ULM প্রস্তাবিত নতুন ব্যবস্থায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং দূষণ কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে?

 


এই পৃথিবীর মানুষ ১০০ বছর পূর্বেও বলতো প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত। যেখানে সেই সময়েও বিশ্বের জনসংখ্যা ছিল ১৫০ কোটি। সেইসময় জীবন-যাপনের স্তরও অনেক নিন্মমানের ছিল। সেইসময় কোনো কারিগরি প্রযুক্তি তো ছিল না যেখানে মানুষ অধিক পরিমাণে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করতে পারবে। এখন যেখানে বিশ্বের জনসংখ্যা ৮০০ কোটির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে এবং মানুষের জীবনযাপনের মান সেই সময়ের তুলনায় বহুগুণ অধিক সমৃদ্ধশালী হয়েছে সেখানে মানুষ কিন্তু এখনও বলতে থাকে যে সমস্ত সম্পদ সীমিত। জনসংখ্যা যেখানে পূর্বের তুলনায় ৫ গুণ বেড়েছে। মাঝে ‘সবুজ বিপ্লব’ ও ‘শ্বেত বিপ্লব’ হয়েছে, যার ফলে পূর্বে জনসংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও যে পরিমাণ অভাব ছিল এখন জনসংখ্যা অধিক হবার পরও ততটা অভাব দেখা যায় না। প্রতি বছর যেখানে বিভিন্ন দেশ নিজেদের চাল, গম ইত্যাদি ফসল সমুদ্রে ফেলে দেয় এই ভেবে যে বাজারে যেন সেই ফসলের মূল্য কমে না যায় এবং কৃষকদের যেন লোকসান না হয়। এখন তো অনেক নতুন নতুন বস্তু উৎপাদন হচ্ছে। এবং অনেক বস্তুই অতিরিক্ত উৎপাদন হচ্ছে যা পূর্বে হতোই না। এমন অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে যা এখনও অবধি ব্যবহারই হয়নি। বর্তমানে বিজ্ঞান যেখানে উন্নত হয়েছে সেখানে অনেক সম্পদ তো সরাসরি তৈরি করে নেওয়া যেতে পারে। ভবিষ্যতে এমনও হতে পারে যে কোনো বৃক্ষের জিনের ভেতর কিছু পরিবর্তন করে এমন কোনো বৃক্ষ তৈরি করা যাবে যার কাঠ হবে লোহার মত শক্ত এবং তা দিয়ে এমন সব কর্ম করা যাবে যা লোহা দিয়ে করা যায়। এ তো গেল সর্বোত্তম বিজ্ঞান বিকাশের কথা। আরেকটি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যেতে পারে যে বর্তমানে প্রতিটি বস্তু অনবরত অন্য কোনো বস্তুতে বদলে যাচ্ছে। আপনি তো জানেন এই জগতে প্রতিটি বস্তু একটি চক্রে আবর্তিত হয়ে রয়েছে এবং এর বাইরে তার কোনো অস্তিত্বই নেই। জলকে আমরা উদাহরণ হিসেবে নিতে পারি। এই উদাহরণটি সকলে অতি সহজেই বুঝতে পারবে। কেননা এই বিষয়ে সকলেরই অভিজ্ঞতা রয়েছে। চলুন জলচক্রকে বোঝার চেষ্টা করি। আমরা জানি যে জল তরল, গ্যাস এবং কঠিনরূপে পাওয়া যায়। অর্থাৎ জল অবিরত তরল থেকে বাষ্পে পরিণত হচ্ছে, বাষ্প থেকে বরফে পরিণত হচ্ছে এবং বরফ থেকে আবার তরলে পরিণত হয়ে চলেছে। সরাসরি দেখলে জল পাহাড় থেকে নদী হয়ে সমুদ্রে পতিত হচ্ছে এবং অবিরত বয়ে চলেছে। সমুদ্রে অধিক তাপমাত্রার কারণে জল অবিরত বাষ্পে রূপান্তরিত হচ্ছে এবং কম তাপমাত্রার কারণে বাষ্প অবিরত বরফে রূপান্তরিত হচ্ছে। এবার দেখুন জল আপনি ব্যবহার করুন বা না করুন তা অবিরত সমুদ্রের দিকে বইতেই থাকবে। আপনি যদি সমুদ্রে না গিয়ে নিজে পরীক্ষা করে দেখতে চান তাহলেও তা মাঝ পথে বাষ্প হয়েই যাবে। কেননা আপনি তাকে মাঝপথেই ব্যবহার করে নিচ্ছেন এবং বাষ্পে পরিণত হবার যে প্রক্রিয়া সমুদ্রে গিয়ে হতো তা মাঝপথেই সম্পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। পার্থক্য শুধুমাত্র এটিই হবে যে এখানে পরীক্ষা করার সময় বাষ্পে পরিণত হবে আর সমুদ্রে পরীক্ষা না করেই বাষ্প হয়ে যাবে। দুটি অবস্থাতেই জলের বাষ্পে রূপান্তরিত হওয়া নিশ্চিত হয়ে রয়েছে যা আপনি বন্ধ করতে পারবেন না। আপনার পরীক্ষা করা বা না করায় বিশেষ কিছু পরিবর্তন হবে না। সামান্য পার্থক্য যেটুকু হবে তাও স্থান পরিবর্তন করার কারণে। যদি আপনি মাঝ পথে ব্যবহার করে ফেলেন তাহলে জল সেখানেই বাষ্প হয়ে যাবে। যদি ব্যবহার না করেন তাহলে সমুদ্রে গিয়ে বাষ্প হয়ে যাবে। তাহলে বোঝা গেল যে শুধুমাত্র স্থান পরিবর্তনের পার্থক্য আসবে। যদি আপনি মাঝপথে ব্যবহার করে ফেলেন তাহলে সমুদ্রে কিছুটা জল কমে যাবে কেননা আপনি তাকে মাঝপথেই বাষ্পে রূপান্তরিত করে দিচ্ছেন। পৃথিবীর ক্ষেত্রে যেটি হবে, আপনার পরীক্ষার জন্য সমুদ্রের জলস্তরে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। একইভাবে আপনি অন্যান্য খনিজ পদার্থ অথবা ধাতুর ক্ষেত্রেও বুঝে নিতে পারেন। যদি আপনি তা ব্যবহার অথবা পরীক্ষা না করেন তাহলেও তা পরবর্তী বস্তুতে রূপান্তরিত হবেই যা স্বাভাবিকভাবে হয়েই চলেছে। যদি আপনি ব্যবহার করে ফেলেন তাহলেও তা পরবর্তী বস্তুতে রূপান্তরিত হয়েই যাবে। তাহলে আপনি ব্যবহার করুন বা না করুন সকল বস্তু নিজ নিজ বলয়ে অবিরত পরিবর্তিত হয়েই চলেছে। আবার যারা ঈশ্বরকে মানেন এবং বিশ্বাস করেন তারা এইভাবে বুঝে নিতে পারেন যে এই বিরাট জগতে ঈশ্বর কি কোনো বস্তু স্বল্প পরিমানে তৈরি করতে পারে? অথবা কোনোকিছুর অভাব রাখতে পারে? এখন আমাদের কাছে যে বিজ্ঞান রয়েছে তা কি নিশ্চিত হয়ে বলতে পারে সে জগতের সমস্ত সম্পদ সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে জেনে নিয়েছে, কোন সম্পদ কতটা পরিমানে রয়েছে এবং কোথায় কোথায় রয়েছে? এটি তো আপনি আমি দুজনেই জানি যে বিজ্ঞানের এই জবাব ‘না’ হবে। সে এটিই বলবে এখন সমস্ত তথ্য তার কাছে নেই। কেননা বিজ্ঞান সর্বদা বর্তমান সময়ের নিরিখেই বলবে, ভাই আজ অবধি আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে তাতে এমনটিই হয়ে থাকে এবং সেই হিসেবেই সিদ্ধান্ত প্রদান করে থাকে। সুতরাং বিজ্ঞান তার মতে ঠিকই বলছে। বিজ্ঞানকে এভাবেই কর্ম করা উচিত। আমাদের ব্যবস্থাতেও বিজ্ঞান যদি বলে যে এই প্রকার সম্পদ স্বল্প পরিমাণে রয়েছে তবে ব্যবস্থাও সেই সিদ্ধান্তকে গম্ভীরভাবে নেবে এবং ততটুকু সম্পদকে কীভাবে সকলের জন্য ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে বিবেচনা করবে এবং কর্ম সম্পাদন করবে। অথবা অন্য কোনো বিকল্প থাকলে তাকে কাজে লাগাবে। এবার অন্য একটি উদাহরণ থেকে বোঝার চেষ্টা করি। কিছুক্ষণের জন্য মেনে নিচ্ছি সম্পদ সীমিত অবস্থায় রয়েছে। এবং এও মেনে নিচ্ছি যে সম্পদ শুধুমাত্র আগামী ১,০০০ বছর অবধিই চলবে। তবে তো ভাই আমাদেরকে ১,০০০ বছর অবধি ভালভাবে কাটানো উচিত। যখন সম্পদ সমাপ্ত হয়ে যাবে তখন তো আমরাও সকলে সমাপ্ত হয়ে যাব। এতে আর সমস্যা কীসের? দুঃখের সাথে ১০,০০০ বছর বাঁচার চাইতে ১,০০০ বছর সুখের সাথে কাটানো ভাল। কিছু মানুষ আবার বলতে থাকে ১,০০০ বছর পর কোনোপ্রকার সম্পদ ছাড়া সকলে কীভাবে বাঁচবে? এবার আপনি ভাবুন এখন তো সম্পদ রয়েছে, তবুও অধিকাংশ জনগণ সম্পদ ব্যবহার না করে দুঃখের সাথে এই চিন্তায় জীবন কাটাচ্ছে যে আজ থেকে ১,০০০ বছর পর তাদের প্রজন্ম কীভাবে বাঁচবে? অবাক বিষয় নয় কি? যারা এখন বেঁচে রয়েছে তাদের নিয়ে ভাবছে না, ভাবছে তাদের নিয়ে যারা আজ থেকে ১,০০০ বছর পরে জন্ম নেবে! আরে ভাই যারা বর্তমানে বেঁচে রয়েছে তাদের নিয়ে ভাবা উচিত নাকি যারা এখন নেই তাদের নিয়ে? যদি আমরা ১,০০০ বছর অবধি সুখের সাথে কাটাতে পারি তবে কেন তেমন ব্যবস্থা নির্মাণ করব না? ১,০০০ বছর পর কি হবে তা কেউ জানে? তবে আজকের বিজ্ঞান কিন্তু বলছে— আগামী কয়েক হাজার বছর অবধি আমাদের কাছে পর্যাপ্ত সম্পদ মজুদ রয়েছে।

প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং জলবায়ু পরিবর্তন কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে?
ULM প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় দূষণ সৃষ্টিই হবে না। তাই বন্ধ করার প্রশ্নই নেই। নতুন ব্যবস্থায় সমস্ত প্রক্রিয়া এমনভাবে ব্যবস্থিত করা হয়েছে যে, কোনো অঞ্চল, প্রকৃতি, মনুষ্য-জীবন অথবা অন্যান্য জীবজন্তুদের যেন হানি না পৌঁছায়। এখানে পরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা শহুরে ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি নগরের জনসংখ্যা ২ থেকে ৫ লাখের মধ্যে হবে। কম ঘনত্ব থাকার কারণে দূষণ উৎপন্ন হবে না। সমস্ত বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করার ব্যবস্থা থাকবে। জলের জন্যও কোনো অসুবিধা হবে না। প্রচুর মাত্রায় খাল বিছানো থাকবে, প্রচুর বন থাকবে। গাছপালা অধিক থাকায় বাতাসও শুদ্ধ থাকবে। অনিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘটবে না। পশু-পক্ষীরাও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারবে। এতে জৈবিক বৈচিত্র্য অব্যাহত থাকবে, অর্থাৎ ইকো-সিস্টেম স্থিতিশীল থাকবে। এই সব বিজ্ঞানীদের তত্ত্বাবধানে থাকবে।

এই ব্যবস্থায় পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকবে। মনুষ্য-সমাজের জন্য নগরীয় সুখসুবিধার পাশাপাশি পশুপাখি সহ জীবজন্তুর জন্য সুরক্ষিত বনাঞ্চল থাকবে। এই ব্যবস্থায় প্রাকৃতিক পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ ইত্যাদি বিষয় নির্দিষ্ট বিভাগ পূর্বেই গবেষণা এবং প্ল্যানিং করে নেবে। সেসব প্ল্যানিং জনগণের দ্বারা সমিক্ষা এবং অনুমোদনের জন্য পোর্টালে রাখা থাকবে। প্রয়োজনীয় জলাধার নির্মাণ করে জল সঞ্চয় করে কৃষিক্ষেত্র এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাপনা থাকবে। ফলে প্রাকৃতিক সম্পদের বিনষ্ট এবং দূষণ রোধ হবে।

প্রাকৃতিকভাবে সম্পদের সুনিশ্চিত সদুপয়োগ
মানুষ এমনটি বলে থাকে যে প্রাকৃতিকভাবে সম্পদ হচ্ছে সীমিত। চলুন কিছুক্ষণের জন্য এটি মেনে নিই এবং বোঝার চেষ্টা করি কীভাবে নতুন ব্যবস্থায় প্রাকৃতিকভাবে সম্পদের সুনিশ্চিত সদুপয়োগ হবে। কিছু উদাহরণের মাধ্যমে এটি জানার চেষ্টা করি কীভাবে বর্তমান সময়ে প্রাকৃতিকভাবে সম্পদের অপপ্রয়োগ হচ্ছে। চলুন একটি সড়কের উদাহরণ নিই। আজকাল সড়ক তৈরি হবার পর খুব বেশী হলে ৬ মাস থেকে ১ বছর অবধি ঠিক থাকে। অর্থাৎ ভেঙ্গে যায়। তারপর ভাঙা সড়কের উপর দিয়ে যানবাহন চলাচলে সেই পথ আরও দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। পুনরায় নতুন করে তৈরি করতে হয়। এমনকি যানবাহনের টায়ারও দ্রুত ক্ষয়ে যাবার ফলে ঘনঘন বদলাতে হয়। পথে গর্ত থাকার কারণে যাত্রীগণের সমস্যা তো আলাদা। যানবাহনের ইঞ্জিন এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশও দ্রুত মন্দ হয়ে যায়। যে বাহন ২৫ বছর চলার কথা তা ১০ বছর পর ব্যবহারের উপযোগী থাকে না। এইভাবে প্রতি বছর যানবাহনসহ অন্যান্য সম্পদের অযাচিত ব্যবহার চলতে থাকলে দুদিকেই প্রাকৃতিকভাবে সম্পদের অধিক ব্যবহার হবে এবং দূষণও অধিক হবে। আমরা যদি একইরকমভাবে নতুন ব্যবস্থায় যানবাহন এবং সড়কের উদাহরণ নিয়েই বোঝার চেষ্টা করি তাহলে পার্থক্য করাটা সহজ হবে। নতুন ব্যবস্থায় সমস্ত গাড়ি সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে এবং নতুন অর্থশাস্ত্র সামাজিক লাভের ভিত্তিতেই সমস্ত কার্য পরিচালনা করবে। ফলে উন্নতমানের সড়ক তৈরি হবে। যা এখন বিভিন্ন রকম দুর্নীতির কারণে তৈরি হতে পারে না। প্রথমত— আমার তথ্য যদি সঠিক হয় তবে আমাদের এখন কাছে যতটা আধুনিক কলাকৌশল এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান রয়েছে যার মাধ্যমে ২০ বছর অবধি টিকে থাকবে এমন সড়ক নির্মাণ করতে পারি। চলুন এর অর্ধেক ধরে নিই তাহলেও ১০ বছর তো দ্বিতীয়বার সড়ক মেরামতের প্রয়োজন হবে না। এতে ১০ গুণ প্রাকৃতিকভাবে সম্পদের সাশ্রয় হবে। দ্বিতীয়ত— এতে ১০ গুণ সময় সাশ্রয় হবে, ফলে আমরা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ কর্ম করতে পারব অথবা অন্য কোনো সুখ উপভোগ করতে পারব যা সময়ের অভাবে উপভোগ করা হয়ে ওঠেনা। এতে প্রাকৃতিকভাবে সম্পদের সাথে সাথে মানব সম্পদেরও সাশ্রয় হবে। যানবাহনও ২৫ বছর অবধি ভাল থাকবে। সড়ক তৈরি করার মেশিনও অধিক ব্যবহার হবে না। মানব সম্পদ এবং প্রাকৃতিকভাবে সম্পদের অপপ্রয়োগ হবে না। নতুন ব্যবস্থায় এইভাবে সকল সম্পদের সঠিক ব্যবহার হবে। খাদ্য পদার্থের ক্ষেত্রেও আমরা একইরকমভাবে বুঝে নিয়েছি। বর্তমান ব্যবস্থায় কোন খাদ্য পদার্থের কতটা চাহদা রয়েছে অথবা ভবিষ্যতে কতটা চাহিদা হতে পারে সে সম্পর্কে সরকারের কাছে সঠিক তথ্য থাকে না।
বর্তমানে কৃষক বন্ধুরা একপ্রকার অনুমান করে ফসল চাষ করে এবং উৎপাদন হয়ে গেলে বুঝতে পারে কিছু ফসল অধিক উৎপন্ন হয়েছে। তখন তারা বুঝতে পারে ফসল চাহিদার তুলনায় অধিক হবার কারণে সঠিক মূল্য পাওয়া যাবে না। তখন কৃষক বন্ধুরা তাদের প্রিয় ফসল বাজারে এবং সড়কে ফেলে চলে যায়। এতে প্রাকৃতিকভাবে সম্পদ এবং মানব সম্পদের শুধুমাত্র অপপ্রয়োগই হয়ে চলেছে। এর ফলে যেসব দুঃখ উৎপন্ন হচ্ছে তার কথা আলাদা। এবার এই সমস্যাটিকে নতুন ব্যবস্থায় বোঝার চেষ্টা করি। নতুন ব্যবস্থায় চাহিদার দিকটি মুক্ত থাকবে। চাহিদার পরিমাণ পূর্ব হতেই জানা যাবে। এরপর সরকারের মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে কর্মরত ব্যক্তিদের জানিয়ে দেওয়া হবে কোথায় কোন ফসল কতটা পরিমাণে উৎপন্ন করতে হবে। এতে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন হবার কারণে এবং সম্পূর্ণ কার্য সরকার দ্বারা পরিদর্শকের কারণে কোনো ফসল অধিক উৎপন্ন হবে না অথবা কমও উৎপন্ন হবে না। ব্যক্তিগত হানির সম্ভাবনা তো থাকবেই না। প্রাকৃতিকভাবে সম্পদ এবং মানব সম্পদের অপপ্রয়োগও হবে না, বস্তুর মানও বজায় থাকবে। এইরকমভাবে অন্য সব প্রোডাক্টের ক্ষেত্রেও বুঝে নিতে পারি যেখানে প্রাকৃতিকভাবে সম্পদ এবং মানব সম্পদের অপপ্রয়োগ হয়ে থাকে। শুধুই অপচয় হতে থাকলে প্রাকৃতিকভাবে সম্পদ সীমিত হবার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। অপরদিকে মানব সম্পদেরও অনাবশ্যক অপপ্রয়োগ হতে থাকে। প্রাকৃতিকভাবে সম্পদ সীমিত— এই সমস্যাটি নতুন ব্যবস্থায় থাকবে না এবং থাকলেও খুবই ন্যুনতম থাকবে। তাহলে উপরের চিন্তন-মনন থেকে আমরা বুঝতে পারি যে নতুন ব্যবস্থায় সবকিছু ঘনিষ্টভাবে একে অপরের সাথে সংযুক্ত থাকবে। একটি মন্দ হয়ে গেলে অন্যটিও মন্দ হয়ে যায়। সেইজন্য আমাদের সবকিছুই সঠিক অবস্থায় রাখতে হবে। এমন ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে যেন মন্দ হবার কারণই না থাকে অথবা মন্দ কিছু উৎপন্ন হতেই না পারে। সর্বদা কারণের উপর কার্য করা উচিত, প্রভাবের উপর নয়। এই বিষয় নিয়ে অমূলক কিছু বলে থাকলে আমার সাথে আলোচনা করতে পারেন। আপনাদের সকলকে আগাম স্বাগত। আমার কোনো কথায় কেউ যদি আঘাত পেয়ে থাকেন তবে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। মন্দ ব্যবস্থায় যতই না সঠিক বলার চেষ্টা করা হয় তাতে কোনো না কোনো উপায়ে আঘাত লেগেই যায়। এটিকে মন্দ ব্যবস্থার নেতিবাচক ফল বলা যায়। কাউকে আঘাত করা আমার অভিপ্রায় নয়। সকলে কীভাবে সর্বদা সুখী থাকবে এই উদ্দেশ্য পূরণের জন্যই আমি প্রয়াস করে চলেছি। যদি কারোর মনে হয় তার কাছে নতুন ব্যবস্থায় যুক্ত করবার এর থেকেও ভাল কিছু আছে যাতে মানুষ অধিক সুখী হতে পারে তবে আমার প্রার্থনা এই— আপনি আমার কাছে আসুন। এই পুস্তককে অধিক উৎকৃষ্ট করতে আমায় সহযোগিতা করুন। আপনাকে বক্তব্য পরিবেশনের পুরো সুযোগ প্রদান করা হবে। আরও ভাল হবে যদি আপনি তার একটি খসড়া বানিয়ে নিয়ে আসেন। এতে আপনার কথা সহজেই বুঝতে পারব এবং আপনিও সহজে বুঝে নিতে পারবেন।
আপনার জন্য অন্তর থেকে ধন্যবাদ রইল।
সকল প্রকার আবর্জনা থেকে মুক্তি
এখন যেমন হয় সকলে নিজেদের বসবাসের স্থান নিজেরা তৈরি করে নেয়। নিজেরাই একে অপরের সাথে জমি-জায়গা কেনাবেচা করে। কোন স্থানের ক্ষেত্রফল কতটা হবে, সড়ক কতটা চওড়া রাখতে হবে, পার্কের জন্য জায়গা ছাড়তে হবে কিনা, যদি ছাড়তে হয় তবে কতটুকু ছাড়তে হবে, বাড়ি তৈরির জন্য নক্সা কেমন হবে, এমনকি বাড়ি নির্মাণের জন্য কোন মানের দ্রব্যসামগ্রী ব্যবহার করবে ইত্যাদি সমস্ত বিষয়ে মানুষকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এইভাবে আরও অনেক সিদ্ধান্ত মানুষ ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঠিক করে নেয়। এরপর যেসব জায়গাগুলি পড়ে থাকে সেখানে সড়ক ও পার্কের জন্য যা কিছু সামাজিক সুখসুবিধা তৈরি করা সম্ভব হয় সরকার তার জন্য প্রয়াস করে। সেই সমস্ত যায়গায় মুখ্য সড়ক, গাড়ি রাখার ব্যবস্থা, বাজার এবং অন্যান্য সুখসুবিধার ব্যবস্থা করে দিতে হয় যা সরকারের পক্ষে খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন ব্যবস্থায় যা হবে বাড়িঘর তৈরির সকল ব্যবস্থা সরকার করবে। বাড়ি তৈরির জন্য কতটা স্থান প্রয়োজন তা সরকার ঠিক করবে। এমনকি সড়ক, পার্ক, পার্কিং, পুস্তকালয়, বিদ্যালয়, স্টেডিয়াম, সামাজিক স্থান, বাজার, নিকাশি ইত্যাদি সমস্ত ব্যবস্থা সরকার করবে। বাড়ির নক্সা, বাড়ি তৈরির জন্য যাবতীয় দ্রব্যসামগ্রী এবং তার মান নির্ধারণ ইত্যাদিও সরকার ঠিক করবে। এর ফলে সকল প্রকার সুবিধার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকবে এবং পর্যাপ্ত গাছপালা থাকবে। বাড়িঘরের মাঝখান দিয়ে মুখ্য সড়ক থাকবে না ফলে পর্যাপ্ত নিকাশি ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হবে। আবাস স্থানের উচ্চতা সঠিক থাকলে নিকাশি ব্যবস্থাও সঠিকভাবে হবে। ফলে কোথাও জল জমবে না, দুর্গন্ধ উৎপন্ন হবে না এবং বায়ু দূষণ হবে না। আবাসন ব্যবস্থার কর্ম সম্পূর্ণরূপে তৈরি হয়ে গেলে তবেই সরকার মানুষকে সেখানে বসবাসের জন্য আমন্ত্রণ করবে, তার পূর্বে নয়। অনেক সময় কম গুণমানের বিদ্যুতের তার আমরা বাড়িতে ব্যবহার করি, ফলে আগুন ধরে যাবার বিপদ অনেকগুণ বেড়ে যায়। অনেক সময় আমরা শুনেও থাকি যে শর্ট-সার্কিটের কারণে কোথাও আগুন লেগেছে। এইভাবে অন্যান্য সমস্যাগুলিও মন্দ ব্যবস্থার কারণেই উৎপন্ন হয়ে চলেছে। নতুন ব্যবস্থায় এমন সমস্যা উৎপন্নই হবে না। এই সকল সমস্যাগুলির সমাধানের জন্য প্রচুর সময় ও অর্থ নিরন্তর খরচ হতে থাকে। এই প্রকার অসুবিধা থেকে মুক্তি মিলবে এবং জীবন অধিক সুখময় হবে। কারোর ব্যক্তিগত দুশ্চিন্তা বা পরিশ্রম ছাড়াই এসব কর্ম স্বাভাবিকভাবেই হতে থাকবে। নিরাপত্তার জন্যও সময় ও অর্থ খরচ করতে হবে না। ফলে বহু সংখ্যায় মানব সম্পদ ও প্রাকৃতিকভাবে সম্পদ রক্ষা হবে। ব্যবহারের পর উপকারী যেসব সম্পদ অবশিষ্ট থাকবে যা মানুষ সাধারণত ফেলে দেয় সরকার সেইসব একত্রিত করবে। তারপর রিসাইকেল সিস্টেমে কম্পোষ্ট সার তৈরি করে চাষের জমিতে ব্যবহার করবে। এইসব বলার তাৎপর্য এই যে সরকারই সমস্ত ব্যবস্থা দেখভাল করবে। জনগণের অথবা ব্যক্তিগত স্তরে কিছু দেখভাল করতে হবে না। সব কাজের জন্য কর্মী সরকার নিযুক্ত করবে। সরকার এমনটি কখনো বলবে না যে শহর পরিষ্কার কর। যে কোনো সমস্যাকে সরকারের সমস্যা বলে ধরা হবে এবং সরকারকেই তার সমাধান করতে হবে। সকলে মিলেই সরকার। সরকারের বাইরে কিছুই থাকবে না।
***

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?