স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ অনুযায়ী ভারতরাষ্ট্র কি স্বাধীন?
ভারতরাষ্ট্রের
নাগরিক সমাজ কি আদৌ স্বাধীন?
স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ অনুযায়ী জরিপ করলে পরিসংখ্যান উঠে আসবে সিংহভাগ নাগরিক মূলত পরাধীন। দেশভক্তির আবেগ কিংবা অভিযোগ নয়, বাস্তবতা।
স্বাধীনতার প্রকৃত
অর্থ হলো নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী শিক্ষণ-প্রশিক্ষণের স্বাধীনতা, কর্ম সম্পাদনার স্বাধীনতা, সুখসুবিধা-স্বতন্ত্রতা উপভোগের স্বাধীনতা, কোনো প্রকার বাধা বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই।
কেবল অর্থনৈতিক- রাজনৈতিক স্বাধীনতা নয়, বরং ব্যক্তি, সমাজ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উভয়
দিকের স্বাধীনতাকে বোঝায়।
প্রশ্ন হচ্ছে
রাষ্ট্রের সিংহভাগ দরিদ্র নাগরিকের পক্ষে প্রকৃত স্বাধীনতা উপভোগ করা কীভাবে সম্ভব? কত শতাংশ পরিবার
সন্তানদের জন্য উপযুক্ত শিক্ষণ-প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাপনা করতে সক্ষম? অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ব্যতীত অন্যান্য স্বাধীনতার বাস্তবিক মূল্য কতখানি?
স্বাধীনতার বিভিন্ন
দিক রয়েছে:
ব্যক্তিগত স্বাধীনতা:
নিজের পছন্দ
অনুযায়ী জীবন যাপন করার অধিকার, নিজের মতামত প্রকাশ করার স্বাধীনতা, এবং নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা।
সামাজিক স্বাধীনতা:
সমাজের সকল
স্তরের মানুষের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগের নিশ্চয়তা,
যেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা লিঙ্গ নির্বিশেষে
সবাই সমান মর্যাদা পাবে।
রাজনৈতিক স্বাধীনতা:
একটি গণতান্ত্রিক
সমাজে বসবাস করার অধিকার, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে এবং তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হয়।
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা:
নিজের অর্থনৈতিক
ভাগ্য নির্ধারণের স্বাধীনতা, যেখানে প্রত্যেক ব্যক্তি তার যোগ্যতা অনুযায়ী অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা লাভ করতে পারে এবং দারিদ্র্য ও বঞ্চনা থেকে
মুক্তি পেতে পারে।
জাতীয় স্বাধীনতা:
একটি স্বাধীন
সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে বিশ্বের বুকে নিজের পরিচয় নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর অধিকার, যেখানে অন্য কোনো দেশ বা শক্তির দ্বারা
নিয়ন্ত্রিত না হয়ে নিজেদের
সিদ্ধান্ত নিজেরা নিতে পারে।
সংক্ষেপে, স্বাধীনতা
মানে ব্যক্তির মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত
করা, এবং একটি ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ
প্রতিষ্ঠা করা যেখানে সকলে মিলেমিশে বসবাস করতে পারে।
***
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন