বেকারত্বের কারণ অনুপাত পরিসংখ্যান
পরিসংখ্যান অনুযায়ী,
লাক্ষাদ্বীপে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়স পর্যন্ত মোট জনসংখ্যার ৩৬.২ শতাংশ বেকার রয়েছেন। যাঁদের মধ্যে মহিলারা ৭৯.৭ শতাংশ ও পুরুষরা ২৬.২ শতাংশ।
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেকার রয়েছেন ৩৩.৬ শতাংশ। এর মধ্যে মহিলারা ৪৯.৫ শতাংশ ও পুরুষরা ২৪ শতাংশ।
কেরলে ১৫ থেকে ২৯ বছর পর্যন্ত যুবক-যুবতীদের মধ্যে বেকার রয়েছেন ২৯.৯ শতাংশ। যার মধ্যে মহিলারা ৪৭.১ শতাংশ ও পুরুষরা ১৯.৩ শতাংশ।
নাগাল্যান্ডে এই বয়সসীমার মধ্যে বেকার রয়েছেন ২৭.৪ শতাংশ। মণিপুরে ২২.৯ শতাংশ। অরুণাচল প্রদেশে ২০.৯ শতাংশ। গোয়াতে ১৯.১ শতাংশ।
মধ্যপ্রদেশে এই বয়সসীমার মধ্যে বেকারত্বের হার ০.৯ শতাংশ। গুজরাটে ১.১ শতাংশ। ঝাড়খণ্ডে ১.৩ শতাংশ। ছত্তিশগড়ে ২.৫ শতাংশ। দিল্লিতে ২.১ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় সরকারের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩-২৪-এ পশ্চিমবঙ্গে ১৫-২৯ বছর বয়সি তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৯ শতাংশ। কোভিডের পরের বছর, অর্থাৎ ২০২১-২২-এ তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১১.৩ শতাংশ ছিল।
গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে আয়ের পার্থক্য:
সমীক্ষা অনুসারে, পশ্চিমবঙ্গের গ্রাম ও শহরে মাথাপিছু মাসিক গড় ব্যয় যথাক্রমে ৩,৬২০ টাকা ও ৫,৭৭৫ টাকা, যেখানে জাতীয় গড় যথাক্রমে ৪,১২২ টাকা ও ৬,৯৯৬ টাকা, অনুযায়ী আনন্দবাজার। এর থেকে বোঝা যায় যে, জাতীয় গড়ের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে মাথাপিছু মাসিক ব্যয় কম, যা আয়ের বৈষম্যের একটি চিত্র দেয়, বলছে আনন্দবাজার।
শিক্ষিত বেকারত্ব কাকে বলে?
উত্তর: শিক্ষিত বেকারত্ব বলতে এমন একটি পরিস্থিতিকে বোঝায় যেখানে ম্যাট্রিকুলেশন, স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী বিপুল সংখ্যক তরুণ উপযুক্ত কর্মসংস্থান খুঁজে পায় না । ভারতের জনসংখ্যা বিশাল এবং প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক মানুষ স্কুল ও কলেজ থেকে স্নাতক হন।
ভারতে সবচেয়ে বেশি বেকার কোন ডিগ্রি?
ভারতের
চাকরির বাজারের বাস্তবতা খুবই ভয়াবহ - ৮৩% ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতক এবং ৪৬% ব্যবসায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পরেও বেকার
রয়ে গেছেন। মর্যাদাপূর্ণ যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও, অসংখ্য
তরুণ পেশাদাররা কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে লড়াই করছেন।
ভারতের কোন রাজ্যে বেকারত্ব সবচেয়ে বেশি?
ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি লাক্ষাদ্বীপে, যেখানে বেকারত্বের হার ৩৬.২%। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে লাক্ষাদ্বীপ শীর্ষে রয়েছে। এরপর রয়েছে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। রাজ্যগুলির মধ্যে কেরালায় বেকারত্বের হার বেশি।
ভারতের মধ্যে সবচেয়ে কম বেকারত্বের হার কোন রাজ্যে?
২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত, হরিয়ানায় ভারতের মধ্যে সর্বোচ্চ বেকারত্বের হার ছিল ৩৭.৪
শতাংশ।
ভারতে কোন ধরনের বেকারত্ব সবচেয়ে বেশি?
শহরাঞ্চলে, কাজের প্রয়োজনীয়তা এবং কর্মীদের দক্ষতার মধ্যে
অমিলের কারণে বেকারত্বের প্রধান ধরণ হল কাঠামোগত বেকারত্ব ।
ভারতের স্নাতকদের সংখ্যা কত?
কৃত্রিম
বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং অটোমেশনের মাধ্যমে শিল্পগুলি বিকশিত হওয়ার সাথে সাথে, নবীন স্নাতকদের তাল মিলিয়ে চলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
মার্সার-মেটলের একটি নতুন প্রতিবেদন, ইন্ডিয়াস
গ্র্যাজুয়েট স্কিল ইনডেক্স ২০২৫, প্রকাশ করে যে ভারতীয়
স্নাতকদের মধ্যে মাত্র ৪২.৬ শতাংশ কর্মসংস্থানযোগ্য - যা ২০২৩ সালে ৪৪.৩ শতাংশ থেকে
কমেছে।
শিক্ষিত বেকার ভারতের সমস্যা কেন?
ভারতের
জনসংখ্যা বিশাল এবং প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক মানুষ স্কুল ও কলেজ থেকে স্নাতক হন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান
সৃষ্টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে আসা শিক্ষিত লোকের সংখ্যার সাথে তাল
মিলিয়ে চলছে না । এই
কারণে শিক্ষিত বেকার ভারতের একটি অদ্ভুত সমস্যা।
ভারতে কতজন নীট শিক্ষার্থী বেকার?
ফলস্বরূপ, ২০২২ সালে NEET-এর (National Eligibility cum Entrance Test, is a
standardized, national-level entrance exam in India for undergraduate medical
courses like MBBS, BDS, and AYUSH) ১৭.৯% তরুণ বেকার ছিল এবং ৮২.১% শ্রমশক্তির বাইরে ছিল।
ঐতিহাসিকভাবে, ভারত NEET-এর
অধীনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক তরুণের দেশগুলির মধ্যে স্থান করে নিয়েছে এবং এটি
আমাদের মোট কর্মশক্তির নিম্ন বৃদ্ধির হারের অন্যতম প্রধান কারণ।
ভারতের কোন রাজ্যে চাকরি বেশি?
মহারাষ্ট্র:
পর্যায়ক্রমিক শ্রমশক্তি জরিপের ভিত্তিতে মহারাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের হার প্রায়
৯১% উল্লেখযোগ্য। কর্ণাটক: কর্ণাটক, যেখানে
কর্মসংস্থানের হার প্রায় ৯০%, সেখানে ভারতের আইটি হাব
বেঙ্গালুরু অবস্থিত। আইটি এবং জৈবপ্রযুক্তি খাতে রাজ্যটি উৎকৃষ্ট।
বর্তমানে ভারতে বেকারত্বের হার কত?
আজ
সংসদে নির্মলা সীতারমন। শ্রমবাজারের মূল সূচকগুলি হল: ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী
ব্যক্তিদের জন্য বেকারত্বের হার (UR), ২০১৭-১৮
সালে ৬ শতাংশ থেকে ২০২৩-২৪ সালে ৩.২ শতাংশে স্থিরভাবে হ্রাস পেয়েছে।
ভারতের মানুষ বেকার কেন?
দক্ষতা প্রশিক্ষণ এবং উন্নয়নের অভাব বেকারত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ
প্রযুক্তিগত কারণ হল পর্যাপ্ত দক্ষতা প্রশিক্ষণ এবং উন্নয়ন কর্মসূচির অভাব।
শিল্পগুলি বিকশিত হওয়ার সাথে সাথে এবং নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের সাথে সাথে দক্ষ
শ্রমিকের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।
ভারতে দক্ষতার ঘাটতি কত?
দক্ষতার ব্যবধান বোঝা জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্পোরেশন (NSDC) এর একটি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে , ভারতীয় স্নাতকদের প্রায় ৫০% জ্ঞান অর্থনীতিতে
কর্মসংস্থানের যোগ্য নন কারণ তাদের মধ্যে নরম দক্ষতা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং
ডিজিটাল সাক্ষরতার অভাব রয়েছে।
ভারতের
চাকরির বাজারের বাস্তবতা খুবই ভয়াবহ - ৮৩% ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতক এবং ৪৬% ব্যবসায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পরেও বেকার
রয়ে গেছেন। মর্যাদাপূর্ণ যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও, অসংখ্য
তরুণ পেশাদাররা কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে লড়াই করছেন।
ভারতের কোন রাজ্যে চাকরি পাওয়া সহজ?
বেঙ্গালুরু, কর্ণাটক । শক্তিশালী
আইটি সেক্টর, সমৃদ্ধ স্টার্টআপ এবং উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগের
কারণে বেঙ্গালুরু ভারতের চাকরির জন্য সেরা শহর হিসেবে রয়ে গেছে।
বেকারত্বের কারণ কী কী?
বেকারত্বের অনেক কারণ রয়েছে, যা অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং ব্যক্তিগত কারণগুলির সাথে সম্পর্কিত। কিছু প্রধান কারণের মধ্যে রয়েছে:
১. অর্থনৈতিক কারণ:
·
মন্দা:
অর্থনৈতিক মন্দা বা মন্দা পরিস্থিতি বেকারত্বের প্রধান কারণগুলির মধ্যে একটি। এই সময়ে, ব্যবসাগুলি তাদের কার্যক্রম সংকুচিত করে, যার ফলে কর্মী ছাঁটাই বা নতুন কর্মী নিয়োগে অনীহা দেখা যায়।
·
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অভাব:
যখন একটি দেশের অর্থনীতি পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃদ্ধি পায় না, তখন নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হয় না, যা বেকারত্ব বাড়ায়।
·
শিল্পের অভাব:
কিছু ক্ষেত্রে, নির্দিষ্ট শিল্প বা খাতে চাকরির অভাব দেখা যায়, যা সেই খাতে কাজ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের বেকার করে তোলে।
২. সামাজিক কারণ:
·
জনসংখ্যা বৃদ্ধি:
জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেলে, কর্মসংস্থান সৃষ্টির হার যদি সেই তুলনায় কম থাকে, তবে বেকারত্ব দেখা দিতে পারে।
·
দক্ষতার অভাব:
শিক্ষাব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে না, যা তাদের কর্মসংস্থানের জন্য উপযুক্ত করে তোলে।
· সামাজিক কুসংস্কার:
কিছু ক্ষেত্রে, সামাজিক কুসংস্কার বা বর্ণপ্রথা চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্যের সৃষ্টি করে, যা কিছু নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য বেকারত্বের কারণ হতে পারে।
৩. প্রযুক্তিগত কারণ:
·
প্রযুক্তিগত পরিবর্তন:
প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, যেমন অটোমেশন, কিছু ক্ষেত্রে শ্রমিকদের কাজের সুযোগ হ্রাস করতে পারে।
·
দক্ষতার অভাব:
শ্রমিকদের মধ্যে নতুন প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং প্রশিক্ষণ না থাকলে তারা বেকার হয়ে যেতে পারে।
৪. অন্যান্য কারণ:
·
মৌসুমী পরিবর্তন:
কিছু ক্ষেত্রে, মৌসুমী পরিবর্তনগুলি (যেমন কৃষিকাজে) কর্মীদের জন্য সাময়িক বেকারত্বের কারণ হতে পারে।
·
সরকারি নীতি:
সরকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষতা উন্নয়নে দুর্বল নীতিগুলিও বেকারত্বের একটি কারণ হতে পারে।
·
ব্যক্তিগত কারণ:
কিছু ক্ষেত্রে, ব্যক্তিগত পছন্দ, যেমন চাকরি পরিবর্তন বা উচ্চ শিক্ষার জন্য সময় নেওয়া, বেকারত্বের কারণ হতে পারে।
সংক্ষেপে, বেকারত্ব একটি জটিল সমস্যা যা বিভিন্ন কারণের সংমিশ্রণে ঘটে। এই সমস্যা মোকাবেলা করার জন্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের মতো ক্ষেত্রগুলিতে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
ইউনিভার্সাল লাইফ ম্যানেজমেন্ট (ULM) সংস্থা রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নের নিরিখে যে নতুন ব্যবস্থার প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছে সেখানে মোট ৬’টি মুখ্য মডেল রয়েছে।
• নতুন অর্থনৈতিক মডেল• নতুন রাজনৈতিক মডেল
• নতুন শিক্ষা ও কর্মসংস্থান মডেল
• নতুন জীবনশৈলী ও সাংস্কৃতিক মডেল
• নতুন পারিবারিক মডেল
এই ব্যবস্থায় সকল বিভাগ এমন নীতিপ্রণালী তৈরি করবে এবং পরিচালনা করবে যার দ্বারা নিন্মলিখিত উদ্দেশ্য পূরণ হতে পারে।
১. শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ
প্রতিটি শিশুর সমান স্তরের সম্পূর্ণ শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ সুনিশ্চিত করা হবে।
২. জীবিকা
২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী ব্যক্তিদের যোগ্যতা এবং পছন্দ অনুযায়ী একটি পেশা সুনিশ্চিত করা হবে।
৩. সুখসুবিধা
প্রতিটি বিভাগে ও প্রতিটি অঞ্চলে সমান এবং সমুচিত সুখসুবিধা সুনিশ্চিত করা হবে।
৪. সংরক্ষণ
প্রতিটি বিভাগে ও প্রতিটি অঞ্চলে সমান এবং সমুচিত সংরক্ষণ সুনিশ্চিত করা হবে।
জীবিকা বিভাগের গঠন প্রক্রিয়া
সকল স্তরের সরকার জীবিকা-বিভাগের গঠন এই প্রক্রিয়ায় করবে যে সেখানে মুখ্য পদগুলির জন্য চেতনাত্মক এবং ভাবনাত্মক স্তরের যোগ্য ব্যক্তিরাই নিযুক্ত হবেন। সুতরাং যেখানে এমনতর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকবে সেখানে কখনো কোনো সমস্যা উৎপন্নই হবে না। আমি এই কথাটিকে পুনরায় বলতে চাই যে, কোনোপ্রকার সমস্যা উৎপন্নই হবে না। আর যদি নতুন কোনো সমস্যা উৎপন্ন হয় তাহলে তা অতিশীঘ্র গোঁড়া থেকে সমাধান করে ফেলা হবে। যাতে কখনই ভবিষ্যতে দ্বিতীয়বার কোনো সমস্যা উৎপন্ন না হতে পারে।
বিভিন্ন বিভাগে নেতৃত্ববর্গের গঠন প্রক্রিয়া
'নেতৃত্ব-জীবিকা' বিভাগের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থায় চেতনাত্মক স্তরের ব্যক্তিদের নিযুক্তি তাদের যোগ্যতা, ক্ষমতা, কুশলতা, গুণাগুণ এবং পছন্দের ভিত্তিতে হবে। যেমন– সকল বিভাগের পরিচালক, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সকল বিচারপতি, বৈজ্ঞানিক, মুখ্য চিকিৎসক, ব্যবস্থার সকল পরিদর্শক, তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের মুখ্য সম্পাদক প্রমুখ পদাধিকারী ব্যক্তিবর্গ।
প্রশাসন অথবা জনসেবক ব্যক্তিবর্গের গঠন প্রক্রিয়া
'প্রশাসনিক-উপজীবিকা' বিভাগ দ্বারা প্রশাসনিক পদে নিযুক্তি তাদের যোগ্যতা, ক্ষমতা, কুশলতা এবং পছন্দের ভিত্তিতে হবে। এই পদের জন্য ভাবনাস্তরের ব্যক্তিবর্গ নিযুক্ত হবেন। প্রশাসন সেইসব কর্ম সম্পাদন করবে যা জনগণের সুখসুবিধার সাথে সম্পর্কিত হবে। যেমন– শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, আবাস, সড়ক, বিদ্যুৎ, জল, ডাক, দূরভাষ, দূরদর্শন, রেডিও ইত্যাদি ছাড়াও পরিবহন, পার্ক, স্টেডিয়াম, পুস্তকালয়, দেশের সকল নাগরিকের সুরক্ষা প্রদান করবে। প্রকৃতির চার শ্রেণী– জড়-পদার্থ, বৃক্ষ-বনস্পতি, পশু-পক্ষী এবং মনুষ্যবর্গের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা, সহায়তা ও সহযোগিতা, সুরক্ষা ও বিচারালয় ইত্যাদির সার্বজনিক পরিষেবার সমুচিত সংরক্ষণ প্রাপ্তির ব্যবস্থাপন থেকে ক্ষেত্রীয় স্তর অবধি সকল কর্ম।
এ তো গেল শাসন ও প্রশাসনিক গঠন প্রক্রিয়া। এখন আরও দুটি ক্ষেত্র অবশিষ্ট রয়েছে। এক উৎপাদনশিল্প এবং দ্বিতীয় কৃষি। আসুন সেগুলি দেখে নিই।
উৎপাদনশিল্প বিভাগে ব্যক্তিদের গঠন প্রক্রিয়া
'উৎপাদনশিল্প-উপজীবিকা' বিভাগ এই বিভাগের নিযুক্তি কার্য করবে। এই বিভাগের জন্য ন্যুনতম মানসিক স্তরের ব্যক্তিবর্গ নির্বাচিত হবেন। এখানেও তিনটি স্তর থাকবে। মৃদু, মধ্যম এবং উচ্চ স্তর। সমস্ত নেতৃত্ব এবং প্রবন্ধনের ব্যবস্থা সরকার করবে। অবশিষ্ট ব্যক্তিদের কেবলমাত্র নিজেদের প্রদান করা কর্ম সম্পাদনের জন্যই আসতে হবে। যেমন– ছুতোর, প্লাম্বার, দর্জি, ইলেকট্রিশিয়ান, রিপেয়ারিং মিস্ত্রি, মেশিন চালক, মুচি, নাপিত, ধোবা, ওয়েল্ডার, রাজমিস্ত্রি, কামার, জুয়েলারী, বিজ্ঞাপন কর্মী, নির্মাণ কর্মী, বিভিন্ন প্রকার ইঞ্জিনিয়ারিং-এর কর্ম, কোয়ালিটি কনট্রোল, সফটওয়্যার প্রোগ্রামিং, বিভিন্ন প্রকার ডিজাইনিং, অন্যান্য বিশেষ কারিগরি কর্ম ইত্যাদি। সকল প্রকার ব্যক্তিদের যোগ্যতা এবং পছন্দের ভিত্তিতে কোনো একটি জীবিকায় নিযুক্ত করা হবে।
কৃষিক্ষেত্রে ব্যক্তিদের গঠন প্রক্রিয়া
'কৃষি-উপজীবিকা' বিভাগ দ্বারা শারীরিক ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের যোগ্যতা এবং পছন্দের ভিত্তিতে এই বিভাগে শস্য উৎপাদন, ফল উৎপাদন এবং দুগ্ধ উৎপাদন সম্পর্কিত কোনো একটি জীবিকাতে নিযুক্ত করা হবে। সরকার সকলকেই তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কোনো একটি জীবিকা প্রদানে বাধ্য থাকবে। কর্মসংস্থান না প্রদান করতে পারলেও সরকারকে তাদের জন্য সমান জীবনস্তর দিতে হবে, তারা যে কোনো বর্গেরই হোক না কেন। জীবিকা প্রদান করার পর যদি কর্ম না করে তবে সে স্বয়ং জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে, সরকার নয়। সরকার তাদের জন্য সবরকমের সহায়তা করার জন্য সর্বদা তৎপর থাকবে। এমনকি তাদের সকল প্রকার সংরক্ষণ দেবে। যদি সরকারের কোনো নীতিনিয়ম আপনার ভুল মনে হয় তার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম থাকবে যেখানে জনগণের জন্য অনলাইনে সরাসরি সমস্ত তথ্য সম্প্রচারের ব্যবস্থা থাকবে। যেখানে আপনি কোনো বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করতে পারবেন। জনতাকে জানাতে পারবেন যে কি ভুল হয়েছে। আর যদি সঠিক তথ্য আপনি জানেন তবে তাও জানাতে পারবেন। পরে নেতৃত্ববর্গের দ্বারা অথবা জনগণের মান্যতার ভিত্তিতে তা পরিবর্তন করে দেওয়া হবে। আপনি যদি কোনোপ্রকার অসুবিধের সম্মুখীন হন তবে দয়া করে নির্দিষ্ট আধিকারিক অথবা বিভাগে উক্ত বিষয় সম্পর্কে অবগত করাতে পারবেন। যা অনলাইন প্রক্রিয়াতেই হবে। ফলে কাউকে কোথাও যেতে হবে না। আপনার নিজের যে অনলাইন আকাউন্ট থাকবে সেখান থেকেই আপনি যে কোনোপ্রকার অভিযোগ করতে পারবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই উক্ত আধিকারীক আপনাকে সেই সমস্যার সমাধান করে দেবে। যদি উক্ত আধিকারী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমাধান না দিতে পারেন এবং উপরের বিভাগে আপনার সমস্যা না জানিয়ে থাকেন তবে তাকে নিন্ম পদে স্থানান্তরিত করে দেওয়া হবে এই ভেবে যে তিনি উক্ত পদের যোগ্য নন, অথবা উক্ত কাজে তার রুচি নেই। একটি নির্দিষ্ট সময় পরে আপনার সেই সমস্যা স্বাভাবিক নিয়মে পরবর্তী অধিকারিকের কাছে স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। তা চলতে থাকবে যতক্ষণ অবধি কোনো সমাধান না হয়। যতদিন সঠিক সমাধান না আসে ততদিন একটি বিকল্প সমাধান তৎক্ষণাৎ আপনাকে দিয়ে দেওয়া হবে যেন আপনার জীবন-যাপন সঠিকভাবে চলতে থাকে।
যদি কাউকে নিজের জীবিকা বদলাতে হয় তবে পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যতা প্রমাণ করে নতুন জীবিকাতে নিযুক্তি নিতে পারবেন। নিজ যোগ্যতার নীচে কোনো জীবিকায় কেউ যেতে চাইলে তিনি যেতে পারেন তার জন্য কোনো পরীক্ষার প্রয়োজন হবে না। কিন্তু নিজ যোগ্যতার উপর কোনো জীবিকায় আপনি তখনই যেতে পারবেন যখন উক্ত পদের জন্য যোগ্য হবেন। ব্যবস্থা আপনাকে যোগ্যতা প্রাপ্তির জন্য সবরকম সহযোগিতা করবে। সকল বিভাগ বিদ্যালয়ের অন্তিম দিনেই আপনার যোগ্যতা যাচাই করে আপনাকে উচিত জীবিকা প্রদান করে দেবে। আপনাকে কোথাও যেতে হবে না। সাধারণত একজন ব্যক্তি একই সময়ে একটি জীবিকার জন্য নিযুক্ত হতে পারবে।
এ বিষয়ে দুটি মুখ্য পুস্তক রয়েছে। "সম্পূর্ণ সমাধান - নতুন সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থব্যবস্থা" এবং "সম্পূর্ণ জীবন দর্শন - সুখী জীবনের অজ্ঞাত সূত্র"।
নতুন ব্যবস্থা বিষয়ক তথ্যসমূহ এবং এই ব্যবস্থা কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত রূপরেখা 'সম্পূর্ণ সমাধান' পুস্তকে বর্ণনা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই পুস্তক হিন্দি, ইংরেজি, রাশিয়ান, বাংলা এবং পাঞ্জাবী ভাষায় উপলব্ধ হয়ে গিয়েছে। অন্যান্য ভাষাতেও অনুবাদের কাজ চলছে। সকলের মিলিত উদ্যোগে আলোচনা-পর্যালোচনার মাধ্যমে ‘সঠিক সমাধান তত্ত্বের সিদ্ধান্ত’ গ্রহণের জন্য একটি মুক্তমঞ্চ রয়েছে। আলোচনা-পর্যালোচনার পর যদি সম্পূর্ণ সমাধানের তত্ত্ব অব্যবহারিক বলে প্রমাণিত হয় তবে ULM সংস্থা প্রচার স্তব্ধ করে দেবে। মুক্ত মঞ্চে যে তত্ত্ব সঠিক বলে প্রমাণিত হবে সকলে সেটি গ্রহণ করে নেবে। সম্পূর্ণরূপে সামাজিক এই উদ্যোগটি জনগণের উদ্দেশ্যে উন্মুক্ত। জনগণের সমর্থন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়কালে বর্তমান গণতান্ত্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থার পদ্ধতিতেই নতুন ব্যবস্থা স্থাপিত হবে। এ-বিষয়ে ULM Bangla এবং ULM Hindi সহ অন্যান্য ভাষার ইউটিউব চ্যানেলে একাধিক আলোচনার অডিও-ভিডিও উপস্থাপন করা হয়েছে। সরাসরি অথবা অনলাইন মাধ্যমে প্রশ্ন-উত্তরের শৃঙ্খলা এবং বিস্তারিত আলোচনার জন্য সকলে আমন্ত্রিত।
"সম্পূর্ণ সমাধানঃ নতুন সামাজিক রাজনৈতিক অর্থব্যবস্থা" পুস্তকের বিষয়বস্তু হচ্ছে একটি নতুন ব্যবস্থার রূপরেখা যা বাস্তবায়নের পর কোনো সমস্যা উৎপন্নই হবে না। যেমন- আর্থিক অসমতা, বেকারত্ব, দরিদ্রতা, শোষণ, দমন, উৎপীড়ন ভবিষ্যৎ নিয়ে নिরাপত্তাহীনতা, অরাজকতা, দুর্নীতি, অশান্তি, যুদ্ধ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভয়, ঈর্ষা, দাসত্ব, বন্ধন, অপহরণ, ধর্ষণ ইত্যাদি।
১. সরকারিভাবে সকলের ইচ্ছানুযায়ী শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং নিশ্চিত কর্মসংস্থান।
২. প্রয়োজনীয় সমস্ত মুখসুবিধা এবং স্থায়ী সংরক্ষণ।
২. অর্থ ছাড়াই সরকারিভাবে সকলের জন্য সমস্ত বস্তু এবং পরিষেবা প্রাপ্তির অধিকার।
৩. সরকার নিয়ন্ত্রণের অধিকার সর্বদা জনগণের কাছে নিহিত থাকার ক্ষমতা।
৪. সকলের জন্য উচ্চ গুণমানসম্পন্ন জীবনযাপনের ব্যবস্থা।
***
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন