আহার, নিদ্রা, মৈথুনের বাস্তবিকতা, সমস্যা, সমাধান কী?


আহার, নিদ্রা, মৈথুন স্বাভাবিক-প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। প্রাকৃতিক নিয়মের গতিকে অবরুদ্ধ করবার অর্থ স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধা প্রদান করা। বিপরীত প্রচেষ্টা বিকৃত প্রতিক্রিয়া উৎপন্ন করবে এটিই স্বাভাবিক। বাস্তবে হয়েছেও তাই। বিপরীত প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেছি কারণ স্বাভাবিক-প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াকে কোনোভাবেই রুদ্ধ কিংবা বিনষ্ট করা সম্ভব নয়। চলুন আহার, নিদ্রা, মৈথুন এই তিন বিষয়ের স্বাভাবিক ও বিপরীত উভয় প্রক্রিয়াকে বোঝার চেষ্টা করি। আহারের ক্ষেত্রে আমরা জানি শরীরে সুষম পুষ্টির অভাব পরিলক্ষিত হলে নানা রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। দীর্ঘকাল অপুষ্টি চলমান থাকলে রোগ জটিল আকার ধারণ করে। মৃত্যুও ঘটে যায়। সকলে সাধ্যমত আহার গ্রহনের প্রচেষ্টা করে থাকে। সুষম আহার নিত্যদিন-নিরন্তর গ্রহণ করলে কেউ কাউকে বাধা প্রদান করে না। বরং পরিবার-পরিজন স্বস্তি পায়। রচনাটি যেহেতু শুরু করেছি স্বাভাবিক-প্রাকৃতিক নিয়মকে কেন্দ্র করে সেক্ষেত্রে এটিও উল্লেখ করা আবশ্যক যে, মানুষ আহারের প্রাচুর্য সুযোগ পেলে সর্বক্ষণ অনিয়ন্ত্রিত-অপুষ্টিজনিত আহার গ্রহণ করবে তা সঠিক উপলব্ধি নয়। যদি পছন্দ অনুযায়ী সুস্বাদু ও সুষম আহারের আয়োজন নিত্যদিন পাওয়া যায় এবং ভবিষ্যতের জন্যও সুরক্ষিত থাকে তবে কেউ আহার নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অতিরিক্ত ভুরিভোজ করবে না। প্রথম দিকে দিনকয়েক এমনটি করতে পারে। অনুষ্ঠানে গিয়ে অনেকে অতিরিক্ত আহার গ্রহণ করে ফেলে কারণ নিত্যদিন সেইসব আহার আস্বাদনের সুযোগ তাদের কাছে থাকে না। যাদের সুযোগ আছে তারা কখনওই খাবারের উপর হামলে পড়ে না কিংবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্রহণ করে না। তাহলে আহারের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তই উঠে এল যে, পছন্দ অনুযায়ী সুষম-সুস্বাদু আহারের সুরক্ষিত বন্দোবস্ত থাকলে কেউ অস্বাস্থ্যকর-আনিয়ন্ত্রিত আহার গ্রহণ করবে না। জেনেবুঝে স্বাস্থ্যের হানি করবে না। নিদ্রার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। পর্যাপ্ত ঘুমের ঘাটতি হলে নানা শারীরিক-মানসিক অসুখ বাসা বাধে। পর্যাপ্ত ঘুমের সুযোগ থাকলে কেউ স্বল্প পরিমাণ বিশ্রাম করে শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা তৈরি করবে না। ঘুমন্ত ব্যক্তিকে কেউ বাধাও প্রদান করে না। অসুস্থ্যতা না থাকলে নির্দিষ্ট সময়কালীন বিশ্রামের পর আর শুয়ে থাকা যায় না। অর্থাৎ আহার এবং নিদ্রার ক্ষেত্রে সমাজ পজিটিভ। যখন ক্ষুধা অনুভূত হবে তখন ভোজন গ্রহণ করলে এবং যখন ক্লান্তি অনুভূত হবে তখন বিশ্রাম গ্রহণ করলে পরিবার-পরিজন সহ সমাজে কারোর কোনও অভিযোগ থাকে না। সমস্যা দেখা দিয়েছে শুধুমাত্র মৈথুনের ক্ষেত্রে। 

সম্ভোগের বিষয় উঠলেই সমাজ অতিরিক্ত সজাগ হয়ে ওঠে। সম্ভোগক্রিয়ায় অংশগ্রহণ তো দূরের বিষয় আলোচনাই যেন অপরাধ। যদি আলোচনা করতেও হয় তাহলে নানা কৌশলে নানা শব্দাবলী ব্যবহুত হয়। অপরাধ,  নিয়ন্ত্রণ, শাসন, সংযম, দমন, কামবাসনার ঊর্ধ্বে ওঠা, আত্মঅবলোকন, ব্রহ্মচর্য ইত্যাদি। যিনি উপদেশ দিচ্ছেন তিনিও জানেন অভ্যন্তরীণ চাহিদার সাথে বাহ্যিক বাক্য বিনিময়ের মধ্যে গরমিল রয়েছে। এই বৈপরিত্যের কারণে অধিকাংশ মানুষের মনে অপরাধবোধ তৈরি হতে থাকে, শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়, উদ্বেগ বৃদ্ধি পায়, নানা রোগের উৎপত্তি সহ আত্মহত্যার মত ঘটনাও ঘটে যায়। লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থীর জন্য নির্দিষ্ট বয়সকালে যৌনশিক্ষার অভাব বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় ত্রুটি। পাশাপাশি সামাজিক-সাংস্কৃতিক-ধর্মীয় অজ্ঞানতা দিগুন দ্বিধাদ্বন্দ্বের আচ্ছাদন তৈরি করে রেখেছে। 

  

সম্ভোগ কি প্রয়োজন নাকি সমস্যা?
সম্ভোগ বা যৌনমিলন হল মানুষের একটি স্বাভাবিক শারীরিক এবং মানসিক চাহিদা। এর মাধ্যমে মানুষ শারীরিক ও মানসিক স্বস্তি লাভ করে এবং সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে পারে। কিন্তু, কোনো কারণে যদি এই সম্পর্ক হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়, তবে এর ফলে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে।
শারীরিক সমস্যা:

  • হৃদরোগের ঝুঁকি:
    যৌনমিলন না করার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে, কারণ যৌনমিলন হৃদযন্ত্রের জন্য একটি ভালো ব্যায়াম হিসেবে কাজ করে।
  • স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা:
    কিছু গবেষণা দেখিয়েছে যে যৌনমিলন না করার ফলে স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
  • শারীরিক দুর্বলতা:
    যৌনমিলন না করার ফলে শরীরে দুর্বলতা এবং ক্লান্তি অনুভব হতে পারে।
  • হরমোনের ভারসাম্যহীনতা:
    যৌনমিলন না করার ফলে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে।

মানসিক সমস্যা:
  • মন খারাপ ও বিষন্নতা:
    যৌনমিলন না করার ফলে মন খারাপ, বিষন্নতা, এবং উদ্বেগের মতো মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • রাগ ও বিরক্তি:
    যৌনমিলন না করার ফলে রাগ ও বিরক্তি অনুভব হতে পারে।
  • অতিরিক্ত চিন্তা:
    যৌনমিলন না করার ফলে অতিরিক্ত চিন্তা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হতে পারে।
  • শারীরিক ও মানসিক সম্পর্কের অবনতি:
    যৌনমিলন না করার ফলে শারীরিক ও মানসিক সম্পর্কের অবনতি হতে পারে।

অন্যান্য সমস্যা:
  • যৌন আকাঙ্ক্ষার অভাব:
    যৌনমিলন না করার ফলে যৌন আকাঙ্ক্ষার অভাব দেখা দিতে পারে।
  • শারীরিক স্বাস্থ্যের অবনতি:
    যৌনমিলন না করার ফলে সামগ্রিকভাবে শারীরিক স্বাস্থ্যের অবনতি হতে পারে।
  • শারীরিক ও মানসিক সম্পর্ক নষ্ট:
    যদি কোনো কারণে হঠাৎ করে যৌনমিলন বন্ধ হয়ে যায়, তবে এর ফলে শারীরিক ও মানসিক সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে।

সমাধান:
  • আলোচনা:
    সঙ্গীর সাথে খোলাখুলিভাবে আলোচনা করে সমস্যাগুলি সমাধান করা যেতে পারে।
  • চিকিৎসা:
    যদি কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যা থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
  • নতুন পদ্ধতি:
    নতুন যৌনমিলনের পদ্ধতি বা কৌশল চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে।
যৌনমিলন মানুষের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদি কোনো কারণে এর অভাব দেখা যায়, তবে শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই, এই সমস্যাগুলি সমাধানে চেষ্টা করা উচিত।

যৌনমিলনকে সামাজিক সমস্যা মনে করার প্রধান কারণগুলি কী কী?
সম্ভোগকে সমাজ কেন কলঙ্ক মনে করে, এর কারণ হল বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট। কিছু সমাজে সম্ভোগকে কেবল প্রজনন এবং বংশবৃদ্ধি হিসেবে দেখা হয়, যা নিয়ন্ত্রিত এবং সীমিত করতে গিয়ে সমাজে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। এছাড়াও, বিভিন্ন ধর্মীয় অনুশাসনের কারণেও সম্ভোগকে কলঙ্ক মনে করা হয়।

ধর্মীয় ও নৈতিক অনুশাসন:
  • কিছু ধর্ম ও নৈতিক বিশ্বাসে যৌনমিলন শুধুমাত্র বিবাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার উপর জোর দেওয়া হয়। এইপ্রকার অনুশাসন সম্ভোগকে শুধু প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির জন্য সীমাবদ্ধ রাখতে বলে। এই অনুশাসনগুলি সম্ভোগকে একটি "অশুভ" বা "অনৈতিক" কাজ হিসেবে বিবেচনা করে।

  • সামাজিক-সাংস্কৃতিক নিয়ম:
    ধর্মীয় অনুশাসনের মত কিছু সমাজে যৌনমিলনকে শুধুমাত্র বিবাহ পরবর্তী প্রজননের সাথে সম্পর্কিত হিসেবে দেখা হয়। কিছু সমাজে সম্ভোগকে শুধুমাত্র বিবাহিত দম্পতির জন্য বৈধ বলে মনে করা হয়। বিবাহ বহির্ভূত সম্ভোগকে সমাজের চোখে কলঙ্ক হিসেবে দেখা হয়। 

  • যৌনতা সম্পর্কিত অনৈতিকতাঃ 
  • সমাজে যৌনতা নিয়ে আলোচনা করা, কথা বলা বা যৌনতার বিষয়গুলিকে জানার আগ্রহকে অনৈতিক, হীনতা বা লজ্জার বিষয় হিসেবে ধরা হয়।
সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি:
কিছু সমাজে সম্ভোগকে কেবলমাত্র শারীরিক চাহিদা মেটানোর একটি উপায় হিসেবে দেখা হয়, স্বাভাবিক শারীরিক মানসিক আবেগের আনন্দের বিষয় হিসেবে মান্য করা হয় না। যা সমাজে হীনকর্ম হিসেবে অনুভূত হয় এবং নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে। 
  • যৌনতা সম্পর্কে নারী-পুরুষের ভুল ধারণা:
    নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যে যৌনতা সম্পর্কে ভুল ধারণা বা জ্ঞান থাকতে পারে, যা তাদের যৌনমিলনকে সমস্যা হিসেবে দেখতে বাধ্য করে।
  • যৌনতা সম্পর্কিত স্বাস্থ্য সমস্যা:
    যৌন রোগের সংক্রমণ, যেমন  এইচআইভি, এএসটি বা অন্য কোনও যৌন সংক্রমণ, যৌনমিলনকে একটি সমস্যা হিসেবে দেখা হতে পারে।

  • অবাঞ্ছিত গর্ভধারণের ভয়ঃ
নারীপুরুষের মুক্ত যৌন মিলনের ক্ষেত্রে সমাজ সবচেয়ে বড় যে সমস্যা অনুভব করেছে তা হচ্ছে অন্তঃসত্ত্বা হবার ভয়। অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ হলে সন্তান পালন একটি বড় সমস্যা। মাতাপিতা অপ্রাপ্তবয়স্ক কিংবা অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত না হলে, এমনকি সমাজ অবিবাহিত নারীপুরুষের মাতাপিতার মান্যতা অস্বীকার করে ইত্যাদি।
 
উপরোক্ত কারণগুলির জন্য সমাজে যৌনমিলনকে সমস্যা হিসেবে দেখা হতে পারে। তবে, বর্তমানে সমাজে যৌনতা সম্পর্কিত আলোচনা বাড়ছে এবং মানুষের ধারণা ও বিশ্বাস পরিবর্তিত হচ্ছে। অন্যান্য শারীরিক-মানসিক চাহিদার মতই দেখা হচ্ছে। অনেকে এটিকে ব্যক্তিগত পছন্দ কিংবা ব্যক্তি স্বাধীনতার বিষয় বলে মান্যতা দিয়েছে। এই প্রেক্ষিত ধরে একথা বলা আবশ্যক যে, প্রাপ্তবয়স্ক নারীপুরুষ কখন কোথায় কার সাথে সম্ভোগ করবে কিংবা করবা না তা সকলের নিজস্ব সিদ্ধান্তই হওয়া উচিত। ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ শুধুমাত্র অনধিকার প্রবেশই নয় অপরাধ।

সমাধানঃ
সুস্থ্য সম্ভোগের ক্ষেত্রে যে সমস্যাটি মূলত বাধা প্রদান করেছে তা নিয়ে সমাজে আলোচনা করা হয় না। সেটি হচ্ছে নারী-পুরুষের আত্মনির্ভরশীলতা বা অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। আলোচনা না হবার কারণ হচ্ছে এই মৌলিক সমস্যাটি ব্যক্তিগত কিংবা সংস্থাগত উদ্যোগে সমাধান করা সম্ভব নয়। প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ এবং সুরক্ষিত জীবিকার বন্দোবস্ত থাকে তবে সকলে তাদের পছন্দের জীবনযাপন উপভোগ করতে সমর্থ হবে। স্বাবলম্বী হলে মানুষ পছন্দের মানুষের সাথে এবং পছন্দের সমাজের সাথে বাস করতে পারবে। এতে কারোরই সমস্যা উৎপন্ন হবে না। অর্থনৈতিক অসুরক্ষা না থাকলে গোপনীয়তা বা ঠকে যাওয়ার ভয় উৎপন্ন হবে না। বাস্তবে ধনীদের সকল আনন্দ উপভোগ করতে দেখা যায়। কেউ কি তাদের বাধা দিচ্ছে বা দিতে পারছে? তারা ভাল শিক্ষা পাচ্ছে, জীবিকা পাচ্ছে, সুরক্ষিত জীবনযাপনের সমস্ত সুখসুবিধা পাচ্ছে। ধনীদের ক্ষেত্রে একাধিক নারী-পুরুষের সম্বন্ধ নিয়েও সমাজের কোনও মাথাব্যাথা নেই। যত নীতিনিয়ম দরিদ্রের বেলায় প্রযোজ্য। দরিদ্রের জন্য আহার-নিদ্রা-মৈথুন তিন ক্ষেত্রেই রয়েছে দুর্ভোগ। সমাজ সম্মিলিত হলে, সিদ্ধান্তে উপনীত হলে ধাপে ধাপে শিক্ষা, জীবিকা, সুখসুবিধা, সুরক্ষার ব্যবস্থাপনা দ্রুত সম্ভব। 
পুনরায় উল্লেখ করা আবশ্যক যে, প্রতিটি পরিবারের প্রতিটি শিশুর জন্য আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার নির্মাণ করা। রাষ্ট্রের সকল শিক্ষার্থীর জন্য এক শিক্ষাব্যবস্থা থাকা এবং সমস্তপ্রকার শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ বিনামূল্যে উপলব্ধ করানো। সঠিক সময়ে সঠিক শিক্ষাই যদি না পাওয়া যায় তবে সিদ্ধান্তবোধ জন্মাবে কিভাবে। দেখা যায় দরিদ্র মাতাপিতার পক্ষে সন্তাদের খেয়াল ঠিকমত রাখা সম্ভব হয় না। তাদের জন্য ছাত্রাবাসের ব্যবস্থাপনা থাকা। পাশাপাশি ব্যায়াম, ক্রীড়া ইত্যাদিতে অংশগ্রহণ, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল থাকা, নির্দিষ্ট বয়সকালে শারীরিক-মানসিক পরিবর্তনের বিষয়গুলি সতর্ক করা তথা যৌনশিক্ষা, যৌনতার ইতিবাচক নেতিবাচক সমস্ত শাখাপ্রশাখা বিষয়ে অবগত করানোর মত বিষয়গুলি শিক্ষা ব্যবস্থার অঙ্গ হওয়া উচিত। 
জনমত জনশক্তি তৈরি হলে সরকার ভাবতে বাধ্য হবে এবং ব্যবস্থা নির্মাণে উদ্যোগী হবে। সরকার অসম্মতি প্রকাশ করলে নাগরিক সমাজকে বিকল্প গড়ে নিতে হবে।
সরল ভাষায় বর্ণিত। ভাল লাগলে লাইক শেয়ার করতে পারেন। মতামতে সকলে স্বাগত।
***

সম্ভোগ বিষয়ে যেসব সাধারণ তথ্য জানা সকলের জন্য জরুরী

"pregnant" এর বাংলা অর্থ কী? 

পরিভাষা চিকিৎসাবিজ্ঞানে গর্ভধারণসংক্রান্ত পরিভাষা হলো গ্র‍্যাভিড (gravid) বা গর্ভবতী ও প্যারাস (parous)। ইংরেজি গ্র‍্যাভিড শব্দটি এসেছে লাতিন ভাষার gravis (গ্রাভিস) শব্দ থেকে যার অর্থ ভারী। গর্ভবতী মহিলাকে কখনো কখনো গ্র‍্যাভিডা (অন্তঃসত্ত্বা) হিসেবেও অভিহিত করা হয়। 

প্রেগনেন্ট কিভাবে হয়?  

ধারণা যখন ডিম্বাণু শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয়, যা যৌন মিলনের 6-7 দিন পর হতে পারে। নিষিক্ত ডিম্বাণু (জাইগোট) তারপর নিজেকে জরায়ুর আস্তরণে প্রতিস্থাপন করে। এটি যৌন মিলনের প্রায় 10-12 দিন পরে ঘটে। এটি যখন গর্ভাবস্থা শুরু হয়, এবং গর্ভাবস্থা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় হরমোনগুলি নিঃসৃত হয়।   

পেটে বাচ্চা আসার লক্ষণ কি কি? 

প্রাথমিক গর্ভধারণের লক্ষণ (৭-১৪ দিন পর থেকে) ১. মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া ... ২. হালকা রক্তক্ষরণ (ইমপ্লান্টেশন ব্লিডিং) ... ৩. কোমরে বা তলপেটে হালকা ব্যথা ... ৪. বমিভাব ও বমি (Morning Sickness) ... ৫. শরীর দুর্বল ও ক্লান্ত লাগা ... ৬. স্তনে ব্যথা ও পরিবর্তন ... ৭. ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া ... ৮. খাবারের প্রতি আকর্ষণ বা বিতৃষ্ণা   

প্রেগন্যান্ট হওয়ার কত দিন পর বমি হয়? 

বমি বমি ভাব এবং বমি সাধারণত গর্ভাবস্থার 3 থেকে 8 সপ্তাহের মধ্যে শুরু হয় এবং প্রথম ত্রৈমাসিকের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। যাইহোক, লক্ষণগুলি গর্ভাবস্থার 20 তম সপ্তাহ পর্যন্ত বা, বিরল ক্ষেত্রে, প্রসব পর্যন্ত চলতে পারে। সকালের অসুস্থতা সাধারণত আপনার বা আপনার শিশুর জন্য ঝুঁকি তৈরি করে না।   

প্রথমবার গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণগুলো কী কী? 

লক্ষণগুলো নিম্নরূপ: স্তন নরম হয়ে যাওয়া মেজাজে চরম পরিবর্তন হওয়া বমি-বমি ভাব বা বমি (প্রভাতকালীন অসুস্থতা) ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস পাওয়া চরম ক্লান্তি বোধ হওয়া মাথাব্যথা করা বুকজ্বালা করা   

গর্ভবতী পরীক্ষা করার নিয়ম কী? 

দুটি প্রাথমিক পদ্ধতি হল গর্ভাবস্থা পরীক্ষার কিট ব্যবহার করে রক্ত ​​বা প্রস্রাবে গর্ভাবস্থার হরমোন ( হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন (এইচসিজি)) পরীক্ষা করা এবং আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে স্ক্যান করা। hCG এর জন্য রক্ত ​​পরীক্ষা করলে গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে সনাক্ত করা যায়।  

কত দিন মাসিক না হলে গর্ভবতী হয়? 

সাধারণত, ঋতুস্রাবের প্রথম দিন থেকে গুনলে ১১ থেকে ১৪-তম দিনের মধ্যেকার সময়কেই গর্ভবতী হওয়ার আদর্শ সময় বলে মনে করা হয়। মাসিক চক্র খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ তা একজন মহিলার গর্ভবতী হওয়ার বয়স নির্ধারণ করে। সাধারণ মাসিক চক্রে জরায়ুর অন্তর্বর্তী লাইনিং ভ্রূণকে ধারন করার জন্য মোটা হতে থাকে।   

মেয়েদের ডিম্বাণু কখন হয়? 

আপনার মাসিক চক্রের 6-14 দিনের মধ্যে, আপনার ডিম্বাশয়ের ফলিকলগুলি পরিপক্ক হতে শুরু করে। এটি ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন ফলিকুলার পর্যায়ে নিঃসৃত হওয়ার ফলে। 10-14 দিনের মধ্যে, একটি ফলিকল একটি পরিপক্ক ডিম গঠন করে। 14 তম দিনে, লুটিনাইজিং হরমোন বৃদ্ধির ফলে আপনার ডিম্বাশয় ডিম্বাণু নিঃসরণ করে।   

কোন দিন গর্ভধারণ সম্ভব নয়? 

৮-১৯ দিনগুলিতে, আপনাকে উর্বরতাপ্রাপ্ত বলে মনে করা হবে। গর্ভাবস্থা এড়াতে অরক্ষিত যৌন মিলন এড়িয়ে চলুন অথবা যৌন মিলন থেকে বিরত থাকুন। অথবা, যদি আপনি গর্ভবতী হওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে এই দিনগুলিতে অরক্ষিত যৌন মিলন করা উচিত। আপনার চক্রের শেষ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত, আপনি আর উর্বর থাকবেন না এবং অরক্ষিত যৌন মিলন করতে পারবেন।  

পিরিয়ডের কখন পর গর্ভবতী হয়? 

ডিম্বস্ফোটন কখন হয় তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা কঠিন, তবে বেশিরভাগ মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি পরবর্তী মাসিকের প্রায় ১০ থেকে ১৬ দিন আগে ঘটে। যেসব মহিলাদের নিয়মিত, ২৮ দিনের চক্র থাকে তাদের মাসিক চক্রের ১৪ তম দিনে গর্ভধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে যাদের চক্র ছোট বা দীর্ঘ হয় তাদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না।   

প্রেগন্যান্ট হওয়ার কত দিন পর বমি হয়? 

বমি বমি ভাব এবং বমি সাধারণত গর্ভাবস্থার 3 থেকে 8 সপ্তাহের মধ্যে শুরু হয় এবং প্রথম ত্রৈমাসিকের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। যাইহোক, লক্ষণগুলি গর্ভাবস্থার 20 তম সপ্তাহ পর্যন্ত বা, বিরল ক্ষেত্রে, প্রসব পর্যন্ত চলতে পারে। সকালের অসুস্থতা সাধারণত আপনার বা আপনার শিশুর জন্য ঝুঁকি তৈরি করে না। 

প্রেগনেন্ট হলে কত দিনের মধ্যে বোঝা যায়? 

গর্ভাবস্থার পরে সাধারণত, কিছু সপ্তাহ পরে, জানা যায় যে মহিলার জন্ম হয়। ... গর্ভাবস্থার প্রমাণের জন্য গর্ভাবস্থা পরীক্ষা করা যেতে পারে তবে 10-14 দিনের পরে সক্রিয় হতে পারে। ... চিকিত্সক জন্মস্থান প্রমাণ করার জন্য বিভিন্ন বিকল্প ব্যবহার করতে পারেন।  

গর্ভবতী হওয়ার কতদিন পর জানা যায়? 

মাসিক বন্ধ হওয়ার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গর্ভাবস্থা পরীক্ষা করানো ভালো। গর্ভধারণের ১০ দিন পরেই একটি গর্ভাবস্থা পরীক্ষা ইতিবাচক ফলাফল দিতে পারে। তবে, সাধারণত প্রস্রাবে পর্যাপ্ত hCG থাকার জন্য প্রায় ৩ সপ্তাহ সময় লাগে যাতে ইতিবাচক গর্ভাবস্থা পরীক্ষা তৈরি হয়। 

***


যে কোন জেল খাটা আসামি বা যারা আগামী দিনে custody তে চলে যেতে পারে তারা একবাক্যে স্বীকার করে: জীবন হলেই চলবে না ধারন উপযুক্ত জীবন চাই। So, how do you ascribe the brother concept of livable life? A few basic pre requisite are there,for not ideal life but livable life. I will discuss later. Keep touch with me. -Sanat Kumar Ghosh 

আমরা যে ব্যবস্থার প্রস্তাবনা রেখেছি সেটি আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন নগরীয় ব্যবস্থা। আধুনিক শিক্ষা, জীবিকা, ফ্ল্যাট, যাতায়াত, আহার, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, বিনোদন, সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল সবই সকলের জন্য থাকবে। শর্ত এটিই শুধুমাত্র ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী মানুষকে যোগ্যতা অনুযায়ী একটি জীবিকা সম্পাদন করতে হবে। তা উৎপাদনশিল্পে হতে পারে কিংবা পরিষেবা বিভাগে। দৈনিক কাজের সময়সীমা ৪/৫ ঘণ্টা মাত্র। সপ্তাহে ৫ দিন। এই সুযোগ কেউ নেবে না? সকলেই মনপছন্দ লাইফ এনজয় করতে পারবে। বর্তমান ব্যবস্থায় সম্ভব হচ্ছে না বলেই মানুষ প্রতিহংসা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা, অপরাধ করছে। সকল দেশবাসীর জন্য বস্তু-পরিষেবা, সামাজিক সুখসুবিধা তথা অবকাঠামো নির্মাণের জন্য দেশে প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে, ৮০ কোটি কর্মক্ষম মানুষ রয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে। প্রয়োজন সঠিক ব্যবস্থাপনার। দরকার জনমত, জনশক্তি এবং বিষয়টিকে অনুধাবন করে জনসমক্ষে উপস্থাপন করবার মতন লিডারশিপ। ডিটেইলস বইতে রয়েছে।


অপরাধীদের যৌন ক্ষুধা অপরিমেয়। এদের জেলে না রাখলে বিপদ পদে পদে। -Suvam Astu 

দেখুন আমার কাজ সমস্যার সমীক্ষা করে ভবিষ্যতের জন্য সমাধানের পথ তৈরি করা। অপরাধ করে ফেলেছে, সিস্টেম শাস্তি দেবে, কাউন্সেলিং করবে। যদিও এতেও অপরাধ বন্ধ হয়নি, হবেও না। কারণ গোঁড়ায় সমস্যা রয়েছে। কোনও শিশুই অপরাধী হয়ে জন্ম নেয় না। জেনেটিক ডিসঅর্ডার থাকলে তার চিকিৎসা চলবে সেকথা ভিন্ন। আমি সুস্থ্য মানুষের কথা বলছি। পরিবারের, সমাজের, শিক্ষা ব্যবস্থার, রাষ্ট্র ব্যবস্থার অসম্পূর্ণ নেতিবাচক পরিস্থিতি মূল কারণ। এর বদল কি সিস্টেম করতে পারে না। শিশুকাল থেকেই প্রতিটি পরিবারের প্রতিটি শিশুকে কীভাবে গড়ে তোলা জরুরী, প্রাপ্তবয়স্কের জীবন ইত্যাদি বিষয়ে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি। লেখাটি পুনরায় পড়তে পারেন। বিস্তারিত বর্ণনা আমাদের বইতে রয়েছে।


প্রমাণ লোপাট রাজ্যের কাজ।


Suvam Astu ক্রমাগত ঘটে চলেছে কারণ সিস্টেম যেভাবে গড়া হয়েছে সেখানে দেখাই যাচ্ছে রাজ্য রাষ্ট্র উভয়ই হাত ছেঁড়ে দিয়েছে। উপায় খুঁজে পাচ্ছে না। ব্যবস্থায় যোগ্য আমলা, প্রশাসন, বিচারপতি কি নেই? আছে। কিন্তু সমাধান সম্ভব হচ্ছে না। ভ্রষ্ট অর্থনৈতিক এবং রাজনিতিক ব্যবস্থা, এ থেকে উৎপন্ন জটিলতা। সামগ্রিক ব্যবস্থাগত নীতির বদল ব্যতীত সম্ভব নয়। যা দল সরকার না করতে পারলে জনশক্তি দ্বারা সম্ভব। তার আগে মূল কাজ হচ্ছে সমাধানের নীতিগুলি কী হবে তার আলোচনা করা সমীক্ষা করা।

,,, সাধারণ সংজ্ঞা অনুযায়ী ধর্ষণ মানে বলপূর্বক সহবাস,যা মানুষকে সামাজিক প্রানীর তকমা কেড়ে তাকে No mans land এ হাজির করে। যাঁরা criminal psychology নিয়ে পড়াশোনা করে তারা বলেছেন: There's no rapist children but rapist parents.এই সমস্ত পিতামাতা নিজেরা কোন identity গড়ে তুলতে সচেষ্ট ছিলেন না, বরং তাদের অসুস্থ মানসিকতা deeply implanted into the gene of theirs siblings.তাই অনেক দেশে এক বছরের গ্ৰাহস্থ বিদ্যার training certificate ভিন্ন বিবাহ অসম্ভব। আমাদের দেশেও এই সুব্যবস্থা চালু করতে হবে। প্রতিহিংসা নয়, কেবলমাত্র সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের পশু ভাবের উদ্ধায়ন।A quality which is called manhood and we are hankering after it.

Sanat Kumar Ghosh এই নিয়ে তো নানা উপদেশের, সংগঠনের ছড়াছড়ি। যতদিন সিস্টেম দ্বারা নিয়মনীতি না প্রণীত হচ্ছে, না প্রয়োগ হচ্ছে ততদিন সমাধানের উপায়ের পথ প্রারম্ভ করা অসম্ভব। শিক্ষা মাতাপিতা দিতে পারে না। তারা একটা লেভেল অবধিই দিতে পারে। শিক্ষা দেবে শিক্ষক। যিনি শিক্ষা প্রদান বিষয়ে এক্সপার্ট। এখানেই আসে বিদ্যালিয় এবং বিদ্যালয়ের পরিমণ্ডল। দেশে বিদ্যালয়ের যা ঘাটতি রয়েছে তার হিসেব জানলে অবাক হতে হয়। যে সকল বিদ্যালয় রয়েছে সসবের বিরাট অংশ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যে কটি রয়েছে ছাত্র শিক্ষক অনুপাতে গরমিল। সমস্যা ছরিয়েছে বহুদূর। একটি নির্দিষ্ট বয়স এবং যোগ্যতায় না পৌঁছানো পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীর শিক্ষা অনিবার্য করা। এটি দায়িত্বের কাজ যেখানে অর্থ লাগবে, পরিকল্পনা লাগবে, ম্যানেজমেন্ট লাগবে। এই সার্বিক দায়িত্বটি রাজ্য-রাষ্ট্র এড়িয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত কীভাবে করবে তারই প্ল্যানিং নেই। বাকি সব তো পরে আসবে। যা পারে একমাত্র জনশক্তি, জনবল। সর্বাগ্রে চাই ব্যবস্থাগত পরিকল্পনা। যা নিয়ে আমরা কাজ করছি। 


***



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?