গবেষণার তথ্য ক্রমবর্ধমানভাবে এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করছে যে অপরাধের কারণগুলি "সামাজিক পরিস্থিতির দ্বারা" পরিচালিত জৈবিক বৈশিষ্ট্যগুলির সংমিশ্রণে নিহিত, যা অপরাধমূলক আচরণে পরিণত হয়। একইভাবে অপরাধীর মাতাপিতা কিংবা পূর্বপুরুষও "সামাজিক পরিস্থিতি" দ্বারাই পরিচালিত হয়েছেন। মানব বিবর্তন অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক-সামাজিক-ভৌগোলিক অবস্থা দ্বারা বেষ্টিত, চালিত। মূলত বাহ্যিক অবস্থার-ব্যবস্থার প্রতিফলনই মস্তিষ্ক-মননে প্রভাব ফেলে। নেতিবাচক পরিস্থিতি দীর্ঘকাল স্থায়ী হলে মানসিক প্রবৃত্তিও নেতিবাচক রূপ ধারণ করে। মূল কারণ "সামাজিক পরিস্থিতি"। যে অঞ্চলে, যে সমাজে সমৃদ্ধি-সুরক্ষার নিরিখে অবস্থা-ব্যবস্থা যতখানি ইতিবাচক সেখানে নেতিবাচক আচরণের আধিক্য ততখানি নিন্মমুখী। সমৃদ্ধি-সুরক্ষার উদ্দেশ্যে সমাজ-ব্যবস্থার পরিবর্তনই যে প্রাথমিক এবং প্রকৃত পদক্ষেপ নাগরিক সমাজের কাছে এই বিষয়টিই ক্রমাগত আলোচনায় উত্থাপিত হওয়া উচিত, চলমান থাকা উচিত।
কিশোরদের মধ্যে অপরাধ-প্রবণতার প্রধান কারণ কী?
সমাজে বিদ্যমান হতাশা, নৈরাজ্য এবং দারিদ্র্য কিশোরদের মধ্যে অপরাধ সৃষ্টির প্রধান কারণ। শহরের দূষিত পরিবেশে অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, অশিক্ষা, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ইত্যাদি দিকগুলি কিশোরদের চুরি, লুণ্ঠন, পকেটমারের মতো অপরাধমূলক কাজে প্রবৃত্ত করতে বাধ্য করে। যা ধাপে ধাপে বৃহৎ ও জটিল আকার ধারণ করে। সকলের জন্য শিক্ষা-জীবিকা-স্বাস্থ্য-সুরক্ষার ব্যবস্থাপনা তথা উপযুক্ত প্রকৃতি-পরিবেশ সৃষ্টির এবং রক্ষার দায়িত্ব সমাজ ব্যবস্থার।
অন্যান্য প্রাণীদের কাছে ইতিবাচক পরিস্থিতি কিংবা সুরক্ষিত জীবনযাপনের ব্যবস্থাপনার সুযোগ সীমিত। মনুষ্য সমাজ সভ্যতা গড়েছে, সংস্কৃতি গড়েছে, ব্যবস্থা নির্মাণ করেছে। এই ব্যবস্থা যেমনভাবে যতখানি বিকশিত হয়ে চলেছে তেমনভাবে ততখানি নেতিবাচক উপাদান নির্মূল হয়ে চলেছে। যেমন পূর্বে একটি সাধারণ অসুখে জনসংখ্যার বিরাট অংশের মৃত্যু ছিল অবধারিত। বর্তমান সময় এমনতর বহু অসুখের কারণ শনাক্ত করে নিবারণ সম্ভব হয়েছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ইত্যাদি সকল প্রকার পরিবেশ সামাজিক উপাদানের অন্তর্ভুক্ত।
মতামত জানাতে স্বাগত।
যোগাযোগঃ 9830925502
***
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন