পাকিস্তানের বাস্তবতা কী?
"যুদ্ধটা আল্লাহ্র হুকুম অনুযায়ী হচ্ছে, আল্লাহ্র তরফ থেকে হচ্ছে", কোরানে উল্লেখিত ধর্মযুদ্ধের আয়াত শুনিয়ে শুনিয়ে পাকিস্তান সেনাপ্রধান আসিম মুনির তাঁর বাহিনীকে বার্তা দিচ্ছেন। পুনরায় অপর একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পহেলাগাম হামলার পূর্বে সেনাবাহিনীর মিটিং এর একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই বিশ্বের মানুষ দেখে নিয়েছে। এই ভিডিওতে সেনাপ্রধানের বক্তব্যটি শুনলে 'সন্ত্রাসীদের ট্রেনিং' নাকি 'সেনাবাহিনীর ট্রেনিং' আলাদা করা মুশকিল। অনেকে বলবেন তাঁর মসজিদে থাকা উচিত ছিল, সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম পরে কী করছেন? পাকিস্তানের বাস্তবতা আসলে এটিই।
পাক মানে পবিত্র। এই অর্থেই পাকিস্তান হচ্ছে পবিত্র রাষ্ট্র। আল্লাহ্র নির্দেশ মেনেই এই রাষ্ট্র নির্মাণ করা হয়েছে। সে দেশে যত সন্ত্রাসী তৈরি হচ্ছে সবই আল্লাহ্র নির্দেশ অনুযায়ী। ইসলাম তাঁদের সন্ত্রাসী বলে না। তারা মুজাহিদ, ইসলাম প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সংগ্রামকারী যোদ্ধা। অন্য ধর্মের রাষ্ট্রগুলোকে ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিবর্তন করাই ইসলামের অন্যতম উদ্দেশ্য। ১৪০০ বছরের ইতিহাস তাই বলছে। ইসলাম ধর্ম আবির্ভাবের পূর্বেও সেইসব দেশ কোনও না কোনও ধর্ম পালন করে এসেছে। ইসলাম এসে নতুন কী উন্নয়ন করেছে তা পণ্ডিতগণ বলতে পারবেন। মুসলমান মুসলমান ভাই এবং ইসলামিক রাষ্ট্রগুলো বন্ধু রাষ্ট্র নয় একেবারে ভাইয়ের রাষ্ট্র। ফলস্বরূপ দেখা যায় ভারত এবং বাংলাদেশের সাধারণ মুসলমান মানুষ পাকিস্তানের পক্ষে। পাকিস্তানের বিপক্ষে যাওয়ার অর্থ ইসলামের বিপক্ষে যাওয়া।
বাস্তবতা হচ্ছে দুই দেশের জনসাধারণের বিরাট অংশ ভারতের উপর নির্ভরশীল। অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা নাগরিকের সুখসুবিধা-সুরক্ষার জন্য সমস্ত দেশ পরস্পরের পরিপূরক হয়ে অগ্রসর হবে এটিই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে নিয়ম ভিন্ন। ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে হবে যে! এই দুই দেশ নিয়ে ইসলামের উৎপত্তি যে দেশে সেই সৌদী আরব পর্যন্ত নাজেহাল। তারা বেশ কয়েক খেপে এখনও পর্যন্ত পাঁচ হাজার পাকিস্তানি ভিক্ষুক ফেরত পাঠিয়েছে।
আরও পাঠাবে। আল্লাহ্র নির্দেশ অনুযায়ী পাক-সাফ রাষ্ট্র নির্মাণ করা হয়েছে অথচ আল্লাহ্ ভাত-কাপড়ের বন্দোবস্ত করে দিচ্ছেন না। বিশ্বব্যাপী ইসলামী রাষ্ট্রগুলোর অবস্থা দেখুন! বাচ্চার হার যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনই ইসলামিক দেশের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসলামী দেশ নিয়ে আপত্তি ছিল না যদি না ইসলামী সাধারণ মানুষ সুখে-শান্তিতে বাস করতে পারতো। আফ্রিকা-এশিয়ার ইসলামী দেশগুলোর যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা দেখে কোনোভাবেই ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাকে সমর্থন করা যায় না। ইসলামী দেশের নাগরিক নিজেদের মধ্যে হানাহানি করছে। ধর্মের কঠোরতা দরিদ্রতাকে বৃদ্ধি করছে। নারীদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। অর্থনৈতিক দুর্দশা বাদেও রয়েছে হাজারো সমস্যা। ইসলামের ভেতরেও রয়েছে বহু গোষ্ঠী। এক গোষ্ঠী অপর গোষ্ঠীর চক্ষুশূল।
পৃথিবীর সমস্ত দেশ ইসলামী সন্ত্রাসী নিয়ে আলোচনা করছে। ধীরে ধীরে সমস্ত অ ইসলামী দেশ ইসলামিক দেশের নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করবে। যারা রাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকাঠামো নির্মাণ করতে হয়। 5 আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশের যে পরিস্থিতি দেখে অনুমান করতে অসুবিধা হচ্ছে না যে তারাও পাকিস্থানের মতন পবিত্র ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণ করতে চায়। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা দেখে এটিও বুঝে যাবেন যে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণ হলে তা কেমন হবে।
শোনা যায় আসিম মুনির এমন এক সেনাপ্রধান যিনি সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ করেছেন। তাঁর পিতা সহ পরিবারে একাধিক হাফেজ মৌলানা রয়েছেন। তাহলে কোরান কি উদ্দেশ্যে রচিত তা আসিফ মুনিরের বক্তব্যে স্পষ্ট। এবার পণ্ডিত ব্যক্তিরা পর্যালোচনা করে নিক।
***
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন