জীবনের জরুরী প্রয়োজন কী?
জীবনের জন্য জরুরী প্রয়োজন সকলের জন্য শিক্ষা, যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ, সুনিশ্চিত কর্মসংস্থান, জীবনযাত্রার সুখসুবিধা ও সুরক্ষা। প্রতিটি মানুষের জন্য কীভাবে এই মৌলিক ব্যবস্থাপনা সুনিশ্চিত করা যায় এই উদ্দেশ্যে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরী। এটিই রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য। রাষ্ট্র যদি এই মৌলিক দায়িত্ব থেকে সরে যেতে থাকে তবে নাগরিক সমাজ বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে নেবে। সকল নাগরিকের জন্য মৌলিক ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্তে একমত না হবার কোনো কারণ তো চোখে পড়ে না। আপনার মতামত কী?
ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা এবং প্রয়োগ-প্রচেষ্টা পূর্বে হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে যে সকল দেশসমূহ ধর্মীয় বিধানকে রাষ্ট্র পরিচালনার মাপকাঠি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে সেইসব দেশগুলো কেমন পরিস্থিতিতে রয়েছে আপনারা স্বচক্ষে দেখে আসতে পারেন। এমনকি ইসলামের উৎপত্তি যেখানে সেই আরবও ধর্মীয় কঠোরতা থেকে সরে আসছে। তারা ১৪০০ বছরের ধর্মীয় ইতিহাস না বুঝে এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তা তো নয়। ইতিহাস জেনে দেখুন কঠোর ইসলাম এবং কঠোর খ্রিস্টানদের সেইসব রাষ্ট্রে জনতার অধিকার, সুখসুবিধা, সুরক্ষা কেমন ছিল। রাজাদের, সুলতানদের প্রাসাদগুলো দেখুন আর সাধারণের জীবনের সাথে যাচাই করুন। ইতিহাসের বর্বর সময়কালকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার অর্থ কী? আমি তো বলবো ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ সহ অন্যান্য দেশগুলো ধর্মীয় প্রতিহিংসার বৈরিতাকে স্তব্ধ করে উন্নয়নের উদ্দেশ্যে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করুক। ধর্মবিশ্বাস ব্যক্তিগত আস্থা হিসেবে রাখুন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনুশীলন করুন। ধর্মীয় সমাজ নির্দিষ্ট পরিসরে মিলিত উদ্যোগে ধর্মীয় উৎসব পালন করুন, আনন্দ উপভোগ করুন। ধর্মকে রাষ্ট্র-ব্যবস্থার সাথে, রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সাথে সংযুক্ত করলে মধ্যযুগের সাথে আধুনিক যুগের পার্থক্য থাকবে না।
দাসপ্রথা, লড়াই, হত্যা, অবিচারের আস্তাকুঁড় চান নাকি সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি-স্বাধীনতা-সুরক্ষার উন্নত আধুনিক রাষ্ট্র চান?
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন