সমস্যার মূল কারণ কী?
সমাজ-ব্যবস্থায় অসম্পূর্ণতা রয়েছে, ভ্রান্তি রয়েছে। সমাজ-ব্যবস্থার দায়িত্ব ছিল শিশু, প্রবীণ, যুব, কর্মক্ষম, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী তথা সকলের সমস্ত সুখসুবিধা-সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, প্রকৃতি-পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা। তৎকালীন সময়েই মূল উদ্দেশ্যকে কেন্দ্রে রেখে সংবিধান এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা নির্মিত হবার কথা ছিল। জাতি, ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতির নিরিখে সমাজ-ব্যবস্থাও বাস্তবিক বিবিধের মাঝে মিলন মহান হবার কথা ছিল। যা হয়নি। মূলত অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং রাজনৈতিক অধিকারজনিত অসম্পূর্ণতার কারণেই নাগরিক সমাজের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকে নেতৃত্বের ব্যক্তিগত ব্যর্থতা কিংবা রাজনৈতিক দলীয় সরকাকে ব্যর্থতাকে দায়ী করেন। বাস্তবিক কারণ ভিন্ন। নেতৃত্ব কিংবা রাজনৈতিক দল রাজ্যে-কেন্দ্রে একাধিকবার বদল হয়েছে। মৌলিক সমস্যাদির নির্মূলন সম্ভব হয়নি। কারণ ব্যবস্থা-বিধান একইপ্রকার রয়ে গিয়েছে। সুবিশাল রাষ্ট্রে প্রাকৃতিক সম্পদ এবং মানব সম্পদের অভাব নেই, অভাব একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থার। চলমান ব্যবস্থা নাগরিক সমাজের মধ্যে ব্যবস্থাগত সিদ্ধান্তের যোগসূত্র নির্মাণে ব্যর্থ হয়েছে। ব্যবস্থা সুনিশ্চিত-সুরক্ষিত হলে অপরের উপর অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতার সমস্যা থাকতো না। কাউকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংঘর্ষ-কৌশল অবলম্বন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হতে হতো না। বাস্তবে কেউই অপরের উপর অর্থনৈতিক দিক দিয়ে নির্ভরশীল থাকতে চায় না। সকলেই রুচি এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে সমাজ-ব্যবস্থা পরিচালনায় অংশগ্রহণ করতে চাইছে। স্বাধীনতা পরবর্তী দীর্ঘকালীন সময় অতিবাহিত হবার পরও সিংহভাগ মানুষ প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। সকলের অর্থনৈতিক অধিকার, জীবনযাপনের সুরক্ষা, আত্মনির্ভরশীলতা থাকলে অপরকে শোষণ, নিপীড়ন, অপরাধের কারণ নির্মূল হয়ে যেতো। অনেকে অজ্ঞানতাকে সমস্যার কারণ বলে অভিহিত করে থাকেন। শিক্ষার্থীর রুচি এবং যোগ্যতা প্রয়োজনীয় শিক্ষাদানের বিষয়টিও সমাজ-ব্যবস্থারই অঙ্গ। প্রতিটি কর্মক্ষম নাগরিকের শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ-জীবিকা-সুখসুবিধা-সুরক্ষার উদ্দেশ্যে পূর্ণাঙ্গ সমাজ-ব্যবস্থার নির্মাণ ব্যতীত স্থায়ী সমাধান কল্পনার নামান্তর।
প্রশ্ন, মতামত জানাতে সকলে স্বাগত।
***
Universal Life Management (ULM) সংস্থা সকলের উন্নত জীবনযাপনের উদ্দেশ্যে একটি বৈশ্বিক ব্যবস্থার প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছে। "সম্পূর্ণ সমাধান - নতুন সামাজিক রাজনৈতিক অর্থব্যবস্থা" পুস্তকে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। সম্পূর্ণ সমাধানের অর্থ চলমান বিশ্বে উদ্ভূত সমস্ত সমস্যার মূল থেকে স্থায়ী সমাধান। বিশ্বস্তরের এই কনসেপ্ট প্রতিষ্ঠিত হলে বৈশ্বিক পরিবারের সার্থক রূপায়ন সম্ভব হবে এবং প্রতিটি দেশবাসীর জীবন স্থায়ীরূপে সুখময় হয়ে যাবে। এই ব্যবস্থা মোট ৬’টি মুখ্য মডেল নিয়ে রচিত হয়েছে।
• ➡ নতুন অর্থনৈতিক মডেল
• ➡ নতুন রাজনৈতিক মডেল
• ➡ নতুন শিক্ষা ও কর্মসংস্থান মডেল
• ➡ নতুন জীবনশৈলী ও সাংস্কৃতিক মডেল
• ➡ নতুন পারিবারিক মডেল
• ➡ নতুন দর্শনের মডেল
সংযুক্তরূপে এটি একটি নতুন ও পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থার প্রস্তাবনা। উপরে উল্লেখিত মডেলগুলি স্থাপিত হলে দৃশ্যমান সমস্ত সমস্যা স্থায়ীরূপে নির্মূল হয়ে যাবে এবং সকলের সমৃদ্ধশালী জীবনযাপন সম্ভব হবে। বর্তমান বিশ্বে ক্রমাগত যে সমস্যাগুলি উৎপন্ন হয়ে চলেছে, যা পুরাতন অথবা চলমান ব্যবস্থা দ্বারা সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না তার নিবারণে ‘সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থা’ এমন একটি বিকল্প যেখানে প্রত্যেকে নিজেদের ইচ্ছেমত জীবনযাপন করতে পারবে এবং আনন্দের সাথে সম্পূর্ণ জীবন উপভোগ করতে পারবে। প্রত্যেক ব্যক্তি পছন্দের শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবে, পছন্দের জীবিকা সম্পাদন করতে পারবে, পছন্দের পণ্য-পরিষেবা উপভোগ করতে পারবে এবং সমস্তপ্রকার সুরক্ষা উপভোগ করতে পারবে। নিজের ইচ্ছেমত সমস্ত সুখসুবিধা সহজেই পেতে থাকবে। এই ব্যবস্থায় সকল মানুষ আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবে। সকলে প্রকৃত গণতন্ত্র ও সমানাধিকার অনুভব করবে। সবরকম নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও শান্তি বিদ্যমান থাকবে। হিংসা থাকবে না, দূষণ থাকবে না, দুশ্চিন্তা থাকবে না এবং সকলের জন্য সমানভাবে বিভিন্ন ধরনের সুখসুবিধা নিরন্তর উপলব্ধ হতে থাকবে।
এই ব্যবস্থায় রাজনৈতিক ক্ষমতা সর্বদা জনসাধারণের হাতে ন্যস্ত থাকবে। ভোটাধিকার কিংবা মতামত প্রেরণের অধিকার ৩৬৫দিন/২৪ঘণ্টা নাগরিকের উপর ন্যস্ত থাকবে। কোনও একক অথবা সম্মিলিত পদাধিকারী কিংবা একটি নির্দিষ্ট দলের উপর নয়। সমস্ত ক্ষমতা সর্বক্ষণের জন্য জনগণের উপর ন্যস্ত থাকার ফলে কখনই কোনোপ্রকার একনায়কত্ব থাকবে না এবং সম্পূর্ণ ব্যবস্থাটি জনগণ দ্বারা, জনগণের পক্ষে, জনগণের জন্য চালিত হতে থাকবে। সঠিক অর্থে এটিই হবে প্রকৃত গণতন্ত্র।
এই ব্যবস্থায় বিভিন্নপ্রকার সামাজিক সম্পদ নির্মাণের জন্য একটি বিকেন্দ্রীভূত-কেন্দ্রীভূত প্রণালী গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রণালী সম্পূর্ণরূপে গণতান্ত্রিক। এতে বৈচিত্র্য ও অভিন্নতা উভয়ই বিদ্যমান রয়েছে যেখানে শাসনব্যবস্থা একটি বিকেন্দ্রীভূত-কেন্দ্রীকৃত প্রণালী দ্বারা পরিচালিত হবে। এটি এমন একটি প্রণালী যেখানে ক্ষমতা সর্বদা নাগরিকদের হাতে ন্যস্ত থাকার পরও প্রবন্ধন এবং প্রশাসনের কেন্দ্রীকরণ রয়েছে। এই ব্যবস্থা স্থাপিত হলে বর্তমান সমাজে যে সমস্যাগুলো ক্রমাগত উৎপন্ন হয়ে চলেছে তা স্থায়ীরূপে নির্মূল হয়ে যাবে।
ইউনিভার্সাল লাইফ ম্যানেজমেন্ট বা ULM কী?
ইউনিভার্সাল লাইফ ম্যানেজমেন্ট (ULM) একটি সামাজিক সংস্থা যা বিশ্বের সকল মানুষের সমস্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্দেশ্যে অবিরাম কর্মরত রয়েছে। এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে দেশ-বিদেশের বুদ্ধিমান ব্যক্তিবর্গ মিলিত উদ্যোগে বিশ্বব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বৈচারিক অবদান রেখে চলেছেন। আপনি আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে এই সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হাজার হাজার বুদ্ধিমান মানুষের কাছে আপনার বক্তব্য পৌঁছে দিতে পারেন। আসুন মিলিত উদ্যোগে একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি।
মানব সমাজে কোনোপ্রকার ভৌতিক অথবা বৈচারিক পরিবর্তন ঘটাতে কিংবা অভাবগ্রস্ত মানুষকে কাঙ্খিত সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান, সংস্থা এবং ট্রাস্ট বিশ্বব্যাপী কাজ করছে। যার সাহায্যে মানুষের জীবন একটি বিশেষ অভিমুখে বিকশিত হয়ে চলেছে। লক্ষণীয় বিষয় এই যে ওইসকল ব্যক্তিগত এবং সংস্থাগত উদ্যোগেরও নির্দিষ্ট সীমারেখা রয়েছে। যার দ্বারা স্থায়ী এবং সর্বাঙ্গীণ সমাধান সম্ভব নয়। একইভাবে সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থাকে একটি বিকল্প হিসাবে পূর্ণাঙ্গ সমাধানের উদ্দেশ্যে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ‘ইউনিভার্সাল লাইফ ম্যানেজমেন্ট’ বা ULM নামে সামাজিক সংস্থা গঠন করা হয়েছে।
সকলে সমানরূপে সুখী হবে, এই বাক্যটি শুনলে ব্যবস্থাটিকে স্বপ্নের মতো মনে হলেও মানুষ বিষয়টি যতই বুঝতে পারছে ততই নতুন ব্যবস্থার আবশ্যকতা সকলের কাছে স্পষ্ট হচ্ছে এবং বিস্তারের গতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি বিশ্বের জনমত দ্বারা অনুমোদিত দ্রুততম বাস্তবোচিত ব্যবস্থা হতে চলেছে। বহু বুদ্ধিমান ও সমাজকর্মী সোশ্যাল মিডিয়া, বুদ্ধিদীপ্ত লেখনী, নিউজ চ্যানেল এবং মঞ্চানুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থার প্রচার করে চলেছেন। জনগণের সমর্থনে এই ব্যবস্থাটি আগামী এক দশকের মধ্যে বাস্তবায়িত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের কাছে এটির পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা রয়েছে যার মাধ্যমে প্রস্তাবনাটি জনগণের কাছে দ্রুত পৌঁছে যাবে যেন নতুন ব্যবস্থা বিষয়ে একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। আসুন সকলে সম্মিলিত উদ্যোগে এই সামাজিক দায়িত্বটি পালন করি– নতুন ব্যবস্থার রূপরেখাটির পর্যালোচনা করি, সমীক্ষা করি, প্রয়োজনে সংশোধন করি এবং একটি পূর্ণাঙ্গ সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে সহযোগিতা করি।
***
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন