শান্তিনিকেতনের মূল উদ্দেশ্য কী?



৭ জানুয়ারি ১৮৭৮-এ (১৩ মাঘ ১২৮৪-এ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম বোলপুরের নিকটস্থ শান্তিনিকেতনে এসেছিলেন। তখন তাঁর বয়স ১৭ বছর। ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে (১২৯৫ বঙ্গাব্দে) দেবেন্দ্রনাথ একটি ট্রাস্টের মাধ্যমে সমগ্র এলাকাটিকে একটি ব্রহ্মবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য উৎসর্গ করেছিলেন।

১৯০১ সালের ডিসেম্বরে (৭ পৌষ ১৩০৮ বঙ্গাব্দ) শান্তিনিকেতন আশ্রমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর "ব্রহ্মচর্যাশ্রম" নামে একটি বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন। এই বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য ছিল প্রচলিত বৃত্তিমুখী অপূর্ণাঙ্গ শিক্ষার পরিবর্তে ব্যবহারিক শিক্ষার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের পূর্ণাঙ্গ মনোবিকাশের সুযোগদান। রবীন্দ্রনাথ প্রাচীন ভারতের তপোবন বিদ্যালয় থেকে এই বিদ্যালয়ের আদর্শটি গ্রহণ করেন। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় রবীন্দ্রনাথ তার পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সানন্দ অনুমতি ও আশীর্বাদ লাভ করেছিলেন। বিদ্যালয়ের প্রথম পাঁচজন ছাত্রের অন্যতম ছিলেন কবিপুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর।


উক্ত বিষয়ে সকলে অবগত সত্ত্বেও যে কারণে বিষয়টির অবতারণা তা হচ্ছে, "প্রচলিত বৃত্তিমুখী অপূর্ণাঙ্গ শিক্ষার পরিবর্তে ব্যবহারিক শিক্ষার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের পূর্ণাঙ্গ মনোবিকাশের সুযোগদান"।

এই উদ্যোগ প্রারম্ভের ১০০ বছরেরও অধিক সময় অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছে। শিক্ষা প্রসারে একাধিক দলীয় সরকারের বদল হয়েছে, সরকারি বিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে, অগুনতি সামাজিক সংগঠনও প্রচেষ্টা করে চলেছে। সার্বিক সমাজ কল্যাণে, সুনিশ্চিত জীবিকায়, জ্ঞানবিজ্ঞান অগ্রগতির অভিমুখে শিক্ষণ-প্রশিক্ষণের আধুনিকীকরণ ও ব্যবস্থাপনা যে চূড়ান্ত অসফল তা আর প্রমাণের অপেক্ষা রাখে না। তবে, উন্নয়ন কি হচ্ছে না! শহরে ক্রমাগত নির্মীয়মাণ বিলাসবহুল আবাসনগুলোতে কত শতাংশ নাগরিক বাস করে? কত সংখ্যক পরিবার সন্তানদের মোটা মাইনের বিদ্যালয়ে পাঠদানে সমর্থ? সমাজের কাছে তথাকথিত উন্নয়ন কি এতটুকুই?

রাজ্যে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর ৫ লক্ষেরও অধিক শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে থাকে। তাদের প্রায় সকলেই শুধুমাত্র দরিদ্রতার কারণে পেশাগত প্রশিক্ষণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়ে যায়। বলা যায় হারিয়ে যায়। যারা হাজারো প্রতিকূলতা বয়ে উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করেন তারাও সুনিশ্চিত জীবিকা থেকে বঞ্চিত হন। সরকার বদলেছে, বদলাবে; আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎও কি বদলেছে, বদলাবে? এ দায় কার? নাগরিক সমাজের নাকি সরকারের? কোন পক্ষ সরকার তৈরি করছে? পর্যাপ্ত বিদ্যালয় ও কারগরি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক অনুপাতে শিক্ষাদান, শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ শেষে প্রতিটি প্রার্থীর সুনিশ্চিত জীবিকা তথা কর্মসংস্থান, জীবনযাপনের সুখসুবিধা-সুরক্ষার ব্যবস্থাপনা চলমান ব্যবস্থায় আদৌ সম্ভব? আমাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন দল কিংবা পুরাতন দল নয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আমূল রূপান্তর জরুরী। জাতি-ধর্ম-দলমত নির্বিশেষে নাগরিক সমাজকে একদিকে যেমন দাবী জানাতে হবে অপরদিকে ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
মতামতে সকলে স্বাগত।
***

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?