গণকনভেনশনের উদ্দেশ্যে নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান
ভারতরাষ্ট্র স্বাধীনতা লাভ করেছে ৭৭ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছে। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে সামগ্রিক উন্নয়নের নিরিখে এই দীর্ঘকালীন সময় কম নয়, বলা যায় একটি পূর্ণ জীবনকালের সমান। স্বাধীনতার প্রসঙ্গ উত্থাপিত হলে একাধিক বিষয়ে নানা তর্কবিতর্কও ঘিরে ধরে। স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থকে মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত করে সমীক্ষা করলে সমাজজীবনের সমগ্র ক্ষেত্রে বৈষম্যই উঠে আসবে। যা হবে অত্যন্ত হতাশাজনক। এ কথা সকলেই জানি যে, মূলত অর্থনৈতিক স্বাধীনতাই মনুষ্য স্বতন্ত্রতার মূল কেন্দ্র। আর্থিক স্বাধীনতা ব্যতীত অন্যান্য স্বাধীনতার বাস্তবিক মূল্য কতখানি সে বিষয়েও সকলে অবগত। সিংহভাগ দরিদ্র নাগরিকের পক্ষে প্রকৃত স্বাধীনতা উপভোগ করা আদৌ সম্ভব হয়েছে? স্বাধীনতা পরবর্তী দীর্ঘকালীন সময় অতিক্রান্ত হবার পরও সীমিত সংখ্যক পরিবার সন্তানদের জন্য উপযুক্ত শিক্ষণ-প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাপনা করতে সক্ষম। সরকারি-বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রে উপযুক্ত আয়ের কর্মসংস্থানও রয়ে গিয়েছে সীমিত। বাস্তবতা বলছে ভারতে যে পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ এবং মানব সম্পদ রয়েছে তাতে প্রতিটি পরিবারের জন্য সমৃদ্ধ জীবনযাপনের সুরক্ষিত ব্যবস্থাপনা সম্ভব। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধাগুলি (অটোমেশন, রোবোটিক, এআই ইত্যাদি) কর্ম সম্পাদনায় ব্যবহুত হলে স্বল্প সময়ে অল্প পরিশ্রমে দ্রুত সকল প্রকার প্রয়োজনীয় বস্তু-পরিষেবা উৎপাদন সম্ভব। প্রশ্ন হচ্ছে এই সার্বিক উন্নয়নের পথে বাধা কোথায়? সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচিত সরকারকে কেউ আটকেও রাখেনি। কেন্দ্রে-রাজ্যে একাধিক দলীয় সরকারের বদল হয়েছে, এ কথার অর্থ হচ্ছে জনতা একাধিক রাজনৈতিক দলকে সুযোগ দিয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে ফলাফলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সাধিত হয়েছে কি? বলতে দ্বিধা নেই, মৌলিক সমস্যাসমূহ একইপ্রকার থেকে গিয়েছে। দরিদ্রবর্গের অনুপাত এবং বিত্তশালীবর্গের অনুপাত একই রয়ে গিয়েছে। বলা যায় গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক রাষ্ট্র-ব্যবস্থার দীর্ঘকালীন ফলাফল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা কিংবা নির্বাচনী প্রতিহিংসা, সরকারপক্ষের বিপক্ষে আন্দোলন-অভিযোগ ইত্যাদি কৌশল প্রকৃত সমাধান নির্মাণে ব্যর্থ হয়েছে। এবার প্রশ্ন, সমাধান কী? সিংহভাগ জনতার জন্য দরিদ্রতা-অসহায়তাই কি ভবিতব্য? জাতি-ধর্ম-দলমত নির্বিশেষে সমাধানসূত্রের উদ্দেশ্যে সম্মিলিত উদ্যোগই হোক প্রাথমিক পদক্ষেপ।
আমরা বিগত কয়েকবছর ধরে সমাজের সমস্ত সমস্যার মূল কারণ 'শনাক্তকরণ এবং নিবারণ' উভয় বিষয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করে আসছি। পর্যালোচনায় যা উঠে এসেছে তা হল অসম্পূর্ণ সমাজ-ব্যবস্থা বা সিস্টেমই হচ্ছে সমস্ত সমস্যার মূল কারণ। একটি দেশের ব্যবস্থা যত উন্নত হবে সে দেশের নাগরিক ততধিক সমৃদ্ধ-সুরক্ষিত জীবনযাপন উপভোগ করবে। চলমান অসম্পূর্ণ ব্যবস্থা সকল নাগরিকের সুখসুবিধা-সুরক্ষা প্রদানে বারংবার ব্যর্থ হয়ে চলেছে, ব্যক্তিগত এবং সামাজিক উভয় জীবনের সমস্ত ক্ষেত্রে নৈরাশ্যের দুর্ভাবনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। সমাধানের উদ্দেশ্যে সরকার একাধিকবার
বদল হলেও নাগরিক সমাজের ভাগ্যবদল ঘটেনি।
অসম্পূর্ণ ব্যবস্থার কারণেই নাগরিকবর্গকে ব্যক্তিগত কিংবা সংস্থাগত উদ্যোগে সমাজ-কল্যাণে জীবনের মূল্যবান সময়-অর্থ-শক্তি উৎসর্গ করে যেতে হয়। একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে সকল প্রাপ্তবয়স্ক কর্মক্ষম নাগরিকের শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, জীবিকা, সুখসুবিধা, সুরক্ষা তথা সমৃদ্ধশালী জীবনযাপনের পাশাপাশি স্থায়ী সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব হবে। সকলের আত্মনির্ভরশীলতা
প্রকৃত সমাধান। শতভাগ নাগরিকের চাহিদা এবং উৎপাদনের নিরিখে সম্পদের সৃজন এবং বিতরণের ব্যবস্থাপনা জরুরী। এতে ব্যক্তিগত কিংবা সংস্থাগত উদ্যোগের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সকল নাগরিকের অংশগ্রহণে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র-ব্যবস্থার নির্মাণ ব্যতীত এই মৌলিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
ব্যবস্থা
মূলত কী, চলমান ব্যবস্থায় কোথায় অসম্পূর্ণতা রয়েছে, অসম্পূর্ণ ব্যবস্থা কীভাবে সমস্ত সমস্যার মূল কারণ, ব্যবস্থা কীভাবে সমস্ত সমস্যার সমাধান করবে, কীভাবে নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা কেমন হওয়া উচিত, কীভাবে সকলে ব্যবস্থা রূপান্তরের সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারে ইত্যাদি আলোচনা-পর্যালোচনা আবশ্যক।
এই মৌলিক উদ্দেশ্যকে কেন্দ্রে রেখে Universal Life Management (ULM) সংস্থা সকল নাগরিকের সমৃদ্ধ জীবনযাপনের উদ্দেশ্যে একটি বৈশ্বিক ব্যবস্থার প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছে এবং একটি মুক্ত আলোচনার পরিসর তৈরি করেছে। এ বিষয়ে 'সমাজ-ব্যবস্থা' বিষয়ক এবং 'জীবন-দর্শন' বিষয়ক দুটি মুখ্য পুস্তক রয়েছে। "সম্পূর্ণ সমাধান - নতুন সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থব্যবস্থা" এবং "সম্পূর্ণ জীবন দর্শন - সুখী জীবনের অজ্ঞাত সূত্র"। সম্পূর্ণ সমাধানের অর্থ চলমান বিশ্বে ক্রমাগত উদ্ভূত সমস্ত সমস্যার মূল থেকে স্থায়ী সমাধান। বিশ্বস্তরের এই কনসেপ্ট প্রতিষ্ঠিত হলে বৈশ্বিক পরিবারের সার্থক রূপায়ন সম্ভব হবে এবং প্রতিটি দেশবাসীর জীবন স্থায়ীরূপে সুখময় হয়ে যাবে। এই ব্যবস্থা মোট ৬’টি মুখ্য মডেল নিয়ে রচিত হয়েছে।
• নতুন অর্থনৈতিক মডেল
• নতুন রাজনৈতিক মডেল
• নতুন শিক্ষা ও কর্মসংস্থান মডেল
• নতুন জীবনশৈলী ও সাংস্কৃতিক মডেল
• নতুন পারিবারিক মডেল
• নতুন দর্শনের মডেল
ব্যবস্থা নির্মাণ, আইন প্রণয়ন এবং পরিচালনায় শুধুমাত্র প্রতিনিধিবর্গের উপর দায়িত্ব অর্পণ নয় বরং প্রতিটি নাগরিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্মাণে সরাসরি অংশগ্রহণ করুক। প্রকৃত অর্থে নাগরিক-সমাজের সরকার প্রতিষ্ঠিত হোক। রাষ্ট্রের সমস্তপ্রকার প্রাকৃতিক সম্পদ, কর্মক্ষম মানব সম্পদ সহ কোন বিভাগে কোথায় অসম্পূর্ণতা রয়েছে, কীভাবে কতদিনে সমাধান সম্ভব ইত্যাদি পরিসংখ্যান সর্বসমক্ষে উঠে আসুক। সমস্তপ্রকার সিদ্ধান্তের অন্তিম অধিকার সর্বদা নাগরিকের উপর ন্যস্ত থাকুক। ব্যক্তিগত সুখসুবিধা এবং সামাজিক সুখসুবিধার পরিমাপ সীমারেখা ইত্যাদি সকল তথ্য সর্বসমক্ষে সর্বদা চলমান থাকলে নাগরিক সমাজের মধ্যে অসন্তোষ উৎপন্ন হবে না। ইউনিভার্সাল লাইফ ম্যানেজমেন্ট (ULM) একটি সামাজিক সংস্থা হিসেবে মনুষ্য সমাজের পাশাপাশি অন্যান্য পশুপাখি, জীবজন্তু সহ প্রকৃতি-পরিবেশ-জলবায়ু পরিবর্তনের মত সমস্যাদির স্থায়ী সমাধানের উদ্দেশ্যে অবিরাম কর্মরত রয়েছে। এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে দেশ-বিদেশের বুদ্ধিমান ব্যক্তিবর্গ মিলিত উদ্যোগে বিশ্বব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বৈচারিক অবদান রেখে চলেছেন। আপনি আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেইসকল বৌদ্ধিক ব্যক্তিবর্গের কাছে আপনার বক্তব্য পৌঁছে দিতে পারেন। আলোচনা-পর্যালোচনা-সমীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। আসুন সম্মিলিত উদ্যোগে সকলের জন্য একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি।
এ
বিষয়ে আমরা জনাকয়েক মিলে একটি গণকনভেনশনের আয়োজনে সহমত পোষণ করেছি। মুক্তমঞ্চে
মতামত আদান-প্রদানের মাধ্যমে সম্মিলিত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ
গ্রহণ করা জরুরী।
সকলে
স্বাগত।
যোগাযোগ-
মাধব রঞ্জন সরকার
ফোন- 98309 25502
ইউটিউব চ্যানেল- ULM Bangla
***

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন