোনো বিতর্কিত অথবা আপত্তিকর বিষয় সমাধানের জন্যমুক্তমঞ্চসর্বদা উন্মুক্ত থাকবে এবং এই মঞ্চে ব্যক্তিকে তার আপত্তি যুক্তি সহযোগে প্রমাণিত করতে হবে। যদি তিনি তার আপত্তিকেমুক্তমঞ্চেপ্রমাণিত না করতে পারেন তবে সেই আপত্তির কোনো আধার থাকবে না। জনগণের আলোচনার জন্য এই মঞ্চ ২৪ ঘণ্টা উপলব্ধ থাকবে। 
  • অভিযোগের জন্য অনলাইন পদ্ধতি থাকবে। সমস্তপ্রকার অফিসিয়াল কার্যক্রম অনলাইন পদ্ধতিতেই পরিচালিত হবে। কোনো কাজের জন্য কোথাও লাইনে দাঁড়াতে হবে না। কোথাও সুপারিশ চাওয়া-পাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। জনগণ সরাসরি বস্তু-পরিষেবার গুনাগুণ পরীক্ষণ করতে পারবে। নিয়মনীতির সুখসুবিধা যাচাই করতে পারবে। কোনও কর্মী কিংবা কর্মের দক্ষতা-অদক্ষতার মূল্যায়ন করতে পারবে। সন্তুষ্টি রেটিং প্রদান করতে পারবে। বিভাগীয় নেতৃত্বমণ্ডলীর পাশাপাশি নাগরিকবর্গও প্রতিক্রিয়ার রেটিং যে-কোনো সময় অনলাইন পোর্টাল থেকে দেখে নিতে পারবে।
  • সফটওয়্যার সিস্টেম দ্বারা প্রদত্ত রেটিং সর্বদা গণনা হতে থাকবে। নেতা-নেত্রী, কর্মী এবং আধিকারিকবৃন্দের উপরও প্রদত্ত রেটিং-এর হিসেব বিশ্লেষণ হতে থাকবে। এই রেটিং নির্ধারণ করে দেবে উক্ত পদাধিকারী দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত নাকি অনুপযুক্ত। যদি কোনো পদাধিকারীর রেটিং নির্দিষ্ট ক্রমাংকের নীচে নেমে যায় তবে নির্বাচন কমিশন উক্ত পদের জন্য উপযুক্ত নতুন নেতা-নেত্রী নিযুক্ত করবে। এইভাবেনাগরিক সন্তুষ্টি রেটিংনেতৃত্ব মণ্ডলীকে নিয়ন্ত্রণ করবার ক্ষেত্রে একটি সাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রদান করবে।
  • সার্বজনিক স্তরে বিশ্লেষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সমস্ত তথ্য একটি কেন্দ্রীয় পোর্টালে সর্বদা সংরক্ষিত থাকবে। জনগণ R.T.I. (তথ্য গ্রহণের অধিকার) আবেদন প্রেরণ না করেও সমস্ত তথ্য সরাসরি ব্যবস্থার পোর্টাল থেকে গ্রহণ করতে পারবে। ফলে সরকারের সাথে সমস্ত যোগাযোগ সহজ এবং সরল থাকবে। 
  • কাউকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হবে না। সময়-শক্তি বিনষ্ট করতে হবে না। কোনোপ্রকার বিল মেটাতে হবে না। ট্যাক্স, বীমা ইত্যাদি জমা করতে হবে না। ব্যাংকে লেনদেনের ঝক্কি-ঝামেলা থাকবে না। এটি মুদ্রাবিহীন ব্যবস্থা।একথা পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি সুখসুবিধা পেতে নিজের পরিচয়পত্র অথবা দস্তাবেজ কোথাও জমা করতে হবে না। আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত সরল থাকবে। ফলে সকলের পক্ষে তা পালন করাও অত্যন্ত্য সহজ হবে। সমস্ত নিয়মনীতি যুক্তিপূর্ণ হবে এবং সরল হবে। অধিকাংশ প্রক্রিয়া অনলাইন মাধ্যমে সম্পাদনের ফলে সকলেই মানসিকভাবে সন্তোষ অনুভব করবে এবং অধিক সময় জীবনযাপনের আনন্দ উপভোগ করতে পারবে। 

কৃষিপরিবেশ - জলবায়ু

  • জীবনকে আরামদায়ক এবং সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রযুক্তির সর্বাধিক প্রয়োগ হবে। যেমন চাষবাসের জন্য ট্র্যাক্টর, ট্রাক, মেশিনারি কেবিন ইত্যাদি এয়ারকন্ডিশনড হবে। সমস্ত ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর সুবিধা এবং সুরক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব থাকবে। অত্যন্ত কঠিন কর্মগুলিও প্রযুক্তির দ্বারা অতি সহজে সমাধান করা হবে। কোনো কর্মকেই হীন দৃষ্টিতে দেখা হবে না।
  • সমস্ত বস্তু উচ্চ গুণমানসম্পন্ন হবে। প্রাকৃতিক পরিবেশকে স্বাভাবিক রাখার জন্য ব্যবহৃত বস্তুকে রিসাইক্লিং করা হবে। এতে প্রাকৃতিক সম্পদের অপপ্রয়োগ হবে না। দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি দুশ্চিন্তা থাকবে না।
  • এই ব্যবস্থায় পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকবে। মনুষ্য সমাজের জন্য নগরীয় সুখসুবিধার পাশাপাশি পশুপাখি সহ জীবজন্তুর জন্য সুরক্ষিত বনাঞ্চল থাকবে। এই ব্যবস্থায় প্রাকৃতিক পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ ইত্যাদি বিষয় নির্দিষ্ট বিভাগ পূর্বেই গবেষণা এবং প্ল্যানিং করে নেবে। সেসব প্ল্যানিং জনগণের দ্বারা সমিক্ষা এবং অনুমোদনের জন্য পোর্টালে রাখা থাকবে। প্রয়োজনীয় জলাধার নির্মাণ করে জল সঞ্চয় করে কৃষিক্ষেত্র এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাপনা থাকবে। ফলে প্রাকৃতিক সম্পদের বিনষ্ট এবং দূষণ রোধ হবে।
  • এই ব্যবস্থায় দূষণ সৃষ্টিই হবে না। তাই বন্ধ করার প্রশ্নই নেই। নতুন ব্যবস্থায় সমস্ত প্রক্রিয়া এমনভাবে ব্যবস্থিত করা হয়েছেকোনো স্থান, প্রকৃতি, মনুষ্য জীবন অথবা অন্যান্য জীব জন্তুদের যেন হানি না পৌঁছায়। এখানে পরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা শহুরে ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি শহরে থেকে লাখের মধ্যে হবে। কম ঘনত্ব থাকার কারণে দূষণ উৎপন্ন হবে না। সমস্ত বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করার ব্যবস্থা থাকবে। জলের জন্যও কোনো অসুবিধা হবে না। প্রচুর মাত্রায় খাল বিছানো থাকবে, প্রচুর বন থাকবে। গাছপালা অধিক থাকায় বাতাসও শুদ্ধ থাকবে। অনিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘটবে না। পশু-পক্ষীরাও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারবে। এতে জৈবিক বৈচিত্র্য অব্যাহত থাকবে, অর্থাৎ ইকো-সিস্টেম স্থিতিশীল থাকবে। এই সব বিজ্ঞানীদের তত্ত্বাবধানে থাকবে।

আইন প্রণয়ন, প্রশাসন এবং বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা

  • সমাজের জন্য উপযুক্ত কোনো বস্তু, পরিষেবা, জ্ঞান-বিজ্ঞান অথবা অন্য কোনো বিষয়ের নীতিনিয়ম সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার পূর্বে উক্ত বিষয়কে নেতৃত্ব পরিষদ, অনুসন্ধান প্ল্যাটফর্ম এবং সার্বজনিক জনাদেশের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত করে আসতে হবে। যদি কারোর কাছে কোনো সমস্যা দেখা দেয় তবে তিনি যেনমুক্ত মঞ্চব্যবহার করেন। সমস্ত সমস্যার সমাধান অনুসন্ধানের জন্যই এই মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে।  
  • নিজের যুক্তি প্রমাণিত না করে কোনো ব্যক্তি সরকারকে দোষারোপ করে নিজ দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারবে না। প্রতিটি ব্যক্তিকে তথ্য যুক্তি উপস্থাপনের পূর্ণ সুযোগ প্রদান করা হবে। এরজন্য কোনোপ্রকার বিক্ষোভ বা বিরোধ প্রদর্শনের প্রয়োজন পড়বে না। আলোচনা, অনুসন্ধান এবং জনাদেশের মাধ্যমে তা প্রমাণিত করে এক স্বচ্ছ প্রক্রিয়া দ্বারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
  • আইন প্রণয়নের জন্য বিভিন্ন স্তরের পদাধিকারীরা প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন। উক্ত প্রস্তাবমুক্তমঞ্চেভোটদাতাদের কাছে সমীক্ষার জন্য মাস রাখা থাকবে। ন্যুনতম ১০% প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক যদি আপত্তি না তোলে তবে তা স্বাভাবিকভাবেই আইনে রূপান্তরিত হয়ে যাবে। আর যদি ১০% প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক আপত্তি তোলে তবে তা পুনরায় বিবেচনার জন্য মুক্তমঞ্চে চলে যাবে।  
  • ব্যবস্থা দ্বারা জনগণকে প্রয়োজনীয় সমস্ত বস্তু-পরিষেবা বিনামূল্যে প্রদান করার ফলে কোনো অপরাধ সংঘটিত হবে না। কারণ অপরাধ থেকে অতিরিক্ত কিছুই প্রাপ্তি হওয়ার নেই। প্রতারণা, দুর্নীতি, খাদ্য পদার্থে ভেজাল মেশানো, লুণ্ঠন, শোষণ, স্বৈরাচারী, ক্ষমতার লালসা ইত্যাদি সমস্যা উৎপন্নই হবে না।

পারিবারিক ব্যবস্থা

  • পরিবারের সকল সদস্য সরাসরি ব্যবস্থার সাথে যুক্ত থাকবে। যখনই তাদের কোনোকিছুর প্রয়োজন হবে তারা সরাসরি ব্যবস্থার কাছে ডিমান্ড করতে পারবে। কারোর উপর কোনো আর্থিক নির্ভরতা থাকবে না। ফলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকবে। মিথ্যা, গোপন অভিসন্ধি অথবা প্রতারণার প্রয়োজন পড়বে না। যখন কেউ অন্যের উপর নির্ভরশীল থাকবে না তখন পরস্পরের মধ্যে বিশ্বাস অটুট থাকবে। সম্পর্কগুলিও মধুর এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ হবে। এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। প্রত্যেকেই সমস্তরকম সম্পর্কের আনন্দ উপভোগ করতে থাকবে। কোনো সম্পর্কই আর্থিক কারণে সংকটের সম্মুখীন হবে না এবং কেউ মানসিক চাপ অনুভব করবে না।
  • সঠিক ব্যবস্থা থাকলে ভবিষ্যতে কখনও কোনোপ্রকার দুশ্চিন্তা এবং সমস্যা উৎপন্ন হবে না। আগামীকালের জন্য ভোজনের ব্যবস্থা, সংসার পরিচালনার ব্যয়ভার, চিকিৎসার খরচ, জীবিকার বন্দোবস্ত ইত্যাদি অনিশ্চয়তা অনুভব করবে না। এরপরও যদি কোনোপ্রকার সমস্যা উৎপন্ন হয় তবে নির্দিষ্ট বিভাগ দ্বারা দ্রুত সমাধান করে নেওয়া হবে। ফলে সকল নাগরিক সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং শান্তিপূর্ণ জীবন উপভোগ করবে। 
  • নতুন ব্যবস্থায় সকল নাগরিক নিজেদের ইচ্ছে অনুযায়ী নির্ভয়ে আনন্দময় জীবনযাপন করতে পারবে। শিশু, মহিলা, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী এবং তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিরাও নিজেদের সর্বদা সুরক্ষিত এবং স্বাধীন অনুভব করবে। কেউই অন্যের শোষণ, নিয়ন্ত্রণ অথবা বাধ্যবাধকতা অনুভব করবে না।  
  • এই ব্যবস্থায় নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী জীবনযাপনের ফলে সকলে মানসিক এবং শারীরিকভাবে সন্তুষ্ট থাকবে। সকলে সমৃদ্ধশালী জীবন উপভোগের সুযোগসুবিধা পাবে। ফলে অসুস্থ্যতা অত্যন্ত কমে যাবে। মানুষ দীর্ঘায়ু হবে।  
  • নতুন ব্যবস্থায় বিত্তশালী ব্যক্তিরাও দুশ্চিন্তামুক্ত, স্বাধীন, সুরক্ষিত, অধিক বিত্তশালী তথা অধিক সমৃদ্ধশালী অনুভব করবে। জীবনকে ভোগ করবার জন্য পর্যাপ্ত সময় তাদের হাতে থাকবে। তারা পারিবারিক সুখ এবং সম্পর্কজনিত সুখ সম্পূর্ণরূপে উপভোগ করতে পারবে। অপহরণ, প্রতারণা, হত্যা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ইত্যাদির ভয় থাকবে না।  

বৈদেশিক বাণিজ্য, পর্যটন ইত্যাদি

  • নতুন ব্যবস্থায় একটি বিশ্ব সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তার অধীনে সশস্ত্র সেনাবাহিনী থাকবে। যখন একাধিক রাষ্ট্র নতুন ব্যবস্থাকে গ্রহণ করবে তখন সেইসব দেশের মধ্যে সীমান্ত বিবাদ স্বাভাবিকভাবেই সমাপ্ত হয়ে যাবে। এরপর কোনো দেশকে ভিন্নভাবে সেনাবাহিনী রাখার প্রয়োজন পড়বে না। এই ব্যবস্থাকে যখন বিশ্বস্তরে স্বীকার করে নেওয়া হবে তখন কালক্রমে সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তাও সমাপ্ত হয়ে যাবে।  
  • দেশের সকল মানব সম্পদের সঠিক মুল্যায়য়ের ফলে বিপুল পরিমান বস্তু পরিষেবা নির্মাণ সম্ভব হবে। উদ্বৃত্ত পণ্য বহির্বিশ্বে বিক্রয় করে প্রয়োজনীয় বস্তু-প্রযুক্তি ক্রয় করা যাবে।
  • সকল রাষ্ট্রে এই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া অবধি সেই রাষ্ট্রগুলির সাথে একইরকম লেনদেন চলবে যেমনটি বর্তমানে চলছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক মুদ্রা বা Hard currencies ব্যবহার করতে পারবে। অথবা নতুন ব্যবস্থার অর্থনীতিবিদগণ বহিঃপ্রবাহের জন্য নতুন মুদ্রাও উপস্থাপন করতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে যার মূল্য থাকবে। ব্যবসা-বাণিজ্য বর্তমান নীতি অনুযায়ীই পরিচালিত হবে। নতুন ব্যবস্থা এবং বর্তমান ব্যবস্থার মধ্যে প্রয়োজন অনুসারে সমস্ত ব্যবসায়িক লেনদেন চলতে থাকবে।
  • বৈদেশিক পর্যটকের ক্ষেত্রে যখন তারা নতুন ব্যবস্থায় প্রবেশ করবে তখন ডলার অথবা কোনো আন্তর্জাতিক হার্ড কারেন্সি জমা করতে হবে। বদলে একটি ডেবিট কার্ড/ডিজিটাল মুদ্রা পাবেন। নিজেদের মোবাইলে সরকার দ্বারা প্রদত্ত অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করতে পারবেন এবং সমস্তকিছুর আন্তর্জাতিক মূল্য দেখতে পারবে। সরকার প্রদত্ত ডিজিটাল প্রোফাইলেও সকল বস্তু-পরিষেবার আন্তর্জাতিক মূল্য নির্ধারিত থাকবে। সেবা-পরিষেবা, ভোজন, বাসস্থান, ভ্রমণ, কেনাকাটাসহ সমস্তকিছুর মূল্য উক্ত কার্ড/অর্থরাশি থেকে কাটা হবে। নিজ দেশে ফিরে যাবার সময় অবশিষ্ট মুদ্রা ফেরত পাবেন। ভ্রমণকালে অর্থরাশি ফুরিয়ে গেলে নিজ দেশ থেকে মুদ্রা ট্রান্সফার করতে পারবেন। এই ব্যবস্থায় সীমান্ত সমস্যা থাকবে না। পর্যটক কতদিন অবধি থাকতে চাইবেন তা নিয়ে সমস্যা হবে না এবং ভিসার জন্যও কোনোপ্রকার সংগ্রাম করতে হবে না। লাইনে দাঁড়িয়ে সময় কিংবা মোটা অংকের অর্থরাশি ব্যয় করতে হবে না। তারা সরাসরি নতুন ব্যবস্থার দেশে চলে আস্তে পারবেন, কার্ড তৈরি করতে পারবেন, নিজ দেশের একাউন্ট থেকে অর্থ ট্রান্সফার করতে পারবেন এবং যতদিন চাইবেন ততদিন নতুন ব্যবস্থার সুখসুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।

জীবন-দর্শন

  • জীবনের উদ্দেশ্য সুখী হওয়া। সুখ লাভ করাই জীবনের উদ্দেশ্য। মানুষ এমন একটি প্রাণী এবং এমন একটি অস্তিত্ব যে বিভিন্ন উপায়ে সুখী হতে চায়। তার জীবনযাপনেও বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। জগতে মূলত চার প্রকারের মানুষ হয়। শারীরিক স্তরের, মানসিক স্তরের, ভাবনাত্মক স্তরের এবং চেতনাত্মক স্তরের। সকল স্তরের মানুষই জ্ঞান, কর্ম, ভোগ এবং বিশ্রামের মাধ্যমে সুখী হতে চায়। নিত্যদিনের সমস্ত কর্মের পেছনে সুখী হওয়াই মূল অভিপ্রায়। জীবনের উদ্দেশ্যও তাই। আমরা অতীতে ন্যায়পূর্ণ বা অন্যায়পূর্ণভাবে যে সকল কর্ম করেছি বা করতে দেখেছি সেসবের কেন্দ্রে সুখী হওয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য। নতুন ব্যবস্থায় সকলের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হতে চলেছে।
  • সুখের অর্থ হচ্ছে আপনি কিছু আকাঙ্ক্ষা করেছেন এবং সেই আকাঙ্ক্ষা আপনার পূর্ণ হল। আপনার ইচ্ছে যদি উৎপন্ন হতে থাকে এবং তা পূরণ হতে থাকে তবে এই ব্যাপারটিকে সুখ বলা হবে। যদি ইচ্ছে উৎপন্ন হতে থাকে কিন্তু পূরণ হতে না পারে তবে এই ব্যাপারটিকে দুঃখ বলা হবে। এই হচ্ছে সুখ এবং দুঃখ। বিভিন্ন রকমের সুখ রয়েছে। যেমন জ্ঞানের সুখ, কর্মের সুখ, ভোগের সুখ এবং বিশ্রামের সুখ। একইভাবে অনেক প্রকার দুঃখও রয়েছে। সুখকে বিভিন্নভাবে শ্রেণীবিভক্ত করা যেতে পারে। যেমন– ব্যক্তিগত সুখ, পারিবারিক সুখ, সামাজিক সুখ এবং সমষ্টিগত সুখ। আবার ব্যক্তিগত সুখকেও বিভাজন করা যেতে পারে। যেমন– শারীরিক সুখ, মানসিক সুখ, ভাবনাত্মক সুখ এবং চেতনাত্মক সুখ। ব্যক্তিগত সুখের ভিত্তি সত্য। পারিবারিক সুখের ভিত্তি প্রেম। সামাজিক সুখের ভিত্তি ন্যায়। সমষ্টিগত সুখের ভিত্তি পুণ্য। এই চারটি সুখও আবার একে অপরের দ্বারা প্রভাবিত হয়। যদি সমাজব্যবস্থা সঠিক হয় তবে পারিবারিক সুখ ব্যক্তিগত সুখে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। সেজন্য আমাদের শুধুমাত্র সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থা নিয়েই কাজ করা উচিত।
  • নেতিবাচক আকাঙ্ক্ষা, যেমন— অন্যের ক্ষতি সাধনের ইচ্ছে, অন্যকে শোষণ করার ইচ্ছে, শাসন করার ইচ্ছে ইত্যাদি বিষয়গুলি মন্দ ব্যবস্থা থেকে উদ্ভূত হয়। এটি মানুষের প্রাথমিক ভাবাবেশ নয়। মূল প্রেরণা হল আনন্দের ইচ্ছের বস্তু, পরিষেবা, সম্মন্ধ উপভোগ করা। একটি সঠিক ব্যবস্থায় এই প্রকার নেতিবাচক ইচ্ছে উদয় হবার কারণ অবশিষ্ট থাকবে না। একটি সুপরিকল্পিত ব্যবস্থায় একজনের সুখ অন্যজনের হানির দ্বারা উৎপন্ন হবে না বরং একজনের সুখ অন্যজনের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।

***

Universal Life Management (ULM) সংস্থা সকলের উন্নত জীবনযাপনের উদ্দেশ্যে একটি বৈশ্বিক ব্যবস্থার প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছে। বিষয়ে দুটি মুখ্য পুস্তক রয়েছে। "সম্পূর্ণ সমাধাননতুন সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থব্যবস্থা" এবং "সম্পূর্ণ জীবন দর্শন - সুখী জীবনের অজ্ঞাত সূত্র" সম্পূর্ণ সমাধানের অর্থ চলমান বিশ্বে ক্রমাগত উদ্ভূত সমস্ত সমস্যার মূল থেকে স্থায়ী সমাধান। বিশ্বস্তরের এই কনসেপ্ট প্রতিষ্ঠিত হলে বৈশ্বিক পরিবারের সার্থক রূপায়ন সম্ভব হবে এবং প্রতিটি দেশবাসীর জীবন স্থায়ীরূপে সুখময় হয়ে যাবে। এই ব্যবস্থা মোট টি মুখ্য মডেল নিয়ে রচিত হয়েছে।


১) নতুন অর্থনৈতিক মডেল    
২) নতুন রাজনৈতিক মডেল       
৩) নতুন শিক্ষা কর্মসংস্থান মডেল      
৪) নতুন জীবনশৈলী সাংস্কৃতিক মডেল
৫) নতুন পারিবারিক মডেল    
৬) নতুন দর্শনের মডেল

সংযুক্তরূপে এটি একটি নতুন পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থার প্রস্তাবনা। উপরে উল্লেখিত মডেলগুলি স্থাপিত হলে দৃশ্যমান সমস্ত সমস্যা স্থায়ীরূপে নির্মূল হয়ে যাবে এবং সকলের সমৃদ্ধশালী জীবনযাপন সম্ভব হবে। বর্তমান বিশ্বে ক্রমাগত যে সমস্যাগুলি উৎপন্ন হয়ে চলেছেযা পুরাতন অথবা চলমান ব্যবস্থা দ্বারা সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না তার নিবারণে ‘সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থা’ এমন একটি বিকল্প যেখানে প্রত্যেকে নিজেদের ইচ্ছেমত জীবনযাপন করতে পারবে এবং আনন্দের সাথে সম্পূর্ণ জীবন উপভোগ করতে পারবে। প্রত্যেক ব্যক্তি পছন্দের শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবেপছন্দের জীবিকা সম্পাদন করতে পারবে, পছন্দের পণ্য-পরিষেবা উপভোগ করতে পারবে এবং সমস্তপ্রকার সুরক্ষা উপভোগ করতে পারবে। অর্থাৎ নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী সমস্ত সুখসুবিধা সর্বদা সহজেই পেতে থাকবে। এই ব্যবস্থায় সকলে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবে। প্রকৃত গণতন্ত্র সমানাধিকার অনুভব করবে। সবরকম নিরাপত্তাস্বাধীনতা শান্তি বিদ্যমান থাকবে। হিংসা থাকবে নাদূষণ থাকবে নাদুশ্চিন্তা থাকবে না এবং সকলের জন্য সমানভাবে সমস্ত  সুখসুবিধা নিরন্তর উপলব্ধ হতে থাকবে।

 

এই ব্যবস্থায় রাজনৈতিক ক্ষমতা সর্বদা জনসাধারণের হাতে ন্যস্ত থাকবে। ভোটাধিকার কিংবা মতামত প্রেরণের অধিকার ৩৬৫দিন/২৪ঘণ্টা নাগরিকের উপর ন্যস্ত থাকবে। একক ব্যক্তি, সম্মিলিত পদাধিকারী কিংবা নির্দিষ্ট একটি দলের উপর নয়। সমস্ত ক্ষমতা সর্বক্ষণের জন্য জনগণের উপর ন্যস্ত থাকার ফলে কখনই কোনোপ্রকার একনায়কত্ব থাকবে না এবং সম্পূর্ণ ব্যবস্থাটি জনগণ দ্বারাজনগণের পক্ষেজনগণের জন্য চালিত হতে থাকবে। সঠিক অর্থে এটিই হবে প্রকৃত গণতন্ত্র।

 

এই ব্যবস্থায় বিভিন্নপ্রকার সামাজিক সম্পদ নির্মাণের জন্য একটি বিকেন্দ্রীভূত-কেন্দ্রীভূত গণতান্ত্রিক প্রণালী গ্রহণ করা হয়েছে। যেখানে বৈচিত্র্য অভিন্নতা উভয়ই বিদ্যমান রয়েছে এবং শাসনব্যবস্থা একটি বিকেন্দ্রীভূত-কেন্দ্রীকৃত প্রণালী দ্বারা পরিচালিত হবে। এটি এমন একটি প্রণালী যেখানে ক্ষমতা সর্বদা নাগরিকদের হাতে ন্যস্ত থাকার পরও প্রবন্ধন এবং প্রশাসনিক বিভাগের কেন্দ্রীকরণ রয়েছে। এই ব্যবস্থা স্থাপিত হলে বর্তমান সমাজে যে সমস্যাগুলো ক্রমাগত উৎপন্ন হয়ে চলেছে তা স্থায়ীরূপে নির্মূল হয়ে যাবে।

 

ইউনিভার্সাল লাইফ ম্যানেজমেন্ট বা ULM কী?

 

ইউনিভার্সাল লাইফ ম্যানেজমেন্ট (ULM) একটি নিবন্ধিত সামাজিক সংস্থা যা বিশ্বের সকল মানুষের সমস্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্দেশ্যে অবিরাম কর্মরত রয়েছে এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে দেশ-বিদেশের বুদ্ধিমান ব্যক্তিবর্গ মিলিত উদ্যোগে বিশ্বব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বৈচারিক অবদান রেখে চলেছেন। আপনি আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেইসকল বৌদ্ধিক ব্যক্তিবর্গের কাছে আপনার বক্তব্য পৌঁছে দিতে পারেন। আলোচনা-পর্যালোচনা-সমীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। আসুন সম্মিলিত উদ্যোগে সকলের জন্য একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি।

 

মানব সমাজে কোনোপ্রকার ভৌতিক অথবা বৈচারিক পরিবর্তন ঘটাতে কিংবা অভাবগ্রস্ত মানুষকে কাঙ্খিত সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে হাজার হাজার প্রতিষ্ঠানসংস্থা এবং ট্রাস্ট বিশ্বব্যাপী কাজ করছে। যার সাহায্যে মানুষের জীবন একটি বিশেষ অভিমুখে বিকশিত হয়ে চলেছে। লক্ষণীয় বিষয় এই যে ওইসকল ব্যক্তিগত এবং সংস্থাগত উদ্যোগেরও নির্দিষ্ট সীমারেখা রয়েছে। যার দ্বারা স্থায়ী এবং সর্বাঙ্গীণ সমাধান সম্ভব নয়। একইভাবে সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থাকে একটি বিকল্প হিসাবে পূর্ণাঙ্গ সমাধানের উদ্দেশ্যে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ‘ইউনিভার্সাল লাইফ ম্যানেজমেন্ট’ বা ULM নামে সামাজিক সংস্থা গঠন করা হয়েছে।

 

 সকলে সমানরূপে সুখী হবেএই বাক্যটি শুনলে ব্যবস্থাটিকে স্বপ্নের মতো মনে হলেও মানুষ বিষয়টি যতই বুঝতে পারছে ততই নতুন ব্যবস্থার আবশ্যকতা সকলের কাছে স্পষ্ট হচ্ছে এবং বিস্তারের গতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি বিশ্বের জনমত দ্বারা অনুমোদিত দ্রুততম বাস্তবোচিত ব্যবস্থা হতে চলেছে। বহু বুদ্ধিমান সমাজকর্মী সোশ্যাল মিডিয়াবুদ্ধিদীপ্ত লেখনীনিউজ চ্যানেল এবং মঞ্চানুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থার প্রচার করে চলেছেন। জনগণের সমর্থনে এই ব্যবস্থাটি আগামী এক দশকের মধ্যে বাস্তবায়িত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের কাছে এটির পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা রয়েছে যার মাধ্যমে প্রস্তাবনাটি জনগণের কাছে দ্রুত পৌঁছে যাবে যেন নতুন ব্যবস্থা বিষয়ে একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। আসুন সকলে সম্মিলিত উদ্যোগে এই সামাজিক দায়িত্বটি পালন করি– নতুন ব্যবস্থার রূপরেখাটির পর্যালোচনা করি, সমীক্ষা করিপ্রয়োজনে সংশোধন করি এবং একটি পূর্ণাঙ্গ সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে সহযোগিতা করি।

 

নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগসমূহ কী কী?

অধিবেশন:-

·         বৈশ্বিক সমস্যার কারণ অনুসন্ধান ব্যবস্থাকেন্দ্রিক পর্যালোচনা

·         ‘সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থা’ বিষয়ক সচেতনতা

·         সমাজে দিকনির্দেশ প্রদানকারী নেতৃত্ব নির্মাণ

·         জীবনের গভীরতাকে জানতে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্দেশ্যে জীবন-দর্শন অনুধাবন

·         চেতনার বিভিন্ন দিকগুলিকে অনুধাবন করতে আত্মজ্ঞান

·         ব্যবস্থা কীভাবে মানব আচরণে প্রভাব ফেলে তার অনুসন্ধান   

সামাজিক কার্যক্রম

·         থিংক ট্যাঙ্ক মিডিয়া সেন্টার

·         আলোচনার জন্য মুক্তমঞ্চের ফোরাম

·         ‘সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থা’ বিষয়ক অভিযান

প্রথম পদক্ষেপ

·         নতুন ব্যবস্থার জ্ঞান সকলের কাছে পৌঁছানো (‘সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থা’ প্রচার কার্যক্রম)

·         নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সামাজিক আলোচনা (মুক্তমঞ্চ)

·         নেতৃত্ব বিকাশ

দ্বিতীয় পদক্ষেপ

·         ভারতবর্ষে সার্ভে

·         নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি

·         রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা

তৃতীয় পদক্ষেপ

·         বর্তমান সংসদীয় গণতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচনে অংশগ্রহণ

·         নির্বাচনে জয়ী হওয়া 

·         নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা

***

আলোচনা-সমিক্ষা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ULM English, ULM Hindi, ULM Bangla সহ অন্যান্য ভাষার ইউটিউব চ্যানেলগুলিতে অনলাইন মুক্তমঞ্চ রয়েছে। নিয়মিত লাইভ আলোচনা সম্প্রচার হয়ে থাকে। ইতিমধ্যে বহু বিষয়ে আলোচনার ভিডিও উপস্থাপন করা হয়েছে। আপনি যে স্থানে রয়েছেন সেই স্থান থেকেই অনলাইন অনুষ্ঠানে যুক্ত হতে পারবেন। প্রশ্নকর্তা অথবা বক্তা হয়ে আপনার মতামত, বক্তব্য  উপস্থাপন করতে পারবেন। এই মঞ্চ সকলের জন্য উন্মুক্ত। এছাড়া সম্পূর্ণ সমাধান - নতুন সামাজিক রাজনৈতিক অর্থব্যবস্থা এবং সম্পূর্ণ জীবন দর্শনসুখী জীবনের অজ্ঞাত সূত্র পুস্তকে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। দুটি পুস্তক Amazon এবং Flipkart উপলব্ধ রয়েছে। PDF কপি বিনামূল্যে উপলব্ধ রয়েছে। ULM Bangla ইউটিউব চ্যানেলের মুক্তমঞ্চে বক্তা হিসেবে কিংবা প্রশ্নকর্তা হিসেবে উন্মুক্ত আলোচনার জন্য সকলে আমন্ত্রিত।

এই বৃহৎ সামাজিক উদ্যোগে সকলের কাছে আর্থিক সহযোগিতা কামনা করি। সাধ্যানুযায়ী PhonePe, Google pay ইত্যাদি ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থরাশি প্রেরণ করতে পারেন। সংগঠক,  প্রচারক, স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সকলে স্বাগত।

যোগাযোগঃ 9830925502 | ইউটিউব চ্যানেলঃ ULM Bangla | ফেসবুকঃ ULM Bangla

***

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?