ULM প্রস্তাবিত নতুন ব্যবস্থাটি কী?
• নতুন অর্থনৈতিক মডেল
• নতুন রাজনৈতিক মডেল
• নতুন শিক্ষা ও কর্মসংস্থান মডেল
• নতুন জীবনশৈলী ও সাংস্কৃতিক মডেল
• নতুন পারিবারিক মডেল
• নতুন দর্শনের মডেল
একটি নতুন সমাজ-ব্যবস্থা কেন জরুরী?
আমাদের জীবনযাপনের সমস্ত কর্মকাণ্ডের পেছনে মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সুখী হতে চাওয়া। আমরা যদি নিজের ও অন্য সকল প্রাণীদের সমস্ত গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করি তাহলে দেখতে পাব জগতের সমস্ত প্রাণী সর্বদা সুখী হতে চাইছে। কেউ শুধুমাত্র নিজেকে সুখী দেখতে চায়, কেউ নিজের সাথে পরিবারকে সুখী দেখতে চায়, কেউ নিজের পরিবারের সাথে সমাজকে সুখী দেখতে চায়। আবার এমন মানুষও আছেন যারা নিজের, পরিবারের এবং সমাজের সাথে সম্পূর্ণ জগতের সকলকে সুখী দেখতে চায়। অর্থাৎ গভীরভাবে ভাবলে আমরা বুঝতে সক্ষম হব শুধুমাত্র সুখের আকাঙ্ক্ষাই হচ্ছে জীবনের এবং সংসারের একমাত্র লক্ষ্য। মানুষ ব্যবহারিক জীবনে মূলত জ্ঞান, কর্ম, ভোগ ও বিশ্রামের মাধ্যমে সুখী হতে চায় তথা স্থায়ীরূপে সমৃদ্ধশালী জীবন উপভোগ করতে চায়। সকলেই শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, সুখসুবিধা এবং সুরক্ষিত জীবনযাপনের সুযোগসুবিধা পেতে চায়। এটিই জীবনের উদ্দেশ্য। সকলে নিজের পছন্দ অনুযায়ী সুখসুবিধা পেতে চাইবে এবং সুখী জীবনযাপন উপভোগ করতে চাইবে এমনটিই স্বাভাবিক নিয়ম। তেমনি প্রতিটি ব্যক্তির পছন্দ-অপছন্দ এবং জীবনযাপনের মধ্যে বৈচিত্র থাকবে এমনটিও স্বাভাবিক। বরং জীবনে বৈচিত্র থাকলে ক্লান্তি-বিরক্তি-একঘেয়েমি-অবসাদ চেপে ধরে না। সকলের পছন্দ অনুযায়ী জীবনযাপনের বন্দোবস্ত না থাকাটাই মূল সমস্যা। এই অপর্যাপ্ত অবস্থার কারণ হচ্ছে এখনও অবধি জীবনের উদ্দেশ্যকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করা হয়নি এবং সিদ্ধান্তকে সুনিশ্চিত করা হয়নি। যার ফলে জীবনের বাস্তবিক চাওয়া-পাওয়া এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে গতানুগতিক সিদ্ধান্তজনিত দ্বন্দ্ব পরম্পরাগতভাবে চলে এসেছে। এই দ্বান্দ্বিকতার কারণে সমাজে বহু সমস্যা উৎপন্ন হয়ে চলেছে। জীবন স্বাভাবিকভাবে যেমন চাইছে তেমনভাবে ইচ্ছেগুলি অবিরত পূরণ না হবার ফলে মানুষ নেতিবাচক কার্যকলাপে লিপ্ত হতে বাধ্য হয়েছে। সেজন্য প্রাথমিক পদক্ষেপ হচ্ছে সকলের জন্য জীবনযাপনের আবশ্যিক দিকগুলিকে সুনিশ্চিত করা।
মোটামুটি সকলেই মনে করেন ‘মানুষের ইচ্ছে অনন্ত এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত’। অর্থাৎ সকলের জন্য সমৃদ্ধশালী জীবনযাপনের বন্দোবস্ত করা সম্ভব নয়। বহুকাল পূর্ব হতে এই মতবাদ চলে আসছে। আসুন প্রথমে এই দুটি বিষয়ের পর্যালোচনা করি। হয়তো এখনও অবধি এই বিষয়টি নিয়ে যেভাবে চিন্তন-মননের প্রয়োজন সেভাবে বিচার-বিবেচনা করা হয়নি। চলুন দেখে নিই এই সিদ্ধান্তে আমরা কীভাবে উপনীত হয়েছি তার উপর চিন্তন-মনন করি। প্রথমে অনন্ত ইচ্ছেগুলি নিয়ে পর্যালোচনা করি। সর্বপ্রথম আমরা নিজের প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে জানার চেষ্টা করি, আমার নিজের ইচ্ছেগুলি কী অনন্ত? উদাহরণস্বরূপ আমরা ইচ্ছেগুলির একটি তালিকা উপস্থাপন করে মিলিয়ে নিতে পারি।
১. সমস্তপ্রকার সুবিধাযুক্ত একটি বাড়ির প্রয়োজন হয়।
২. সর্বাধিক ৩০ প্রকারের সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যবর্ধক ভোজন, পাকা ফল, শুকনো ফল, ফলের রস ইত্যাদি প্রয়োজন হয়।
৩. সর্বাধিক ৩০ প্রকারের পোশাক, জুতো ইত্যাদি প্রয়োজন হয়।
৪. কিছু প্রযুক্তি প্রয়োজন হয়, যেমন— মোবাইল, ল্যাপটপ, মোটরবাইক, মোটরগাড়ি ইত্যাদি।
৫. ইচ্ছে অনুযায়ী শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রয়োজন হয়।
৬. পছন্দ অনুযায়ী সঙ্গী-সঙ্গিনী প্রয়োজন হয়।
৭. কখনও পিকনিক, ভ্রমন, বিনোদন ইত্যাদি প্রয়োজন হয়।
৮. সড়ক, বিদ্যুৎ, জল, পার্ক, স্টেডিয়াম, ক্লাব, পুস্তকালয়, যাতায়াত, স্বাস্থ্য, সুরক্ষা ইত্যাদি পরিষেবা প্রয়োজন হয়।
যদি আমরা কাগজে ইচ্ছেগুলি লিপিবদ্ধ করার প্রয়াস করি তবে এই ভেবে অবাক হব যে আমাদের ইচ্ছেগুলি মূলত সীমিত। দেখতে পাব ইচ্ছেগুলি একটি নির্দিষ্ট পরিসীমার মধ্যেই ঘোরাফেরা করে চলেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাবে একই ইচ্ছে বারংবার চক্রাকারে আবর্তিত হয়ে চলেছে। অর্থাৎ মানুষের ইচ্ছে অনন্ত নয় এবং প্রাকৃতিক সম্পদও সীমিত নয়। এটি সত্যিই এক অদ্ভুত অবস্থা যে আমরা সামান্য ক’টি ইচ্ছেও পূরণ করতে পারিনা। এটি ব্যক্তিগত অপারদর্শিতা নয়। ব্যবস্থাগত ত্রুটি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে সুখী হবার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলেই মানুষকে অপরের সাহায্য নিতে হয়েছে। এক থেকে একাধিক হয়ে দল-গোষ্ঠী-তন্ত্র-রাজ্য তথা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নির্মিত হয়েছে। সেইসকল ব্যবস্থা মানুষের চেতনা, ইচ্ছে বা উদ্দেশ্যকে কেন্দ্রবিন্দুকে রেখে নির্মাণ করা হয়নি। ব্যবস্থা নির্মাণের উদ্দেশ্য হচ্ছে রাষ্ট্রের সমস্ত সম্পদের অধিকার এবং বণ্টনের সুব্যবস্থা থাকবে। সমস্যা হয়েছে জীবনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্টতা না থাকার ফলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নির্মাণ করা হয়নি। পূর্বের ব্যবস্থাসমূহ নির্মাণকালে সকলের যুক্তি-বুদ্ধিকে সামিল করা হয়নি এবং সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পূর্বে যথেষ্ট চিন্তন-মনন করা হয়নি। চিন্তন-মননের সাথে অধিকতর তথ্য, খবরাখবর, অভিজ্ঞতা ইত্যাদির সাহায্য নেওয়া হয়নি। যে কারণে বর্তমান ব্যবস্থায় সমস্তকিছুতে অসম্পূর্ণতা, বৈপরিত্য এবং সংঘাত দেখা দিয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা এবং চিন্তন-মনন করার মত কোনো প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়নি যেখানে সকল নাগরিক নিজেদের মতামত উপস্থাপন করতে পারবে এবং অন্তিম সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারবে। জীবনের স্বাভাবিক-বাস্তবিক ইচ্ছেগুলিকে জেনে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নির্মিত না হবার ফলেই সমস্ত সমস্যা উৎপন্ন হয়েছে। সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় অসীম সম্পদও বর্তমানে স্বল্প মনে হচ্ছে এবং সামান্য ইচ্ছেও অনন্ত বলে অনুভূত হচ্ছে। যদি সঠিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হয় তবে সীমিত সম্পদও পর্যাপ্ত হয়ে যাবে এবং অনন্ত ইচ্ছেও সামান্য মনে হবে। ব্যবস্থা সঠিক হলে আমাদের কাছে যতটুকু প্রাকৃতিক সম্পদ ও মানব সম্পদ রয়েছে সেসবের উপযুক্ত ব্যবহার হতে পারবে। এবং মানুষের বাস্তবিক পছন্দকে মাথায় রেখে বস্তু ও পরিষেবার নির্মাণ হতে পারবে। অসম্পূর্ণ ব্যবস্থায় সর্বদা সম্পদের অপব্যবহার হয় এবং সমস্তকিছুর অভাব দেখা দেয়। সুতরাং সকলের মিলিত উদ্যোগে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থার পরিকল্পনা, পর্যালোচনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।
*মনুষ্য চেতনাকে অনুধাবন করে সমাজ-ব্যবস্থা নির্মিত হলে অবিরত সুখ উৎপন্ন
হতে থাকবে*
মানুষ ক্ষমতা, যোগ্যতা, কুশলতা, গুণাগুণ এবং রুচি অনুযায়ী জন্মগতভাবেই চার
শ্রেণীর হয়ে থাকে। এমনকি পঞ্চতাত্ত্বিক উপাদানগত তারতম্যের দিক দিয়েও প্রতিটি
মানুষের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। এই চার স্তরের মানুষের কর্মও চার প্রকার হয়ে থাকে।
যথা– শারীরিক স্তরের, মানসিক স্তরের, ভাবনাত্মক স্তরের এবং চেতনাত্মক স্তরের।
*শারীরিক স্তরের যোগ্যতা-প্রধান ব্যক্তিরা* কৃষিকর্ম, পশুপালন, ফল উৎপাদন,
উদ্যান তৈরি, বাগান তৈরি ইত্যাদি কর্ম করতে পছন্দ করে।
*মানসিক স্তরের যোগ্যতা-প্রধান ব্যক্তিরা* উৎপাদনশিল্পকর্ম, বস্তু-পরিষেবা,
বিভিন্নপ্রকার সামাজিক সুখসুবিধার প্রবন্ধনজনিত কর্ম করতে পছন্দ করে (যেমন– সড়ক,
জল, বিদ্যুৎ, আবাস, বিদ্যালয়, পুস্তকালয়, পার্ক, স্টেডিয়াম, ক্লাব, সাংস্কৃতিক
মঞ্চ ইত্যাদি)।
*ভাবনামূলক স্তরের যোগ্যতা-প্রধান ব্যক্তিরা* প্রশাসনিক কর্ম, জনসেবা,
ন্যায়-বিচার সংক্রান্ত কর্ম, চিকিৎসা, সুরক্ষা ইত্যাদি কর্ম করতে পছন্দ করে।
*চেতনামূলক স্তরের যোগ্যতা-প্রধান ব্যক্তিরা* নেতৃত্ব, অধ্যাপনা, অনুসন্ধান,
গবেষণা, আইন ও নীতিনিয়ম প্রণয়ন, বিভিন্ন প্রকার ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কর্ম করতে
পছন্দ করে থাকে।
সুতরাং মানুষ বাস্তবে যেমন তেমন করে জীবিকা বণ্টনের প্রবন্ধন করা হয়নি।
সমাজে সকল প্রকার কর্ম সম্পাদনের জন্য সকল প্রকার কর্মীর প্রয়োজনীয়তা থাকলেও সকলের
মান-মুল্যাঙ্কন একইরকম রাখা হয়নি। যেমন একজনের পারিশ্রমিক ৫ হাজার এবং অপরজনের ৫
লাখ। এই অন্যায়ের কারণেই হাজার রকম বৈষম্য ও অপরাধের সৃষ্টি হয়েছে। ১০০% নাগরিক
ক্ষমতা, যোগ্যতা, কুশলতা, গুণাগুণ ও রুচি অনুযায়ী, জাতি-ধর্ম-ভাষা-সংস্কৃতি
নির্বিশেষে শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, জীবিকা, সুখসুবিধা-সুরক্ষার একসমান অধিকার পেতে পারে
তা সুনিশ্চিত করা হয়নি। সকলের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার জন্য এমন ব্যবস্থা নির্মাণ
করা হয়নি যেন কাউকেই আগামীকালের দুশ্চিন্তায় সম্পদ সঞ্চয় করতে না হয়। অর্থাৎ
সঞ্চয়ের প্রয়োজনীয়তাই যেন না পড়ে। উদাহরণস্বরূপ ভারতের মত সুবিশাল রাষ্ট্রে
প্রাকৃতিক সম্পদ এবং মানব সম্পদ ভরপুর মাত্রায় রয়েছে। একইসাথে উন্নত প্রযুক্তি
রয়েছে। এই তিনের মেলবন্ধনে সকল নাগরিকের জন্য আধুনিক সুবিধাযুক্ত আবাস, নগরীয়
জীবনযাপনের সুখসুবিধা, সামাজিক পরিষেবা তথা সমস্ত বস্তু-পরিষেবা নির্মাণ করা
অসম্ভব নয়। বরং ভারতের সকল নাগরিককে বর্তমান সময়ের উন্নত রাষ্ট্রগুলির চাইতেও অধিক
সমৃদ্ধশালী জীবনযাপনের ব্যবস্থা প্রদান করা সম্ভব। ১০০% নাগরিকের ভবিষ্যৎকে
সুরক্ষিত এবং সুনিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে দেশবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগে সঠিক নীতিনিয়ম
প্রণয়ন করে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা নির্মাণই স্থায়ী সমাধান।
একটি বিকল্প অর্থনীতি কেন আবশ্যক?
এরপর স্বাভাবিকভাবে অর্থনৈতিক অবস্থার প্রসঙ্গ চলে আসে। কারণ অর্থই সমস্ত কর্মকাণ্ডের ধারক এবং বাহক। বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সকলের ইচ্ছেপূরণ কীভাবে সম্ভব হবে। এইস্থানে পুনরায় উল্লেখ করা আবশ্যক যে আমরা জীবনের উদ্দেশ্যকে যে পথে পরিচালিত করব অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও সেইদিকে ধাবিত হবে। আমরা এতকাল ধরে সিদ্ধান্ত নিয়ে এসেছি সকলের জন্য সুখসুবিধার বন্দোবস্ত করা সম্ভব নয়। ফলে অর্থনৈতিক পরিকাঠামোও তেমন ভাবনা অনুযায়ী নির্মিত হয়েছে। ফলস্বরূপ বর্তমান ব্যবস্থায় সিংহভাগ সম্পদ গুটিকয়েক মানুষের কাছে কেন্দ্রীভূত রয়েছে। জঙ্গলে পশুদের মধ্যে সম্পদ নিয়ে যেমন লড়াই দেখতে পাওয়া যায় তেমনটি মনুষ্য সমাজেও বিদ্যমান রয়েছে। এর কারণ মনুষ্যের চেতনাকে আমরা পুরোপুরি বুঝতে সক্ষম হতে পারিনি। ফলে চেতনা যেমন ইচ্ছে দাবী করছে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নির্মাণ করা হয়নি। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে মানুষ মূলত জ্ঞান, কর্ম, ভোগ ও বিশ্রামের মাধ্যমে সুখী হতে চায়। সুতরাং অর্থশাস্ত্রও মানুষের চেতনা এবং ইচ্ছে পূরণের উদ্দেশ্যকে কেন্দ্রে রেখে নির্মাণ করা উচিত। বর্তমান পূঁজিবাদী ব্যবস্থায় সুখসুবিধা আসে অর্থ থেকে। সিংহভাগ মানুষের কাছে অর্থ নেই। ফলে মানুষ অর্থ উপার্জনের নানা কৌশল অবলম্বন করে চলেছে। এমন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নির্মাণ করা হয়নি যেন সকলেই আর্থিক দিক দিয়ে সমৃদ্ধশালী হতে পারে এবং আর্থিক দুর্নীতির সমস্যাটিকে গোড়া থেকেই নির্মূল করা যায়। মুদ্রা দ্বারা আমরা মূলত বস্তু এবং পরিষেবা ক্রয় করে থাকি। সুতরাং মূল কথা হচ্ছে আমাদের বস্তু ও পরিষেবা প্রয়োজন। এছাড়া মুদ্রার অন্য কোনো সুবিধা দেখতে পাওয়া যায় না। কিন্তু বর্তমান বাজারে দেখা যায় মুদ্রা নিজেই একটি বস্তু বা সম্পদ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যেখানে মুদ্রার উদ্দেশ্য ছিল সকলের প্রয়োজন অনুযায়ী বস্তু ও পরিষেবার প্রবন্ধন করা। সঠিক জীবন দর্শন বা জীবনের উদ্দেশ্য সুনিশ্চিত না থাকার ফলে সমস্ত দিকনির্দেশ ভুল পথে পরিচালিত হয়ে চলেছে। মুদ্রার বিনিময় দুর্নীতিকে প্রবলভাবে পক্ষপাতিত্ব করছে এবং মানবীয় অধিকার প্রদানে বাধা উৎপন্ন করে চলেছে। মানুষের মধ্যে মুল্যাঙ্কনজনিত বৈষম্য উৎপন্ন করেছে। অন্যায়কে প্রশ্রয় দিয়ে চলেছে। সর্বোপরি মুদ্রা কিছু সংখ্যক ব্যক্তির দখলে চলে গিয়েছে। বর্তমান অর্থশাস্ত্রের এটিই মূল সমস্যা। বর্তমান সমাজও অধিক বিত্তশালীদের অধিক মর্যাদা প্রদান করে থাকে। অধিক অর্থসম্পদের অধিকারী হলে অধিক সুরক্ষিত থাকা যায় ও অধিক সুখী জীবন উপভোগ করা যায়। ফলে মনুষ্য সমাজে জঙ্গলের মতই ক্ষমতা এবং সম্পদ দখলের লড়াই বিদ্যমান রয়েছে। এটি অর্থশাস্ত্রের সমস্যা। এই অর্থশাস্ত্র এমন করেই নির্মিত হয়েছে যেখানে বরাবর সামান্য সংখ্যার মানুষের কাছেই অর্থনৈতিক স্বাধীনতা কুক্ষিগত থাকবে। কেউ বিত্তশালী হবে কেউ দরিদ্র হবে কিন্তু অনুপাত একসমান থাকবে। এই প্রকার ভ্রষ্ট অর্থশাস্ত্র চলমান থাকলে কোনোকালেই এমন সময় আসবে না যেখানে শতভাগ মানুষ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পাবে। সুতরাং একদিকে ভুল অর্থশাস্ত্র এবং অপরদিকে ভুল জীবন দর্শন গ্রহণের ফলে বর্তমান সময়ের সরকারী ব্যবস্থাও বিশ্বাস করে না সমস্ত নাগরিকের জন্য সুখসুবিধার বন্দোবস্ত করা সম্ভব। ফলে সরকার কেবলমাত্র ১০% মানুষের জন্যই উপযুক্ত জীবিকার ব্যবস্থা করতে পেরেছে। এই সামান্য সংখ্যার শূন্যপদ দখলের জন্য লড়াই এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এমনটিই স্বাভাবিক। এটি ব্যবস্থাগত সমস্যা। ব্যবস্থাগত কাঠামোটিকে সংশোধন করে নিলে ব্যক্তিকে শোধরানোর প্রয়োজন পড়বে না। কারণ ব্যক্তি অপরাধী হয়ে জন্মগ্রহণ করে না। বাইরের অপর্যাপ্ত অবস্থা-ব্যবস্থার কারণেই অপরাধী হতে বাধ্য হয়। মানুষ প্রথমে স্বাভাবিকভাবে এবং ইতিবাচক পথে প্রয়োজন পূরণের প্রচেষ্টা করে থাকে। তা সম্ভব না হলে নেতিবাচক পথ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। বিত্তশালী ব্যক্তিবর্গও প্রতিদ্বন্দ্বিতা, দুশ্চিন্তা, অপহরণ, আত্মহত্যা, ভয়, হত্যা, সম্পর্কজনিত জটিলতা ইত্যাদি বহুবিধ সমস্যায় জর্জরিত। সুতরাং সর্বপ্রথম ব্যবস্থার আমূল সংশোধন আবশ্যক। মুদ্রা দ্বারা আমরা মূলত বস্তু এবং পরিষেবা ক্রয় করে থাকি। সংবিধানকেই এমন উদ্দেশ্য অনুযায়ী রচনা করে নেওয়া যেন সমস্ত নাগরিকের সমস্ত অধিকার ও সুখসুবিধা জন্মগতভাবেই আজীবন সুরক্ষিত থাকে। এরপর কাউকেই যেন ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় নিরাপত্তাহীন অবস্থায় কাটাতে না হয়। সকল নাগরিকের মিলিত উদ্যোগ এবং চিন্তন-মননের মাধ্যমে এমন একটি ব্যবস্থা নির্মাণ করা যেন শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ্য, প্রতিবন্ধী এমনকি তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের জন্যও সমস্ত সুখসুবিধা এবং সমান অধিকার সুরক্ষিত হয়। যেন কাউকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিতে না হয়। কারণ ব্যক্তিগত বা সংস্থাগত উদ্যোগ দ্বারা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
জীবনের উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যবস্থা নির্মাণের প্রেক্ষিতে অর্থশাস্ত্রেরও আমূল সংশোধন আবশ্যক। বর্তমান অর্থব্যবস্থায় নীতি এমন রয়েছে যতখানি মুদ্রা অথবা অর্থ আপনার কাছে রয়েছে আপনি বাজার থেকে ততখানিই চাহিদা বা ডিমান্ড করতে পারবেন। অর্থাৎ চাহিদা আমাদের অর্থের উপর নির্ভর করছে। এর ফলে আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পূর্ণ ডিমান্ড করতে পারি না। এতে বাজারেও চাহিদা অনেক কম থাকে। চাহিদা কম থাকার ফলে বাজার সামান্য চাহিদার ভিত্তিতেই বস্তু নির্মাণ করে। অর্থাৎ বস্তু নির্মাণ কম হয়। বাজারে যখন বস্তু নির্মাণ কম হয় তখন কর্মসংস্থানও কম উৎপন্ন হয়। যখন কর্মসংস্থান কম উৎপন্ন হয় তখন সমাজে বেকারত্ব অধিক উৎপন্ন হয়। কেননা বর্তমান সমাজে উপার্জন তো কর্মসংস্থানের ভিত্তিতেই তৈরি হয়। যার কাছে কর্ম নেই তার কাছে আয়ও নেই। অর্থাৎ উপার্জনহীন মানুষ সমাজের ভিক্ষার উপর নির্ভর করেই বেঁচে থাকে। কেননা সে বাজার থেকে কিছুই ডিমান্ড করতে পারে না। আবার যার উপার্জন কম সেও বাজার থেকে পর্যাপ্ত মাত্রায় ডিমান্ড করতে পারে না। সামান্য কিছু মানুষ আছে যাদের কাছে পর্যাপ্ত অর্থ রয়েছে তারাই কেবলমাত্র নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পূর্ণ ডিমান্ড করতে পারে। এই প্রকার আর্থিক নীতির কারণে বাজারে সর্বদা চাহিদার অভাব থেকে যায়। কেননা অধিকাংশ মানুষের আয় কম। আয় কম হবার কারণ কর্মসংস্থানের অভাব। যে কারণে দেশ-দুনিয়ার একটি বড় অংশ সর্বদা দরিদ্র অবস্থায় থাকে। বর্তমান সময়ের অর্থশাস্ত্রীয় নীতির এই হচ্ছে মূল কাহিনী। যার ফলে অধিকাংশ মানুষ অসহায় জীবন-যাপনে বাধ্য হয়। এমনকি নেতিবাচক কার্যকলাপে লিপ্ত হতে থাকে। যতদিন অবধি এই আর্থিক নীতি বদলাবে না ততদিন অবধি সকলের সুখী হবার কোনো সম্ভাবনা নেই। এই বিষয়টিকে পুনরায় বুঝে নিই। অর্থ আসে কর্মসংস্থান থেকে। কর্মসংস্থান আসে নির্মাণ থেকে। নির্মাণ হয় বস্তু এবং পরিষেবার পর্যাপ্ত ডিমান্ড থেকে। ডিমান্ড আসে পর্যাপ্ত অর্থ থেকে। আশা করি বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ বর্তমান আর্থিক নীতি চলমান থাকলে সকলের কাছে পর্যাপ্ত অর্থ থাকবেই না। কারণ সকলের কাছে তো কর্মসংস্থান নেই। সকলের কাছে কর্মসংস্থান এইজন্য নেই কেননা বাজারে পর্যাপ্ত ডিমান্ড নেই। বাজারে যদি ডিমান্ড ন্যুনতম থাকে তাহলে বাজার ন্যুনতম উৎপাদন করবে এবং তা থেকে ন্যুনতম কর্মসংস্থান উৎপন্ন হবে। ফলে ন্যুনতম জীবিকা উৎপন্ন হবে। যতদিন অবধি এই নীতি থাকবে ততদিন এই কুচক্র অধিকাংশ মানুষকে দরিদ্র অবস্থায় রাখবে। এই নীতির কারণে সকল মানুষ কখনই সমৃদ্ধ হতে পারবে না। যে কজন মানুষ ভোগ্য বস্তু এবং পরিষেবা নির্মাণ করবে কেবলমাত্র তারাই অত্যধিক ধনী হবে। বর্তমান পরিসংখ্যান বলে দিচ্ছে তারা সমগ্র জনসংখ্যার কেবলমাত্র ১ শতাংশ। সুতরাং এই নীতি থাকলে অধিকাংশ মানুষের দরিদ্র অবস্থা কেউ দূর করতে পারবে না।
অর্থশাস্ত্রে মুদ্রানীতির পরিবর্তন
মুদ্রানীতির আমূল পরিবর্তন আবশ্যক। ডিমান্ড বা চাহিদার জন্য যে মুদ্রা বা অর্থ অতি আবশ্যক তা সরিয়ে দেওয়া উচিত। তাহলে সকলে নিজ নিজ চাহিদা বা ডিমান্ড পর্যাপ্ত পরিমাণে করতে পারবে। চাহিদার জন্য তখন অর্থের প্রয়োজন থাকবে না। এতে সমাজে সকল বস্তুর চাহিদা ১০০ শতাংশ হয়ে যাবে। এই ১০০ শতাংশ চাহিদা পূরণের জন্য সরকারকে ১০০ শতাংশ বস্তু এবং পরিষেবা উৎপাদন করতে হবে। ১০০ শতাংশ উৎপাদনের কারণে ১০০ শতাংশ কর্মসংস্থান তৈরি হয়ে যাবে। ফলে সরকার ১০০ শতাংশ সুস্থ্য মানুষকে কর্মসংস্থান প্রদান করতে পারবে। কেননা ১০০ শতাংশ ডিমান্ড পূরণ করার জন্য ১০০ শতাংশ কারখানা, মেশিন, বিদ্যুৎ, সড়ক পথ, জল পথ, আকাশ পথ, মালবাহক গাড়ি, বহু রকমের বস্তু এবং পরিষেবা নির্মাণের প্রয়োজন হবে। এতসব কর্ম সম্পাদনের জন্য বহু মানুষের প্রয়োজন হবে। সহজভাবে বললে সরকারের কাছে ১০০ শতাংশ কর্মসংস্থান সর্বদা তৈরি হয়ে থাকবে। বিষয়টির অর্থ এই দাঁড়ায় সকলের জন্য কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত হবে। অন্যভাবে বললে সকলে সমৃদ্ধ হবে। মানুষ সত্যিকারের স্বাধীনতা তখনই অনুভব করবে যখন সকলে সমানভাবে সমস্ত সুখসুবিধা উপভোগের জন্য স্বতন্ত্র হবে। মানুষ যা শিখতে চাইবে শিখতে পারবে। যে কর্ম করতে চাইবে করতে পারবে। যা ভোগ করতে চাইবে ভোগ করতে পারবে। অর্থাৎ যা করতে চাইছি করতে পারছি। যেভাবে জীবন কাটাতে চাইছি কাটাতে পারছি। যেমন জীবনযাপনের সুযোগ-সুবিধা চাইছি তেমনটি পেয়ে যাচ্ছি। তখনই সঠিক অর্থে বলা যাবে আমরা স্বাধীন।
বর্তমান মুদ্রাকেন্দ্রীক অর্থনীতির বিষয়টি একটি বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে বোঝার প্রয়াস করি। যেমন আমেরিকার জনসংখ্যা ৩৩ কোটি ও GDP ২০ ট্রিলিয়ন; চীনের জনসংখ্যা ১৪৫ কোটি ও GDP ১৩ ট্রিলিয়ন এবং ভারতের জনসংখ্যা ১৪০ কোটি ও GDP ৩.৫ ট্রিলিয়ন। কেন্দ্র-রাজ্য মিলে সরকারের বিপুল পরিমাণ ঋণের হিসেব সংগ্রহ করা হয়নি। ভারত সরকার যদি সম্পূর্ণ আয় শুধুমাত্র শিক্ষাখাতে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অন্যান্য প্রফেশনাল কোর্সের পরিকাঠামো তৈরি এবং শিক্ষক নিয়োগে ব্যয় করতে চায় তাহলেও ঘাটতি পড়ে যাবে। অর্থাৎ মুদ্রা এবং মুল্যাঙ্কনজনিত ব্যবস্থায় সর্বদা প্রয়োজন অনুযায়ী চাহিদা পূরণের অভাব থেকেই যাবে। চলমান মুদ্রাকেন্দ্রিক অর্থশাস্ত্রের এটি মূল সমস্যা। যা উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে। সুতরাং অর্থশাস্ত্রের সংশোধন ব্যতীত আমরা আকাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারব না।
আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক-বৈশ্বিক সমন্বয়
বর্তমান ব্যবস্থা অনুযায়ী শুধুমাত্র ১০% মানুষের কাছে সুখসুবিধার বন্দোবস্ত রয়েছে। এমন ব্যবস্থা নির্মাণ করা হয়নি যেন যোগ্যতা এবং পছন্দ অনুযায়ী সকলে একসমান সুযোগসুবিধা পেতে পারে। সুযোগসুবিধা লাভের জন্যই অনুন্নত দেশের মানুষ উন্নত দেশে পাড়ি জমায়। সুযোগসুবিধা লাভের সময় আমরা এটি কখনোই দেখি না সেই দেশের মানুষ কোন ধর্ম পালন করে এবং কোন রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে। অর্থাৎ উন্নত জীবনযাপনের জন্য ধর্ম অথবা রাজনৈতিক মতাদর্শ বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। ধর্মীয় বিশ্বাস তখন ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে রয়ে যায়। এমনটিই হওয়া উচিত। প্রথাগত ধর্মই যদি সব হত তাহলে ৮০% হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দেশ ভারতবর্ষ সর্বাধিক উন্নত রাষ্ট্র বলে পরিগণিত হত। অপরদিকে বাংলাদেশ, পাকিস্থান, আফগানিস্থান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম ইত্যাদি ইসলামিক ও বৌদ্ধ দেশগুলিও আর্থিক দিক দিয়ে সর্বাধিক উন্নত দেশের শিরোপা পেত। কাউকেই ভিন্ন দেশে-মহাদেশে পাড়ি জমাতে হত না। যেসব দেশে একই ধর্মাবলম্বী মানুষের বসবাস সেইসব দেশে হত্যা, লুণ্ঠন, দুর্নীতি, লড়াই, ভেদাবেদ, ধর্ষণ, আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে না? সকলে একই ধর্মাবলম্বী হলে শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, জীবিকা, সুখসুবিধা, সুরক্ষা তথা সমৃদ্ধশালী জীবনযাপনের ব্যবস্থার বন্দোবস্ত হয়ে যায়? সমাজে যেমন সমস্তরকম কর্ম সম্পাদনকারী এবং বস্তু/পরিষেবা উৎপাদনকারী মানুষ আবশ্যক তেমনি একটি দেশের সাথে অপর দেশের আদান-প্রদান আবশ্যক। সমস্যার মূল কারণ এবং জীবনের মূল উদ্দেশ্যকে সরিয়ে সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব কিংবা ধর্মীয় মতভেদ পোষণ করার অর্থ মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে ফিরিয়ে আনা। এই মনোভাব পরিত্যাগ করে সমস্ত দেশ মিত্রতার পথে যাত্রা করলে প্রযুক্তি, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং মানব সম্পদের আদান-প্রদান করে নিতে পারবে। যেমন এশিয়া মহাদেশের কয়েকটি দেশ ব্যতীত বিশ্বের অন্যান্য দেশে-মহাদেশে জনসংখ্যার ঘনত্ব কম। এমনটি হলে জনসংখ্যার ভারসাম্যজনিত সমস্যারও সমাধান হবে। ধীরে ধীরে যুদ্ধ এবং সীমান্ত সমস্যার অবসান ঘটবে। এতে বিশ্ববাসী দ্রুত সুখী এবং সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠবে। বিশ্ববাসীর কাছে সঠিক জীবন দর্শন কিংবা জীবনের উদ্দেশ্যজনিত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে স্পষ্টতা না থাকার ফলে সমস্ত দেশের মধ্যে এতসব বিপত্তি ঘটে চলেছে। দেখা যায় প্রশিক্ষিত এবং বিত্তশালী পরিবারগুলি অধিক সন্তান ধারণ করে সন্তানদের দুর্দশার কবলে ঠেলে দেন না। এমনকি তাদের মধ্যে কে কোন ধর্মের অনুসারী এই বিষয়টিও তেমন প্রাধান্য পায় না। তারা পরস্পরের ধর্মীয়-সামাজিক-সাংস্কৃতিক উৎসবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। আত্মীয়তাও করে থাকেন। সুতরাং ধর্মীয় বিভিন্নতা মূল সমস্যা নয়। সকল ধর্মের মানুষের জন্য সমৃদ্ধশালী জীবনযাপনের বন্দোবস্ত না থাকাটাই মূল সমস্যা। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-ভাষা-সংস্কৃতি নির্বিশেষে সকলের জন্য শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, সুখসুবিধা এবং সুরক্ষার একসমান সুযোগসুবিধার ব্যবস্থা না থাকাটাই মূল সমস্যা। বর্তমান ব্যবস্থা অনুযায়ী সরকারী এবং বেসরকারি ক্ষেত্রে কেবলমাত্র ১০% মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। যা পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে। ৯০% মানুষকে নিজেদের ভরসায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে বেশীরভাগ মানুষ নৈতিক পথে অসফল হতে হতে একসময় অনৈতিক পথের নানা উপায় অবলম্বন করতে বাধ্য হয়। সামান্য কিছু মানুষ আছে যারা নৈতিকতার পথে আজীবন দুঃসহ জীবনযাপনে বাধ্য হয়। যে ব্যবস্থায় নাগরিককে আজীবন দুশ্চিন্তা, নিরাপত্তাহীনতা এবং সংঘর্ষের মধ্যে দিনযাপন করতে হয় সেই ব্যবস্থা, সরকার কিংবা সংবিধানকে কীভাবে যথার্থ বলে মেনে নেওয়া যায়? আবার ১০% সফল নাগরিককে মেধাসম্পন্ন বলে আখ্যায়িত করলেও সঠিক কী বিচার হয়? কারণ শতভাগ নাগরিকের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য শিক্ষণ-প্রশিক্ষণের সমান সুযোগসুবিধা প্রদান করা হয়নি। অথচ ব্যবস্থা এইজন্য নির্মাণ করা হয় যেন সকলে শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সমান সুযোগসুবিধা পেতে পারে। চলমান ব্যবস্থায় কেবলমাত্র ১০% নাগরিকই তা পেয়ে চলেছে। ফলে ব্যক্তিকে দোষারোপ করাটা অন্যায়। বিষয়টি ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা। কারণ ব্যবস্থা সকলের জন্য সুযোগ-সুবিধার বন্দোবস্ত করতে পারেনি। একটি সঠিক এবং পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা এখনও অবধি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। ১০০% শতাংশ নাগরিকের যোগ্যতা এবং পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ এবং জীবিকার স্থায়ী সংরক্ষণযুক্ত সংবিধান রচিত হয়নি। সকলে সমান সুযোগ-সুবিধার অধিকারী হলে একজন অপরজনকে শোষণ করবার কোনো কারণ অবশিষ্ট থাকবে না। সকলে পছন্দ অনুযায়ী জীবনযাপনের বন্দোবস্ত পেলে কী কারণে নেতিবাচক কর্মে লিপ্ত হবে? মানুষ সমৃদ্ধশালী জীবন উপভোগ করতে চায়। সুখী মানুষ, সমৃদ্ধশালী মানুষ কী কারণে হিংসা করবে? সকলে নিজেদের জীবিকা, জীবনযাপনের সুখসুবিধা, ভ্রমণ-বিনোদন, পারিবারিক সুখ ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। এমনটি হলে তবেই বৈষম্যজনিত সমস্যার অবসান ঘটবে তথা বাস্তবিক ‘বিবিধের মাঝে মিলন মহান’ সম্ভব হবে। প্রথাগত পূজা-প্রার্থনা-উপাসনা কিংবা কু-সংস্কারের পেছনেও মানুষ অর্থনৈতিক শ্রীবৃদ্ধির কামনাই করে থাকে। অর্থাৎ সকলের মিলিত উদ্যোগে একটি সমৃদ্ধশালী ব্যবস্থা নির্মাণ করাই স্থায়ী বিধান। জগতে প্রাকৃতিক সম্পদ এবং মানব সম্পদের অভাব নেই। যদি কোনো ক্ষেত্রে সামান্য অভাব দেখাও দেয় তবে সেসব বস্তু-পরিষেবা সামাজিকভাবে ব্যবহারের বন্দোবস্ত করা যেতে পারে। সুতরাং, মূল অভাব শুধুমাত্র একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থার।
একটি নতুন ব্যবস্থার প্রস্তাবনা
Universal life management (ULM) সংস্থা একটি বিকল্প ও নতুন ব্যবস্থার রূপরেখা উপস্থাপন করেছে এবং দাবী করছে এই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে কোনোপ্রকার সমস্যা উৎপন্নই হবে না। বরং সকলের জন্য সমস্তপ্রকার সুখ সর্বদা উৎপন্ন হতে থাকবে। নতুন ব্যবস্থায় সমস্ত সমস্যার মূল কারণ শনাক্ত করে স্থায়ী সমাধান উপস্থাপন করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার পরিকাঠামো এমন করেই নির্মাণ করা হয়েছে যে এটি প্রতিষ্ঠিত করতে কোনো গতানুগতিক বিপ্লব, আন্দোলন, মিছিল, ধর্না, অভিযোগ, হিংসা, সংঘর্ষ ইত্যাদির প্রয়োজন পড়বে না। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-সংস্কৃতি ও ভাষাগত বিভিন্নতার উর্দ্ধে এই ব্যবস্থা সমাজের দরিদ্র ও বিত্তশালী বর্গেরও সমস্ত সমস্যার নিরসন করবে। নতুন ব্যবস্থায় মোট ছ’টি মডেল রয়েছে।
প্রথমতঃ “নতুন অর্থনৈতিক মডেল”–
এটি মুদ্রাবিহীন অর্থনীতি। নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক লেনদেনের প্রয়োজনীয়তা থাকবে না। প্রাকৃতিক সম্পদ এবং মানব সম্পদ সরাসরি ব্যবস্থার অধীনে থাকবে। ব্যক্তিগত মালিকানার প্রয়োজনীয়তা থাকবে না। সম্পদ সঞ্চয় করে রাখার প্রয়োজন পড়বে না। লেনদেনের জন্য মুদ্রার প্রয়োজনীয়তা থাকবে না। আর্থিক দুর্নীতি কিংবা প্রতারণার সমস্যা গোড়া থেকেই নির্মূল হয়ে যাবে। ব্যাংক, ট্যাক্স, বীমা, শেয়ার বাজার ইত্যাদি পরিষেবা থাকবে না। কাউকে আর্থিক সহায়তা কিংবা দান-দক্ষিণার প্রয়োজন পড়বে না। নতুন ব্যবস্থায় বস্তু-পরিষেবা এবং কর্ম-কর্মীর মুল্যাঙ্কন প্রণালী থাকবে না। বর্তমান অর্থশাস্ত্রে মুল্যাঙ্কন বিধি উন্নয়নের অন্যতম বাধা। মুদ্রার পরিচয় বস্তু-পরিষেবাদি ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যম হিসেবে থাকলেও চলমান অর্থনীতিতে সে নিজেই প্রধান বস্তু সেজে বসে রয়েছে। যা মানবীয় অধিকারকে খর্ব করেছে। নতুন ব্যবস্থা মুদ্রা ছাড়াই জন্মগতভাবে সকল নাগরিককে শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ-জীবিকা-সামাজিক সুখসুবিধা সহ প্রয়োজনীয় বস্তু-পরিষেবা বিনামূল্যে প্রদান করবে। পরিবর্তে ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী সকল সুস্থ্য নাগরিককে পছন্দের একটি জীবিকা সম্পাদন করতে হবে। অন্য সকলে সমস্ত সুবিধা বিনামূল্যে উপভোগ করতে পারবে।
দ্বিতীয়তঃ “নতুন রাজনৈতিক মডেল”–
রাজনৈতিক ক্ষমতা বর্তমান ব্যবস্থার মত পাঁচ বছরে একবার নয় বরং ২৪ ঘণ্টা ও ৩৬৫ দিন জনগণের কাছে নিহিত থাকবে। অর্থাৎ নতুন ব্যবস্থা কাঠামো ব্যবস্থাগত দিক দিয়ে কেন্দ্রীভূত কিন্তু ক্ষমতায়নের দিক দিয়ে বিকেন্দ্রীভূত। সামাজিক ব্যবস্থাপনামূলক কর্মে আগ্রহী এবং যোগ্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পরই কেবলমাত্র প্রার্থীরা নেতা-নেত্রী পদের জন্য মনোনীত হতে পারবেন। কোনো নেতা-নেত্রী অথবা পদাধিকারীর ব্যর্থটা প্রমাণিত হলে নাগরিকবৃন্দ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যে-কোনো সময় সরাসরি ভোটাধিকার এবং সন্তুষ্টি রেটিং প্রয়োগ করে উক্ত ব্যক্তিকে পদচ্যুত করতে পারবে। কোনো বস্তু-পরিষেবার গুণগত মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রেও একইরকম সন্তুষ্টি রেটিং-এর ব্যবস্থা থাকবে। সমস্ত প্রক্রিয়া অনলাইন মাধ্যমে পরিচালিত হবে। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধিরা প্রস্তাবনা উপস্থাপন করবেন। অন্তিম সিদ্ধান্ত জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকবে। অর্থাৎ কোনোপ্রকার বিপত্তি কিংবা হয়রানি ছাড়াই সকল নাগরিক প্রকৃত গণতান্ত্রিক অধিকার উপভোগ করবে। এমনকি বহু দলীয় ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাও দ্রুত হ্রাস পাবে।
তৃতীয়তঃ “নতুন জীবনশৈলী ও সাংস্কৃতিক মডেল”–
এটি নগরীয় ব্যবস্থা। যেখানে সমস্তপ্রকার সামাজিক সুখসুবিধা সকল নাগরিকের জন্য বরাদ্দ থাকবে। যেমন– আধুনিক সুবিধাযুক্ত আবাস, সড়ক, বিদ্যুৎ, জল, বিদ্যালয়, ইন্টারনেট, গবেষণাগার, লাইব্রেরী, হাসপাতাল, পার্ক, স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, জিম, ক্লাব, রেস্তোরাঁ, সাংস্কৃতিক মঞ্চ ইত্যাদি। ভ্রমণ-বিনোদনের জন্যও উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে সুব্যবস্থা থাকবে। কৃষিক্ষেত্রসহ অন্যান্য নির্মাণ কর্মে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার থাকবে। ফলে ধুলোময়লা কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ কর্ম সম্পাদনের বাধ্যবাধকতা থাকবে না। জলবায়ু ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্যজনিত সমস্যা উৎপন্ন হবে না। ধর্মীয় বিশ্বাস পালনে সকলে ব্যক্তিগত স্তরে স্বতন্ত্র থাকবে। সামাজিক স্তরে প্রচার কিংবা পালনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধানকে প্রথমে মুক্তমঞ্চের ফোরামে প্রমাণিত করতে হবে।
চতুর্থতঃ “নতুন শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান মডেল”–
সমস্তপ্রকার শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সহযোগে সকল শিক্ষার্থীর জন্য সরকারীভাবে বরাদ্দ থাকবে। সাধারণ পাঠ্যক্রমে চারটি বিষয় পড়ানো হবে। ভাষা, গণিত, সংজ্ঞান এবং দর্শন। ভাষা মনের বিকাশ ঘটাবে, গণিত বুদ্ধির বিকাশ ঘটাবে, সংজ্ঞান চিত্ত বা বোধশক্তির বিকাশ ঘটাবে, দর্শন অহংকার বা ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটাবে। সাধারণ শিক্ষা সমাপ্তির পর পঞ্চবর্ষীয় জীবিকামূলক প্রশিক্ষণ থাকবে। প্রশিক্ষণ সমাপ্তির পর সকল শিক্ষার্থীর জন্য একটি জীবিকা সুনিশ্চিত থাকবে। নতুন ব্যবস্থায় ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী সকল সুস্থ্য নাগরিককে পছন্দ এবং যোগ্যতা অনুযায়ী একটি জীবিকা সম্পাদন করতে হবে। কর্ম সম্পাদনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সপ্তাহে ৫ দিন এবং দিনে ৪-৫ ঘণ্টা।
পঞ্চমতঃ “নতুন পারিবারিক মডেল”–
পরিবারের একজন সদস্য অপর সদস্যের উপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল থাকবে না। ফলে সকলে পরিপূর্ণ পারিবারিক সম্বন্ধ উপভোগ করতে পারবে। এতে স্বাভাবিকভাবে সকলের সাথে সমস্ত সম্বন্ধ মধুর থাকবে। জীবনযাপনের মূল ইচ্ছেগুলি অবিরত পূরণ হতে থাকলে কেউই অপরের কাছ থেকে সম্পর্কজনিত সুখ ব্যতীত অন্য কিছুর আকাঙ্ক্ষা করবে না। এমনকি সম্পর্কজনিত সুখ উপভোগের জন্য কেউ একে অপরের প্রতি বাধ্য থাকবে না। কারণ কেউ অপরজনের উপর নির্ভরশীল থাকবে না। ফলে চাওয়া-পাওয়ার গোপন অভিসন্ধি এবং মিথ্যার প্রয়োজন পড়বে না। এমনটি হলে তবেই সমস্ত সম্পর্ক প্রেমের আধারে নির্মিত হবে। শুধুমাত্র সম্বন্ধসুখ উপভোগের জন্যই সম্পর্ক স্থাপিত হবে।
ষষ্ঠতঃ “নতুন দর্শনের মডেল”-
জীবনের মূল উদ্দেশ্য সুখী হওয়া। কেন সুখী হওয়াই মূল উদ্দেশ্য? অন্য কিছু নয় কেন? এইসব বিষয় ছাড়াও জীবন কী, জীবন কেন, নতুন ব্যবস্থা কেন প্রয়োজন ইত্যাদি বিষয়গুলির স্পষ্ট ব্যাখ্যা মানুষের মূল স্বভাব অনুযায়ী করা হয়েছে। এই দর্শন এতটাই সহজ যে আপনি নিজ জীবনের সাথে মিলিয়ে সুনিশ্চিত করে নিতে পারবেন। অনেকে এই তত্ত্বকে সমাজবাদ এবং সাম্যবাদের সাথে তুলনা করেন। এক্ষেত্রে উল্লেখ করা আবশ্যক ‘সম্পূর্ণ জীবন দর্শন - সুখী জীবনের অজ্ঞাত সূত্র’ এবং 'সম্পূর্ণ সমাধান - নতুন সামাজিক রাজনৈতিক অর্থব্যবস্থা' পুস্তক দুটি গভীরভাবে অধ্যয়ন করলে স্পষ্টতই বুঝে যাবেন যে বাহ্যিক দিক দিয়ে আংশিক সঙ্গতিপূর্ণ মনে হলেও এই তত্ত্ব পূর্বের তত্ত্বগুলির তুলনায় সম্পূর্ণ পৃথক। এই পুস্তক দুটি দার্শনিক প্রেমজীৎ সিরোহী মহাশয় দীর্ঘকালীন গবেষণা-আলোচনা-পর্যালোচনার পর রচনা করেছেন। সংক্ষেপে আমরা এটিকে সুখকেন্দ্রিক ব্যবস্থা বলতে পারি। এই তত্ত্ব পূর্বের তত্ত্বগুলির তুলনায় জীবন দর্শন এবং জীবনের মূল উদ্দেশ্যজনিত সিদ্ধান্তের দিক দিয়ে পৃথক। মনুষ্যের স্বভাব এবং প্রকারভেদজনিত দিক দিয়ে পৃথক। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাগত পরিকাঠামোর দিক দিয়ে পৃথক। এমনকি রুপায়নের প্রক্রিয়াগত সিদ্ধান্তের দিক দিয়েও পৃথক। আমরা এই তত্ত্বকে ‘ব্যক্তিবাদ’ বলেও আখ্যায়িত করতে পারি। কারণ এই তত্ত্ব ব্যক্তিকে পছন্দের শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, পছন্দের জীবিকা, পছন্দের সুখসুবিধা এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষাসহ পূর্ণ স্বাধীনতা তথা পছন্দসই জীবনযাপনের দিকে অগ্রসর হয়ে নতুন ভবিষ্যতের নতুন নাগরিক হিসেবে উপস্থাপন করেছে। যে-কোনো সরকার নাগরিককে পছন্দের সুখসুবিধা উপভোগ করার সুযোগ সুবিধা প্রদান করলে কে হিংসা করবে, কে দাঙ্গা করবে, কে দুর্নীতি করবে, কেই বা অপরাধ করবে? নতুন ব্যবস্থায় শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ্য এবং প্রতিবন্ধীদের জন্যও সমান অধিকার এবং সমস্ত সুখসুবিধা প্রদান করা হয়েছে। এমনকি তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের জন্যও শিক্ষা, জীবিকা, সুখসুবিধা উপভোগ করার সমান অধিকার প্রদান করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় মানব সম্পদ, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং প্রযুক্তির মেলবন্ধনে নতুন রূপরেখা নির্মাণ করা হয়েছে। যেখানে চাহিদা, উৎপাদন এবং বিতরণ প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হবার সম্ভাবনা থাকবে না। প্রতিটি নাগরিক পছন্দসই জীবনযাপনের পূর্ণ স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারবে।
নতুন ব্যবস্থা বিষয়ক তথ্যসমূহ এবং এই ব্যবস্থা কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত রূপরেখা 'সম্পূর্ণ সমাধান' পুস্তকে বর্ণনা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই পুস্তক হিন্দি, ইংরেজি, রাশিয়ান, বাংলা এবং পাঞ্জাবী ভাষায় উপলব্ধ হয়ে গিয়েছে। অন্যান্য ভাষাতেও অনুবাদের কাজ চলছে। সকলের মিলিত উদ্যোগে আলোচনা-পর্যালোচনার মাধ্যমে ‘সঠিক সমাধান তত্ত্বের সিদ্ধান্ত’ গ্রহণের জন্য একটি মুক্তমঞ্চ রয়েছে। আলোচনা-পর্যালোচনার পর যদি সম্পূর্ণ সমাধানের তত্ত্ব অব্যবহারিক বলে প্রমাণিত হয় তবে ULM সংস্থা প্রচার স্তব্ধ করে দেবে। মুক্ত মঞ্চে যে তত্ত্ব সঠিক বলে প্রমাণিত হবে সকলে সেটি গ্রহণ করে নেবে। সম্পূর্ণরূপে সামাজিক এই বিষয়টি জনগণের উদ্দেশ্যে উন্মুক্ত। জনগণের সমর্থন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়কালে বর্তমান গণতান্ত্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থার পদ্ধতিতেই নতুন ব্যবস্থা স্থাপিত হবে।
প্রবন্ধনজনিত বিভিন্ন বিভাগ নির্দিষ্ট রূপরেখা অনুযায়ী কর্ম সম্পাদন করবে। এরপর ৩ থেকে ৫ বছরের একটি স্থানান্তর প্রক্রিয়া চলবে। ৫ বছর পর পরিপূর্ণভাবে নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। এ-বিষয়ে ULM Bangla এবং ULM Hindi সহ অন্যান্য ভাষার ইউটিউব চ্যানেলে একাধিক আলোচনার অডিও-ভিডিও উপস্থাপন করা হয়েছে। সরাসরি অথবা অনলাইন মাধ্যমে প্রশ্ন-উত্তরের শৃঙ্খলা এবং বিস্তারিত আলোচনার জন্য সকলে আমন্ত্রিত।
***
ULM প্রস্তাবিত নতুন সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে উদ্যোগ সমূহ কী কী?
আমাদের অধিবেশন:-
- · বৈশ্বিক সমস্যার কারণ অনুসন্ধান ও ব্যবস্থাকেন্দ্রিক পর্যালোচনা
- · সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থা বিষয়ক সচেতনতা
- · সমাজে দিকনির্দেশ প্রদানকারী নেতৃত্ব নির্মাণ
- · জীবনের গভীরতাকে জানতে ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্দেশ্যে জীবন দর্শন অনুধাবন
- · চেতনার বিভিন্ন দিকগুলিকে অনুধাবন করতে আত্মজ্ঞান
- · ব্যবস্থা কীভাবে মানব আচরণে প্রভাব ফেলে তার অনুসন্ধান
সামাজিক কার্যক্রমঃ-
- · থিংক ট্যাঙ্ক ও মিডিয়া সেন্টার
- · আলোচনার জন্য মুক্তমঞ্চের ফোরাম
- · সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থা বিষয়ক অভিযান
প্রথম পদক্ষেপ–
- · নতুন ব্যবস্থার জ্ঞান সকলের কাছে পৌঁছানো (সম্পূর্ণ সমাধান প্রচার কার্যক্রম)
- · নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সামাজিক আলোচনা (মুক্তমঞ্চ)
- · নেতৃত্ব বিকাশ
দ্বিতীয় পদক্ষেপ–
- · ভারতবর্ষে সার্ভে
- · নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি
- · রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা
তৃতীয় পদক্ষেপ–
- · বর্তমান সংসদীয় গণতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচনে অংশগ্রহণ
- · নির্বাচনে জয়ী হওয়া
- · নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা
***
ইমেল- ulmbangla@gmail.com,
ইউটিউব চ্যানেল- https://www.youtube.com/@ulmbangla
ফেসবুক পেজ- https://www.facebook.com/profile.php?id=100063995684933
ব্যবস্থা পরিবর্তন - व्यवस्था परिवर्तन - https://www.facebook.com/ssbajarwb/
ওয়েবসাইট- universallifemanagement.org
“সম্পূর্ণ সমাধান – এক নতুন সামাজিক রাজনৈতিক অর্থব্যবস্থা” ফ্রি PDF লিংক
https://drive.google.com/file/d/1rjuHZNuZnuS_vXwqhRi4YmRX8HAbAIud/view?usp=sharing
“সম্পূর্ণ জীবন দর্শন – সুখী জীবনের অজ্ঞাত সূত্র” ফ্রি PDF লিংক
https://drive.google.com/file/d/1imrbnKBFqVxH8uHKsK_XPO2MBp5krqrv/view?usp=drive_link
আমাদের প্রয়াস ভালো লাগলে কমেন্ট বক্সে মতামত জানাতে পারেন; লাইক, শেয়ার করতে পারেন।
***

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন